আনরোমান্টিক বউ

আনরোমান্টিক বউ
সেদিন অফিস থেকে বাসায় আসার মধ্যে সাদিয়া ২৭ বার কল দিয়েছে। সে নাকি আমার প্রিয় খাবার চিংড়ি মাছ রান্না করছে। তাই তাড়াতাড়ি বাসায় আসা চাই আমার।
কিন্তু বাসায় এসে সম্পূর্ণ বাসায় চিংড়ির কোনো অস্তিত্ব খুঁজে না পেয়ে অবাক হলাম। যখন ওকে প্রশ্ন করলাম, আমার চিংড়ি কই? তখন তার সহজ ভাষায় উত্তর ” তরকারি অনেক মজা হয়েছিল “। তাই একাই সব খেয়ে নিয়েছি। কিছু মনে করো না। এবার তুমি নিজেই রান্না করে খাও। এর আগেও অনেকবার তরকারি ভালো হওয়াতে সব তরকারি সে একাই খেয়ে নিয়েছে। তাই মাঝেমধ্যে আমি দোয়া করি তরকারি যেন ভালো না হয়।নাহলে আমাকে নিজেই রান্না করে খেতে হবে। জ্বী এটাই আমার আনরোমান্টিক বউ। জীবনে মানুষ যা শোনেনি। আর জীবনে মানুষ যা করেনি সেটাই আমাকে শুনতে হচ্ছে আর সেটাই করতে হচ্ছে।
সেদিন অফিস পর মার্কেট থেকে দুইটা গেঞ্জি কিনে নিয়ে আসছিলাম বাসায় পরবো বলে। কিন্তু বাসায় আসার পর যখন সাদিয়া গেঞ্জি দুইটা খুলে দেখল। তারপর থেকে বায়না শুরু গেঞ্জি দুইটা তার পছন্দ। তাকেই দিতে হবে। নাহলে চলবে না। বললাম একটা অন্তত আমাকে দেও। সে রাজি নয়। অগত্যা উপায় না পেয়ে তাকেই দিয়ে দিলাম। সে বিনিময়ে তার পুরাতন একটা ব্যবহৃত গেঞ্জি আমাকে গিফট করলো। গায়ে দিয়ে যখন দেখলাম গেঞ্জিটা আমার ছোট হয়। তখন সে টেনেই সেটাকে লম্বা বানিয়ে দিয়ে বললো ‘ এবার পারফেক্ট হয়েছে’।
ও বেশকিছু দিন থেকে বলছে কক্সবাজার যাবো। ব্যবস্থা করো। কিন্তু অফিসের চাপ থাকায় যেতে পারিনি। শেষমেশ অনেক চেষ্টা করে যখন বসের কাছে থেকে ৭ দিনের ছুটি ম্যানেজ করেছি। বাসায় এসে ওকে বললাম, বাচ্চাকাচ্চার সব কাপড়চোপড় গুছিয়ে নিতে। তখন ও বললো, আরে বাচ্চাকাচ্চা যাবে কেন? ওরা থাকবে। আমি বললাম, আমি নাই তুমি নাই ওরা কিভাবে থাকবে? সে সোজাসাপ্টা উত্তর দিল, কেন তুমি আছো না।আমি ভ্যাবাচেকা খেয়ে বললাম, আমি মানে? তার সহজ ভাষায় উত্তর ছিল, আরে বোকা তুমি ওদের বাসায় দেখবে বলেই তো কদিন থেকে তোমাকে অফিসে ছুটি নিতে বলছি।
বউ কক্সবাজার থেকে ছবি তুলে পাঠায় আর আমাকে সেগুলো এডিট করে দিতে হয়। একটা ছবি ভুলভাল এডিট করছিলাম বলে সে আমার ভুড়ি বের করা একটা ছবি তার একাউন্ট থেকে আপলোড দিয়ে ক্যাপশনে দিয়েছে ” জামাইয়ের ভুঁড়ি দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে কি করবো বন্ধুরা”? সেখানে দেখলাম তার সব বান্ধবীরা হা হা রিএক্ট দিয়েছে। তারপর থেকে মনযোগ দিয়ে তার ছবি এডিট করছি। আমার আনরোমান্টিক বউ কক্সবাজারে সমুদ্রের পাড়ে বসে ফেসবুকে ছবি আপলোড দেয়। আর আমি বাবুর ডায়াপার বদলাতে বদলাতে তার ছবিতে লাভ রিএক্ট দেই।
অফিস থেকে বস কাল রাতে কল দিয়ে বললেন, আরে রিফাত সাহেব ভাবীকে নিয়ে কক্সবাজার গেছেন। অথচ একটা ছবিও আপলোড দিলেন না? আমি আমতাআমতা করে বললাম, আসলে স্যার ব্যস্ত থাকায় দিতে পারিনি। এখনি আপলোড দিচ্ছি স্যার। mকাল রাতে বউয়ের সাথে দুইবছর আগেকার কক্সবাজার ঘুরতে যাওয়ার ছবি আপলোড দিয়েছি। আজকে অফিসের বস সেটায় কমেন্ট করেছে “খুব আনন্দ করছেন রিফাত সাহেব”। আমি থালাবাসন মাজতে মাজতে রিপ্লাই দিলাম, ” হ্যাঁ স্যার, আসলেই খুব এনজয় করছি”।

গল্পের বিষয়:
গল্প

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত