নীল আকাশের স্নিগ্ধা আলো

নীল আকাশের স্নিগ্ধা আলো
আকাশ তোর সাথে কথা আছে, তখন রাত ১২ টা বাজে আকাশ গল্প লিখছে, হঠাৎ আকাশের মোবাইলে মেসেজের আওয়াজ শুনতে পেলো আর মেসেজটা আসছে একটা অপরিচত নাম্বার থেকে, মেসেজটা দেখে আকাশ অবাক কারণ এতো রাতে কার মেসেজ আর কে সে আর কেন তাকে বাহিরে যাওয়ার জন্য বলছে, এই সব ভাবতেছে ভাবতে ভাবতে আবার দেখে মেসেজ আসছে আর মেসেজ টা ছিলো, “প্লিজ আকাশ ৫ মিনিট এর জন্য বাহিরে আস, জাষ্ট ৫ মিনিট”, আকাশ তার রিপ্লাই দিল যে, “কে আপনি আর এতো রাত আমি বাহিরে বেড় হই না”,এই বলে আকাশ তার নিজে কাজ করতে লাগলো. কিচ্ছুক্ষণ পর আবার সেই অপরিচত নাম্বার থেকে মেসেজ আসল যে, “আচ্ছা তোর বাহিরে আসতে হবে না, জাস্ট একটু দরজাটা খুল, আমি তোর বাসার সামনে দাঁড়িয়ে আছি,”
আকাশ এই মেসেজ টা আসার সাথে সাথে আস্তে করে জানালা হালকা কিছু ফাক করে উঁকি মেরে দেখতে লাগলো, কে ওর বাসার সামনে, কিন্তু আপসোস কারণ অন্ধকারে কিছু দেখা যাচ্ছে না শুধু ছায়াটা ছাড়া আর, আকাশ সেই ছায়া দেখে মনের মাজে কিছুটা ভয় ডুকল আর মনে মনে ভাবতে লাগলো এটা চোর ডাকত হবে নাতো ,
এই ভাবনায় আকাশ নিস্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, তার মাজে আবার মেসেজ আসলো আর সেটা ছিলো”- এই আকাশের বাচ্চা আকাশ দরজা খুলবি নাকি লাত্থি দিয়া খুলব? ” আকাশ এই মেসেজটা ফেয়ে কিছু টা কনফার্ম যে লোকটা কোনো চোর ডাকাত নয়, কারণ চোর ডাকাত হলে দরজা লাত্থি দেওয়ার কথা বলত না,তাই আকাশ আস্তে আস্তে করে দরজা খুললো, আর আকাশ দরজা খুলেই অবাক কারণ লোক আর কেউ না ওর বোনের বান্ধবী রিপা, আর এতো রাতে রিপা কেন আকাশের বাসার আসছে, আকাশ রিপা কে দেখে বলল, এই রিপা তুই এতো রাতে আমাদের বাসায় কি মনে করে আসছিস?
– প্রয়জন ছিলো বলে আসছি,
-কিসের প্রয়জন এত রাতে -আর তোর বাসার কেউ দেখে না?
-দেখলে কি হয়েছে,
– আচ্ছা বল কিসের জন্য আসছিস এত রাতে?
– আমি তোকে ভালবাসি। সত্যি বিশ্বাস কর আমি আর কথাটা চেপে রাখতে পারি না তাই বলতে আসছি, প্লিজ আমাকে ফিরিয়ে দিবি না-প্লিজ,
-এই তোর মাথা ঠিক আছে? আমি তোর কি তা-কি মাথায় নাই?.
– হুম আছে তো কি হইছে তুই আমার বান্ধবীর ভাই.
– হুম ভাই আমি তোকে বোনের মত ভাবি আর তুই কি না,
– আমি তোকে বর এর মতো ভাবি বাচ শেষ এখন বল আমি কি করব,
-বোন রে বোন তুই আমায় জানে মারিস না প্লিজ,
-এই তোরে আমি আবার কি করলাম,
-না কিছু না মাপ চাই আর কিছু বলিস না, –
– আকাশ কেন রিপা কে এই কথা বলল নিশ্চয়ই কোনো কারণ আছে। হুম আছে কারণ আকাশ তার বোন অনামিকার সাথে একদিন বলছে যে আকাশ কোনো দিন প্রেম করবে না আর করে ও না, তখন এর বোন অনামিকা বলছে,” করিস না তা জানি কিন্তু করবি না তার কি গ্রান্টি আছে?”গ্রান্টি আছে আর ১০০% তুই দেখে নিস, তখন তার বোন বলছে আচ্ছা দেখে নিবো -আর আমি ও একটা কথা বলছি, আকাশ তখন বলল কি কথা? অনামিকা বলল আমি কিন্তু আজ থেকে তোর পিছন নিছি মনে রাখবি. আচ্ছা নিছ সমস্যা নাই,
– এই কথা মনে মনে আকাশ ভাবছে এটা কি কোনো অনমিকার চক্রান্ত হবে নাতো? অনামিকা কি এখন তার বান্ধবী কে আমার পিছনে লেলিয়ে দেয় না তো,
-আকাশ ভাবছে আর ভয়ে চুপ করে আছে কারণ রিপা এতো রাতে ওর রুমে কেউ দেখে ফেললে কি হবে, বিশেষ করে ওর বোন অনামিকা দেখলে তো পুরা শেষ, এদিক দিয়ে রিপা আকাশ কে ভালোবাসি ভালোবাসি বলছে আকাশ রিপার কথা গুলা প্রেংক মনে করে আকাশ রিপাকে কিচ্ছু না বলে আকাশ তার বোন অনামিকা কে ফোন দিল কিন্তু অনামিকা ফোন রিসিভ করল না, এখন আকাশ কি করবে বুজতে পারছে না, তাই আকাশ তার রুম থেকে বেড়িয়ে বাহিরে চলে গেলো
-আর আকাশের পেছন পেছন রিপা ও চলে গেলো, আকাশ রিপা কে দেখে বলল
-বোন তুই ও আমার পিছু নিলি,
রিপা ধমক দিয়ে আকাশ কে বলল,” এই আমাকে কি তোর বোন মনে হয় হুম হয়তো বলতে পারিস তোর বোনের সাথে পড়াশোনা করি তাই বলে কি আমি তোর বোন?” আকাশ নরম সুরে বললো, আমার বোনের সাথে পড়াশোনা করিস মানে আমার ও বোন বাচ শেষ প্লিজ বোন তুই এখন যা বাসার কেউ দেখলে আমারে জুতা পেটা করবে, তারপর রিপা চলে গেলো আকাশ তার রুমে এসে বসলো আর দেখলো ওর বিছানার উপর একটা চিঠি আর চিঠিটাতে লেখা ছিলো,
-প্রিয়
আকাশ, আশা করি ভালো আছিস, তোকে অনেক দিন ধরে একটা কথা বলব ভাবছি কিন্তু তুই আমার বান্ধবীর বড় ভাই বলে কথাটা বলার সাহস হয়ে না, কিন্তু কি করবো বল কথাটা না বলে আর থাকতে পারলাম না, তাই তোর কাছে এতো রাতে ছুটে আসছি, মনে মনে ভাবছি তুই ফিরিয়ে দিবি না কিন্তু দুর্ভাগ্য তুই আমার ভালাবাসাটা প্রেংক মনে করলি, যাই হক ভালো থাকিস আগামী “১২-/-৮“/-২০২০“/ তারিখ কানাডা চলে যাবো, আসলে যাওয়ার কথা আরো আগেই ছিলো আমি যাই না কারন তোকে ছাড়া থাকতে পারবো না বলে, কিন্তু কি করবো এখন তো না পারলে ও আমায় চলে যেতেই হবে কারন আমার আর এক মূহুর্তের জন্য ও বাংলাদেশে থাকতে ইচ্ছে নেই কারন যেই খানে আমার ভালবাসার মানুষ টা আমায় বিশ্বাস না করে আমার ভালবাসাটাকে প্রেংক মনে করে আমাকে চলে যেতে বলল। তো এই দেশে আমার থেকে কি লাভ চলে যাবো আর কখনো আসবো না, ভালো থাকিস নিজের খেয়াল রাখিস, তোকে খুব মিস করবরে, I miss you akash & I really love you akash
_ইতি তোর বোনের বান্ধবী _
-আকাশ চিঠিটা পরে মাটিতে বসে পরল, আকাশের মাথায় কিছু ডুকছে না কি করবে আকাশ কিছু বুজতাছে না, এর বোন কে কি চিঠি টা দিবে নাকি দিবে না এই সব ভাবতেছে তারপর আকাশ রিপার ফোন কল দিল কিন্তু বার বার ফোন টা সুইচ অফ বলছে, আকাশ কি করবে বুজতে পারছে না এতো রাতে কি রিপা বাসায় যাবে নাকি অনামিকা কে বলবে, এইসব ভাবতে ভাবছে রাত ৩ টা বেজে গেলো আকাশের ঘুম আসছে না। তাই আকাশ রুমে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়, সকালে উঠে মসজিদে ফজরের নামাজ পড়ে অনামিকার রুমে গিয়ে বসল।
-অনামিকা আকাশ কে দেখে বলল, “কিরে ভাইয়া সকাল সকাল আমার রুমে কি মনে করলে আসলি হুম?
-আসছি একটা কথা বলার ছিলো,
-আচ্ছা বল,
-তার আগে বল আমায় ভুল বুঝবি না,
– ওকে ভাইয়া বুঝবো না তুই বল
– তারপর আকাশ অনামিকা হাতে চিঠিটা দিয়ে বলল, নে পড়
-কিসের চিঠিরে ভাইয়া,
– তুই পড়ে দেখ কিসের চিঠি
-আচ্ছা পরছি,
– তারপর অনামিকা চিঠি টা পড়লো আর আকাশকে বলল ভাইয়া এখন কি করবি?
– আকাশ কিচ্ছুহ্মন ভেবে তারপর বলল তোর তো কোনো চক্রান্ত নাই এই সব এর বিরত,
– কি বলছিস ভাইয়া আমি কি চক্রান্তর ভেতরে থাকবো?
-নাহ কিছু না আগে বল তুই এই সব কিছু আগে থেকে জানিস?
– নারে ভাইয়া আমি কিছু জানি না আর জানলে তো তোর সাথে এই সব নিয়ে মজা করতাম
– হুম ভাবতে দে আমায়
– নারে ভাই আর ভাবার সময় নাই, তো এখন আমি কি করবো?আগে বল তুই কি রিপাকে ভালোবাসিস?
– জানি না,
– এটা কেমন কথা,
– কেমন কথা আবার প্লিজ ভাইয়া তুই যদি রিপা কে ভালবেসে থাকিস তাহলে ওরে যেতে দিস না,
– তোর কি মথা খারাপ নাকি আমি আসছি তোর কাছে তার সমাধান নিতে আর তুই কি না,
-কি আমি তো সমাধান এ দিয়েছি । এখন মানা না মানা তোর ইচ্ছে কিন্তু একটা কথা শুনে রাখ ভাইয়া রিপা যদি দেশ থেকে অভিমান করে চলে যায় তাহলে তোর সাথে আর কখনো কথা বলব না,
– আমি এখন কি করতে পারি? প্লিজ বল বোন, তুই রিপার কাছে গিয়ে ভালবাসি বলে রিপা কে ফিরা,
– আচ্ছা তাই করব, কিন্তু এখন রিপা কে আমি কোথায় পাবো, আচ্ছা ওয়েট আমি রিপা কে ফোন দিয়ে জিজ্ঞেস করি রিপা কোথায় আছে,
-আচ্ছা ঠিক আছে,
তারপর অনামিকা রিপাকে ফোন দিয়ে জিজ্ঞেস করল রিপা কোথায় রিপা বলছিলো বাসা আছে তাই অনামিকা বলছে আমি কি আসবো রিপা বলছে হুম আস তবে একা সাথে কাউকে আনতে পারবি না, তারপর অনামিকা বলছে আচ্ছা ঠিক আছে সমস্যা নাই আমি একা ই আসছি, এই বলে রিপার ফোন কেটে দিল। আকাশের সাথে অনামিকা বলল যে, ভাইয়া রিপা বলছে একা যেতে সো তুই যেতে পারবি না আমি ই গেলাম তুই থাক দেখি না কি বলে,
-তারপর অনামিকা বাসা থেকে বেড়িয়ে আসলো, আর রিপার বাসায় চলে গেলো, আর বাসায় ডুকতেই অনামিকার সাথে রিপার আব্বুর দেখা হলো। তারপর অনামিকা রিপার আব্বুকে সালাম দিল, আসসালামু আলাইকুম আংকেল,
-ওয়ালাইকুম আসসালামু মামুনি কেমন আছো,
-এই তো ভালো আপনি?
– হুম ভালো, তো আংকেল রিপা কি ওর রুমে?
-না মামুনি রিপা ছাদে বসে আছে ,
অনামিকা ছাদে উঠে দেখে রিপা উপরের দিকে তাকিয়ে আছে আছে আর বলছে [জানো মা আমার না আজকে খুব অস্থির লাগছে মনে হচ্ছে তোমার কাছে চলে যেতে কিন্তু কি করবো তুমি না কথা দিয়েছো বাবাকে একা রেখে কোথায় ও না যেতে তাই যাচ্ছি না মা জানো আজ না আমি হেরে গেলাম ভালবাসার কাছে তুমি না একদিন বলেছো যে যাকে মূল্য না দেয় তার থেকে দুরে থাকতে তাই আমি আমার জন্ম ভূমি থেকে চলে যাচ্ছি, ] রিপা এগুলো বলছে আর কাঁদতে অনামিকা রিপার কান্না দেখে সয্য করতে না ফেরে অনামিকা ও কেঁদে দিল আর অনামিকার কান্নার আওয়াজ শুনে রিপা পিছনে তাকালো আর দেখলো অনামিকা কে তাই রিপা তারাতারি দু-হাত দিয়ে চোখের অশ্রু মুছে ফেললো। অনামিকা কে বলল, “কখন আছসিস অনামিকা?” কোনো কথা না বলে রিপাকে ঝরিয়ে ধরে কাঁদতে লাগলো রিপা ও কাঁদতেছে, অনামিকা রিপা কে বলতে লাগলো তুই কোথায় যাবি,
-ফুফির কাছে চলে যাবো
– না তোকে আমরা যেতে দেবো না
– প্লিজ অনামিকা আমাকে বাঁধা দিবি না কারণ আমার এখানে আর একমুহূর্তে জন্য ও থাকতে আর ভালো লাগে না তাই ফুফির কাছে চলে যাবো ,
-প্লিজ এমন কথা বলিস না, তুই না আমার বোন, আচ্ছা বাদ দে পরের টা পরে দেখা যাবে, তারপর অনামিকা আর রিপা দু’জন নিজের মধ্যে কথা বলছে আর অনামিকা রিপার লেখা সেই চিঠি টা, রিপার হাতে দিয়ে বলল, “এই চিঠিটা তে যাযা লিখা আছে তা কি সত্যি?”
-হবে হয়তো যাই হক বাদ দে, তোর সাথে কিছু কথা ছিলো,
-কি বল,
তুই আকাশ কে বলবি না আগে বল, আচ্ছা বলব না , আমার সাথে একটু আমাদের গ্রামের বাড়িতে যাবি প্লিজ, আরে ধুর প্লিজ বলার কি আছে আমি যাবো। থ্যাংকু দোস্ত আচ্ছা বল কবে যেতে হবে,
-ভাবছি আজকে বিকালে যাবো তুই কি বলিস?
-আমি আর কি বলব,
– তুই যেদিন যাস সেই দিন এ যাবো,
– আচ্ছা তাহলে বিকেল ৩ টা বাসায় আছিস আমি ও রেডি হয়ে থাকবো,
-আচ্ছা আমি তাহলে বাসায় যাই.
-ওকে যা,
তারপর চলে গেলো অনামিকা, আর রিপা ও সবকিছু গুছিয়ে নিচ্ছে গ্রামে যাওয়ার জন্য, সবকিছু গুছিয়ে অনামিকা কে ফোন দিল আসার জন্য, কিন্তু অনামিকার ফোনে রিং হচ্ছে কিন্তু রিসিভ করছে না কেউ, কিচ্ছু হ্মন চেষ্টা করার পর ফোন রিসিভ করলো। রিপা বলতে লাগলো, অনামিকা আমি বাসা থেকে বেড় হচ্ছি তুই ও তারাতারি বেড় হ আমি কমলাপুর রেলস্টেশনে অপেহ্মা করব কি হলো কথা বলছিস না কেন?
-অনামিকা সাওয়ারে গেছে আমি আকাশ। আর আকাশের কন্ঠ শুনে রিপা ফোনটা কেটে দিল তারপর অনামিকা সাওয়ার থেকে বেড়িয়ে রুমে আসলো আর আকাশ ফোন টা দিয়ে বলল,
-রিপা কল দিয়েছে তুই এখন আবার কল দে,
তাই রিপাকে অনামিকা ফোন দিল কিন্তু রিপা কল রিসিভ করে না, কারন রিপা ভাবতেছে যে আকাশ ফোন দিতেছে তাই আর ফোন রিসিভ করে না,তারপর রিপা বাসা থেকে বেড়িয়ে কমলাপুর রেলস্টেসন এর কাছে গিয়ে অনামিকে কে মেসেজ দিল,
-তুই কোথায়?
অনামিকা বলল আমি তো কমলাপুর রেল স্ট্রিশন এর পাশে আচ্ছা তুই দারা আমি আসছি, রিপা দাঁড়িয়ে আছে আর অনামিকাকে দেখতে ফেলো অনামিকার সাথে আকাশ ও আছে আকাশ কে দেখে রিপা মনে মনে অনমাকির সাথে রাগ করে আছে কারন অনামিকা কে বলছে আকাশ যাতে না যানে, কিন্তু তবু ও অনামিকা আকাশকে সাথে করে নিয়ে আসলো, তারপর অনামিকাকে রেখে আকাশ চলে গেলো, রিপা ২টা টিকেট কেটেছে একটা নিজের জন্য আরেক টা অনামিকার জন্য তারপর ২ জন সিটে বসল,
রিপা জানালার পাশে বসছে, রিপা বাহিরের দিকে তাকিয়ে সারাটা পথ কান্না করতে করতে আসছে, তারপর ওরা গ্রামে চলে গেলো আসলে গ্রামে ওর মামার বাড়ি সেই ছোট্ট বেলা মা হারালো তারপর ওর মামা -মামির কাছে ২ বছর ছিলো, তারপর ওর বাবা তাকে বিদেশে ফুফির কাছে নিয়ে গেছে – দেশে আজকে ৫ বছরের মতো আসছে এখন আবার কিছু দিনের মধ্যেই চলে যাবে তাই মামা মামির সাথে দেখা করতে এসেছে – সত্যি বলতে রিপার মামা মামি খুব ভালো রিপাকে নিজের সন্তানের চেয়ে বেশি আদর করে, যাই হক ওরা গ্রামে ২ দিন এর মতো ছিলো তারপর ৩ দিন এর দিন শহরে চলে গেলো, অনামিকা বাসায় গিয়ে আকাশ কে বলল, “আজকে বুধবার আগামী শুক্রবার রিপা চলে যাবে বুজলি ভাইয়া এই কিরে আমার কথা কি কানে যাচ্ছে না, আমি কি বলছি তুই কি কিছু শুনতে পারিস না?
আকাশ কিচ্ছুহ্মন চুপ করে থেকে বলল, “আমি কি করবো রিপা চলে গেলে, আর ওকে তুই বাধা দিবি না চলে যেতে চাইছে তাকে চলে যেতেদে, এই ভাবে ২ দিন পেরিয়ে গেলো আজ শুরুবার রিপার যাওয়ার দিন রিপা আকাশের বাসায় এসে আকাশের বাবা মা এবং সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বাসায় গিয়ে সব কিছু ঠিক করে বাসা থেকে রিপা আর রিপা বাবা বেড়িয়ে পড়লো ১ ঘন্টার মধ্যে ওরা এয়ারপোর্ট এ চলে আসলো, এসে দেখে আকাশ দাঁড়িয়ে আছে এই , আকাশের সাথে কথা না বলে আকাশ কে পিছিয়ে রিপা চলে গেলো । আকাশ পিছন থেকে রিপাকে ডেকে বলল,” রিপা তুই কোথায় যাস? রিপা কোনো কথা না বলে চলে যাচ্ছে আকাশ দৌড়ে গিয়ে রিপার হাত ধরে বলল, “তুই যদি দেশ থেকে চলে যাস তাহলে আমার লাশের উপর দিয়ে যেতে হবে,” রিপা বলল, আমি চলে গেলে তোর কি,
– আমারতো সব শেষ হয়ে যাবে। প্লিজ তুই যাবি না তোর পায়ে পরি, আকাশ কান্না করতে করতে রিপার হাত ধরে বসে পরলো রিপা চুপ করে আছে আকাশ রিপার বাবার কাছে দুহাত তোলে বলতে লাগলো আংকেল প্লিজ রিপা কে আটকান প্লিজ আংকেল ওকে বলেন দেশ থেকে কোথায় ও না যেতে কিন্তু রিপার বাবা ও চুপ করে আছে কেউ আকাশের কথার জবাব দিচ্ছে না, তাই আকাশ রিপাকে কান্না করতে করতে বলতে লাগলো ওকে চলে যা কিন্তু তার আগে আমার লাশটা দেখে যা প্লিজ এই কথা শুনে রিপা আকাশের মুখে চেপে ধরে বলল, চুপ এই কথা কখনো মুখে আনবি না আকাশ কান্না মুখে বলতে লাগলো তুই চলে গেলে তো মুখে আনবো প্লিজ তুই আমায় একটা রেখে যাস না প্লিজ,
-রিপা বলল এই দিনটার জন্য এতোদিন অপেক্ষা করেছি। আকাশ হাসি মুখে বলল তাই তাহলে চল বাসায় চল আর তোকে যেতে হবে না। তারপর ও চলে আসলো আর বিদেশ যাওয়া হলো না , সেই দিন যদি আকাশ রিপাকে না ফিরাত তাহলে কিন্তু এতো দিন রিপা আর দেশে থাকতো না – এই ভাবে তাদের আগামীর দিন গুলা শুরু হলো , একদিন হঠাৎ আকাশ রিপা কে বলল, স্নেহ – প্রেম ভালবাসা পূর্ণ এই জগৎ সংসার মানুষ যাই করোক না কেন, এই জগৎ সংসার ত্যাগ করে কখনো চলে যেতে চায় না, বরণ এই নীল আকাশের নিছে স্নিগ্ধের আলোতে বাঁচতে চায় সারাদিন জীবন, আর এই জগতে একা কোনো দিন সংসার করা যায় না,
-রিপা বললো কেনো কেনো যায় না,
-আচ্ছা রিপা তোকে ছোট্ট একটা উদাহরণ দেই.
-হুম দে, একটা হ্মুদ্র মৌমাছি কি একা কোনো মৌচাক তৈরি করতে দেখছিস.?
-নাতো দেখি না আর একা তা সম্ভব ও না.
-হুম সম্ভব না তেমন একজন মানুষের পহ্মে ও একা সংসার তৈরি করা সম্ভব না, আর মৌমাছি রা মৌচাক তৈরি করতে হলে আগে সব মৌমাছি মিলে মৌচাকটা সম্পূর্ণ করে তারপর সুন্দর একটা মৌচাক বুনবে ,তেমন কিছু মানুষ মিলে একটা সংসার তৈরি করে তা সম্পূর্ণ করতে ছোট্ট সুখের বাসা বুনতে হয়. তো স্যার এখন আমায় কি করতে হবে.?
-তোকে আমায় বিয়ে করতে হবে.
-তাহলে দেরি কিসের চল,
-হুম চল আমরা ও দুজন মিলে মৌমাছির মতো নীল আকাশের স্নিগ্ধের আলোতে আমাদের ছোট্ট মৌচাক টা সম্পূর্ণ করবো,

গল্পের বিষয়:
গল্প

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত