বউয়ের অবহেলা | পর্ব -৫

বউয়ের অবহেলা | পর্ব -৫

শশুর বাড়ি পৌছাতে পৌছাতে সন্ধ্যা হয়ে যায়।মিম আর আমাকে সাদরে বরন করলেন।শশুর বাড়ির লোকেরা আমাকে আপ্যায়ন করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে।

শশুর শাশুড়ি সবাইকে সালাম করলাম।
আম্মা:যাও বাবা ফ্রেশ হয়ে খাবার খেতে এস।মিমকে উদ্দেশ্যে করে বল্ল এই মিম বাবাজিকে ওয়াসরুমটা দেখিয়ে দেয়।

মিম:আপনি আমার সাথে চলেন(রাগী সুরে)
ফ্রেশ হয়ে মিমের রুমে বিশ্রাম নিচ্ছিলাম হঠাৎ মিম এসে বলতে শুরু করল

মিম:এই তাড়াতাড়ি আসেন আম্মু ডিনার করতে ডাকছে।
আমি:আপনি যান আমি আসছি।

এই বাড়িতে সবাই আমাকে নিয়ে ব্যস্ত।
আসার পর থেকে সবাই আমার যেভাবে খাতিরদারি করছে তা আমি এই জীবনেও পাইনি।

আমাকে নাস্তার টেবিলে বসিয়ে সবাই আমাকে ঘিরে ধরলো।
তারপর একে একে হরেক রকমের খাবার এনে আমার সামনে রাখতেছে।

এতো রকম খাবার আমি জীবনেও দেখিনি।
এতো সব খাবার খেলে আমি তো একদিনেই হাতি হয়ে যাব।

ভাত, নানা রকমের মাছ, আর মাংস,দুধ। আপনারা কিন্তু নজর দিবেন না।

এতো কিছু দেখে আমার তো জিবে পানি এসে পড়ল।তাও ভর্দ্রতার খাতিরে
তাই জিঙ্গাসা করলাম– এতো সব খাবার কার জন্য???

শাশুড়ি মা বললো- কেন বাবা তোমার জন্য।এটা তো সামন্য খাবার।

আমি: আপনারা কি আমাকে মারবেন নাকি?? এতো খাওয়ার খেলে তো আমি একদিনেই শেষ হয়ে যাব।

শাশুড়ি : কি যে বলো না এগুলো তো সামান্য,,,,,তুমি নতুন জামাই তোমাকে তো আরোও কিছু দেওয়ার দরকার ছিল কিন্তু আমরা পারিনি। এগুলো তো সামান্যই খাবার বাবা খাও তুমি।

আমি আর কিছু বললাম না,,চুপচাপ খেয়ে নিলাম। কি বলব বলেন।না পারি কিছু কইতে আর না পারি সইতে।কিন্তু মনে মনে আমি হেব্বি খুশি।শশুর বাড়ির খাওন বলে কথা।

হঠাৎ মিমের সকালের কথাগুলো মনে পড়ার কারনে মনটা নিমিষে খারাপ হয়ে গেল।তারপর হালকা নাস্তা করে ঘরে চলে গেলাম বিশ্রাম নেওয়ার জন্য

শরীরটা ক্লান্ত থাকার কারনে বিছানায় গাঁটা এলিয়ে দিলাম।তারপরে কখন ঘুমিয়ে পড়েছি কিছু বুঝতেই পারিনি।

চোখ লেগে গিয়েছিল হঠাৎ মিমের চিৎকারের শব্দে ধরফরিয়ে বিছানার থেকে উঠলাম।

আমি::কি হয়েছে চিৎকার করছেন কেন?????(ঘুম ঘুম চোখে)

মিম:কি হয়েছে মানে??তুই আমার বিছানায় শুয়েছিস কেন(রাগে অর্গিশর্মা হয়ে)

আমি:তাহলে আমি কোথায় ঘুমাবো।এখানে তো কোনো সোফা নেই???

মিম:আমি জানি তুই কোথায় ঘুমাবি??তুই আমার বিছানায় ঘুমাতে পারবিনা ব্যাস???

না হলে ফ্লোরে ঘুমা দাও ঘাটের উপরে ঘুমাতে পারবিনা।
কাধা বালিশগুলো ফ্লোরে ছুড়ে মেরে কথাটি বলল।

কি আর করার মনের দু:খ নিয়ে ফ্লোরের মধ্যে বিছানা করে শুয়ে শুয়ে ভাবতে লাগলাম।

আমার কতো স্বপ্ন ছিল বউকে জরিয়ে ধরে ঘুমাবো।আর বউ আমার বুককে বালিশ হিসেবে ব্যবহার করবে।

বউ আর আমি চাদঁ বিলাস করব।বৃষ্টির সময় একসাথে বৃষ্টিতে ভিজব।স্বপ্ন আর কই বাস্তবে পরিনত হল।সব স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে গেল।

এসব ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছি নিজেই বুঝতে পারি নাই।

সকালে শালিকার ডাকে ঘুম ভেঙ্গে যায়।
তারপরে ফ্রেশ হয়ে রুমে বসে ছিলাম হঠাৎ মিম এসে বল্ল

মিম:আম্মু আপনাকে ডাকছে ব্রেকফাস্ট করার জন্য।
আমি:আচ্ছা চলেন,,,,,,,,
মিম আর আমি একসাথে ব্রেকফাস্ট করে সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে নিজের বাড়ির উদ্দশ্যে রওনা দিলাম।

মিম আমাকে গাড়ির ভেতরে জিজ্ঞাসা করল,,,,,
মিম:আমার ডিভোর্সের কি অবস্থা???
আমি:এই বিষয় নিয়ে চিন্তা করবেন না।আজ বিকালে উকিলের কাছে যাব ডিভোর্সের ব্যাপারে আলোচনা করতে।

কিন্তু আমি একটা জিনিস বুঝতে পারছিনা ডিভোর্স দেওয়ার পর আপনি কোথায় যাবেন???

মিম:এই বিষয় নিয়ে আপনাকে চিন্তা না করলেই চলবে??আমি আপনার কাছ থেকে ডিভোর্স নেওয়ার পর আমি রকিকে বিয়ে করব।

আমি:ওওও,,,,,,,,
কথা বলতে বলতে বাড়িতে পৌছে যাই।
তারপরে ফ্রেশ হয়ে হালকা নাস্তা করে উকিলের কাছে চলে গেলাম ডিভোর্স ব্যাপারে কথা বলতে।

আমি:স্যার আসতে পারি(উকিলকে উদ্দেশ্যে করে)
উকিল:হুমম আসুন।তা কি যাই।
আমি::স্যার আমার স্ত্রীকে ডিভোর্স দিতে চাই।

উকিল:হুমম বসুন।তা বলুন কি জন্য আপনার স্ত্রীকে ডিভোর্স দিতে চান।

তারপরে উনাকে আমি সব কথা বল্লাম।(সিক্রেট কথা ছাড়া)

উকিল:হুমম বুঝলাম।কিন্তু ছয়মাস আগে ডিভোর্স পেপার হাতে পাবেন না।

আমি:স্যার একটু তাড়াতাড়ি দেওয়া যায় না।
উকিল:দেখুন কোর্ট কারবারের ব্যাপার সময় তো লাগবেই।

কিন্তু আমি তাড়াতাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করব।
আমি:ধন্যবাদ স্যার তাহলে আমি এখন আসি।
উকিল:হুমম আসু্ন??

উকিলের কাছ থেকে মোবাইল নাম্বার নিয়ে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে চলে গেলাম।বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছিলাম।

হঠাৎ করে আব্বু ফোন দিল।রিসিভ করার সাথে সাথে আব্বু বলতে শুরু করল
আব্বু:ওই হারামজাদা কই তুই।রাত কয়টা বাজে এই খবর আছে। ঘরে বৌমাকে ফেলে রেখে বাইরে মধ্য রাত পর্যন্ত বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিস।দশ মিনিটের মধ্যে বাসায় আসবি।না হলে তোর খবর আছে।

আমি:আচ্ছা আব্বু আমি এক্ষুনিই আসছি।(ভয়ে ভয়ে)
বন্ধুদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে
বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম।

কলিংবেল বাজার সাথে সাথে আম্মু দরজা খুলে দিল।
আম্মু:কিরে এতক্ষন কোথায় ছিলি???সেই বিকালে বের হইসছ।আর এখন বাজে রাত ১২টা।

আমি:আসলে আম্মু বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছিলাম।তাই দেরি হয়ে গেছে।
আম্মু:আচ্ছা যা ফ্রেশ হয়ে আয় আমি টেবিলে খাবার দিচ্ছি।

আমি:তুমি কেন???মিম কোথায়??
আম্মু:মিম ঘুমাচ্ছে।
আর কথা না বাড়িয়ে ফ্রেশ হতে চলে গেলাম।ফ্রেশ হয়ে এসে হালকা নাস্তা করে ঘরে চলে গেলাম।

ঘরের ভেতরে টুকে দেখি মিম বাচ্চা মেয়েদের মতো গভীর ঘুমে নিমচ্ছিত।একদম মায়াবী পরীর মতো লাগছে।

জানালা খুলা থাকার কারনে চাদের আলো সরাসরি মিমের চেহারার মধ্যে পড়েছে।যার ফলে মিমের চেহারা কয়েক লক্ষ গুন সুন্দর্য্যে বাড়িয়ে তুলেছে।

হঠাৎ মিমের কানের পাশে আমার চোখ যায়

(চলবে,,,,,,,,,,,,,,

গল্পের বিষয়:
গল্প

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত