বউয়ের অবহেলা | পর্ব-১

বউয়ের অবহেলা | পর্ব-১

আম্মু:দেখ বাবা আমাদের বয়স হয়েছে কোনদিন মরে যাই জানি না।নাতি-নাতনির মুখ থেকে মরতে চাই তুই এই ইচ্ছাটা পূরন কর বাপ।তুই বিয়ে করে ফেল।
রাতে সবাই মিলে ডিনার করছিলাম তখন আম্মু কথাটা বল্ল।

আমি:তুমি আবার শুরু করেছ।মাএ নিজের পায়ে দাড়ালাম।(আপনারা ভাবছেন আমার পা ভাঙ্গা টাঙ্গা না কি।না আপনাদের ধারনা ভূল।আমি চাকরি কথা বলছি।হি হি হি।)
দেখ মা আগে ভালো মতো করে নিজের পায়ে দাড়াই তারপরে না হয় বিয়ের কথা চিন্তা ভাবনা করবোনে।

আম্মু:হুমম আমাদের মরার পর বিয়ে করিছ(মন খারাপ করে)
আব্বু:তর মায়ের কথা ঠিক তুই একটা বিয়ে করে ফেল বাবা।নাত-নাতনির মূখ থেকে যাতে মরতে পারি।তুই তো মুটামুটি একটা ভালো জব করছ তাহলে বিয়ে করতে সমস্যা কোথায়???

ছোট বোন:হুমম ভাইয়া তুই এখন বিয়েটা করে ফেল।তাহলে আমার জন্য খুব ভালো হবে।
আমি:তোমরা সবাই এইগুলো কি শুরু করছ।আচ্ছা যাও আমি বিয়া করব।তোমরা সবাই মেয়ে দেখ।

আম্মু:সত্যি তুই বিয়া করবি(খুশি হয়ে)।তাহলে তুই একটু তাড়াতাড়ি অফিস থেকে ছুটি নিয়ে আসিস।

আমি:কেন??(অবাক হয়ে)

আম্মু:বারে আগামীকাল আমরা মেয়ে দেখেতে যাব না।

আমি:কি তোমরা অলরেডি মেয়েও পছন্দ করে ফেলছ।(আশ্চর্য হয়ে)

আম্মু:হুমম আমার বান্ধুবীর একমাএ মেয়ে।যেমন তার রূপ তেমন, তার ব্যবহার।এবার অনার্স ৩য় বর্ষে পড়ে।

আমি:তাহলে আর কি তোমরা মেয়ে পছন্দ করেছ আর আমার পছন্দের কি আসে যায়।তোমরা কালকে মেয়ে দেখে আস।

আম্মু:কেন তুই যাবিনা।

আমি:না তোমাদের পছন্দই আমার পছন্দ।

আম্মু: ও আচ্ছা ঠিক আছে।

আমি:তাহলে আমি এখন উঠি
বাবা মায়ের একমাএ আদুরে পোলা।আমি বর্তমানে একটা বেসরকারি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে জব করি।মা-বাবা,ছোট বোন নিয়ে আমাদের সংসার।

এতক্ষন মা বাবারা আমার বিয়ে নিয়ে কথা বলছিল।প্রতিদিন মা বাবারা কানের সামনে এসে বলে বাবা একটা বিয়া কর,বিয়া কর।উনারা আমাকে বলি দেওয়ার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে।উনাদের একটাই কথা নাত-নাতিদের সাথে বাকি জিবনটা কাটাতে চাই।মনে হয় উনাদের এটা প্রতিদিনের রুটিন হয়ে গিয়েছে।কানটা একদম জ্বালা-ফালা করে ফেলাইছে।আপনারাই বলেন কয়েকদিন আগে জবে টুকলাম।ঠিকমত নিজের পায়ে দাড়াই। তারপরে না হয় বিয়ের কথা চিন্তা করা যাবে।কিন্তু না উনাদের প্রতিদিন একই কথা বাবা একটা বিয়া কর।

আপানাদের সাথে অনেক কথা হয়েছে এখন ঘুমাই অনেক রাত হয়েছে।সকালে আবার অফিসে যেতে হবে।যদি লেট হয় তাহলে বসের হাতে রেহাই নাই।আপনারাও ঘুমান গুড নাইট।

ছোট বোন:এই ভাইয়া উঠিছ না কে?অফিসে যাবি না দেরি হয়ে যাচ্ছে তো।আজ আমার কলেজে গুরুত্বপূর্ণ ক্লাস আছে।এই ভাইয়া উঠ(কাথা টানতে টানতে কথাটি বল্ল)

আমি:আহ নিশি (ছোট বোনের নাম)ডিস্টার্ব করিছ না ঘুমাতে দেয়।(ঘুমে ঘুৃমে)
নিশি:কি কয়টা বাজে দেখছস তুই।নয়টা বেজে গেছে এই খবর আছে তর।

আমি:কি নয়টা বেজে গেছে (লাফ দিয়ে উঠে)
তুই আমাকে আরো আগে ডাক দিবিনা।
নিশি:উমমম(ভেংচি কেটে)তুই আমাকে আরো আগে ডাক দিবিনা।তকে আমি সকাল আটটার থেকে ডাকতে শুরু করছি।কিন্তু তোর তো উঠার কোনো খবরই নাই।তোর কারনে যদি আমার কলেজে লেট হয়।তাহলে তোকে ছাড়মু না।

আসলে আমার অফিস সকাল দশটায়।কোনো মতে ফ্রেশ হয়ে হালকা ব্রেকফাস্ট করে গ্যারেজ থেকে বাইকটা বের করে বোনের কলেজে উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম।আসলে বোনকে প্রতিদিন আমাকে কলেজে নিয়ে যেতে হয়।

বোনকে কলেজে নামিয়ে বাইকটা চালু করে অফিসের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম।মনে মনে ভাবছি আজকে কপালে কি আছে আল্লাই জানে।আজকে বস নিশ্চয় অনেক বকা ঝকা করবে।ভাবতে ভাবতে অফিসে পৌছে যাই।সরাসরি নিজের অফিস রুমে চলে গেলাম।কাজ করছিলাম হঠাৎ পিয়ন এসে বল্ল স্যার বস আপনাকে ডাকছে।

আমি:হুৃম যাও আমি আসছি।হাতের কাজগুলো শেষ করে বসের রুমের উদ্দশ্যে রওনা দিলাম।আর সৃষ্টিকর্তাকে স্মরন করতে লাগলাম।

আমি:মে আই কামিং স্যার
বস:ইয়েস কামিং।তা আমির সাহেব আজকে অফিসে আসতে এত লেট হলো কেন???

আমি:আসলে স্যার ঘুৃম থেকে উঠতে দেরি হয়ে গিয়েছে।
বস:অফিসে লেট করে আসলে তো আর হবে না আমির সাহেব।

আমি:সরি স্যার আর কোনোদিন এমন হবেনা।
বস :ওকে ঠিক আছে।আপনি এখন যেতে পারেন।
আমি:ধন্যবাদ স্যার।তাহলে আমি এখন আসি।
স্যার:ওকে যাও।আসলে আমি কোনোদিন লেট করিনি তো তাই স্যারে কিছু বলেনি।

নিজের কেবিনে এসে গুরুত্বপূর্ণ কাজ সেরে বাড়ির উদ্দশ্যে রওনা দিলাম।হাত ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি রাত ৮:৪৫মি. বাজে।

বাসায় গিয়ে হালকা ফ্রেশ হয়ে বিছানা বসে রেস্ট নিচ্ছিলাম ওই সময় মহারানীর আগমন(ছোট বোন)

নিশি:ভাইয়া তোকে আব্বু আম্মু ডাকে ডিনার করতে।
আমি:আচ্ছা তুই যা আমি আসতাছি।
নিশি:আচ্ছা তাড়াতাড়ি আসবি কিন্তু।

কিছুক্ষন রেস্ট নিয়ে খাবার টেবিলে চলে গেলাম।ভাত খাচ্ছিলাম হঠাৎ আম্মু বল্ল
আম্মু:আমরা বিকালে মেয়ে দেখে বিয়ের দিন তারিখ ঠিক করে আসলাম।

আমি:তা কোনদিন বিয়ে দিবে বলে ঠিক করে আসলে(হতাশ হয়ে)
আম্মু:আগামী পাচঁদিন পর তোমার আর মিমের বিয়ে(হবু বউয়ের নাম) হবে।

আমি:কি এত তাড়াতাড়ি।(আশ্চর্য হয়ে)আর কয়েকদিন পিছানো যায় না আম্মু।
আম্মু:না আমি যেইদিন বলেছি সেইদিন হবে।তুমি বিয়ের জন্য প্রস্তুতি নেও।

আমি:আব্বু আম্মুকে বলো না বিয়েটা কিছুদিনের জন্য পিছিয়ে দিতে।
আব্বু:আমি আর কি বলব বল।তর আম্মু যা বলছে সেটাই কর।না হলে কুরুক্ষেত্র লাগিয়ে দিবে।

আমি:তুমিও আব্বু আম্মুর সাথে হাত মিলিয়েছ।
তোমরা আমাকে এত তাড়াতাড়ি বলি দেওয়ার জন্য পাগল হয়ে গেছ।দূর ছাই(মনে মনে)

আম্মু:কিরে মিন মিন করে কি বলিস।আমি যেইদিন বিয়ে ঠিক করেছি সেইদিন করবি।
আমি:আচ্ছা(হতাশা কন্ঠে)
চলবে……..

গল্পের বিষয়:
গল্প

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত