বল তুই আমার | পর্ব -২

নায়কের নাম চাঁদ থেকে পরিবর্তন করে আলিফ ইসলাম রাখা হলো।
!!
রাত্রি কান্না করে বাবার কাছে যেভাবে বিচার দিচ্ছে আজকে আমার খবর আছে। যাই তাড়াতাড়ি করে ছবি গুলি ডিলেট করি বলে মোবাইলটা হাতে নিয়েছি। ঠিক তখনি রাত্রি এসে মোবাইলটা ছু মেড়ে নিয়ে গেছে। এই রাত্রি তুই আমার মোবাইল নিয়েছিস কেনো? তখনি রাত্রি মোবাইলের ছবি গুলি বাবাকে দেখিয়ে বলছে।
রাত্রি:- বাবা দেখেন ছবি গুলি বাবা ছবি দেখে তো রেগে যাচ্ছে।
বাবা:- আলিফ এই গুলা কি?
আলিফ:- বাবা আমার কি দোষ রাত্রি তো ছেললেটার কাছ থেকে ফুল নিচ্ছে আর আমার বন্ধুরা ছবি তোলে আমাকে ছবি গুলি দিয়েছে।
বাবা:- তুই কি আমাকে বোকা পায়ছিস আমার কি জ্ঞান বুদ্ধি নেই নাকী? শোন আলিফ আমি ভালো করে জানি তুই এর সাথে পুরাপুরি ভাবে জড়িত। আমি আবারো বলে দিচ্ছে রাত্রির সাথে তোর বিয়েটা হবে নিজেকে মানুষিক ভাবে তৈরি করে নিবি।
আলিফ:- বাবা বলছি তো আমি রাত্রিকে বিয়ে করতে পারবোনা।
বাবা:- কেনো? রাত্রি দেখতে শোনতে অনেক ভালো পড়ালেখা তোর থেকে ভালো আর তোকে ভালোবাসে এইটা সবচেয়ে বড় কথা। আর তাছাড়া আমরা রাত্রিকে এই বাড়ীতে এনেছি শুধু মাত্র তোর বউ করার জন্য।
আলিফ:- কারণ আমি রিপাকে ভালোবাসি আর তাছাড়া রাত্রির জন্মের পরিচয় কি? (তখনি মা এসে আমার গাল দিয়েছে একটা থাপ্পড় দিয়ে)
মা:- ছিঃ আলিফ তোর এতটা অধপতন হয়ছে ভাবতেও আমার অবাক লাগছে যে আমি তোকে জন্ম দিয়েছি। তখন আমি কিছু না বলে সোজা রুমে এসে দরজাটা লাগিয়ে দিয়েছি।
আলিফ:- বাবা মা আমাকে বুঝতে চাইনা কেনো আমি বুঝিনা। যেই মেয়েটার জন্মের পরিচয় নেই সেই মেয়েটাকে বিয়ে করলে বন্ধুরা আর সমাজের মানুষ গুলি কি বলবে? দূর ভালো লাগছে না রিপাকে ফোন করেছি রিপার সাথে কথা বলে মনটা ফ্রেশ করে নিলাম। বিকাল গড়িয়ে সন্ধা নেমে এসেছে কেউ আমাকে একবারো ডাকেনি। তখনি দরজায় কন্ক পড়েছে। আমি একটু রাগ দেখিয়ে কোনো উত্তর দিচ্ছি না।
রাত্রি:- আলিফ দরজাটা খুলো মা খাবার খেতে ডাকছে। (আমি তাও কনো উত্তর দিচ্ছি না) কি হলো দরজাটা খুলো তখনি রাত্রি জোরে জরো দরজায় কন্ক করছে। আমি গিয়ে দরজাটা খুলেই বলি।
আলিফ:- ঐ তুই এখানে কেনো আর আমি খাবোনা যা আমার সামনে থেকে।
রাত্রি:- আমাকে তুই করে বলছো কেনো?
আলিফ:- তুই বলবো হাজার বার বলবো তাতে যদি খারাপ লাগে লাগুক। আর শোন আজকের পর থেকে তুই আমার ব্যপারে নাক গলাবি না বলে দিলাম।
রাত্রি:- এখন খেতে আসবে নাকী বাবা মাকে বলে দিবো আমি তোমাকে বিয়ে করবো।
আলিফ:- এই রাত্রি আসছি বাবা মাকে খবর দার বলবিনা যে আমাকে বিয়ে করবি।
রাত্রি:- ঠিক আছে বলবোনা তাহলে ফ্রেন্ডস বলে হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।
আলিফ:- ঠিক আছে অনলি ফ্রেন্ডস বলে রাত্রির হাতটা ধরেছি। রাত্রি আমাকে নিয়ে গেছে খাবার টেবিলের সামনে। বাবা মা দুজনে বসে আছে। আমি বসেছি খাবার টেবিলে।
বাবা:- আলিফ তাহলে তুই রাত্রিকে বিয়ে করবি না?
আলিফ:- না আমি রাত্রিকে বিয়ে করবো না।
বাবা:- ঠিক আছে মা রাত্রি আজ থেকে তুই অন্য কাওকে বিয়ে করার জন্য তৈরি থাক। রাত্রির দিকে তাকিয়ে দেখি রাত্রি চেহারাটা কালো করে নিয়েছে। আমি রাত্রির জন্য পাত্র খুঁজে নিবো আর আলিফ তোর বিয়ে রিপার সাথে হবে। জোর করে বিয়ে দেওয়াটা ঠিক হবে না
মা:- হ্যা আপনি ঠিকই বলছেন আর যায় হোক জোর করে ভালোবাসা তৈরি হয় না। রাত্রি এখন থেকে তুই আলিফের থেকে দুরে দুরে থাকবি কেমন?
রাত্রি:- বিয়ে হবে ঠিক আছে দুরে দুরে থাকবো কেনো?
মা:- রাত্রি আমি যা বলছি তাই আর কোনো রকম ঝগড়া ঝাটি চাইনা। এখন সবাই খাবারের দিকে মন দাও। আমি তো মহা খুশি রিপাকে আমার বউ হিসাবে পাবো। খাবার শেষ করে রুমে এসে রিপাকে ফোন করে বলেছি।
রিপা:- সত্যি বলছো?
আলিফ:- হ্যা সত্যি বাবা মা আজ নিজেই বলছে। রিপার সাথে কিছুক্ষন কথা বলে ঘুমিয়ে গেলাম। আজকে রাতে অনেক শান্তির ঘুম এসেছে সকালে ফজরের আজান শুনে ঘুম ভাঙছে ঘুম থেকে উঠে নামায পড়তে গেলাম। ফজরের নামায দিয়ে দিনটা শুরু হলে আমার সারাটা দিনই ভালো কাটে। নামায পড়ে রাস্তায় কিছুটা হাটাহাটি করে বাড়ীতে এসেছি দেখি রাত্রি কুরআন শরীফ পড়ছে। রাত্রি যেমন সুন্দর তার কণ্ঠটা ধারুন কিন্তু কেনো যানি রাত্রিকে আমি আপন মনে করতে পারি না। রুমে এসে ফ্রেশ হয়ে নিলাম কিছুটা পড়ার দিকে মনোযোগী হলাম পড়া শেষ করে খেতে গেলাম দেখী রাত্রি অনেক সেজে গুজে এসেছে।
বাবা:- মা রাত্রি আজকে কোথাও যাবি নাকি?
রাত্রি:- হ্যা বাবা যাবো আজকে একজনের সাথে মার্কেটে যাবো।
মা:- একজনটা কি গাঁদাটা নাকী?
আলিফ:- মা তুমি আমাকে আবার গাঁদা বলেছো?
মা:- তোকে গাঁদা বলতে যাবো কেনো আর তাছাড়া রাত্রি কি তোর সাথে ঘুরতে যাবে নাকী? কিরে রাত্রি তুই কি আলিফকে সাথে নিয়ে যাবি?
রাত্রি:- নাহ মা আমি তো আমার বান্ধবীকে সাথে নিয়ে যাবো। আসলে হয়ছে কি আমার বান্ধবী বলছে সাথে আলিফকে নিয়ে যেতে মানে একটা ছেলে সাথে থাকলে বাজে ছেলেরা খারাপ মন্তব্য করতে পারে না।
বাবা:- মানে বডিগার্ড হিসাবে আলিফকে নিয়ে যেতে চাইছিস?
রাত্রি:- ঠিক তানা। আলিফ নিজেই বলছে আমাকে নিয়ে আজকে মার্কেটে যাবে। আর গতকাল রাত্রে তো মা বলেছে আলিফের কাছ থেকে দুরে দুরে থাকতে তাই আজকে শেষ ঘুরা ঘুরে করে আসি।
আলিফ:- আমি ঘুরতে যেতে পারবোনা আমার কাজ আছে আর তাছাড়া আমার বাইকে তেল নেই।
মা:- এই শুরু হয়েছে ওর ধান্ধা আমি জানতাম আজকে ওর টাংকী ফুল করবে।
রাত্রি:- ঠিক আছে আমি তেল ঢোকানোর জন্য টাকা দিবো এবার তো যাবে?
বাবা:- আলিফ তুই তোর জীবনে অনেক বড় একটা ভুল করেছিস সেই ভুলের মাশুল তোর দিতে হবে।
মা:- যদি কেউ না বুঝে তাহলে তাকে বুঝানোর কোনো দরকার নেই। এখন সবাই খেতে বসো। আমি কিছু বলিনি চুপচাপ খাবার শেষ করেছি।
রাত্রি:- আলিফ আমি বাহিরে আছি তুমি এসো।
আলিফ:- ঠিক আছে! আমি খাবার শেষ করে রিপাকে ফোন করেছি। রিপা ফোন রিসিভ করছে না দুই তিনবার ট্রাই করেছি কিন্তু রেজাল্ট একিই। আর কল করছি না এবার বাইকের চাবিটা নিয়ে বেরুলাম। বাইকটা বের করেছি রাত্রি এসে বসেছে। রাত্রি নাও হেমলেট পড়ে নাও।
রাত্রি:- তুমি চালাবে পড়বে তো তুমি!
আলিফ:- আমার আছে তুমি এটা পড়ো। রাত্রি হেমলেট পড়ে বসেছে আমার কাঁদের উপর হাত রাখছে। প্রথমে গিয়ে তেল ঢোকিয়ে নিলাম রাত্রি বিল দিয়েছে আমি কিছু বলিনি। রাত্রি কোন মার্কেটে যাবে বলো?
রাত্রি:- আমার তো কোনো জানা শোনা মার্কেট নেই তুমি যেখানে নিয়ে যাবে সেখানে যাবো।
আলিফ:- ঠিক আছে রাত্রিকে নিয়ে শপিং মহলে গেলাম। বাইকটা পার্কিং করে রাত্রিকে নিয়ে যাচ্ছি। আচ্ছা রাত্রি তোর বান্ধবী কোথায়?
রাত্রি:- আমার বন্ধু বান্ধবী সব তো একজনি।
আলিফ:- হ্যা সেটা কোথায়?
রাত্রি:- আমার সাথে আছে আর আমার হাত ধরে হাটছে।
আলিফ:- তাই বল। আচ্ছা এখন কি কনবি?
রাত্রি:- জিন্স আর টব জাতীয় কিছু পোষাক।
আলিফ:- কিন্তু তুই তো ঐ গুলা পড়িসনা। তাহলে হঠাত এগুলা কিনতে যাবি কেনো?
রাত্রি:- রিপা জিন্স টব এসব পড়ে বলেই তো তুমি রিপাকে ভালোবাসো তাইনা?
আলিফ:- সব কিছু সবার খেত্রে মানায় না আসো তোমাকে সুন্দর দেখে কিছু চুরিদার আর ছেলোয়ার কামিজ কিনে দিবো।
রাত্রি:- ঠিক আছে! রাত্রিকে সাথে নিয়ে কাপড় কিনতে গেলাম কাপড় কেনা কাটা করে দুজনে দুপুরে লাঞ্চ করেছি। রাত্রি সব বিল দিচ্ছে আমি কিছু বলছি না। রাত্রি আমার হাতটা জড়িয়ে ধরে হাটছে।
আলিফ:- আরে কি করছিস?
রাত্রি:- প্লিজ আমরা তো ফ্রেন্ডস তাইনা?
আলিফ:- হ্যা ফ্রেন্ডস কিন্তু অনেকে আমাদের স্বামী স্ত্রী মনে করছে।
রাত্রি:- এটাই তো চেয়েছিলাম কিন্তু হলোনা তাও কিছুটা সময় যদি এমন ভাবে থাকতে পারি। রাত্রিকে নিয়ে সারাটা দিন ঘুরে কেটে গেছে এখন প্রায় সন্ধা হয়ে গেছে।
আলিফ:- আজকের নামায পড়াটা হলোনা সব দোষ তোর এক কেনা কাটা করে কি করবি? আর কি কেনা কাটাটা করবি না নাকি?
রাত্রি:- মা (১৫০০০) পনের হাজার টাকা দিয়েছেন তাই আজকে সব কিনে নিবো। কেনা কাটা শেষ হয়েছে রাত ৮টা বাজে। আজকে সারা দিনে রিপার কোনো কলই আসেনি। রাত্রিকে সাথে নিয়ে বাড়ীতে যাচ্ছি হঠাত রাস্থায় প্রশ্রাবের পচন্ড চাপ দিয়েছে। আমি বাইকটা সাইট করে থামিয়েছি। কি হলো বাইক থামালে কেনো?
আলিফ:- কাজ আছে তুমি বসে আমি আসছি। আমি কিছুটা দুরে গিয়ে প্রশ্রাব করে নিলাম। আমি এসে দেখি একটা ছেলে রাত্রিকে বলছে।
এই রেট কত রাত্রি ওর কথা কিছু বুঝতেছেনা তখনি আমি সামনে গেছি। এই তুই কি জিগেস করেছিস? রেট জিগেস করেছি তাতে তোর কি? সে কি তোর বউ লাগে নাকী? কি বলছিস তুই বলে ওর ক্লার চেপে ধরেছি। রাত্রি আমাকে টানছে কিন্তু শুনছিনা ওকে কয়টা গুশি মেরে বসলাম। ছেলেটা নিচে পড়ে গেছে রাত্রি আমাকে টেনে নিয়ে চলে এসেছে।
রাত্রি:- আচ্ছা ছেলেটা কি এমন বলছে যে ওকে এমন ভাবে মারলে? আমি কিছু বলিনি চুপচাপ বাইক নিয়ে বাড়ীতে চলে এসেছি। রাত্রি ভিতরে গেছে আমি বাইক রেখে ভিতরে গেলাম। মাকে রাত্রি সব কিছু দেখাচ্ছে।
মা:- আলিফ তোর হাতে কি হয়ছে?
আলিফ:- কিছু না বলে রুমে চলে এসেছি শরীর অনেক ক্লান্ত লাগছে তাই শরীরটা খাঠের উপর এলিয়ে দিলাম। আর কখন যে ঘুমিয়ে গেছি ঠিক বলতে পারবোনা। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি হাতে বেন্ডিজ করা। আমি অজুটা করে নামায পড়তে চলে গেলাম। বাবাবা আর আমি নামায পড়ে এসে দেখি মা আর রাত্রি দুজনে কুরআন শরীফ তেলওয়াত করছে। আমি রুমে এসে পড়তে বসেছি সকাল ৮টার দিকে ফ্রেশ হয়ে বের হলাম রুম থেকে বেরিয়ে তো আমি অবাক। চলবে,,,

গল্পের বিষয়:
গল্প

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত