অভিমানের ফুল || পর্ব ৮ ও শেষ

অভিমানের ফুল || পর্ব ৮ ও শেষ

ঘুমিয়ে পড়ল ফুল। ফজরের আযানের ধ্বনি শুনে ঘুম থেকে উঠে পড়ল। ভাবীকে ডেকে তুলে দিয়ে বলল । ভাবী যাও এখন নামায পড়ে নাস্তা বানাও আমি আচার বানানোর কাজ শুরু করব।

৪ বছর পর আজ বড় এক কোম্পানির মালিক ফুল। তবুও তার অনেক কষ্ট জমা আছে। অভিমানের ফুল যে আজ অভিমানের বিরহে শেষ হয়ে যাচ্ছে।

মাঝে মাঝেই এক সমুদ্র কষ্ট আসে,
কষ্ট পাওয়া স্মৃতি গুলো চোখে ভাসে,
বিষাক্ত ছোবল মারে মনের ক্যানভাসে।
তবুও মানুষ কষ্টকে কেন ভালোবাসে ?
অচেনা পৃথিবীর নির্মম বাস্তবতায় এসে
তীব্র খরতাপের সুর্য্য¯স্নানের বেলা শেষে
ভালোমন্দের দন্দ-ছন্দের আবেগে মিশে
সরল মনটি ঠকেছে মানুষকে ভালোবেসে।
পৃথিবীটা সুন্দর সুন্দর তার আকাশ,
মানুষগুলো জটিল সরলতার নেই প্রকাশ,
মিথ্যের আভিজাত্য বিন্দু থেকে বিকাশ,
কষ্টগুলো আসবেই করবে সরলতার সর্বনাশ।

*********

অভিমান যে আজো ফুলের জন্য অপেক্ষা করে আছে তবে পাগলা গারদে। সেদিন সবার সামনে অপমান নিতে পারে নি।

অভিমানের বাবা যে চুড়ান্ত অপমান করে অভিমান কে। কারণ ও কাউকে বিয়ে করবে না। ফুল যে তার হৃদয় আঙিনায় দোলা। বিমোহিত সুরের মূর্ছনায় যে মোহিত। তাই বাবার ত্যাজ্য কথা শুনে অজ্ঞান হয়ে যায়। আজ সে পাগল খানায়।

********

হঠাৎ রাস্তায় একদিন আকাশের সাথে দেখা ফুলের। আকাশ চাকরির ইন্টারভিউ দিতে এসেছে।

— কি রে আকাশ কি খবর তোর অনেক বদল হয়েছিস।
> সত্যিই অনেক দিন পর দেখা পেলাম।
— তা এই শহরে, চাচা চাচীরা কেমন আছে রে। পিচ্চি রা কেমন আছে। তোর গার্লফ্রেন্ড কেমন আছে।
> সবাই খুব ভালো আছে রে। তবে যার কথা আগে জিজ্ঞেস করার, তার কথা জিজ্ঞেস করলি না।
— সে আমার কে হয়, আগে চল আমাদের বাড়িতে।
> সত্যিই তোর কেউ হয় না। নাহলে একটা মেয়ের জন্য পাগলা গারদে কোন ছেলে যায়।
— কি বললি বলেই রাস্তায় পরে গেল।

মা ও মা কি হয়েছে তোমার। এভাবে পড়ে গেলে কেন।
— কিছু হয় নি মা। তোমার আরেক মামা। কথা বল মামার সাথে।

> তুই বিয়ে করেছিস, ফুল সুখেই তো আছিস। বেচারা আমার ভাই পাগল খানায়।
— ও তোর ভাইয়ের অংশ আকাশ। তোর ভাইয়ের শেষ স্মৃতি আমার কাছে।
> কি বলছিস ও আমার ভাইয়ের মেয়ে। আমার ভাই জানে যে ওর মেয়ে আছে।
— না আমি তো যোগাযোগ করিনি। তবে মা অসুস্থ ছিল রে। সেদিনের ধাক্কা না নিতে পেরে মা কোমায় যায় বাবা প্যারালাইসিস হয়। কিছু দিন হল বাবা মা মারা গেছে।
> আয় মা আমার কোলে আয়। তুই যে আমাদের বংশের।
— চল বাকি কথা বাড়িতে গিয়ে হবে।

,

ভাবী ও ভাবী কোথায় গেলে। দেখো কাকে নিয়ে এসেছি।

কলি : কি রে আপু এতো চিল্লাচিল্লি করছিস কেন।

— দেখ কে,

কলি : আকাশ ভাইয়া বলে দৌড়ে জড়িয়ে ধরল।

আকাশ : এই পাগলি, কি হয়েছে এত মোটা হয়ে গেছিস।

তন্ময় : ফুল কে ও আমার বউ কে জড়িয়ে ধরার সাহস আছে ওর।

আকাশ : হুউ ভয় পেয়ে গেলাম। আমি ওর বড় ভাই।

– এই তো ভাবী চলে এসেছে। ভাবী আকাশ কে নাস্তা দাও।
> ঠিক আছে দিচ্ছি।
– আকাশ ভাবী। আর তন্ময় কলির হাজবেন্ড।

আসসালামু আলাইকুম।
ওয়ালাইকুমুস সালাম। কেমন আছেন, দুজনেই একসাথে।

– আলহামদুলিল্লাহ, আপনারা কেমন আছেন।
+ আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি।

কলি ভেতরে এসো, কথা আছে আবির ভাই আসলে চলে যেতে হবে।

মাফিন মামুনী যাও ভাইয়া কে নিয়ে খেলা কর। আমি নাস্তা বানিয়ে নিচ্ছি।

> এই ফুল বলনা আমার ভাইকে সুস্থ করবি। তুই ছাড়া ওকে কেউ সুস্থ করতে পারবে না রে।
— শোন এই মান অভিমান শেষ করে ফেলব। আমার মাফিন বাবার আদর থেকে বঞ্ছিত হয়েছে আর নয়। প্রয়োজনে ঐ চৌধুরী বাড়ির সবাই কে বুঝিয়ে দেবো। এই ফুল কি করতে পারে।
> তাহলে তো ভাইয়া সুস্থ হয়ে যাবে। মাফিনের কথা আমি বাড়িতে বলছি।
— সেটা সম্পূর্ণ তোর ব্যাপার। তবে আমি সুস্থ করব অভিমান কে। তাকে যে সুস্থ হতে হবে তার সন্তানের জন্য।

আকাশ চলে যায় সেদিন, পরের দিন চৌধুরী পরিবারের সবাই মিলে ফুলের বাড়িতে আসে। ফুলের ভাই আবির সবাইকেই স্বাগত জানায়। মাফিন ও মিনার দুজনে মিলে খেলতে খেলতে ছাদ থেকে নামে।

মামী মুনি মা কোথায় খালামনি আসবে আজকে ফোন দিয়েছিল। মিনার কে নাও সাথেই মাফিন আকাশ কে দেখতে পায়‌।

তুমি কালকে এসেছিলে আমাকে মা বলে ডেকেছিলে তাই না।

= হ্যা মা তুমি তো আমার মা।
– আমার আর ছেলের দরকার নেই। একটা ছেলে আছে আসবে একটু সময় পর।
= ভাবী ও কার কথা বলছে।
— তন্ময়ের কথা কলি ফোন দিয়েছিল।

কিছুক্ষণ পরে ফুল বাড়ি এসে পৌঁছায়। ভাই এই ভাই মাফিনের কিছু হয়েছে এতো তাড়া করে আসতে বললি। উপরের দিকে তাকিয়ে থ হয়ে গেল।

মাফিন দৌড়ে মায়ের কোলে উঠল। ছয় বছরের মেয়ে যেন বাচ্চা মো কমে না।

আকাশের বাবা ফুল কে বলছে মা আমাকে কি মাফ করা যায় না।
— বড় বাবা কি বলছ তুমি মাফ চাইছ কেন।
> তোর কাছে মাফ চাওয়ার মুখ নেই মা‌।
— তোমরা সবাই কেমন আছো।

বউ মা আমার ছেলেকে সুস্থ করে। ডাক্তার বলেছে তোমাকে পেলে ও সুস্থ হয়ে যাবে।
— মা আমি সুস্থ করে তুলবো, ইনশাআল্লাহ।

কলি ও তন্ময় ঢুকে থ আজ যে পুরো চৌধুরী পরিবার এক জায়গায়।

তন্ময়ের সাথে সবাই পরিচিত হয়।

সবাই মিলে হাসপাতালে যায়। ফুল কে দেখে অভিমান অনেক সুস্থ হয়ে উঠে।

তিন মাস পর

আজ আকাশের বিয়ে। সাথে অভিমান ফুল দু’জনের। অভিমান পুরো সুস্থ, মান অভিমান শেষ করে এক হয়েছে। চৌধুরী পরিবার সবাই এক জায়গায়। অভিমানের বাবা মা যেন নাতনি বলতে অজ্ঞান। যেখানে যাবে নাতনি সেখানে যাবে। মিনার রিদান রিয়াজ বাড়ির তিন ছেলে মাফিন শুধু একটি মেয়ে। তাই আদর সবার থেকে বেশি।

বাশর ঘরে,,

তো মিসেস অভিমান আজ সেই সময় এসেছে।
— আচ্ছা অভিমান দুই ভাবী যে বলল তোমাকে বিড়াল মারতে। কই আমি তো বিড়াল দেখতে পাই না।
> ওহ এই ব্যাপার বিড়াল আমি দেখাচ্ছি।

বলেই এগিয়ে যাচ্ছে, ফুল পিছিয়ে যাচ্ছে। বিছানায় পরে গেল ফুল, অভিমান ফুলের উপর পরে গেল।

লাইট নিভিয়ে গেল। এই আপনারা এখনো যান ঘুমিয়ে পড়ুন। ঘরে থাকুন সুস্থ থাকুন পরিবার কেও সুস্থ রাখুন।

সমাপ্ত,,,,,

আগের পর্ব :

অভিমানের ফুল || পর্ব -১

অভিমানের ফুল || পর্ব – ২

অভিমানের ফুল || পর্ব -৩

অভিমানের ফুল || পর্ব -৪

অভিমানের ফুল || পর্ব -৫

অভিমানের ফুল || পর্ব -৬

অভিমানের ফুল || পর্ব -৭

অভিমানের ফুল || পর্ব ৮ ও শেষ

গল্পের বিষয়:
গল্প

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত