অভিমানের ফুল || পর্ব -৫

অভিমানের ফুল || পর্ব -৫

পরের দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে বের হতে ধাক্কা খেয়ে গেলাম। না দেখে আমার স্পেশাল গালি শুরু করে দেই।

কে রে কানা বেগুন পচা আলু পচা কুমড়া পচা ডিম চোখে কি অন্ধ দেখেও দেখিস না। ও পিঁপড়ার বাপ তোমার অবলা বউকে মেরে ফেলেছে। তুমি কোথায় গো।

উপরের দিকে তাকিয়ে আমি অবাক। এ যে আমি কাকে দেখছি অভিমান।

দিলাম বিকট চিৎকার তারপর,

বাড়ির সবাই জড়ো হয়ে গেছে। তাই দেখে অভিমান কিছু বলতে পারল না। চোখ ভেঙচিয়ে চলে গেলাম ছাদে।

কিছুক্ষণ পর দেখি অভিমান ছাদে আসছে। আমি দৌড়ে নামতে গিয়ে দেখি দরজা বন্ধ করে দিল। ভয়ে আমার আত্মা কেঁপে উঠলো। কি যে হয় আমি আজ শেষ।

অভিমান এগিয়ে আসছে আমি পিছিয়ে যাচ্ছি। যেতে যেতে একেবারে রেলিংয়ের কাছে চলে এসেছি। তবুও অভিমান এগিয়ে আসছে। আমি চোখ বন্ধ করে ফেললাম। কিছুক্ষণ পর কপালে ছুঁয়ে গেল তার ঠোঁট দুটো। আমি উষ্ণ ছোঁয়া পেয়ে চোখ খুলে দেখি উনি কিছুটা পিছিয়ে গেছেন।

আমি উনার দিকে তাকিয়ে চোখ নামিয়ে নিলাম। উনার মুচকি হাসি যে হৃদয় আঙিনায় দোলা দিয়ে যায়।

“” উনার এক টুকরো মুচকি হাসি যে ঘায়েল করে দেয়।””

আমি ঘায়েল হয়েছি বারবার,
তোমার মুচকি হাসিতে,
প্রেমে পড়া বারণ আমার,
চোখ নিয়েছি নামিয়ে।

হঠাৎ করে জড়িয়ে ধরল আমাকে। আমি মোচরা-মুচরি করে কোনমতে ছুটে চলে আসি নিচে।

বিকেলের দিকে বাড়িতে ফিরে আসল সবাই। আমি ভাবীকে জড়িয়ে ধরলাম, তাতে অনেকেই অবাক। তারা তো জানত না, ভাবী আমার বেষ্টির ফুফাতো বোন।

ভাবী বলল আমি ফুলের হাতের গরম গরম সমুচা খাব। তোমরা কি কেউ খাবে। সবাই বলল খাবে। অতঃপর যেতে হল রান্নাঘরে। সবার জন্য বানানো হয়েছে। সবাই খেয়ে প্রশংসা করল। বড় চাচা একশত টাকা দিল। আমি হাসিমুখে নিয়ে নিলাম।

তখনি অভিমান বলে উঠল, ‌ফুল কফি নিয়ে আয় উপরে। বলেই গট গট করে উপরে চলে গেল।

ফুল যে কাউকে পাঠাবে এমন উপায় নেই। অগ্যতা নিজে ছুটে গেল অভিমানের ঘরের দিকে, বাহিরে থেকে নক করলেও সাড়া না পাওয়ায় ভিতরে ঢুকে গেল।

ভেতরে ঢুকে ফুল থ লেগে গেছে। অভিমান ভর সন্ধ্যায় গোসল করে ভেজা শরীরে বাহিরে এসেছে। ফুল মোহনীয় হয়ে তা দেখছে। অভিমান ও ফুল কে দেখে নি সে গুণ গুণ করে আবৃত্তি করছে।

শুন্যতার পাশাপাশি দাঁড়িয়ে
ভুলেছি শুণ্য তাই জীবন
পুঁটিজীবনের সাথে পাল্লা দিয়ে
বেড়ে ওঠে লবনাক্ত শুন্যতা…

বেদনার তুফান বুকে তুলে
হাঁটি হাঁটি পা পা করে
ছুঁটে চলি দূর হতে বহু দূর
সময়কে হার মানায় প্রত্যাশিত জীবন
যে জীবনকে ভালোবেসে
দাঁড়িয়েছিলাম তোমার মুখোমুখি
আজ বুঝলাম তা মলিন এক ধূসর শুধুই মরীচীকা
বেদনার শূন্যপুর।

ফুল ভাবছে এটা লেখকের কবিতা নয়। তাই সে ঘোর ভেঙে অভিমান কে বলল কফি। অভিমান ফুল কে দেখে। চিৎকার দিতে যাবে সেই সময় অভিমানের মুখ চেপে ধরল।

এই যে মশাই এমন করে মেয়েদের মত চিৎকার করে উঠেন কেন।

কি বললে তুমি সাহস তো কম নয়,

আমার সাহসের কি দেখেছেন, সাহস তো
পুরো কথা বলার আগে ঠোঁট দুটো আক্রমণ হয়, অভিমানের দ্বারা।

আমি কেঁদে ফেলি, আমার চোখের জল দেখে হয়ত ছেড়ে দেয় আমাকে। ছাড়া পাওয়ার সাথে সাথেই আমি‌ দৌড়ে আমার ঘরে চলে আসি।

ঘরের দরজা বন্ধ করে দেই। দরজা বন্ধ করে কান্না করতে থাকি। ঐদিন আর দরজা খুলিনা।

পরের দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে শুনি অভিমান বিদেশে চলে যাবে। ঐ খানে পড়বে, আমি তার দিকে তাকিয়ে দেখলাম। তিনি অপলকে চেয়ে আছেন আমার দিকে।

হয়ত কিছু বলতে চায়, সবার আড়ালে আমাকে একটা খাম দিয়ে বলে। এটা শুধু আমি যাওয়ার পর খুলে দেখবি।

অভিমান যাওয়ার পর বাড়ির সবার মন খারাপ। তবে ও সবার সাথে ফোনে কথা বলে, আমার সাথে ছাড়া।

অভিমান যাওয়ার এক মাসের মাথায় আমি তার দেওয়া খাম খুলে দেখি। একটা পায়েল, একটা চেইন, একটা নোলক যা সবসময় পড়ে থাকি। সাথে একটা চিঠি ছিল।

প্রিয় তুমি,
জানি তুমি অনেক দিন পর চিঠি খুলবে। একটা কথা বলি জানো ভালবাসি তোমায় অনেক বেশি। হয়ত হিমালয় দেখিনি তার বিশালতা জানিনা। তবে হিমালয়ের থেকে বেশি ভালোবাসি তোমায়। কয়েক দিনের আচরণের জন্য আমি দুঃখিত। তাই তো ছেড়ে যাচ্ছি তোমায় একবারে পাওয়ার আশায়। তোমাকে সামনে দেখলে নিজেকে যে পারিনা কন্ট্রোল করতে। পারিনা নিজেকে সামলে রাখতে। জানত অনেক বেদনা নিয়ে যাচ্ছি অবসান হবে চারবছর পরে। মানস প্রিয়া দুরে যাচ্ছি তবে তোমায় চোখে চোখে রাখছি। যত দূরে যাই না কেন তবুও রব তোমার কাছে। নিজেকে রাখবে সাবধানে।

ইতি
ফুলের অভিমান

চিঠিটা পড়ে অঝরে কেঁদেছি কারণ আমি যে তাকে ভালবেসে ফেলেছি।

সেদিন রাতের সময়, ছাদে অনন্য ভাইয়া, ভাবী, আকাশ, কলি, ভাইয়া, আদি, আহির সবাই ছাদে আড্ডা দিচ্ছি। তখন সবাই আমাকে গান গাওয়ার জন্য বলে। সবার কথা রাখতে সেদিন গান করি।

আমার হিয়ার মাঝে লুকিয়ে ছিলে দেখতে আমি পাই নি।
তোমায় দেখতে আমি পাই নি।
বাহির-পানে চোখ মেলেছি, আমার হৃদয়-পানে চাই নি ॥
আমার সকল ভালোবাসায় সকল আঘাত সকল আশায়
তুমি ছিলে আমার কাছে, তোমার কাছে যাই নি ॥
তুমি মোর আনন্দ হয়ে ছিলে আমার খেলায়–
আনন্দে তাই ভুলেছিলেম, কেটেছে দিন হেলায়।
গোপন রহি গভীর প্রাণে আমার দুঃখসুখের গানে
সুর দিয়েছ তুমি, আমি তোমার গান তো গাই নি ॥

তারমধ্যে আকাশ অভিমান কে ফোন দিয়ে শোনাচ্ছে, আমি গান শেষ করে সেখানে থেকে দৌড়ে ঘরে চলে আসলাম।

আকাশ ডাকছে আমি দরজা খুলতেই ও আমার হাতে ফোনটা দিয়ে চলে যায়।

হ্যালো,,,

পরের পর্ব:

অভিমানের ফুল || পর্ব -১

অভিমানের ফুল || পর্ব – ২

অভিমানের ফুল || পর্ব -৩

অভিমানের ফুল || পর্ব -৪

অভিমানের ফুল || পর্ব -৬

অভিমানের ফুল || পর্ব -৭

অভিমানের ফুল || পর্ব ৮ ও শেষ

গল্পের বিষয়:
গল্প

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত