অভিমানের ফুল || পর্ব -১

অভিমানের ফুল || পর্ব -১

ধবধবে সাদা পেট, নাভী, ও পাশে যে একটা তিল আছে। তা দেখিয়ে কি সবার আকর্ষণ নিজের দিকে নিতে চাস ফুল।

“এসব কি বলছেন অভিমান দা, আপনি কি পাগল হয়ে গেছেন।”

— কেন রে শাড়ি পড়িয়ে যদি সব দেখাতে চাস। এর থেকে ভালো ন্যাংটা হয়ে বেড়িয়ে পর রাস্তায়। অনেক বেশি কাষ্টমার পাবি।

” এসব কি আমি ভুল শুনছি, এটা কি অভিমান দা কথা। ছিঃ ছিঃ ছিঃ আমি তো রান্নাঘরে থেকে বের হয় নি। ”

— চুপ কর ফুল, তোদের মত মেয়েদের খুব ভালো করে চেনা আছে আমার।

না,,,,,, বলে চিৎকার করে উঠল ফুল।

পাশ থেকে ছোট বোন কলি বললো, কি হয়েছে আপু।

” না কিছু হয় নি সেই দুঃসহ যন্ত্রণা আবার স্বপ্ন দেখেছি।”
— কবে যে মুক্ত হবি। সে তো ছেড়েই দিয়েছে তবে কেন স্বপ্নে আসছে। কেন অবেলায় বেদনার পুকুরে ডুবিয়ে দিতে আসছে।

” হয়েছে কলি লেকচার বন্ধ কর। খাওয়া করেছিস।”
— না, তোর জন্য খাইনি। এই অবেলায় ঘুমিয়েছিস তাই দুঃস্বপ্ন দেখবি।

” কলি যা তো বোন আমার কাজ গুলো শেষ করে দে। আমি ফ্রেশ হয়ে আসছি। ”
— তাহলে বাজার ও বাবার ঔষধ কিনে আনবি। আমি খাওয়ার পর সব কাজ করে দেব।

” আচ্ছা ঠিক আছে যা তুই। এই অভাব যে থাকবে, শুধু এক ব্যক্তি জন্য আমার পরিবার কে রাস্তায় নেমে আসতে হয়েছে। ছাড়ব না কাউকে। ”

ফ্রেশ হয়ে খাওয়া করে, বাজারের দিকে ছুটল ফুল। ফুলের ভাই বাজার করার সময় পাই নি তাই।

” কি ব্যাপার সবাই আমাকে দেখে হাসছে কেন এভাবে। আমি কিছু বুঝতে পারছি না বাপু। একে তো ঘরে বাজার নেই, তাড়াতাড়ি ফিরতে হবে। ”

এই মেয়ে এভাবে বের হয়েছিস কেন। একজন বয়স্ক লোক বলে উঠল।

” ঐ দাদু কি হয়েছে, কেমন করে বের হয়েছি।”

দেখ মেয়ে পায়ের জুতা কেমন করে পরেছে। বলছে কি হয়েছে আজকাল যে প্যাশন (ফ্যাশন) বের হয়েছে। বলে গটগট করে চলে গেল।

যা বাবা বলে পায়ের দিকে তাকিয়ে অবাক হয়ে গেল ফুল। এই আমি কি করেছি এজন্য সবাই হাসাহাসি করছে।

বলে ব্যাগ থেকে পলিথিনের ব্যাগ বের করে তাতে জুতা ভরে ফেলল। এটা এখন কি করি । পেয়েছি এটা ব্যাগের ভেতর নিয়ে নেই।

ঔষধের দোকান থেকে ঔষধ কিনল। তারপর কাঁচা বাজার কিনল। এবার মাছ কিনতে গিয়ে ভেজালে পড়ল।

এই কাকা এই মাছ কত করে।

” এইটা চারশ টাকা কেজি। ”

কম কত কাকা, এইটা বলেন।

“ঐ মেয়ে কথা কম বুঝতে পার। বলছি না কম হবে না।”

ঠিক তখনই পিঠের উপর কার হাতের খামচি পেল‌। ফুল পিছনে তাকিয়ে দেখে কেউ নেই। আর মাছের দাম না করে ঐ দামে কিনে বাড়ির পথে রওনা হল।

ফুল তাড়াতাড়ি বাড়ির দিকে ছুটল। এই খামচির ছোঁয়া যে তার বহুত চেনা। এটা ভোলার নয়, কেন সেই অনুভূতি হচ্ছে। আমি পিছন ফিরে যেতে চায় না।

বাজার ও ঔষধ গুলো ভাবীর কাছে দিয়ে তাড়াতাড়ি নিজের রুমের দিকে চলে গেল।

ফুলের ভাবী ভাবছে, কি হয়েছে এই মেয়েটার ‌। ইদানিং কেমন শান্ত হয়ে গেছে মেয়েটা।

কলি এই কলি কোথায় বাবার ঔষধ গুলো বাবার ঘরে দে।

” ঠিক আছে ভাবী, আমি দিয়ে দিচ্ছি।”

ফুল এসেই রুমের দরজা বন্ধ করে দিয়েছে। নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করছে। কেন এমন হচ্ছে কেন তার উপস্থিতি বুঝছি। কিসের জন্য সে তার জানান দিচ্ছে।

“”ছেড়েই তো গেলে, তবে কেন অনুভূতি ছড়িয়ে পড়ছ এই মনে।””

তোমাকে ছাড়া থাকতে পারবো। শিখে গেছি তোমাকে ছেড়ে থাকার মানে। তাই যতই ঝড় উঠুক ভাঙব না আমি।

সন্ধ্যা বেলায় ভাবী ফুলকে ডাকছে।

— এই ফুল বেরিয়ে আয়। অনেক কথা আছে।

” ভাবী আমি আসছি। ”

কিছুক্ষণ পর বেরিয়ে আসল ঘর থেকে।
” কি হয়েছে ভাবী, তাড়াতাড়ি বল পড়তে বসব”
— আজ একটা বড় অর্ডার এসেছে, সাপ্লাই দিতে পারবি। অনেক বেশি বয়াম নেবে।
” এটা তুমি এখন বলছ ভাবী, আগে বললে ভালো হতো না।”
— তুই তো ডিপ্রেশড ছিলি, তাই কিছু বলিনি। এই নে ফোন নাম্বার। কল করে কনফার্ম হয়ে নিস।
” ঠিক আছে ভাবী, আমি মা বাবার কাছে গেলাম।”

বাবার ঘরে এসে শুনল খাবার খেয়েছেন কি না। তারপর ঔষধ খাইয়ে দিল ফুল।

” বাবা তুমি ঘুমিয়ে পড়, না হয় অসুস্থ হয়ে পড়বে।”
— আমি সুস্থ আছি মা। কিন্তু বলেই কান্নায় ভেঙে পড়লেন।
” বাবা তোমাকে বলেছি না যে অবেলায় কান্না করবে না। যা হারিয়েছি সব কিছু ছিনিয়ে নেব। শুধু সময়ের অপেক্ষা মাত্র। ”

ফুল বাবার কাছে থেকে মায়ের কাছে গেল।

মা ও মা কথা বলবে না আমার সাথে। দীর্ঘ চার বছর তোমার মুখ থেকে কথা শুনতে পারিনি মা।

কতদিন আমার নামের শুদ্ধ উচ্চারণ কেউ করে না। কেন তুমি এমন হয়ে আছ। আর কতদিন এমন ভাবে থাকবে। মা একটা বড় অর্ডার এসেছে। সাপ্লাই দিতে পারলে অনেক টাকা পাওয়া যাবে ভাবী বলল।

ঠিক আছে কথা বলবে না। থাক আর লাগবেনা তোমার কথা বলতে লাগবেনা। বলেই কাঁদতে কাঁদতে বেরিয়ে গেল।

ফুল ঘরে এসে ভাবীর দেওয়া নাম্বারে ফোন করল।

–হ্যালো কে বলছেন,
” আসসালামু আলাইকুম, আমি কি তন্ময়ের সাথে কথা বলছি।”
— ওয়ালাইকুমুস সালাম, জি আপনাকে চিনতে পারলাম না।
” সকালে কাউকে নাম্বার দিয়ে গেছিলেন।”
— ওহ চিনতে পারছি, আপনি কি আচারওয়ালী, সরি সরি ফুল।
” সরি বলার দরকার নেই। জ্বী হ্যাঁ আমি ফুল। তবে কি হিসেবে কাজ করবেন বললে ভালো হতো।”
— দশ দিনের মধ্যে একহাজার আমের আচার এর বয়াম লাগবে, দিতে পারবেন।
” চেষ্টা করব আমি। তারপর আল্লাহর ইচ্ছা।”
— ঠিক আছে আমি কাল সকালে আপনার সাথে ডিরেক্ট কথা বলব।
” ঠিক আছে, আল্লাহ হাফেজ।”

বলেই ফোন কেটে দিল ফুল। রাতের খাবার শেষ করে ফুল, ভাইকে বলছে।

” ভাই একটা বড় অর্ডার এসেছে, আমি চাই দিতে।”
— কিন্তু তোর পড়াশোনা সব যে শেষ হয়ে যাবে। অনেক কষ্টের পর যে তুই স্বাভাবিক হয়েছিস।
” ভাই এই অভাবের সংসারে যদি ভাগ্য ফেরে। ভাবী ও আমার সাথে হাত দেবে।”
— তাহলে কি বলব আমি। তবে ইরি মা অসুস্থ হওয়ার পর যেমন তোদের মায়ের অভাব বুঝতে দেয়নি।

আবিদ এই ভাবে বলবে না। ওরা আমার সন্তানের থেকে কম নয়। আমার জন্য তো আজ মা অসুস্থ।

ভাবী বলেই ফুল ও কলি দু’জনে মিলে জড়িয়ে ধরল।

আবিদ দুর থেকে শুধু মুচকি হাসলো।

সকালে,,,,,

পরের পর্ব:

অভিমানের ফুল || পর্ব – ২

অভিমানের ফুল || পর্ব -৩

অভিমানের ফুল || পর্ব -৪

অভিমানের ফুল || পর্ব -৫

অভিমানের ফুল || পর্ব -৬

অভিমানের ফুল || পর্ব -৭

অভিমানের ফুল || পর্ব ৮ ও শেষ

গল্পের বিষয়:
গল্প
DMCA.com Protection Status
loading...

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত