শংকাতত্ত্ব

শংকাতত্ত্ব

১৪ নম্বর ছ্যাকা খাওয়ার পর মনু ভাই ঘোষণা দিলেন পৃথিবীতে প্রেম বলে কিছু নেই। মনু ভাই আমাদের এলাকার বড় ভাই। টাকার গায়ে লেখা থাকে ‘চাহিবা মাত্র উহার বাহককে দিতে বাধ্য থাকিবেন’। মনু ভাইয়ের হৃদয়ে লেখা ‘দেখিবা মাত্র প্রেমে পড়িতে বাধ্য থাকিবেন’। দুইটা অবশ্য না দেখেই পড়েছিলেন। সবগুলোতে লালকার্ড। ছ্যাঁকা খেতে খেতে মনু ভাইয়ের হৃদয় এখন হার্ট ফাউন্ডেশনের বান্দা কাস্টমার।

১৩ নম্বর ছ্যাকা খাওয়ার পর আমরা তাকে ধরলাম।

সবার জীবনে সবকিছু হয়না ভাই। এবার থামেন।

মনু ভাই থামেননি। উল্টো তিনি ঘোড়া যুক্তি দাঁড় করান।

মনু ভাইয়ের যুক্তিকে ঘোড়া যুক্তি বলার কারণ আছে। খোঁড়া যুক্তির চলতে সমস্যা। মনু ভাই যুক্তি দিয়ে ঘোড়ার মত লাফিয়ে পড়লেন।

শোন। ১৩ হচ্ছে কু সংখ্যা। আনলাকি থার্টিন। সবার জন্য যা আমার জন্যও তা। আমি তো সমাজের বাইরে না। কিন্তু এইবার ফাঁড়া কাটবে।

ফাঁড়া যে কাটবে ক্যামনে বুঝলেন?

সেইটাও সংখ্যার খেলা। সংখ্যাতত্ত্ব।

মনু ভাইয়ের সংখ্যাতত্ত্ব আমাদের মধ্যে শংকাতত্ত্ব হিসেবে ধরা দেয়।

বিষয়টা একটু খুইলা বলেন ভাই।

শংকা নিয়ে জানতে চাই আমরা।

আঙুলের কড় গোনেন মনু ভাই।

তেরোর পরে কত?

ক্যান, চোদ্দ।

রাইট। এইবার বল চোদ্দ মানে কি?

চোদ্দোর আবার মানে কি! সাত দুগুণে চোদ্দ।

এইতো লাইনে আসছো।

চোদ্দ হচ্ছে লাকি সেভেনের বাপ। সাত দুগুণে চোদ্দ। ট্রিপল লাকি।

ট্রিপল লাকি! সাত দুগুণে চোদ্দ মানেতো ডাবল লাকি হওয়ার কথা। ট্রিপল হইলো ক্যামনে?

গাঁধার ভাই গর্দভ কোথাকার। এই ট্যালেন্ট নিয়া আমার ভাই-বেরাদর হইছোস।

মনু ভাই কিঞ্চিত বিরক্ত। কিন্তু তার মুখে হাসির আভা।

মাইয়াটার নাম কি?

কোন মেয়ে? আমরা ডানে-বামে মেয়ে খুঁজি। কিন্তু ওই জাতীয় কাউকে পাইনা।

আশপাশে খুঁইজা লাভ নাই। চাইর নম্বর বিল্ডিংয়ের দোতলার মাইয়াটা। ওই যে নতুন আসছে। ওর নাম কি?

ওহহ। ওর নাম তো শুনছি লাকি।

এইবার ফুল লাইনে আসছো। চোদ্দ হচ্ছে ডাবল লাকি। আর আমার এইবারের টার্গেট ওই বব কাট লাকি। সব মিলাইয়া ট্রিপল লাকি। দান দান তিন দান।

ঘোড়া যুক্তি দিয়ে মনু ভাই ১৪ নম্বর শিকারে নেমে পড়লেন। এবং ‘পড়ে না চোখের পলক/ কি তোমার রূপের ঝলক’ এই গানটা এক ক্যাসেটে চোদ্দবার কপি করে মেয়ের ঠিকানায় পাঠিয়ে দিলেন।

ঠিকানা ঠিকই ছিল। কিন্তু প্রাপকের জায়গায় একটু গড়বড় হয়ে যায়। মেয়ের বদলে ক্যাসেটের শ্রোতা হয় মেয়ের বাবা।

গানটা অবশ্য তিনি চোদ্দবার শোনেনি। একবার শুনেই মনু ভাইয়ের চৌদ্দগুষ্টি উদ্ধার করেছেন।

চোদ্দ নাম্বারেও ধরা খেয়ে দমে যান মনু ভাই। তবে যুক্তি হিসেবে আবারও সংখ্যাতত্ত্ব হাজির করেন।

নারে, আনলাকি তেরোর পাশে থাকতে থাকতে চোদ্দটাও নস্ট হয়ে গেছে। আসলে পৃথিবীতে প্রেম বলে কিছু নেই।

আমরা বললাম, এতো পুরান কথা ভাই। এতোদিনে বুঝলেন। সুবীর দার কথা শুনলে এরকম হইতো না।

সুবীর দা আবার কে?

আরে সুবীর নন্দী। ওনার গান আছে না- পৃথিবীতে প্রেম বলে কিছু নেই, কিছু নেই। এই গান গাইতে গাইতে তো উনি গলা বসাই ফেলছেন।

আরে ওনারটাতো গানের কথা। আমারটা হইলো জীবন থেকে নেয়া।

না ভাই। উনারটাও ফালায় দেয়া যাবেনা। মাঠ পর্যায়ে জরিপ করে গানটা লেখা হইছে।

এইটা কি ভূমি অধিদপ্তরের ডকুমেন্টারি সং নাকি? জরিপ কইরা গান লেখে কেউ!

নিজের যুক্তিকে ওপরে রাখতে চান মনু ভাই।

শোনেন ভাই, এটাই পৃথিবীর একমাত্র গান যেইটা লেখার আগে এক হাজার মানুষের ওপর জরিপ চালানো হইছে। এবং সেই প্রমাণ গানের শুরুতেই আছে।

‘হাজার মনের কাছে প্রশ্ন করে, একটি কথাই জেনেছি আমি

পৃথিবীতে প্রেম বলে কিছু নেই, কিছু নেই।’

ধুর ব্যাটা। এইটা গান নাকি অ্যালজেব্রা। আমার হৃদয় থিকা কালো ধোঁয়া বাইর হইতেছে। তোরা করছ ফাইজলামি।

আমরা সিরিয়াস হওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু পারিনা।

ভাই এক কাজ করেন।

কি?

কয়কদিন অফিস থেকে ছুটি নেন।

ক্যান!

না মানে অফিসে গেলে তো সাইরেন বাজবো।

সাইরেন বাজবে মানে? কিসের!

আপনার অফিসে সেন্ট্রালি স্মোক ডিটেক্টর লাগানো না?

হুমম। তো কি হইছে?

না মানে, আপনার হৃদয় থিকা যে হারে ধোঁয়া বাহির হইতেছে, আপনে অফিসে ঢুকলেই তো সাইরেন বাইজা উঠবো।

গল্পের বিষয়:
গল্প

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত