কি একটা অবস্থা

কি একটা অবস্থা
চাকরীর ইন্টারভিউ দিতে গিয়েছি। আমার সামনে বসে আছে, তিনজন। তাদের প্রত্যেকের মাথা টাক। ভাবেন, কি একটা অবস্থা। শুরু হলো প্রশ্ন করা….
প্রথম প্রশ্ন: বিয়ে করছেন? চাকরীর ইন্টারভিউতে এত সহজ প্রশ্ন করা হয়, আগে জানতাম না। ভাবেন, কি একটা অবস্থা। আমি কিছুটা লজ্জা পেয়ে বললাম, ” জনাব, আমি অবিবাহিত। এই যে দেখেন, জীবন বৃত্তান্তে, ‘অবিবাহিত’ দেয়া আছে।” দ্বিতীয় প্রশ্ন: গার্লফ্রেন্ড আছে? এবার মনে হলো, আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল। এই যুগে জন্মিয়ে, আমার গার্লফ্রেন্ড নাই, এই কথা কি করে বলি। ভাবেন, কি একটা অবস্থা। কোন রকমে মাথা নিচু করে বললাম, “জনাব, আমার কোন গ্রার্লফ্রেন্ড নাই।”
তৃতীয় প্রশ্নকর্তা খেপে গিয়ে বলল, “ওই মিয়া, বউ নাই, গার্লফ্রেন্ড নাই। চাকরী দিয়া কি করবেন! বেতনের টাকা তো জুয়া খেইলা শেষ করবেন। পরে আপনার বদনাম হইব, সেই সাথে কোম্পানীরও বদনাম হইব। আপনার চাকরি নাই। গেট আউট ভাবেন, কি একটা অবস্থা। আমি কাঁকের মতো, মুখ কালো করে বেরিয়ে আসলাম। মনে মনে ভাবলাম, পরবর্তী ইন্টারভিউ দিলে এ জাতীয় ভুল করব না। প্রয়োজনে একটু বাড়াইয়া বেশি বেশি কমু। তিনদিন পর, পরবর্তী ইন্টারভিউ দিতে গিয়েছি। সামনে বসা তিনজন। মাঝের জনের মাথায় চুল, দুই পাশে টাক। ভাবেন, কি একটা অবস্থা। শুরু হলো প্রশ্ন করা…..
প্রথম প্রশ্ন: বউ আছে? এইবার কি আমি আগের মত ভুল করুম। বুকে সাহস নিয়ে বললাম, “জনাব, বউ নাই। তবে বউ এর বড়ডা আছে, গার্লফ্রেন্ড। ঘুরতে গেলেই, খাই খাই করে। এটা খায় ওটা খায়, এটা কিনে ওটা কিনে, লোড দেই, গার্লফ্রেন্ডের জন্য ফকির হইয়া গেছি।
বিয়ের জন্য সারাক্ষন চাপের উপর রাখে। স্যার চাকরীটা হইলেই বিয়া করমু। দয়া কইরা চাকরিটা দেন।” দ্বিতীয় প্রশ্নকর্তা খেপে গিয়া বলল, “ওই মিয়া, বের হন। আপনার চাকরী নাই। এইখানে চাকরী পেতে হলে কমপক্ষে, বিয়ের পর বউ এর সাথে সংসার করার, তিন মাসের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।” ভাবেন, কি একটা অবস্থা। কাকের মতো মুখ করে বেরিয়ে আসতেছিলাম। দরজার কাছ থেকে ফিরে গিয়ে বললাম, “স্যার, চাকরী পেতে হলে, বউ এর সাথে তিন মাসের সংসার করার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে কেন? তৃতীয়জন গোমরা মুখ করে বলল, “এইখানে চাকরী করতে হলে, আপনাকে অনেক গালা-গালি শুনতে হবে। একমাত্র বিবাহিত ব্যক্তিরাই শত গালা-গালি শুনেও চাকরী ছাড়ে না। তাদের কান আগেই নষ্ট হয়ে যায়, বউ এর গালা-গালি শুনে।” ভাবেন, কি একটা অবস্থা।
দুইটা ইন্টারভিউ দিয়ে, আমার বেশ অভিজ্ঞা হয়েছে। পরবর্তী ইন্টারভিউ এর জন্য, বেশ প্রস্তুতি নিলাম। মোটামুটি কনফার্ম এইবার আমার চাকরি হবে। চারদিন পর, তৃতীয় ইন্টারভিউ দিতে গিয়েছি। সামনে বসা তিনজন। ভাবেন, কি একটা অবস্থা। শুরু হলো প্রশ্ন করা প্রথম প্রশ্ন: বউ আছে? আগের মতো ভুল করা চলবে না। তাই বুকে সাহস নিয়ে বলতে শুরু করলাম, “আছে মানে, দুইটা বউ আছে। সাতটা বাঁচ্চা। খিদার জ্বালায় বাঁচ্চা গুলা হাঁসের বাঁচ্চার মতো সারাদিন পিছে পিছে প্যাক প্যাক করে। দুই বউ এর ঝগড়া, আর এদের মুখের গালি এতটাই বিশ্রী কি আর বলুম, পৃথিবীর এমন কোন গালী নাই তারা না জানে। জীবন পুরাই তামা তামা। দয়া কইরা স্যার চাকরীটা দেন।”
দ্বিতীয় প্রশ্নকর্তা আমাকে ধমকের সূরে বলল, “ওই মিয়া, বের হন তারাতারি। আপনাকে যে টাকা বেতন দেওয়া হইব, এই বেতনে ম্যাস ভাড়া করে নিজেই চলতে পারবেন না, বউ-বাঁচ্চা চালাইবেন ক্যামনে? পরে দুর্নীতি কইরা কোম্পানির বারোটা বাজাই দিবেন। নিজে এত বড় পোস্টে চাকরী কইরাও, একটা বউ আর একটা বাঁচ্চা নিয়া চলতে পারিনা। আপনাকে চাকরি দেওয়া যাইবে না। গেট আউট। ভাবেন, কি একটা অবস্থা। মাথায় হাত দিয়ে, হায় হায় করতে করতে, সামনের টেবিলে ধফাস করে পড়ে গেলাম।

গল্পের বিষয়:
গল্প

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত