হাবা

হাবা

ছেলেটার জন্মের সময় একটা নাম দিয়েছিল তার বাবা হাশেম মিয়া। রীতিমতো আকিকা করে, ছাগল জবাই দিয়ে, মানুষজন খাইয়ে। তিলটানার জবুথবু দুনিয়াতে ছেলেটার আকিকা একটা ছোটখাটো ঢেউ তুলেছিল। ছেলেটার ওই আদিনামটা আমি নিতে চাই না, যেহেতু সবাই তা ভুলে গেছে। দুই বছরের মতো টিকেছিল নামটা, যত দিন না তার মা আবার সন্তান বিয়োতে গিয়ে মারা গেল, তত দিন; অথবা আরও কিছুদিন, যত দিন না সে যে একটা হাবা—তা প্রমাণিত হলো। এরপর থেকে তার নাম হয়ে গেল হাবা। আমি যাকে গল্পটা বলছি, সাদাকালো চুলের, পণ্ডিত ধরনের চেহারার যিনি এক মাস্টার সাহেব, তিনি গোল চশমার আড়ালে চোখ নাচিয়ে আমাকে বললেন, যাহ্, এভাবে বলতে নেই। এতে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধীদের অপমান করা হয়। কথাটা আমিও জানি, কিন্তু আমার কী উপায়? তার আকিকার নামটা বললেই বরং এখন এটাকে মান-অপমানের নিক্তিতে বসিয়ে মাপতে হয়। ওই নামটা, নাকি হাবা নামটা, তার অল্প দিনের জীবনের কষ্টিপাথরে যাচাই করা?

তা ছাড়া হাবাকে হাবা বললে কোনো দিন সে তো অপমানের আওয়াজ তোলেনি। তাহলে?

তিলটানার পাশে একটা যে ছোট নদী, সেই নদীটারও একটা সুন্দর নাম ছিল। নদীর সঙ্গে আবার হাবার একটা নাড়ির যোগও ছিল। থাকারই কথা। ওর জন্ম হয়েছিল নদীর ওপরই। ওকে পেটে নিয়ে ওর মা নানাবাড়ি যাচ্ছিল। কিন্তু হাবা অস্থির ছিল দুনিয়াটা দেখতে। নৌকাতেই সে পয়দা হয়ে গেল। তার নাড়িটা নিশ্চয় তার বিধবা খালা নদীতে ফেলে দিয়েছিল। বিধবা খালাটা ওদের সঙ্গেই থাকত। হাশেম মিয়া এক বিয়ে করে দুই বউয়ের মালিক হয়েছিল। একটা আগে, আরেকটা পরে। তিলটানায় এসব ব্যাপার ছিল ডালভাত।

সেই সুন্দর নামের নদীটায় একদিন অনেকগুলো লাশ পড়েছিল—জোয়ান, বুড়োর লাশ, তিন বাচ্চা আর তাদের মায়ের লাশও ছিল ওই ভিড়ে। তাদের রক্ত নদীটাকে সন্ধ্যার আকাশের মতো রাঙিয়ে দিল। আপনাদের বাড়িয়ে বলব না—একটি কথাও না, অনেক অনেক দিন নদীটাকে আমি লাল দেখেছি। হাবাও দেখেছে, যদিও খুব অনেক দিন দেখার সুযোগ সে পায়নি—এই যা।

এরপর নদীটাকে যদি আমি হাবা অথবা ডোবা বলে ডাকি, মাস্টার সাহেব কী বলবেন? নদীকে অপমান করা হলো? নদীকে অপমান কারা করে? যারা এর লাল রং দেখে এর নামটা ভুলে যায়, নাকি যারা এতে এমন মানুষের লাশ ফেলে, যারা জীবনে একটা ছাগলকেও কষ্ট দেয়নি, মানুষ তো দূরের কথা? আর ওই রহিমা বিবির কী দোষ ছিল? তার স্বামী মনু গাজি এক ভোরে সোহেল মিয়ার সঙ্গে বেরিয়ে গেল, সোহেল মিয়ার বন্দুকটা তার হাতে নিয়ে; আর বিকেলে উর্দু বলা, খাকি পরা কিছু খুনির মুখের ওপর রহিমা বলে দিল যে মনু গাজি গেছে গাজির কাজ করতে, গাজি হতে গেছে দেশের জন্য—সে-ই তার দোষ? তাহলে তার তিন বাচ্চার? তাদের কী দোষ ছিল?

মাথাটা গুলিয়ে যায়। হাবার যেমন অল্পতেই মাথাটা গুলিয়ে যেত। তার তো তবু উপায় ছিল, মাথা গুলিয়ে গেলে সে হাসত। গোঁ গোঁ করত, নয়তো আকাশের দিকে তাকিয়ে চোখটা ঘোরাত; নয়তো চুপ করে বসে নখ দিয়ে খামচাত হাত। আমি তো আর সেসব পারি না। আমি ডাক্তার। আমার একটা সামাজিক দায়িত্ব আছে, মানবিক কর্তব্য আছে, তাই না মাস্টার সাহেব?

গল্পটা শুনুন।

হাবার যখন পাঁচ বছর বয়স, হাশেম মিয়া একদিন তাকে আমার কাছে নিয়ে এল। হাবা যে হাশেম মিয়ার সংসারে টিকেছিল তার হাবাত্বপ্রাপ্তির সাড়ে ছয়-সাত বছর পরও, সেটা তার মায়ের জায়গায় বসা বিধবা খালার জন্য। তবে হাশেম মিয়াকে ধন্যবাদ, সে আবারও ঘটা করে, ছাগল জবাই দিয়ে মেয়েটার বিধবাত্ব ঘুচিয়ে তাকে সধবা করে নিয়েছিল। আমার গল্পে ছাগলেরা এরই মধ্যে দুবার এসে গেছে, দেখুন তো! এর অবশ্য একটা কারণ আছে। কারণটা একটু পরেই জানবেন।

হাবার খালার ছেলেপুলে ছিল না। হাবা ছিল তার চোখের মণি। চোখের ভেতর সে হাবার পাঁচ-ছয় ভাইবোনকেও রেখেছিল, কিন্তু মণিটা ছিল ওই হাবা।
আমার কাছে হাশেম মিয়ার আরজি ছিল, ডাক্তার সাহেব, ছেলেটাকে ভালো করে দেন। আমি বললাম, হাশেম মিয়া, ভালো করার শক্তি আমার নেই, তবে তাকে কিছুটা সুস্থির করার চেষ্টা করতে পারি। হাশেম মিয়া আশাভঙ্গের কষ্ট নিয়ে মাটির দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল। কিছু বলল না।
আমি আমার চিকিৎসা শুরু করলাম।

করলাম তো বটে, কিন্তু থাকি যে তিলটানা! তিলটানাতেই জীবন শেষ। মোল্লার দৌড়টা তাই তিলটানা বাজার—আরও নির্দিষ্ট করে বললে, গোপালবাবুর আড়ত পর্যন্ত। গোপালবাবু খুলনা-ঢাকা থেকে ওষুধ-টষুধ আনান, মাঝেমধ্যে আমার চাহিদামতো ওষুধও। কিন্তু হাবার জন্য যেসব ওষুধ দরকার, তা আমাকেই বেছে আনতে হবে। সে জন্য জীবনে তৃতীয়বারের মতো গেলাম কুষ্টিয়া। প্রথমবার গিয়েছিলাম…

ধ্যাত, গল্পটা কি আমাকে নিয়ে যে আমার বিয়ের বয়ান সবাইকে শোনাতে হবে, বিশেষ করে বিয়ের তিন মাসের মধ্যে বউটা যে মরে গেল, সেই গল্পটা? দ্বিতীয়বার কুষ্টিয়া গিয়েছিলাম শ্বশুরকে তার কারণ জিজ্ঞেস করতে, কেন ম্যালেরিয়াতে মোটামুটি আগেই মরে যাওয়া মেয়েটাকে আমার হাতে…
ধ্যাত, মাথাটা একেবারে গুলিয়ে গেছে। এখন কী করি? গল্পে ফিরে যাই।

হাবাকে ক্যালসেরিয়া কার্ব দিয়ে শুরু করলাম। ওষুধ খেয়ে তার কিছু শান্তি হলো। দু-এক কথাও গুছিয়ে বলতে থাকল। তাতে তার নতুন মা এত আপ্লুত হলো, একদিন একটা লাউ নিয়ে এসে আমাকে কদমবুসি করে গেল।

মেয়েটার সাদা হাত দেখে আমার ভেতরটা শিউরে উঠল। আমি পেছন ফিরে তাকে বললাম, ঠিক আছে, আমি চেষ্টা করব। তুমি এখন যাও।

মাস সাতেক পর আমি ম্যালেরিয়া ফস শুরু করলাম। তাতে অবশ্য হাবার তেমন কোনো উন্নতি হলো না, কিন্তু ওষুধ খাওয়াটা তার কাছে ভারি আনন্দের বিষয় হয়ে গেল। আরও একটা আনন্দ সে আবিষ্কার করল—আমার ওষুধের আলমারি, ছোট ছোট শিশি, সার বেঁধে রাখা, দেখে হাবা হাততালি দেয়। আমাকে জড়িয়ে ধরে। যেদিন সে প্রথম আমাকে জড়িয়ে ধরল, ভেতরটা আমার গলে গেল। এমন একটা আনন্দের আলিঙ্গন। আহা!
মাথাটা গুলিয়ে দেওয়ার মতো।

একদিন শেখ সাহেব খুলনা এলেন। গোপালবাবু আমাকে বললেন, চলুন, খুলনা যাই। নির্বাচন হবে। শেখ সাহেব কিছু বলবেন, শুনে আসি।
শেখ সাহেবের ছবি কাগজে দেখেছি। আমার শ্বশুরের এক দয়ালু ভাই ছিলেন, তাঁর মতো চুল আর চশমা। সেই দয়ালু চাচাশ্বশুর আমাকে বলেছিলেন, তুমি ডাক্তার, আমাদের বিশ্বাস ছিল, তোমার হাতে পড়ে বিনু ভালো হয়ে যাবে।

তা বুঝলাম, কিন্তু ম্যালেরিয়ার কথাটা লুকালেন কেন?

দয়ালু চাচাশ্বশুর আমার হাতে একটা হাত রেখে বলেছিলেন, বিশ্বাস ছিল, তুমি ধরতে পারবে।
তার চোখে পানি।

শেখ সাহেবের চোখে তখন আগুন। আগুন চোখে নিয়ে তিনি কী বলেন, গোপালবাবু তা শুনে আসতে পারেন। আমি শুধু তার হাতে একটা কাগজ গছিয়ে বললাম, নিয়ে আসবেন।

কাগজে লেখা ছিল—ব্যারিটা কার্ব।

এই ওষুধে কী কাজ হলো জানি না, কিন্তু হাবার একটা নতুন শখ গজাল, শখটা হলো—ছাগল পালার। ছাগলটা আবার বনেদি ব্ল্যাক বেঙ্গল ফ্যামিলির।
এখানে আপনাদের একটা কথা বলে নিই, গল্পের খোঁজে আসা মাস্টার সাহেব যেদিন আমার সন্ধান পান, একটু যেন তার সন্দেহ ছিল, গ্রামের এক ডাক্তার তাকে কী আর বলবে। কিন্তু আমার চেম্বারে ঢুকে ভুল ভেঙেছিল তার। একটা আলমারিতে আমার ওষুধের শিশি, অন্যটাতে বই।
জি, বই। আমি পড়ি। না পড়লে বেঁচে থাকতে পারতাম না। ওই যে সুন্দর নামের নদীটা লালরঙা হয়ে গেল, তা মন থেকে ভুলতে আমি বই পড়তাম। পড়ি। আমার স্ত্রী যেদিন চলে গেল…ধ্যাত…হাবাটা যেদিন…ধ্যাত।

ব্ল্যাক বেঙ্গলের গল্প বলি। গোপালবাবু একদিন পাঁচখানা বই এনে দিলেন, সুদূর ঢাকা থেকে। ঢাকার আরমানিটোলার গোরাচাঁদ সাহার ছেলের সঙ্গে তাঁর মেয়ের বিয়ে হয়েছিল…

যাকগে, পাঁচটা বইয়ের একটা হচ্ছে কুষ্টিয়ার অমূল্য সম্পদ, লেখক আহমদ জোয়ারদার, জেলা শিক্ষা অফিসার, রংপুর। বইটা ভালো, কুষ্টিয়ার নানা সম্পদের বিবরণী। এমনকি ছাগলসম্পদেরও। দুই পৃষ্ঠাজুড়ে জোয়ারদার লিখেছেন ব্ল্যাক বেঙ্গলের কথা। পড়তে পড়তে আমার চোয়াল শক্ত হয়ে গেল। এ কি ছাগলের গল্প, নাকি তিলটানার মেয়েদের গল্প?

কী যে মিল তাদের! শুনুন তাহলে।

জোয়ারদার সাহেব লিখেছেন, বেঙ্গল গোট, অর্থাৎ বাংলা ছাগলের শিং ছোট, পা খাটো, পূর্ণ বয়সী ছাগলের ওজন আধা মণ, ছাগলির একটু কম। ছাগলির দুধ বেশি হয় না। সে তো হাবার মায়েরও হয়নি, সে জন্যই মায়ের দুধ না পেয়ে ছেলেটা হাবা হলো কি না কে জানে। বাংলা ছাগলির খাদ্যের দাবি কম, হাবার মায়ের মতো, আধপেটা সিঁকি-পেটা খেয়ে দিন কাটাত হাবার মা; তিলটানার অর্ধেক মেয়েই যেমন কাটায়। বাংলা ছাগলির যৌনতা আসে তাড়াতাড়ি, বছরে দুবার বাচ্চা বিয়োয়, তিন-চারটা করে বাচ্চা হয়। তিলটানার প্রায় সব মেয়েরই যৌনপূর্ণতা তৈরি করা হয় ১৩-১৪ বয়সে, যখন তাদের যৌনতা কী, তা-ই জানার কথা নয়, যৌনপূর্ণতা পাওয়া তো দূরের কথা; কিন্তু তাদের বিয়ে হয়, সন্তানও জন্ম দিতে হয়, বছর বছর, তাদের স্বামীরা তাদের ভেতর যৌনপূর্ণতা খোঁজে।
আরও শুনুন। বাংলা ছাগলির সুনাম বেশি তাদের মাংসের গুণে, চামড়ার গুণে। তিলটানার মেয়েদেরও তো তাই। তারাও তো আপনা মাংসেই বৈরী।

লাইনটা চর্যাপদ থেকে নিয়ে কিছুটা বদলে দিয়েছি। চর্যাপদ আমার আলমারিতে আছে।

বাংলা ছাগলির রোগ-শোক হয় কম। তাদের পেছনে ওষুধপথ্যের জোগান দিতে হয় না। তিলটানার মেয়েদের জটিল কিছু রোগ না হলে ডাক্তার-বদ্যি থেকে দূরে রাখা হয়। খুব বেশি হলে আমাকে দেখানো হয়।

আমার কাছে নিয়ে আসা এ রকম একটি মেয়েকে আমি একদিন বলেছিলাম, তোমার তো জন্ডিস হয়েছে। টের পাওনি?

সে বলেছিল, টের তো পেয়েছি চাচা, তাতে কী হলো?

মানে?

মানে, জন্ডিসের কথাটা বললাম স্বামীকে। তিনি মারলেন।

আমি মেয়েটাকে ওষুধ দিলাম। বললাম, তোমাকে সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হবে।

মেয়েটি এমন চোখে তাকিয়ে থাকল, আমি যেন তাকে এইমাত্র বলেছি, দুটো ডানা মেলে আকাশের উঁচুতে একটু উড়ে আসো। ম্রিয়মাণ একটা হাসি দিয়ে সে চলে গেল।

সে যে বেঁচে থাকল, তা তার বাংলা ছাগলির মতো চামড়ার গুণে। ছাগলির চামড়ার দাম ভালো। ওই মেয়েটার চামড়াও—মার খেলেও টেঁসে যায় না।

২.
এই গল্পে মেয়েটার ডানা মেলে আকাশে চক্কর লাগানোর ব্যাপারটা এসেছে। নেহাত বর্ণনাচ্ছলে, তাই না? কিন্তু এটা সত্য হলে কেমন হয়?
সে জন্য অবশ্য একটু অপেক্ষা করতে হবে।

আপাতত বাংলা ছাগলে থাকি।

হাবা যে ছাগলটাকে পছন্দ করল, সে এক আশ্চর্য ছাগল—শরীরটা কালো, কিন্তু পিঠ আর পেট বরাবর সাদার একটা ছোপ। অনেকটা ইন্দিরা গান্ধীর চুলের মতো। অথবা কিনার থেকে দেখা পেঙ্গুইনের মতো। পেঙ্গুইন নিয়ে লেখা একটি ইংরেজি বই আমার আলমারিতে আছে। সে বই থেকে ‘পোলার’, ‘আর্কটিক’, ‘আইস-ফ্লো’—এসব কথা আমি শিখেছি এবং সেগুলো বলে মাস্টার মশাইকে তাজ্জব করে দিয়েছি।

হাবা যেন হাতে চাঁদ পেয়েছে ছাগলটা পেয়ে, ছাগলটাও তেমনি তার চার খাটো পায়ে চাঁদ পেয়েছে হাবাকে পেয়ে। ছাগলটা মরদ। জোয়ারদার সাহেব জানান, ছাগল-ছাগলির লিঙ্গ বোঝাটা একটু কঠিন। উভয়ের শিং হয়, দাড়িও হয়। অবাক! তবে তিনি বলেন, ছাগলির লেজের নিচে নির্গমন পথ থাকে দুটো, এর একটা আবার প্রবেশপথও। ছাগলের…। যাহোক, হাবার তা জানার দরকার হয়নি। এসব দরকার পড়ে আমার আর জোয়ারদার সাহেবের মতো জ্ঞানপিপাসু আর জ্ঞান ছড়ানো মানুষজন, আর প্রাণী-প্রজনন বিশেষজ্ঞ অথবা বাংলা ছাগল খামারবিদদের জন্য।

হাবা যা করত: ছাগলটাকে মাঝেমধ্যে কাঁধে নিয়ে ঘুরত, কাঁঠালপাতা খাওয়াত, পুকুরে নিয়ে চামড়া ডলে ডলে গোসল করাত। ছাগলটা যে একটু একটু করে তৈরি হচ্ছিল হাশেম মিয়ার ৮-১০ ছাগলির সন্তানের জন্মদাতার ভূমিকায় নামার জন্য, হাবার তা জানার কথা নয়। তারপরও জোয়ারদার সাহেব আমাদের জানান, একটা ছাগল ৪০-৫০টা ছাগলির দায়িত্ব নিতে পারে এবং তাদের রতিকর্মের জন্য উত্তম সময় সূর্য ডোবার ধার-কাছে দিয়ে।

যেমন তিলটানার মেয়েদের। সন্ধ্যা নামে, ঘর-গেরস্তির কাজে ঝিম ধরে। রাতের খাওয়া শেষ হয়। কুপি নেভে। বাচ্চাদের বিছানায় পাঠানো হয়। আর তিলটানার মেয়েদের ঊরুতে-বুকে জোর হাত পড়ে। তারা এই হাত পড়াকে নিয়তি মেনে এর বাকি সব নির্দেশ মেনে নেয়।

হাবাকে আমার ঈর্ষা হয়। এমন অনেক জ্ঞান থেকে সে দূরে, যা শুধু কষ্ট বাড়ায়। রাগ বাড়ায়, ঈর্ষা বাড়ায়।

ছাগলটাকে সে ডাকে কালু বলে। হাবার কথা পরিষ্কার নয়, বেশির ভাগ কথা সে বলে গাঁ গাঁ গোঁ গোঁ বা এ ধরনের আওয়াজে। মাঝেমধ্যে খুব সুস্থির কিছু অবাক মুহূর্তে হাবা কথা বলত। টুকরো টুকরো। অসংযুক্ত। তাতে হাবা যেন কোথায়, কোন উচ্চতায় চলে যেত—অন্তত আমার চোখে—তা তাকেও বলে দিতে হতো না। সে এ রকম কথা বলার বিরল সময়ে বিমল একটা হাসি দিত। একদিন হাবা আমাকে বলল, আমি ডাব খাব।

আমি খুশি হলাম। আমার ওষুধে তাহলে কাজ হচ্ছে। বললাম, ঠিক আছে। দিচ্ছি।

কিন্তু আমাকে অবাক করে সে তরতর করে একটা নারকেলগাছ বেয়ে উঠতে থাকল।

গাছে সে উঠল, তবে ডাব পাড়ল না। একটুখানি ওপরে উঠে দুহাতে গাছটা জড়িয়ে ধরে গাছের শরীরে তার গাল লাগিয়ে হাসতে থাকল। যেন গাছটা তার হারিয়ে যাওয়া মা।

নিচ থেকে দেখতে দেখতে আমার মনে হলো, মা-গাছটাসহ যেন হাবা উড়াল দিল।

হাবার এ রকম হঠাৎ আলো ছড়ানো সময়ে আমি নিজেই যেন হাবা হয়ে যেতাম। সেই হাবাত্বের মহিমা মাস্টার সাহেব বুঝতে পারবেন না। পারলে মান-অপমানের প্রশ্নটা না তুলে বরং তা তার সাদা-কালো গোঁফের নিচের মুখ দিয়ে একেবারে পেটে চালান করে দিতেন।

গোপালবাবু একদিন আমাকে তার মধুমেহের বিষয়ে আলাপ করতে এলেন। এসে বললেন, ডাক্তার, এই রোগের পেছনে টেনশনের কী ভূমিকা?
আমি বললাম, অনেক।

তিনি জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে বললেন, তাহলে ওষুধ নিয়ে কী হবে?

কেন?

কারণ, টেনশন কমার কোনো কারণ দেখি না। বাড়ার কারণ বরং বাড়ছে। আরও বাড়বে। তারপর বললেন, সামনে খুব খারাপ দিন আসছে, ডাক্তার। বাঁচতে পারব না।

আমার মাথাটা গুলিয়ে গেল। দিনকাল খারাপ, তা বুঝতে পারতাম। তাই বলে বাঁচতে পারব না?

গোপালবাবু দীর্ঘশ্বাস ফেলে চলে গেলেন। দরজার পাশ থেকে আবার কী মনে করে ফিরেও এলেন। আমার হাতে পঞ্চাশ টাকার একটা নোট ধরিয়ে দিয়ে বললেন, টাকাটা রাখেন। কাজে লাগবে।

গোপালবাবুর হাত দিয়ে একটা ফুটো পয়সাও গলাত না। আজ আস্ত পঞ্চাশ টাকার একটা নোটই আমাকে দিয়ে দিলেন! ব্যাপারটা কী? হয়তো হাবা এর একটা উত্তর জানে। তাকেই জিজ্ঞেস করতে হবে।

কিন্তু জিজ্ঞেস যে করব, তাকে পাব কোথায়? সে তো তার ছাগল নিয়ে তিলটানা চষে বেড়ায়।

একদিন গ্রামের তোরাব মিয়া এসে বলল, এসলামকে বাঁচাতে হবে।

আমি জিজ্ঞেস করলাম, লোকটা কে? কী হয়েছে?

তোরাব মিয়া বলল, ঠাট্টা করেন?

আমি অবাক হলাম। তোরাব মিয়া এত দিন চলত প্রায় মাটির নিচে দিয়ে। তার চলা চোখেই পড়ত না। সামনাসামনি পড়লে একটা বিনীত সালাম দিত। অন্যের যাওয়া পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকত। তার গলা কেউ শুনতে পেত না। অথচ সেই তোরাব মিয়াই কি না এখন চোখ তুলে শুধু নয়, রাগ দেখিয়ে কথা বলছে!

আমি বললাম, ডাক্তারের কাছে এসেছ। বলছ, একজনকে বাঁচাতে হবে। লোকটা কে না জানলে বাঁচাব কীভাবে?

তোরাব মিয়া বলল, এসলাম, এসলাম, দ্বীন। বোঝেন না?

বুঝলাম। বললাম, ইসলামকে বাঁচাতে হবে কেন? ইসলাম তো আছে এবং থাকবেও ইসলামের জায়গায়।

তোরাব মিয়া রেগে গেল। বলল, এরা দেশটাকে দুই টুকরো করে এক টুকরো ইন্দিরা বিবির হাতে তুলে দিতে চায়।

এরা বলতে কাদের কথা বলছ, তোরাব মিয়া? এবার তোরাব মিয়া রেগে লাল হলো। আমার বইভর্তি আলমারির দিকে আঙুল তুলে বলল, এত কেতাব পড়েন, বোঝেন না এরা কারা?

আমি বললাম, তোরাব মিয়া, আমার অত বোঝাবুঝির দরকার নেই। ডাক্তার মানুষ, রোগী আসে, ওষুধ দিই। ব্যস। তোমার মতো সব বুঝে কী হবে?
তোরাব মিয়া উঠল। যেতে যেতে বলল, আমাদের সঙ্গে আসেন, তাহলে এসলামের খেদমত করা হবে।

হাবা কখন যে পেছনে এসে দাঁড়িয়েছিল, দেখিনি। হঠাৎ সে হাততালি দিয়ে বলতে থাকল, নেক হবে। নেক হবে।

তোরাব মিয়া রেগে একটা চড় দিল হাবার গালে। চড় খেয়ে হাবার সব হাসি উড়ে গেল। কথাও বন্ধ হলো। সে স্তব্ধ চোখে তোরাব মিয়ার দিকে তাকাল, তারপর আমার দিকে, তারপর তার ছাগলটাকে নিচু হয়ে কোলে তুলে নিয়ে চিৎকার করতে করতে চলে গেল।

ফাজিল ছেলে, তোরাব বলল, তারপর চলে গেল। আমার ধারণা হলো, তোরাব এখন মাটির ওপর দিয়ে হাঁটছে না শুধু, উড়ছেও।

৩.
একদিন তোরাব মিয়ার সঙ্গে জজ মিয়াকেও দেখলাম। তারা গটগট করে হাঁটে। গ্রামের ছোট জোয়ারদার বাড়ির চার-পাঁচ জোয়ান ছেলে, জায়গির-কামলা ছেলেও তাদের সঙ্গে হাঁটতে থাকল। একদিন ছয়-সাত উর্দু বলা, চিৎকার আর গালিগালাজ করতে থাকা খাকি পরা বন্দুক হাতের খুনির সামনে-পেছনে-পাশে হেঁটে-দৌড়ে তারা তিলটানায় বাড়ি বাড়ি যেতে থাকল। ঘটনা ঘটল এমন আকস্মিকতায় যে কেউ ঠিক বুঝতে পারল না কী হয়েছে। এর মাসখানেক আগেই অবশ্য আমি জেনেছিলাম, রহিমা বিবির স্বামী মনু গাজি, তার বন্ধু সোহেল মিয়া আর তাদের কিছু সাঙ্গোপাঙ্গ গ্রাম ছেড়ে কোথায় যেন চলে গিয়েছে। কেউ বলত ভারতে, কেউ খুলনায়। একটা বিশাল ওলট-পালট যে চলছিল, আমার মতো ঘরকুনো মানুষও তা টের পাচ্ছিলাম। তারপরও কেউ ভাবিনি, একেবারে তিলটানায় বুনো খুনিরা এসে পড়বে। গ্রামের পুবে জলাবদ্ধতার জন্য বাইরে থেকে আনাগোনা কঠিন ছিল, সুন্দর নামের নদীটাও একটা সুরক্ষা দিত। সময়টাও ছিল ভরা বর্ষার। কিন্তু তাতে কি? শিকারের গন্ধ পেলে শ্বাপদেরা নদী ঠেলে উজানেও যায়। তা ছাড়া তোরাব মিয়ার মতো লোকজন তাদের শিকারের খোঁজে বাড়ি বাড়ি যেত।

আমার ডাক্তারি দোকান আর চেম্বার ছিল হাশেম মিয়ার বাড়ির এক শ গজের মধ্যে। সেই চেম্বারে বসে বসে আমি দেখছিলাম, দু-এক বাড়িতে আগুন দেওয়া হচ্ছে। ধোঁয়া উড়ছে। সেসব বাড়ি থেকে ভেসে আসা চিৎকার আর কান্নার শব্দও শুনছিলাম। আর হাত-পা হিম হয়ে আসছিল। আমি দেখছিলাম, হাশেম মিয়া তার পুরো পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে তার বাড়ির পেছনের জঙ্গলের দিকে পালাচ্ছে। আমাকেও অনেকবার সে বলেছে, ডাক্তার সাহেব, চলেন। এখন না পালালে মারা পড়বেন।

কেন যেন পালাতে ইচ্ছা হচ্ছিল না। আমার ঘর ছেড়ে কেন পালাব আমি?

হাশেম পালাল। কিন্তু হাবাটাকে সে নিতে পারল না। হাবা তার ছাগল নিয়ে তিলটানায় ঘুরছিল। ঘরবাড়ি তছনছ করা বুনো খুনিগুলো অবশ্য হাবার কিছু করেনি। তাদের চোখ ছিল তিলটানার জোয়ান ছেলে আর সব বয়সের মেয়েদের দিকে। একটা দশ-এগারো বছরের মেয়েকে তারা পুকুর থেকে টেনে তুলে পুকুরের পাশে শুইয়ে তার ভেজা কাপড়চোপড় খুলে…।

ধ্যাত, কেন ওই ছোট্ট মেয়েটার কথা আমি ভুলতে পারি না? আমার এক আলমারিভর্তি বই তাহলে কিসের জন্য।

হাবা অবশ্য খুনিগুলোর নজরে পড়ল একটু পরই। এক খুনির পাশে দাঁড়িয়েছিল হাবা, কিছু না বুঝেই। হাবার পাশে ছিল তার ছাগলটা। খুনিটা ওই ছাগল নিয়ে হাবাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিল। এই বিষয়টা আমাকে বলেছে মজহর মিয়া, যার বয়স ছিল সত্তর বছর এবং যার মাথায় একটা টুকরি দিয়ে লুটেরা খুনিগুলো তাতে তাদের লুটপাটের জিনিস রাখছিল।

হাবা মার খেয়েও দমল না। দমবে কীভাবে, তার কালুকে যে একজন নিয়ে গেল। সে-ও গোঁ গোঁ গাঁ গাঁ করতে করতে খুনিগুলোর সামনে-পেছনে-পাশে চলতে থাকল। তার পাটকাঠির মতো হাত দিয়ে কালুকে উদ্ধারের চেষ্টা চালাতে থাকল। তাতে ফল হলো, আরও দু-এক খুনি হাসতে হাসতে তার মাথায় গাট্টা মারতে থাকল, কান মলে দিতে লাগল।

তোরাব মিয়া খুব আনন্দে ছিল। একটা বাড়িতে আগুন লাগে, একটা মেয়ের গায়ে হাত পড়ে, আর তোরাব মিয়ার আনন্দ বাড়ে। জজ মিয়াও দাঁত কেলিয়ে হাসে।

মজহর মিয়া আমাকে বলল, ডাক্তার সাহেব, কী আর বলব। হাবা ছেলেটা হঠাৎ তোরাব মিয়ার হাতে ধরা বড় দা-টা টেনে নিল। ওই দা দিয়ে তোরাব মিয়া শুয়োরগুলোর চলার পথের ঝোপঝাড় টুকটাক গাছ-ঘাস—এসব কাটছিল। যেন চলার পথটা তাদের খুব সহজ হয়। যাহোক, তোরাব মিয়ার দা হাতে পেয়ে হাবার হাত দুটো যেন একটা পালোয়ানের হাত হয়ে গেল। এমন তাকত সেই দুই হাতে এল যে কী বলব! সে প্রথম কোপটা দিল তোরাব মিয়ার ওপর। ছেলেটা ছোটখাটো। কোপটা পড়ল তোরাবের পেট বরাবর। রক্তের একটা ফিনকি ছুটল। এরপর সে কোপ দিল তার ছাগল ধরে রাখা শুয়োরটার ওপর। খুনিটা নিচু হয়েছিল, হয়তো ছাগলটাকে তুলে নিতে, হয়তো হাবার হাত থেকে দা-টা টেনে নিতে। কিন্তু ফল হলো এই—খুনির ঘাড় বরাবর একটা কোপ পড়ল।
তারপর কী হলো, ডাক্তার সাহেব, আমি বলতে পারব না।

তার দরকারও নেই। এসব গল্পের শেষে কী হয়, তা আমরা সবাই জানি। কিন্তু মজহরের একটা প্রশ্ন আমাকে খুব ভাবিয়েছিল এবং তার উত্তর জানার জন্য এখনো আমি পড়ছি, আমার জানাশোনার অক্ষমতার জন্য উত্তরটা এখনো পাইনি। প্রশ্নটা ছিল এই—কোনো বিশেষ কারণে, কোনো বিশেষ মুহূর্তে হাবারা কি পালোয়ান হয়ে যায়? হতে পারে?

মাস্টার সাহেব যেদিন গল্প শুনতে এসেছিলেন, তাকে অবশ্য হাবার গল্পের শেষটা আমি বলেছিলাম। শেষটা তেমন চওড়া নয়, সংক্ষিপ্তই বরং।
হাবাকে একটা গুলিতেই উড়িয়ে দিল হাবার কোপ খাওয়া খুনি। তবে তার প্রাণপাখিও অবশ্য উড়ল দিনের শেষে। তোরাব মিয়া আরও দশ দিন কষ্ট পেয়ে মরল। হাবার ছাগলটা এক ফাঁকে পালিয়েছিল, তার নাগাল কেউ পায়নি।

তবে নাগালে পাওয়ার মতো মানুষই-বা কোথায় ছিল? আমি পালাতে না পেরে যে আমার চেম্বারে বন্দী হয়ে ছিলাম, সেখানেই থাকলাম। চেম্বার মানে দোকান—দোকানের পেছনের একটা ঘরে বিছানা পেতে থাকি, রান্না নিজেই করি।

গল্পটা আমার নিজের নয়, এ জন্য এখানেই আমার শেষ। তবে শেষ কি আর বললেই হয়ে যায়? হাবার কোপ খাওয়া শুয়োরটাকে আমার এখানে নিয়ে এসেছিল জজ মিয়া আর ছোট জোয়ারদার বাড়ির দুই-তিন জোয়ান ছেলে। শুয়োরটার জখম ছিল গুরুতর। একটা গামছা দিয়ে বেঁধে তার রক্ত পড়া থামালাম। দুটো ওষুধ দিলাম।

আর সারাক্ষণ নিজেকে গাল দিলাম। শুয়োরেরা গ্রাম ছেড়ে চলে গেলে লোকজন এখান-ওখান থেকে বেরিয়ে এল। একদিন পর হাশেম শেখ ফিরল। হাবাটা সেখানেই পড়ে ছিল, যেখানে একটা গুলি তাকে এফোঁড়-ওফোঁড় করে চলে গিয়েছিল।

হাশেম শেখ কাঁদেনি, কিন্তু হাবার মায়ের বোন, তার নতুন মা খুব কাঁদল। বুক চাপড়ে কাঁদল। এক দিনেই অর্থাৎ ওই রাতেই হাবাকে শেয়ালে খেয়ে ফেলেছিল। হাবার শরীর বলে ছিল কিছু হাড়গোড়। অল্পখানি হাত-পা, মাথা, চুল—এই সব। তার এই ভগ্নাংশ বুকে চেপেই তার নতুন মা কাঁদছিল।

কান্নাকাটি যখন চলছিল, তখন আকাশটা কালো হয়ে কাকের ডিমের মতো হয়ে ছিল। গ্রামের কিছু মানুষ—যেমন মজহর—সেই কালো আকাশের দিকে তাকাতে তাকাতে হঠাৎ দেখল, হাবাটা ওই কাকের ডিমের মতো আকাশের নিচে একটা বেঙ্গল গোটের পিঠে সওয়ার হয়ে উড়ছে। হাবা হাসছে, ছাগলটা তার ছোট ছোট কান নাড়ছে, আর ছোট ছোট পা, ছোট শিং নাচাতে নাচাতে উড়ে যাচ্ছে।

গ্রামের মানুষ যা দেখে, তা-ই বিশ্বাস করে, মাস্টার সাহেবকে আমি এটুকুই বলেছি। কিন্তু এর বাইরে যা বলিনি, অথচ যা বলা উচিত ছিল, তা ছিল এই যে হাবার নতুন মা একদিন আমাকে বলেছিল, ডাক্তার সাব, আমার ইচ্ছা হচ্ছিল, হাবাকে কবরে দিই, কিন্তু একসময় বুঝলাম, ওর কবর দেওয়ার সবচেয়ে ভালো জায়গা তো আমার বুক। আমার হাত দিয়েই ওর জন্ম হয়েছিল। আর সেই থেকে আমার বুকেই তো সে থাকত। কিন্তু তার চেয়ে বড় কথা, আমার হঠাৎ এ রকম মনে হয়েছিল, নিজেই যেন সে নড়েচড়ে উঠে আমার বুকের ভেতর ঢুকে গেল।

আর মজহর আরও বলেছিল, আচ্ছা ডাক্তার সাহেব, একটা আস্ত ছাগল একেবারে হাওয়া হয়ে যেতে পারে? আর শেয়াল যে ছাগল খাবে, তিলটানায় সেই হত্যার ইতিহাস নেই।

তাহলে ছাগলটা যে হাবাকে নিয়ে আকাশে উড়াল দিল, তা-ই কি ঠিক?

জোয়ারদার সাহেব বেঙ্গল গোটদের উড়াল বিষয়ে কিছু লেখেননি। কিন্তু আমার অন্তত মনে হয়েছে, চাইলে তারাও আকাশে উড়তে পারে।

আমি মাস্টার সাহেবকে বলতে পারতাম, যারা আকাশে উড়তে পারে, উড়ে উড়ে মানুষকে হতবাক করতে পারে, তাদের যে নামেই ডাকা হোক, তাদের অপমান করা যায় না। তা করার শক্তি কারও নেই।

গল্পের বিষয়:
গল্প

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত