শুকনো পাতা

শুকনো পাতা
অপ্রাসঙ্গিক একটা বিষয় নিয়ে অবনীর সাথে আমার ঝগড়া হলো। এই মেয়েটার ভিতর যে এত রাগ সেটা আমি কখনো কল্পনাও করিনি৷ ওর দেওয়া থাপ্পড়ের দাগ এখনো মনে হয় পিঠে আছে। একটা মেয়ে মানুষের নরম হাতের থাপ্পড়ে যে এত শক্তি সেটা অবনী আমায় থাপ্পড় না দিলে কখনোই বুঝতামনা। গতকাল ক্যাম্পাসে বসে সবাই আড্ডা দিচ্ছিলাম। আড্ডার টপিক হলো সামনে মাসের ১ তারিখ আমরা সবাই মিলে বান্দরবান ট্যুড়ে যাব। কে কি পরে যাবে সেটা নিয়ে আলোচনা হলো। আমাদের সাথে আমাদের এক ব্যাস সিনিয়র মালিহা আপুও যাবে৷ মালিহা আপু একপর্যায়ে বলল….
–তোমরা সবাই তো এক ব্যাসের তোমরা সবাই নীল শাড়ি পইরো আর আমি নাহয় আলাদা শাড়ী পরব।
অবনী চট করেই বলল….
-না আপু তা হবেনা, আপনিও আমাদের মতন শাড়ী পরবেন৷ ট্যুড়ে কেউ সিনিয়র নাই সবাই সমান।
–নাহ আপু আলাদা শাড়ীই পরবে, তাহলে অনেক ভালো হবে। সব নীলদের মাঝে একজন আলাদা থাকবে।
আমি বললাম কথাটা। অবনী ভ্রু-কুঁচকে তাকালো। দাঁত কিড়মিড় করে বলল….
-সেটা আমরা মেয়েরা বুঝবো তুই বলার কে?
–সবসময় নিজেদেরকে টানস কেন?
-তো কি! আমরা কি পরব না পরব সেটা আমাদের ব্যাপার৷ আপু আপনি নীল শাড়ী পরবেন।
–না আপু আপনি আলাদা শাড়ী পরবেন। নীলের চাইতে আলাদা শাড়ীতে আপনাকে অনেক সুন্দর লাগে৷
-তুই চুপ কর। তুই সুন্দরের কি বুঝিস? আপুকে নীলেই বেশি সুন্দর লাগে।
–না নীলের চাইতে অন্য শাড়ীতে বেশি সুন্দর লাগে। আর নীল হলো বেদনার রং!
-তোর মাথার রং, আপু ফাইনাল কথা আপনি নীল শাড়ীই পরবেন। আর মেয়েদের কোন শাড়ীতে মানাবে সেটা মেয়েরাই ভালো বুঝবে। ছেলেরা কি বুঝে এসবের?
–কেন ছেলেরাই বুঝবেনা? ছেলেরাই বুঝবে। কারণ মেয়েরা শাড়ী পরে যাতে ছেলেরা প্রশংসা করে। নাকি মেয়েরা করবে? আর তুই এতো নীল শাড়ী নিয়ে লাফাচ্ছিস কেন? আর আপুকে কিসে সুন্দর লাগবে সেটা আমরা ছেলেরাই বুঝবো তুই কেন বুঝবি? তুই কি লেসবিয়ান? আমার কথা শেষ হতেই সবাই হা করে তাকিয়ে রইলো। মালিহা আপু চোখ বড়বড় করে তাকালো। উপস্থিত সবাই অবাক। অবনীর দিকে তাকিয়ে দেখলাম অগ্নিমূর্তি হয়ে তাকিয়ে আছে। আমি কিছু বলতে যাব তার আগেই অবনী ওর নরম হাত দিয়ে ঠাস ঠাস আমার পিঠে চড় বসিয়ে হনহন করে চলে গেলো। পিছন থেকে অনেকবার ডাকলাম শোনেনি। লেসবিয়ান কথাটা মুখ ফসকে বেড়িয়ে গেছে।
তো এই হলো কাহিনী। তারপর থেকেই ফোন অফ। ফেসবুকেও ব্লক। নাম্বার ব্লক। রুমমেট উজ্জ্বল ভাইয়ার ফোন দিয়ে কল করছিলাম, হ্যালো বলতেই আবার কল কেটে ব্লক করেছে। দুইদিন হলো অবনীর সাথে কোন যোগাযোগ নেই। সন্ধ্যায় টিউশনি শেষ করে রুমে এসে দেখি উজ্জ্বল ভাই সিগারেট টানছে। আমি বেশ অবাক হলাম। এর আগে উজ্জল ভাইকে কখনো সিগারেট খেতে দেখিনি। বরং আমি একবার সিগারেট খেয়েছিলাম দেখে রাগ করে উজ্জল ভাই আমাকে রুম থেকেই বের করে দিয়েছিলো। আমি উজ্জল ভাইর পাশে বসলাম। সিগারেট ধোয়া ছেড়ে উজ্জ্বল ভাই বলল….
–সাহেদ?
-জি ভাই?
–আজ মাসের কয় তারিখ?
-২৩ তারিখ ভাই। কেন কিছু হয়েছে?
–এই মাসের ভাড়া টা তুই দিয়ে দিস, আর পারলে আমায় কিছু টাকা দিসতো দরকার আছে।
-কি হয়েছে উজ্জ্বল ভাই?
–বিথীকে ওর সৎমা আবারো মেরেছে। মেয়েটা এভাবে আর কতদিন মার খাবে বল!
-সেজন্যই তো আপনাকে আগেই বলেছিলাম বিয়ে করেন বিথী আপুকে৷
–হুম সেটাই ভাবছি আর তার জন্যেই তোর কাছে টাকা চাইলাম।
-আচ্ছা ভাই চেষ্টা করব।
–বিথীর অনেক কষ্টরে। ওর গায়ে কেউ হাত তুললে আমি সহ্য করতে পারিনা। ওর সৎমাকে সামনে পেলে মাথা থেকে গলাটাই আলাদা করে দিব শুয়োর বাচ্চার৷ ও কোন সাহসে আমার বিথীর উপর হাত তোলে!
-ভাই টেনশন নিয়েননা, সব ঠিক হয়ে যাবে।
–হুম, বিথী বলছে একটা বুড়োর সাথে নাকি ওর বিয়ে ঠিক করছিলো আর সেটার প্রতিবাদ করাতেই নাকি মারছে।
-ইসস মেয়েটার কত কষ্ট ভাইয়া তাইনা?
–আর দিবনা কষ্ট করতে।
বলতে বলতেই উজ্জ্বল ভাইর গলা ধরে এলো। উনার চোখে পানি। একটা মানুষ আরেকটা মানুষকে এতটা ভালোবাসে সেটা উজ্জ্বল ভাইকে না দেখলে কখনই বুঝতামনা। সিগারেটের পেকেটটা উজ্জ্বল ভাই আমার হাতে দিয়ে বলল….
–বাইরে ফেলে দে। এই অখাদ্য যে মানুষ কেন খায় বুঝিনা।
-আচ্ছা ভাই ফেলে দিব।
–আরেকটা কথা, অবনীর সাথে কথা হয়েছে তোর?
-না ভাই।
–মেয়েটার খুব রাগ বুঝলি। আমার সাথে রাস্তায় দেখা হয়েছিলো ডাক দিলাম উত্তর না দিয়েই চলে গেলো।
-আমিও ভাবিনি ওর এত রাগ।
–মেয়েটা তোকে অনেক ভালোবাসে।
-আরে ধুররর! আসলে তানা, আমরা শুধুই বন্ধু। উজ্জ্বল ভাই হাসলেন। আমাকে উনার পাশে বসিয়ে হাসতে হাসতে বলল….
–মেয়ে মানুষদের বোঝা বড় কঠিন বুঝলি। আমি আজ পর্যন্ত বিথীকে চিন্তা পারলামনা। মেয়েটার সাথে এতবার দেখা করি কখনো মুখ মলিন দেখিনি। সবসময় হাসি খুশী থাকে৷ ওর ভিতরে যে কষ্ট সেটা কাউকে বুঝতে দেয়না।
-জি ভাই।
–আর শোন, অবনী ফোন দিয়েছিলো আমায়। বলছে তুই যেন ওর সাথে লেকের পারে দেখা করিস।
-কেন?
–জানিনা। আর শোন, ভালোবাসা জিনিসটা কখনো হারাতে দিসনা। আর ফেসবুকে মেয়েদের সাথে চ্যাটিং কম করবি। অবনী রাগ করে খুব।
-আপনাকে কে বলল!?
–আমায় সব বলছে ও। তুই যে ওকে লেসবিয়ান বলছিস তাও বলছে। সব মিলিয়ে বুঝলাম ও তোকে ভালোবাসে। আর তোরাও পারিস, দুনিয়ার আজাইরা বিষয় নিয়ে ঝগড়া করিস। হা হা হা!
আমি মাথা চুলকাতে লাগলাম। উজ্জ্বল ভাই হাসতে থাকলো। কেন জানি একটু লজ্জা লাগলো। ‘চুলোয় ভাত দে, রাতে শুধু আলু ভর্তা আর ডিম ভাজি খাব আজকে।’ বলেই উজ্জ্বল ভাই চলে গেলো। প্রতিদিন রান্না উজ্জ্বল ভাইই করে আজ আমারই করতে হবে। ইট পাথরের গড়া এই শহরে একমাত্র উজ্জ্বল ভাইকেই আমি বেশি ভালোবাসি। যখন যা লেগেছে তাই দিছে। নিজের ছোট ভাইয়ের মতন ভালোবাসে। এমনকি মাস শেষে বাড়ির ভাড়ার সব টাকাই উনি দেয় মাঝেমধ্যে। আমায় বলে..’তোর বাবা অসুস্থ, ছোট বোনটাকে পড়াচ্ছিস, বাসায় টাকা পাঠা। কখনো চাকরি পেলে আমার টাক ফেরত দিস।’ মালিহা আপু ফোন করে জানালো উনিও নীল শাড়ী পরবে। অবনীর কথা বলতেই বলল কিছু জানেনা। খোঁজ নিয়ে জানলাম ব্যাসের সবাই নীল শাড়ীই পরবে। আমি লেকের পারে গেলাম অবনীর খবর নেই। দু’ঘন্টা যাওয়ার পরও অবনীর কোন খোঁজ নাই। আমি ফোন দিলাম রিং হলো দুবার। তারমানে আনব্লক
করেছে। তৃতীয় বারের মাথায় ফোন রিসিভ হলো। অপরপাশ থেকে অবনী বলল….
–বল কি বলবি।
-লেকের পারে আসবিনা?
–না।
-কেন?
–মুড নেই।
-রেগে আছিস?
–উহু রাগ নেই।
-কি করিস?
–ফোন রাখি কাজ আছে।
-তোর আবার কি কাজ?
–সব কি তোকে বলতে হবে?
-সরি..!
–বায়।
অবনী ফোন কেঁটে দিলো। আমি আবারো কল দিলাম ফোন বন্ধ। কি মেয়েরে বাবা, এত রাগ যে কই থাকে আল্লাই জানে। এ কি আমায় আসলেই ভালোবাসে? ধুরর কি সব ভাবছি। নতুন একটা টিউশনি পেয়েছি। টিউশন করাতে যাচ্ছি। ছাত্রের বাসার আসার সাথে সাথেই উজ্জ্বল ভাইর কল….
–শাহেদ কই তুই?
-ভাই ঐযে গতকাল বললাম নতুন টিউশনির কথা ঐ ছাত্রের বাসায়।
–আজ টিউশনি বাদ দে।
-কেন ভাই কোন সমস্যা হয়েছে?
–তোর কাছে কিছু টাকা আছে?
-মাসতো এখনো শেষ হয়নি ভাই। শেষ হলে পাব তখন সব নিয়েন।
–আচ্ছা রাখিরে, তুই টিউশনি কর।
উজ্জ্বল ভাই ফোন কেঁটে দিলো। কেন জানি টিউশনি করাতে ইচ্ছে করলনা। উজ্জ্বল ভাইর কিছু একটা হয়েছে। সাথেসাথে উজ্জ্বল ভাইর মেসেজ…’সন্ধ্যায় কাজী অফিসে আসিস৷ আর পারলে কিছু টাকা ম্যানেজ করিস। পরে সব বলব, এখন যা বলছি তাই কর।’ আমি নিশ্চুপ বসে রইলাম। বাসা থেকে বেরিয়ে এক মামা আছে উনার কাছে গেলাম। টাকা ধার চাইতেই মুখটা শুকনো করে বলল টাকা নাই। সবশেষে উপায় না পেয়ে অবনীদের বাসায় গেলাম। অবনীর বাবা দেখেই বলল….
–কেমন আছো শাহেদ?
-এইতো আঙ্কেল আলহামদুলিল্লাহ, আপনি?
–অসুস্থ শরীর আর কত ভালো থাকব। তা হঠাৎ কি মনে করে?
-অবনী কোথায়?
–ওর রুমেই আছে। আমি অবনীর রুমে গেলাম। অবনী আমায় দেখেই ভূত দেখার মতন চমকে উঠলো। আমতা আমতা করে বলল…
-তু..তু..তুই?
–হ্যাঁ, কিছু টাকা দে। আর্জেন্ট লাগবে?
-কি হয়েছে?
–না তেমন কিছুনা, লাগবে।
অবনী আমার মুখের দিকে তাকালো। ওর মুখে রাগের ছাপটা এখন আর নেই। যেটা আছে সেটা কৌতূহল। আমি আবার বললাম….
-থাকলে বল না থাকলে চলে যাই। আর ধার হিসেবেই নিব।
–কত টাকা?
-হাজার দশেক হলেই চলবে।
–দ্বারা আসছি।
অবনী ওর রুম থেকে বেরিয়ে গেলো। বড়লোকের মেয়ে টাকা পয়সা থাকবেই। একটু পরই অবনী টাকা নিয়ে হাজির। আমি টাকা নিয়ে শুধু ধন্যবাদ দিয়ে চলে এলাম। অবনী কিছু বললনা, শুধু অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো। আমি কাজী অফিস যাওয়ার আগে একটা লাল শাড়ী নিলাম। বিথী আপুকে গিফট দিব। আর উজ্জ্বল ভাইও খুশী হবে। আজকে যে উজ্জ্বল ভাই বিয়ে করবে সে বিষয়ে সন্দেহ নেই। কারণ উনার মেসেজই বলে দেয় আজ বিয়ে হবে। আমি সন্ধ্যার পরই কাজী অফিসে গেলাম। উজ্জ্বল ভাই সেখানে বসেই ছিল। আমি টাকা উজ্জ্বল ভাইর হাতে দিলাম। বিয়ে সম্পন্ন হলো। বিথী আপুকে দেখলাম একটু পরপর চোখ মুছছে। গালে কারো আঙ্গুলের ছাপ৷ আজকেও সৎমা গায়ে হাত তুলেছে। আর যারফলেই উজ্জ্বল ভাই বিয়ে করলো। রাত ১০ টায় আমরা রুমে ফিরলাম সাথে বিথী আপু। রুমে এসে আমি বিথী আপুকে উদ্দেশ্য করে বললাম….
–আপু এটা আপনার জন্য? উজ্জ্বল ভাই অবাক হয়ে বলল…
-কি এটা?
–একটা শাড়ি এনেছি ভাই।
-তুই আবার এসব করতে গেলি কেন?
–কেন করতে পারবনা?
-পাগল, আচ্ছা শোন আজ রাত কিন্তু তোর বাইরে কাঁটাতে হবে।
–হুম জানি কারণ আজ তোমাদের বাসর রাত। হা হা হা…!
-বেশি পাকনামি করবিনা। আর টাকা পেলি কই?
–সেটা না জানলেও চলবে, আমি গেলাম।
যাওয়ার আগে উজ্জ্বল ভাইকে চোখ টিপ মারলাম। উজ্জ্বল ভাই রাগ করে তাকালো। ব্যাপারটা বিথী আপু বোধহয় খেয়াল করলো। উনি লজ্জায় মাথা নিচু করলো। আমি মুচকি হেসে চলে আসলাম। অবনীদের বাসার সামনে এসে ওকে ফোন করে বললাম বাসার নিচে আসতে। অবনী বাসার সামনে দাড়িয়ে আছে, আমাকে দেখেই বলল…
–এত রাতে তুই। কি হয়েছে শাহেদ?
-সরি।
–এটা বলার জন্য ডেকেছিস?
-না, আজ রুমে ফেরা হবেনা তাই ভাবলাম তোকে সঙ্গে নিয়ে শহর ঘুরি।
–রুমে ফেরা হবেনা মানে?
-উজ্জ্বল ভাই বিয়ে করেছে।
–কিইইইই বললি? কাকে, কখন? আর কাকে? বিথী আপুকে?
-ওসব পরে শুনিস? এখন বল হাঁটবি আমার সাথে!?
–এতরাতে?
-ভরসা নেই?
অবনী অবাক চোখে তাকালো। আমি ওর দিকে তাকালাম। হঠাৎ লজ্জা পেয়ে অবনী চোখ নামিয়ে নিলো আমি আবারো বলল…
-ভরসা পাসনা?
–নিজেকেই তো তোকে দিয়েছি, আবার ভরসা কিসের!
-বুঝলামনা..!
–তুই কখনো বুঝবিনা।
-বুঝাই দে?
–বাদ দে, চল হাঁটি।
বলেই অবনী হাঁটতে শুরু করলো। আমি অবাক হলাম। উজ্জ্বল ভাই ঠিকই বলেছে মেয়েদের মন বোঝা বড়ই কঠিন। আমি অবনীকে অনুসরণ করলাম। ওর পাশে পাশে হাঁটছি। দুজনেই নীরব কারো মুখে কোন কথা নেই। আরেকটু পাশ ঘেষে অবনী আমার হাত ওর হাতের মুঠোয় নিয়ে হাসলো। আমার ভিতরে একটা অদ্ভুত শিহরণ বয়ে গেলো। বুকের ধুকপুকানি হুট করে বেড়ে গেলো। যার প্রতিটি স্পন্দন বলছে..’আমি অবনীকে ভালোবাসি, আমার ওকে লাগবে।’ এই মধ্যরাতে সবচেয়ে সুখী মানুষ বোধহয় এরাই। দুজন মানুষ হাঁটছে, একে অপরের হাত ধরে। অপরপাশে উজ্জ্বল। যার উজ্জ্বলতায় আলোকিত হবে বিথী নামের এক ভাগ্যবতী। যার সমস্ত দুঃখ, কষ্ট, বেদনা আজ রূপান্তর হবে ভালোবাসায়।
গল্পের বিষয়:
গল্প
DMCA.com Protection Status
loading...

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত