ভুল

ভুল
পর্ন দেখতে দেখতে যখন সেটাতে এডিক্টেট হয়ে একটা মেয়েকে রেপ করি তখন আমার বয়স মাত্র ১৬ বছর৷
বাবা এলাকার চেয়ারম্যান হওয়াতে ভেবেছিলাম বেঁচে যাবো৷ পুলিশ যখন আমাকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে বাবার দিকে তাকিয়ে দেখেছিলাম একরাশ কষ্ট বুকে চাপা দিয়ে শক্ত হয়ে দাড়িয়ে ছিলেন৷ বয়সে ছোট হওয়ায় আমাকে তখন ফাঁসির শুনানি দেয়নি৷ মা মাঝে মাঝে দেখতে আসতো প্রথম কয়েকদিন? পরে আর আসেনি বোধ হয় বাবা আসতে দেননি৷
আজ দীর্ঘ ১০ বছর পর জেল থেকে ছাড়া পেয়েছি৷ অনেক আশা ছিলো হয়তো জেল থেকেই বের হয়ে মা বাবা ও ছোট বোন রাইসাকে দেখতে পাবো৷ কিন্তু কেউ নেই একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস বেড়িয়ে গেলো৷ হয়তো তারা জানে না৷
এলাকার রাস্তা দিয়ে যখন গ্রামের ভিতরে ঢুকছি তখন সব কিছু কেমন যেনো নতুন মনে হচ্ছে৷ টিনের বাড়ি ঘর গুলো ইটের হয়ে গিয়েছে৷ নিজের বাড়ির সামনে দাড়িয়ে আছি অনেক্ক্ষণ হলো৷ দরজায় কড়া নাড়ার সাহস পাচ্ছি না৷ আচ্ছা মা বাবা আমাকে দেখলে কি চিনবে৷ মাকে শেষ দেখেছিলাম ৮ বছর আগে তার পর আর তাকে দেখা হয় নি৷ সাহস করে দরজায় কড়া নাড়তেই এক মধ্য বয়সী মহিলা দরজা খুলে দিলেন৷ সে যে আমার জননী। “কেমন আছো মা” বলার সময় গলার স্বরটা কেঁপে কেঁপে উঠছে৷ তিনি আমার মুখের দিকে হা করে তাকিয়ে আছেন৷ ডান হাতটা আমার বুকের বা পাশে রেখে ছলছল চোখে আমার মুখের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন
” সিয়াম বাবা কেমন আছিস”
” মর্জিনা কে এসেছে” ভিতর থেকে বাবার গলা৷ মা সামনে থেকে সরে দাড়াতেই বাবা আমার দিকে চোখ বড় করে তাকিয়ে আছেন৷
“কেমন আছো বাবা” বাবা কথার কোনো উত্তর না দিয়ে নিজের রুমে চলে গেলেন৷
” মা আমার স্কুলের ড্রেসটা কোথায়” বলতে বলতে ভিতরে থেকে একটি মেয়ে বের হয়ে আসলো৷ দুধে আলতা গায়ের রঙ চুল গুলো বেনি করে বাধা চোখ গুলো বড় বড় করে আমার দিকে তাকিয়ে আছে৷ এটাই হয়তো আমার ছোট বোন রাইসা৷ কিছু বলবো তার আগেই ও বলে উঠলো ” মা ছেলেটা কে” ” তোর ভাই সিয়াম” রাইসা কথাটা শুনে সেখানে আর না থেকে চলে গেলো৷ বুঝলাম না৷ মা আমাকে বাড়ির ভিতরে নিয়ে আসলেন৷ রুম দেখিয়ে দিলেন৷ দরজা বন্ধ করে বিছানায় শুয়ে আছি আর ভাবছি একটা ভুলের জন্য জীবন থেকে ১০ টি বছর আমার নষ্ট হয়ে গেছে৷ বাবা আর চেয়ারম্যান নেই বোধ হয় আমার কাজের জন্য তাকে অনেকটা লজ্জিত হতে হয়েছে সমাজের কাছে৷ বৈশাখ মাস যখন তখন ঝড় উঠে আসতে পারে৷ গাছে গাছে বেশ আম ধরেছে এবার৷ মেঘের ভাব দেখে মনে হচ্ছে ঝড় হবে তাই নিজেদের আম বাগানে গিয়ে বসে আছি৷ ঝড়ের মাঝে আম কুড়ানোর মজাই আলাদা৷ গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি শুরু হয়েছে সেই সাথে বাতাস৷ আম কুড়ানোর মাঝে পাশের বাসার রহিম কাকার মেয়ে আসে আম কুড়ানোর জন্য। বেশ চঞ্চল সভাবের মেয়েটা।
বৃষ্টি যখন জোড়ে নামতে শুরু করে বড় আমগাছটার নিচে দুজনেই দাড়িয়ে পড়ি৷ বৃষ্টিতে মেয়েটার শরীর পুড়ো ভিজে গিয়েছে৷ শরীরের জামাটা বেশ আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে গিয়েছে তার বৃষ্টির পানিতে৷ শ্যাম বর্ণের মেয়েটাকে দেখে মনের মাঝে এক অজানা অনুভুতি তার প্রতি আকৃষ্ট করতে থাকে৷ তুমুল ভাবে বৃষ্টি হচ্ছে চার পাশে৷ দূর দূর পর্যন্ত মানুষের কোনো আনা গোনা নেই দেখে মেয়েটার মুখ চেপে পাশের পাট ক্ষেতে নিয়ে যায় আর সেখানেই “সিয়াম দরজা খোল খেতে আয়” মায়ের ডাকে সেই ভয়াবহ অতীত থেকে ফিরে আসি৷ এখন ভাবতেই মনের মাঝে অনুশোচনার সৃষ্টি হয়৷ রাতে খাবার জন্য টেবিলে এসে বসতেই বাবা আমার পাশ থেকে উঠে পড়লেন৷ কিছু বলতে পারলাম না কারণ এটা আমার প্রাপ্য৷ রাইসা আমার সামনেই বসেছে আমার দিকে মুখ তুলে তাকিয়ে পর্যন্ত দেখছে না৷ আচমকা তার পায়ের সাথে পা লাগতেই ও পা’টা টেনে নিলো৷ খেয়াল করে দেখলাম ভয় পাচ্ছে আমাকে৷ মায়ের কাছে আরও চেপে বসলেন৷ কোনো রকম খেয়ে নিজের রুমে চলে আসলাম৷
সকালে ফ্রেশ হয়ে বাড়ির বাইরে বের হয়ে রহিম কাকার বিষয়ে খোজ করে জানতে পারি তারা অনেক আগেই গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছে৷ পরিচিত বন্ধু মুরাদের সাথে কথা বলতে গেলে সেও আমাকে রেখে চলে যায়৷ নিজেকে বেশ একা মনে হচ্ছে৷ সবার অবহেলা পাবার থেকে অন্তত জেল খানায় আমার জন্য ভালো ছিলো। বাড়ির দরজার কাছে আসতেই শুনতে পাই মা আর বাবা ঝগড়া করছে আমি কেনো এখানে এসেছি৷ অনেক কষ্ট লাগছিলো নিজের কাছে৷ আমার এখানে আসায় মা কেও হয়তো কষ্ট সহ্য করতে হচ্ছে৷ কোনো কথা না বলে আমিও রহিম কাকাদের মতো রাতের অন্ধকারে ঢাকার শহরে চলে আসি৷
ছোট ছিলাম বলে জেল খানায় থাকা কালীন পড়ার সুযোগ হয়েছিলো। ছোট খাটো একটা কাজ করতে থাকি৷
আজ চার বছর হয়ে গেছে বাড়ির থেকে পালিয়ে এসেছি৷ মাঝে মাঝে অনেক ইচ্ছা করে ফিরে যায়৷ কিন্তু সেটা পারিনা কেনো যাবো শুধু মা ছাড়া সকলেরই অবহেলা সহ্য করতে হবে৷ বিয়ে করেছি ৩ বছর হলো৷ নাম নীলা বস্তীর মেয়ে গায়ের রঙ শ্যামলা বর্ণের হলেও মুখে এক মায়াবী ভাব আছে৷ নীলা আমার অতীত সম্পর্কে জানে না কখনও জানতেও চায়নি৷ আমি কে মা বাবা কোথায় সেটা নিয়েও প্রশ্ন তুলে না৷ মাঝে মাঝে ভাবি নীলা যদি আমার অতীত সম্পর্কে জানে তাহলে কি সে আমার সাথে থাকবে৷ ছোট্ট মেয়ে আছে আমাদের ওর মায়ের মতোই হয়েছে ১ বছর বয়স৷ অনেক ভয় হয় আমি যেটা করেছি সেটা কখনও আমার মেয়ের সাথে হবে নাতো??
গল্পের বিষয়:
গল্প
DMCA.com Protection Status
loading...

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত