উপলব্ধি

উপলব্ধি

-বাহ্ আজও তুমি বোরকা পরে আমার সাথে দেখা করতে আসছো?কাম অন ইলনা!বি স্মার্ট
-আসলে..
-আমি তোমার কোনো কথা শুনতে চাই না।

আর কি শুনবো তোমার কথা?আশেপাশে একটু তাকিয়ে দেখো তো ক’জন আছে বোরকা পরা পার্কের মাঝখানে দাড়িয়ে সবার সামনে রাকিবের মুখ থেকে এ কথাগুলো শুনে যেন ইলনার মাথায় আাকাশ ভেঙ্গে পড়লো।যদিও অনেক দিন থেকেই বোরকা পরা নিয়ে রাকিব ইশারা ইঙ্গিতে অনেক কিছু বোঝাচ্ছে তবে পার্ক এর ভেতরে সবার সামনে এমন ব্যবহার করবে এটা কখনও কল্পনাও করে নি ইলনা। তবুও কান্না মিশ্রিত কন্ঠে বলে উঠল

-আচ্ছা আমি নেক্সট দিন থেকে বোরকা পড়ে তোমার সাথে দেখা করতে আসব না। এইবার হ্যাপি?
-আচ্ছা ঠিক আছে,আজ আমার একটু কাজ আছে তাই যাওয়া লাগবে..

কথাটা বলেই ইলনার কাছ থেকে উঠে চলে গেল রাকিব। ইলনা শুধু রাকিবের পেছন দিক এক নজরে তাকিয়ে আছে।বারবার তার মনে হচ্ছে রাকিব তার দিকে ফিরে তাকাবে কিন্তু চার বছরের আজই ফার্স্ট রাকিব চলে যাওয়ার সময় ইলনার দিকে ফিরে তাকায় নি….

ইলনার চেহারা অসম্ভব সুন্দর যা হয়তো লিখে প্রকাশ করা যাবে না। সেই স্কুল লাইফ থেকে তাদের প্রেম, একসাথে কলেজ লাইফও পার করেছে।কলেজ লাইফের শুরু থেকেই ইলনা বোরকা পরা শুরু করেছে অথছ তখন তা নিয়ে কোনো মাথাব্যাথাই ছিল না রাকিবের বরং আজ যখন গ্রামের কলেজের গন্ডি পেরিয়ে শহরে এসেছে ভার্সিটিতে পড়ার সুবাদে।দুজনের এক ভার্সিটিতে চান্স না হলেও একই শহড়েই দুজন দু ভার্সিটিতে পড়ে। শহরে আসার ছ মাসের মধ্যেই রাকিবের এমন পরিবর্তন যেন ইলনা কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না। হয়তোবা শহরে কিছু কিছু মেয়েদের গায়ে ওয়েস্টার্ন এর মোহে পরে রাকিব আজ তার সাথে এমন ব্যবহার করছে ইলনা যেন কিছুতেই তার আগের রাকিবকে চিনতে পারছে না। বালিশে গুজে কাদতে কাঁদতে সিদ্ধান্ত নিল নেক্সট দিন সে আর বোরকা পরে তার সামনে যাবে না…

আজ আবার তারা একটা পার্কে দেখা করতে এসেছে,আজ আর ইলনার গায়ে বোরকা নেই। ইলনা ভেবেছিল আজ হয়তো রাকিব অনেক খুশি হবে কিন্তু হলো হিতে বিপরীত ইলনার গায়ে ত্রি-পিস দেখে যেন তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠল রাকিব এবার এমন এক পর্যায় যেন এই ছোট্ট একটা কারনে তাদের সম্পর্কটাই শেষ হতে চলেছে। এ অবস্থায় শুধুমাত্র সম্পর্কটা টিকিয়ে রাখার জন্য শেষ পর্যন্ত সে ভেবে নিল সেও ওয়েস্টার্ন পড়বে আজ ইলনা ওয়েস্টার্ন পরে রাকিবের সাথে দেখা করবে রুম থেকে বের হবার আগে ওড়নাটায় কয়েকবার হাত দিল কিন্তু শেষ পর্যন্ত নেবার সাহস হল না কারন ওয়েস্টার্নের সাথে ওড়না পরলে যদি রাকিব সেদিন রাকিবের কেয়ার এর কোনো অভাব ছিল না।পার্কে হাত ধরে হাটা,রেস্টুরেন্টে খাইয়ে দেওয়া অথছ আশেপাশের মানুষগুলোর নজর তার উপর কিভাবে পরছে তা একবারও ভেবে দেখেনি রাকিব..

বিষয়টা ইলনাকে অনেক কষ্ট দিল তবুও সেদিন কান্না চেপে ভালো থাকার অভিনয়টা বেশ ভলোই করেছিল সে।সারাদিন শেষে সন্ধ্যার একটু পর ইরার হোস্টেলের থেকে একটু দূরে নামিয় দিয়ে গেল রাকিব।পাঁচ মিনিট হাটলেই ইলনার হোস্টেল তাই সে রাকিবকে চলে যেতে বলেছিল আজ রাকিব অনেক খুশি,আজ ইচ্ছেমতো ইলনার সাথে ঘুরতে পেরছে।প্রতিদিনের মতো আজও রাত ১১ টার দিকে ইলনাকে কল দিল রাকিব। কিন্তু সে কি ইলনার ফোন বন্ধ।সারারাতে প্রায় কয়েক হাজর বার ফোন দিয়েও রিচ করতে পারলো না ইলনাকে।

সকালবেলা সে জানতে পারে ইলনা হসপিটালে ভর্তি।পাগলের মতো সে হসপিটালে গেল কিন্তু সেখানে গিয়ে যা জনতে পারলো তাতে প্রায় অজ্ঞান হবার অবস্থা ছিল রাকিবের কারন একসময় যাকে বিয়ে করবে,যাকে নিয়ে এতো স্বপ্ন তাকে কিছু নরপিশাচ রেপ করেছে সেটা জেনে যে কারও অজ্ঞান হওয়া অবাক করা কোনো বিষয় নয়। এমন একটা বিষয় জেনেও রাকিব সেদিন ইলনার হাত ছাড়ে নি।কিভাবেই বা ছাড়বে সেই ছোটবেলার ভালোবাসা, কত শত-সহস্র স্বপ্ন তাদের।আর কি কারনে এমনটা হয়েছে সেটা বুজতে আর বাকি থাকে নি রাকিবের।সে ভাবলো সে যে ভুল করেছে ইলনাকে বিয়ে করলে হয়তবা তার কিছুটা মাশুল দেয়া যাবে..

একপর্যায়ে প্রায় সবার অমতেই ইলনাকে বিয়ে করেছিল রাকিব যদিও পরে অস্তে আস্তে সবাই মেনে নিয়েছিল।বিয়ের পর আস্তে আস্তে সবকিছুই স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছিল বিশেষ করে রাকিব সবসময় ইলনার এক্সট্রা কেয়ার নিতো।সেদিনকার ঘটনার জন্য নিজেই দোষী সেটা ভেবেই হয়তো এমনটা করতো.. আজ প্রায় ত্রিশ বছর পর পুরনো দিনের সেই ডায়েরীটা পড়ে রাকিবের চোখ কিছুটা ভিজে উঠেছে ঠিক এই মুহুর্তে তাদের ছোটো মেয়ে বলে উঠলো

-আব্বু কলেজে যাচ্ছি,কিছু টাকা লাগবে। তাড়াতাড়ি চোখ মুছে তার মেয়ের দিকে তাকালো রাকিব।সাথে সাথেই যেন কিছুটা রেগে গিয়েছিল সে আর জবাবে বলে উঠলো

-কলেজ যাচ্ছো,টাকা লাগবে বুঝলাম কিন্তু তোমার বোরকা কোথায়?
-আসলে আব্বু আজ কলেজে রেজাল্ট দিবে।আমি যাব আর আসবো। আর বাইরেও অনেক রোদ তাই..
-একটা কথাও বলবে না। আগে বোরকা পরে আসো তারপর কলেজ যাও।

মেয়ের প্রতি রাকিবের এমন শাসন দেখে পেছন থেকে ইলনা মুচকি হাসলো আর মনে মনে বলে উঠলো “সুখে থাকার জন্যে মাঝেমাঝে অনেক কিছু সেক্রিফাইস করতে হয়”। সেদিনের অভিনয়টার জন্য আজ সে এবং তার ফ্যামিলি অনেক বেশি সুখী যদিও সে ভেবে নিয়েছে এখন রাকিবকে সেদিনের সত্যি টা বলার সময় হয়েছে..

গল্পের বিষয়:
গল্প
DMCA.com Protection Status
loading...

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত