মিস্টেক

মিস্টেক

বয়ফ্রেন্ডের দেওয়া শাড়ি আর চুড়ি পরে বসে আছি সেই এক ঘন্টা যাবত।পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে গিফট করেছে সে আমাকে।সে নাকি ভিডিওকল দিবে।সেই আশায় আশায়।হঠাৎ সে আমারে কল দিয়া কইলো বাবু তোমাকে খুব দেখতে ইচ্ছা করতেছে।

আমি-তো ভিডিও কল দাও।
বফ-আরে না, ভিডিও কলে না,ভিডিও কলে তো তোমারে সবসময় দেখি,আজকে একটু সামনাসামনি দেখবো ।

আমি-আরে এটা তো পসিবল না।বাইরে পুলিশ আছে দেখলে তুমি শেষ।

বফ-খুব ইচ্ছা করতেছে বাবু প্লিজ।কিছু হবে না।আমি আসতেছি বাবু।তুমি একটু ছাদে দাড়াও।

আমি-ওকে যদি পারো তো আসো।তবে সাবধানে। দুপুর ৩ টা বাজে।টানা রোদে ছাদে গিয়া দাড়ালাম।সে এসে আমাকে দেখবে সেই জন্য। কিছু ক্ষন পর আম্মা ডাক দিলো।

আম্মা-এত রোদে ছাদে কি তোমার আতিকা?

আমি-আম্মা এই যে এতদিন পর শাড়ি পরলাম তাই কয়টা পিক তুলতেছিলাম আম্মা।

আম্মা-ফাজলামি করতেছো ,এত রোদে ছাদে গিয়া ছবি তুলো।খুল শাড়ি এখুনি।

আমি-একটু পরে খুলি আম্মা?আর কয়টা ছবি তুলে তারপর খুলি।

আম্মা-না এখুনি খুলো।

আব্বা- আতিকা শাড়িটার রং কেমন যেনো। বয়স্ক মহিলাদের ভালো লাগবে।মনে হয় তোর মাকে খুব ভালো লাগবে।তোর মাকে দে ওটা আজ তোর মা পরুক।কাল আবার নিয়ে নিস। (আব্বাকে কি করে বলি এটা আমার বফ দিছে এটা আম্মাকে দেওয়া যাবে না,ধুর) বফ ম্যাসেজ দিছে’হাই বেবি কই তুমি আমি কিন্ত আসতেছি।

আমি-ওকে আসো।(একটা মাত্র বফ, তার একটা ইচ্ছা জাগছে না বলি কিভাবে।লকডাউনের করনে অনেকদিন দেখা হয়নি বফ এর সাথে।আব্বা আম্মা ঘুমাইছে এই ফাকে আবার গেলাম ছাদে।রোদে আমার মাথার ফুল শুখাই গেলো,মেকআপ গলে গলে পড়ছে তবুও তার আসার নাম নাই,টানা সন্ধা ৬ টা পর্যন্ত দাড়াই থাকলাম ছাদে।এতবার কল দিচ্ছি রিসিভো করে না আর তার একটা কল ও নাই ম্যাসেজ ও নাই।রাগে মাথাই রক্ত উঠে গেলো আমার।আমি নিচে চলে আসলাম এসে শাড়ি খুলে সোফার উপরে ফেলে রাখলাম রাগে রাগে।,তারপর নিজের রুমে গিয়ে সুয়ে পড়লাম। ওর সাথে ব্রেকআপ। আর কথা বলবো না ওর সাথে। হঠাৎ বিদুৎ চলে গেলো তাও আমি রুম থেকে বের হলাম না।মনটা খুব খারাপ।এমন সময় আম্মা আসলো রুমে।

আম্মা-দেখতো আতিকা কেমন লাগছে?

আমি-আম্মরে দেখে আমি হা হয়ে তাকিয়ে থাকলাম।আম্মা আমার বফ এর দেওয়া শাড়িটা পরেছে।মাথাই আবার ফুলো দিয়েছে।পরুক আর পরবো না আমি ঐ শাড়ি।আমার জন্য যার সময় নাই তার দেওয়া শাড়ি কেনো পরবো।
আম্মা আপনাকে খুবি সুন্দরী লাগছে।আপনি নিয়ে নিন শাড়িটা।দাড়ান আম্মা আমার এই চুড়ি আর এই দুলটা পরিয়ে দেই আপনাকে।

আম্মা- আরে না থাক।তোর আব্বা বলছিলো তাই একটু পরলাম আর কি এখুনি খুলে ফেলবো।

আমি -আরে আম্মা আসেন তো পরেছেনি যখন একটু হালকা না সাজলে ভালে লাগে নাকি। পরে আবার ফেরত দিয়েন। আম্মাকে আমার বফ এর দেওয়া সব কিছু পরিয়ে দিলাম। আম্মা আপনাকে খুব সুন্দরী লাগছে।যান এবার আব্বাকে দেখাই আসেন।

আম্মা-আরে ধুর কি যে বলিস আমার ভীষন লজ্জা লাগতেছে। বুড়ি বয়সে এত সেজেছি দেখলে তোর আব্বা হাসবে।

আমি-আচ্ছা আম্মা একটা কাজ করেন আপনি ছাদে গিয়ে দাড়ান আমি আব্বাকে ছাদে পাঠাচ্ছি।যান।

আম্মা-কিন্ত ছাদে তো অন্ধকার।

আমি-আমি আব্বার কাছে একটা মোমবাতি দিয়ে দিবো। যানতো আপনি। আম্মা চলে গেলো।আর আমি আব্বাকে ডাকতে গেলাম।হঠাৎ আম্মার ঠিৎকার শুমলাম জোরে। তাড়াতাড়ি আমি আর আব্বা দৌড়ে ছাদে গিয়ে দেখলাম আমার বফ সুজয়কে আম্মা চেপে ধরে রেখেছে।

আম্মা-আতিকার আব্বা জলদি আসো চোর আইছে।জলদি আসো।আমারে পেছন থেকে জড়াই ধরছিলো আমার সোনার গহনা চুরি করার জন্য।

আব্বা-আতিকার আম্মা তুমি ধরে রাখো নিচে পুলিশ আছে আমি ডেকে আনি। আমি আড়ালে দাড়াই আছি।আমার বফরে ইশারা করে বললাম মাকে যেনো আমাদের ব্যাপারে কিছু না বলে।

আমি-আম্মা আমারে দেন আমি ধরি।আপনি নিচে যান পুলিশ ডেকে আনেন।(ভাবলাম এই সুযোগে বফরে যদি বাচাতে পারি।

আম্মা-তুই সরে যা আতিকা।তুই পারবি না।

আমি-আম্মা আমি পারবো দেন আমারে দেন।

আম্মা-চুপ থাক।

আব্বা পুলিশ নিয়ে আইছে নিচে থেকে।লকডাউন চলছে।বাড়ির চারপাশে সব পুলিশ। বলার সাথে সাথে চলে আইছে। পুলিশ এসে আমার বফ রে উল্টা পালটা বাড়ি দিতে লাগলো।কি করবো বুঝতে পারছি না। পুলিশ আমার বফ রে টানতে টানতে নিচে নিয়ে গেলো।বললো আর চুরি করবি বল।আমার বফ ও চুপ করে আছে।পুলিস ওকপ নিচে নিয়ে ১০০ বার কান ধরে উটবস করিয়ে তারপর ছেড়ে দিলো।

আজ ৫ দিন হয়ে গেলো বফ এর ফোন অফ।আজকে রাতে বফ এর একটা ম্যাসেজ আসলো ‘সরি বাবু আমি হসপিটালে ছিলাম।আর ঐ দিন তুমি ভেবে তোমার মাকে জড়িয়ে ধরেছিলাম।সরি।ফোনটাও বাসায় ফেলে গেছিলাম তাই তোমাকে কল দিতে পারিনি।আর আমি ভেবেছিলাম শাড়ি পরে তুমি দাড়িয়ে আছো তাই জড়িয়ে ধরেছিলাম।

আমি পরেরদিন অনেক কষ্ট করে চুরি করে ওর সাথে দেখা করেছিলাম।এতকিছুর পর আমি ভেবেছিলাম রিলেশন রাখবো না।এত মাইর খাওয়ার পরো যখন সে আমাকে এত ভালোবাসে রিলেশন ব্রেকআপ করি কিভাবে।

গল্পের বিষয়:
গল্প
DMCA.com Protection Status
loading...

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত