কুহেলিকা

কুহেলিকা

শাহেদ ভাইয়ের বিয়ে ভাঙ্গার জন্য বিয়ের কন্যার কানে ছোটখাটো একটা বোমা মারলাম। ফোনে আকুলিবিকুলি ভাব নিয়ে ছোট্ট করে বললাম, আপু গো! একটা সিরিয়াস কথা ছিল। কিছু একটা ধরে দাঁড়ান আগে। না হলে পড়ে যেতে পারেন। শাহেদ ভাইকে ছাড়া আমি বাঁচবো না! প্লীজ বিয়েটা কইরেন না! কনে আমার ছোট্ট অনুরোধে বড় ধরণের ঝাড়ি দিয়ে বসলো, এই ফাজিল মেয়ে তুমি কে? আমার নাম্বার কোথায় পেয়েছো? হু আর ইউ? এই তোমার সিরিয়াস কথা? উঁহু এইটা ট্রেইলার। পিকচার এখনও বাকী।

পাত্রীকে দেখলাম আমার চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে। সে ফোঁস করে উঠে বলল, এই মেয়ে কতদিন হইছে ইন্ডিয়ান সিরিয়াল দেখো? এসব স্টার জলসার ন্যাকামি আমার সাথে করতে আসবা না। জাস্ট গো টু হেল! ওকে আই এম গোয়িং বাট আপু আমি বাঁচবো না। আপুটা ঠাণ্ডা স্বরে ছুরী মারল। বলল, তোমাকে বাঁচানোর কন্ট্রাক্ট আমি নিয়ে বসে নেই বুঝছো? শাহেদ সাহেব সামনে এলেই সব ঠিক করবো আমি। যা হবার নিজ চোখে দেখেই হবে। ভুল ফিলসফি! সব কিছু নিজ চোখে দেখে ঠিক করা যায় না। অনেক কিছু নিজ চোখে দেখতে গিয়ে দেরী হয়ে যায়।

দেরী হয়ে যায় মানে? আপুটা এক ধাপ এগিয়ে ছিল। আমি দুই ধাপ লাফ দিলাম। চোখমুখ বন্ধ করে মিথ্যে করে বললাম, শাহেদ ভাইয়ের ডান ঊরুর উপরের দিকে একটা লাল জটা আছে। ওটা যখন দেখবেন তখন কি আর সময় থাকবে? দেরী হয়ে যাবে না, বলুন? যাক গে, জটা মিলিয়ে নিয়েন। আমি সরে গেলাম। নরকে দেখা হবে। বি হ্যাপি! ফোন চার-পাঁচ সেকেন্ড শো-শো আওয়াজ তুলে নীরব হয়ে গেলো। আর সরব হয়নি। ভেবেছিলাম শাহেদ ভাইয়ের বিয়েটা ভেঙে দেয়ার পর উনাকে একান্ত আপন করে পাবো। গত পাঁচ বছর ধরে মনের মধ্যে জমিয়ে রাখা গোপন কথা এক ঝটকায় বলে দিতে পারবো। কিন্তু পাশার দান এভাবে উলটে যাবে বুঝিনি। বোঝার উপায়ও ছিল না।

মাস দুয়েক আগে এক রাতে শাহেদ ভাই অস্ট্রেলিয়া থেকে ফোন দিয়ে এক নিঃশ্বাসে অনেক কথা বললেন, ফুপু আমার জন্য পাত্রী ঠিক করে ফেলেছে। ওরা সবাই আমার প্রোফাইল দেখে মত দিয়েছে। মেয়েও এক পায়ে খাড়া। এই মেয়ে খাওন ছাড়া কিছু বুঝে না। ওর টাইমলাইনে গেছিলাম। তিনশো তিপ্পান্নটা ছবিতে সে সামনে খাবার নিয়ে বসে আছে। একটা মানুষ কেবল খাবারদাবার নিয়ে জীবনটা কাটিয়ে দিচ্ছে, চিন্তা করা যায়? কবে না জানি আমাকেই কেটেকুটে খাওয়া শুরু করে দিবে। যেভাবে হোক বিয়েটা ভাঙ। হাসি চেপে বললাম, আপনি বউ খাওয়ানোর ভয়ে বিয়ে ভাঙতে বলছেন ব্যাপারটা বিশ্বাস হচ্ছে না শাহেদ ভাই। ঘটনা অন্য কিছু আছে। বেশি কথা বলিস না তো। জাস্ট আমাকে বাঁচা প্রীতু!

আমার নাম প্রীতি। শাহেদ ভাই ডাকে প্রীতু। ডাকটা শুনে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে দেখেছি। আমার মুখ লাল হয়ে যায়। কেন লাল হয় আমার জানা নেই। ভেতরটা যেন কেমন-কেমন লাগে আমার। ভালোবাসা, লজ্জা, জড়তা, মায়া ছাড়াও আরও একটা কী যেন আছে। সেই “কী যেন”-টার নাম আমি জানি না। তাঁর সাথে আমার বয়সের বিস্তর ব্যবধান। এজন্য আমাকে মাঝেমধ্যে পিচ্চি বলেও ডাকে। এই ডাকটা ইদানীং আমার ভাল লাগে না। চোখে পানি চলে আসে। শাহেদ ভাই দেশে থাকতে একদিন বুকে সাহস নিয়ে বলেছিলাম, ভাইয়া আপনার বুকের পশম কি সব পেকে গেছে? শাহেদ ভাই চোখ পাকিয়ে ধমক লাগালেন, এসব কী ধরণের কথা? পিচ্চি পিচ্চির মত থাকবি!

চান্স পেলেই ধমকান। আপনি কি জানেন, লেখক বিভূতিবাবুর চেয়ে তাঁর স্ত্রী রমা কমপ্লিট তিরিশ বছরের ছোট ছিলেন? বিভূতি তাঁর বুকের পাকা পশম বের করে দেখিয়েছিলেন, তবু রমা তাঁকে ছেড়ে যাননি। উত্তরে বলেছিলেন, আপনি মাত্র এক বছর হায়াত পেলেও আমি সংসার করবো। বিভূতি তাঁর এই স্ত্রীকে কল্যাণী নামে ডাকতেন। সুন্দর না? হিহিহি শাহেদ ভাইয়ের প্রথম ধমক মৃদু ছিল। এবার মনে হলো বজ্রপাত পড়লো। আমার বেণীর মুঠি ধরে টান দিয়ে বললেন, তো আমি কী করবো? আমি কি বিভূতিবাবু? না। আরেকটা কথা! তুই হিহি করে হাসবি না। বান্দরনির মত লাগে।

এখনও মনে আছে, শাহেদ ভাইয়ের কথায় আমি সারারাত কেঁদে চোখ ফুলিয়ে ফেলেছিলাম। আর কোন চেষ্টা নেইনি। যা হোক, অনেকদিন পর শাহেদ ভাইয়ের ফোন পেয়ে আমার প্রজাপতির ডানায় নতুন রঙের দেখা পেলাম। অপ্রত্যাশিত বিয়ে ভাঙতে হবে। লজ্জা লুকিয়ে সহজ করে জিজ্ঞেস করলাম, আপনার কি অন্য কোথাও পছন্দ আছে? উনি হঠাৎ কিছু বললেন না। কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন, কেন – তুই বুঝিস না?

কথাটা শুনে মনের মধ্যে মুহূর্তে হাজার রাগে রবি শঙ্করের সেঁতার বেজে উঠলো আমার। মনে-মনে বললাম, ভাইয়া! সত্যি-ই আপনাকে আর ভাইয়া ডাকতে মন চায় না। মেয়ে হয়েছি তো কী হয়েছে? আপনাকে পাওয়ার জন্য একটা না, চাইলে এমন হাজার বিয়ে ভাঙতে পারবো।

ব্যস অপারেশানে নেমে গেলাম পরদিনই। মেয়ের নাম্বার জোগাড় করে পরিচয় গোপন রেখে ফোন দিলাম। এত সহজে বিয়ে ভাঙা যায় জানা ছিল না। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে নানান কারণ দেখিয়ে পাত্রীপক্ষ পিছিয়ে গেলো। শাহেদ ভাইয়ের ফুপু কিছুই বুঝে উঠতে পারলেন না। একটু পরপর আমার দিকে তাকিয়ে শুধু বলছিলেন, নাহ আমাদের শাহেদ তো এত খারাপ না। আই ডোন্ট বিলিভ ইট। নেভার! তুই কি কিছু জানিস প্রীতি? না বড় আম্মা।

আমরা বড় চাচীকে বড় আম্মা বলে ডাকি। শাহেদ ভাই বড় আম্মার ভাইয়ের একমাত্র ছেলে। অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী। বাবা বেঁচে নেই, অসুস্থ মা নিয়ে তিনি সেখানেই থাকেন। যতদূর জানি, উনাদের অস্ট্রেলিয়া সেটেলড হওয়ার পেছনে বড় চাচার হাত ছিল। এখন অসুস্থ মা শাহেদ ভাইয়ের ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত দেন না। এসব জিনিষ বড় চাচা আর বড় আম্মা দেখেন। শাহেদ ভাই জীবনের একটা বড় অংশ বাইরে কাটাচ্ছেন। নিউ সাউথ ওয়েলস ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করা উচ্চ শিক্ষিত যুবক। তবু একমাত্র ফুপুকে খুব মেনে চলেন। আমার ধারণা কিছুটা ভয়-ও পান।

বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর শাহেদ ভাই আনন্দে বাকবাকুম করতে করতে আবার আমাকে ফোন দিলেন। সারারাত ফোনে কথা বলে হাসিয়ে মারলেন। এত কথা হলো তবু আমার আঠারো বছরের কিশোরী মন একটাবার মুখ ফুটে বলতে পারলো না, “ভালোবাসি!” ভালোবাসি বলতে না পারলে নাই। আমি বেশ তোরজোড় করে রান্না শেখা শুরু করলাম। কারণ আমার স্বপ্ন পুরুষ দেশে আসছে। স্পেশাল কিছু খাবার তাঁকে নিজ হাতে রান্না করে খাওয়ানো হবে।

স্বপ্ন পুরুষ এক স্বপ্নিল সন্ধ্যায় আমাদের বাসায় এসে হাজির হলেন। উত্তেজনায় আমার দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার যোগাড় হলো। আমি তাঁর পছন্দের ফিরনী রাঁধতে গিয়ে মিষ্টি জাউ-ভাত বানিয়ে ফেললাম। মিষ্টি জাউ-ভাত খেয়েই তিনি শুধু পাশ মার্ক্স না, পেয়ে গেলাম লেটার মার্ক্স। আব্বু-আম্মুর সাথে সারাক্ষণ খুচুর-খুচুর করে কী যেন আলাপ হলো। বিদায় নেয়ার সময় আমার মাথায় হিমালয়ের সকল বরফের পাথর একবারে চাপিয়ে দিয়ে হাসি মুখে বের হয়ে গেলেন। বললেন, প্রিতু! আমি আর বর্ণা ঠিক করেছি তোর বিয়েতে একটা স্পেশাল গিফট দিবো। কী চাস ভেবে বের কর। ভাল কিছু চাইবি, কারণ যা চাইবি তা-ই তোকে দেয়া হবে। ভাল কথা, বর্ণাকে চিনিস তো?

হঠাত মনে হলো পাতালপুরীর দরজা আমার জন্য খুলে দেয়া হয়েছে। আমি মাটির নীচে তলিয়ে যেতে-যেতে কোন মতে উত্তর দিলাম, না। বর্ণাকে চিনি না। অবশ্য চেনার কথাও না। ছবি দেখবি? আমি দেখে কী করবো? তাও তো কথা। তুই দেখে কী করবি। তুই পিচ্চি মানুষ। হাহাহা। ও অস্ট্রেলিয়াতে আন্ডার গ্রেডে আছে। ফ্যামিলি এখানে। আমরা এক সাথেই এসেছি দেশে। বিয়ে করে ফিরবো। কিছু জানাননি তো!

উঁ, জানানো উচিত ছিল অবশ্য। আমাদের এত বড় একটা উপকার করলি তুই। আংকেল-আন্টি অবশ্য সব জানেন। শাহেদ ভাই চলে গেলেন উনার ফুপুর বাসায়। কতক্ষণ আমাদের কলাপসিবল গেট ধরে দাঁড়িয়ে ছিলাম জানি না। যখন ঘরে ফিরলাম, গা আমার জ্বরে পুড়ে যাচ্ছে। আম্মু হায়-হায় করে উঠলেন, হঠাত জ্বর বাঁধানোর আর সময় পেলি না। শাহেদ গায়ে হলুদ-টলুদের মধ্যে যাবে না। বুধবার ডাইরেক্ট বিয়ে। দেয়ালে ঝোলানো ক্যালেন্ডারের দিকে তাকালাম। বুধবার আসতে মাত্র চারদিন বাকী।

বিয়ের দুদিন আগে শাহেদ ভাই আবার আসলেন আমাদের বাসায়। গাড়ির ব্যাক-ডালা ভরে শপিং করেছেন। বর্ণার জন্য কেনা হীরের আংটিটা বেশ মন-কাড়া। ড্যাবড্যাব চোখে তাকিয়ে দেখলাম। সামান্য একটা আঙটি। অথচ কী অসীম ক্ষমতা। কেউ কেউ আছে জীবনের সমস্ত সঞ্চিত সম্পদ পায়ের তলায় লুটিয়ে দিয়েও সামান্য এই আংটিটি আঙুলে ধরার ক্ষমতা রাখে না। কী অসহায় আমি! আমার মুখ ভার দেখে শাহেদ ভাইয়ের কোন ভাবান্তর হলো বলে মনে হলো না। সে যাওয়ার আগে স্বভাবসুলভ চুলের গোড়া ধরে ঝাঁকুনি দিয়ে একটা ব্রাইডাল-চেম্বারের ক্যাটালগ হাতে ধরিয়ে বলল, এটা তোর কাছে রাখ। বাসরঘরটা তুই নিজের হাতে সাজাবি। তোর ইন্টেরিওর সেন্স ভাল।

আর্তনাদ করে উঠলাম, আমার জ্বর। আমি পারবো না শাহেদ ভাই। এক্সট্রা টাইম দেয়া যাবে না। জ্বর নিয়েই করতে হবে। বুধবার ফাইনাল। কথায় আছে বুধের ঘাড়ে রেখে পা, যথা ইচ্ছা তথা যা। হাহাহা নিজের ভালোবাসার মানুষকে সাজিয়ে-গুছিয়ে অন্যের হাতে তুলে দেয়ার মতো কষ্ট বুঝি পৃথিবীতে আর একটা নেই! বিয়েবাড়ির তালবাহানা দেখে গতকালের পুরো একটি রাত নির্ঘুম থাকতে হয়েছে। বাহানা বেশি করেছে বড় মামী।

জ্বর বেড়ে যাচ্ছে টের পাচ্ছি। বুধের ঘাড়ে পা রেখে শাহেদ ভাইরা যখন কনে আনতে যাওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছেন, তখন আমি পড়ে আছি বাসর সাজানো নিয়ে। বেছে-বেছে সাতরঙা ফুল দিয়ে মনের মত করে সাজালাম বাসর। শ্বেতশুভ্র বিছানার চাদরে রঙিন ফুলের পাপড়িগুলো হেসে উঠলো দারুণ গোপন কোন আনন্দে। সেদিকে তাকিয়ে যুগের তৃষিত অবশ চক্ষু-যুগল আমার। আস্তে-আস্তে চারদিক কেমন গভীর নির্জনতা নেমে আসতে শুরু করেছে। বরযাত্রী বেরিয়ে গেছে কি না কে জানে।

হঠাত শরীর ঝিম মেরে উঠল। চোখের উপর এক জোড়া ঠাণ্ডা হাতের তালু। পেছন থেকে চেপে ধরা। হাত টেনে সরাতেই চমকে উঠলাম। শাহেদ ভাই আমার পেছনে হাঁটু গেড়ে বসে আছেন। হাতে সেদিনের সেই হীরের আঙটি। আঙটি আমার দিকে বাড়িয়ে দেয়া। হো-হো করে হাসছেন শাহেদ ভাই। বললেন, তুই এত বোকা কেন রে প্রীতু! কী হচ্ছে কিছু বুঝতে পারছি না। সমস্ত বিশ্বপারাপারের কোন শব্দ আমার কানে আসছে না। কেবল একটা হাসি ছাড়া। কোন পুরুষের হাসি এত মায়াময় হয়! কোনোমতে বলতে পারলাম, আপনার তো আজ বিয়ে? এই আঙটি তো বর্ণার জন্য! কীসের বর্ণা? কে বর্ণা? হাহাহা

আমার মাথা জট পাকিয়ে যাচ্ছে। শাহেদ ভাইয়ের সাঁড়াশির মত হাত এক ঝটকায় কোমর পেঁচিয়ে ধরল। লজ্জায় সঙ্কুচিত হয়ে যাচ্ছি আমি। শাহেদ ভাইয়ের মুখ ক্রমশ আমার মুখের কাছে এগিয়ে আসছে। তিনি কানের কাছে ফিসফিস করে বললেন, আমাকে তোর বিভূতিবাবু করবি রে প্রীতু? সবই কল্পরাজ্যের মত মনে হচ্ছে। আত্মীয়-স্বজন যারা ছিলেন সবাই এসে ভিড় জমিয়েছেন। সবার মুখে ঠোঁট টেপা হাসি। দূর ক্লান্ত পথিক যেমন ছায়াদায়ী অশ্বত্থ জড়িয়ে ধরে, আমি তেমন জড়িয়ে ধরে চীৎকার করে কিছু বলতে যাবো, বলতে আর পারলাম না।

এরপর আর কিছু মনে নেই। ভীষণ শীত করছে। চোখ মেলে তাকালাম। অনেকগুলো চিন্তিত মুখ। আব্বু কপাল চেপে ধরে বসে আছেন এক পাশে। আম্মুর চোখে পানি। সবার অস্পষ্ট কথাবার্তা। মামী চীৎকার করছেন, ভেতর থেকে দরজা বন্ধ ছিল। কে জানতো মেয়ে আমার অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে?

শরীর শিউরে-শিউরে উঠছে। শাহেদ ভাইয়ের মুখ শুকিয়ে আছে। তিনি আমার মাথায় পানি ঢালছেন। তাঁর পাশে বঁধু বেশে অসহ্য সুন্দর এক রমণী। রমণীয় এই মুখটিকে আমি চিনি। তার নাম বর্ণা। সে আমার কপাল বেয়ে চুলের গোড়া অবধি পানি চাপকে দিচ্ছে। একটু পরপর মুখের কাছে ঝুঁকে এসে বলছে, তোমার তো বোন নেই। আমিই তোমার বোন। বোন থাকতে জ্বর কোথায় পালাবে! তোমার ভাইয়াকে ইচ্ছে মত বকে দিয়েছি। মনে পড়ল। পিচ্চি-পাচ্চা ফুল ছিড়ে নিচ্ছিল দেখে দরজা বন্ধ করে বাসর সাজাতে বসেছিলাম। সাজাতে-সাজাতে জ্বরক্লান্ত রাত জাগা শরীর কখন ঘুমিয়ে পড়েছিল টেরই পাইনি।

শাহেদ ভাই হাসছেন। আমি কাঁদছি। নিঃশব্দ কান্না। ভাগ্য ভাল কান্না আমার, জগ ভর্তি পানিতে ভেসে যাচ্ছে। কারও বোঝার ক্ষমতা নেই। আমার ভেতর থেকে কেউ একজন বলছে, শাহেদ ভাই শুনুন! আমার অনেক কষ্ট ছিল। বর্ণা নামের এই মেয়েটি কষ্টগুলো হাওয়ায় মিলিয়ে দিয়েছে। আপনার গিফট পেয়েছি। আপনি সুখি হবেন। হ্যালো শাহেদ ভাই! আমার প্রার্থনা কি আপনি শুনতে পাচ্ছেন?

গল্পের বিষয়:
গল্প

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত