আদুরী

আদুরী

আমার জানামতে “আদুরী” নামে কারো নাম্বার আমার মোবাইলে সেভ করিনি। কিন্তু দু’দিন ধরে মধ্যরাতে যখন ফোন আসে তখন মোবাইলে “আদুরী” নামটি ভাসে। আমার ঘরে বউ আছে, একটি বাচ্চাও আছে। এখন আমার প্রেম করার বয়স নেই। পরকীয়া করার মতো মনমানসিকতাও নেই। কিন্তু দু’দিন কথা বলে আমার মনের পরিবর্তন হচ্ছে। আবার মনে মনে ভয়ও পাচ্ছি। ভয় পাবার কারণ হলো, কথা শেষ করার পর এই নাম্বারটি আমি আর আমার মোবাইলে খুঁজে পাই না। এমনকি রিসিভ কলেও এই নাম্বারটির অস্থিত্ব খুঁজে পাই না।

অবশ্যই ভয় পাবার কথা। মধ্যরাত বলেই ভয় পাই। শরীরের পশম দাঁড়িয়ে যায় ভয়ে। তবুও ফোন রাখতে ইচ্ছে করে না। গলার কন্ঠস্বর শুনলে মনে হবে সতেরো আঠারো বছরের তরুণী কথা বলছে। আর এত মিষ্টি করে কথা বলে, যেন আমাকে কত যুগ ধরে চিনে। আরেকটি ব্যাপার লক্ষ করেছি। ফোন রিসিভ করার সাথে সাথে মেয়েটি আমার সাথে কথা বলেনা। মেয়েটি একা একাই কথা বলে। কয়েক মিনিট যাওয়ার পর যখন দুই তিনবার প্রশ্ন করে, কী হলো? জবাব দিচ্ছো না কেন? তখন আমি জবাব দেই। তখন আমার সাথেই কথা বলে। মনে মনে ভাবছি, এটা কি আমার অবচেতন মনের ধারণা? নাকি সত্যিই আদুরী নামের মেয়েটি আমার সাথে কথা বলে। আর যদি কথা বলেই তবে ফোন নাম্বারটি কোথায় গায়েব হয়ে যায়?

আমার বয়স এখন পঁয়ত্রিশ বছর। আমি বিয়ে করেছি একত্রিশ বছর বয়সে। আমার আড়াই বছরের একটি ছেলে আছে। শিমু আমাকে প্রচন্ড ভালোবাসে। বিয়ের পর থেকে দুয়েকবার কথা কাটাকাটি ছাড়া আমাদের তেমন কোনো ঝগড়া হয়নি। আমরা সুখেই আছি। এমতাবস্তায় শিমু যদি জানতে পারে আমি আদুরী নামের কারো সাথে ফোনে কথা বলি, তাহলে সে অনেক কষ্ট পাবে। আমিও কথা বলতে চাই না। কিন্তু ফোন আসার পর আমি কেমন একটা ঘোরে চলে যাই। তখন মনে হয় আদুরীই আমার সব। তার সাথে আমার এক জনমের কথা বাকি পড়ে আছে। কত কথা শোনার বাকি আছে। আমার যে কথা বলতেই হবে।

রাতে ঘুমানোর সময় আমি ফোন ভাইব্রেশন করে রাখি। শিমু সারাদিন সংসারের কত কাজ করে। রাতে আমার ফোন আসলে ক্লান্ত শিমুর ঘুম ভেঙ্গে যেতে পারে। ঘুম ভাঙ্গতে পারে আড়াই বছরের ছেলে আরিয়ানেরও। তাছাড়া রাতে ঘুমাতে যাবার পর ফোন আসলে রিংটোনের শব্দ কারো কাছেই মধুর লাগে না। প্রথমদিন যখন আদুরী কল দিল, বালিশের কাছে ভোঁ ভোঁ শব্দ করছিল মোবাইল। ঘুম ভেঙ্গে ঝাঁপসা চোখে দেখি আদুরী লেখা। প্রথমে ভাবলাম আমি তো আদুরী নামের কাউকে চিনি না।

আরেকবার ভাবলাম হয়তো সেভ করেছি কারো নাম। রিসিভ করে হ্যালো বলতে যাব তখন শুনি একটি মেয়ে অনবরত কার সাথে যেন কথা বলছে। আমি তৃতীয় পক্ষ হয়ে তাদের কথা শুনছি। কিন্তু দ্বিতীয় পক্ষের কোনো কথাও শুনতে পাচ্ছি না। মেয়েটা একনাগারে বলেই চলছে, “একমাত্র তুমি যখন আমাকে সুন্দর বলো, কেবল তখনি মনে হয় আমি সুন্দর। অন্য কেউ বললে মনে হয় তারা মিথ্যে প্রশংসা করছে। আমার কখনো সাজতে ইচ্ছে করে না। যখন তুমি আমাকে সুন্দর বলো, তখন আয়নার সামনে দাঁড়াই। নিজেকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখি। হাতের আঙ্গুলে স্নোর কৌঠা থেকে একটু স্নো নেই। কপালে দেই, গালে দেই। নাকে দিতেও ভুল করি না। একটু একটু করে সারা মুখের স্নো মিশিয়ে আবারো আয়নায় তাকাই। তখন তোমার কথা মনে পড়ে। তুমি আমাকে বলো, আমি নাকি মেঘের মতো সুন্দর।

কালো মেঘের আঁধার নয়, সাদা মেঘ। আচ্ছা মেঘের রং কী? ” কী হলো? বলবেনা মেঘের রং কী? তুমি এখন কথা না বললে কিন্তু আমি সত্যিই রাগ করব। তখন মনে হলো মেয়েটি আমার কাছে জানতে চাচ্ছে মেঘের রং কী? আমি বিছানা ছেড়ে উঠি। দরজা খুলে বারান্দায় যাই। আকাশে মেঘ নেই। জ্যোৎস্নায় ঝিঁঝিঁ পোকারা স্নান করতে নেমেছে। আমি এই প্রথম কথা বলা শুরু করি। “আকাশ কখনো সাদা দেখায় কখনো নীল। কখনো লালচে বর্ণের। কখনো কালো মেঘে পুরো আকাশ ঢেকে দেয়। বৃষ্টির সময়ও কালো থাকে আকাশ, বৃষ্টি কিছুক্ষন হলে ফর্সা হয়। এখনো জ্যোৎস্নার বৃষ্টি হচ্ছে। জ্যোৎস্না সাদা হয়। মেঘ তাহলে কালো, বৃষ্টি মনে হয় সাদা।

-তাহলে তো আমিও কালো, আমাকে তুমি সুন্দর বলো কেন?

আমি জবাব দিতে পারি না। আদুরী ফোন কেটে দেয়। আমি রিসিভ করে আদুরী নাম খুঁজি, পাই না। এমন কি রিসিভ কলে ঐ সময়ে কারো ফোন কল নেই। সেভ করা নাম্বারগুলো তিনবার চষে বেড়ালাম। কোথাও আদুরী নাম পাইনি। হঠাৎ ভয় হতে লাগল। শরীরের লোম দাঁড়িয়ে গেল ভয়ে। কী হচ্ছে আমার সাথে? দ্রুত রুমে ঢুকে গেলাম। শিমু গালের নিচে হাত রেখে ঘুমাচ্ছে। আরিয়ান শোয়ে আছে সোজা হয়ে। আমি বিছানায় শোয়ে পাশ ফিরে ভাবছি। মেয়েটি কত সুন্দর করে কথা বলে। কেউ তাকে মেঘের মতো সুন্দর বলেছে। আমি মেঘ’কে কালো বলেছি বলে আদুরী অভিমান করে ফোন কেটে দিল। মেয়েটির অভিমান ভাঙ্গাতে খুব ইচ্ছে করছে। কিন্তু তার নাম্বার আমার জানা নেই।

দ্বিতীয় দিন আরো গভীর রাতে ফোন এল। চোখে আমার ঘুমের জড়তা। আদুরী নাম দেখার সাথে সাথে আমার চোখের ঘুম কোথায় যেন পালিয়ে গেল। তাড়াতাড়ি বিছানা ছেড়ে বাইরে গিয়ে ফোন রিসিভ করলাম। আদুরী একা একা বলে যাচ্ছে, “বাবা আজ কৈ মাছ এনেছে বাজার থেকে। আমি নিজ হাতে রান্না করেছি। পিয়াজ দিয়ে ভুনা করেছি। বাবা বলেছে অনেক মজা হয়েছে। মা যদি বেঁচে থাকত তাহলে তিনিও আজ আমার রান্নার প্রশংসা না করে পারতেন না। তুমি কী কৈ মাছের ঝোল পছন্দ করো? কী হলো? কথা কানে যায় না? তুমি চুপ করেই থাকবে? আমি জবাব দিলাম, ছোটবেলা একবার কৈ মাছের কাঁটা বিঁধেছিল গলায়। তখন থেকে কৈ মাছের প্রতি আমার ভক্তি শেষ হয়ে গেছে। তারপর থেকে আমি কৈ মাছ খাই না।

-খেতে হবে না তোমার। আমার কোনো কিছুই তোমার পছন্দ হয় না। একদম কথা বলবে না আমার সাথে।
মেয়েটি লাইন কেটে দেয়। বড্ড অভিমানী সে। তার অভিমান ভাঙ্গানো হয় না আমার। রুমে যাবার জন্য পেছন ফিরে দেখি শিমু দাঁড়িয়ে কান্না করছে। আমি হতবাক হয়ে আছি। অনেক কষ্টে মুখ থেকে আমার কথা বের হলো।

-শিমু তুমি কাঁদছ কেন?
-কারো স্বামী মধ্যরাতে অন্য মেয়ের সাথে প্রেম করে বেড়াবে আর স্ত্রী হয়ে সে আনন্দে নিত্য করবে?

বলেই শিমু রুমে চলে গেল। আমি পেছন পেছন গিয়ে দেখি শিমু তখনও কাঁদছে। আমি বললাম, শিমু তুমি ভুল করছো। তুমি যা ভাবছো তেমন কিছুই হয়নি। শিমু মুখে আঙ্গুল দিয়ে আমাকে চুপ থাকার ইঙ্গিত করছে আর বলছে, আরিয়ান জেগে যাবে। আমি প্রচন্ড মন খারাপ নিয়ে শোয়ে রইলাম। সকালে সব বলতে হবে শিমুকে। নয় তো আমার সুখের ঘরে আগুন লাগবে। আমার এক বন্ধু মনোরোগ বিশেষজ্ঞ। ভাবছি তার কাছে একবার যাব। তার ফোন নাম্বারটি কেন যে সেভ করলাম না। ভেবেছি সে এখন ডাক্তার মানুষ, আমার সাথে কথা বলার সুযোগ কি তার হবে? কিন্তু এখন ভাবছি কাল বিকালেই একবার দেখা করতে হবে শামীমের সাথে। তার আগে শিমুকে সব বিস্তারিত বলতে হবে। আদুরীর অভিমান ভাঙ্গানোর আগে শিমুর অভিমান আমাকে আগে ভাঙ্গাতে হবে।

শিমু কিছুতেই আমার কথা বিশ্বাস করছে না। তার ভাষ্যমতে আমি মেয়ের সাথে কথা বলে নাম্বার ডিলিট করে ফেলেছি। কেঁদে কেঁদে বলছে সে আর আমার সংসার করবে না। আরিয়ানকে নিয়ে চলে যাবে। আমি তাৎক্ষনিক ঝগড়া না করে সকালেই শামীমের কাছে যাবার জন্য মনস্থির করেছি। এই বয়সে স্ত্রী সন্তান রেখে আমার এসব মানায় না। দরকার নেই আমার আদুরী নামের মেয়েটির মিষ্টি কথা। শামীম আমার কথা শুনে হাসতে হাসতে লুটিয়ে পড়ছে। সে বলছে, বিয়ের আগে কিশোর বয়সে এমনটা হয়। কিশোর বয়সে অনেকে স্বপ্ন দেখে তাকে কেউ ভালোবাসে। বিছানার পাশে বসে চুলে বিলি কেটে মিষ্টি প্রেমের গল্প করে। কিন্তু তোর মতো আঁধবুড়ো লোকের এসব কথা শুনলে সবাই হাসবে। আমার মন খারাপ দেখে শামীম স্বাভাবিক হলো। তারপর বলল, ঠিক আছে। তুই মোবাইলটি রেখে যা। দেখি কে ফোন করে তোকে। কথা বলে দেখি কেমন মিষ্টি প্রেমের আলাপ করে।

আমি বিনা বাক্যে মোবাইলটি শামীমের টেবিলের উপর রেখে চলে এলাম। রাতে ঘুমানোর সময়ও শিমু মুখ ঘোমড়া করে ছিল। সে তার বাবার বাড়িতে চলে যেতে চেয়েছিল। যখন শুনেছে মোবাইল রেখে এসেছি শামীমের কাছে। আজ আমি মোবাইল ছাড়া। তখন সে আর যায়নি। কিন্তু তার মন থেকে বিষয়টির সমাপ্তি ঘটেনি। মধ্যরাতে আমার ঘুম ভেঙ্গে গেল। বালিশের কাছে মোবাইল হাতড়ে না পেয়ে মনে পড়ল, মোবাইল শামীমের কাছে রেখে এসেছি। তখন মনটা কেমন খারাপ হয়ে গেল। আদুরীর কথা মনে পড়ছে খুব। কে এই আদুরী? আদুরী, আদুরী, আদুরী। হঠাৎ শোয়া থেকে বসে পড়লাম। আদুরী নামটার মধ্যে কিছু একটা খুঁজে পেলাম।

আজ থেকে ষোল সতেরো বছর আগে ফোনে কথা বলতাম সালেহা নামের এক মেয়ের সাথে। তখন আমি ইন্টারে পড়ি। কখনো দেখা হয়নি সালেহার সাথে। মোবাইলেই পরিচয়, তারপর বন্ধুত্ব। তুই তোকারি সম্পর্ক ছিল আমাদের মাঝে। সে বিয়ে করেছিল প্রাইমারী স্কুলের এক মাস্টারকে। মাস্টার মশাই বড় ভালো লোক ছিলেন। আমার সাথে কয়েকবার ফোনে কথাও বলেছেন। সালেহা যখন সাত মাসের গর্ভবতী তখন সে আমাকে বললো, শ্রাবণ আমার মেয়ে হলে কী নাম রাখব বলতো? আমি জানতে চেয়েছি, কী নাম রাখবি? সালেহা বললো তুই একটা নাম ঠিক করে দে। আমি বললাম, যদি ছেলে হয়? তখন সালেহা বলল, ছেলে হলে মাস্টার নাম রাখবে। মেয়ে হলে নাম রাখব আমি। তুই আমার মেয়ের নাম ঠিক করে দে।

সেদিন আমি কোনোকিছু না ভেবেই বলেছিলাম, তুই তোর মেয়েকে অনেক আদর করবি, তাহলে আদুরী নামটাই রাখিস। সালেহা খুব খুশি হয়েছিল। মাঝে মধ্যেই বলত, আদুরী আসার সময় ঘনিয়ে আসছে। আমার খুব ভয় করে শ্রাবণ। আমি অভয় দিতাম। এর মাস দুয়েক পর সালেহার মোবাইল থেকে তার স্বামী ফোন করে জানালো, সালেহা মৃত সন্তান প্রসব করে নিজেও চলে গেছে এই দুনিয়া ছেড়ে। সেদিন আমার দুই চোখ থেকে গাল বেঁয়ে অশ্রু নির্গত হয়েছিল। হঠাৎই জানতে চেয়েছিলাম, তার ছেলে হয়েছে না মেয়ে? মাস্টার উত্তর দিল, মেয়ে।

আজ যদি সালেহার মেয়ে বেঁচে থাকত তাহলে ষোল সতেরো বছরের কিশোরী হয়ে উঠত। হঠাৎ আমার শরীরের পশম দাঁড়িয়ে গেল। কেমন ভয় ভয় করছে। আমি মাস্টারের সাথে আর কখনো যোগাযোগ করিনি। এই পর্যন্ত মোবাইল পরিবর্তন করেছি অনেক। কিন্তু সীম পরিবর্তন করিনি। তাহলে সালেহার নাম্বারটি থাকার কথা। যদি মাস্টার নাম্বার পরিবর্তন না করে থাকে, তাহলে হয়তো যোগাযোগ করতে পারব। কিন্তু মোবাইল শামীমের কাছে রেখে এসেছি। সকাল হলেই যেতে হবে তার কাছে। শামীমকে চেম্বারে না পেয়ে তার বাড়িতে যাওয়ার জন্য বের হলাম। আমার মোবাইলটি এখন অনেক প্রয়োজন। বাড়িতে ঢুকে হতবাক হয়ে গেছি। শামীম তার স্ত্রীর পথ আগলে দাঁড়িয়ে আছে। আর তার স্ত্রী একবার ডানে যাচ্ছে আরেকবার বামে যাচ্ছে। চোখ রাঙ্গিয়ে বলছে, তুমি থাকো এই সংসারে। তোমার সাথে আমার আর সংসার করা সম্ভবনা।

আমি এগিয়ে যাব না চলে আসব বুঝতে পারছি না। শামীম আমাকে দেখে দৌড়ে কাছে এল। পকেট থেকে মোবাইল বের করে দিয়ে বলল, শ্রাবণ এই নে তোর মোবাইল। আমার সংসার ভাঙ্গার পথে। আমি কিছু বুঝে উঠার আগেই তার স্ত্রী বলছে, মধ্যরাতে তুমি অন্য মেয়ের সাথে প্রেম করে বেড়াবে আর আমি তোমার সংসার করব? শামীম বলছে, আমি তোমাকে মোবাইল দেখিয়েছি। কারো নাম্বার পেয়েছো তুমি? আমার আর বুঝতে বাকি নেই। আমি এগিয়ে গিয়ে শামীমের স্ত্রীকে বললাম, ভাবী আমারো সংসার ভাঙ্গার পথে। তাই মোবাইল নিয়ে এসেছিলাম শামীমের কাছে। আসলে মোবাইলে কে যেন ফোন দেয়, কিন্তু পরে আর নাম্বার খুঁজে পাওয়া যায় না। এই সমস্যার সমাধানের জন্যই গতকাল মোবাইল নিয়ে এসেছিলাম। শামীম বলছে, মোবাইল শ্রাবণের। শ্রাবণের মোবাইল দিয়ে আমি কার সাথে প্রেম করব?

অবশেষে তার স্ত্রী একটু ঠান্ডা হলো। আমাকে আপ্যায়ন করতে চেয়েছিল। কিন্তু সেখানে আর থাকতে ইচ্ছে হয়নি। পথে বেরিয়ে মোবাইল হাতে নিয়ে সেভ করা নাম্বারে সালেহার নাম্বার খুঁজে পাইনি। কয়েকবার চেক করার পর না পেয়ে বড্ড রাগ হলো মোবাইলটার প্রতি। এই মোবাইল এই সীম আর চালাবো না আমি। নতুন মোবাইল কিনে নেব। সংসার বাঁচাতে হবে আগে। আমি শিমুকে আর আমার ছেলেটাকে অনেক ভালোবাসি। মোবাইল জোরে ঢিল দিলাম পুকুরে। জগতের অনেক রহস্যেরই কোনো সমাধান পাওয়া যায় না। সেই রহস্যের জালে আটকে পড়ে নিজের সংসার ভাঙ্গার মানে হয় না। আদুরীর কথা মনে পড়ছে। মিষ্টি করে বলতো, “তুমি যখন আমাকে সুন্দর বলো তখনই কেবল মনে হয় আমি সুন্দর।

গল্পের বিষয়:
গল্প

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত