মোবাইল

মোবাইল

আম্মুকে শত বুঝিয়ে একটা মোবাইল আর হাসিল করতে পারছি না। আজকাল কলেজ যেতেও ইচ্ছা করে না। সবাই আমার সামনে মোবাইল চাপে আর আমাকে হা করে দেখতে হয়। কলেজে আমিই একমাত্র প্রাণী যার একটা মোবাইল নাই। মাঝে মধ্যে ইচ্ছা করে ড্রেনে ডুবে মরে যেতে। সকালবেলা আম্মুকে বললাম- ‘শেষবারের মতো বলছি আমাকে একটা মোবাইল কিনে দাও।’ আম্মু বলল, ‘তুই এখনো ছোট্ট আছিস । এই বয়সে মোবাইল ইউজ করতে হয় না।’

‘একটু আগেই না তুমি বললে,আমি ধিঙি মেয়ে হয়েও কাজ করি না! আমাকে আর বসে বসে খাওয়াতে পারবে না। আর এখন বলছো আমি ছোট আছি! আজব তো!এখনতো আমি কনফিউশনে পরে গেছি আমি কখন ছোট থাকি আর কখন ধিঙি হয়ে যাই।’ ‘আমি যখন বলেছি মোবাইল দিব না তো দিব না। দেখিস নি তোর পাশের বাসার মেয়েটা মোবাইল পেয়ে খারাপ হয়ে গেছে।’ ‘সব মেয়েরা তো এক নয়।’ আজকে বুঝতে পারলাম আম্মু কেন আমাকে মোবাইল দিতে চায় না। পাশের বাসার এই মেয়েটার জন্মই হয়েছে শুধু আমাকে জ্বালানোর জন্য। যদি আগামী সাতদিনের মধ্যে আমি মোবাইল না পাই তো ফাযিলটার চুলের ঝূঁটি ছিড়ব-এই ভেবে নিজের ঘরে গেলাম।

ঢাকা থেকে চাচাতো বড় ভাইয়া ফারাহ এসেছে। ভাবলাম যে করেই হোক ভাইয়ার থেকে একটা মোবাইল খসাতে হবে। ভাইয়ার কাছে যেয়ে মিষ্টি করে বললাম, ‘ভাইয়া এই ছোট অসহায় বোন টাকে একটা মোবাইল গিফট করো না!’ ভাইয়া মিষ্টি হাসি দিয়ে বলল, ‘আগে তুই আমাকে টাকা দে তারপর আমি তোকে মোবাইল গিফট দিব।’ আমার আশা অঙ্কুরেই বিনষ্ট হল। আরে ভাই টাকা থাকলে কি তাকে বলতাম মোবাইল কিনে দিতে?

অবশেষে অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে একটা মোবাইল হাসিল করলাম আম্মুর থেকে। এখন নিজেকে হাই লেভেলের মানুষ মনে হয়। যেখানে যাই মোবাইল সাথে করে নিয়ে যেতে ভুলি না। কিন্তু একদিন ভুল করে কোথায় যেন রেখে আসলাম আমার মোবাইল।টের যখন পেয়েছি তখন রাত সাত টা বেজে গেছে। আমার আধমরা অবস্থা। একমাসও হয়নি মোবাইল কিনেছি। আম্মুও রেগে ফায়ার। মাথা ঠাণ্ডা করে আম্মুর নতুন ফোন নাম্বার থেকে আমার নাম্বারে কল দিলাম।ভেবেছিলাম বন্ধ থাকবে কিন্তু না খোলাই আছে। আমাকে অবাক করে দিয়ে প্রথম কলেই ধরে ফেলল একটা ছেলে। ‘কে আপনি?’ আমি রাগি গলায় বললাম, ‘ যার ফোন দিয়ে কথা বলেছেন।’

‘ওহ আপনি!এতো দেরি করলেন কেন ফোন দিতে? আমি এতোক্ষন আপনার ফোনকলের জন্য ওয়েট করছিলাম।’ আমি খুশি হয়ে বললাম, ‘বেশ ভালো লোকতো আপনি। আমার মোবাইল ফেরত দেওয়ার জন্য ওয়েট করছিলেন। অন্য কেউ হলে তো নিয়ে যেয়ে ফোন বন্ধ করে দিত। আপনার মতো মানুষের দরকার আমাদের সমাজের। আচ্ছা বলেন কালকে মোবাইল ফেরত নিতে কোথায় আসতে হবে?’

ছেলেটা তখন বিরক্ত গলায় বলল, ‘হয়েছে এতো সেন্টি খেতে হবে না। আমি ফোন ফেরত দেওয়ার জন্য ওয়েট করছিলাম না। এরকম মোবাইলের চার্জার আমার কাছে নেই। চার্জার কেনার মতো টাকাও নেই। তাই মোবাইলটা যেখানে ফেলে রেখে গেছিলেন সেখানে কাল আপনার চার্জারটা ফেলে রেখে যাবেন।

গল্পের বিষয়:
গল্প

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত