দ্যা জোনাকি ইনসেক্ট

দ্যা জোনাকি ইনসেক্ট

আজ আমার বিয়ে ,বিয়েটাকে লাভ ম্যারেজ বলবো না অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ বলবো বুজতে পারছি না ,কারন আমাদের সম্পর্ক তিন বছরের। তিন বছর ছুটিয়ে প্রেম করেছি, সবার ক্ষেত্রে যা হয় ,আমার ক্ষেত্রে কিছুটা তার ব্যাতিক্রম হয়েছে। আমার পরিবারের সবাই জেনে গেছিলো ধীরে ধীরে ব্যপারটা ,কিন্তু আত্মীয় স্বজন কেউ জানতো না।

“যাই হোক”

বিয়েটা ভালোভাবেই সম্পন্ন হলো,এখন বাসর ঘরে বসে আছি ,বৌটাকে কেমন নতুন নতুন লাগছে, তিন বছরের
চেনা মানুষটাকে কেমন অচেনা লাগছে। ওর মধ্যে কোন ভাবান্তর নেই ,মনে হচ্ছে নিজের ঘরে আছে। আমি
তাকিয়ে দেখছি, যে মানুষটাকে নিয়ে তিলে তিলে স্বপ্ন গড়েছি আপন করে কাছে পাওয়ার, সেই মানুষটা আজ
আমার বউ, আমার ঘরে, একই ছাদের নিচে। কেমন ১টা ঘোর লাগা ভাব কাজ করছে। ওর দিকে তাকিয়ে আছি।

“এভাবে বোকার মতো তাকিয়ে আছো কেন? (হঠাৎ ও আমাকে প্রশ্ন করলো)

“হাসছিস তুই , তোর টোল পড়া হাসিতে প্রেম ঝরে পড়ে। আমি পান করে প্রেমিক হয়ে উঠি রোজ ভোরে।
তোমাকে দেখছি।

“ কেন, আমাকে এর আগে দেখো নাই?

“বউ এর সাজে তো আর দেখি নাই।

“হইছে, আর দেখতে হবেনা। “আরেকটু দেখি না।
“ ঢং দেখে বাচিনা ,এখন আমি চেঞ্জ করবো, তুমি বের হও।
” আরে, আমাকে বের হতে হবে কেন? আমার সামনেই চেঞ্জ করো।

“সমস্যা কি? এহ, মশাইয়ের সখ কত, বের হও বলছি। “দেখো, এইটা কিন্তু ঠিক না, তুমি আমার বিয়ে করা
বউ, এখন বাসর ঘর থেকে বের হয়ে গেলে মানুষ খারাপ বলবে।

“এমনিতেও বের হতে হবে, আমার পানি পিপাসা পেয়েছে, পানি নাই রুমে, নিয়ে আসো যাও।

কি আর করা, বাধ্য বরের মতো নতুন বউকে ঘরে রেখে পানি আনতে গেলাম, হঠাৎ মাথায় একটা দুশটু বুদ্ধি চাপলো। পানি দিয়ে ওকে ভিজিয়ে দিবো। যেই ভাবা সেই কাজ, পানির জগ সহ নিয়ে আসলাম, এসে দেখি ঘরের দরজা বন্ধ। ডাকাডাকি করতে সাহস হচ্ছে না,কেউ শুনে ফেললে কি ভাববে। টোকা দিলাম, কোন সাড়া নেই। না পেরে ডাক দিলাম।

“কি হইছে? (ভিতর থেকে উত্তর আসলো।) “দরজা খোল ,পানি নিয়ে আসছি।

“ তোমার ভিতরে ঢোকা বন্ধ, আজ রাতে বাইরেই থাকবে। “এই মেয়ে কি বলে ,মানে। কি বলো এই সব?

“ঠিকই বলি,তুমি আজ রাতে বাইরে থাকবে। “কিন্তু

“কেন?তুমি একদিন তোমার মেসের নিচে আমাকে দাড়া করিয়ে রাখছিলা, তার শাস্তি। “আমি আবার কবে দাড়া করিয়ে রাখলাম।
“মনে করে দেখো, দুপুর বেলা।তোমার ফোন বন্ধ ছিলো।

ও আচ্ছা! মনে পড়ল একদিন সত্যি ও দাড়িয়েছিল আমার মেসের নিচে! আমি ঘুমাচ্ছিলাম , লফোনে চার্জ ছিলো না।পরে আমার রুমমেটের সাথে দেখা হলে আমাকে ডেকে দিতে বলেছিল। কি কাজে সেটা সঠিক মনে পরছে না। সেটা’ত অনেক আগের কথা, আমিতো কতো দাড়িয়ে থেকেছি, কই আমিতো ওকে বাইরে দাড়িয়ে করিয়ে রাখছি না। “রুমের বাইর থেকে বললাম”। “দেখ ,সেটা অনেক আগের কথা ,আর ১টা দিনই তো ছিলে দাঁড়িয়ে,আমাকে তো তুমি দাড়া করিয়ে রেখে ঘর গুছাতে, তারপর দেখা করতে আসতে। আজ বাসর রাত, বরকে বাইরে রাখা কি ঠিক বলো?

“হ্যাঁ ঠিক! বেশি কথা বলবে না।

“এভাবে কতক্ষণ দাড়িয়ে থাকবো?

“ যতক্ষন আমার মন চায়।
” এমন করেনা লক্ষ্মী বউ আমার, তুমিনা পানি চাইলে, এই যে পানি নিয়ে আসছি।
“পানি লাগবে না।ঘরেই পানি আছে তুমি পানি খাও, আর দাড়িয়ে থাকো। “তুমি না আমার লক্ষ্মী বউ।এমন করেনা লোকে খারাপ বলবে।

“বলুক!ডিস্টার্ব করবে না আমি এখন ঘুমাব। “বরকে বাইরে রেখে তুমি ভিতরে ঘুমাবে? আমি তাহলে গেলাম।

“খবরদার!কোথাও যাবেনা দরজায় দাঁড়িয়ে থাকবে। দরজা থেকে কোথাও গেলে কিন্তু ভালো হবে না।আর যদি ভুলেও সিগারেট ধরাও,তাহলে কিন্তু কালও বাইরে থাকতে হবে।

এই মেয়ে যে আসলেও এই কাজ করবে, তা আমি বেশ ভালোভাবে জানি।গত তিন বছর ধরে প্রেম করেছি।
এমনিতে খুবই ভালো।খুকি খুকি চেহারা মুখের দিকে তাকালে মায়া লাগে, রাগও কম, কিন্তু প্রচন্ড অভিমানি আর জেদি। আমি জানি, আমি যতক্ষণ বাইরে থাকবো, ও ঘুমাবে না। তবে নিজের ইচ্ছা নাহলে আমি হাজার বলেও দরজা খুলতে পারবো না,এদিকে জোরে কথাও বলতে পারছি না, কেউ দেখে ফেললে হাসাহাসি করবে। কি আর করা, বাধ্য হয়ে রুমের সামনে হাটাহাটি শুরু করলাম। ১০-১৫ মিনিট পরে ডাক দিলাম। “তুমি কি ঘুমিয়ে পরেছ? ওই, শুনতে পাচ্ছো। কোন সাড়াশব্দ নেই। সত্যি কি ঘুমিয়ে পড়লো? – আমি কিন্তু গেলাম।

“এই খবরদার বলছি।গেলে কিন্তু সত্যিই ভালো হবেনা।

আমার হাসি পেলো, বিয়ের পরেও এমন ছেলেমানুষি কেউ করে? ওর এই ছেলেমানুষি গুলি আমার খুবই ভালো লাগে, এই ছেলেমানুষি কাজগুলোর জন্যেই আরও বেশী ভালবাসি। কতক্ষন বাইরে আছি হিসাব নেই, কারন মোবাইল ঘড়ি সব ভিতরে। এখন একটু বিরক্ত লাগছে, বাইরে বের হয়েছি রাত ১টার দিকে, ৩ঘন্টার মতো বাইরে, এর মধ্যে অনেক বার দরজা খুলতে বলেছি, খুলেনি। হঠাৎ মাথায় ১টা বুদ্ধি আসলো। “আমার পা ব্যাথা করছে, গেলাম।

“বলছি না, দরজা ছাড়লে খবর আছে। ” আমি চুপ করে বসে দাঁড়িয়ে আছি”
“কি হলো, কথা বলছ না কেন? “চুপ।

“চলে গেছ? “চুপ। দরজা খোলার শব্দ পেলাম, আমি দরজার পাশে লুকালাম, দরজা খোলা মাত্র ওকে জড়িয়ে ধরে ভিতরে ঢুকলাম।

“এই কি করছ? “কিছুই করছি না।

“খবরদার ভিতরে ঢুকবে না, খুব খারাপ হবে কিন্তু বলছি। আমি জোর করে ভিতরে ঢুকে দরজা লাগিয়ে দিলাম।

“ ভিতরে ঢুকলে কেন?

” আমার লক্ষ্মী বৌটাকে রেখে কি করে বাইরে থাকি বলো। না, তুমি বাইরে যাও , বাইরে থাকবে। এবার ওকে পাজাকোলা করে নিয়ে বিছানায় আসলাম। খবরদার ,অসভ্যতা করবে না। “ঠিক আছে।ঘুম পাচ্ছে , ঘুমাবো। না ঘুমাবে না। “আমিও তো তাই চাই, বাসর ঘরে কি নতুন বউ বর ঘুমায় বলো? আমি উঠে বসলাম। ও আমাকে ধাক্কা দিয়ে বলল। এহ আসছে , তুমি সারারাত গল্প বলবে আর আমি শুনবো। “ঠিকাছে।কি গল্প শুনবে বলো।ও আমার বুকে মাথা রেখে বলল। রুপকথার গল্প।

“তুইহীনা চায়ের সাথে নিবিড় প্রেম।তোর জন্য কত নির্ঘুম রাত মিশিয়ে দিয়েছি ঘন লিকারে ! অসহায়ে জড়িয়ে ধরি কাপের দেয়াল , আর উষ্ণতা দেয় শান্তনা।এই বুঝি তুই আসবি আমার আঙ্গিনায়, ফের চোখে হারাবো তোকে। কেউ মিনারের গান টা দিলে ভাল হত। “কোথায় থাকো কি তোমার নাম কেন আবেগ মাখো অভিরাম।”তাহলে দু’জন মিলে শুনতে পারবো।রুপকথার গল্পের পর গানটা শুনা যাবে।

গল্পের বিষয়:
গল্প
DMCA.com Protection Status
loading...

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত