টান

টান

আজ প্রথম বাংলাদেশে পা রাখলো হিয়া।বাংলাদেশী মেয়ে হলেও জন্ম আমেরিকায়।বড় হয়েছে ওখানেই।দেশে আসার পিছনে বড়সড় কারন রয়েছে।কোন এক বিশেষ টানে বাংলাদেশে এসেছে।এয়ারপোর্ট থেকে সরাসরি হাসান টেক্সটাইল গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিতে যাবে,,,,সেখানে হিয়ার জব হয়েছে।আমেরিকা থাকাকালীন জবের জন্য এপ্লাই করেছে।আজকেই জয়েনিং ডেট। হিয়া সরাসরি অফিসে চলে গেলো।সবার সাথে পরিচিত হলো।সবাই তো হিয়ার বাংলা শুনে অবাক।আমেরিকাতে বড় হয়েছে অথচ কি সুন্দর করে বাংলা বলে। হিয়ার সবাইকে খুব পছন্দ হয়েছে।হিয়া বসের সাথে দেখা করতে চায়,,শুনেছে মানুষটা খুব গম্ভীর,,কবি কবি ভাব আছে।ভার্সিটি পড়ার সময় লেখালেখি করত।হিয়ার খুব ইচ্ছে হচ্ছে বসের সাথে দেখা করতে।কিন্তু হুটহাট করে তো বসের সাথে দেখা করা যায় না।

কিছুদিন পর বস হিয়াকে ডেকে পাঠাল। হিয়া বেশ খুশী। এতদিনে ইচ্ছে পূরন হচ্ছে।হিয়া বসের রুমে গেল,,,,,,
বসের বয়স ৫০ এর বেশি হবে না।উজ্জল শ্যাম বর্ণ,,মুখভর্তি ছোট করে রাখা দাড়ি,মোটা ফ্রেমের চশমা,গম্ভীর মুখভঙ্গি,পড়নে মেরুন রঙের পাঞ্জাবি।হিয়ার চোখে পানি চলে এলো।এত ধনী লোকের এমন সাধারণ জীবনধারা দেখাই যায় না।

-বসুন,, কি নাম আপনার?
-হিয়া হাসান।

হাসান সাহেব হিয়ার দিকে তাকিয়ে আছে করুন ভাবে।হাসান সাহেবের অতীত উঁকি দিচ্ছে।ভার্সিটি পড়াকালীন সময়ে ঠিক করে রেখেছিলো একদিন তার সংসার হবে,,,স্ত্রী,ছেলে ,মেয়ে,, ,, মেয়ের নাম রাখবেন হিয়া।কিন্তু একটা ঝড় এসে সব স্বপ্ন ভেঙে দিলো।

-স্যার,,,, হাসান সাহেবের ভাবনায় ছেদ পড়ল।
-হ্যা,,,,,আপনাকে আমার পিএ হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। হিয়া খুশীতে আত্মহারা হয়ে পরল।এত পছন্দের একটা মানুষের পাশে সব সময় থাকতে পারবে।
-ধন্যবাদ স্যার।অনেক ধন্যবাদ।।
-আমি কি আপনার সাথে কিছুক্ষণ কথা বলতে পারি?
-অবশ্যই স্যার।আমি আপনার চেয়ে অনেক ছোট,,, আমাকে তুমি করে বলুন প্লিজ।
-আচ্ছা। আমারও তোমাকে আপনি বলতে ভালো লাগছে না।কফি খাবে?
-না স্যার।আপনি খাবেন বানিয়ে দিবো?
-হ্যা দিতে পারো।
-এই নিন।
-ধন্যবাদ।

হিয়া অনেকক্ষণ স্যারের সাথে গল্প করলো।স্যার হিয়াকে তার লিখা কিছু কবিতার বই দিল। পরের দিন হিয়া স্যারের কেবিনে বসে স্যারের দেওয়া কবিতার বই দেখে কবিতা আবৃত্তি করছে।স্যার কফি খাচ্ছে আর কবিতা শুনছে।

হাসান সাহেব অতীতে ডুব দিলেন।তখন ভার্সিটিতে পড়তেন।কবিতা লিখতো সারাদিন।ভার্সিটির ক্যাম্পাসে বড় একটা কড়ই গাছ ছিলো।গাছের নিচে বসে বন্ধুদের কবিতা পড়ে শুনাতো।গ্রামের গরিব ঘরের ছেলে ছিল হাসান সাহেব।টিউশনি করে পড়ার খরচ চালাতো,, ভার্সিটি, বন্ধু-বান্ধব, হৈ-হুল্লোলের মাঝে দিন পাড় করছিলেন।হটাৎ সায়মা রহমান নামের এক মেয়ে হাসানের কবিতা শুনে হাসানের প্রেমে পরল।সায়মা ভালো পরিবারের মেয়ে,,,সব কিছু জেনে শুনেই হাসানের প্রেমে পরেছে।হাসান ও না করতে পারেনি,,,সায়মা সেদিন বলেছিলো,,,তুমি কি আমাকে তোমার কাঁধে মাথা রেখে,তোমার লিখা কবিতাগুলো আবৃত্তি করার অধিকার দিবে,,,।হাসানের সাধ্য ছিলো না মানা করার।এরপর থেকে হাসান কবিতা লিখে প্রথম সায়মাকে দেখাতো আর সায়মা হাসানের কাঁধে মাথা রেখে কবিতা আবৃত্তি করত।কি সুমিষ্ট কণ্ঠ ছিলো সায়মার,,,,সেদিন গুলোর কথা আজও ভুলতে পারে না হাসান সাহেব।হিয়ার কবিতা শুনে আজ সায়মাকে বড্ড বেশিই মনে পড়ছে।

-কি মিষ্টি কণ্ঠ তোমার,,,তোমার আবৃত্তি না শুনলে বুঝতেই পারতাম না।
-ধন্যবাদ স্যার।আপনি চাইলে রোজ আপনাকে কবিতা শুনাবো।
-তাহলে তো বেশ ভালো হয়।

হাসান সাহেব নজরুল ভক্ত।হিয়া তাই নিজে গিয়ে নীলক্ষেত থেকে বই কিনে এনেছে।অফিসে এসে হাসান স্যারের কেবিনে ঢুকলো,স্যার এখনো আসে নি।তিনি টাইম টু টাইম অফিসে আসেন।এক মিনিট এদিক সেদিক হয় না।কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর নিজের কেবিনে চলে গেল হিয়া।ম্যানেজারের কাছ থেকে জানতে পারলো স্যার অসুস্থ।
হিয়া হাসান সাহেবের বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আছে।বিশাল বড় বাড়ি।ঢুকবে কিনা বুঝতে পারছে না।কোন কিছুর না ধার ধেড়ে ঢুকেই গেলো।কলিং বেল চাপতেই দরজা খুলে দিলো বৃদ্ধ এক লোক।

-কে আপনি, কারে চান?
-হাসান সাহেব এর কাছে এসেছি।আমি ওনার পি.এ।
-সাহেবের তো মেলা জ্বর। শুইয়া রইছে।
-আমি ওনাকে দেখতেই এসেছি।
-আহেন ভিতরে আহেন। বিশাল বড় বাড়ি।হিয়া ভিতরে ঢুকে দাঁড়িয়ে আছে।
-সাহেবের ঘর উপরে।চলেন নিয়া যাই। হিয়া বৃদ্ধ লোকটার পিছনে পিছনে উপরে গেলো।সাহান সাহেব শুয়ে আছে চোখ বন্ধ করে।

-ওনার জ্বর কখন এসেছে?ডাক্তার দেখিয়েছেন?ওষুধ খাইয়েছেন?
-কাইল রাইত থিকা জ্বর। সকালে ডাক্তার আইয়া দেইখা গেছে,,সুই দিয়া গেছে,ওষুধ দিয়া গেছে। এহন জ্বরটা একটু কমছে।তয় এহনো ওষুধ খায় নাই।কিছুই খাইতাছে না। হিয়া হাসান সাহেবের কপালে হাত রাখলো।জ্বর কম ই মনে হচ্ছে।হাসান সাহেব হিয়ার স্পর্শ পেয়ে চোখ মেলে তাকালেন।

-স্যার এখন কেমন আছেন?
-ভাল।তুমি এখানে কিভাবে এলে?
-অফিসে শুনলাম আপনি অসুস্থ তাই দেখতে এলাম।এখন উঠুন,নাস্তা করে ওষুধ খাবেন।আমি আপনার জন্য স্যুপ বানিয়ে নিয়ে আসছি।
-আরে না,,না,,তোমাকে এত কষ্ট করতে হবে না,,
-কি বলেন স্যার,,আপনি আমার বাবার মতো,, আমার বাবা আজ অসুস্থ হলে আমি এইটুকু করতাম না,,,

হাসান সাহেব বলার মতো কিছু খুঁজে পেলেন না,,,সায়মাকে ভুলে যদি নতুন করে জীবন শুরু করতেন তাহলে হিয়ার মতো তার ও একটা মিষ্টি মেয়ে থাকতো। হিয়া স্যুপ নিয়ে এলো।

-খেয়ে নিন।এই যে আপনার ওষুধ। খেয়েদেয়ে সুস্থ হোন তাড়াতাড়ি।এভাবে ঘরে বসে থাকলে আপনার এত বড় কোম্পানি কে দেখবে,, হাসান সাহেব মৃদু হাসলেন। বিকেল ৪:৩০ বাজে।হাসান সাহেবের জ্বর কমে গেছে।স্যার চলুন বাইরে যাই। এভাবে ঘরে বসে থাকলে আরো অসুস্থ হয়ে পরবেন,,চলেন ঘুরে আসি।

-কোথায় যাবে?
-বাইরে হাটঁতে,,
-তোমার বাসায় চিন্তা করবে না?
-নাহ,,আমার জন্য চিন্তা করার মত কেউ নেই।
-মানে,,,
-কিছুনা স্যার। হাসান সাহেব আর কথা বাড়ালেন না।মেয়েটা বলতে চাইছে না।যা বলতে চায় না তা তিনি শুনতেও চান না।

-স্যার হাওয়াই মিঠাই খাবেন? হাসান সাহেব চমকে গেলো।মেয়েটা বার বার সায়মাকে মনে করিয়ে দিচ্ছে। সায়মা হাওয়াই মিঠাই খাওয়ার জন্য সব সময় বায়না করত।

-না,তুমি খাও,,আমি কিনে দেই। হিয়া হাওয়াই মিঠাই খাচ্ছে।একদম বাচ্চাদের মত আনন্দ করে খাচ্ছে।হাসান সাহেব চোখের পানি মুছলেন।

-চলো ফিরে যাই। তুমিও বাড়ি যাও। সন্ধ্যা নেমেছে।

হাসান সাহেব শাল জড়িয়ে বারান্দায় বসে আছেন সকাল থেকে।আজ অফিসে যাবেন না।বাসা থেকে বের হবেন না।সারাদিন বাড়িতেই থাকবেন।প্রতি বছর এই দিনে তিনি বাড়িতেই থাকেন একা।তবে আজ একা ভালো লাগছে না।
হিয়া হাসান সাহেবের পিছনে গিয়ে দাঁড়ালো।বুঝতে পারছে আজকে স্যারের প্রচণ্ড মন খারাপ।হাসান সাহেব পিছনে না ঘুরেই বলল।

-তুমি এসে পরেছ?
-হ্যা,স্যার।
-বস। হিয়া চেয়ার টেনে বসে পরলো।
-তোমার কি সময় হবে?আমি কি তোমার সাথে কিছুক্ষণ কথা বলতে পারি?
-জ্বী স্যার।
-প্রতি বছর এই দিনে আমি একা থাকি।তবে এই বছর একা থাকতে মন চাইছে না।তাই তোমাকে ডাকলাম।তুমি এই ১মাসে আমার অনেক আপন হয়ে গেছো। তাই তোমাকে আমার জীবনের গল্প শুনাতে চাই।তুমি শুনবে?

-খুব চাই।
-আজ আমার বিবাহ বার্ষিকী।

তারপর বড় বড় শ্বাস নিয়ে হাসান সাহেব বলা শুরু করলেন: আজ থেকে প্রায় ২৬ বছর আগের কথা আমি ভার্সিটিতে পড়তাম।গ্রামের সাধারণ পরিবারের ছেলে ছিলাম।টিউশনি করে খরচ চালাতাম।কবিতা-তবিতা লিখতাম।সবাই বলতো আমার লিখার হাত ভাল ছিল।সায়মা রহমান নামে ভালো ফেমিলির একটা মেয়ে আমার কবিতার সাথে সাথে আমার প্রেমে পড়ল। কাঁচা বয়স,,ভবিষ্যৎ না ভেবে ই প্রেমের পথে এগিয়ে গেলাম।দিনগুলো ভালোই কাটছিল।এভাবে প্রায় ২বছর কেটে গেলো।আমি বিএ পাশ করে চাকরী খুজঁছিলাম।এরি মধ্যে সায়মা আমার মেসে এসে কান্নাকাটি শুরু করে দিলো। অনেক কষ্টে ওর কান্না থামিয়ে কান্নার কারন জানতেই যা শুনলাম তা হলো ওর বাবা ওর বিয়ে ঠিক করে ফেলেছে।হাসানের মতো বেকার ছেলের সাথে কিছুতেই বিয়ে দিবে না।

-তারপর,,,,
-তারপর আর কি পালিয়ে বিয়ে করতে বাধ্য হলাম।

তবে আমি চাই নি পালিয়ে এভাবে বিয়ে করতে।আমি বেকার মানুষ। কোন চাকরী নেই।সায়মাকে কোথায় রাখবো,, কি খাওয়াবো।আমি চাই নি সায়মা আমার সাথে ওর জীবনটা জড়িয়ে কষ্ট পাক।তাই আমি সায়মাকে বলেছিলাম তুমি ফিরে যাও, তোমার বাবার ঠিক করা ছেলেকে বিয়ে করে সুখী হও।কিন্তু সে নাছোরবান্দা সে সুখ চায় না,আমাকে চায়।অনেক বুঝিয়েছিলাম কিন্তু বুঝে নি।উল্টা বলেছিল ও বাড়ি ফিরবে না,আমি যদি ওকে ফিরিয়ে দেই তাহলে আত্মহত্যা করবে।তাই বাধ্য হয়ে মেসের বন্ধুদের সাহায্য নিয়ে বিয়ে করে ফেললাম সায়মাকে।টিউশনি দিয়ে কষ্টেসৃষ্টে সংসার চালাতাম।সায়মা সবকিছু না চাওয়ার আগেই পেয়ে যেত বাবার বাড়ি কিন্তু আমি ওকে কিছুই দিতে পারতাম না।প্রথম এক মাস সায়মা কিছুই বলতো না।পরবর্তীতে সব কিছু নিয়ে অভিযোগ করতো, কথায় কথায় চেঁচিয়ে উঠত,রাগ করত।

এক সময় সব কিছু নিয়ে ঝগড়া করত।আমাকে এক প্রকার সয্যই করতে পারতো না।চাকরী খুঁজা,টিউশনি করা,সংসারের প্রেশার এই সব নিয়ে অনেক ডিস্টার্ব থাকতাম তার উপর সায়মার এমন বিহেভিয়ার মেনে নিতে পারতাম না আমিও ওর কথার উত্তর দিতাম। দুজনের মধ্যে ঝগড়া লেগে যেত।কথায় আছে না অভাব দেখা দিলে ভালোবাসা জানালা দিয়ে পালায় তেমনি হয়েছিল।একদিন বাড়ি ফিরতে না ফিরতেই এটা নাই সেটা নাই বলে চিল্লানো শুরু করে দিলো।আমার মতো অপদার্থ,বেকার ছেলেকে বিয়ে করে জীবন নরক বানিয়ে ফেলেছে এইসব বলতে শুরু করলো।আমিও রাগ করে বললাম যাও তোমার বড়লোক বাবার কাছে আমাকে বিয়ে করেছো কেন।সত্যি সত্যি রাগ করে চলে গেল।আমিও আটকাই নি,,ভাবলাম কিছুদিন থেকে আসুক মন ভালো লাগবে।কিন্তু আর ফিরে এলো না।

হটাৎ শুনলাম ওর বিয়ে ঠিক হয়েছে।পাগলের মতো ছুটে গেলাম। ওর পা ধরে হাওমাও করে কাদঁলাম কিন্তু ওর মন গলেনি।ওর বাবা,ভাইরা আমাকে মেরে বের করে দিলো।চলে এলাম ভাবলাম আমি তো ওকে সুখী করতে পারলাম না যদি অন্য কাউকে বিয়ে করে সুখে থাকে থাকুক।ভালো থাকুক। বিয়ে করে চলে গেলো আমেরিকায়।জানো যেদিন ওর বিয়ে ছিলো আমি পাগলের মতো করছিলাম।সেন্স ছিলো না।হাত-পা কাটতে যাচ্ছিলাম,ফাসি দিতে দড়ি এনেছিলাম, এদিক সেদিক ছুটছিলাম,চিৎকার করে কেঁদেছিলাম। আমার কান্না দেখে আমার বন্ধুরাও কেঁদেছিল,আমাকে অনেক কষ্টে সামলেছিল।৭দিন পর্যন্ত আমার সঙ্গ ছাড়েনি।বাচার ইচ্ছাই হারিয়ে ফেলেছিলাম।কিছুদিন পর খবর পেলাম বাবা মারা গেছে,গ্রামে ফিরে গেলাম।মায়ের জন্য নিজেকে শক্ত করলাম।মনে মনে শপথ করলাম বড় হবো।অনেক চেষ্টায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করলাম।কিন্তু আর কাউকে ভালোবাসতে পারি নি।তাই একাই রয়ে গেলাম। হিয়া কাঁদছে।

-তুমি কাঁদছ?
-হ্যা,কারন এই গল্পটা আমি জানি।আমার পরিচিত।আমার আপনজনের গল্প।
-তুমি কিভাবে,,,?
-কারন সায়মা রহমান আমার জন্মদাত্রী মা।
-তুমি সায়মার মেয়ে? হিয়া চোখের পানি মুছে শক্ত হয়ে বলল,
-হ্যা,আমি সায়মা আর আপনার মেয়ে।

হাসান সাহেব বাকরুদ্ধ হয়ে গেলেন।কি বলছে মেয়েটা,,,তার আবার মেয়ে এলো কোথা থেকে,,,তার তো কোন মেয়ে ছিলো না।

-মায়ের যেদিন বিয়ে হয়েছিল তার পরেরদিন আমেরিকা চলে যায়।এয়ারপোর্ট থেকে গাড়ি করে তাদের বাসায় যাওয়ার পথে গাড়ি এক্সিডেন্ট করে।হসপিটালে নেয়ার পর মায়ের হাসবেন্ড মারা যায়।কিন্তু মা বেঁচে যান আর তখনই জানতে পারেন আমি তার ভিতরে বেড়ে উঠছি।মায়ের ধারনা মা ফিরে এলেই আপনি তাকে মেনে নিতেন।কিন্তু মা পারেনি ফিরতে।কোন মুখে ফিরতেন।তাই আমাকে নিয়ে আমেরিকায় রয়ে গেলেন।

-তুমি সত্যি বলছ।আমি খুব করে চাইছি তোমার কথাগুলো সত্যি হোক।প্রথম থেকেই আমি তোমার প্রতি একটা অজানা টান অনুভব করছি।
-হ্যা,,,বাবা আমি সত্যি বলছি আমি হিয়া হাসান তোমার মেয়ে।

হাসান সাহেব আনন্দে আত্মহারা হয়ে পরেছেন।গত ২৪বছরে তিনি কোনদিন এতখুশি কখনোই হোন নি।তিনি কেঁদে ফেললেন,এক নিমিষে হাসান সাহেবের অতীতে পাওয়া কষ্ট গুলো মুছে গেলো।তিনি চিৎকার করে পৃথিবীকে তার খুশী জানাতে চান।মেয়েকে পরম স্নেহে জড়িয়ে নিলেন। হটাৎ ঝিরঝিরে বৃষ্টি শুরু হলো এ যেন বাবা মেয়ের মিলনের আহবান।প্রকৃতি ও খুশীর জোয়ারে ভাসছে।

গল্পের বিষয়:
গল্প

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত