স্নেহ

স্নেহ

চলমান ব্যস্ত সতেজ জীবনের সাথে মৃত্যুর অপেক্ষায় থাকা জরাজীর্ণ জীবন সত্যিই বড় বেমানান। ঠিক এই ছবিটাই এখন আলেখ্য আর আর্শির সংসারে। ওদের কয়েক মাস হল বিয়ে হয়েছে। আলেখ্য যখন ক্লাস ফোরে পড়ে তখন মা কে হারিয়েছে। বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো তিনদিনের অজানা জ্বরে মা চলে গিয়েছিল। ঝাপসা ঝাপসা সেই শেষ কয়েকটা দিন আলেখ্যর এখনও মনে আছে। সেই থেকে ঠাম্মার কাছে মানুষ হয়েছে সে। যৌথ পরিবারের এই একটা বিশাল সুবিধা সে পেয়েছিল। বাড়িতে ঠাম্মা দাদু বাবা ছিল বলে ঠিক তেমন অনুভূত হয়নি মায়ের অভাব। ঠাম্মা তখন ঝাঁপিয়ে পড়ে আলেখ্যর সবকিছুর দায়িত্ব নিয়ে নিয়েছিলেন। দাদু তখন থেকেই অসুস্থ। ঠাম্মা একদিকে মা হারা নাতিকে শোকে মুহ্যমান ছেলেকে অন্য দিকে অসুস্থ স্বামীর পরিচর্যা একহাতে করেছেন।

আলেখ্য ভুলতে পারেনা তার জীবনে ঠাম্মার অবদান। দাদু মারা যাবার কয়েকদিনের মধ্যে আলেখ্যর মাধ্যমিক পরীক্ষা ছিল। ঠাম্মা কিন্তু এতটুকু ভেঙে পড়লেন না। নিজের শোক কাটিয়ে আলেখ্যর গায়ে আঁচ লাগতে দিলেন না। আলেখ্যর বাবা ঠিক তার একবছর পর তনয়া আন্টি কে বিয়ে করলেন। ঠিক এইসময় আলেখ্য দেখেছে ঠাম্মা কিভাবে সবদিক সামলে চলছে। তনয়া আন্টি প্রথম থেকেই এবাড়িতে থাকতে চায়নি। কয়েক মাসের মধ্যে বাবা কে দিল্লিতে ট্রান্সফার নিতে বাধ্য করল। বাবা মুখে আলেখ্য কে নিয়ে যেতে চাইলেও সে বুঝেছিল বাবার অবস্থা টা। আলেখ্য হাসি মুখে বাবা কে বিদায় দিয়ে ছিল।

যাইহোক সেই থেকে এই বাড়ি টা হয়ে গেল ঠাম্মা আর আলেখ্যর। সরকারি কলেজ থেকে সসম্মানে ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে আলেখ্য ভালো কোম্পানি তে জয়েন করলো। কিন্তু পোস্টিং হল পুনাতে। সেই প্রথম বার ঠাম্মা কে একা রেখে তাকে বাইরে যেতে হবে। এদিকে ঠাম্মার বয়স বাড়ছে শরীর ক্রমশ ভেঙে পড়ছে। আলেখ্য নিরুপায় হয়ে বাবা কে ফোন করে সাহায্য চেয়ে ছিল। যদিও সে জানতো ফল বিশেষ কিছু হবে না। বাবা সবসময়ের লোক রাখার ব্যবস্থা করতে বললেন কারন তাঁর পক্ষে এখন এ বাড়ি তে এসে থাকা সম্ভব নয়। অনেক ভাবনা চিন্তা করে আলেখ্য ঠাম্মা কে বলল, “চলো ঠাম্মা আমার সাথে। তোমাকে একা রেখে কিছুতেই যেতে পারব না।” ঠাম্মা বরুনা দেবী ও এক কথায় রাজি হয়ে বলেছিলেন , “সেই ভালো। তোকে ছেড়ে আমিও থাকতে পারব না।” আলেখ্য সেদিন অসুস্থ ঠাম্মা কে নিয়ে পুনায় রওনা হয়েছিল। কতজনের কত বারন বন্ধুদের হাসাহাসি কোন কিছু কেই গ্রাহ্য করেনি সে। সে শুধু জানত এই মানুষ টা না থাকলে সে এই জীবন টা পেত না। বাবার কাছে থাকলে তার জীবন টা দুর্বিষহ হয়ে উঠত।

টানা দুবছর ঠাম্মা কে নিয়ে পুনায় ছিল আলেখ্য। তারপর কলকাতায় বদলি নিয়ে ফিরে এসেছিল। ঠাম্মার নার্ভের অসুখ টা গুরুতর হতে থাকে। তবু তিনি সেই অবস্থাতেও আলেখ্যর বিয়ে দেবার জন্য অস্থির হয়ে ওঠেন। আলেখ্য ও অনুভব করে ঠাম্মার জন্যই কাউ কে বাড়িতে আনতে হবে। তারপর এদিক ওদিক থেকে দেখাশোনার পর আলেখ্যর বড়মাসি আর্শির সম্বন্ধ টা নিয়ে এসেছিলেন। শিক্ষিত সুন্দরী স্মার্ট সবদিক থেকেই আর্শি আলেখ্যর উপযুক্ত। তবে একটা ব্যাপারে আলেখ্যর আপত্তি ছিল সেটা হল আর্শি চাকুরিরতা। তার ব্যক্তিগত ভাবে কোন আপত্তি না থাকলেও তার কেমন ধারনা ছিল ঠাম্মার এই অবস্থায় একজন সঙ্গী দরকার। কিন্তু সে ভুল টা ঠাম্মা নিজেই ভাঙিয়ে দিয়ে ছিলেন। তাকে কাছে ডেকে বলেছিলেন, “শোন বাবা আমার মত রোগীর সঙ্গে সারাদিন কোন মেয়ের ভালো লাগবে না। তার থেকে দুজনে অফিস করে সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে আমার সাথে গল্প করবি। আমি যেমন কমলা কে নিয়ে আছি তেমনই দিনের বেলাটা থাকব।”

“কিন্তু ঠাম্মা তোমার জন্যেই তো এই বিয়ে তে আমি রাজি হয়েছি। তোমার দেখাশোনার জন্য তো একজনের দরকার।” “ওরে পাগল, আমার নিজের ছেলে আমার জন্য ভাবল না তুই কেন ভাবছিস? আমার আফসোস হচ্ছে নাত বউ কে একটু যত্ন করতে পারব না। আগে হলে দুহাতে ঠাম্মা কে জড়িয়ে ধরেছিল আলেখ্য। তারপর বলেছিল, “তুমি জানো না ঠাম্মা তুমি আমার কাছে কি। তুমি না থাকলে আমাকে ওই সৎ মায়ের কাছে থাকতে হত। তুমি শুধু আমাকে নও বাবা কেও নতুন জীবন দিয়েছো।”

সকালে ঠাম্মা কে অসুস্থ দেখে অফিসে বেরিয়ে ছিল আলেখ্য। উপায় থাকলে অফিস ছুটি নিত।ঠাম্মার গায়ে বেশ জ্বর। সকালে কমলাদি কে বুঝিয়ে এসেছে। আর্শি কে ছুটি নেবার কথা বলার সাহস নেই আলেখ্যর। বিয়ের কয়েক দিনের মধ্যেই আর্শি বলেছিল, “ঠাম্মা কে নিয়ে এতটা বাড়াবাড়ি তার পছন্দ নয়। আশির ওপরে বয়স যার সে তো মাঝেমধ্যে অসুস্থ তো হবেই।” আলেখ্য খুব দুঃখ পেয়ে ছিল। মনে মনে ভেবেছিল দোষ টা হয়তো তারই। সেই হয়তো তার জীবনে ঠাম্মার ভূমিকা ঠিক মতো বোঝাতে পারেনি আর্শি কে। যতটা সম্ভব তাড়াতাড়ি বাইক চালিয়ে অফিস থেকে বাড়ি আসে আলেখ্য। এসে দেখল ঠাম্মার দুই জ্বর প্রায় অচেতন। কমলা দি জানালো সারাদিন কিছু ই খেতে পারেন নি। আলেখ্য টেনশনে তাকে কে ধমক দিয়ে বলল, “আমাকে ফোন করনি কেন?আমি তাহলে চলে এসে ডাক্তার কল করতাম। ”

কমলা দি বলল, ” বৌমা তো অনেকক্ষণ ফিরেছে তোমাকে ফোন করেনি?” আলেখ্য অবাক হয়ে যায়। আর্শি একবারও তাকে ফোন করল না।ওতো নিজেও ডাক্তার ডাকতে পারত। ডাক্তার কে ফোন করে আলেখ্য নিজের ঘরে যায়। গিয়ে দেখে আর্শি বিছানায় শুয়ে বন্ধু দের সাথে ফোনে কথা বলতে ব্যস্ত। আলেখ্যর মতো ঠান্ডা মাথার ছেলের ও মাথায় রক্ত উঠে যায়। চিৎকার করে বলে ওঠে, “তোমার লজ্জা করছে না আর্শি।একজন বৃদ্ধ মানুষ জ্বরে বেহুঁশ আর তুমি সে ঘরে না থেকে এখানে ফোনে কথা বলছো।” চমকে উঠে ফোন টা হাতে নিয়ে আর্শি বলল, “জাস্ট আ মিনিট। দেখছ তো ফোনে কথা বলছি।” “না তুমি বলবে না। আগে আমার কথার উত্তর দেবে।” ঝাঁঝিয়ে ওঠে আলেখ্য।

ফোন টা কেটে দিয়ে আর্শি বলল, “কি উত্তর দেবো। বৌভাতের দিন থেকে আজ অবধি তোমার ঠাম্মার কিছু না কিছু লেগে আছে। বাড়ি ঢুকলেই ডেটল ফিনাইলের গন্ধে গা গুলিয়ে ওঠে আর নিত্য অসুখের আলোচনা। কোনদিন অফিস থেকে ফিরে তুমি আমার সাথে কথা বলেছ। পুরো সন্ধ্যা ঠাম্মার ঘরে থাকো। আর কত সহ্য করবো বলতে পারো? বিয়ের পর এই ছমাসে একটা রাতের জন্য কোথাও বেড়াতে যাইনি। আমাদের ও একটা জীবন আছে আলেখ্য। সত্যিই এসব কিছু মেনে নেওয়া আমার পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছে না। এমন চলতে থাকলে আমায় অন্য কিছু ভাবতে হবে। ”

আর্শির কথা শুনে নিজেকে কিছু টা সামলে নেয় আলেখ্য। ভাবল সত্যিই তো ওর কথায় ভুল কিছু নেই। কিন্তু সে যে যে স্বার্থপরের মতো বাঁচতে পারবে না। কি করবে সে? সে ও কি তার বাবার মতো শুধু নিজের কথা ভাববে। ডাক্তার এসে বরুনা দেবী কে পরীক্ষা করে গম্ভীর গলায় আলেখ্য কে বললেন, “খুব একটা ভালো বুঝছি না। পালস্ রেট একদম কম। একে তো উনি নার্ভের পেশেন্ট তার ওপর খাওয়া দাওয়া না করে একেবারে দুর্বল হয়ে গেছেন। আমার মনে হয় উনি নিজেই আর সুস্থ হতে চাইছেন না। হসপিটালে দিতে পারেন। তবে ওনার নিজের ইচ্ছে টা খুব দরকার। জ্বর টা ভাইরাল মেডিসিন দিয়ে দিয়েছি কমে যাবে।”

আলেখ্যর পাশে দাঁড়িয়ে ডক্টরের সব কথা আর্শি শুনল। আলেখ্য সাথে সাথে মেডিসিন কিনে এনে কমলা দি কে বুঝিয়ে দিল। রাত বেশ অনেক। গভীর দুশ্চিন্তার ছাপ আলেখ্যর চোখে মুখে। কোনমতে একটু খেয়ে উঠে পড়ল। খাওয়া পর সে দক্ষিণের বারান্দায় আসে। ঠাম্মা কে ছাড়া এই বাড়ি টা কেমন হবে সে ভাবতে থাকে। এমন সময় আলেখ্যর গা ঘেঁষে এসে দাঁড়ায় আর্শি। তরপর আলেখ্যর হাত টা নিজের হাতে তুলে নিয়ে খুব মৃদু স্বরে আর্শি বলল, “সরি আলেখ্য। আমাকে ভুল বুঝোনা। তোমার মনের অবস্থা বুঝতে পারছি। কি করবে বলো ঠাম্মার তো বয়স হয়েছে। কিছু তো হতে পারে।”

আলেখ্য সজাগ হয়ে ওঠে। বিরক্তির সাথে বলল, “তাহলে কি করতে বলো ট্রিটমেন্ট বন্ধ করে দেবো।” “উফ্ তাই বললাম নাকি। বলছি হসপিটালে দেবার কি দরকার আছে। তাছাড়া তোমার বাবা কে একবার ফোন করো। উনি তো রিটায়ার্ড। অনেক সময় এখন।” “না। আমি বাবা কে জানাবো না। ঠাম্মার সব দায়িত্ব শুধু আমার একার। কালই একটা ভালো হসপিটালে আমি ঠাম্মা কে অ্যাডমিট করাবো। ঠাম্মা কে সুস্থ করতেই হবে।” বেশ জোর গলায় ঝাঁঝিয়ে উঠে আর্শি বলল,

“সব ব্যাপারে তোমার এই বাড়াবাড়ি টা আমার ভালো লাগেনা। একটা আশি বছরের বৃদ্ধার পেছনে শুধু শুধু টাকা নষ্ট করার কোন মানে হয় না। বাড়ি তে খাচ্ছে না বলে হসপিটালে পাঠাতে হবে।” “বেশ করবো।একশো বার করবো। আমার টাকা আমি খরচ করবো। তুমি না বলার কে? এখানে ভালো না লাগলে চলে যেতে পারো।” পাগলের মতো দিক্বিদিক শূন্য হয়ে চিৎকার করে কথা গুলো বলল আলেখ্য। আর্শি ও ঝরঝর করে কাঁদতে কাঁদতে বলতে থাকে, “হ্যাঁ হ্যাঁ তাই যাব। তোমার মত লোকের বিয়ে করাটাই উচিত নয়। ঠাম্মা কে নিয়ে থাকো। আমি কাল সকালেই চলে যাব। প্রান থাকতে এ বাড়ি তে আসবো না।”

“এত রাতে কি শুরু করেছ তোমরা। চুপ করো। মাসিমা জেগে আছেন। ও ঘর থেকে সব শোনা যাচ্ছে।” কমলা দি বেশ বিরক্ত হয়ে চাপা গলায় কথা গুলো বলে গেল। আলেখ্য আর্শি দুজনেই অত্যন্ত লজ্জিত হয়ে চুপচাপ নিজের ঘরে চলে যায়। পরদিন সকালে ঠাম্মার কাছে গিয়ে আলেখ্য দেখল আজ তাঁকে একটু সুস্থ লাগছে। কমলা দি বলল, “জানো আজ মাসিমা নিজে সকালে চা চেয়েছে। জলখাবার ও খাবে বলেছে।’ আলেখ্যর বেশ অবাক লাগে ঠাম্মার এই পরিবর্তন দেখে। ঠাম্মার কাছে গিয়ে বসে আলেখ্য জিজ্ঞেস করে,

“কেমন আছো ঠাম্মা। জ্বর তো কমেছে।”
“আজ অনেক ভালো আছি। ”
“একটু খাওয়া দাওয়া করতে হবে। না হলে সুস্থ হবে না।”
“এই তো চা খেলাম। এবার জলখাবার খাবো। তুই চিন্তা করিস না। নাতবৌ কোথায়? তুই অফিসে যাবি না?”
“ভেবেছিলাম যাব না। কিন্তু এখন তোমাকে সুস্থ দেখে ভাবছি যাব।”
“তাহলে আর দেরি না করে তৈরী হয়ে নে। যাবার সময় দুজনে মুখটা দেখিয়ে যাস। ”

ঠাম্মা কে সুস্থ দেখে আলেখ্যর অনেক টা বোঝা যেন নেমে গেল। মনে মনে ঠিক করল দুদিন দেখা যাক্ তারপর দরকার হলে হসপিটালের কথা ভাববে। কাল রাতে ডাক্তার সেন এর কথা গুলো শুনে ভয়ে দুশ্চিন্তায় সে যেন পাগল হয়ে গিয়েছিল। আর্শির সাথে বড্ড খারাপ ব্যবহার করে ফেলেছে। আর্শির সাথে তাকে ক্ষমা চাইতেই হবে। যাইহোক আর্শি কে কিছু টা বুঝিয়ে তার বাপের বাড়ি যাওয়া টা সেদিনের মতো আটকাতে পেরেছে আলেখ্য। মনে ঠিক করেছে আর্শি কে নিয়ে অফিস থেকে বেরিয়ে রেস্তরাঁয় বসবে। বিকেল পাঁচটা নাগাদ আলেখ্যর ফোন টা বেজে উঠলো। সে দেখল বাবার ফোন। খুব আবাক হল। কদাচিত্ বাবা তাকে ফোন করে। ব্যস্ত হয়ে আলেখ্য ফোন টা ধরলো।

“কি হয়েছে বলো।”
“একটা কথা তোকে না বলে পারছি না। যদিও মা তোকে বলতে বারবার নিষেধ করেছিল।” চমকে উঠে আলেখ্য জিজ্ঞেস করলো,
“তোমাকে ঠাম্মা ফোন করেছিল?”
“হ্যাঁ ওই কমলার ফোন থেকে।”
“কি বলল?”
“মা আমার বাড়ি তে আমার কাছে আসতে চায়। ”
“মানে?”
“হ্যাঁ রে প্রথম টা আমিও বিশ্বাস করতে পারিনি।

এতগুলো বছরে মা তো তোকে ছেড়ে কখনো আমার কাছে আসতে চায়নি। আজ বলল জীবনের শেষ দিনগুলো নাকি আমার সাথে কাটাতে চায় । আমার জন্য নাকি মন কেমন করছে। তাছাড়া আমি এখন বাড়ি তে। কিন্তু শোন আমি বলি কি মায়ের সিদ্ধান্ত একেবারে সঠিক। তোরা নতুন সংসার করছিস। ব্যস্ত জীবন। মা এখন থেকে আমার কাছেই থাকুক।তোর যখনই মনে হবে চলে আসবি।”

বাবার কথা শুনে আলেখ্য কথা হারিয়ে ফেলে। এখনো কথাগুলো বিশ্বাস করতে পারছেনা। ঠাম্মা পারবে তাকে ছেড়ে থাকতে। তাহলে কি কাল রাতের কথা গুলো শুনে অভিমানে চলে যেতে চাইছে।বাবা কে কি বলেছে কালকের কথা? ভয়ে ভয়ে আলেখ্য জিজ্ঞেস করলো, “আর কি বলল ঠাম্মা। ” “আর কিছু না।শুধু বলল তোকে বলতে আমি যেন মা কে নিয়ে যেতে চেয়েছি। তুই মন খারাপ করিস না। ঠাম্মা তোকে সবসময়েই সুখী দেখতে চেয়েছে। তাই হয়তো। আচ্ছা এখন রাখি। কাল দেখা হবে।” পড়ন্ত বিকেলের ম্লান আলোয় আকাশের দিকে তাকিয়ে আলেখ্যর বুকের ভেতর টা টনটন করে ওঠে। কেমন একটা মন খারাপ দানা বাঁধতে থাকে।

গল্পের বিষয়:
গল্প

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত