প্রেমের শিখা

প্রেমের শিখা

আজও ঘাট থেকে ওঠার সময় ছেলেটাকে দেখতে পেল ভদ্রা! পশ্চিমের মেয়েরা অনেক স্বাধীন,পর্দা তাদের স্বাভাবিক জীবনে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি কখনো,তবু সিক্ত যুবতী তনুদেহের বেপরোয়া ভাবটা অচেনা পুরুষের সামনে কেমন সংকুচিত হয়ে পড়ে! একদিন দৈবক্রমে হলে না হয় মেনে নেওয়া যায় তাই বলে প্রতিদিন? এত ভোরে পথে কেউ থাকে না সচরাচর,বণিকদের যাতায়াতের পথ ও এটা নয়,তবে এই ভিনদেশী যুবক রোজ কেন এসময় পথের ধারে বসে থাকে!এই নিয়ে পরপর তিন দিন! অপরিচিত যুবকটির দিকে তীব্র দৃষ্টি হেনে ভদ্রা পাশ কাটিয়ে এগিয়ে গেল,একটু বাদে কি মনে হতে পেছন ফিরে দেখে সেই ছেলেটি পিছু পিছু আসছে,তাঁকে ঘুরে দাঁড়াতে দেখে সে ও দাঁড়িয়ে পড়ল! ষোড়শী ভদ্রা দ্রুত পায়ে এগিয়ে আসে,

–দেখেশুনে তো ভদ্রসন্তানই মনে হয়,এ কি হীন প্রবৃত্তি? ছেলেটা এই অতর্কিত আক্রমণের জন্য একেবারেই প্রস্তুত ছিল না,তাদের বাংলাদেশে এই বয়েসে কুমারী কন্যা দেখাই যায় না,আর দেখা গেলে ও তারা পুঁটুলির মত লজ্জাশীলা,ঘোমটার অন্তরালে নির্বাক! ছেলেটি নিজেকে সামলে নিয়ে উত্তর দিল,

— আমি পন্ডিত বিষ্ণুশাস্ত্রীর গৃহের সন্ধান করায় এক বৃদ্ধ ব্যক্তি বলেন, প্রত্যহ অতি ভোরে অধ্যাপকের কন্যা নর্মদা স্নান করে ফেরেন,তাঁকে অনুসরণ করলেই বিষ্ণুশাস্ত্রী র গৃহের সন্ধান মিলবে! তাই এপথে বসে আছি কদিন,আপনাকে দু দিন দেখে মনে হযেছে আপনি ই তাঁর কন্যা তাই ভদ্রা অপ্রস্তুত লজ্জিত হলেও মুখে তা প্রকাশ করে না,সে কথা পূর্বেই বলা উচিত ছিল না কি? যাক সে কথা,আসুন,আপনার অনুমান সঠিক,

–আমি ই শাস্ত্রী কন্যা।কিন্তু তাঁর কাছে আপনার আগমনের কারণ জানতে পারি কি? যুবক এতক্ষণে একটু সহজ হয়েছে,ভদ্রার অনুগামী হয়েই সে উত্তর দেয়,
–সঙ্গীতে শাস্ত্রীমহাশয়ের খ্যাতির কথা সর্বত্র বিদিত,সেই সঙ্গীত শিক্ষার জন্যই আমি এত দূরে ছুটে এসেছি ।

বিষ্ণুশাস্ত্রীর সঙ্গীতের খ্যাতি সত্যিই দূর দূরান্তর অবধি বিস্তৃত কিন্তু বর্তমানে বার্ধক্য তাঁর কণ্ঠে ক্লান্তি আর অবসাদ এনে দেওয়ায় ছাত্রসংখ্যা ক্রমে ই কমে আসছে। আগে নিয়মিত ধনিক সম্প্রদায়ের অনেক সন্তানই নিয়মিত তাঁর কাছে সঙ্গীত শিক্ষা করত,তাই সংসারে লক্ষ্মী সরস্বতী দুই বোনের আশীর্বাদ ই নিয়মিত বর্ষিত হত তাঁর ওপরে। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলেছে।সংসার চালানো তাই কঠিন হয়ে পড়ছে । বহুদিন পর সুদূর বঙ্গদেশ থেকে এই তরুণ ছুটে এসেছে শুনে বিষ্ণু অত্যন্ত খুশী হলেন।

পরদিন ভোরে নর্মদার জলে স্নান করে আসার পর শাস্ত্রী মশাই ছেলেটিকে শিষ্য হিসেবে গ্রহণ করলেন আনুষ্ঠানিক ভাবে।ছেলেটি বাড়ি থেকে পালিয়ে এসেছে,সেরকম গুরু দক্ষিণা দেবার সামর্থ্য তার নেই,তবুএকটি স্বর্ণমুদ্রা সে গুরুর পায়ের কাছে রাখল। পরদিন থেকেই এই যুবকের শিক্ষা শুরু হল।মেয়েটিও মাঝে মাঝে এসে যোগ দিত,কিন্তু সে কচ্চিৎ কদাচিৎ।নারী পুরুষের একত্র শিক্ষা সেই দেশেও তখন নিন্দনীয় ছিল । অধ্যাপকের সামনে এই দুই তরুণ তরুণী কেউ কারুর সাথে কথা না বললেও আড়ালে তাদের মধ্যে যে কি ঘটছিল তা পত্নীবিহীন অধ্যাপকের অজানাই রয়ে গেল! ইতিমধ্যে কন্যার বিবাহের জন্য গৃহে ঘটকের আনাগোনা ও অব্যাহত।কিন্তু কোনো সম্বন্ধই পিতা পুত্রীর মনোমত হয় না।

কন্যার রূপ গুণ সম্বন্ধে পিতার উচ্চ ধারণাই পাত্র নির্বাচনের বিলম্বের কারণ! তবে পুত্রীর মনের ইচ্ছা সবার অজানা।অর্ধ বর্ষ অতিক্রান্ত,এর মধ্যে নর্মদা দিযে অনেক জল বয়ে গেছে।বাঙালি যুবক শংকরের শিক্ষা প্রায় শেষ,সে ও এবার বিদায় নেবে,শাস্ত্রীজি খুব তৃপ্ত, এত দিনে তিনি মনোমত শিষ্য পেয়েছেন,যে তার অবর্তমানে তাঁর ঘরানা বজায় রাখতে পারবে,যুবকের গলায় মা সরস্বতীর আশীর্বাদ আছে। কিন্তু ভদ্রার মনের আকাশ মেঘলা,সারাদিন সে আনমনা।

প্রত্যহ সন্ধ্যায় সে শিউজীর মন্দির নিজে হাতে মার্জনা করে,নর্মদা থেকে ঘড়া ঘড়া জল তুলে নিয়ে মন্দির প্রাঙ্গণে সারাদিন ধরে আগত অগণিত ভক্তের পায়ের ছাপ সে নিজে ধুয়ে পরিষ্কার করে।পূজারী জী কে পূজার জোগাড় করে দিয়ে বসে পাথরের চাতালে,চিবুকে হাত রেখে কল স্বরে প্রবাহিত নর্মদা মাযীর দিকে তাকিয়ে বসে থাকে,পূজা শেষে ঘরে ফেরে।বিষ্ণুর ঘর মন্দির থেকে অনেকটা উপরে,পাহাড়ের সোপান বেয়ে উঠতে উঠতে কি যেন ভাবে।

শংকর চলে যাবার দুদিন আগে ঘড়া ভরে নদী থেকে উঠতে গিয়ে পাথরে হোঁচট খেয়ে পড়ে ভদ্রা,ঘড়া জলে ভেসে যাবার আগেই ত্বরিত গতিতে কে যেন সেটা ধরে ফেলে।ভদ্রা যন্ত্রণাক্লিষ্ট চোখে চেয়ে দেখে উদ্বেগে ভরা প্রিয় মুখ,শঙ্কর! বলিষ্ঠ বাহু তে পাখির মত হাল্কা শরীর টা তুলে নেয় সে,ভদ্রা সমর্পণী দুই হাতে আঁকড়ে ধরে শংকর কে।
তার বাড়ি যাওয়া স্থগিত রেখে বিষ্ণুর অচল সংসারের চাকা সচলের দায়িত্ব তুলে নেয় নিজের কাঁধে।ভদ্রার জন্য কবিরজের গৃহ থেকে ঔষধ আনা,লেপ লাগানো,মন্দির পরিষ্কার সব ই সে হাসি মুখে করতে থাকে,রান্না তাকে কিছুতেই ভদ্রা করতে দেয় না,সে সব জোগাড় করে দেয়।ভদ্রা ই হাসিমুখে করে। পায়ের ব্যথা ভদ্রাকে যেন বাড়তি জীবন দিয়েছে।বৃদ্ধ অধ্যাপকের চোখ কিছুই এড়ায় না।কিন্তু এ যে হবার নয়।ভিনদেশি ,নীচু জাতের ছেলের সাথে কন্যার বিবাহ দিলে তিনি জাতি চ্যুত হবেন! তাই কন্যা একটু সুস্থ হলেই তিনি সংকরকে গৃহে ফিরে যেতে আদেশ দেন। ভদ্রা বাষ্পাকুল চোখে বিদায় দেয় প্রিয়তম কে।

এক সন্ধ্যায় মন্দির থেকে ফেরার সময় ভদ্রা এক অশ্বারোহী র সামনে পড়ে যায়।দ্রুত পদে ঘরে এসে ঢোকে সে।
পরদিন ই দূত আসে বিষ্ণুশাস্ত্রীর কুটিরে।রাজ অমাত্য স্বয়ং,রাজার কাছ থেকে এসেছেন।বিষ্ণু সন্ত্রস্ত ভীত হয়ে পড়লেন।তাঁকে আশ্বস্ত করেন বৃদ্ধ অমাত্য।রাজার তিন মহীষী,কিন্তু কেউ ই পুত্র সন্তান দিতে পারেন নি,জ্যোতিষী গণনা করে বলেছেন,সপ্তদশ বর্ষীয়া সুলক্ষণা কন্যার সাথে বিবাহ হলে পুত্র যোগ আছে ।এই মেয়েটির সম্বন্ধে তাঁরা খোঁজ খবর নিয়েই এসেছেন।শাস্ত্রী র মহা সৌভাগ্য যে তিনি দেশের রাজার শ্বশুর হতে চলেছেন! এই আকস্মিক ভাগ্যোদয়ে বৃদ্ধের মুখ শুকিয়ে গেল,তাঁর এই ফুলের মত মেয়ে সপত্নী সহ প্রৌঢ় রাজার সংসার করবে! কিন্তু এ তো রাজ আজ্ঞা,অমান্যের সাধ্য নেই। শুধু কম্পিত কণ্ঠে বৃদ্ধ বলেন,আমার কন্যা তো সপ্তদশ বর্ষীয়া নয়।

–জানি! অমাত্য ধীর গম্ভীর স্বরে বলেন।সেই জন্য ই বিবাহ ছয় মাস পরে,এই ছয় মাস কন্যা রাজ গৃহে রাজ পরিবারের অন্য বধূ দের সাথে থেকে রাজ পরিবারের উপযুক্ত হয়ে ওঠার পাঠ নেবে। পিতা পুত্রী সে রাতে বিনিদ্র রইলেন। সপ্তাহান্তে রাজপরিবার থেকে তাঞ্জাম এল,বাদ্যি বাজিয়ে তারা ভাবী বধূ কে নিয়ে যাবার সময় অশক্ত পিতার হাতে এক থলি স্বর্ণমুদ্রা দিয়ে গেল।এই নাকি তাদের রেওয়াজ।বৃদ্ধ কম্পিত হাতে থলি নিয়ে শূন্য দৃষ্টিতে অপসৃয়মান পাল্কির দিকে চেয়ে রইলেন। পরদিন ভোরে স্বর্ণমুদ্রা শিউজীর মন্দিরের পুরোহিতের হাতে তুলে দিয়ে বৃদ্ধ সে ই যে দেশান্তরী হলেন,আর কখনো কেউ তাঁকে সেই দেশে দেখেনি।

ভদ্রার মনের অবস্থা অবর্ণনীয়।কয়েকদিনের মধ্যে জীবনটা তার সম্পূর্ণ বদলে গেল ।শংকরকে হারানোর বেদনা কে ছাপিয়ে গেছে পিতার সাথে বিচ্ছেদ বেদনায়। প্রতিদিন উপযুক্ত রাজ বধূ হয়ে ওঠার পাঠ চলে।এই কি সে চেয়েছিল?এ তো সোনার খাঁচায় বন্দী পাখির জীবন। রাজ মহিষী দের মধ্যে বড় ও ছোট জন ভদ্রা কে ঘৃণা র দৃষ্টিতে দেখেন।তাঁদের কারুর কাছেই ভদ্রা সমাদৃত হল না।ব্যতিক্রম দ্বিতীয়া রাণী ।তিনি বেশ স্নেহ ভরে ভদ্রা কে আপন করে নিলেন। ঘটনা চক্রে ইনি বেশ স্থুলাঙ্গী । সারাদিন শুয়ে বসে ই তাঁর দিন কাটে,তিনি আবার অতি মাত্রা ভোজন রসিকা।রাজা আবার বিয়ে করছেন শুনেও তাঁর কোন প্রতিক্রিয়া নেই,সুখাদ্য আর আরাম এই তাঁর জীবনের মোক্ষ। ভদ্রা অপর দুই রাণীর থেকে এর মহলেই স্বচ্ছন্দ বোধ করে বেশি। ভাবী সপত্নী র প্রতি তাঁর কোনো অসূয়া নেই।বরং স্নেহের ভাব ই বেশি।

একদিন অপরাহ্নে তাঁর মহলে গিয়ে ভদ্রা দেখে সদা প্রফুল্ল রাণীর মুখ অন্ধকারাচ্ছন্ন।রাজ নির্দেশে রাণীর গুরু ভোজন বন্ধ।তাঁকে নাকি এক মাস ধরে কি এক ব্রত পালন করতে হবে। এছাড়াও বিশাল প্রাসাদের দক্ষিন দিকের চওড়া পাথরের সিঁড়ির ধাপে ধাপে নাকি রৌপ্য মুদ্রা রাখা থাকবে,প্রত্যহ রাণী স্নান সেরে প্রতি ধাপ থেকে একটি করে মুদ্রা তুলবেন আর দাসী র হাতের থলি তে রাখবেন।এই ভাবে প্রতিদিন শত মুদ্রা সংগৃহীত হবে।এক মাস পরে ব্রতের উদযাপনের দিন দরিদ্র দের মধ্যে সেই অর্থ বিতরণ করা হবে। উপবাস ও শারীরিক শ্রমের আশংকায় রাণী কাতর।

বুদ্ধিমতী ভদ্রা বুঝল পৃথুলা রাণী কে কৌশলে তন্বী করার জন্য ই রাজা এই ব্যবস্থা নিয়েছেন। মন তার বিদ্রোহী হয়ে ওঠে।রাজা নিজে বৃদ্ধ হলেও রাণীরা হবেন যুবতী তন্বী সুন্দরী! যদিও মুখ খোলার কোন অধিকারই নারীর নেই।রাজ বধূ রা তো আরো পরাধীন।প্রতিবাদ করলে রাজদণ্ড অনিবার্য। এর ই মধ্যে দেশের ভাগ্যাকাশে ও মেঘ দেখা দিল।বিধর্মী শত্রু দেশের সীমান্তে সৈন্য সাজাচ্ছে।যুদ্ধ অনিবার্য,বিবাহের কথা আর কারুর মাথায় রইল না।ভদ্রা স্বস্তি পেল। তার দিন কাটে পূজা পাঠ,নর্মদা দর্শন করে। এদিকে রাজ্যের খবর ভাল নয়।শত্রু আরো এগিয়ে এসেছে,তাদের প্রতিহত করতে সেনা পাঠানো হল,যুদ্ধ শুরু হয়ে গেল।দিনের শেষে খবর এল শত্রু অনেক শক্তিশালী ।হতাহতের সংখ্যা এ পক্ষে অনেক। পরদিন রাজা নিজে যুদ্ধে গেলেন।প্রাসাদে কেউ স্বস্তিতে নেই।ভদ্রার মনে যে কি চলছে তা একমাত্র শিউজী আর নর্মদা মায়ী জানেন।

সাত দিন ভয়ংকর যুদ্ধের পর দুসংবাদ টা এল,রাজা নিহত।শত্রু রাজ্যে প্রবিষ্ট। যে যেখানে পারছে প্রাণ নিয়ে পালাচ্ছে।প্রাসাদে কান্নার রোল । দুইমহিষী স্বামীর চিতায় প্রাণ দেবেন মনস্থ করেছেন। রাজ অমাত্য সবচেয়ে ছোট রাণী আর রাজকন্যাদের নিয়ে দেশ ছেড়ে যাবার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।কনিষ্ঠ মহিষী কিছু মাস আগে মা হয়েছেন,তিনি প্রাণ দিলে কন্যা টিও বাঁচবে না। ভদ্রা জানে না সে কি করবে,তার না আছে স্বামী,না পিতা,না কোন স্বজন। রাজ মাতার মতে সে অলক্ষণা,তার ই জন্য এই দুর্বিপাক।অবিলম্বে সে যেন প্রাসাদ ছেড়ে চলে যায়। রাতের অন্ধকারে পথে নামল ভদ্রা।তার কিসের চিন্তা? কেউ না থাক,মা নর্মদা আছেন,তিনিই অভাগী কে ঠাঁই দেবেন তাঁর শীতল কোলে।

রাজ প্রাসাদের বাঁধানো সিঁড়ি নেমে গেছে নীচে নর্মদার বুকে।ঘোমটায় মুখ ঢেকে সে সিঁড়ি তে পা রাখল।অন্যদিন এই সময় ঘাটের দুপাশে বিকিকিনি চলে।মনোহারী চুড়ি,প্রসাধনী,পূজার সামগ্রী,বাসন।লোকজন গমগম করে।আজ সব চুপচাপ। কোন দোকানী তার পসরা নিয়ে বসেনি।রাজ্য এখন বিশৃঙ্খল। ভদ্রা নিশ্চিন্তে জলের কাছে গিয়ে দাঁড়ায়।কেউ জানবে না তার পরিণতি।বৃদ্ধ পিতার মুখটা মনে পড়ে,আরো একটা মুখ উঁকি দেয় মনের আয়নায়।পর জন্মে তাদের দেখার আশা নিয়ে জলে ঝাঁপ দেয় ভদ্রা। অতল জলে তলিয়ে যেতে যেতে সে জ্ঞান হারায়। জ্ঞান ফেরে এক অজানা কুটিরের অজানা শয্যায়। তার মুখের ওপর এ কার মুখ? শংকর!

ভদ্রাকে ছেড়ে শংকর দেশে ফিরতে পারে নি।পথে বিদেশী শত্রু র হাতে ধরা পড়ে ।তাদের ভৃত্যের কাজে তাকে বহাল হতে হয় ।মাসাধিক কাল সে এই কাজ ই করছে ।কাল কোন রকমে ওদের নজর এড়িয়ে সে নগরে প্রবেশ করেছিল এখানে এসে সে ভদ্রার ভাগ্য বিপর্যয়ের কথা শুনেছে ,ভদ্রা নাকি অলক্ষণা ।রাজা তার ই জন্য অকালে প্রাণ হারালেন।এ কথা শুনে আর পালাতে পারে নি সে।অপেক্ষা করেছে তার প্রিয়ার পরিণতি জানার জন্য।

এক সাধুর কুটিরে সে আশ্রয় পেয়েছে,তিনিও বাঙালী।আজ সন্ধ্যায় নর্মদা তীরে গিয়েছিল মনের অশান্তি দূর করতে ! ভাগ্যিস গিয়েছিল! সে রাতেই সাধু মা নর্মদা কে সাক্ষী রেখে ওদের চার হাত এক করলেন।গভীর রাতে একটা ছোট নৌকা সকলের অগোচরে পাড়ি দিলে পূব দেশের দিকে,তাতে তিন সওয়ারী। ভদ্রা নতুন করে এক পিতা পেল,স্বামীকে তো পেয়েইছে।এখন আর সে কোনকিছুকেই ভয় পায় না।

গল্পের বিষয়:
গল্প

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত