অবন্তী

অবন্তী

অচেনা ডাকে থমকে দাঁড়ায় মেয়েটি। শরীরে লেপ্টে আছে ইষৎ গোলাপী শাড়ী। বেনী করেনি, ঘাড়ের কার্নিশ ছুঁয়ে খোলা চুল নেমে গেছে ফর্সা পিঠ অবধি; ম্যাচিং ব্লাউজের নকশার বদৌলতে যতটা দৃষ্টিগোচর হয়। বসন্তের দুপুর। প্রকৃতিতে মিহি রোদের ঝাপটা। হঠাৎ হঠাৎ বইছে মন কেমন করা উতলা হাওয়া। সে হাওয়ায় উড়ছে অবন্তীর চুলের দু-একটা ডগা, ব্লকের কারুকাজ করা শাড়ীর আঁচল! একহাতে শাড়ী, অন্যহাতে কানের পাশের ঝুলন্ত চুল সরিয়ে ঘুরে তাকায় অবন্তী। বিশ্ববিদ্যালয় চত্ত্বরের সারি সারি গাছের ফোঁকর গলে আসা আলোয় মেয়েটার মুখ বড্ড মায়াবী লাগে। মনে হয়, খুব নিখুঁত কোন দৃশ্যকল্প। এমন অসাধারণ দৃশ্যকল্পমাখা দুপুর কী নয়নের জীবনে আগে এসেছে কখনও!

নয়নকে দেখে অবন্তী কিছুটা বিস্মিত হয়।নীল টিপের কপালে অবশ্য ভাঁজ পড়ে না। ছেলেটাকে সে চেনে। ওদের সঙ্গেই পড়ে। প্রথমদিকে ক্লাসে নিয়ম করে দেখলেও শেষ দু’বছর ওকে আর পরীক্ষার হল ছাড়া কোথাও দেখেনি অবন্তী। কোথাও না বললে অবশ্য ভুল হবে, একসন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের সীমানা প্রচীরে বসে আড্ডা দিতে দেখেছিল। ওই সন্ধ্যাটার কথা অবন্তীর বিশেষ মনে আছে কারণ সেদিন ওর জন্মদিন ছিল। বন্ধুদের সঙ্গে দিনময় ঘুরে-ফিরে, কেক কেটে মনে রাখবার মতো একটা দিনই ওর কেটেছিল। সেই সন্ধ্যায় হঠাৎ নয়নকে দেখে অবন্তীর বার কয়েক মনে হয়েছিল, ‘ও কি জানে আজ আমার জন্মদিন!’

চারটা বছর পার করে দিলেও কথা বলার মতো কোন মুহুর্ত কিংবা উপলক্ষ্য তৈরি হয়নি ওদের। শামুকের মতো ভেতরে গুটিয়ে থাকা স্বভাব অবন্তীর। কিন্তু নয়ন তো সপ্রতিভ! একেবারে আড্ডা মাতিয়ে দেয়া ছেলে। হলের বান্ধবীদের কাছে শুনেছে, ভালো গিটার বাজায়। টুকটাক কবিতা-টবিতাও লেখে। কই নয়নও তো আগ বাড়িয়ে কথা বলতে এলোনা কখনও! কালেভদ্রে ক্লাসে এলে সবার সঙ্গে হাই ফাইভ, কোলকুলি, মাথায় এক-আধটা টোকা দিলেও ঠিকই পাশকাটিয়ে গেছে অবন্তীকে। এমনভাবে, যেন ওর অব্দি এসে শেষ হয়ে গেছে একটা পাহাড়ী রাস্তা। নয়ন যে ইচ্ছেকৃতই এমনটা করতো, বুঝতে পারতো অবন্তী। কিন্তু কেন? এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে অবন্তীকে খুব বেশি সময় দেয়নি নয়ন। ক্লাস শেষেই হওয়া। হাওয়া তো হাওয়া, দু-চার মাসে আর কোন খোঁজ নেই।

ক্লাস টেস্ট, অ্যাসাইনমেন্ট আর ফাইনালের জন্য নোট তৈরি করার চাপে অবন্তীরও ওসব ভাবনার গহীণে যাওয়ার আর সুযোগ হয়নি। অবন্তীর বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে নয়ন তাই সহপাঠী কিংবা বন্ধু নয়, দূরাগত স্মৃতির এক ‘ব্যাচমেট’ হয়েই থেকে গেল। সেই ছেলেই যখন কথা বলতে নিজ থেকে ডাক পাঠালো, বিস্মিত না হয়ে উপায় থাকে অবন্তীর! কেমন অন্যরকম করেই যেন ডাকলো নয়ন। কেমন দরদমাখা। নয়নের কন্ঠটা কি একটু কেঁপে উঠেছিল। নাকি অচেনা কন্ঠ তাই ওমন ঠেকলো অবন্তীর কাছে! হতে পারে। ঠিক ধরতে পারল না। থমকে দাঁড়িয়ে পড়লো।
ধীর পায়ে অবন্তীর কাছে হেটে এলো নয়ন। তারপর খুব স্বাভাবিক কন্ঠে বললো, যেন কতদিনের চেনা,

-হলে যাচ্ছো বোধহয়?
-হ্যা।
-আমিও নীলক্ষেতের দিকেই যাবো। তোমার সঙ্গে এলে অসুবিধা হবে খুব?
-অসুবিধা হবে কেন? চলো।

পাশাপাশি হাটছে দুজন। নয়ন আর অবন্তী। নয়নের গায়ে নীল পাঞ্জাবি। বড় বড় চুল আর কয়েক দিনের না কাটা দাঁড়ি। ছেলেটাকে মানিয়েছে খুব। আড় চোখে একবার নয়নকে দেখে নেয় অবন্তী। ছেলেটা কী কিছু বলতে চায়? অবন্তীর মনের ভাবনা বুঝে কিংবা না বুঝেই শুরু করে নয়ন-

-বসন্তের এই দুপুরগুলো কেমন নি:সঙ্গ তাই না!
-হুম, উদাস করা একটা ব্যাপারও আছে।
-ঠিক ধরেছো। এমন তুমুল নির্জনতায় মন কেমন করে। কয়েক মুহুর্ত চুপ থেকে ফের বলতে শুরু করে নয়ন,

-দেখতে দেখতে কেমন করে যেন চারটা বছর কেটে গেল। অনার্সের শেষ পরীক্ষাটাও হয়ে গেল আজ। অথচ মনে হয় এই তো সেদিন, যেন হুড়মুড় করে একগাদা ছেলেমেয়ে ঢুকে পড়েছে ক্লাসে!
-তুমি তো ক্লাসই করলে না। শেষ বেলায় এসে খারাপ লাগছে?
-তা লাগছে বলতে পারো। মনে হচ্ছে আবার শুরু করি।
-তা কিন্তু করতেই পারো। শুনলাম মাস্টার্সের ক্লাস শুরু হবে ১৫ দিনের মধ্যেই। খুব একটা গ্যাপ নেই এবার। ফের গোড়া থেকে শুরুর একটা সুযোগ কিন্তু পাচ্ছো। এবার আর ফাঁকিবাজি কোরো না!

অবন্তীর শেষ বাক্যটায় আপনজনের অধিকারমাখা একটা আবেগ ঝরে পড়ে। ভালো লাগে নয়নের। এতোবেশি ভালোলাগে যে, চার বছর ধরে গোলাপের পাপড়ীর মতো একটা একটা করে গুছিয়ে রাখা কথামালা ওলট-পালট হতে শুরু করে। বুকের ভেতর অনবরত ঘুরপাক খাচ্ছে কিন্তু মুখে আসছে না একটা কথাও। অস্থির লাগে নয়নের। সবকিছু কেমন স্বপ্ন স্বপ্ন লাগে।

এই সেই অবন্তী, প্রথম ক্লাসে যাকে দেখে ওর হৃদয়ে ডেকে উঠেছিলো অচেনা এক পাখি। সেই পাখির ডাক যত্নে রেখেছে এতোটাকাল। একাকি, খুব গোপনে এবং নিজের মতো করে। এই ঘোরলাগা অনুভূতির কথা জানতে দেয়নি অবন্তীকে, কাউকেই না। ভেতরে ভেতরে নিজেকে প্রস্তুত করতে সময় গড়িয়ে গেছে। নয়নের ক্লাসের মনোযোগ ততোদিনে কেড়ে নিয়েছে সাংস্কৃতিক সংগঠন, চারুকলার আড্ডা আর গভীর রাতে পলাশীর কোরাস। কিন্তু বুকের খুব গহীণে ‘অবন্তী’ পাখির ডাক সে লালন করেছে যত্নে। কেউ বুঝে না ফেলে, এমনভাবে টুকটাক কথার ভাঁজে বন্ধুদের কাছ থেকে ঠিকই খোঁজ-খবর রেখেছে নিয়মিত। তারপর একদিন বুঝতে পেরেছে, দেরী হয়ে গেছে, বেশ দেরী হয়ে গেছে। যতটা দেরী হলে, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে কারো এক জীবনের বন্ধু হওয়া যায় না!

তখনই ভেবে রেখেছিল নয়ন। শেষ দিন, মানে অনার্সের শেষ পরীক্ষার পর যেভাবেই হোক অবন্তীর মুখোমুখি দাড়াবে ও। এরপর বহু রাত এই ‘শেষ দিন’-এর অপেক্ষায় থেকেছে নয়ন। হলের শক্ত বিছানায় এপাশ-ওপাশ করতে করতে অবন্তীর সঙ্গে কথা বলেছে। বলেছে ফুল-পাখি-নদী আর সমুদ্রের গল্প। ফেলে আসা একটা নির্জণ শৈশবের গল্প। এক জীবনের পাওয়া আর না পাওয়ার গল্প। কল্পনায় দীর্ঘশ্বাস জমা হতে হতে কেটেছে একাকী সময়। ভোর হয় হয় রাতে অবন্তীকে ওর ভাবনার দখলে রেখেছে।

-কী হলো, মাস্টার্সেও ক্লাস করবে না? অবন্তীর কথায় চমকায় নয়ন। বলে,
-আমি আসলে মাস্টার্সই করবো না।
-কেন? বাইরে যাচ্ছো নাকি? কোন দেশ?
-নাহ, ওসব না।
-তো? করবে না কেন?
-পড়াশোনা করি না, পাশ করতে পারবো না।
-পড়াশোনা না করেই তো দিব্যি অনার্স শেষ করে ফেললে!
-তা করেছি। কিন্তু মাস্টার্সে সে সুযোগ আর হবে বলে মনে হচ্ছে না।
-কেন?
-আসলে সংসারের হাল ধরতে হবে।

আমার বাবা মারা গিয়েছেন দু’মাস হলো। আমাকেই সামলাতে হবে সব। তাই একটা চাকরি শুরু করেছি। চাইলেও ক্লাস-পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবো না। শাড়ী সামলে খুব সতর্কতায় হাঁটলেও নয়নের শেষ কথাগুলো মনোযোগের পুরোটা কেড়ে নেয় অবন্তীর। কথা বলতে বলতে সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের গেটের কাছে চলে এসেছে ওরা। অন্যান্য দিন ভিসি চত্তর এসে রিক্সা নেয় অবন্তী। কিন্তু নয়ন সঙ্গে হাটছে বলে আর রিক্সা নিলো না।

-তোমার বাবা মারা গেছেন, কই কেউ কিছু বলেনি তো! আহত গলায় জানতে চায় অবন্তী।
-আমি আসলে কাউকেই জানাইনি। তোমাকেই প্রথম জানালাম। এই সংবাদ জনে জনে গিয়ে বলার মতো নয়। এমন একটা ব্যক্তিগত বিষয়ে কেউ আমাকে শাস্তনা দিচ্ছে, তা আমার ভালো লাগতো না। চুপ হয়ে যায় অবন্তী। কি বলবে ভাষা খুঁজে পায় না। এসব ক্ষেত্রে কী বলতে হয় ওর জানা নেই। কয়েক মুহুর্ত হাটা দূরত্বে নীলক্ষেত। স্টাফ কোয়ার্টার ফুটপাতের উপর বয়সী শিরিষ গাছের ছায়ায় হঠাৎ দাঁড়িয়ে পড়ে নয়ন। অবন্তীও থমকে দাঁড়ায়। নয়ন বলতে শুরু করে,

-প্রথম দিন ক্লাসে তুমি একটা সবুজ ড্রেস পড়ে এসেছিলে, আমার মনে আছে। চারিদিকে হট্টগোল, চিৎকার আর টুকরো কথারা ভেসে বেড়াচ্ছিল। কোন কিছুতেই পাত্তা না দিয়ে মাঝের দিকের একটা চেয়ারে এসে বসলে তুমি। চেহারায় একটা উপেক্ষার স্রোত। আমার মনে হলো, লেকচার থিয়েটারের জানালা গলে একটা সবুজ প্রজাপতি উড়ে এসে বসলো যেন! জানো, এতোটা মুগ্ধ হইনি কখনো। অবন্তীর কেমন অদ্ভূত লাগছে। ছেলেটা কী সুন্দর করেই না কথা বলছে, কী সুন্দর ওর চিন্তার জগৎ! মনে হচ্ছে কবিতা শুনছে। মনেই হচ্ছে না গত চার বছরে একটাবারও এই ছেলের সঙ্গে ওর কথা হয়নি। মুগ্ধ দৃষ্টিতে নয়নের দিকে তাকিয়ে থাকে অবন্তী। নয়ন বলেই চলে,

-তোমার সঙ্গে খুব কথা বলতে ইচ্ছে হতো। কিন্তু সাহস করে উঠতে পারিনি কখোনো। তাছাড়া কী বলবো? একবার শুনলাম তুমি বই পড়তে ভালোবাসো। মনে হলো, কোন একটা বিশেষ দিনে তোমায় বই উপহার দেই। আজিজ মার্কেট তন্নতন্ন করে আমি তোমার জন্যে কিনেছি তারাশঙ্করের কবি, মানিকের পুতুল নাচের ইতিকথা, বিভূতিভূষণের আরণ্যক। কিন্তু ওই যে, সহসে কুলায়নি কখনো। তাই দেওয়াও হয়নি কোনদিন। প্রতিটা বই-ই অবন্তীর পড়া। তবু নতুন কেনা বই ব্যস্ততার কারনে পড়া হয়নি, পড়ে আছে মাসের পর মাস, এমন এক তৃষ্ণা জেগে ওঠে বুকের খুব কাছে মুখফুটে কিছু বলতে পারে না।

-আমি জানি এসব কথা খুব হাস‍্যকর শোনাচ্ছে। কোন মানেও নেই। কিন্তু তোমায় আমার খুব বলতে ইচ্ছে হলো। মনে হলো বলা দরকার। কিন্তু কেন মনে হলো ব্যাখা দিতে পারবো না। বসন্তের দুপুরের এলোমেলো হাওয়ায় চুল উড়ছে অবন্তীর। সামলানোর চেষ্টা করছে, পারছে না। ওর মনে হচ্ছে চারিদিকে বৃষ্টি হচ্ছে। বসন্ত বৃষ্টি। শো শো শব্দ হচ্ছে কোথাও। কি যে ভালো লাগছে, কি যে ভীষণ ভালো লাগছে অবন্তীর! কিন্তু কেন এমন হচ্ছে জানে না। জানতে অবশ্য চায়ও না। কেবল ঘোরলাগা এই মূহূর্তটা ধরতে চায়। অনুভব করতে চায় হৃদয়ের পুরোটা দিয়ে। ফের নয়নের কন্ঠ শুনতে পায় অবন্তী,

-তোমায় আমার মনে থাকবে অবন্তী। খুব বেশি মনে থাকবে। হয়তো আর কথা হবে না, দেখাও না, কিন্তু মনে থাকবে। মনে থাকবে বসন্তের দুপুর আর গোলাপী শাড়ীও। আমার একান্ত নিজস্ব ভাবনার এ কথাগুলো তোমায় না বললেও চলতো। কিন্তু মনে হলো, একটাবার কী মুখোমুখি দাঁড়াবো বলবো না, নাকে জমা বিন্দু বিন্দু ঘাম আমার খুব মুছিয়ে দিতে ইচ্ছে করে! অবন্তীর এবার অস্বস্তি লাগে। সত্যিই ওর নাকে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমে। কিন্তু নয়ন তা বুঝলো কী করে? এখনও কী জমে আছে? শিরশিরে অনুভূতির ঢেউ খেলে যায় অবন্তীর শরীরে। কথা শেষ করে একটা বইয়ের মোড়ক বাড়িয়ে দেয় নয়ন। অবন্তী দ্বিধায় পড়ে। ভালোলাগা আর দ্বিধায় দুলতে থাকে। সেকেন্ড সেকেন্ড বিরতীর পর হাত বাড়িয়ে দেয়। পাখির পালকের মতো শুভ্র সে হাত। অবন্তী শুনতে পায় নয়ন বলছে,

-এমনই থেকো, এমনই মায়াময়। ভালো থেকো প্রতিটা দুপুর, পুরোটা জীবন।

নয়ন এগিয়ে যাচ্ছে নীলক্ষেতের দিকে। বইয়ের মোড়ক হাতে ঠাঁয় দাঁড়িয়ে আছে অবন্তী। দৃষ্টিজুড়ে অপার শূন্যতা। হঠাৎ পাওয়া অচেনা সুখটা ধরার আগেই মিলিয়ে যাচ্ছে জীবন থেকে। অবন্তীর ইচ্ছে করছে, দৌঁড়ে গিয়ে সেই সুখ থামায়। অভিমানী গলায় বলে, তুমি কী জানো, শাড়ী পড়ে আমি হাটতে পারি না। খুব কষ্ট হয়!

ঘটনার আকস্মিকতায় থতমত খায় অবন্তী। কিছুই বলতে পারে না। কী করবে বুঝে উঠতে চলে যায় আরও কয়েক মুহুর্ত। তারপর চেতনা ফিরে পাওয়া মানুষের মতো প্রাণপন চেষ্টায় একবার কেবল উচ্চারণ করতে পারে, ‘নয়ন’।
এতটাই অস্ফুট সেই ডাক, এতটাই ম্রিয়মান যে, বসন্ত হাওয়ায় ভেসে তা আর নয়ন অব্দি পৌঁছায় না। শিরিষ গাছের শান্ত ছায়ায় লুটোপুটি খেয়ে হারিয়ে যায় কালের খেয়ায়!

গল্পের বিষয়:
গল্প

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত