যুগল স্বপ্ন

যুগল স্বপ্ন

(এক)

সুধীর আসিয়াছে। তাহার হাতে একটা ফুলসুদ্ধ ডাঁটা। চোখে মুখে হাসি ভরা! তাহার সমস্ত মন যেন পাখা মেলিয়া উড়িতে চাহিতেছে।

সুধীর আসিয়াই বলিল– “হাসি আজ ভারি সুখবর আছে। কি দেবে বল– তা না হলে বলব না।”

হাসি বলল– “বলুন না কি!”

“কি দেবে বল আমাকে–”

“কি আর দিতে পারি আমি? –আচ্ছা, আপনার রুমালে একটা বেশ সুন্দর এমব্রডারী করে দেব। চমৎকার প্যাটার্ণ পেয়েছি একটা।”

“না ওতে আমি রাজি নই।”

“তবে কি চাই আপনার? চকলেট আছে দিতে পারি।”

“আমি কি কচি খোকা নাকি? চকলেটে তুষ্ট হব!”

হাসি হাসিয়া ফেলিল। বলিল–“ তাহলে শুনতে চাই না যান। এমব্রডারী করে দেব বললাম– চকোলেট দেব চাইলাম– তাতে যখন আপনার–”

সুধীর বলিল– “চললাম তাহলে।”

হাসি আবার ডাকিল– “বলবেন না কিছুতে?”

“একটা জিনিস পেলে বলতে পারি। সেই যে সেদিন যা চেয়েছিলাম।” বলিয়া সে অর্থপূর্ণ দৃষ্টিতে হাসির পানে চাহিয়া হাসিল।

হাসি হঠাৎ লজ্জা পাইয়া সামলাইয়া লইল।

বলিল– “আপনাকে ত বলেছি– তা হয় না।”

কিন্তু সুধীরের মুখের দিকে চাহিয়া সে ভয় পাইল। সে শুনিল সুধীর বলিতেছে– “মনে করেছিলাম খবরটা খুব লঘু হাস্য-পরিহাসের মধ্য দিয়ে প্রকাশ করব। কিন্তু পারলাম না। মাপ করো আমায়। শুনে এলাম বিয়ে সাঁতরাগাছিতে সেই পাত্রটির সঙ্গে ঠিক হোয়ে গেছে।”

বলিয়া সুধীর চলিয়া গেল।

হাসি ডাকিল– “সুধীর দা– শুনে যান।”

সুধীর ফিরিয়া আসে।

(দুই)

অলকা আসিয়াছে।

সেই অলকা যাহাকে একবার দেখিবার জন্য অজয় সমস্ত দিন অপেক্ষা করিত– কখন সন্ধ্যাবেলায় সে আসিবে।

অলকা আসিয়া বলিতেছে– “আচ্ছা, অজয়দা–ইংরিজিতে পেট বলে কোন কথা আছে নাকি?”

অজয় বলিল– “হ্যাঁ আছে, পেট মানে মাথা।”

“সত্যি?”

“অভিধান খুলে দেখ। পেট মানে মাথা।”

“আমাদের বরুণাদি তাহলে ঠিক বলেছে ত?”

অজয় বলিল, “আচ্ছা মুণ্ডুর ইংরিজি কি বল ত?”

অলকা মিটি তাকাইয়া বলিল– “হেড!”

“হেড মানে ত মাথা”–

“মুণ্ডুর মানেও মাথা–”

অজয় হাসিয়া বলিল–“এই বুঝি তোমার বাংলা ভাষার জ্ঞান। মাথা আর মুণ্ডু বুঝি একই বস্তু!”

অলকা হাসিয়া বলিল– “তফাৎ কি?”

অজয় গম্ভীর ভাবে বলিল– “তোমার সঙ্গে আর অওই পাঁচি ধোপানিটার কোন তফাৎ নেই– তাহলে বল! দুজনেই ত মেয়ে মানুষ!”

অলকা জিজ্ঞাসা করিল– “পাঁচি ধোপানীটি কে?”

“ওই যে তোমাদের গলিটার মোড়ে একজন ধোপার মেয়ে আছে। কম বয়স– তোমার বয়সী হবে।”

অলকা বক্র হাসি হাসিয়া কহিল– “আজকাল অজয়দা দেখছি সমস্ত জিনিসই বেশ পুঙ্খানুপুঙ্খ রূপে দেখতে আরম্ভ করেছেন! ধোপানী পর্যন্ত বাদ পড়ে না।”

অজয় বলিল– “নিশ্চয়। নিজের জিনিসটি যে ভাল সেটা যাচাই করে দেখে নিতে হবে না?”

“কে আপনার নিজের জিনিস।”

“আছে একজন–”

অলকা হঠাৎ অন্যমনস্ক হইয়া পাশের টেবিলটা গুছাইতে লাগিল।

অজয় জানালা দিয়া অকারণে বাহিরের দিকে চাহিয়া রহিল।

* * * *

দুইটি স্বপ্ন দুইজনে দেখিতেছে।

অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে দুইজন পাশাপাশি শুইয়া আছে।

হাসির হাতখানা অজয়ের বুকের উপর।

হাসি ও অজয়– স্বামী স্ত্রী।

গল্পের বিষয়:
গল্প

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত