অতঃপর কিছু প্যারানরমাল

অতঃপর কিছু প্যারানরমাল

১.
শ্মশানে গেলাম ৫ বন্ধু মিলে, রাতের তৃতীয় প্রহর শেষ হওয়ার কিছু আগেই ফিরে এলাম, তবে একা! গিয়েছিলাম খালি পেটে, ফিরে এলাম ভরাপেটে। অনেকদিন পর টাটকা মানুষের রক্ত মাংস খেলাম। হাড়গুলো ফেলে দিয়ে এসেছি পরিত্যক্ত সেই ডোবার ঝোপের আড়ালে, যেখানে রবিন, হাসান, শফিক, শাহীন আমার চার বন্ধু মিলে ধর্ষণ করেছিলো বছর দশেকের এক বাচ্চাকে।

২.
অনেকদিন পর দক্ষিণের জঙ্গলের শেষ সীমানায় পোড়া বাড়িতে আড্ডার আসর জমেছে। এইদিকে আমারও ঘুমন্ত খিদেটা জাগ্রত হয়েছে। গিয়ে দেখি সেইসব লোকেরা বসে আছে আড্ডার আসরে, যারা মাসকয়েক আগে ১৫ বছরের এক কিশোরীর মুখ এসিড দিয়ে ঝলসিয়ে দিয়েছিলো পৌশাচিক হাসিতে।

তাদের সবার রক্তে রঞ্জিত এখন পোড়া বাড়িটা। আজ পোড়া বাড়িটাও ঝলসে গেছে নরপশুদের রক্তে।

৩.
ধানমণ্ডীর লেকের ধারে প্রায় ৩ ঘন্টা ধরে কতবার করে সজীবকে বললাম, প্লিজ… আমার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করো না, আমাকে ছেড়ে যেও না।

সজীব বিরক্তির সুরে বলেছিল, প্রেম করলেই বিয়ে করতে হবে, এমন কথা আছে নাকি? তুমি এখনো সেকেলের যুগেই পড়ে আছো। এখন আর পুরনো যুগ নেই, এইসব কথা পুরনো যুগেই মানায়। আর তোমাকে আমি বিয়ে করবো, ভাবলে কী করে?

আমি করুণ কন্ঠে বলেছিলাম, তুমি যে আমায় কথা দিয়েছিলে?

সজীব অট্টহাসি দিয়ে বলেছিলো, কথা আমি দিয়েছি আরও রিনিকে।

রাত পোহানোর আগেই খবর এলো সজীবের দুই চোখ কে যেনো উপড়ে নিয়েছে। আমি মুচকি হেসে তাকালাম আমার ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ারে, যেখানে চকচক করছে সজীবের টাটকা দুইটি উপড়ে ফেলা চোখ।

আমার কাছে বিশ্বাসঘাতকের অবিশ্বাসী চোখ সংরক্ষণ করতে ভালোই লাগে!

৪.
রাত ১০টার পর বাসে চড়ে বসেছিলাম বাড়ি ফেরার উদ্দেশে। আস্তে আস্তে মানুষ নেমে গিয়ে বাসটি এখন প্রায় জনশূন্য হয়ে আছে।

হঠাৎ বাসের ড্রাইভার গাড়ি ঘোরায় নির্জন রাস্তাটিতে, কারণ জানতে চাইলে বলে– সামনের রাস্তায় প্রচুর জ্যাম, পেছনের রাস্তা দিয়ে গেলে তাড়াতাড়ি হবে।

আমিও ক্রুর হাসিতে অপেক্ষায় থাকি তাজা রক্তের স্বাদের। ড্রাইভার আর হেল্পার খুব ভয় পেয়েছিলো সেদিন আমার রক্তমাখা দাঁত দেখে।

ড্রাইভার আর হেল্পারের লাশটা ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছি লাশকাটা ঘরের সামনে। কিছুক্ষণ পর ওরাও কেটে টুকরো টুকরো হবে– যেমন হয়েছিলো সেদিন রাতে মাঝবয়সী বিধবা রাবেয়া, তাদের পৈশাচিক কামনার শেষে এমনি এক কাটাইখানার ঘরেতে।

৫.
কাকডাকা ভোরের আগেই চেয়ারম্যান বাড়ি থেকে কান্নার শোরগোল পাওয়া গেলো।

কে যেনো চেয়ারম্যানের দেহটির বুকের মাঝখান থেকে হৃদপিণ্ডটি ছিড়ে নিয়ে গেছে, নিথর হয়ে পড়ে আছে অত্যাচারী চেয়ারম্যানের দেহটি, যেমন হয়েছিলো দিনমজুর রফিকের দেহটি সেইদিন তার বাড়ির কাঁঠালগাছের সাথে।

এই চেয়ারম্যানের করা মিথ্যাচুরির বিচারের রায়ে সেইদিন লজ্জায় গলায় ফাঁস দিয়েছিলো রফিক বড় কাঁঠালগাছটিতে, সেটা অনেকই জানে।

চেয়ারম্যানের হৃদপিণ্ডটি এখন ঝুলছে সেই কাঁঠালগাছটির ডালে।

৬.
স্কুলে যাওয়ার পথে মিতুকে উত্যক্ত করা বখাটে তুহিনের প্রতিদিনের রুটিন হয়ে দাঁড়িয়েছিলো। সেদিন স্কুল থেকে ফেরার পথে মিতুকে একা পেয়ে লোলুপ দৃষ্টিতে মিতুর দিকে হাত বাড়িয়ে দেওয়া তুহিনের সেই হাত এখন ডাস্টবিনের নোংরা আবর্জনায়।

খানিক পরেই কুকুর এসে টানাটানি করছে কাটা হাতটি নিয়ে ঠিক যেমন সেদিন বখাটে তুহিন করেছিলো মিতুকে নিয়ে। ওদিকে তুহিন কাতরাচ্ছে হাসপাতালের বেডে শুয়ে শুয়ে। দুটিই দেখার মতো দৃশ্য বটে।

গল্পের বিষয়:
গল্প

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত