শীতকালীন স্বপ্ন

শীতকালীন স্বপ্ন

পকেটে আজ অনেকগুলো টাকা,কি করা যায়,এসব ভাবতে ভাবতেই মার্কেটে চলে গেলাম। কাউকে ফোন দিলামনা। অন্য কারো পছন্দে কেনাকাটা করার ইচ্ছে নেই। সুন্দর দেখে তিনটা টি-শার্ট,দুইটা প্যান্ট,একটা থ্রি কোয়াটার আর একটা জ্যাকেট। শার্ট কিনে ভদ্র সাজার কোনো মানে হয়না। সেলসম্যানকে জিজ্ঞেস করলাম,কত হয়েছে?

-চার হাজার সাতশ চল্লিশ টাকা।

কোনোরকম কথা না বলে টাকাটা দিলাম। সেলসম্যানকেও বখশিশ হিসেবে একশ টাকা দিলাম। কেনাকাটা করতে করতে ক্ষুধা পেয়ে গেছে। সবচেয়ে দামী রেস্টুরেন্ট কোনটা? এটা ভাবতে সময় লাগছিল। আমি সিদ্ধান্তে না পৌছাতে পারলে টস দেই,টস দিলাম। সেভেন ইয়ং চাইনিজে গেলাম। একা একা খেয়ে বোধহয় তৃপ্তি পাওয়া যায়না। খেয়েদেয়ে বাসায় এলাম। আম্মু জিজ্ঞেস করলো,কি কিনলি? দেখালাম।

-তো হঠাৎ এত কেনাকাটা ক্যান?
-বিয়ে করবো তো! এই কারণে আর কি!

আম্মু রাগ করলোনা,রাগ করার উপক্রম ও দেখালোনা। কিছুটা রাগ করে বললো,বিয়ে করলে পাঞ্জাবী, পায়জামা,শেরওয়ানি কই?

-আম্মু,সবাইইতো ওসব পরে বিয়ে করে। আমি এই টিশার্ট পরে বিয়ে করবো।

কিছুটা ন্যাকামি কন্ঠে বললাম। আম্মু হাসলো। বললো,ঠিক আছে। তা মেয়েটা কে? আমি চিন্তায় পড়লাম। ঠিকই তো। কাকে বিয়ে করবো? ছোটোবেলার এক বান্ধবীর নাম মনে পড়লো। আম্মু,আখিকে বিয়ে করবো।

-আখিটা কে?
-ছোটোবেলার ফ্রেন্ড।
-এখন সম্পর্ক নেই?
-না।
-ওই মেয়েকে করিসনা।
-আচ্ছা।
-তুই প্রেম করিসনা? আম্মুর এই প্রশ্নে লজ্জা পেলাম। বললাম,যাও! কি বলো এসব? আমার কি প্রেম করার বয়স হয়েছে?

-তোর কি বিয়ে করার বয়স হইছে?
-আম্মু,প্রেম অবৈধ,বিয়ে বৈধ। বৈধ কাজ তাড়াতাড়ি করা ফরজ।
-ঠিকই তো! এটা আমার মাথায় ছিলোনা রে। তোকে আদেশ করছি,এক সপ্তাহের মধ্যে মেয়ে জোগাড় কর। আগামী সোমবারে আমি আমার ঘরে পুত্রবধূ দেখতে চাই।

-আচ্ছা। বাসা থেকে বের হয়ে ফরিদকে ফোন দিলাম। সে আমার বন্ধু।
-হ্যালো বন্ধু,তুমি কোথায়?
-এইতো বন্ধু,বাসায়। কেনো?
-কলেজে আসবা?
-কলেজে তো ক্লাস হয়না। কেনো যাবো বন্ধু?
-আমার বৌ খুঁজতে যাবো। আম্মু বলেছে,এক সপ্তাহের মধ্যে বৌ জোটাতে। বৌ জোটাতে না পারলে আমাকে বাসায় ভাত দেবেনা।
-কি বলো বন্ধু? এ কথা শুনে আমার চোখে পানি চলে আসছে। আমি এখনই আসছি।

কলেজে ঢুকলাম। ক্রাশকে খোঁজা দরকার। মাইক লাগিয়ে বলতে ইচ্ছে করছে,ক্রাশ তুমি কোথায়? ক্রাশকে ডেকেও বা কি হবে! আমি তার নাম জানিনা। কোথায় পাওয়া যেতে পারে? আসাদ স্যারের প্রাইভেট রুমের দিকে উঁকি দিলাম। এইতো ক্রাশ! ক্রাশ বোধহয় খুব মেধাবী। এর নাম কি করে নেয়া যায়? ধুর! আসাদ স্যারকে জিজ্ঞেস করলেই তো হয়। নিঃশ্চয়ই আম্মুর মতো,আসাদ স্যার ও বদলে গেছেন।

-আসসালামু আলাইকুম স্যার।
-আরে রোবন!
-স্যার সালাম দিছি।
-ওয়ালাইকুমুস সালাম। কি ব্যাপার?
-স্যার! একটা কথা বলবো।
-কোনো সমস্যা?
-নাহ স্যার। একজনের নাম দরকার।
-কার? কোনো মেয়ের?

-জ্বী জ্বী জ্বী স্যার।
-কে সে?
-স্যার ফার্স্ট বেঞ্চে বসছে,লম্বা,উজ্জ্বল শ্যামলাটা।
-ওর নাম প্রিয়ন্তী।
-বাহ! থ্যাংকিউ স্যার।
-নাম দিয়ে কি করবা? প্রেম নাকি ডিরেক্ট বিয়ে।
-বিয়ে স্যার বিয়ে। কি করে বুঝলেন?
-শীতকালে প্রেম করে লাভ আছে নাকি! দাওয়াত দিবানা আমাকে?
-আপনাকে না দিলে আর কাকে দিবো! আসি স্যার প্রাইভেট শেষে প্রিয়ন্তীকে ডাক দিলাম।

-প্রিয়ন্তী!
-জ্বী ভাইয়া।
-তোমার ভাইয়া আছে?
-না।
-ছোটো ভাই?
-আছে।
-তোমার ভাইয়ার অভাব পড়েছে?
-হ্যাঁ।
-তোমার বাবার নাম্বারটা দাও।
-কেনো?
-আমি তোমার ভাইয়া হবো। তোমার বাবাকে বলবো,সম্পত্তির ভাগ রাখতে।
-আমার ভাইয়া লাগবেনা। কি বলবেন,বলেন।
-তুমি আমার নাম জানো?
-না।

-আমার নাম রোবন। রুবু করেও ডাকতে পারো।
-আচ্ছা। আর কিছু?
-তোমার বিয়ে হবে কবে?
-আব্বু যখন দেবে।
-আজ দিলে?
-দিবেনা।
-আমি তোমাকে গত ছয়মাস ধরে পছন্দ করি। তোমার নাম আজকে জানলাম। বিশ্বাস করো?
-হ্যাঁ। স্যার বলেছে। স্যার আরো বলেছে,আপনি ভালো স্টুডেন্ট,তবে প্রায়ই একাউন্টিং আর আইসিটিতে ফেইল মারেন। আপনি গান গাইতে পারেন,গল্প -কবিতা লিখেন। মাঝেমধ্যে বিয়ের জন্য পাত্রী খোঁজেন। এটা এক ধরণের ফান। আপনার বিয়ের বয়স হয়নি।

-এতো পেঁচাইয়া লাভ নাই। আমি জানি তুমি অলরেডি ইম্প্রেসড। আই লাভ ইয়ু। আর আমি এই ফার্স্ট বিয়ের জন্য পাত্রী খুঁজছি।

-আই লাভিউ টু।
-বিয়ে করবা?
-করবো।
-আগামী রবিবার?
-ওকে।
-তোমার ফ্যামিলিকে ম্যানেজ?
-করে নেবো।
-আমার বৌ হচ্ছো কবে তাহলে?
-আগামী রবিবার।
-তোমার ফোন নাম্বার?
-০১৭২৪৩২৩৮**
-ফেইসবুক আইডি?
-প্রিয়ন্তী জামান।
-ওকে।

ফরিদ আমার দিকে তাকিয়ে থাকলো। আর আমি ফরিদের দিকে। সবকিছু এতো সহজে হয়ে গেলো। নিজের দিকে তাকি প্রাউড ফিল হচ্ছিলো। বিয়ে হলো। মোটেও ধুমধাম করেনা। নিজেরা বিয়ে করে নিয়েছি কাজী অফিসে। আর স্যার,ফরিদ,সাক্ষী,আম্মু আর প্রিয়ন্তীর আব্বু মিলে লাঞ্চ করে বাসায় এসেছি। প্রিয়ন্তির এক বান্ধবী আর ফরিদ মিলে বাসর ঘর সাজাচ্ছে। আমার কেমন যেন লজ্জা লজ্জা হচ্ছে। আবার আনন্দে লাফাতেও ইচ্ছা করছে। এই শীতকালে বৌ পাওয়া গেলো! এই শীতকাল যেন বারবার ফিরে আসে..

রাতে দুজনে রীতিনীতি মেনে ঘুমোতে গেলাম। আমি উঠে লাইট বন্ধ করলাম। পরবর্তী সিন আলোতে। অন্ধকারের সিনের বর্ণণা দেয়ায় নিষেধাজ্ঞা আছে। প্রিয়ন্তী আমার আগে ঘুম থেকে উঠলো,বারবার বলছিল পানি ঢেলে দেবো কিন্তু। আমি চাই সে পানি ঢালুক। কত রোমান্টিক সিন হবে! একসময় ঢেলে দিলো। আমি তবুও উঠলামনা। হঠাৎ করে চিল্লাচিল্লি বন্ধ হয়ে গেলো। তারপর পিঠের উপর ঠাস ঠাস করে থাপ্পড়। ধড়মড়িয়ে উঠলাম। একি! আমার বৌ কোথায়! প্রিয়ন্তী প্রিয়ন্তী বলে চিল্লালাম। কেউ নেই। পাশে তাকিয়ে দেখি,রেফান তার নুনু ধরে দাঁড়িয়ে আছে। আর এতক্ষণ সে-ই মারছিল। ভাবীকে ডাক দিলাম।

-কিরে কি হয়েছে?
-আমার টি-শার্ট ভেজা ক্যান?
-রেফান হিসু করে দিয়েছে বোধহয়। খুলে দে। আমি ধুয়ে দেই।

মেজাজ খুবই খারাপ হয়ে গেলো। সেইসাথে মন আরো বেশী খারাপ হলো। কিছুক্ষণ পর আম্মু আড়াইহাজার টাকা দিয়ে বললো,তুই না জ্যাকেট কিনবি? যা কিনে আয়। আর নাস্তাও করে আসিস। টাকাটা নিয়ে বাইরে গেলাম। জ্যাকেট কিনলাম দুইহাজার চারশ ত্রিশ টাকা। জ্যাকেট কেনার পর সেলসম্যান এসে সালাম দিলো। দুইটাকার একটা নোট দিয়ে বাইরে এলাম। তবুও মন ভালো হচ্ছেনা।

গল্পের বিষয়:
গল্প

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত