লাল পুতুল

লাল পুতুল

হঠাৎ ফোনের রিংটোন শুনে ঘুম ভাঙ্গে রনির,,ঘুম থেকে উঠেই দেখে রুবি রনির গলা জড়িয়ে ধরে ঘুমুচ্ছে। এমন ভাবে ধরেছে যে নড়বারও উপায় নেই। রুবি রনির ছোট বোন ক্লাস টু তে পড়ে। সারাদিন রনির পিছে পিছে থাকবে,,প্রতিদিন ভোরে উঠে রনির রুমে এসে চুপি চুপি গলা জড়িয়ে ধরে ঘুমাবে,,সে কারনেই কখনও রুম লক করে ঘুমায়না রনি। ফোনটা ওদিকে বেঁজেই চলেছে,, রনি ফোনটা নিতে হাত বাড়াতেই রুবি বলে ওঠে

-ঐ পঁচা মেয়েটা ফোন করেছে তাইনা?? শুনে চমকে ওঠে রনি,,জিজ্ঞেস করে

-কি বলিস এসব হুহ,,কিসের পচা মেয়ে,কোন মেয়ে কেন আমাকে ফোন দেবে??

-ভাইয়া মিথ্যে বলছো কেন,জানোনা মিথ্যে বললে দাঁত পরে যায়??

-বেশি পাঁকামো হচ্ছেনা??যাহ এখান থেকে।

-দাড়াও মাকে বলছি যেয়ে,, বলেই বিছানা ছেড়ে উঠতে থাকে,, রনি জড়িয়ে ধরে বলে,,
-প্লিজ আপু বলিশনা মাকে,,তাইলে মা বকবে জানিসতো।

-এখন কেন হু??যখন আমাকে বকো তখন মনে থাকেনা এসব?? আমি মাকে বলবই,বাবাকেও বলবো।

-তুই আমার লক্ষ্মি বোন না বল?শুধু বকি,আদর করিনা বুঝি??

-তাইলে বলো আমাকে বিকেলে ঘুড়তে নিয়ে যাবে?

-কোথায়?

-তোমার কলেজে নিয়ে যাবে,ঐ পাঁজি মেয়েটার গাল টেনে দিবো যাতে ভাই বোনের মাঝে ফোন দিয়ে আমাকে বিরক্ত না করে।

-কলেজে গিয়ে কাজ নেই তোর,আমিই বকে দিবো যাতে ফোন দেয়। আড় চোখে রুবির দিকে তাকাতে তাকাতে বলে রনি।

-তাহলে আমার জন্য আইসক্রিম নিয়ে আসবে এত্তো গুলা বলো??

-আচ্ছা আনবো,মাকে বলবিনা তাইলে? আচ্ছা বলবোনা,বলে মিটমিট করে হাসতে থাকে বড়দের মত।

-এবার যা তাইলে আরেকটু ঘুমাবো আমি

-নাহ এখন আমি গল্প শোনাবো তোমাকে,,

নাহ এই পাগলীটা ছাড়বেনা কিছুতেই, এখন রুবি গল্প শোনাবে আর না শুনলে সাড়া বাড়ি চিল্লায়ে মাথায় তুলবে। উপায় না দেখে বলে আচ্ছা শোনা। বলেই রুবির কোলে মাথা রেখে শোয় রনি,,এটা অবস্য রুবিরই রুলস।গল্প শোনার সময় তার কোলে মাথা রাখতে হবে। রনির চুল টানতে টানতে বলতে থাকে

-তোমার পকেট থেকে কে টাকা চুরি করে তুমি জানো??

-নাতো,কে করে??

-একটা ছোট্ট পরী আছে সে করে।

-ওহ তাই না??তা পরী টা কই??

-আমি জাদু জানি,,জাদু করে ওকে পুতুল বানিয়ে রেখেছি,,ঐ যে ঐটা, বলেই টেবিলে রাখা সো-পিস দেখায়।

-রুবি তুই মিথ্যে কথা বলাও শিখেছিস না,,পাজি কোথাকার।আরেকটা মিথ্যে বললে কান মলে দেবো। শুনে চোখ গোল গোল করে গালফুলিয়ে বলে,

-ভাইয়া আমি কি পচা মেয়ে??

-হ্যা তুই পচা মেয়ে, শুনেই কান্না শুরু করে দেয় ফুপিয়ে,, বেগতিক দেখে রনি জড়িয়ে ধরে বলে
-কোন ছাগল বলেছে তুই পঁচা মেয়ে হু??যে বলে সে একটা আস্ত ছাগল।

-ভাইয়া তুমি কি ছাগল??তুমিইতো পঁচা বলেছো। কথা শুনে হেঁসে ফেলে রনি।
-ভাইয়া দুই টাকা দাও এখন।

-দুই টাকা কেন আবার??
-ওমা,,তোমাকে চুল টেনে দিলাম টাকা দেবেনা??

রনি মানিব্যাগ থেকে ১০ টাকার একটা নোট বের করে দিয়ে বলে আগামী পাঁচ দিনের একেবারে দিয়ে দিলাম,টাকা পেয়ে চুল টেনে দিয়েই দৌড়ে পালিয়ে যায় রুম থেকে। রনি রুবির দৌড়ে রুম ছেড়ে বের হয়ে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে হাসতে থাকে,পাগলী একটা। রনির ভাল থাকার ওষুধ,হাজার মন খারাপ থাকলেও গোমড়া মুখে থাকার কোন উপায় নেই,ওর খুনসুটিতে পাঁচ মিনিটে সব মন খারাপ খুশিতে বদলে যায়। মা যদি কখনো রনিকে বকতে থাকে তখন ভাইয়ের হয়ে সে একাই মায়ের সাথে লড়ে যায়,তাও যখন দেখে মা বকেই যাচ্ছে তখন শুরু হয় তার সবচেয়ে কার্যকরী থেড়াপি,ভাইয়াকে জড়িয়ে ধরে এমন জোড়ে জোড়ে কাঁদতে থাকে যে বাধ্য হয়ে মা বকা ক্ষান্ত দিয়ে রুম ছেড়ে চলে যায়। রনি বিছানা থেকে উঠে ব্রাশ করার জন্য বাথরুমে ঢুকে,বাথরুম থেকে বের হয়ে দেখে চা হাতে রুবি দাড়িয়ে আছে,,

-ভাইয়া আমি চা করেছি তুমি জানো??

-এবাবা তাই নাকি??তুইতো বড় হয়ে গেছিসরে বুড়ি এবার তোকে বিয়ে দিতে হবে। বলে হাসতে থাকে রনি

-ভাইয়া বিয়ে করলে কি হয়?? এখন একটার পর একটা প্রশ্ন করতে থাকবে,ওর সাথে কথা বলতে গেলেই পাগল করে দেবে।

-কই চা দিলিনা??

বলেই রুবির হাত থেকে চায়ের কাপটা নেয় রনি। একটা চুমুক দিয়ে দেখে ঠান্ডা পানিতে চা পাতা আর চিনি গুলিয়ে শরবত বানিয়ে নিয়ে এসেছে। এখন এটা ফেলে দিলেও মুসকিল,কান্না শুরু করবে। রনি রুবিকে বলে

-বুড়ি আমার ফোনটা নিয়ে আয়তো রুম থেকে। রুবি রুমে যেতেই বেসিনে ঢেলে দেয় চা।এর মধ্যেই রুবি এসে হাজির।

-ভাইয়া চা শেষ??স্বাদ হয়েছে খুব না??দাড়াও আরেক কাপ করে দেই।

-আরে না না,,এখন চা খাবোনা আর,,চল নাস্তা করতে যাই।

বলে রুবিকে কোলে নিয়ে ডাইনিং এর দিকে যায় রনি। কোলে বসিয়ে রনি নিজ হাতে খাইয়ে না দিলে কিছুতেই খাবেনা। একদিন হঠাৎ ভুল করে রুবিকে না খাইয়েই কলেজে চলে গেছিলো রনি,ক্লাস টেষ্ট ছিল বলে তাড়াতাড়ি বের হয়ে গেছিলো, পরিক্ষা চলাকালিন সময় হঠাৎ দেখে মা বারবার ফোন দিচ্ছে, ফোন পিক করেই রুবির কান্নার আওয়াজ শুনতে পায় রনি,

-ফিসফিস করে বলে কি হয়েছে মা,বুড়ি কাঁদছে কেন?

-তুই ওকে নাস্তা খাইয়ে যাশনি বলে কিচ্ছু খায়নি এখন পর্যন্ত,সেই সকাল থেকেই কান্না করছে।

রনি শুনেই পেপার্স জমা দিয়ে বাড়ির দিকে দৌড়,বাসায় যাওয়ার সময় ওর প্রিয় আইসক্রিম আর চকলেট নিয়ে নেয়,মনে মনে ভাবতে থাকে কপালে কি আছে আল্লাহ জানে। গিয়ে দেখে রনির টেবিলের উপর বসে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কান্না করছে,রনিকে দেখেই টেবিলের সবকিছু ওর দিকে ছুড়ে মারতে থাকে। উপায় না দেখে রনি কান ধরে দড়জায় দাড়িয়ে বলতে থাকে

– এই দেখ পাগলী ভুল হয়েছে ক্ষমা করে দে,আর কক্ষনো ভুল হবেনা। বলেই আইসক্রিম আর চকলেট বের করে দেয়। টেবিল থেকে নেমে এসে রনিকে জড়িয়ে ধরে বলতে থাকে,

-ভাইয়া তুমি আর আমাকে ভালবাসোনা,আদরও করোনা।

-ধুর পাগলী কে বলে এইসব,তুইতো আমার সব।দেখিস আর কখনো এমন ভুল হবেনা এই তোকে ছুঁয়ে কথা দিলাম। নাস্তা শেষ করেই কলেজের যাবার জন্য তৈরি হয়ে বের হয় রনি,,এমন সময় রুবি দৌড়ে এসে বলে

-ভাইয়া একটা লাল পুতুল কিন্তু আজ এনে দিতেই হবে। অনেক দিন ধরেই লাল পুতুল লাল পুতুল করে মাথা নষ্ট করে দিলো,,আর এটাই মনে থাকেনা রনির।

-আচ্ছা বুবু আনবো,,

-সত্যি আনবেতো?তুমি শুধু শুধু বলো কিন্তু আনোনা।

-আজ আনবোই,কোনভাবেই ভুল হবেনা।

-তাইলে একটু আমাকে কোলে নাও,

রুবিকে কোলে তুলে নিতেই কপালে একটা চুমু দিয়ে কোল থেকে নেমে আবার দৌড়ে চলে যায় ভেতরে। এই পাগলিটা সারা বাড়ি মাথায় করে রাখে,,রনি যতক্ষন বাইরে থাকে সারাবেলা মনটা আনচান করতে থাকে কখন পাগলিটাকে বুকে জড়িয়ে ধরবে।ওকে ছারা রনির দিনটা কাটতেই চায়না। সেবার যখন রনির টেষ্ট এক্সাম চলছিলো তখন নানু অসুস্থ হওয়ায় রনিকে একা রেখে সবাই নানুকে দেখতে গেছিলো,,পরিক্ষা দিয়ে এসে বিকেলেই রনি নানু বাড়ি হাজির। গিয়ে দেখে রুবি মুখ গোমড়া করে বসে আছে,রনিকে দেখেই দৌড়ে এসে কোলে উঠে বসে,আর কানে কানে বলতে থাকে

-ভাইয়া আমাকে বাসায় নিয়ে চলো,এখানে ভাল্লাগছেনা।

-বাসায় গেলে খাবি কি মা তো রান্না করে আসেনি রাতের জন্য।

-আমি রান্না করবোনে চলোতো ভাইয়া।

ভাই বোনের এমন পাগলামি দেখে মা আর নানু বাড়ি থাকেনি,রাতেই বাসায় চলে এসেছে। ক্লাস শেষ করেই রনি সোজা মার্কেটে চলে যায়,একটা লাল টুকটুকে পুতুল কিনে বাসার দিকে রওনা দেয়।সাথে স্ট্রবেরি ফ্লেভারের আইসক্রিম। বাসায় এসে দেখে বাসায় কেউ নেই,, কাজের মেয়েটাকে জিজ্ঞেস করতেই বলে

– দুপুরে খেলতে খেলতে হঠাৎ ই রুবি অজ্ঞান হয়ে যায়,,খালা আর খালুজান রুবিরে নিয়ে হাসপাতালে গেছে।

শুনেই হাত পা থড় থড় করে কাঁপতে থাকে রনির।পুতুল হাতে নিয়েই ছুটতে থাকে হাসপাতালের দিকে। হাসপাতালে যেয়ে দেখে মা আর বাবা রুবির পাশে বসে কান্না করছে। রনিকে দেখেই ওর বাবা মা জড়িয়ে ধরে কাঁদতে থাকে।জিজ্ঞেস করলেও কোন কথা বলেনা তারা। রনি ছুটে যায় ডাক্তারের কাছে,,ডাক্তারের কথা শুনে রনির চারপাসে এলোমেলো হয়ে যেতে থাকে। ধপ করে বসে পরে ওখানেই। রুবির মাথায় টিউমার হয়েছে যাকে বলে ব্রেন টিউমার। জন্মের পরপরই টিউমারটা হয় যেটা এখন অনেক বড় হয়ে গেছে,,এখন জরুরি অপারেশন করতে হবে,তাতেও কতটা আশা আছে তা বলা মুশকিল। ধির পায়ে রুবির বেডের পাশে এগিয়ে যায় রনি। রুবির জ্ঞান ফিরেছে, রনিকে দেখেই বলে ওঠে

-ভাইয়া আমার লাল পুতুল এনেছো??

কোন কথা বলতে পারেনা রনি,পুতুলটা বের করে রুবির দিকে এগিয়ে দেয়।পুতুল পেয়ে ভাইয়াকে জড়িয়ে ধরে রুবি।রনি নিজেকে আর ধরে রাখতে পারেনা,,হাউমাউ করে কান্না করতে থাকে,, কান্না দেখে ভ্যাবাচাকা খেয়ে যায় রুবি।ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছে,,সবাই কাঁদছে কেন?? হঠাৎ বলে ওঠে

-ভাইয়া তুমি কাঁদছো কেন।পেট ব্যাথা করছে?বোকা ছেলে পেট ব্যাথা করলে কাঁদতে হয় বুঝি,ওষুধ খেলেইতো সেড়ে যাবে।আমি যখন বড় হয়ে ডাক্তার হবো তখন তোমাকে ওষুধ এনে দেবো কেমন??

এক নিঃশ্বাষে বলে যায় রুবি,তার ধারনা মানুষ শুধু পেট ব্যাথা করলেই কান্না করে। রুবির সে কথায় কোন উত্তর খুজে পায়না রনি। শক্ত করে বুকে জড়িয়ে ধরে বোন কে। এভাবেই ১৫ দিন কেটে যায়,,রুবির অবস্থা আস্তে আস্তে আরও খারাপ হচ্ছে। চাঁদের মত মুখটা কেমন ফ্যাকাসে হয়ে গেছে। সারাটা দিন রনি রুবিকে কোলের মধ্যে জড়িয়ে রাখে,,রুবির জন্য কান্নাও করতে পারেনা ঠিক মত।

রনি বাসা থেকে ফিরে দেখে রুবি লাল পুতুলটা জড়িয়ে ধরে ঘুমুচ্ছে,,সারাটা দিন পুতুলটা ওমন জড়িয়ে ধরেই থাকে।রনি এগিয়ে এসে ওর পাসে বসে,ওর মাথাটা চুপিচুপি কোলে তুলে নেয়। মাথায় হাত দিয়ে দেখে জ্বরে গা পুরে যাচ্ছে, হঠাৎ মনে পড়ে সেবার যখন রনির জ্বর এসেছিলো রুবি সারাটা দিন ওর পাশে বসে থাকতো, একটা ন্যাকড়া পানিতে চুবিয়ে ওর কপালে দিতো,,মগে করে মাথায় পানি দিতে গিয়ে সারা গা ভিজায়ে ফেলতো।আর আস্তে আস্তে বলতো

-ভাইয়া তোমার কি খুব কষ্ট হচ্ছে??এই যে আমি মাথায় পানি দিয়ে দিচ্ছি দেখবা এখনই তুমি ভাল হয়ে যাবে। বলেই জড়িয়ে ধরে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কান্না করতো।রনি ওকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলতো

-কাঁদছিস কেন পাগলি??আমারতো কিচ্ছু হয়নি।তুই আছিসনা,,আমার সব ঠিক হয়ে যাবে।

তখনও রুবি সারাটা বেলা রনির মাথা কোলে তুলে নিয়ে চুল টানতো আর গল্প শোনাতো।কপালে,গালে চুমু দিয়ে দিয়ে আঁদর করতো।

-ভাইয়ারে হঠাৎ রুবির ডাঁক শুনে স্বম্বিত ফিরে পায় রনি,

-হ্যা বুড়ি বল।

-আমার কোলে মাথা রাখো,তোমাকে গল্প শোনাই।যাও আজকে আর টাকা নেবোনা,এখনতো আমি হাসপাতালে,দোকানে যেতে পারবোনা।যখন ভাল হয়ে যাবো তখন কিন্তু দিয়ো হ্যা?? জবাবে কোন কথা বলতে পারেনা চোখ দিয়ে জ্বল ঝড়তে থাকে।

-কি হলো ভাইয়া মাথা রাখো না। আস্তে করে মাথা রাখে রুবির কোলে,,চুল টানতে টানতে বলে

-ভাইয়া ঐ পচা মেয়েটাকে কি তুমি বিয়ে করবে??

-না করবোনা,,

-কেন করবেনা,,করো।আমার খুব ভাল লাগে।মিথ্যে বলেছিলাম ও পচা না ভাল মেয়ে।শোন ভাইয়া তোমার বিয়েতে কিন্তু আমাকে মেহেদী কিনে দেবে হ্যা?? খুব মজা হবে,ঐ পচা মেয়েটা তখন আর ফোন দিয়ে জালাবেনা,,কারন তখনতো আমাদের বাসাতেই থাকবে তাইনা বলো?? রনি কোন কথার উত্তর দেয়না,,নীরবে চোখের জ্বল ফেলে যায় শুধু।

-ভাইয়া এখন উঠো,আমার মাথার ভেতর কেমন করছে।

শুনে লাফ দিয়ে উঠে পরে রনি,,কোথায় ব্যাথা করছে আপু??খুব কষ্ট হচ্ছে?? সে কথার জবাব দেয়না রুবি। তাকিয়ে দেখে রুবি লাল পুতুলটা জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে পড়েছে। ডাক্তার দের জিজ্ঞেস করে কোনই কি উপায় নেই??ডাক্তার রা শুকনো মুখে জবাব দেয়,দেখেন আমরা চেষ্টা করছি, রনি ছুটে যায় আবারও রুবির কাছে, গিয়ে দেখে রুবি চোখ পিটপিট করে তাকাতে চাইছে কিন্তু পারছেনা রনি কে দেখেই আস্তে করে বলে ওঠে

-ভাইয়া একটা গল্প শোনাওনা। রনি রুবির মাথাটা কোলে তুলে নেয় কিন্তু কোন কথা বলতে পারেনা। রুবি আবারও বলে

-কি হলো ভাইয়া শোনাওনা। রনি আস্তে আস্তে বলে

-জানিস বুড়ি যে পরী টা টাকা চুরি করতো আমার সে এখন আর করেনা,,তুইতো জাদু জানিস এনে দেনা পরী টাকে। রুবি এই যন্ত্রনার মধ্যেও হাসতে চেষ্টা করে,,বলে

-ভাইয়া তুমি এতো বোকা কেন??পরী টাকা নিতোনা নাতো।আমি নিতাম তুমি না দিলে। কথা শুনে রনি বলে
-বুড়ি তাহলে আমি কি ছাগল??

-হ্যাঁ ভাইয়া তুমি ছাগল,,তুমি এতো বড় ছেলে তাও বোকার মত কথা বলো। ভাইয়া এবার আমি গল্প শোনাবো,, বলেই উঠতে চেষ্টা করে।রনি বলে

-এখন আর গল্প করতে হবেনা তুই ঘুমা বুড়ি।

-আচ্ছা তাহলে ঘুমাই।

বলেই পুতুলটা জড়িয়ে ধরে শুয়ে পরে। শ্রষ্ঠার উপরে খুব অভিমান জমতে থাকে,,কি দরকার ছিলো এমনটার,,যে বাচ্চাটা মৃত্যু কি জিনিস তা এখনও বুঝতেই শেখেনি তাকেই কেন সে পথে ডাকছো প্রভু?? রুবির নিষ্পাপ মুখের দিকে তাকিয়ে ভেতরটা দুমড়ে মুচরে যেতে থাকে,, রনি ইচ্ছা করেই প্রতিদিন বালিশের নিচে টাকা রেখে দিতো,,রুবি সেখান থেকে দুই টাকা করে নিতো। মা বকলেই দৌড়ে এসে ভাইয়াকে জড়িয়ে ধরতো। মাঝ রাতে জেগে উঠেই কান্না শুরু করতো,ভাইয়ার কাছে যাবো বলে বলে কান্না করতো। উপায় না দেখে রনির রুমে রেখে আসতো,,গলা জড়িয়ে ধরে গল্প করতে করতেই আবার ঘুমিয়ে যেতো। রনি রুবির কপালে আস্তে করে একটা চুমু দেয়,সাথে সাথেই রুবি জড়িয়ে ধরে,রনি জিজ্ঞেস করে

-ঘুমাশনি বুড়ি??

-নাহ,,খুব কষ্ট হচ্ছে ভাইয়া,তোমাকে খুব দেখতে ইচ্ছা করছে কিন্তু ঠিকমত তাকাতে পারছিনা।ভাইয়া শক্ত করে জড়িয়ে ধরো আমাকে।আমার খুব ভয় লাগছে ভাইয়া,জড়িয়ে ধরো আমাকে।

-এইতো আমি তোর কাছে আপু,ভয় কিসের।আমি আছিতো। বলেই জড়িয়ে ধরে কাঁদতে থাকে।

-ভাইয়া,লাল পুতুলটা এমন কালো দেখাচ্ছে কেন??ভাইয়া আমার পুতুলের জন্য একটা বর খুজে দিয়ো,ওকে বিয়ে দেবো। ভাইয়া নাওতো,,পুতুলটা কান্না করছে ওর কান্না থামিয়ে তারপর দাও। আমার খুব কষ্ট হচ্ছে এখন বলতে বলতেই চোখ বড় বড় করে তাকাতে থাকে,যন্ত্রনায় কুঁকড়ে ওঠে,রনির কোলেই নেতিয়ে পরে। রনি চিৎকার করে ডাক্তারকে ডাঁকতে থাকে ডাক্তার এসে দেখে বলে আশা নেই তারপরেও আমরা শেষ চেষ্টা হিসেবে অপারেশনটা করতে চাই। রুবিকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাচ্ছে,তখনই আস্তে আস্তে বলতে থাকে

-ভাইয়া আমার ভয় লাগছে,জড়িয়ে ধরো। শুনে দৌড়ে গিয়ে রুবিকে জড়িয়ে ধরে।

-এইতো বুনু আমি তোর কাছেই,কিচ্ছু হয়নি সব ঠিক হয়ে যাবে,ভয় পাসনে বুড়ি।

ডাক্তার অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যায়। রনির হাতে তখনও লাল পুতুলটা ধরা। কয়েক ঘন্টা পর অপারেশন থিয়েটার থেকে রুবির নিথর দেহটা বের করে আনে। মা জ্ঞান হাড়িয়েছেন,,বাবা কান্না করছে। রনি দৌড়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরে।

-বুড়ি,বুড়িরে ওঠ।গল্প শোনাবিনা আমায়,,আমার খুব কষ্ট মাথা ব্যাথা করছে ভিষন,,চুল টেনে দেনা বুনু।তোর কোলে মাথা না রাখলে আমার যে ঘুম আসেনা।ওঠনা বুড়ি প্লিজ। রনির আহাজারিতে চারপাশে কেমন এক থমথমে পরিবেশের সৃষ্টি করে। রুবি আর উঠবেনা কখনো,,মহাকাল তাকে ছুঁটি দিয়েছে।সে এখন অসীমের বাসিন্দা। রনি খুব করে চাইছে অজ্ঞান হতে কিন্তু কোন ভাবেই হচ্ছেনা। এমন যন্ত্রনা থেকে মুক্তি পেতে পালিয়ে যেতে চায় রনি। উঠে দাড়াতেই রুবির নিথর দেহ থেকে যেন বলে ওঠে

-ভাইয়া আমার লাল পুতুল???

গল্পের বিষয়:
গল্প

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত