স্পেশাল মেন্যু

স্পেশাল মেন্যু

যত ভালোই রান্না করি আমার দুই ভাই কোনদিন বলবে না রান্না মজা হয়েছে। একদিন বলবে ঝাল বেশী হইছে , একদিন বলবে তেল বেশী হইছে, একদিন বলবে লবণ হয় নাই। আসলে সবই ঠিকমত হয়, কিন্তু রান্না ভালো হয়নি বললে আমি রেগে যাই। আমি চাই খেয়ে যেন সবাই প্রশংসা করে। কিন্তু যতই ভালো রান্না করি ওরা দুইজন ভালো বলবে না আমাকে রাগানোর জন্য।

মাঝেমাঝে খাওয়ার সময় বলতাম আম্মা রান্না করছে তখন বলতো বাহ্ আম্মা রান্না করছে দারুণ হয়েছে তো। আম্মার হাতে জাদু আছে। আর যখনই বলতাম হা হা আম্মা নয় আমি রান্না করছি ঠিক তখনই বলতো উফ আহ কি ঝাল মা গো মরে গেলাম বলে পানি খাওয়া শুরু করে। আর যদি বলি কি রে এই মাত্র না বললি খুব ভালো হয়েছে এখন যেই আমি রান্না করছি বললাম অমনি ঝাল হয়ে গেল?

তখন বলে আরে আম্মা তো চোখে কম দেখে তাই ভুলে হতেই পারে, ঝাল বললে আম্মা কষ্ট পাবে তাই কষ্ট করে খাচ্ছিলাম। তুই এমন অখাদ্য কেমনে রান্না করিস? তোর থেকে তো কেকা আফার নুডলোসের রেসিপি অন্তত ভালো আছে। জি বাংলায় দেখস না তেল ছাড়া কত মজার মজার ফাটাফাটি রান্না করে। আর তুই তো তেলের ডিব্বা খালি করে ফেলিস তবু রান্না মজা হয় না। গুলিস্তানের খাবার খাইয়া ও যাদের পেট খারাপ হবে না তাদের তোর রান্না খাইলেই পেট খারাপ হবে। দাঁড়া কাল অনলাইনে বিজ্ঞপ্তি দিব যাদের গুলিস্তানের খাবার খেয়েও পেট খারাপ হয় নাই তারা যদি পেট খারাপ করতে চান আমাদের বাড়ি এসে যেন খাবার খেয়ে যান। ১০০% গ্যারান্টি সহকারে আপনাদের পেট খারাপ করা হবে।

এসব বলেই বিচ্ছিরি ভাবে হাসতে লাগলো। ওদের কথা শুনে মেজাজ চরম খারাপ হয়ে যায়। রেগেমেগে চলে আসি খাওয়ার টেবিল থেকে। কিভাবে ওদের মুখ থেকে প্রশংসা বের করা যায় সেই চিন্তা করতে লাগলাম। এত ভালো রান্না করেও ওদের মুখ থেকে প্রশংসা বের করতে পারি নাই, এবার স্পেশাল মেন্যু রান্না করবো দেখি কি করে ভালো না বলে থাকে। আম্মুকে বলে দিলাম আজ আমাকে রান্নাঘরে কোন হেল্প করা লাগবে না। আজ আমি সব স্পেশাল খাবার রান্না করবো। যথারীতি রান্না করে নিলাম স্পেশাল সব মেন্যু। আর খেতে ডাকলাম দুই ভাইকে আম্মুকে বললাম তুমি আর আমি পরে খাবো আগে ভাইদের খাইয়ে দিই। কি রে বইনা এইসব কি রান্না করছিস? আজ তোদের জন্য স্পেশাল মেন্যু। নুডলোসের সাথে শুটকি আর বেগুন দিয়ে কেকা আপার স্পেশাল ভর্তা, তেল ছাড়া রুই ভাপা, তেল ছাড়া আলুর দম জি বাংলার রান্নাঘর থেকে শিখে নিলাম ইউটিউবে। দুইভাই কাঁচুমাচু করে তাকালো আমার দিকে। আমি বলমাম খেয়ে দেখ তো কেমন হলো।

নুডলসের ভর্তা নিয়াই বলল ওয়াক কি করছিস কি এটা না তিতা না মিঠা এটা কিছু হইলো?? আরে তোরাই তো বলিস ঝাল ঝাল তাই তো মরিচ দিলাম না। তাই বলে মরিচ ছাড়া ভর্তা করবি?? আচ্ছা বাদ দে আলুর দম টা খেয়ে দেখ। আলুর দম মুখে দিতেই বড় বড় চোখ কইরা দুই ভাই একে অন্যের দিকে তাকিয়ে থাকলো কিছুক্ষণ। তারপর বলল বইন এটা আলুর দম না বইলা মিষ্টির দম বললেই পারতি। তার উপর তেল নাই কাঁচা মসলার গন্ধ। এটা কিছু হইলো!!!

আমি মুচকি মুচকি হাসছি আর মুখে বললাম আহারে তাই নাকি ইস ইস নে ভাই মাছটা নে। মাছ মুখে দিয়ে থু থু করে ফেলল। আর বলল ওই এটা কি রান্না করছিস?? ঝাল নাই, তেল নাই, সব কাঁচা কাঁচা গন্ধ। কেন ভাইজানেরা কেকা আপার নুডলসের রেসিপি নাকি আমার রান্নার চেয়ে ভালো, জি বাংলার তেল ছাড়া রান্না ও নাকি ফাটাফাটি এখন খেতে অসুবিধা হচ্ছে কেন? খেয়ে নে না তোদের পছন্দ মতই তো রান্না করছি স্পেশাল সব মেন্যু। ওরে বইন ঘরে দুধ আর আনারস আছে?

দুধ আছে তবে আনারস তো নাই। তবে তরমুজ আছে। ভাতের সাথে খাবি নাকি আনবো হা হা না তরমুজ দিয়া কিতা করুম তোর এই অখাদ্য খাওয়ার চেয়ে ভাবতাছি দুধ আর আনারস খাইয়া মইরা যামু। হি হি হা হা কেন ভাই এগুলোই তো তোদের পছন্দের খাবার এখন অখাদ্য হইলো কেন? অখাদ্য তো আমার তেল আর ঝালের রান্না। গুলিস্তানের খাবার ও নাকি আমার চেয়ে ভালো। আমার রান্না খেলে তো ১০০% গ্যারান্টি সহকারে পেট খারাপ হয়।

বইন মাফ কর আর কমু না। তোর তেল,ঝাল দিয়া রান্না অখাদ্য থুক্কু অনেক মজা হয়। তোর রান্না খাইলে পেট আনন্দে লুঙ্গি ডান্স করে। প্লিজ বইন তবু এই খাবার খেতে বলিস না। দরকার হলে একটা ডিম ভাজি কইরা দে তাও ভালো।

আমি হাসতে হাসতে আগেই করে রাখা বেগুন ভর্তা টা এনে দিয়ে বললাম এটা দিয়ে খাওয়া শুরু কর বাকি রান্না করে নিচ্ছি। ওরা খেতে শুরু করলো আমি মাছ গুলো ভাজা করে দিলাম। আর তেলের মধ্যে পিঁয়াজ, টমেটো আর সামান্য টক দই দিয়ে কসিয়ে আলুর দমটা রান্না করে নিলাম। আর আগেই সিদ্ধ করে রাখা ডিম গুলো ভুনো করে দিলাম।

এবার বল কেমন হইছে। এক ভাই বলল ফাটাফাটি হইছে বোন। ছোট ভাই বলল কি বলিস ভাই ফাটাফাটি মানে আমার বোন সেরা রাঁধুনীতে গেলে আর কেউ চান্স পাইতো না আল্লাহ বাঁচাইছে আমার বোন যায় নাই তাই ওরা চান্স পাইছে। ওই দুষ্টমি করলে কিন্তু তোকে স্পেশাল মেন্যু দিয়া খাওয়াবো। না না বোন কান ধরছি আর কমু না। খুব মজা হইছে খুব মজা হইছে প্লিজ ওই স্পেশাল মেন্যুর নাম ভুলেও মুখে আনিস না আর। আমি হাসতে লাগলাম যাক স্পেশাল মেন্যু কাজে আসছে।

গল্পের বিষয়:
গল্প

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত