অতৃপ্ত প্রতিশোধ

অতৃপ্ত প্রতিশোধ

বাড়িটায় পা দিতেই কেমন একটা মৃদু ঠান্ডা বাতাস বয়ে গেলো মেঘের শরীর জুড়ে! মেঘ আকস্মিকতা কাটিয়ে তাকিয়ে আছে বাড়িটার দিকে। বিশাল বড় বাড়ি! হয়ত কোনো পুরনো রাজমহল টাইপ কিছু একটা হবে। কোম্পানির একটা সাইট দেখতেই এদিকে আসা। ওকে একাই আসতে হয়েছে। তবে মাঝপথে গাড়িটা নষ্ট হয়ে যায়। এদিকে সন্ধ্যাও হয়ে আসছে। তাই আর উপায় না দেখে বাড়িটার দিকে পা বাড়ায় ও। ও অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখে চারপাশটা।

এতো বড় বাড়ি তবে দরজায় কোনো তালা নেই! তাহলে কি এখানে কেউ থাকে। থাকলে তো ভালোই হলো! রাতটা কাটানো যাবে নির্বিঘ্নে। কথাটা ভাবতে ভাবতে দরজায় কড়া নাড়ার আগেই দরজাটা আপনা-আপনি খুলে যায়! দরজা খুললে মেঘ ভয়ে দু-পা পিছিয়ে আসে! দরজার ওপাশে অদ্ভূত দেখতে একটা লোক ওর দিকে তাকিয়ে হাসছে! কুৎসিত এক হাসি! দাতগুলো বিশ্রীরকম কালো, লম্বা জট বাধা চুল, চোখ দুটো যেনো ফেটে বেড়িয়ে আসবে! মেঘ খুব ভয় পেয়ে ফিরে যাওয়ার কথা ভাবতেই লোকটা বলে উঠলো…

– সাহেব, ভয় পাবেন না। আমি রঘু। এ বাড়ির

কেয়ারটেকার। আপনি থাকার জায়গা চান তো? কথাটা শুনে মেঘ কিছুটা ভড়কে গেলো! তারপর নিজেকে সামলে হ্যা-সূচক সম্মতি জানিয়ে মাথা নাড়ালো। তখন রঘু আবার বলল…

– প্রায়ই কেউ না কেউ এখানে থাকতে আসে সাহেব। এদিকে হোটেল বা থাকার জায়গা আর নাই তো! এবাড়ির মালিকও খুব ভালো লোক। উনি নিজেই বলে গেছেন কেউ থাকতে আসলে তাকে থাকতে দিতে! আপনি ভিতরে আসুন।

মেঘ রঘুর কথাবার্তা শুনে কিছুটা আশ্বস্ত হলো! তাই আর কথা না বাড়িয়ে ভিতরে ঢুকে গেলো সে! ভিতরটা দেখেও খুব অবাক হয় মেঘ! বাইরে সবকিছু অপরিষ্কার থাকলে ভিতরটা খুব পরিষ্কার! যেনো প্রতিদিন পরিষ্কার করা হয়। ভিতরটাও বিশাল বড়! নিশ্চয় এর যে মালিক তার বাপ-দাদা রাজা-মহারাজা! আর তখনকারই এ বাড়িটা নাহলে এতো সুন্দর কারুকাজ করা বাড়ি এখন দেখা যায় না।

রঘু মেঘ বাড়ি সম্পর্কে বলতে বলতে দুইতালায় একটা ঘরে নিয়ে গেলো। ঘরটা খুব সুন্দর করে সাজানো। পুরো রাজকীয় একটা ঘর। বড় খাট, দক্ষিণা জানালা! আরও কিছু ছোট তবে আকর্ষণীয় আসবাবপত্র দিয়ে সাজানো ঘরটা। সামনের দেয়ালে এক অসম্ভব সুন্দরীর ছবি। মেঘ কিছুক্ষনের জন্য মুগ্ধ হয়ে গেছিলো ছবিটায়! রঘুর ডাকেই ওর জ্ঞান ফেরে…

– সাহেব, আপনি হাত-মুখ ধুয়ে একটু বিশ্রাম করে নিন।

আমি খাওয়ার ব্যবস্থা করছি! মেঘ কিছু না বলে আবারও হ্যা-সূচক মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানালো। রঘু চলে গেলে ফ্রেশ হয়ে নিজেকে বিছানায় এলিয়ে দিতেই ঘুমিয়ে পড়লো সে! তবে ঘুমে এক অদ্ভুত স্বপ্ন দেখে সে! ঘুমের মধ্যে সেই ছবির সুন্দরী রমনীর সাথে সে নিজের যৌন-কামনা মেটাতে গেলে হঠাৎই রমনীটি ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করে! পঁচা-গলা মুখ, বিকৃত এক হাসি! মেঘ খুব ভয় পেয়ে খুব ভেঙে গেলে সামনে রঘুকে মোমবাতি নিয়প দাড়িয়ে থাকতে দেখে…

– কি হয়েছে সাহেব? খারাপ স্বপ্ন দেখেছেন বুঝি! মেঘ ঘাম মুছতে মুছতে বললো…
– তুমি এখানে?
– সাহেব, কারেন্ট চলে গেছে।

তাই মোমবাতি দিতে এলাম। আর রান্নাও হয়ে গেছে! আপনি আসুন, খেয়ে নিন! মেঘ তখন রঘুর পিছনে ১২-১৩ বছরের এক মেয়েকে দেখতে পায়। রঘুর জামা পিছন থেকে টেনে ধরে উঁকি দিয়ে মেঘকে দেখছে! রঘু বুঝতে পেরে বললো…

– সাহেব, ও আমার নাতী। তিথী। আমার সাথেই থাকে।
– ওহ! হুম, তুমি যাও আমি আসছি!

মেঘ স্বপ্নটাকে একটা দুঃস্বপ্ন ভেবে ভুলে যায়। খাবার টেবিলে ওর নজর বারবার তিথীর দিকে আকৃষ্ট হচ্ছে! বয়স কম হলেও শরীরে যেনো আগত যৌবনের ছাঁপ। মেঘ বারবার দূর্বল হয়ে পড়ছে তিথীর প্রতি! ওর কামনা ক্রমশ বাড়ছে!! খাবার শেষ করে মেঘ টেবিল ছেড়ে উঠে যেতে থাকলে রঘু বলে…

– সাহেব, আমার একটু কাজ আছে। তাই বাইরে যেতে হবে। খুব জলদি ফিরে আসবো। আপনি ততক্ষণ তিথীর একটু খেয়াল রাখবেন? মেঘ তিথীর দিকে তাকালো। তিথী মাথা নীচু করে দাড়িয়ে আছে। তারপর বললো…

– ওর যদি সমস্যা না হয় তো…
– ওর সমস্যা হবে না। আপনি একটু দয়া করে ওর খেয়াল রাখলে আমি নিশ্চিন্ত হতাম।
– আচ্ছা! আমি ওর খেয়াল রাখবো।

রঘু মেঘকে ধন্যবাদ দিয়ে বেড়িয়ে গেলো। বিশাল একটা বাড়িতে একটা পুরষ আর একটা কিশোরী মেয়ে! মেঘের লালসা ক্রমশ বাড়ছে! নিজেকে ঠিক রাখতে পারছে না! ও বিছানায় তিথীর পাশে এসে বসলো…

– তোমার ভয় করছে না তো?

তিথী তখন মেঘের ফোনে একটা পুতুলের ছবি দেখছে! সেখান থেকে চোখ না সরিয়ে কেবল মাথা নাড়িয়ে না বললো। মেঘ ফোনে তিথী যে ছবিটা দেখছে সেটা দেখতেই অবাক হলো! এই পুতুলটা ও এ ঘরে দেখেছে। একটু খুঁজতেই পেয়ে গেলো পুতুলটা। তারপর তিথীকে দেখিয়ে বললো…

– এটা তোমার চাই? তিথী খুশি হয়ে পুতুলটার দিকে হাত বাড়িয়ে নিতে গেলে মেঘ সরিয়ে বললো…

– এটা দিলে আমি কি পাবো?
– কি চান?
– আমি যা চাবো তাই দেবে?

তিথী মাথা নাড়িয়ে হ্যা বললো। তারপর মেঘ তিথীকে বিছানায় শুইয়ে দিলো! ওর চোখ চকচক করছে! চোখে তিথীর প্রতি থাকা লোভ স্পষ্ট! তিথী চোখ বন্ধ করে আছে। ও ঝুঁকে তিথীর ঠোঁটে ঠোঁট ডুবিয়ে দিতে গেলে হঠাৎই এক কান্নার শব্দ ওর কানে আসে!

মেঘ শব্দটা শুনে একটু অবাক হয়! এ বাড়িতে তো আর কেউ নেই। আর শব্দটা এ ঘরেরই! বিছানা থেকে উঠে দাড়ালে হঠাৎই ওর চোখ আটকে যায় টেবিলের কোণায়! একটা মেয়ে দেওয়ালের দিকে মুখ করে বসে আছে! মেঘ ধীরে ধীরে ওর কাছে যেয়ে গায়ে হাত দিতেই মাথাটা ৩৬০ ডিগ্রী ঘুরে যায়! মেঘ চেহারাটা দেখেই পিঁছিয়ে যায়! এটা তিথী! মেঘ বিছানায় তাকালে চমকে যায়। তিথী নেই। আবার যখন ও মেয়েটার দিকে ফেরে তখন মেয়েটা নাই!

হঠাৎই ছাদে তাকিয়ে মেঘ চিল্লিয়ে ওঠে! তিথী উল্টা হয়ে ঝুলছে! মেঘ মেঝেতে পড়ে যায়! তিথী দেওয়াল বেয়ে হাটতে হাটতে মেঘের মুখের একদম কাছে চলে আসে! মেঘের মুখ দিয়ে আওয়াজ বের হচ্ছে না! ঘন ঘন নিশ্বাস ফেলছে মেঘ। হঠাৎই আলমারির দরজাটা খুলে যায়। ভিতরটা দেখে মেঘ আঁৎকে উঠে! রঘুর গলাকাঁটা লাশটা ঝুলছে! ও খুব কষ্টে তিথীর চোখে চোখ রাখে। যে চোখে কোনো মণি নাই। ও হঠাৎই তিথীর চোখে দেখতে পায়, রঘু কিভাবে তিথীকে ধর্ষণ করে হত্যা করে! ওর গলা শুকিয়ে গেছে। ওর বুঝতে বাকি নেই ওর সাথে কি ঘটবে!

দেওয়ালে কিছু ছাঁয়া দেখা যায়। এক লোকের মাথা ছিড়ে নেওয়ার প্রতিবিম্ব স্পষ্ট দেখা যায় সেখানে! তারপর পুরো বাড়ি জুড়ে অট্টহাসির রোল শোনা যায়! এক কিশোরী মেয়ের অট্টহাসি! এক কিশোরী মেয়ের প্রতিশোধ গ্রহণের হাসি! এক অতৃপ্ত আত্মার প্রশান্তির হাসি!

গল্পের বিষয়:
গল্প

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত