অনুদ্ভূত

অনুদ্ভূত

বিয়ের তিন বছর পর অরণি মা হতে চলেছে। এখন সে তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা। স্বামী সংসার নিয়ে খুব ভালোই দিন কাটছে তার। শ্বশুর-শাশুড়ির কোনো ঝামেলা নেই, কোটিপতি হ্যাজবেন্ডকে নিয়ে আলাদা থেকে সে। সন্ধ্যাবেলা অরণি ঘুমাচ্ছিল হঠাৎ ছোট বাচ্চার হাসির শব্দে তার ঘুম ভেঙ্গে যাই। ঘুম থেকে উঠে বসে সে ভাবতে লাগলো, হয়তো মনের ভুল ঠিক তখনি আবার বাচ্চার হাসির শব্দ শুনতে পেল সে। বাচ্চার শব্দ কোথেকে আসছে! বাসায়তো আমি ছাড়া আর কেউ নেই তাহলে বাচ্চা আসবে কোথেকে!

হাসির শব্দটা ড্রইংরুম থেকে বেসে আসছে মনে হচ্ছে, অরণি বেড থেকে নেমে আস্তে আস্তে ড্রইংরুমের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ড্রইংরুমে এসে দেখে, আরেহ এখানেতো কেউ নেই!হাসির শব্দটাও নেই! ধুর সবটুকু ছিলো তাহলে আমার মনের ভুল এভেবে অরণি তার পেটে হাত রেখে তার অনাগত সন্তানের উদ্দেশ্যে বলে উঠলো, “কি বাবা একা একা হাসা হচ্ছে? আর দেখো মা কি না কি ভেবে ভয় পাচ্ছি। আমার কলিজাটার কথা আমি একদম ভুলে গেছি।বাবা আসার সময় হয়েছে এইজন্য বুঝি এতো হাসি হুম?” ঠিক তখনি কলিংবেল বেজে উঠলো অরণি চমকে গিয়ে বললো,

-ওই দেখো বলতে না বলতে বাবা চলে এসেছে। দরজা খুলতেই রাফিকে দেখলো অরণি। কিন্তু রাফিকে অন্যরকম দেখাচ্ছে আজকে। রাফিকে এমন দেখে অরণি জিজ্ঞাস করলো,

-কি ব্যাপার আজকে চোখ মুখ এতো লাল কেন তোমার?অফিসে কি কাজের চাপ ছিলো? অরণির কোনো কথার উত্তর না দিয়ে রাফি ভিতরে ঢুকে সোজা রুমে চলে গেলো। অরণি রুমে আসতেই দেখলো রুমে কেউ নেই এটা দেখে চিন্তায় পড়ে গেল অরণি, ঠিক তখনি বাথরুম থেকে পানি পড়ার শব্দ শুনা গেলো। অরণি বাথরুমের সামনে গিয়ে বললো,

-কি ব্যাপার কি হয়েছে তোমার? আজকে এসেই গোসলে করছো যে?তোয়ালেটাও তো সাথে নিয়ে ঢুকলা না।
আবার কলিংবেল বেজে উঠলো। কলিংবেলের শব্দে অরণি চমকে উঠলো। কি ব্যাপার এখন আবার এই সময়ে কে আসলো? অরণি দরজা খুলে ভূত দেখা মত দাঁড়িয়ে আছে।

-কি হলো?এমন ভাবে দাঁড়িয়ে আছো যে? সরি আজকে তাড়াতাড়ি আসার কথা ছিলো কিন্তু রাস্তায় যে জ্যাম ছিলো কি বলবো.. এই অরণি কি হলো তোমার? এমন অবাক আর ভীত চোখে কি দেখছো?

-তুমি যদি এখানে হও তাহলে বাথরুমে কে? একটু আগে কে আসলো? কথাটা বলে অরণি রুমের দিকে দৌঁড় দিলো। নাহ রুমে কেউ নেই বাথরুমে কেউ নেই! অরণিকে এভাবে দৌঁড়তে দেখে রাফিও তার পিছু পিছু ছুটল। অরণি শুধু বলে যাচ্ছে এখানেইতো ছিলো, এখানেইতো ছিলো অরণিকে এমন করতে দেখে রাফি তাকে জড়িয়ে ধরে বলে, “এইতো আমি এখানেই তোমার সামনে দাঁড়িয়ে আছি।” অরণি বলে উঠে, “না রাফি একটু আগে কেউ এসেছিলো, তোমার মত দেখতে, এসেই সে বাথরুমে চলে যাই বিশ্বাস করো আমি সত্যি বলছি। অরণির এমন পাগলামি আর ভয়ার্ত মুখ দেখে রাফি বুঝেছে অরণি কিছু দেখে ভয় পেয়েছে। রাফি অরণিকে সান্ত্বনা দিয়ে বলছে,

-কালকে না হয় আব্বা-আম্মাকে এখানে নিয়ে আসি। সারাদিন তুমি একা বাসায় থাকো। কি না কি নিয়ে চিন্তাভাবনা করো। বাসায় কেউ থাকলে কথা বলার জন্য ও তোমার মানুষ হবে সময়ও কেটে যাবে। রাফির এমন কথা শুনে অরণি বলে উঠে,

-না কাউকে নিয়ে আসার কোনো প্রয়োজন নেই। আমার একা থাকতে মোটেও খারাপ লাগে না।তুমি কাউকে নিয়ে আসবা না বলে দিলাম। অরণির মনের লোভ, সব কিছু তার একার চাই, এতে কাউকে সে ভাগ বসাতে দিবে না। কথা আর না বাড়িয়ে অরণি রাফিকে ফ্রেশ হয়ে আসতে বলল।

গভীর রাত ঘুমে অচেতন অরণি রাফি দুজনেই। হঠাৎতি আবার সে হাসির শব্দ শুনা যাচ্ছে। হাসির শব্দে অরণির আবারও ঘুম ভেঙ্গে যাই। হুরমুর করে উঠে বসে সে, ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখে ঘড়িতে ৩:১০ বাজে।গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে আছে। পানি খাওয়ার জন্য খাটের পাশে রাখা গ্লাসের দিকে হাত বাড়ায় সে। গ্লাসে পানি নেই। এইদিকে পানির পিঁপাসায় তার বুক ফেঁটে যাচ্ছে। খাট থেকে নামতে যাবে তখনি আবার হাসির শব্দটা শুনলো। আবারও বাচ্চার হাসির শব্দ! এবারও ড্রইংরুম থেকে আসছে শব্দটা।অরণি নেমে গিয়ে ড্রইংরুমে গেলো। কি আশ্চর্য! একটা ফুটফুটে বাচ্চা নিচে বসে তার দিকে তাকিয়ে আসছে। বাচ্চাটার বয়স হয়তো ৩ বছর হবে চোখের দেখায় যতটুকু অরণির মনে হলো। কিন্তু এই বাচ্চাটা এখানে কোথেকে কিভাবে আসলো?দরজা তো আমি ভালো করে বন্ধ করেছি। অরণি মনে মনে ভাবতে লাগলো। বাচ্চাটার চোখে মুখে কি যে মায়া। একটা বাচ্চা মেয়ে। অরণি বাচ্চাটার কিছুটা কাছে এগিয়ে গেলো তখনি ড্রইংরুমের জানালাটা সজোরে শব্দ করে খুলে গেলো। জানালা খুলার শব্দে অরণি জানালার দিকে তাকাতেই দেখলো একটা ছায়া জানালার পাশ থেকে সড়ে গেলো।

জানালার থেকে চোখ ফিরিয়ে বাচ্চাটার দিকে তাকাতেই দেখলো সেখানে কোনো বাচ্চাই নেই! অরণি ভয়ে দু’পা পিছিয়ে গেলো। তার মনে হচ্ছে জানালার ওপাশ থেকে কেউ তার দিকে তাকিয়ে আছে। ভয়ে ভয়ে সে জানালার দিকে তাকাতেই দেখলো জানালা বন্ধ! কিন্তু কিছুক্ষণ আগেও এই জানালা খোলা ছিলো, এখানে একটা বাচ্চা ছিলো এখন কিছুই নেই! হিসেবটা মিলাতে না পেরে অরণি ভয়ে রুমের দিকে দৌঁড়ে চলে আসলো।বিছানায় বসে সে হাঁপাচ্ছে। পাশে রাখা গ্লাসের দিকে তাকাতেই তার চোখ যেন সেখানেই আটকে গেলো আশ্চর্য! গ্লাসেতো কোনো পানি ছিলো না তখন, এখন পানি আসলো কোথেকে! অরণি পানির গ্লাসের দিকে তাকিয়ে বসে আছে তখনি আবার সেই হাসির শব্দ শুনতে পেল! ভয়ে তার হাত পা ঠান্ডা হয়ে আসছে।সে আর বসে থাকতে পারছে না তাড়াতাড়ি শুয়ে সে রাফিকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো আর মনে মনে আল্লাহ্কে ডাকতে লাগলো।

পরেরদিন রাফি অফিসে যাওয়ার সময় অরণি রাফিকে বলে দিলো তাড়াতাড়ি যেন বাসায় ফিরে আসে। রাফি চলে যাওয়ার পিছনে অরণি নিজের কাজ গুলো করতে লাগলো। অরণি তার নিজের রুম গুছাচ্ছিল তখনি তার রুমের দরজার সামনে থেকে বাচ্চা কন্ঠে কেউ তাকে বলে উঠলো,

-মাম্মা মাম্মা

অরণি চমকে উঠে পিছনের দিকে তাকাতেই দেখে কালকে রাতের সে বাচ্চাটা রুমের সামনে দাঁড়িয়ে তার দিকে তাকিয়ে হাসছে আর তাকে মাম্মা মাম্মা বলে ডাকছে। অরণি দাঁড়ানো থেকে খাটের উপর বসে পড়লো। বাচ্চাটার মাম্মা মাম্মা শব্দে ডাকা বুলি তাকে কিছু মনে করিয়ে দিচ্ছে কিন্তু অরণি চাচ্ছে না সে অতীত মনে করতে।সে বাচ্চাটার দিকে তাকিয়ে বললো,

-কে তুমি?তোমার আম্মু কে? এখানে কি করে এলে? কি চাও তুমি আমার কাছে?বাসায় তুমি কি ভাবে ঢুকলে?কালকে রাতে কোথায় গায়েব হয়ে গিয়েছিলে?

অরণি সব গুলো প্রশ্ন একসাথে করে বাচ্চা মেয়েটার চোখের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। মেয়েটার চোখে এক মায়া রয়েছে। এই নিষ্পাপ চোখে যেন কত্ত আকুতি,মিনতি,প্রশ্ন, ভালোবাসা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা জমে রয়েছে। চোখ গুলো তার চেনা চেনা লাগছে মনে হয় যেন এই চোখের নেশায় সে কত্তবার পড়েছে। চোখ থেকে নাকের দিকে তাকাতেই তার মনে হচ্ছিলো নাকটা মিশ্র গড়নের। একসময়কার তার খুব কাছের পরিচিত কারোর নাক আর তার নিজের নাকের সাথে মিল রয়েছে এই বাচ্চা মেয়েটির নাকের । নাক থেকে ঠোঁটে নামতেই সে অদ্ভুত ভাবে চমকে গেলো! আরেহ বাচ্চাটার ঠোঁট টা একদম তার মত দেখতে! শুধু তা নয় ঠোঁটের উপরের তিল টাও একদম তার ঠোঁটের উপরে থাকা তিলটার মত! অরণি আরও কিছু ভাবতে যাবে তার আগেই বাচ্চা মেয়েটি একগাল হাসি নিয়ে বলে উঠলো,

-মাম্মা মাম্মা ও ও ও মাম্মা, পাপা আয় না অরণির আর এইসব সহ্য হচ্ছে না সে চিৎকার দিয়ে বলে উঠলো,
-না আমি তোমার মাম্মা নই। কেন এখানে এসেছো তুমি? কি চাও তুমি? বাচ্চা মেয়েটি বলে উঠলো,

-তুমি আমার মাম্মা। মাম্মা মাম্মা বলে মেয়েটা এক পা দু’পা করে অরণি দিকে এগিয়ে আসছে। বাচ্চাটাকে নিজের দিকে এগিয়ে আসতে দেখে অরনি ভয়ে একটু একটু করে পিছনে যাচ্ছে। মেয়েটি কিছুটা এসে হঠাৎ দাঁড়িয়ে পড়লো তারপর অরণির দিকে তাকিয়ে কাঁদো কাঁদো মুখ নিয়ে প্রশ্ন করলো,

-ওকে বুঝি খুব ভালোবাসো?

অরণি তখন নিজের পেটের হাত রেখে পিছনে সরে বসছিলো। বাচ্চাটার এমন কথায় অরণি খুব অবাক হয়!কারণ তিন বছরের বাচ্চারাতো দু’একটা বুলি ছাড়া ঠিক মত কথা বলতে পারে না। সেখানে এই বাচ্চা মেয়েটা ও’কে প্রশ্ন করে বসলো! অরণি উত্তর দিচ্ছে না দেখে মেয়েটা আবার প্রশ্ন করলো,

-বলোনা মাম্মা ওকে খুব বেশি ভালোবাসো? মাম্মা অরণি বলে উঠলো,
-হ্যাঁ ভালোবাসি ও এখন আমার সব। তুমি প্লিজ চলে যাও। অরণির উত্তর শুনে বাচ্চাটি কান্না করে বলতে লাগলো,

-তাহলে কেন সেদিন আমাকেও ওর মত করে ভালোবাসতে পারোনি? আমিওতো ওর মত ছিলাম ঠিক ও এখন যে জায়গাটায় রয়েছে। ওই উষ্ণ জায়গাটা থেকে কেন আমায় এমন টেনে হিঁছরে বের করলে মাম্মা? মেয়েটার কান্নার শব্দ অরণি মাথায় তীরের মত এসে বিঁধছে। অসহ্য যন্ত্রণা হচ্ছে তার মাথার মধ্যে। অরণি মেয়েটিকে ধমক দিয়ে বললো,

-চুপ কর তুমি। কি সব উল্টা পাল্টা কথা বলছো তুমি?কে তুমি? আমি তোমাকে চিনিনা আর চিনতে চাই ও না।
অরণি কথা শুনে বাচ্চাটি কান্না বন্ধ করে ওর দিকে তাকিয়ে রইলো তারপর বললো,

-চিন্তে পাচ্ছো না মাম্মা? আমি তোমার ফুল মাম্মা। তুমি বলেছিলে না আমি যেন তোমায় মাম্মা বলে ডাকি কিন্তু তুমিতো আমাকে পৃথিবীতে আসতেই দিলে না। তুমি ওই মহিলাটা কে দিয়ে আমাকে যন্ত্রণা দিয়ে ছিন্নভিন্ন করে দিলে। দেখো মহিলাটা আমায় কেমন করে ছিন্নভিন্ন করেছে এই কথা বলে বাচ্চা মেয়েটি ফ্লোরে পড়ে গেল আর অরণি দেখতে পেল ফ্লোরে পড়ে থাকা একটি বাচ্চার চুন্নভিচুন্ন মস্তিষ্ক, ছিন্নভিন্ন হাত-পা আর খণ্ডবিখণ্ড দেহ! এইসব দেখে অরণি চিৎকার দিয়ে উঠলো। অরণি চিৎকারে বাচ্চাটি আবার মানুষরূপে ফিরে এসে বললো,

-মাম্মা ভয় পেওনা। আমার সেদিন খুব কষ্ট হয়েছিলো জানো মাম্মা? এখন তোমার গর্ভে যে রয়েছে তাকেও তুমি বের করে ফেলো তারপর চলো আমার সাথে। আমায় যেমন তিনমাস চার দিনের মাথায় ওই উষ্ণ জায়গা থেকে বের করে ফেলেছো ঠিক ওর ও তো এখন তিনমাস চার দিন চলে ওকে ও বের করে ফেলো। চলো মাম্মা চলো আমার সাথে আমার দুনিয়ায়।

বাচ্চাটার কথা শুনের পর অরণির পেটে ভীষণ যন্ত্রণাদায়ক ব্যথা শুরু হয়েছে।অরণি চিৎকার করছে ব্যথায়। রাফিকে কল করার জন্য ও ফোন খুঁজছে কিন্তু পাচ্ছে না। এইদিকে ব্যথা তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে।অরণি বিছানায় শুয়ে ব্যথায় ছটফট করছে। অরণির এই কষ্ট দেখে বাচ্চা মেয়েটি হেঁসেই চলেছে। মুহূর্তেই অরণির পছন্দের সাদা বিছানারচাদরটি লাল হয়ে যাচ্ছে।আস্তে আস্তে অরণির চোখ বন্ধ হয়ে আসছে, রুম অন্ধকার হয়ে যাচ্ছে তার কাছে। কিছুদিন পর অরণি ড্রাইংরুমে যাচ্ছিলো টিভি দেখার জন্য। ড্রাইংরুমে কাউকে বসে থাকতে দেখে অরণি থমকে দাঁড়ায়।তার অতি পরিচিত কেউ বসে আছে। তাকে উদ্দেশ্য করে অরণি বলে উঠে,

-অরণ্য তুমি আবার এসেছো? রাফি এখন বাসায় আছে তুমি কেন এখন এসেছো? তোমাকে না আমি বারণ করেছি না আসার জন্য? তাহলে তুমি কেন বার বার আসো আমার কাছে? অরণির প্রশ্নের জবাব দিয়ে অরণ্য বলে উঠে,

-কি করবো বলো তোমাকে আমাদের সাথে না নিয়ে যাওয়া পর্যন্ত তো আমাকে আসতে হবে। দেখো আমি আর আমাদের মেয়ে তোমার জন্য অপেক্ষা করে আছি। তুমি চলো আমাদের সাথে, তাহলে আমাদের পরিবারটা একদম পরিপূর্ণ হয়ে যাবে। অরণির কথা শুনে রাফি ড্রাইং রুমে চলে আসলো। এসে জিজ্ঞাসা করছে,

-কি হয়েছে অরণি? অরণি রাফির কথায় চমকে উঠে পিছনে ফিরে বললো,
-দেখো না এই ছেলেটা আবার এসেছে। এই ছেলেটাকে আমি চিনিনা কত্তবার বারণ করেছি না আসতে তারপরও বার বার আসছে। অরণির কথা শুনে রাফি ও’কে বললো,

-ঠিক আছে ঠিক আছে আমি ওকে বারণ করে দিচ্ছি ও আর আসবে না তুমি চলো তো। ওষুধটা খাওনি তাই না?চলো ওষুধটা খেয়ে নিবে।

অরণির সেদিন মিসকারেজ হয়ে গিয়েছিলো তারপর থেকে সে অরণ্যকে দেখতে পাই। দিন দিন ওর অবস্থার অবনতি হচ্ছে। এই দেখে রাফি ও’কে একজন সাইকোলজিস্টকে দেখিয়েছেন। অরণির বক্তব্য সে তার চারপাশে একটা ছোট বাচ্চা আর একটা ছেলেকে ঘুরে বেড়াতে দেখে।সাইকোলজিস্ট বলেছেন অরণি মন থেকে তার মিসকারেজটা মেনে নিতে পারে নি আর মানুষিক ভাবে ভীষণ ভেঙ্গে পড়ায় তার এই অবস্থা হয়েছে। এই জন্য সে তার চারপাশে একটা বাচ্চাকে ঘুরে বেড়াতে দেখে। এইসবের কোনো অস্তিত্ব নেই। কিন্তু আসলেই কি তাই?

পাঁচ বছর আগে অরণ্য নামের এক ছেলের সাথে অরণির সম্পর্ক ছিলো। রাফি সে কথাটা আজ পর্যন্ত জানে না।ঠিক তিন বছর আগে অরণ্যের সন্তান অরণির গর্ভে আসে। যদিও সন্তানটি ছিলো অবৈধ আর তখন অরণ্যেরও বিয়ে করার মত অবস্থা ছিলো না। শেষ পর্যন্ত এভোশান করতে হয় অরণিকে। তার দু’মাস পরেই রাফির ফ্যামিলি থেকে অরণিদের বাসায় বিয়ের প্রস্তাব পাঠানো হয়। রাফির টাকা পয়সার লোভে পড়ে অরণি বিয়েতে রাজি হয়ে যায়। অরণির হুট করে বিয়ে হয়ে যাওয়াটা শুনে অরণ্য নিজেকে সামলে নিতে না পেরে সেও বিদায় জানায় পৃথিবীকে। এইদিকে অরণি তার কোটিপতি হ্যাজবেন্ডকে নিয়ে সুখে সংসার করতে লাগলো।

রাফি চোখ খুলে দেখলো অরণি পাশে নেই। ঘড়ির দিকে তাকাতেই দেখে ৩:৩০ বাজে। এতো রাতে অরণিকে পাশে দেখতে না পেয়ে রাফি ভয় পেয়ে গেলো। সে উঠে সব গুলো রুম চেক করলো। কোথাও অরণিকে দেখতে পেল না। হঠাৎ তার মনে হল বাইরের দরজাটা খোলা। রাফির মনে হতে লাগলো, অরণি হয়তো ছাদের দিকে গেছে। সে আর দেরী না করে তাড়াতাড়ি ছাদে চলে গেল। এদিকে অরণি শুধু দেখছে অরণ্য আর সেই বাচ্চা মেয়েটি তাকে ডাকছে তাদের কাছে যাওয়ার জন্য।অরণি হাঁটতে হাঁটতে যে কোথায় চলে এসেছে সেদিকে ওর কোনো খেয়াল নেই।

রাফি ছাদে এসে দেখে অরণি ছাদের একদম শেষ কর্ণারে দাঁড়িয়ে আছে। আর এক পা দিলে সে পাঁচ তালা থেকে একদম নিচে গিয়ে পড়বে। রাফি চিৎকার দিয়ে অরণিকে ডেকে উঠলো। রাফির চিৎকার শুনে অরণি চমকে উঠে নিজের হুসে ফিরলো কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরী হয়ে গেছে। অরণি চমকে উঠে সামনে পা বাড়িয়ে দিল আর সাথে সাথে ছাদ থেকে সে ছিটকে একদম নিচে গিয়ে পড়লো। রক্তে সব ভেসে যাচ্ছে অরণির হাতটা ভেঙ্গে উপর হয়ে আছে। একদম অরণ্য যেভাবে পড়ে ছিল অরণি ঠিক সে ভাবেই পড়ে রয়েছে।

গল্পের বিষয়:
গল্প

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত