মরিচের গুঁড়ো থেরাপি

মরিচের গুঁড়ো থেরাপি

একা একা ভাল লাগছেনা।একটু ফেবুতে যাই।নাহ্,কেউ এক্টিভ নেই।সবাই নাকে সরিষার তেল দিয়ে ঘুমোচ্ছে মনে হয়। আমি রাইসা।এবার অনার্স প্রথম বর্ষ পরীক্ষা দিলাম।তাই হাতে মোটামুটি অবসর সময় আছে।গল্পের বই পড়তে পড়তে মাথা ব্যাথা হয়ে গেছে।ফেবুতে গল্প করতে ইচ্ছে করছিল কিন্তু কেউ নেই। ফ্রেন্ড রিকুয়েস্টগুলো চেক করছিলাম।হঠাত একটি আইডির নাম খুব পছন্দ হল। “আমার মনের নীড়ে তোমার বাস” নামটি অদ্ভুত সুন্দর।রিকুয়েস্ট accept করলাম আর তার কিছুক্ষণ পরই ম্যাসেজ আসল।

-“হ্যালো।”

-“হাই।”

-“কেমন আছেন?”

-“জি ভাল।আপনি?”

-“হুম ভাল।কি নাম আপনার?

-“রাইসা।আপনার?”

-“বাহ্,চমৎকার নামতো।আমার নাম অনিক।আচ্ছা আমরা কি ফ্রেন্ড হতে পারি?”

-“কিন্তু আমিতো আপনাকে চিনিনা জানিনা।এভাবে হঠাত ফ্রেন্ড হব কিভাবে বলুন?”

-“আচ্ছা ঠিক আছে বল কি করলে তুমি আমাকে তোমার ফ্রেন্ড ভাববে?”

-“আপনার প্রোফাইলে আপনার কোনো পিক দেয়া নেই।আমি আপনাকে দেখতে চাই।কিন্তু কোনো ফেক পিক দিবেননা দয়া করে।”

-“আচ্ছা ঠিক আছে।”

তারপর অনিক তার একটি পিক দিল।বুঝলামনা অরিজিনাল নাকি ফেক পিক।যাই হোক,আরও কয়েকটি পিক চাইলাম দিল।দেখে মনে হল, “নাহ্,অরিজিনাল পিক-ই মনে হয়।” আমার পিক দেখতে চাইল।আমি এড়িয়ে গেলাম।বললাম, “আগে আমাদের ফ্রেন্ডশিপ মজবুত হোক তারপর।” সে কিছুটা হতাশ হল বুঝতে পারলাম।যাই হোক,এভাবে কথা বলতে বলতে দুজন দুজনকে ভীষণ পছন্দ করে ফেললাম।আমিতো ওকে ভালবেসেই ফেলছি। একদিন অনিক আমাকে বলল,

-“আচ্ছা রাইসা,আমাদের সম্পর্কটাতো কয়েকমাস হল চলছে।তোমার কাছে শতবার তোমার পিক দেখতে চাইলাম তুমি রাজি-ই হলেনা।আমার কি তোমাকে দেখতে ইচ্ছে করেনা বল?আচ্ছা এক কাজ করা যাক,আমরা দেখা করি কি বল?”

-“হুম তা করা যায়।কিন্তু কোথায়?”

-“আমার বন্ধুর বাসা আছে সেখানে।ওর বাসায় কেউ থাকেনা।আমরা খুব মজা করে গল্প করতে পারব।”

-“পার্ক,রেস্টুরেন্ট থাকতে বন্ধুর বাসা কেন?”

-“আহা প্রবলেম কি আমি আছিনা?বল কবে আসবে?”

-“আচ্ছা ঠিক আছে আমি তোমাকে পরে জানাব কেমন।”

-“Ok sweetheart.Love you.”

-“Love you too.bye.”

আইডি লগ আউট করার পর আমার সন্দেহ হল।এত জায়গা থাকতে হঠাত বন্ধুর বাসায়?নাহ্,ব্যাপারটা কেমন যেন খটকা লাগছে।আমাকে অন্য উপায় খুঁজতে হবে। কি করি কি করি Yes.পেয়েছি পেয়েছি। আমি একটি ফেক আইডি খুললাম।তারপর ওকে রিকুয়েস্ট দিলাম।ওমা!!!!!!! সাথে সাথে accept করল?যাই হোক ম্যাসেজ দিলাম।

How strange !!!!! আমার সাথে যেভাবে চ্যাটিং করল,আমার ফেক আইডিতেও ঠিক একইভাবে চ্যাটিং করা শুরু করল।আমার পিক দেখতে চাইল Google থেকে অনেক কষ্টে অন্য মেয়ের পিক দিলাম। পিক দেখেই সে কিসব বাজে বাজে চ্যাটিং করা শুরু করল।মেয়েদের খারাপ খারাপ পিক দিতে লাগল।আমারতো তখন মেজাজ তুমুল খারাপ হয়ে যাচ্ছে।এ আমি কোন জানোয়ারকে ভালবাসছি?রাগে দুঃখে চোখ দিয়ে পানি পড়ছে অঝোরে।

তারপরদিন আমার ফেক আইডিতে আমাকে তার সাথে দেখা করতে বলল তার পরদিন তার বন্ধুর বাসায়।তখনি বুঝতে পারলাম এরকম আরো অনেক মেয়ের সাথেই প্রতারণা করেছে হয়ত। আমার আগের আইডিতে এখন আর ম্যাসেজ দেয়না।ম্যাসেঞ্জারে কল করলেও রিসিভ করেনা।হয়ত ভেবেছে আমি দেখতে অসুন্দর বা ফেক তাই পিক দেইনি তাকে।কিন্তু আমি যে নিজের নিরাপত্তার জন্য তাকে পিক দেইনি তা তো সে জানেনা।যাক,আল্লাহ্‌ যা করে ভালোর জন্যই করে।

আমার ফেক আইডিতে আমি রাজি হলাম পরের দিন তার সাথে দেখা করব।সে ঠিকানা দিল।আমিও নিজেকে তৈরি করছি। পরদিন সকাল ১০টা।আমি অনিককে বলেছিলাম ১১টায় আসব।তার আগেই আমি চলে গিয়েছি।অনিকের বন্ধুর বাসা তৃতীয়তলায়।আমি অনেক কিছু ভাবতে ভাবতে উঠছি।ওর দরজার সামনে এসে কলিং বেল বাজিয়ে আমার ব্যাগে হাত রাখলাম।

একটু পরেই অনিক দরজা খুলল আর আমি অনিককে দেখেই ব্যাগে রাখা অনেকখানি লাল মরিচের গুঁড়ো ওর চোখে ছিটিয়ে দিয়েই দ্রুতগতিতে সিঁড়ি দিয়ে নেমে গেলাম। নিচে যেতে যেতেই অনিকের বিকট চিৎকার শুনে মনে এক পৈশাচিক আনন্দ হচ্ছে আমার।আর সাথে কয়েকজন ছেলের কথাও শুনতে পেলাম।তার মানে অনিক একা ছিলনা,আরও ছেলে ছিল ওর সাথে??!!!! তাহলে কি আমাকে ধর্ষণ করার প্ল্যান ছিল ওদের?

ভাবতে গিয়েই আমার সারা শরীরর কাঁপছে।বাসায় গিয়ে কত গ্লাস পানি খেয়েছি হিসেব নেই।আমার অরিজিনাল,ফেক দুটো আইডি-ই ডিলিট করে দিয়েছি।আর আমাকে খুঁজে পাবে কোথায় ও?আমার কোনো পিক,ফোন নম্বর যে ওর কাছে নেই।আর তার সাথে যে মরিচের গুঁড়োর থেরাপি দিয়েছি তা আজীবন মনে থাকবে হারামজাদার। সবাই মানুষ না।কারণ তাদের মধ্যে কেউ কেউ অমানুষও আছে। আবার সবাই অমানুষ না।কারণ তাদের মধ্যে কেউ কেউ মানুষও আছে।

গল্পের বিষয়:
গল্প

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত