সত্যের বিপরীতে

সত্যের বিপরীতে

হাই, নীল। হ্যালো! আপনাকে তো ঠিক চিনতে পারলাম না। আমাকে তোমার চেনার কথা নয়, তবে আমি তোমাকে ঠিক ই চিনি। বাই দ্যা ওয়ে,তুমি তো এখন অফিসে যাবে, আমাকে তোমার অফিসের কাছে যে পার্লার টা আছে সেখানে নামিয়ে দিও। চলো যাওয়া যাক। আর হ্যা, আমার নাম নীলা।

নীল এখনো দাঁড়িয়ে আছে, ভাবছে যে মেয়েটা তার কাছে কি চাইছে! নীল! হু। চলো, গাড়িতে ওঠো। হ্যা, আসছি। জানো, তোমার আর আমার মাঝে কত মিল? মিল!তা কেমন মিল? তোমার আমার নামে মিল, তুমি যেমন সুন্দর আমিও তেমন সুন্দর, এমনকি আমাদের দুজনের পছন্দের রঙ ও নীল। ও আচ্ছা। নীল, এটা কিন্তু ঠিক হচ্ছেনা,তুমি আমাকে পেছনে একলা রেখে ড্রাইভার এর পাশে গিয়ে বসছ! পেছনে আসো। অনিচ্ছা সত্ত্বেও সে পেছনে গিয়ে বসল। নীল, আমাকে তুমি বলে ডাকলে খুশি হতাম। ঠিকাছে।

হু, এবার তোমার মোবাইল টা দাও তো। কেন? নীল মনে মনে অনেক কিছু ভাবতে লাগল, আবার সে মনে মনে নিজেকে নিয়ে গর্ববোধ ও করতে লাগল, মেঘ না চাইতেই জল পাওয়া যাচ্ছে ! সুন্দরী মেয়ে কোন কষ্ট ছাড়াই ধরা দিচ্ছে তার কাছে। আরে বাব, দাও।আমি আমার নাম্বার টা তোমার মোবাইল এ সেভ করে দিব, আর শোন, আমি মিস কল দেওয়া মোটেই পছন্দ করিনা।কল দিব, তবে তুমি কল রিসিভ করবে না, ব্যাক করবে, ঠিকাছে? হু। কি তখন থেকে হু হু করছ?

তখন নীল এর ফোন বেজে উঠল, সে ছো মেরে মোবাইল টাকে নিয়ে নিল নীলার হাত থেকে, কথা বলা শুরু করল।আর তার একটু পর নীলা গাড়ি থেকে নেমে গেল।নীল সেদিকে খেয়াল করল না।কিছুক্ষণ পর অফিসে পৌছে নীল মনে কিছুটা ধাক্কার মত খেল! নীলা, নীলা!! নীলা বলল, কি মি.নীল। অবাক হয়েছেন তো? অবশ্য আপনি অবাক না হলে আমি নিজেই অবাক হয়ে যাব , হাহাহা। তুমি মানে আপনি, আমার চেয়ারে বসে কি করছেন? না, আপনার ভয় পাওয়ার কিছু নেই, আপনার চাকরী র কিছু হবে না।আমি আপনার বস এর মেয়ে।

আপনাকে যে নাম্বার টা দিয়েছিলাম, সেটা আমার বাবার নাম্বার ছিল, আপনি ভাল করে খেয়াল করলে বুঝতে পারতেন।আমার নাম তনয়া। তবে ভাববেন না, যে গাড়িতে যে নাম টা বলেছিলাম সেটা মিথ্যে! আমার নানুমনি আমাকে অনেক ভালবাসত, তাই আমাকে মহামূল্যবান রত্নের সাথে তুলনা করে নীলা বলে ডাকত। এখন সে নেই, আর কেউ আমাকে নীলা বলে ডাকেনা,আপনি আমাকে নীলা বলেই ডাকতে পারেন। আপনাকে সকাল থেকে খুব বিরক্ত করেছি, এজন্য আমি দুক্ষিত। আমি এক সপ্তাহ হলো এখানে এসেছি, এতদিন বাইরে ছিলাম,পড়ালেখার জন্য। আচ্ছা আমি এখন যাই, বাবার সাথে দেখা করব। ঠিকাছে। নীল ভাবতে লাগল, মেয়েটা তার পেছেনে কেন লেগেছে! কিন্তু সে কোন কারণ বুঝতে পারছিল না। নীল এর ফোন বাজছে, কিন্তু অচেনা নাম্বার বলে সে কল রিসিভ করছে না, কয়েকবার ফোন বাজার পর বিরক্ত হয়ে সে কল রিসিভ করল। হ্যালো, কে বলছেন? আমি।

আমি কে? আমি কোন আমি কে চিনি না! আমি তনয়া, চিনতে পারছেন না? অহ, তনয়া, আপনি, তা কেমন আছেন? ভাল আছি, আপনার কথা খুব মনে পরছিল,তাই ফোন করলাম।আচ্ছা আমরা কি দেখা করতে পারি না? হ্যা দেখা করাই যায়, কোথায় দেখা করবেন? নিচে নামুন, আমি আপনার বাসার নিচেই আছি। আপনি এত রাত্রিতে আমার বাসার নিচে কি করছেন? আপনাকে খুব দেখতে ও ইচ্ছে করছিল! ওকে, একটু অপেক্ষা করুন আমি আসছি! হাই,কেমন আছেন? আমরা কি দুজন দুজন কে তুমি বলতে পারি না? হ্যা,আপনার কোন সমস্যা না থাকলে পারি। তাহলে চলো নীল। কোথায় যাব? আমি যেখানে তোমায় নিয়ে যাব, নাকি আমাকে বিশ্বাস করতে পারছ না? আরে নাহ, কি যে বলো।

তারা দুজনে রাস্তায় আধ ঘন্টার মত হাটাহাটি করে শুভরাত্রি জানিয়ে যে যার গন্তব্যে চলে গেল।এভাবে অনেক দিন চলে গেল, প্রতি সন্ধ্যায় তারা রাস্তায় হাটাহাটি করে, ভালই কাটে তাদের সময়।একদিন নীল নীলা কে একটা ডায়মন্ড রিং দিয়ে প্রপোজ করল, যে সে তাকে ভালবাসে। নীলা হাসিমুখে তার ভালবাসার প্রস্তাব গ্রহণ করল।তারপর তারা প্ল্যান করল পরদিন তারা দুজন মিলে কোথাও ঘুরতে যাবে।কোথায় ঘুরতে যাবে সেটা ঠিক করল নীলা, নীলা বলল যে কাল আমি তোমাকে ড্রাইভ করে নিয়ে যাব আর তুমি সারা রাস্তা আমার সাথে গল্প করবে। নীল বলল ঠিকাছে। প্ল্যান মত তারা পরের দিন সকাল সকাল বেড়িয়ে গেল।তারা যেখানে পৌছোল সেখানে যেতে যেতে তাদের সন্ধ্যা হয়ে গিয়েছে, জায়গাটায় পৌছানোর পর নীলা নীল কে বলল, গাড়ি থেকে নামার আগে আমি তোমার চোখ বেধে দিব আর তোমার হাত ধরে আমি বাড়ির ভেতরে নিয়ে যাব, তুমি কিন্তু না করতে পারবে না।কি মজার না বিষয় টা?

হু। তাহলে চলো। নীলা নীল এর চোখ বেধে দিল, আর তাকে ঘরের ভেতর নিয়ে গেল।নীল বলল, চোখ কি আমি এবার খুলতে পারি? নীলা বলল হ্যা, এবার চোখ টা খোল। নীল চোখ টা খুলে দেখে সামনে আনীশা দাঁড়িয়ে আছে। নীল অবাক হয়ে আর ভয়ে দু পা পিছিয়ে গেল।আর বলল, আয়ায়ানীশা,তুমি এখানে!!! হ্যা, আমি এখানে, তুমি এখানে কি করে এলে? তোমার সাথে দেখলাম একজন মেয়ে ও আছে , মেয়েটা কে?? নীল বলল, ও আমার মামাতো বোন। ও আচ্ছা , তাহলে তুমি কি আমার সাথে দেখা করতে এসেছ? তোমার হবু বাবুর মা কেমন আছে সেটা দেখতে এসেছ? এত ভয় কেন পাচ্ছ, আমি বুঝতে পারছি না!

আনীশা, আমি বলছি তোকে , তোর নীল কেন এত ভয় পাচ্ছে! আমি তোকে বলেছিলাম না তোর স্বামীর স্বভাব ভাল না, আমি এই কদিন তার ওপর ভাল করে খেয়াল রেখেছি। আমরা প্রতিদিন সন্ধ্যায় হাটতে যেতাম, হাটা শেষে যখন আমি আমার বাসায় ফিরে যেতাম, আসলে আমি তার পিছু নিয়ে দেখতাম সে কোথায় যায়, কত বাজে বাজে জায়গায় সে গিয়েছে, আর তুই কেন ই বা আমার কথা বিশ্বাস করবি? আমি ভিডিও করে রেখেছি সে জন্য, দেখ তার পরিচয়।আর সে গতকাল আমাকে ও ভালবাসার কথা বলেছে, একবারের জন্য ও বলেনি যে আমার ঘরে একটা বউ আছে যে সন্তানসম্ভবা। যদিও সে বলবে আমি ই তার প্রতি এত ইন্টারেস্ট দেখিয়েছি, হ্যা এটা সত্যি, আর আমি ইচ্ছে করে তার সাথে অভিনয় করে গেছি যাতে সে আমার প্রেমে পড়ে! কিন্তু সে যে তোকে ফেলে রেখে বাজে বাজে জায়গায় যায় সেটার কি হবে??

আনীশা ইতোমধ্যে কান্না শুরু করে দিয়েছে, নীলা তাকে অনেক আগেই লোকটাকে নিয়ে সাবধান করেছিল, কিন্তু সে শোনেনি, এজন্য তার এই পরিণাম আজ! নীল বসে আছে, সে কিছু বলছে না, শুধু একবার বলল, আমার বাবু টাকে আমি দেখার সুযোগ চাই, তারপর আমাকে তোমরা যে শাস্তি দেওয়ার দিও, প্লিজ। আনীশা বলল, আগে কি বাবুটার কথা মনে ছিল না? সারা ঘর নিস্তব্ধ হয়ে রইল, কারো উত্তর আর পাওয়া গেল না!

গল্পের বিষয়:
গল্প

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত