ঈদ সেলফি

ঈদ সেলফি

কয়েকদিন থেকে একটা বন্ধু খুঁজছি সেলফি তোলার জন্য। “আয় ছেলেরা আয় মেয়েরা ফুল তুলিতে যাবার আগে একটা সেলফি তুলে যা।” গান গেয়ে গেয়ে বন্ধুদের খুঁজছি।তাও কেউ সেলফি তুলতে আসেনা।আমার দেওয়া শর্তে কোনো বন্ধুই সেলফি তুলতে রাজি হয়না নতুবা আমার কথা শুনলেই দৌঁড়ানি দেয়। ফাহিমের সাথে দেখা হবার পরে তার সাথে কথা বললে, সে সেলফি তুলতে রাজি হয়।

-বন্ধু, একটা সেলফি তুলি?

-বলার কি আছে? তোল।

-গত এক বছরের শখ তোর সাথে একটা সেলফি তুলে, একটা ঝাক্কাস ক্যাপশন দিয়ে মুখবইয়ে আপলোড দিবো।

-কি তোর ঝাক্কাস ক্যাপশন?

-তোর সাথে ছবি তুলে ক্যাপশনে লিখবো, “ভন্ডুরা ইদের আগে কুরবানির গরুর সাথে শেষ সেলফি।”

মোবাইলে ক্লিক করার পরে দেখি আশেপাশে ফাহিমের ছায়া পর্যন্ত নেই।দৌঁড়ে আমার থেকে অনেক দূরে চলে গেছে।ধরাছোঁয়ার বাহিরে।ফাহিমের পিছু করতে গিয়ে দেখা হয় হাসানের সাথে।বন্ধু মহলের সব থেকে বিচক্ষণ বন্ধু হচ্ছে হাসান।কোনোকিছুই নেগেটিভ ভাবে দেখেনা।কাজটা করা ঠিক হবে কি হবেনা, ভালো কাজ না মন্দ কাজ তাতে হাসানের কিছু যায় আসেনা।কাজটা করতে হবে এটাই আসল।হাসান সেই লেভেলের বিচক্ষণ। সেলফি তোলার কথা বলতেই সে রাজি হয়ে যায়।

-সেলফি তোলা ভালো কাজ।রোজ দুই/তিনটা বা তার বেশি সেলফি তোলা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারি।তুই সেলফি তোল।

-দোস্ত প্রথম ক্লিক করছি, তুই মুখ বাঁকা করে রাখবি।

-আচ্ছা।

-দোস্ত দ্বিতীয় ক্লিক করছি, এবার তুই দুইহাত দিয়ে মুখ ঢেকে রাখ।

-আচ্ছা।

-দোস্ত তৃতীয় ক্লিক করছি, এবার তুই কাঁদোকাঁদো ভাব নিয়ে থাকিছ।প্রয়োজনে চোখে থুতু লাগিয়ে নে।

-আচ্ছা।ছবি তোলা শেষ এখন এই ছবি দিয়ে কি করবি?

-মুখবইয়ে আপলোড দিবো।সাথে জোস জোস ক্যাপশন থাকবে।

-কি ক্যাপশন?

-প্রথম ছবির ক্যাপশন -“ভন্ডুরা ইদের আগে কুরবানির গরুর সাথে শেষ সেলফি।গরুটা অভিমানে মুখ বাঁকা করে আছে।”

দ্বিতীয় ছবির ক্যাপশন – “ভন্ডুরা কুরবানির গরুর সাথে শেষ সেলফি।গরুটা লজ্জায় মুখ ঢেকে রেখেছে।” তৃতীয় ছবির ক্যাপশন- “ভন্ডুরা কুরবানির গরুর সাথে শেষ সেলফি।গরুটা কাঁদছে।”

-কি আমি গরু?তোর মুখবই আর ক্যাপশন দেওয়া শেখাচ্ছি তোরে।

হাসান লাঠি নিয়ে আমার পিছে পিছে দৌঁড়াচ্ছে।আমি হাসানের আগে আগে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। বেশ কিছুদূর যাবার পরে পিছনে তাকিয়ে দেখলাম হাসান আশেপাশে কোথাও নেই। গাছতলার মোড়ে চা খেতে বসবো এমন সময় আকরামের দেখা পেলাম।আকরামকে সেলফি তোলার কথা বলতে হবেনা। আমাকে দেখলে সে নিজেই সেলফি তোলার জন্য এগিয়ে আসবে।বন্ধু মহলে সেই একপিছ বন্ধু যে সেলফি তোলার জন্য সবসময় মোবাইল হাতে নিয়ে ঘুরে।আমাকে দেখেই তার প্রশ্ন,

-কিরে, সেলফি তুলবি?

-আয়, দোস্ত। আজ আমার মোবাইল দিয়ে সেলফি তুলবো।

-আচ্ছা, আয়।

-তুই ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে একটু ভেটকি মার্কা হাসি দিস, আমি সাথেসাথেই ক্লিক করবো।

-তুই এসব বলে দিতে হবেনা।হাসি আমি ঠিকই দিবো। আকরামের সাথে সেলফি তোলার পর বললাম,

-তোর ছবি মুখবইয়ে যাবে।তুই ফেমাস হয়ে যাবি।

-কিসের জন্য?

-তোর সাথে তোলা ছবিতে ক্যাপশন দিমু, “ভন্ডুরা কুরবানির গরুর সাথে শেষ সেলফি।দেখুন গরুটা কেমন ভেটকি মার্কা হাসি দেয়।”

আমার কথা শুনতেই আকরামের মুখ থেকে মুহুর্তের মধ্যেই সেই ভেটকি মার্কা হাসি উদাও হয়ে যায়।হাসানের মতো সেও আমাকে দৌঁড়ানি দিতে আরম্ভ করে।আকরামের দৌঁড়ানি খেয়ে ক্লান্ত হয়ে বাসায় এসে ঘুমিয়ে গেলাম।

বিকেলে ভদ্র ছেলের মতো আসরের নামাজ পড়তে গেছি।নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হতেই দেখি আকরাম, ফাহিম, হাসান তিনজন হাতে মোবাইল নিয়ে আমার জন্য অপেক্ষা করছে।আমি জানি এরা কি করতে চাইছে।কোনোমতে জুতাটা পরেই দৌঁড় শুরু করে দিয়েছি।আমার পিছনে তিনজনই দৌঁড়াচ্ছে আর বলছে, “ওই গরু থাম।তোর সাথে সেলফি তুলে এবার কুরবানির ইদের শেষ সেলফিটা আমরা মুখবইয়ে দিবো।”

গল্পের বিষয়:
গল্প

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত