যুক্তিবাদী জামাই

যুক্তিবাদী জামাই

“ কাল তুমি চাকরিতে জয়েন করলে আর আজকেই তোমাকে চাকরি থেকে রিজেক্ট করে দিলো? কি হয়েছে একটু বলবে কি? জিনিয়া ফোনের ওপাশ থেকে কথা বলে আমার উত্তরের অপেক্ষায় থাকলো! আমি বলিলাম চিকিৎসা ভুল হয়েছে রোগী কমপ্লেইন করেছে, হাসপাতালের মালিক আমাকে রিজেক্ট করে দিয়েছে। জিনিয়া বললো, সারাজীবন কি লেখাপড়া করলে যে চিকিৎসা ভুল হয়?

ভাগ্য ভালো রোগী যে মারা যায়নি! তা কি এমন রোগী আসছিলো, যার চিকিৎসা তুমিদিতে পারলে না? আমি বিস্তারিত ভাবে বলা শুরু করলাম…! রোগীর চিফ কমপ্লেইন হলো; নাক দিয়ে পানি পড়া যাকে বলে কমন কোল্ড, সাথে শুকনা কাশি, নিঃশ্বাস নিতে সমস্যা হয়। জিনিয়া আমাকে থামিয়ে দিয়ে বললো, এই নরমাল ডিজেজ এর চিকিৎসা দিতে পারলে না? এটা তো আমিই পারি। তুমি নিজেও তো আমাকে কতবার এই রোগের চিকিৎসা দিয়েছো? আমি বললাম, আহা শুনো না, আমি চিকিৎসা দিয়েছি এই ভাবে …!

Rx- Tablet- পদ্দা সেতুর পিলার 46 mg1+1+1+1+1———— 10 day Capsule- সুন্দরবনের সব গাছ 80 mg 1+0+1———————- 5 day Syrup- ২০০৪ সালের বন্যা 5000 ml ১ মন করে দিনে ৩ বেলা ———– 8 day

এই চিকিৎসা দেয়ার পর রোগী ফার্মেসীর দোকানে যায়মেডিসিন ক্রয় করতে । রোগী তো প্রেসক্রিপশনের লেখা বোঝে না। ফার্মেসীওয়ালা এই প্রেসক্রিপশন দেখে বলেছে এটা কোন গাধার কাজ? রোগী সরাসরি আমার নাম বলে দিয়েছে, এবং বলেছে গ্যালাক্সি হসপিটালের ডাক্তার সে! হাসপাতালের পরিচালক সরাসরি বলে দিয়েছে – At this moment you were expelled from the job. Get out of this hospital. আমিও কম যাই কিসে বাবু সোনা? তুমি যেমন জিনিয়াস, আমি তোমারহবু বর! সো আমিও বলে এসেছি,, এই যে শুনুন স্যার, হাসপাতালে চাকরির আগে ভাইবা নেয়ার সময় আমাকে প্রশ্ন করেছিলেন, পদ্দা সেতুর পিলার কয়টা? যমুনা নদীর পানি কোন কোন জেলাকে ডুবিয়ে দেয়, সুন্দরবনের কয়েকটা গাছের নাম বলুন! তা জনাব, আমি তো জানি এইগুলাই প্রশ্ন করা হবে। তাই রাতভর সাধারণ জ্ঞান পড়েছি, আর চাকরির ভাইবাতে পাশ করে চাকরি নিয়েছি।

তো এখন নাক দিয়ে কাচা পানি পড়লে তার চিকিৎসা কি আমি জানলেও তো লিখবো না। ধরে নিলাম এই চিকিৎসা আমি পারলাম, অন্য কোনজটিল রোগের চিকিৎসা কি আমি পারতাম? আমাকে ভাইবার আগে পড়া উচিত ছিলো, কোন মেডিসিন কত মিলিগ্রাম। কোনমেডিসিনের ডোজ কত বেলা, কোন মেডিসিনের ইন্ডিকেসন কি? তা না পড়ে আমাকে পড়তে হয়েছে পদ্দা সেতু নিয়ে। তাহলে কিভাবে আমার কাছ থেকে ভালো চিকিৎসা আশা করেন?আপনার হাসপাতালে চাকরি করার চেয়ে ঘোড়ার ঘাস কাটা বেটার,আর শুনেন আপনার কোন চাকরি লাগলে বলবেন, এই রকম দুএকটা হাসপাতাল দেয়ার ক্ষমতা আছে। এই বলে আমি থামলাম। অট্টহাসি জিনিয়া বললো পকেটে নাই এক টাকা, ভালোই তো লেকচারদিয়ে এসেছো!!

যেই দেশে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে রোবট আবিষ্কার করার চেয়ে সাধারণ জ্ঞানের বই পড়ে বিসিএস ক্যাডারের দাম বেশি সেই দেশের ছাত্রদের মারা যাওয়া উচিত, নয়তো পড়াশুনা বাদ দেয়া উচিত, আর নয়তো বাইরের কান্ট্রিতে স্টাডি নেয়া উচিত। আমি জিনিয়াকে বললাম বাবু সোনা, এতো সুন্দর একটা যুক্তিসহ কাজ করলাম, একটা বার্গার খাওয়াবে না? জিনিয়া হু বলে উত্তর দিলো, বললো তুমি রাজশাহীতে চলে এসো জলদি! চিকেন বার্গার বলো আর বিফ বার্গার বলো সব খাওয়াবো। আমি বললাম বাবু সোনা পাবনা থেকে রাজশাহী যাওয়ার ভাড়া নেই! কি করবো? জিনিয়া বললো আমি তোমাকে এতোদিন ধরে যে চকচকেনোট দিয়েছি, ১০০, ৫০০, ৫০ টাকার নোট; ওখান থেকে একটানোট নিয়ে চলে আসো। অবশেষে রাজশাহী গিয়ে বার্গারতো দুরে থাক, কয়েকটা কান মলা খেয়ে বিদায় নিয়ে এসেছি।দিন দিন কঠোর হয়ে যাচ্ছে জিনিয়া। আগে কত লক্ষী একটা মেয়ে ছিলো সে!!

বাংলাদেশ এতোটা উন্নত রাষ্ট যা কল্পনাও করা যায় না। এই দেশের প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে কোর্স কমপ্লিট করতে লাগে কমপক্ষে ১০ লাখ। আর চীনে Tution free, accommodation free, health insurance free সহ ব্যাচেলর, মাস্টার্রস, পিএইচডি করতে খরচ পড়ে ৫০০ ইউয়ান থেকে ৩০০০ ইউয়ান ।ইউয়ান হলো চীনের টাকার নাম। তো এই টাকায় বাংলাদেশী টাকার পরিমান হয় ৮০- ৯০ হাজার টাকা। এবার নিজেই ভাবুন কতটা উন্নত রাষ্ট্র আমাদের, আর শিক্ষা নিয়ে কি ধরনের বিজনেস করতে পারি আমরা? অথচ সেই চীনের ব্রিজ কোম্পানি আজ পদ্দা সেতু নির্মাণ করছে, আর আমরা পদ্দা সেতুর পিলার কয়টা? পদ্দা সেতুর দৈর্ঘ্য কত? এইগুলা পড়ে বিসিএস ক্যাডার হচ্ছি।

বড় বড় কথা বাদ দেয়া যাক, এগুলা গল্পতেই মানায়, বাস্তবে এগুলোর কোন ভিত্তি নেই, বাবার মুখে হাসি ফুটানোর জন্য এভাবেই পড়াশুনা করে চাকরি জোগাড় করতে হবে! বেকার নাম ঘুচিয়ে বিয়ে করতে চাইলে এভাবেই পড়াশুনা করে চাকরি নিতে হবে! নতুবা কোন উপায় নেই।এই উপায় নেই! এই কথাটা উপায় আছে পরিণত করেছে চীন। অর্থনিতীতে বিশ্বের দ্বিতীয় স্থানে চীন। তারা চিন্তা করলো যে জানি যত শিক্ষিত সেই জাতি তত উন্নত। ক্ষমতা বলে কয়ে আসবে না, শিক্ষা থাকলে ক্ষমতা এমনি আসবে।প্রাচীনকালে রাজারা বলতো সূর্য পৃথিবীর চারিদিকে ঘুরছে, এই কথার প্রতিবাদ কেউ করতে পারতো না। অনেক বিজ্ঞানী মারা গিয়েছেন শুধু এই কথার প্রতিবাদ এর কারনে, কেনোনা সেসময় রাজা বাদশা রা যা বলবে সেটাই সঠিক । আজ বিশ্বে তাকালে আমরা দেখবো যেই শিক্ষা নিয়ে বিজ্ঞানীরা বড় হয়েছেন, সেই বিজ্ঞানীরা আজ পৃথিবী শাসন করছে। এখন বলা হয় বিজ্ঞানীদের যুগ, কোনদিন বলা হয় নাই, রাজা বাদশার যুগ।

আমার এই যুক্তিবাদী কেউ মেনে নিতে পারছে না। না পারছে আমার হবু শ্বশুর, না পারছে আমার হবু স্ত্রীর বড় বোন, অবশ্য আমার হবু শ্বাশুরী আমাকে নিয়ে কোন মাথা ব্যাথা নেই। আমি তার কাছে ছেলের মত। আমাকে প্রায়ই কিছু নাস্তিক নামের হিন্দু বোনেরা প্রশ্ন করতো! আচ্ছা আল্লাহর তো সব আছে, তিনি ইচ্ছা করলেই সব পারেন। আচ্ছা তিনি কি পারতেন না মানুষের জন্য আলাদা একটা গ্রহ দিতে, যেই গ্রহে কোন কষ্ট থাকবে না, দু:খ থাকবে না। কোন ছিনতাই রাহাজানি থাকবে না। সেখানে থাকবে না কোন ধনী গরীব, সবাই সমান। মানুষের যা ইচ্ছা হয় সে তাই করবে। কোন নামায রোযা, পূজা, কিছুই করতে হবে না। তারতো অনেক আছে। এইটুকো দিলে কি এমন ক্ষতি হতো?আমি তাহাকে বলিলাম, কেনো এমন একটা জায়গা তো আছেই!মনে করুন একটা পৃথিবী দিলো, সেটা একদম আলাদা।

মানুষ আছে সেখানে। দেখা গেলো আমার প্রথম বিয়ে হয়েছে আপনার সাথে ,কিন্তু কিছুদিন যাওয়ার পর আপনার চেহারা আমার ভাল্লাগছেনা! আমি রুপসী আর একটা মেয়েকে বিয়ে করে বাসায় নিয়ে আসলাম! আপনার কি কষ্ট হবে না? তাহলে দেখাযাচ্ছে মহান আল্লাহ সুখের একটা আলাদা পৃথিবী উপহার হিসেবে দিলেও আমার ইচ্ছার কারণে একজনের কষ্ট হচ্ছে। আবার ধরে নিলাম , সেই গ্রহে একজন মদ পান করে আমার স্ত্রীকেধর্ষণ করেছে, তাহলে আমি কি তাকে ছেড়ে দেবো?ধরে নিলাম আমি ছেড়েই দিলাম! কিন্তু আদালত কি ছাড়বে? ধরে নিলাম আদালত নেই সেখানে, কেনোনা আগেই বলা হয়েছে সেখানে মানুষের ইচ্ছা অনুযায়ী সব হবে, আদালত না থাকলে আমি তো ছেড়ে দিবো না। তাহলে দেখা যাচ্ছে নতুন কোনগ্রহে আমাদের পাঠালেও সেখানে আমরা নিজেরাই মারামারি করবো, যতদিন স্বাধীন ইচ্ছা শক্তি আছে।

কিন্তু মহান আল্লাহ এতোটাই দয়ালু সেরকম একটা জায়গা গিফট করবেন, তবেসবাইকে না। মুমিনদের কে। যার নাম জান্নাত। সেখানে কোনরাহাজানি থাকবে না, হত্যা থাকবে না, কেউ কাউকে ধর্ষণ করবে না,কেউ মদপান করবে না। শুধু সুখ আর সুখ। হিন্দু বোনটি এতো বড়লেকচার শুনে ছোট্ট করে ধন্যবাদ দিয়ে চলে গেলো। আমাকে আমার শ্বশুর বাড়িতে ইনভাইট করেছে। গিয়ে দেখি সেখানে আমার শ্বশুর, শ্বাশুরী, আমার স্ত্রী, তাহার বড় বোন। বড় বোনের জামাই সহ তার সন্তানেরা। উদ্দেশ্য আমাকে যুক্তি দিয়ে হারিয়ে আমাকে একটা চাকরি করা লাগবে। যাতে তারা বলতে পারে উনাদের জামাই কিছু একটা করে! আমি যাওয়ার পর সবাই গোল হয়ে বসে আছে। আমার স্ত্রী সবার জন্য চা, আর আমার জন্য আলাদা মগে কফি তৈরী করে এনেছে। আমার শ্বশুর চায়েরকাপে চুমুক দিয়ে বললো; বাবা মনে করো, মুরগী কেঁচোখায়, আমরা মুরগী খাই, তার মানে আমরা কেঁচো খাই। কেমন হবে তাহলে?

আমার শ্বশুরের এইরকম যুক্তি শুনে বুঝলাম তারা সব আট ঘাট বেধেই আজ মাঠে নেমেছি, উদ্দেশ্যযেভাবেই হোক পরাজিত করা। কেনোনা যুক্তিতে পরাজিতকরলেই আমি সব মেনে নিবো। আমি কফির কাপে তৃপ্তির চুমুক দিয়ে জিনিয়াকে ধন্যবাদ দিলাম এতো সুন্দর একটা কফি বানানোর জন্য। সেও রেগে কিটমিট কিটমিট করছে! আমি আমার শ্বশুর কে উদ্দেশ্য করে বললাম, শেষ যামানায় দাজ্জাল আসবে, সে নিজেকে আল্লাহ দাবি করবে। তাই বলে কি তাকে সবাই আল্লাহ মানবে? না মানবে না.. কেনোনা বিশ্বাসীরা আল্লাহর যে প্রধান বৈশিষ্ট্য তা দাজ্জালের সাথে মিলবে না বলেই তারা তাকে মানবে না। কেউ যদি বলে আমি আল্লাহ, তাকে কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে! যেমন সে কারো থেকে জন্ম নেয়নি, কারো জন্মদেয়নি, তার ঘুমের প্রয়োজন হয়না। এই রকম শর্ত পূরণ করতে পারলে সে আল্লাহ। কিন্তু এই পৃথিবীতে কারো থেকে জন্ম নেয়নি এমনটা পাওয়া যাবেনা। তাহলে বিশ্বাসের মধ্যে দুইটা ভাগ… যথা-

ক) অন্ধ বিশ্বাস
খ) যুক্তি বিশ্বাস ঠিক তেমনি যুক্তির মধ্যেও দুইটা ভাগ আছে, যথা-
ক) সুযুক্তি
খ) কুযুক্তি

বাবা আপনি সুযুক্তি থেকে বেরিয়ে গিয়ে কুযুক্তির মধ্যে চলে গিয়েছেন। মুরগী কেঁচো খায়, আর আমরা মুরগি খাই, তার মানে আমরা কেঁচো খাই এটা হলো কুযুক্তি! সুযুক্তি না। ঠিক যেমনটা দাজ্জাল মৃত মানুষকে একবার জীবিত করতে পারবে! নেক্সট টাইম আর পারবে না, তাই সে যদি বলে আমি মৃত কে জীবিত করতে পারি আমাকে তাহলে আল্লাহ মানতে অসুবিধা কোথায়?

তখন সেটা হবে অন্ধ বিশ্বাস। অন্ধ বিশ্বাস যেমন খারাপ, কুযুক্তি ও খারাপ । লেকচার শোনার পর আমার স্ত্রীর বড় বোনের হাজবেন্ড বললো, তাহলে তুমি বউ ভাত দিবে কিভাবে? তুমি চাকরি করো না মানলাম। তোমার বউয়ের কাপড় দিবে কে? সংসার খরচ কে চালাবে? কফির মগে লাষ্ট চুমুক দিয়ে বললাম এর পিছনে সুন্দর যুক্তি আছে ভাইয়া, শুরু করছি! মহাবন আমাজানকে আমরা সবাই চিনি এবং জানি।আমাজানকে পৃথিবীর ফুসফুস’ বলা হয়। কারণ এটি পৃথিবীতে মোট উৎপাদিত অক্সিজেনের ২০% একাই সরবরাহ করে। এটা হলো একটাভারসাম্য । এটা না থাকলে সমস্যা হতো। এই ২০% পূরন করতে গিয়ে আমাদের বাথরুমে গাছ লাগাতে হতো। তা না হলে অক্সিজেন এর অভাব বোধ করতাম।

একটা দেশের বিচার বিভাগকে স্বাধীন থাকতে হবে, তা না হলে ক্ষমতার ভারসাম্য ঠিক থাকবে না! সরকারি দল ইচ্ছামত দূর্নিতী করবে। ঠিক তেমনি আমার শ্বশুর হচ্ছে একজন ধনী ব্যক্তি। তাহার টাকার অভাব নেই। তাহার টাকা আমার মত গরীব জামাই খাবে, তাহলে আমি যে পদে চাকরি করবো ওই পদ টা শূন্য থাকবে, ওই পদে আমার চেয়ে গরীব কোন ছাত্র চাকরি করতে পারবে। (হাসি হাসি ভাব) এটা হলো সমাজের ভারসাম্য। এটা রক্ষা না করলে সমাজে সমস্যা হবে। শ্বশুরের টাকা ব্যাংকে নষ্ট হবে। কি দরকার নষ্ট করার? সো গরীব জামাইকে খাওয়ানো, সংসারের খরচ দেয়া ধনী শ্বশুরের দেয় উচিত, এতে করে ভারসাম্য রক্ষা পাবে। আর আমি যে একেবারে কর্মহীন থাকবো তা নয়, কিছু একটা তো করবোই। বিশাল একটা রেষ্টুরেন্ট দিবো, যার নাম থাকবে CO2। ফাস্ট ফুডের রেষ্টুরেন্ট হবে। এটা দেয়ার অন্যতম কারণ হলো আমার বার্গারের চাহিদা পূরণ হবে। এতে করে আমার খাওয়ার ভারসাম্য ঠিক থাকবে। যুক্তি পর্ব শেষ করে আমার নাকে গন্ধ আসলো চিকেন বার্গারের। আমি মজলিশ থেকে উঠে আসলাম। উঠে আসার পর দেখলাম সবার মুখ কালো হয়ে আছে।

এরকম যুক্তিবাদী জামাই তারা আসা করে নাই হয়তো। কিন্তু কি আর করার সবই ভারসাম্য। আমার স্ত্রীর বেড রুমে দেখি ৪ টা বার্গার রাখা। খাওয়া শুরু করলাম। আর ভাবলাম, আসলেই লক্ষী একটা মেয়ে আমার স্ত্রী। আমি আসবো জেনে বার্গার আগে থেকেই ক্রয় করে রেখে দিয়েছে। আমার স্ত্রী বড় বোনের মেয়ে এসে বললো আমার আব্বু আমাদের জন্য বার্গার নিয়ে এসেছেন, আঙ্কেল তুমি খেয়ে ফেললে কেনো? এই বলে কান্না শুরু করলো। আমি একটু যুক্তি দিয়ে বলিলাম, এই যে মামনি দেখো বার্গার কিভাবে খেতে হয়, তোমরা যেভাবে বার্গার খাও এভাবে খেলে ঠিকমত হজম হয় না। এই বলে আর একটা বার্গার খাওয়া শুরু করলাম!

গল্পের বিষয়:
গল্প

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত