নীরব কান্না

নীরব কান্না

চাঁদের আলো খুব কষ্ট দিচ্ছে ।খুব বেশী মনে পড়ছে সেই দিনগুলো ।ভিতরটা কেমন জানি হাহাকার করে উঠছে ।কথা ছিল পাশাপাশি বসে দুজন চাঁদ দেখব । নৌকা করে নদীর বুকে ঘুুরে বেড়াব, হারিয়ে যাবো শুভ্র কাঁশবনের ফাঁকে। বৃষ্টিস্নাতক সন্ধায় রিকশার হুড তুলে চষে বেড়াব শহরের সমস্ত অলিগলি ।সামিহা কি সব ভুলে গেছে? আমার মত ওর মনাকাশে পুরনো স্মৃতিগুলো কি আজও ঝলসে উঠে? নাকি ভুলে গেছে সব, হৃদয় থেকে ঝেড়ে ফেলেছে আমাকে ৷

প্রচণ্ড দুষ্টু আমি ৷ সর্বদা হাস্যোজ্জল থাকা যেন আমার জন্মগত স্বভাব ৷ বন্ধুদের হাসিয়েও প্রচুর মজা পাই ৷ সে জন্য বন্ধুরা আমাকে হাসু বলেই ডাকে ৷ দুষ্ট হলেও মেয়েদের থেকে সর্বদা দূরে থাকা অভ্যেস ছিলো ৷ এটাও বন্ধুদের নিত্যদিনের আলোচ্য বিষয়ের একটি ৷ তবুও আমি আমার মতই রয়ে যেতাম ৷ কারণ ভালবাসা অতঃপর ব্রেকাপ কিভাবে সম্ভব ৷ জিনিস দুটো কখনই মাথায় ঢুকত না ।

সামিহার সাথে পরিচয় বেশিদিন আগের না ৷সবে মাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয় বর্ষে ভর্তি হয়েছি ।সেদিনই প্রথমবার সেমিনারে মেয়েটাকে ভাল লেগে যায় ৷ পরে জানতে পারলাম, আমার ডিপার্টমেন্টেই পড়ে মেয়েটা ৷ কিন্তু একবছরের সিনিয়র । যত দেখছি ততই ভাল লাগা বৃদ্ধি পাচ্ছে । দেখতে দেখতেই কেটে গেল একবছর । ভাল লাগা রূপ নিলো ভালবাসায় । নিজেকে বুঝাতে চেষ্টা করলাম,এটা কখনোই সম্ভব না । কিন্তু ততদিনে আমি আমার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছি ৷ নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে অসাধ্য সাধনের চেষ্টায় নেমে পড়লাম । পরিচিত বড় ভাইয়ের মাধ্যমে সামিয়ার ফোন নাম্বার কালেক্ট করলাম । বহু কল্পনা ঝল্পনার অবসান গঠিয়ে, সন্ধ্যায় সামিয়া কে ফোন করি ৷ পরিচয় গোপন রেখে,শুধু এতোটুকু বললাম আমি আপনার ডিপার্টমেন্টে পড়ি, বাট আপনার জুনিয়র ।

এটুকু বলেই ফোন কেটে দিলাম। অপাশ থেকে ফোন এলো না ৷ আমিও সাহস পেলাম না দ্বিতীয় বার ফোন করার ৷ রাত ১১ টা নাগাদ সামিয়ার ফোন ৷ কেন ফোন দিয়েছিলেন তখন? কিছু না ভেবে সরাসরি বলে দিলাম,আমি আপনার প্রতি ইন্টারেস্টেট ৷ প্রথম দিনই ৫৬ মিনিট কথা হলো আমাদের ৷ এরপর থেকে নিয়মিত চলতে থাকে আমাদের ফোনালাপ ৷ ডিপার্মেন্টে প্রতিদিন সামিয়া আমাকে খুঁজতো ৷ দেখতও, বাট চিনতে পারত না ৷ কথা বলা পর্যন্তই সীমাবদ্ধ ছিলো আমাদের বন্ধন ৷ নিজেকে গোপন রেখে সেমিনারে দুজন মুখোমুখি বসে মেসেজ করতাম ৷ কিন্তু আর পারছিলাম না ৷ একদিন পরিচয় দিলাম সামিয়াকে ৷ব্যস্ততা থাকায় সেদিন সরাসরি দেখা করলাম না ৷ পরদিন সামিয়া তার সাথে হাঁটার অফার করল ৷ লুফে নিলাম প্রিয় মানবীর সাথে হেঁটে চলার অফার ৷

পরদিন সন্ধায় হাঁটতে বের হলাম দুজন ৷ ফাঁকা রাস্তায় ল্যাম্পোস্টের আলোতে দুজন হাঁটছি ৷ তুমি কি আমায় ভালবাস? হুট করে প্রশ্ন করল সামিয়া ৷ নাহ, হারিয়ে ফেলার ভয়ে মিথ্যে বললাম ৷ কিছুদিন পর আবার জিগেস করল সামিয়া ৷ সেদিন মনের গোপন কথা বলে দিলাম ৷ সামিয়া হ্যাঁ/ না কিছু বলেনি ৷ কিন্তু এমন সব আচরণ করত, যেটা আমাকে বুঝতে বাধ্য করত ৷ সামিয়াও ভালবাসে ৷ এভাবে বহু সন্ধায় হাঁটতে বের হয়েছি দুজন ৷ চোখ ভরা স্বপ্ন,বুক ভরা ভালবাসা নিয়ে পাশাপাশি বসে দুজন চাঁদ দেখেছি ৷

শত স্বপ্নের কথা বলেছি ৷ এভাবে ধীরে ধীরে সমস্ত অবয়বে বিচরণ শুরু করে সামিয়া ৷ কিছুদিন না যেতেই পরিবর্বতন ঘটতে থাকে সামিয়ার ৷ এভয়েট করতে থাকে সামিয়া ৷ দূরে সরে যেতে থাকে আমার থেকে ৷ অসহ্য হয়ে একদিন বললাম ৷ তুমিও তো আমায় ভালবাস, তাহলে এতো দূরে ঠেলে দিচ্ছো কেন? ৷ আমার বয়ফ্রেন্ড আছে ৷ ওর কথাশুনে যতটা না নির্বাক হই তারথেকে বেশি অবাক হই ৷ প্রথমে বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় খুউব ৷ কিন্তু পরদিন সে কষ্টের কোন মূল়্য রয়নি ৷

এভাবেই তিলে তিলে শেষ হয়ে যায় আমার স্বপ্নগুলো ৷ ভেঙ্গে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয় সমস্ত আশা ৷ প্রতিটি সন্ধা স্বরণ করিয়ে দেয় পুরোন স্মৃতি ৷ অজস্র যন্ত্রণায় কেটে যায় চাঁদনী রাতগুলো ৷ ।প্রথম ভালবাসার স্মৃতি গেঁথে যায় মনের গভীরে কিছু নীরব কান্না হয়ে৷

গল্পের বিষয়:
গল্প

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত