বিচ্ছেদ

বিচ্ছেদ

বিকেল ৫টা, অফিস শেষ করে বাটা সিগন্যালে আটকা পড়ে গেছি জ্যামে।গন্তব্যস্থল পিজি হাসপাতাল সাথে আমার প্রাক্তন ছাত্রী হিমি রিক্সায় দুজনেই চিন্তিত মুখে তাকিয়ে আছি সামনের দিকে কখন জ্যামটা ছাড়বে।পিজি হাসতাপাতালে যাওয়াটা খুবই জরুরি।হিমির আম্মুর সিরিয়াস অপারেশন রক্ত লাগবে।হিমি আমার রক্তের গ্রুপ জানতো তাই প্রথম ফোনটা আমাকেই করেছিল না বলতে পারিনি অন্যদিকে আমার বউ নিলাকে কথা দিয়ে এসেছি সকালে বিকেলে তাড়াতাড়ি অফিস থেকে ফিরে দুজন একসাথে ঘুরতে যাবো।নিলার কথা মনে হতেই কলিজাটা শুকিয়ে গেল আজকে বাড়ি ফিরলে আমার কপালে কি আছে কে জানে।হঠাত পকেটে রাখা ফোনটা ভাইব্রেট হয়ে নিজের উপস্থিতি জানান দিলো। ফোনটা পকেট থেকে বের করতেই দেখি নিলা কল দিয়েছে আসলে যেখানে বাঘের ভয় সেখানেই সন্ধ্যা হয়।

ফোনটা রিসিভ করতেই অপর প্রান্ত থেকে ঠান্ডা গলায় ভেসে আসলো কোথায় এখন তুমি???আমি খুব ভালো করেই জানি এখন যদি বলি হিমির সাথে রিক্সাতে করে হাসপাতালে যাচ্ছি তাহলে নির্ঘাত আমাকে কাচা খেয়ে ফেলবে। কোন এক অজানা কারনে নিলা হিমির কথা শুনতেই পারেনা সেটা ভার্সিটি লাইফ থেকেই দেখে আসছি।আমি উত্তর দিলাম নিলা আমিতো অফিসে কাজে আটকে গেছি ফিরতে লেট হবে আমরা বরং কালকে বের হই কেমন???নিলা বল্ল তা তোমার কাজটা বুঝি বাটা সিগন্যালে হিমির সাথে রিক্সাতে ঘুরাঘুরি করা??? ওহ শীট ধরা খেয়ে গেছি।নিলা শোনো আসলে হয়েছে কি বলতেই ফোনটা কেটে দিলো।বুঝলাম আমার কপালে আজকে শনি আছে।আর ফোন দেয়ার চেস্টা করিনি কারন জানি ফোন দিয়ে লাভ হবেনা নিলা ওর ফোন বন্ধ করে রাখছে।রক্ত দিয়ে চলে আসার সময় দেখি রাস্তায় দেশি পেয়ারা বিক্রি হচ্ছে নিলা পেয়ারা পছন্দ করে তাই নিলার জন্য পেয়ারা নিলাম।

বাসায় পৌছে কলিং বেল বাজানোর সাথেই নিলা দরজা খুলে দিয়ে গুটিগুটি পায়ে বেডরুমের দিকে পা বাড়ালো।আমি ব্যাগটা ড্রয়িং রুমে রেখে ফ্রেশ হতে গেলাম।এসে দেখি নিলা বসে আছে চোখমুখ লাল তারমানে নিশ্চয় কান্না করেছে।আমি নিলাকে বললাম নিলা আসলে হয়েছে কি হিমির আম্মার অপারেশন রক্ত লাগতো জরুরিভিত্তিতে তাই অফিস শেষ করে গিয়েছিলাম তোমায় ভয়ে বলতে পারিনি আমিতো জানি তুমি হিমিকে সহ্য করতে পারোনা।এবার নিলা শান্ত গলায় জিজ্ঞাস করলো হিমির আম্মাকে রক্ত দিতে গিয়েছিলে নাকি অন্য কিছু করাতে আমি কিছু বুঝিনা ভাবছো???আমি অবাক হয়ে প্রশ্ন করলাম নিলা কি বলতে চাচ্ছো তুমি????

এসব কি বাজে কথা বলতেছ??? আমাকে দেখে কি তোমার এমন মনে হয়???নিলা আবার শান্ত গলায় বলল বলাটা কি খুব অন্যায় হয়েছে আমার??লজ্জা করেনা নিজের বউকে রেখে অন্য একটা মেয়েকে নিয়ে রিক্সায় ঘুরতে তাও আবার তোমার ছাত্রী??আর কতো মিথ্যা বলবা আমি নিজে চোখে দেখলাম জানালার পর্দা কিনতে গিয়ে???কেন ঠকালে আমায়?? আমার মধ্যে কি এমন কমতি আছে যা তুমি হিমির মধ্যে খুজে পাও??এবার রাগ উঠে গেল আমার মুখ সামলে কথা বলো নিলা। যেটা পুরোটা জানোনা সেটা নিয়ে কথা বলোনা। নিলা এবার বল্ল আসলে আমারই ভুল বাবা মার কথা না শুনে তোমার মতো একটা দুশ্চরিত্র ছেলেকে বিয়ে করে।

এবার আর রাগ সামলাতে পারলাম না কষিয়ে একটা থাপ্পড় দিলাম।নিলা করুন চোখে তাকিয়ে আছে আমার দিকে ও ভাবতেও পারেনি আমি ওর গায়ে হাত তুলবো বিয়ের ২বছর হয়ে গেছে উচু গলায় কথা পর্যন্ত বলিনি। এবার নিজেরই খারাপ লাগতে শুরু করলো কেন মারতে গেলাম ভালোভাবে বুঝালেই হতো।নিলা বল্ল তোমার সাথে আমার আর এক ছাদের নিচে থাকা সম্ভব না। আমি আজকেই বাবার বাড়ি চলে যাবো থাকো তুমি তোমার হিমিকে নিয়ে।নিলা বেডরুমে গিয়ে কাপড় গুছাতে ব্যস্ত হয়ে পড়লো।কেন জানি নিজেকেই গালি দিতে ইচ্ছা হচ্ছিলো কেন মিথ্যা বলতে গেলাম।মিথ্যা না বললেই এসব কিছুই হতোনা।আর নিলা যেপরিমানে জেদি তাতে মুখে একবার বলছে মানে বাবার বাড়ি যাবে মানে যাবেই।ঘন্টা খানেক পরে আমার চোখের সামনে দিয়েই নিলা ব্যাগ গুছিয়ে বাপের বাড়ি চলে গেল আমার চেয়ে দেখা ছাড়া উপায় ছিল না।

এখন রাত ১১টা ঘুম আসছে না আর ঘুম আসবে কি করে যাকে বুকে না নিলে ঘুম হয়না সেই মানুষটাইতো নেই।সমস্ত রাগ জিদ একপাশে রেখে কল দিলাম কিন্তু ওপাশ থেকে জানালো ফোন বন্ধ।সারারাত চেস্টা করে গেছি অবিরাম কিন্তু বন্ধ।ঠিক করলাম অফিস করে এসে ওকে নিয়ে আসবো ওর বাবার বাড়ি থেকে।অফিস শেষ করে ওদের বাসার সামনে দাঁড়িয়ে থেকে কল দিলাম নিলার নাম্বারে কিন্তু এবারো বন্ধ।উপায় না দেখে সরাসরি ওদের বাসায়ই বেল বাজালাম। আসলে পালিয়ে বিয়ে করেছিলাম আমরা নিলার বাবার অমতে উনি বিষয়টা এখনো মেনে নিতে পারেন নি আর উনারই বা দোষ দিয়ে কি লাভ আমি প্রশ্নটা নিজের মনকেই করলাম।আমার মত একটা চালচুলোহীন বেকার ছেলের কাছে যেকোন বাবাই মেয়ে দিতে রাজি হবেনা।উনি নিলার বিয়ে ঠিক করেছিলেন উনার বড় বোনের ছেলে আদনানের সাথে।

বেল চাপতেই দরজা খুললো নিলার বাবা।সালাম দিয়ে নিলা এসেছে কিনা জিজ্ঞাস করতেই উনি মুখের উপর বলে দিলেন নিলাকে যেন আমি আর বিরক্ত না করি,নিলা তার ভুল বুঝতে পেরেছে উনারা নিলাকে আবার বিয়ে দিবেন।আমি উনাদের বুঝিয়ে বললাম ব্যাপারটা উনারা নিলাকে বোঝানোর বদলে আমাকে অকথ্য ভাষায় তাড়িয়ে দিলেন।এরপর আরো দুইটা মাস এভাবেই কেটে গেছে পাহাড় সমান আশা নিয়ে প্রতিদিন গেছি ওদের বাসায় কিন্তু ফিরতে হয়েছে এক বুক হতাশা আর অকথ্য গালিগালাজ শুনে।

ঠিক মতো খাওয়া নেই,ঘুম নেই তারপরও আশায় ছিলাম এইবুঝি নিলা আসলো সমস্ত রাগ অভিমান ভুলে।কিন্তু ভুল ছিলাম আমি।আমার ভুল ভাংলো সেদিন যখন আমারই চোখের সামনে দিয়ে নিলা আর আদনানকে দেখলাম সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে হাতে হাত রেখে বের হতে।পাশেই ছিল আমার বন্ধু রাকিব আমাকে ভালোভাবে বোঝানোর জন্যই এখানে এনেছিলো সে।নিলাকে দেখে সেও বলল বন্ধু এটা নিলা ভাবি না চলতো দেখি গিয়ে।আমি আর রাকিব সামনে দাড়াতেই নিলা অবাক হয়ে তাকালো আমাদের দিকে তারপর কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই বলা শুরু করলো রাকিব ভাই আপনিও কি আজকাল ওর মতই লুচুগিরি শুরু করছেন নাকি??দেখছেন না মেয়ে দেখতে পার্কে এসেছে।

যত্তসব থার্ডক্লাস বেচে গেছি আমি আগেই বুঝতে পেরেছি বলে।আর শুনেন আপনার বন্ধুকে বলে দিয়েন আমি ডিবোর্স পেপার পাঠিয়ে দিবো লজ্জা থাকলে যেন স্বাক্ষর করে দেয় বলেই হনহন করে চলে গেল।অপমান আর লজ্জায় নিজেকে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে ইচ্ছা করছিলো।নিলার কথাটাকে সত্যি প্রমান করে কয়েকদিন পর ডাকযোগে ডিবোর্স পেপার এসেছিল।জীবনে প্রথমবার সিগারেট খেয়েছিলাম সেদিন রাতভর কেদেছিলাম। এটাই ছিল শেষ কান্না।আমার পক্ষে কোন ভাবেই সম্ভব না ডিবোর্স পেপার সই করা।সিদ্ধান্ত নিলাম চলে যাবো নিলার থেকে অনেক দূরে যেখানে মানুষে মানুষে ভেদাভেদ নেই সন্দেহ নেই।সেদিনি সিমটা বদলিয়ে রাতারাতি ছেড়েছিলাম প্রানের শহর ঢাকা।নিলার সাথেই এটাই ছিল আমার শেষ দেখা।

এরপর বছর দুয়েক কেটে গেছে।নিলা কোথায় আছে কেমন আছে জানিনা।ছোট্ট একটা ঘর করেছি রামগড়ের এইদিকে।জায়গাটা পার্বত্য খাগড়াছড়ি থেকেও অনেক দূরে কোন কোলাহল নেই।এখানকারই একটা আদিবাসী স্কুলে পড়াই।খাবার দাবার ওরাই দিয়ে যায়।তবে এতো কিছুর মধ্যেও রাকিবের সাথে যোগাযোগ ছিল আমার।সিম বদলালেও রাকিবের সাথে কথা হতো নতুন সিম দিয়ে তবে শর্ত দিয়েছিলাম আমার খোজ যেন কেউ না জানে।আর খোজ নিবেই বা কে??তিনকুলে কেউ বেচে নেই আমি আর রাকিব একসাথে বড় হয়েছি একটা দাতব্য বোর্ডিং এ থেকে।আর নিলার খোজ নেয়ার তো প্রশ্নই আসে না তাই পিছুটান বলে কিছু ছিল না।দিনকালও ভালোই যাচ্ছিলো।বিপদ ঘটালো রাকিব।

এই সপ্তাহে ওর বিয়ে আমাকে যেতেই হবে।ছোটবেলা বলতে সেই একসাথে হাটা শুরু করা বন্ধু আমরা। তাই না করা গেলনা।আর রাকিব যে টাইপের ছেলে না বললেও শুনবে না।সিদ্ধান্ত নিলাম আজকে রাতেই রওনা দিবো টিকিট ও কনফার্ম রাত ১১.৩৫এ এনা পরিবহন।বাস এ উঠার পর বাস চলা শুরু করলো। ঝিরিঝিরি বৃষ্টি হচ্ছে এই রকম আবহাওয়াটা আমার জন্য একদম দুর্বিসহ।এমন দিনে নিলাতো ভুনা খিচুরি রান্না করতো এখনো করে হয়তো তফাত হলো আমার জন্য না।নিলাকে দেখতে কেমন হয়েছে এখন???উম দুই একটা বাচ্ছাও হতে পারে চুলে হয়তো পাক ধরেনি এখনো এসব ভাবতে ভাবতেই ঘুমিয়ে পড়লাম।

ঢাকায় এসে পৌছালাম দুপুরের একটু আগে।অনেকটা নতুন নতুন মনে হচ্ছে।নিয়ত বাতি বদলে সোডিয়াম বাতি হয়েছে, রাস্তার মোড়ে মোড়ে এল ইডি বসেছে তবে নিয়ন বাতি নেই দেখে খারাপ লাগলো নিয়ন বাতির আলোতে আমরা কত হেটেছি দুজনে হাতে হাত রেখে আজ সবই স্মৃতির পাতায়।একটা রিক্সা ডেকে রাকিবের বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম।ওর বাসায় পৌছে ফ্রেশ হয়ে একটা ঘুম দিলাম আসলে অনেকদিন পর জার্নি করেছি তাই ঘুমটাও হলো বেশ।সন্ধ্যা বেলা দুই বন্ধু বের হলাম কেনাকাটা করতে। অনেকদিন পর সামনা সামনি দেখা তার উপর নতুন বিয়ে ওর পুরোটা রাস্তা পচাইতে পচাইতে নিয়ে গেছি ওরে।জিজ্ঞাস করলাম মেয়ে কেমন??রাকিব বলল আরেহ বাংলা ডিপার্টমেন্টের সামিরা কে চিনস নাই???আমাদের যে মাঝে মাঝে রান্না করে খাবার পাঠাতো।

মেয়েটা বড্ড ভালো ছিল তারচেয়ে বড় কথা একদম মধ্যবিত্ত ঘরের মেয়ে রাকিবের সাথে মানাবেও বেশ।কেনাকাটা শেষ করে বাসায় ফেরার সময় রাকিব বলল মামা তোমার জন্য অনেক সারপ্রাইজ আছে সাবধানে থাইকো কিন্তু।মুচকি হাসলাম আমার আর সারপ্রাইজ জীবনে এতো সারপ্রাইজ পেয়েছি ভুলার মত না।রাতে খাবার খেয়ে একটা ঘুম দিলাম।সকালে ঘুম থেকে একটু দেরীতে উঠলাম।উঠেই দেখি রুমের সামনে একটা প্রানী পায়চারী করছে অনেকটা নিলার মত করেই।আরেহ ধুর নিলা আসবে কোথায় থেকে আমার মনের ভুল।রুম থেকে বের হতেই দেখি নিলা সত্যি নিলা।রাকিব হয়তো ওদেরো দাওয়াত দিছে।আমি আমার মত বের হয়ে এসে দাড়ালাম বাড়িটার গেটের সামনে।তাকিয়ে দেখি নিলাও আমার পিছনে পিছনে আসছে।পিছন থেকেই বলে উঠলো কেমন আছো তুমি??আমি মুচকি হেসে উত্তর দিলাম আমি ভালো থাকি।নিলা বলল আচ্ছা চলোনা একটু হাটি যদি তোমার সময় থাকে।

এমন নিরীহ ভাবে বলল যে না করতে পারলাম না হুম বললাম।বলতে না দেড়ি অমনি বাম পাশে এসে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞাস করলো তো কেমন কাটছে আজকাল তোমার দিনকাল বিয়ে সাধি করেছ বুঝি??মুচকি হেসে উত্তর দিলাম তোমার কি মনে হয় জীবন কারো জন্য থেমে থাকে???নাহ আর বিয়ে করা হয়নি এমনিতেই ভালো আছি একা মানুষ টেনশনের কোন বালাই নেই।নিলা এবার কৌতুহলী হয়ে জিজ্ঞাস করলো আমায় জিজ্ঞাস করলে না আমি কেমন আছি??? বিয়ে সাধি করেছি কেন?এবার বললাম ভালো থাকার জন্যই তো গিয়েছিলে আর এসব প্রশ্ন করে আমার কি লাভ??আশা করি নিজেকে তোমার বাবা মার মনের মতো করেই গুছিয়ে নিয়েছ।নিলার দিকে তাকিয়ে দেখি নিলা কাদছে হয়তো পছন্দনীয় উত্তর না পেয়ে নয়তো অতীত কে হাতরিয়ে।আমি কিন্তু এখনো অপেক্ষায় আছি পরাগ তোমার।

তুমি চলে যাওয়ার পর বুঝেছিলাম কি হারিয়ে ফেলেছি আমি। খুজে খুজে হিমিদের বাসাতেও গিয়েছিলাম আমি।ভুল ছিলাম আমি, জানতাম না যে হিমির আম্মু তোমাকে উনার নিজের ছেলের মত দেখে। মাফ করা যায়না আমায়???আরেকটা সুযোগ কি পাওয়ার যোগ্য না আমি???আমি নিলার দিকে তাকিয়ে বললাম নিলা আমি এতিম টিউশনি করে নিজের খরচ চালাইছি হিমিকে পড়িয়ে যেটাকাটা পেতাম ওটা দিয়েই আমার খরচ চলে যেতো।তোমার মনে আছে তোমাকে নিয়ে যেদিন পালিয়েছিলাম সেদিন আমার হাতে অনেকগুলা ২০-৫০টাকার ছিল। ওই টাকাগুলো ক্লাস টেন পড়ুয়া হিমির টিফিন থেকে জমানো টাকা ছিল।শেয়ার করেছিলাম ওর সাথে তোমার কথা।স্যার এটা আমার পক্ষ থেকে আপনাদের জন্য উপহার।কিন্তু তুমি আমাদের নিয়ে কি ভাবলা??ছিহ!!আর আমার লেভেল এতোটাও নিচে নামেনি যে পার্কে মেয়ে দেখতে যাবো।নিলা কাদছে, কাদুক তাতে আমার কি দ্রুতপায়ে হেটে বাসায় চলে আসলাম।

দুইদিন হলো নিলা এভাবে পিছু ছাড়ছে না আমিও হ্যা না কিছুই বলছিনা কারন নিলার মুখের উপর না বলার সাহসটা আমার নেই।রাকিবের বিয়েটা ভালোয় ভালোয় হয়ে গেলে বাচি।এসব ভাবতে ভাবতেই দেখি পিছন থেকে স্যার বলে ডাক দিলো।তাকিয়ে দেখি হিমি।আরেহ হিমি যে কেমন আছো???আন্টি কেমন আছেন??হিমি গম্ভির মুখে জিজ্ঞাস করলো আন্টির কথা পরে হবে আপনি আগে বলেন ম্যাডাম কে এভাবে কস্ট দিচ্ছেন কেন???ম্যাডাম আপনি ভিতরে আসেন তো দেখি কেমনে আপনাকে তাড়িয়ে দেয়।শুনেন একদিন সময় দিলাম দুইজনে মিটমাট না করে নিলে কিন্তু আমি কিছু একটা করে বসবো। আমার জন্যই কিন্তু আপনাদের সংসার ভেংগে গেছে।আমি নিলার দিকে তাকালাম অপরাধীর মত নিচু হয়ে কান্না করছে।বিষয়টা খবই বেমানান দেখাচ্ছে হাজার হলেও আমার প্রাক্তন ছাত্রীর সামনে। আমি হিমিকে বললাম তোমার ম্যাডাম কে বলে দিও এটাই যেন শেষ বার হয় আর তোমাদের কথা শেষ হলে বাসার বাহিরে পাঠাই দিও বলে রুম থেকে বের হয়ে আসলাম।

স্পষ্ট শুনতে পেলাম দুজনেই কান্না করছে।একটু পর দেখি দুজনেই বের হলো বাসা থেকে।নিলার দিকে তাকিয়ে চোখ পাকাতেই বলল চোখ পাকিয়ে লাভ নাই।আপনি যে টাইপের ঘাড়ত্যারা পাবলিক ম্যাডামরে একা পাঠানোর সাহস হলোনা।ছাত্রীর মুখে এহেনক অপমান জনক কথা শুনে ইচ্ছা করছিলো ঠাটিয়ে দুইটা বসাই দুই গালে।হিমি হেসে বলল শুনেন স্যার আপনি কি ভাবছেন আমি জানি ভুলেও এইকাজটা করবেন না ম্যাডাম কিন্তু আমার দলে।আর শুনেন এবার যখন খাগড়াছড়ি যাবেন ভাড়ার টাকাটা কিন্তু আমিইই দিবো।আমি আর নিলা তাকিয়ে আছি এই পিচ্চি মেয়েটার দিকে।নিলা শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো হিমিকে।হিমি এবার যা বল্ল আমাকে নাহ উনাকে ধরেন।এবার দিলাম একটা ধমক।ভয় না পেয়ে বলল ধমক দিয়ে লাভ নেই আর আমি বাড়িতে যাচ্ছি তাড়াতাড়ি ফিরবেন কিন্তু আজকে আমাদের বাড়িতে আপনাদের দাওয়াত বলেই পিছনে ফিরে হাটা শুরু করলো।

আমি আর নিলা হাটছি ফুটপাত ধরে। হঠাত খেয়াল করলাম নিলার আঙুলগুলো আমার হাতের আঙুলের মধ্যে আসলো আমি পরম যত্নে শক্ত করে আকড়ে ধরলাম।স্পষ্ট দেখলাম নিলা কাদছে সোডিয়াম আলোয় তা যেন হিরার মত চিকচিক করছে।বাধা দিলাম না কাদতে একটু পর ফাকা জায়গা পেতেই শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো আমাকে।এই পাগলী কেউ দেখবে তো ছাড়ো।উহু ছাড়বোনা আমার জামাইকে আমি জড়িয়ে ধরেছি তাতে কার কি।মুখটা ধরে সামনে আনতেই মুচকি একটা হাসি দিলো।যে হাসিতে আছে পাওয়ার আনন্দ।

গল্পের বিষয়:
গল্প
DMCA.com Protection Status
loading...

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত