মনের বিভ্রান্তি

মনের বিভ্রান্তি

সকাল থেকে ঘর পরিষ্কার করা শেষে চুলায় রান্না বসিয়েছে রাহেলা৷ কিছুখন পর পর সেখান থেকে উকি দিয়ে ড্রয়িং রুমের দেয়ালে টানানো ঘড়িতে সময় দেখে নিচ্ছে৷ সবে আড়াইটা বাজে৷ পাঁচটার ফ্লাইটে ঢাকায় আসবে রাতুল৷ রাহেলার এক মাত্র সন্তান সে৷ বছর তিনেক ধরে আছে কাতারে৷ অনার্স শেষ না করে সে চলে যায় কাতার৷ জীবিকার সন্ধ্যানে৷

এত বছর পর ছেলে ঘরে ফিরছে৷ এ কারনে মনের জমানো আনন্দ ফুটে উঠেছে মায়ের মুখে ৷ অস্থিরতা কাজ করছে তার সব কাজে৷ ঘন ঘন ঘড়ি দেখছে, আর শেফালিকে বলছে, ‘কিরে শেফা৷ ঘড়ি নষ্ট নাকিরে? দেখতো ঘড়ির ব্যাটারি ঠিক আছে কিনা৷’ শেফা মৃদু হেসে বলে, ‘খালা ঘড়ি ঠিকই আছে৷’ রাহেলা চোখে মুখে অস্থিরতার সহিত বলে, ‘তবুও তুই ঘড়িটা একবার নেড়ে চেড়ে দেখে আয়৷ মনে হচ্ছে ঘড়ির কাটা আটকে আছে৷ ঘুড়ছে না৷’ শেফালি একটু শব্দ করে হেসে ঘড়ি হাতে নিয়ে উল্টিয়ে পাল্টিয়ে দেখে বলল, ‘সব ঠিকই আছে খালা৷ ধৈর্য্য ধরেন৷ কয়েক ঘন্টা পরই রাতুল ভাই চলে আসবে৷’ অস্থিরতার সাথে রাগ মিশিয়ে রাহেলা বলল, ‘তিন বছর ধরে ছেলেকে দেখি না৷ এত বছর ধৈর্য্য নিয়ে থাকার পরেও আবার বলছিস ধৈর্য্য ধরতে৷’

শেফালী রাহেলাকে খালা বলে ডাকলেও তাদের মাঝে রক্তের সম্পর্ক নেই৷ দূর সম্পর্কের এক আত্মীয়র মেয়ে শেফালী৷ ওর ছোট বেলায় বাবা-মা মারা গেলে নিজের কাছে রেখে মানুষ করার দায়িত্ব নেয় রাহেলা৷ স্কুল কলেজ পেরিয়ে এখন ও সরকারী এক কলেজে ফিন্যান্স নিয়ে পড়ছে৷ পাশা পাশি এক কোচিং সেন্টারে পড়িয়ে হাত খরচের কিছু টাকা জোগাড় করে নেয়৷ সেই টাকা থেকে মাস শেষে রাহেলার জন্য শাড়ি আর ঘরের টুকটাক কিছু বাজার সদাইও করে৷

রাতুলের আসার খবরে রাহলের মত অস্থিরতা ওর ভেতরেও প্লাবিত হচ্ছে৷ কিন্তু ওর চোখে মুখে সেটার কোন ছাপ নেই৷ রাহেলার চোখের থেকে নিজের চোখ লুকিয়ে ও বেশ কয়েকবার ঘড়ি দেখছে৷ নিজের মনে বার বার প্রশ্ন তুলছে৷ ‘ধুর, আজ সময় কেন যাচ্ছে না৷ মনে হচ্ছে ঘড়ির মিনিটের কাটা, ঘন্টার মত ঘুরছে৷’

রাতুলের জন্য মনের মধ্যে এমন অস্থিরতা শেফালী প্রথম টের পায় বছর তিনেক আগে৷ যে দিন রাতুলের ভিসা ফাইনাল হলো৷ ছেলে চলে যাবে দূর দেশে৷ মায়ের বুকের থেকে হাজার কোটি মাইল দূরে৷ এক মাত্র ছেলে, যাকে তার মা ডাকে সাত রাজার ধন বলে৷ সেই সাত রাজার ধনকে বুকে জাপ্টে ধরে মায়ের আহাজারি৷ মায়ের কান্নায় শক্ত পাথরের মত রাতুল, ঘরের প্রতিটি বস্তুকে শুনিয়ে কাঁদতে লাগল৷

সেদিনের মা ছেলের কান্নার পেছনে দাঁড়িয়ে নিবিড় ভাবে কেঁদেছে শেফালী৷ কান্নার দৃশ্য দেখে কান্না না৷ রাতুলের চোখে হঠাৎ-ই পানি দেখে ওর বুকের ভেতরটা ছ্যাৎ করে উঠে৷ শেফালী ভাবতে থাকে প্রতিদিনের সেই চেনা শেফা ডাকটা সহজেই আর শোনা হবে না৷ তার কাছে ওমন অধিকার নিয়ে আর কেউ খাবার চাবে না৷ কোচিং থেকে পড়া শেষ করে বাসায় ফিরতে সন্ধ্যা হলে রাতুল নামের কেউ তাকে এগিয়ে নিয়ে আসবেনা৷ মন খারাপের দিনে যত্নের কন্ঠে কেউ বলবে না, চলো শেফা৷ নদীর পারে থেকে ঘুরে আসি৷

এসব ভেবে ওর মনে প্রথম রাতুলের জন্য অস্থিরতা সৃষ্টি হলো৷ এবং ভালোবাসার বিষয়টি ও প্রথম ঐ দিনই বুঝতে পারলো৷ যখন রাতুল মায়ের বুকে থেকে কান্নার সমাপ্তি ঘটিয়ে শেফালীর হাত ধরে ছাদে নিয়ে এসে বলল, ‘তোমাকে ভালোবাসি শেফা৷ তোমার থেকে দূরে থাকা আমার জন্য অনেক কষ্টের৷ তুমি আমার নিত্যদিনের অভ্যাস৷ তোমাকে, আমার আম্মাকে ছাড়া আমি ঐ গরম দেশে কি করে কাটাব বুঝতে পারছি না৷ তুমি ভালো থেকো৷ মায়ের খেয়াল রাখবে৷ নিজের যত্নের অবহেলা করবে না৷’ বলেই শেফালীকে আলিঙ্গন করে চুম্বন করে রাতুল৷

সে স্পর্শের কথা হটাৎ শেফালীর মনে হতেই চোখে মুখে অস্থিরতার সাথে ধরে বসল লজ্জা৷ রাহেলা অনেকটা ধমকের স্বরে বলল, কিরে শেফা, খিচুরি রান্না হয়েছে৷ ধমকের কারনে শেফালীর মুখের থেকে লজ্জা অস্থিরতা কোনটি সরল না৷ বলল, ‘হ্যা খালা৷ রান্না সব হয়ে গেছে৷ শুধু ওর আসাই বাকি৷’ ‘ওর’ এই শব্দটি সোজা কানে শুনলেও দৃষ্টি আড় করে রাহেলা বলে বসল, ‘ওর’ আবার কি ধরনের শব্দ৷ রাতুল কি তোর জামাই লাগে যে ‘ওর’ বলে ডাকবি৷’

রাহেলার কথার জবাবে শেফালী শুধু ঠোঁট টিপে হাসলো৷ যে কোন কড়া কথা কিংবা কষ্টদায়ক কোন কিছুর উত্তরে শেফালী হাসতে শিখেছে৷ এর কারন তার মন খারাপের সময় পাশে থাকা মানুষটি দূর দেশে৷ কেউ ওর কষ্ট দূর থেকে বুঝে কাছে এসে সেটি দূর করবে না৷ কাজেই শেফালীর নিজের মনকে নিজেরই সতেজ করতে হয়৷ তাই সবার সব কথা ও মনে গাঁথে না৷

হটাৎ-ই শেফালীর মনে হলো বিথি নামের মেয়েটির কথা৷ কয়েক মাস আগে রাতুল রাহেলাকে ফোনে দিয়ে বিথির প্রসঙ্গে অনেক কথা বার্তাই বলেছে৷ বিথিদের মালিবাগের বাসায় বেশ কয়েকবার গিয়ে দাওয়াতও খেয়ে এসেছে৷ রাহেলার মুখের থেকে এই মেয়েটির প্রসঙ্গে মাস খানেক ধরে এত কথা শুনছে যে সেদিন শেফা জিজ্ঞাসা করে বসল, ‘খালা, বিঁথি মেয়েটি কে?’

রাহেলা মুখে হাসি ফেলে বলেছিল, ‘রাতুলের ফেসবুক বন্ধু৷ অনেক দিন ধরেই ওদের বন্ধুত্ব ফেসবুকে৷ তাই আমাকে বিথির ঠিকানা দিয়ে বলল যে বাড়ি ঘর দেখে আসতে৷ মেয়ের বাবা মায়ের সাথে সৌজন্যমূলক সাক্ষাত করে আসতে৷ তাই আরকি মেয়েটির বাসায় যাওয়া৷’

সেদিনের বিথির প্রসঙ্গে শোনার পর থেকে শেফালীর মনে কেমন এক চাপা দুশ্চিন্তা কাজ করছে প্রতিনিয়ত৷ ওর শ্যামলা হাস্যজ্জ্বল মুখটা, যে মুখে রাতুলের আগমনে প্রদীপ জ্বলছিল৷ বিথি মেয়েটির কথা ভেবে সেটি নিভে গেল ধাপ করে৷ কোন এক ভারি বাতাস মনের জানালা দিয়ে ঢুকে প্রদীপটি হুট করেই নিভিয়ে দিল৷

ওর মনে হতে লাগল, এই বিথি মেয়েটি রাতুলের ফেসবুক প্রেমিকা৷ দেশে এসে এই মেয়েকে বিয়ের চিন্তা করছে সে! ভাবতেই চোখের কোণে পানি জমে উঠলো৷ রাহেলর দিকে মুখ ফিরিয়ে শেফা বলল, আচ্ছা খালা, ‘বিথি মেয়েটির সাথে কি রাতুল ভাইয়ের কোন?’ ‘জানি না ওদের মধ্যে সম্পর্ক কি৷ তবে বুঝতে পারি যে রাতুল বিথি মেয়েটিকে পছন্দ করে৷ আমি মেয়েটিকে আজকে আসতে বলেছি৷’ প্রশ্নের উত্তর রাহেলা গুরুত্বের সাথে না দিলেও যতুটুকু দিল তাতে ভয়ে শেফালীর চোখের কোণে জমা পানি গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়ল৷ যথা সাধ্য মত সেই পানি রাহেলার কাছে থেকে লুকাবার চেষ্টা করলো শেফালী৷ কিছুখন পরই কোলিং বেলের শব্দে রাহেলার বলল, ‘দেখতো দরজা খুলে৷ মনে হয় বিথি মেয়েটি এসেছে৷’

দরজা খোলে বাইরে দাঁড়ানো মেয়েটির দিকে বেশ কিছুখন তাকিয়ে রইলো শেফালী৷ অল্প বয়স্ক একটি মেয়ে৷ হয়তো সবে ভার্সিটিতে ভর্তি হয়েছে৷ ওয়েস্টার্ন ড্রেসে অাধা চুলে সোনালী রঙ করায় বেশ মানিয়েছে মেয়েটিকে৷ শেফালী দরজা ধরে দাঁড়িয়ে মুগ্ধ হয়ে মেয়েটিকে দেখছে৷ আর মনে মনে ভাবছে, রাতুলের পাশে মেয়েটিকে দারুন মানাবে৷ আধুনিকতার সব ছোঁয়া মেয়েটির মাঝে আছে৷ মেয়েটি কি পারবে রাতুলকে সুখে রাখতে৷ সে মুহূর্তে মেয়েটি বলে বসল, ‘আমি কি ভিতরে আসতে পারি? আমার নাম বিথি৷’

ঘরের ভেতর থেকে রাহেলা উকি দিয়ে বিথিকে দরজায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বলল, ‘আরে মা, ভিতরে এসো৷ বাহিরে দাঁড়িয়ে কেন এসো এসো৷’ ঘরে ঢুকে সোঁজা রাহেলার কাছে গিয়ে পায়ে সালাম করল বিথি৷ বলল, ‘কেমন আছেন খালা? মুখ ওমন শুকিয়ে আছে কেন?’ ‘ভালো আছি মা৷ ছেলের আসার সময় হয়ে গেছে৷ বুকের মাঝে আকড়ে ধরার আর তড় সইছে না৷’ বিথি মৃদু হাসলো৷ ‘তুমি ঘরে গিয়ে বসো৷ আমি হাতের কাজ সেরে আসছি-বলে রাহেলা পা বাড়ালো রান্না ঘরের দিকে৷’

বাহিরে দরজায় মূর্তির মত দাঁড়িয়ে আছে শেফালী৷ তার দেহ যেন মূর্তিতে পরিনত হতে সাহায্য করেছে বিথি৷ রাতুলকে নিয়ে দেখা স্বপ্ন, বাকি জীবন পার করার ছোট ছোট আশা৷ সব যেন এক সাথে বালু কোণার মত হয়ে তৈরী হয়েছে ওর দেহ মূর্তি৷ রাহেলা রান্না ঘর থেকে শেফা বলে কয়েক বার ডাক দিয়েছে৷ এতেও যেন ওর পা দরজার কাছে হতে নড়ছে না৷ মূর্তির মত দাঁড়িয়ে চোখ দিয়ে শুধু বিথিকে দেখছে৷

প্রত্যেকটি মানুষের জীবনে ভালোবাসার চাহিদা থাকে৷ কিন্তু সে চাহিদা সময়ের সাথে সাথে বিশেষ ক্ষেত্র পরিবর্তন করে৷ রাতুলের মধ্যেকার ভালোবাসা আজীবন একই থেকে যাবে৷ সময়ের পরিবর্তনে হয়তো শেফালীর জায়গায় এসেছে বিথি৷ বোধ হয় রাতুলের ভালোবাসার জন্য এ সময়টা শেফালীর চেয়ে বিথি-ই শ্রেয়৷

এসব ভেবে জড়ানো পায়ে ঘরে ঢুকে দরজা লাগিয়ে বিথির কাছে এগিয়ে গেল শেফালী৷ বলল, ‘আপনি চা খাবেন?’ শেফালীর হাতখানা ধরে চেয়ারে বসিয়ে বিথি বলল, ‘আমাকে আপনি করে বলতে হবে না৷ আমি বয়সে আপনার ছোট৷ আপনার অনেক কথা শুনেছি রাতুল ভাইয়ার কাছে থেকে৷ শুনেছি আপনি খুব ভালো গাইতে পারেন৷ আজ আমাকে গেয়ে শুনাবেন প্লিজ৷’

শেফা হ্যা বা না কিছু বলতে যাবে এমন সময় কোলিং বেলের আওয়াজ৷ বেলের এ আওয়াজটি যেন অন্যসবের মত না৷ কোলিং বেলের এ শব্দে যেন ওর মন উতলা করে দিয়েছে৷ ও যেন নিজের হার্টবিটের শব্দ স্পষ্টই শুনতে পাচ্ছে৷ সে শুনতে পাচ্ছে মৃদু শব্দে শেফা নাম ধরে ডাক৷

টেবিলের ওপর রাখা ঘড়িটি-তে চোখ ফেলল৷ সাড়ে পাঁচটা বেজে গেছে৷ এ কোলিং বেল বাজানো শব্দটি রাতুলেরই৷ আরো একবার বেল বাজল৷ তবুও শেফালী চেয়ার ছেড়ে উঠতে পারছে না৷ আবেগের দড়ি যেন তাকে চেয়ারে বেঁধে রেখেছে৷ সে দড়ি ছিড়ে উঠতে চাইছে৷ কোন মতেই পারছে না৷

চেয়ারে বসেই শেফালী আরো একবার বেল বাজার পর দরজা খোলার শব্দ শুনতে পেল৷ তারপর ওর কানে ভেসে এলো মায়ের আনন্দ অশ্রুর শব্দ৷ রাতুলের কন্ঠ থেকে ভেসে এলো- ‘কেমন আছো মা? কিছুখন পর আবার শব্দ এলো- কেমন আছো বিথি?’ ওর আবেগের দড়ি যেন এ কথায় খানিকটা ছেড়া শুরু করেছে৷ শেফেলী চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়াল৷ কিন্তু বাইরে বের হলো না৷ মূর্তির মত টেবিলে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে রইলো৷

এরপর শুনতে পেল পায়ের শব্দ৷ এ ঘরের দিকেই কোন ভারি পা ফেলে এগিয়ে আসছে৷ ওর হৃদপীন্ডের কম্পন যেন ক্রমশই বেড়ে চলেছে৷ কয়েক সেকেন্ড পর শেফালীর সামনে এসে দাঁড়ালো সেই স্বপ্ন, সেই ছোট ছোট ইচ্ছা, সেই সুখ দুঃখের সঙ্গি৷ রাতুলের দিকে তাকিয়ে ও যেন সমস্ত কিছু ঝাপসা দেখছে৷ রাতুলের শক্ত দুহাত আলিঙ্গন করল শেফলীর কমল গালে৷ গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে চোখের পানি৷ রাতুলের আঙ্গুল মুছে দিল সে পানি৷ তারপর বলল, ‘ওমন শুকিয়েছো কেন?’

ওর ঐটুকুন কথায় শেফার চোখের ঝিরি ঝিরি বর্ষা ভারি হয়ে ঝড়তে শুরু করেছে৷ সে মুহূর্তে ঘরে এসে ওদের পাশে দাঁড়ালো বিথি৷ চমৎকার দৃশ্যে অভিভূত হয়ে বলল, ‘রাতুল ভাই, দীর্ঘ দিন প্রিয় মানুষটিকে দেখার খিদে বুঝি মিটেছে৷’ শেফার চোখের থেকে চোখ সরিয়ে বিথির দিকে চেয়ে রাতুল বলল, ‘সাগরের পিপাসা কি আর এক গ্লাস জলে মিটে৷’

মনের প্রদীপ যেন আবার জ্বলতে শুরু করেছে শেফালীর৷ চোখে ভাসতে শুরু করেছে রাতুলকে নিয়ে ডুবে যাওয়া সেই স্বপ্ন৷ পশ্চিমা জানালা দিয়ে প্রবেশ করছে সূর্য ডোবার আলো৷ সে আলো দূর করছে বিথিকে নিয়ে তৈরী হওয়া বিভ্রান্তি৷

(সমাপ্ত)

গল্পের বিষয়:
গল্প

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত