কনফিউশন

কনফিউশন

আব্বুর সাথে মার্কেট গিয়েছি। সামনে মামার বিয়ে কিছু শপিং করতে। ড্রেস কিনব আরো কিছু জিনিস সাজঁগুজের। অনেক দোকান ঘুরতে ঘুরতে একটা ড্রেস পছন্দ হল। কিন্তু সমস্যা হল অন্য জায়গায়। ড্রেস পছন্দ হয়েছে ঠিক আছে। কিন্তু ঐ ড্রেস কোন কালারের টা কিনব সেটা নিয়ে বেজায় কনফিউজড। কারণ ড্রেস এর দুইটা কালার আছে আমার দুইটা কালার ই পছন্দ হয়েছে। একটা ব্যাগে ভরে আনলে মনে হয়, না এটা না ঐ কালার টা ভালো লাগবে। আবার ঐ কালার টা নিয়ে আসলে মনে হয় না আগের কালার টাই ঠিক আছে। এরকম করতে করতে তিনবার দোকানে গেলাম আসলাম। শেষমেস আব্বু বললেন দুই টাই কিন। পছন্দ যখন হয়েছে ।

আমি তো মহা খুশি দুই টা ড্রেস নিয়ে বাসায় আসলাম। বাসার সবাই একই ডিজাইনের দুইটা দুই কালারের ড্রেস দেখে আমার অনেক সময় গুণকীর্তন করলেন। আমিও বলে দিছি আমার কি দোষ, দুই টাই ভালো লাগছে । দুই টা ই আমার। বই কিনতে লাইব্রেরি তে গেলে তো মাথা ঘুরায় কোনটা রাখব কোনটা আনব। মনে হয় সব বইনিয়ে আসি ! বাইরে খেতে গেলেও সেইম প্রবলেম। কি খাব, মেনু দেখে কনফিউজড হয়ে যায়। সব ই তো ভালো লাগে। সমস্যা কি আব্বু আছেন তো..! একটা খেয়ে বাকি সবগুলো পার্সেল করে নিয়ে আসি। বাসায় এসব দেখে আম্মু তো রেগে একদম আগুন। মেয়ে কে এসব দিয়ে দিয়ে মাথায় তুলছ। পরের বাড়ি যখন যাবে তখন কি করবে? যত্তসব আহ্লাদী।

— সমস্যা কি আমার মেয়ের জামাই এরকম একজন খোঁজে নেব। ( আব্বু)
— মাথায় তোল আরো। একদম নাচিয়ে ছাড়বে দেখ। এই রিনি, তোকে না বলছি রান্না ঘরে যেতে। গরম লাগছে আম্মু ঠান্ডা কিছু দাও। তারপর যাচ্ছি।
— লেবুর শরবত দিচ্ছি। খেয়ে আয়।
— লেবুর শরবত না, জোস দাও , না স্প্রাইট দাও না না সেভেনআপ দিয়ে দাও। কানে ধরে একদম এসব খাওয়া শিখিয়ে দেব। সবকিছু চাই একসাথে।

আচ্ছা, চল আসতেছি রান্না ঘরে। আম্মুর সাথে রান্নাঘরে গেলাম। সামনে চিকেন রাখা ফ্রিজ খুলতে ই বিফ দেখলাম। আম্মুকে আবদারের সুরে বললাম। আম্মু আজকে বিফ রান্না কর চিকেন এর সাথে। আম্মু একটু কটমট করে তাকিয়ে পরে বললেন ঠিক আছে। বিফ বের করলাম। বিফ বের করার সাথে সাথে দেখি একটা বাটিতে চিংড়ি রাখা। চিংড়ি দেখে লোভ সামলাতে পারলাম না। আবার আকুতি ভরা সুরে বললাম। আম্মু, অনেক দিন হল চিংড়ি খাইনি। আজ চিংড়ি খাব। গলা শুকিয়ে যাচ্ছে চিংড়ির জন্য। একদম। আম্মু চোখ বড় বড় করে রাগি গলায় বললেন, তোমার আজ কিচ্ছু খেতে হবে না। যা রান্না করব তা দিয়ে খাবে। কচু,লালশাক, আলু ভর্তা দিয়ে খাবে বুচ্ছ। আমি মন খারাপ করে চলে আসলাম। বাবা, মা কে বললেন এখন বুঝেছ..? হ্যা, তোমার জন্য সবকিছু। আমি না খেয়ে বসে আছি। অনশন করছি। হয় আব্বু বাইরে নিয়ে গিয়ে খাওয়াবে না হয় আম্মু বিফ বিফ আর চিংড়ি রান্না করে দিবে..! তখনই, আমার স্পেশাল খালার কল আসল — আম্মু ধরলেন। কে মেহমান নাকি সন্ধ্যায় আসবেন।

আম্মু দেখলাম বেজায় খুশি । কি ব্যাপার ! আব্বু বিকেলে আসলেন। আব্বু এসে ই আম্মু কে বললেন আব্বুর কে জানি বন্ধু পরিবার সহ আমাদের বাসায় আসছেন আজ সন্ধ্যায়। সবকিছু শুনে আম্মু অবাক। বুঝলাম না কি জন্য। অনেক আয়োজন করা হল। আব্বু আম্মু কে বললেন যা হবে পরে দেখা যাবে। এমনি আসছেন এখন। সন্ধ্যায় খালা নিয়ে এলেন এক দল মেহমান। অপর দিকে আব্বুর মেহমান। দু- পক্ষ ই বেশ ভালো। মানে দুইপক্ষে দুইটা ছেলে ছিল আব্বু আম্মু আমাকে বলেছিলেন কোন জন পছন্দ হয় বলতে । আমি আবার কনফিউজড..! একজন ডাক্তার খুব ভালো গানও গায়। আরেকজন একটা কোম্পানির এম.ডি। সাথে খুব ভালো ছবিও আঁকে, ছবি একে অনেক প্রাইজ পেয়েছে। ছবি আঁকা আর গান দুই টাতে ই আমার দূর্বলতা এখন কি করি। আব্বু আম্মু আমার সামনে বসে আছেন। রাত বারোটা বাজে। প্রায় দু ঘন্টা যাবত আমি চিন্তায় মগ্ন। কি করব, কাকে ছেড়ে কাকে রাখব। আব্বু আমি দুইটা জিনিস ই পছন্দ করি তাহলে কি….

— থাম থাম.. কি বলতে চাস..!
— দেখছো এখন কি করবা..? আরো মেয়ে কে মাথায় তুল। একসাথে এখন দুই ছেলের বিয়ে দাও .!
— কি আজব কথা.. ( আব্বু) তিন ঘন্টা শেষে আব্বু বললেন।

মা, তোর কোনো ছেলে পছন্দ আছে? এমন কেন করছিস। ভালো না লাগলে বলে দে বিয়ে দিব না এদের কারো সাথে। আমি কাঁদো কাঁদো চোখে আম্মুর পাশে বসলাম। আম্মুর হাত ধরলাম। আরেক পাশে আব্বুর হাত ধরলাম। খুব কান্না পাচ্ছিল, খুব কষ্ট হচ্ছিল। আম্মু বললেন, দেখেছ। তোমার মেয়ে আগে থেকে পছন্দ করে রেখেছে তাই এসব আকাম কথাবার্তা বলছে।

— আলহামদুলিল্লাহ। তাহলে তো ভালো ই।

( আব্বু) । বল মা কে। কি করে। তোর পছন্দ ই আমার পছন্দ। আমি আর নিজেকে আটকে রাখতে পারলাম না। জোড়ে জোড়ে কেঁদে দিলাম। আম্মু- আরে। কাদিস কেন বল। ছেলে তোকে ছেড়ে চলে গেছে..? আম্মুমমমমমমমু,, না না। তাহলে..? ( আব্বু) আব্বু, গত ভেলেন্টাইন ডে তে তিনজন একসাথে প্রপোজ করছিল। আমি কাকে ছেড়ে কাকে কি বলব বুঝতে পারছিলাম না। তিনজন কে ই ভালো লাগছে। কি করব বুঝতে পারছিলাম না বলে একমাস সময় নিছিলাম। পরে, পরে ওরা,,(ফুপিয়ে ফুপিয়ে) পরে তারা আমার তিন বান্ধবী কে বিয়ে করে নিয়েছে। আব্বু আম্মু,, হা করে আছে।

গল্পের বিষয়:
গল্প

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত