নন্দিনী কিছু দেখেনি

নন্দিনী কিছু দেখেনি

রাত সাড়ে ন’টার মত বাজে । শীত তেমন জাঁকিয়ে বসেনি । কেবল ধোঁয়াশা ধোঁয়াশা কুয়াশায় মৃদু বাতাসে তার আমেজ টের পাওয়া যায় । হাঁটতে ভালই লাগছিল । মনটাও বেশ ফুরফুরে । আজ বিজয় দিবস। টেলিভিশনের দোকানের সামনে মানুষের জটলা । বাঁশের ডগায় বাঁধা বেশ কিছু জাতীয় পতাকা হাতে মলিন মুখের ফেরীওয়ালা । মাথা নীচু করে একটা কুকুরের এক’পা ল্যাংচে ল্যাংচে দ্রুত চলা, চৌরাস্তায় ফলের দোকান, চটপটির দোকানের পাশে নাগরিক বর্জ্য । ট্রাকের হর্ণ, বাইকের দম্ভ, পুলিশের বাঁশী , রিক্সা আর অটো রিক্সা চালকের খিস্তি খৈউড় সমস্তকিছু পেরিয়ে যখন রাজনদা’র গলিতে প্রবেশ করি, মাইকে তখন জোরে জোরে বাজতে থাকে হিন্দি গান ‘জুম্মে কি রাত হ্যায়, চুম্মে কী বাত হ্যায় …। যদিও আজ শনিবার কি রাত হ্যায় ।

শিশু গেইট আস্তে করে খুলে রাজনদা’র বর্তমান আস্তানায় পা রাখি । একখানা চৌকোনা ঘরে দুখানা ব্যাচেলর রুম , তার লাগোয়া দুই রুমে একটি পরিবারের বসবাস । বাড়িওয়ালার ব্যবসায়িক বুদ্ধির কারনে বিবাহিত অবিবাহিতরা মিলে, এখানে সীমান্তবিহীন পৃথিবীর মত জীবনযাপন করে । দেবাশীষ খুন হওয়ার পর থেকে রাজনদা’র এই গুপ্ত নিবাস । আমার মন্দ লাগে না । অনেকটা ম্যাক্সিম গোর্কীর উপন্যাসের ভগ্নাংশ মনে হয় । কম্যুনিষ্ট পার্টির সদস্যরা যেমন গোপন আস্তানায় মিলিত হতো সমাজ বদলের আশায় । রাজনদা’ অবশ্য সমাজ বদলান নাই ,অবস্থান পাল্টিয়েছেন কেবল । দেবাশীষ খুন হওয়ার পর পার্টিতে ঝামেলা চলছে । রাজন ‘দা প্রভাবশালী যুবনেতা হলেও সাবধানে থাকেন বলে এখনো টিকে আছেন । রাজন ‘দার এই সাবধানতা দলের অনেকে পছন্দ করেন । জেলে থেকে রাজনীতি হয়না । আমার কাছে অবশ্য এরকম হাইড এন্ড সিক খেলা পছন্দ নয় । আমি, রাজন ‘দা, দেবাশীষ, আমরা সবাই একই দলের রাজনীতির সাথে জড়িত । গ্রুপিং থাকলেও এমন অন্তর্কলহ নেই যে দেবাশীষ আমাদের গ্রুপিংয়ের জন্য খুন হয়ে যাবে । হয়তো এরপর গুপ্ত কোন দল কিংবা হঠাৎ গজিয়ে ওঠা কোন নেতার সুপ্ত ইচ্ছের কাছে রাজন ‘দা বলি হয়ে যেতে পারেন । রাজনীতিতে অনেককিছুই সম্ভব । রাজনৈতিক নেতাদের মনের ভেতর তীব্র ঘৃণা পোষণ করে একসাথে ইফতার করতে দেখেছি । আবার দলীয় ইফতারের দোয়ার আগ মুহূর্তেও প্রতিপক্ষের সমালোচনা করে মুখে ফেনা তুলতে দেখেছি ।

রাজন’দা শুয়ে শুয়ে বই পড়ছেন । আমি বেশ একটা ধাক্কা খেলাম ! রাজনীতির চোরাগলিতে স্বছন্দ বিচরনের পাশাপাশি গ্রুপিং , টেন্ডারবাজী, অস্ত্রের মহড়ায় রাজন’দা এখন বেশ টপে । ওনার হাতে বই তাই বেমানান । আমি দরজার চৌকাঠে দাঁড়িয়ে মুচকি হাসি দিলাম । রাজন’দাও আমাকে দেখে পালটা হাসি দিয়ে বললেন ; ভেতরে আয় । ওনার হাসিতে আন্তরিকতার ছোঁয়া দেখে মন ভালো হয়ে গেল । দেবাশীষের মৃত্যুর পর থেকে আমার কিছু ভালো লাগছিল না । অনেক, অনেকদিনের বন্ধুত্ব আমাদের । আমার অনেক ছোট-বড় ঝামেলায় দেবাশীষ বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছে । আড়ালে আবডালে দেবাশীষকে অনেকে পাগল বললেও সামনাসামনি দাঁড়ানোর সাহস অনেকের ছিলনা । সাদাকে সাদা আর কালোকে কালো বলার সাহস ছিল তার । কিন্তু এভাবে রাজনীতি হয়না । বোকাটাকে কতোবার আমার সাথে ব্যবসায় লেগে পড়তে বলেছি । শোনেনি । সে সম্ভবত বন্ধুত্ব এবং ব্যবসাকে আলাদা রাখতে চেয়েছিল । প্লাস্টিকের চেয়ারটা টেনে বসলাম । উনি বই রেখে সোজা হয়ে বসলেন ।
; কি ব্যাপার রাজন’দা , একা দেখা করতে বললে কেন? কোন প্রবলেম হইছে? উনি ছাদের হার্ডবোর্ডের দিকে তাকিয়ে একটু নীরব রইলেন । রাজন ‘দার সুদর্শন চেহারা, ব্যক্তিত্ব, সাহস, আর মনোবলের জন্য অনেকে ঈর্ষা করে । ওনার দুটি স্বভাবের জন্য আমার কাছে বাকি গুণগুলো ম্লান হয়ে যায় । চাঁদাবাজি আর নারীঘটিত বিষয় আমি ঘৃণা করি । অনেকেই আমার এই ঘৃণার কথা জানলেও কিছু বলার সাহস পায়না । কলেজ জীবন থেকে ভয়কে পায়ে দলে রাজনীতিতে পাকাপোক্ত হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসা করে ঝামেলাবিহীন টিকে আছি আমি । ঝামেলা যে আসেনি একেবারে তেমন নয় । কিন্তু ছোট বড় ঝামেলা শক্তভাবেই মোকাবেলা করেছি । আমার রক্তে বোধহয় ভয়কে জয় করার তীব্র আকাঙ্ক্ষা মিশে আছে । এডভেঞ্চার কিংবা রোমাঞ্চ নয় । থ্রিল আর উৎকন্ঠার মাঝামাঝি কিছু । একসময় রাজন ‘দা চোখ নামিয়ে উপর নীচ মাথা ঝাঁকাতে ঝাঁকাতে একটু করুণ স্বরে বললেন ; তোর কাছে স্বীকার করতে আপত্তি নাই, দেবাশীষকে সেই রাতে সরিয়ে না দিয়ে উপায় ছিল না আমার ।

স্তব্ধ হয়ে বসে আছি । আমার কাছে কংক্রিট ইনফরমেশন থাকলেও বিশ্বাস করিনি । এমন হয় । অনেক বিশ্বাসকে অবিশ্বাস করতে হয়,বড় ইচ্ছে করে । রাজন ‘দা আর দেবাশীষকে আমি আলাদা করে দেখতে পারিনা । দেবাশীষ অজান্তে কোন ভুল কিংবা ঔদ্ধত্য দেখালে রাজন ‘দা আমাকে ফোন করে কিংবা সামনাসামনি পেলে জানাতেন । আমি দেবাশীষকে ধমক দিতাম । এমন নয় যে রাজন দাকে দেবাশীষ ভয় পায় । তারপরও ভুল হলে কানের লতি চুলকে মাফ চাইতো । জুনিয়র ছেলেদের জন্য এটা আদবকায়দার একটা মেসেজ ছিল । অথচ সেই দেবাশীষকে তিনি শেষ করে দিলেন ? আমি দেবাশীষের মৃত মুখে তৃপ্তি আর বিস্ময়ের হাসি দেখেছি । সে কি অন্ধকারে রাজন দা’র চেহারা চিনতে পেরেছিল ? ছুরির প্রথম আঘাতটা কি রাজন দা করেছিলেন ? আমার মনে অনেক প্রশ্ন খেলা করে । একটা দীর্ঘশ্বাস গোপন করে বললাম ; এটা কী করলে তুমি ? এই দেবাশীষ ছাড়া তোমার অস্তিত্ব আছে ? টিকতে পারবা তুমি ? রাজন’দা ঠোঁটের কোনে বাঁকা হাসি দিয়ে বলেন ; দেবাশীষ আলাদা গ্রুপ করতে চাইছিল । মানা করলাম, কিন্তু শুনলো না ।
; তাই বইলা তুমি তারে একেবারে সরায়া দিবা ? আমাকেও ত বলতে পারতা রাজন ‘দা । আমার ভেতর অস্থির লাগছে । অন্যকেউ এই কাজটি করলে আমি তাকে ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে ফেলতে পারতাম । সেই সামর্থ্য এবং সাহস আমার আছে । কিন্তু রাজন দা বলে ভিন্ন কথা । আমার জীবন, ব্যবসা, পরিবার সবকিছু মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যাবে । আমাকে মাঝেমাঝে হিসেব করে চলতে হয় । রাজনীতি আমাকে এটা শিখিয়েছে । মানুষের আবেগ অনুভূতি ভালোবাসা পাথরচাপা দিয়ে সাফল্য পাওয়ার মন্ত্র রাজনীতির বাইরে কোথাও পাওয়া যাবেনা । দেবাশীষের মায়ের মুখটা চোখে ভাসে । দুইটা মেয়ে নিয়ে উনি পুরো সাগরে । ভাগ্য ভালো আমি একটা বড়সড় কাজ পেয়েছি । সবকিছু দিয়ে থুয়ে ৪০/৫০ লাখ টাকা টিকবে । দেবাশীষের মা, তার দুইটা বোনের জন্য কিছু করতে পারব । রাজনদা’র দিকে ঘৃণাভরে তাকালাম । দেবাশীষের মৃত্যুর পর শেষকৃত্যের সব আয়োজন উনিই করছেন । দলের কাছে এরজন্য ওনার অবস্থানও আরো ভালো হয়েছে ।

আমাদের নীরবতা ভেংগে নন্দিনী আসে চা নিয়ে । সাথে সস্তা টোষ্ট । অষ্টাদশ পেরোনো এই তরুনী কোন কারণ ব্যতিরেকেই সম্ভবত নিরাপদ ভেবে আমাকে পছন্দ করে । নন্দিনীদের রান্নার সাথে রাজনদা’রও মাসকাবারী রান্না হয় । মেয়েদের মধ্যে থাকে হয় চরম বোকামী কিংবা হালকা রহস্য । যুগে যুগে কবি সাহিত্যিকরা এই রহস্যকে বিচিত্র বর্ণনায় নারীকে দূর্বোধ্য করে তুলতে চেয়েছেন । নারীর রূপ হয়তো এর পেছনে অন্যতম একটা উপাদান হতে পারে । তবে নন্দিনী আসলেই রহস্যময়ী এক নারী । অনায়াস কিন্তু ভয়ংকর একটা ক্ষমতা তার মধ্যে রয়েছে । আমি তার চোখ দেখে বুঝেছি । একরাতে তার সাপের মতো নিস্পন্দ চোখ দেখে হাল্কা কথার ছলে জানতে চেয়েছিলাম কী হয়েছে ? নন্দিনী মুহূর্তে সেই দৃষ্টি বদলে স্নিগ্ধ হাসিতে কিছু হয়নি বলে দ্রুত চলে গিয়েছিল । তার দ্রুত চলে যাওয়াটা ছিল একেবারে নিঃশব্দে । নন্দিনীর সালামের জবাবে জিজ্ঞেস করলাম ; কেমন আছো নন্দিনী ? তোমার ভাই রাফির হাত জোড়া লাগছে ? এই বয়সে হাসতে কোন কারণ লাগে না । সে ফিক করে হেসে বলে ; জ্বী আংকেল লাগছে , তবে আবার খুলে যেতে পারে । নন্দিনী কখনও অপেক্ষা করে না। মেয়েটার এই ব্যাপারটা আমার ভালো লাগে । চা খাওয়ার মাঝে রাজন’দা বলেন ; তোর টেন্ডারটা আমি নিলে আপত্তি আছে ?বিদ্রুপের হাসি দিয়ে বললাম ; স্যরি দাদা, এই কাজটা না করলে আমার বারোটা বেজে যাবে । দেবাশীষের মায়ের প্রসংগটা তুলতে মন সায় দিলো না । উনি চায়ের রঙ দেখতে দেখতে প্রস্তাব দিলেন ; লাভের 20% পাবি! আমি অনড় । রাজন’দা অনেক বোঝান । মাঝে ওনার তিন চারবার কল আসলে উনি মেজাজ খারাপ করে কেটে দেন । আমার ফোনের চার্জ ফুরিয়ে আসায় বন্ধ রেখেছি । সুইচ অন করে দেখি সাড়ে বারোটা বেজে গেছে কখন ! উঠতে উঠতে বললাম ; যাই দাদা, আর দেবাশীষের বিষয় নিয়া তুমি নিশ্চিন্ত থাকো । আমি কোথাও মুখ খুলবো না ।

কি মিন করেছি উনি বুঝতে পারেন । ওনার আবার কল এলে রিসিভ করে মেজাজ খারাপ করেন ; তোরা আমারে একটু শান্তিতে থাকতে দিবি না ? ইমরুলের সাথে জরুরী বিষয়ে আলাপ করতেছি ।
একটু নীরবে ওপাশের আলাপ শুনে বলেন ; আচ্ছা দেখব। এখন ফোন রাখ , ইমরুলরে বিদায় দিয়া দেই । হেসে জিজ্ঞেস করলাম ; কে দাদা ?
; কামাল, এইটা আমার জান খাইয়া ফেলতাছে ।কামালকে ভালো করেই চিনি । ভয়ংকর ছেলে । রাজন’দার গ্রুপ করলেও আমার সামনে অবশ্য বসে কথা বলার সাহস নেই । রাজন’দার সামনেই পিস্তলটা বের করে ম্যাগাজিন চেক করে নিলাম । চেম্বারে গুলি আছে কি না চেক করা আমার স্বভাব । এতে পিস্তলও চালু থাকে । নইলে অনেকসময় জ্যাম হয়ে যেতে পারে । জিনিসটা উনি আগেও দেখেছেন এবং এভাবে আমার চেক করার স্বভাব ওনার জানা আছে । জানেন এটা ছাড়া আমি অচল । তিনি মৃদু হেসে বলেন ; সাবধান থাকিস, আর ওইটা নিয়া একটু ভেবে দেখ ।আমি স্থির চোখে ওনার দিকে তাকালাম। অনেক , অনেকদিন ধরে রাজনীতিতে আছি । আজ হঠাৎ মানুষটাকে অজানা অচেনা লাগল । অথচ হিন্দু হলেও রাজন’দার বাসায় আমার অবাধ যাতায়াত । একটা দীর্ঘশ্বাস চেপে দরজার দিকে পা বাড়ালাম । রাজন’দা নিশ্চিন্তে বই নিয়ে বাঁকা হেসে বালিশে হেলান দিতে গিয়ে ভুল করলেন । অনেক স্লো হয়ে গেছেন দাদা । আমি দেবাশীষ না । আমি ইমরুল । রাজনীতি আমার পেশা না । আমাকে প্রখর রোদে পোড়ে , কাদাজল মেখে টাকা রোজগার করার পাশাপাশি রাজনীতি করতে হয় । আমি আবেগ বশ মানিয়ে চলতে পারি । রাজনদা’র বালিশটা ধুপ ধুপ করে তিন তিনটে শব্দ চাপা দে’বার কাজ করার পাশাপাশি ছোট্ট রুমটায় বড় বেশি তুলো ছড়াল । তুলাগুলোতে লাল রঙ তখনও পুরোপুরি লাগেনি । রাজন দা আমার পিস্তলের ব্যারেলের দৈর্ঘ্য আর আমার চোখের নিষ্পলক দৃষ্টি দেখলে ভুল করতেন না । পিস্তলে সাইলেন্সার লাগানো ছিল । উনি আমাকে একা দেখা করার কথা বলতেই যা বোঝার বুঝে নিয়েছিলাম । প্রস্তুতি ছাড়া কোথাও যেতে আমার অস্বস্তি হয় । বেরোবার সময় হঠাৎ নন্দিনীকে দেখে চমকে উঠলাম । চিহ্ন রেখে যাওয়ায় একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো ।
রাস্তা থেকে আসা টিউব লাইটের আলোয় মেয়েটাকে বেশ রহস্যময়ী লাগছে । হঠাৎ তার চোখেমুখে আতংকের পর স্নিগ্ধ হাসি আর আনন্দ খেলা করতে দেখলাম । কারণটা আমি জানি । রাজন দা’র স্বভাব আমার জানা আছে । আঠারো উনিশ বছরের মেয়েদের ভেতর আতংক থাকতে নেই । বিশেষত আমার মতো পুরুষের সামনে । পুরুষ মানুষ নষ্ট হলে এইদেশে পুরোপুরি পঁচন ধরবে । নন্দিনী ছোট্ট করে মাথা দুলিয়ে বলে ; আমি কিছু দেখিনি আংকেল ।টিউব লাইটের মায়াবী আলোয় আমি একটু ইতস্তত করছি । বাইরে হয়ত কামাল দলবল নিয়ে অপেক্ষা করছে ।

এই প্রথম আমি হিসেবের বাইরে দুটো কাজ করলাম । কোন কোন সময় নিয়ম ভাঙতে হয় । রাজন দা’র মৃতদেহ পেছনে ফেলে বুকভরে শ্বাস নিয়ে বাইরে পা রাখলাম । চকিতে একটা হাত আমার কাঁধ ছুঁয়ে গেছে । আমি পিছু ফিরে তাকাই না । টানা গলির শেষ প্রান্তে কোন আলো নেই । বেল্টে গুজে রাখা এক্সট্রা ম্যাগাজিন আর বুটের ভেতর লেদারের খাপে আটকে থাকা ধারালো লম্বা স্টিলের ছোরার জন্য অস্বস্তি কাটতে শুরু করেছে । শিশু গেইট নিঃশব্দে লাগানোর সময় পিছু না ফেরায় দু’তিনটি ছায়া দেখে রোমাঞ্চিত হই । অনেকদিন পর আমার রক্ত পুলকিত হয় । আমি ধীরেধীরে অন্ধকারে পা বাড়াই ।

গল্পের বিষয়:
গল্প

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত