এজেন্ট

এজেন্ট

– এই চলো নিরিবিলি তে যাই।
— মানে! নিরিবিলিতে গিয়ে কি করবো?
— কেন! খাব
— ছি! কি অসভ্য, কে আপনি
— আরে এখানে অসভ্যের কি হলো। আমি তো নিরিবিলি রেস্টুরেন্ট এর কথা বলছিলাম।
— ও ও,, সরি
— আসলে মেয়েরা ৩ লাইন বেশিই বুজে। চ বলবে চটি মনে করো।
— ছি

হঠাৎ নুবু আমার সামনে এসে দাড়ালো। চোখ গুলো যথেষ্ট বড় বড় করে তাকিয়ে আছে আমার দিকে।
— এখানে কি করো ইমু?
— দেখ না দাড়িয়ে আছি
— তা আমার বান্দবীকে বিভ্রান্ত করছিলে কেন তুমি?
— কই নাতো,
— কি দরকার বলো।
— সিগারেট খাব টাকা শেষ। টাকা দাও।

নুবু আমার হাত দরে টানতে টানতে দোকানে নিয়ে গেল এবং ১ প্যাক বেনসন কিনে দিল।
আমি ও মনের সুখে সিগারেট ফুকতে লাগলাম।
— ইমু একটু সিরিয়াস হওয়া যায় না?
— ******
— কিছু তো বলো ইমু।
— আমি বলবো যখন আমার সময় হবে।

বলেই এই তীব্র রৌদ্রে হাটতে লাগলাম। ধীরে ধীরে ঘেমে একাকার হচ্ছি। সিগারেট এর সংখ্যা ও কমে যাচ্ছে। নুবু মেয়েটা হঠাৎ এই জীবনে জড়িয়ে গেল। আমি চাইনি সে আমায় ভালোবাসুক। কেননা আমায় দিয়ে এটা হয় না। তবুও মেয়েটার সামনে উদ্ভট কিছু আবদার নিয়ে যাই।

দেখতে দেখতে সন্ধ্যা হয়ে এলো। পাখিরা নিজ নীরে ফিরে যাচ্ছে, কেউ বা ক্ষুধার্ত হয়ে কেউ বা মনের সুখে। আর কিছু পাখি পরযায়ি হয়ে উবে যাচ্ছে এ নগরীতে।

হঠাৎ মোবাইলে কল আসলো। চেয়ে দেখি নুবু।
— ইমু কোথাই তুমি?
— রাস্তায়
— আমার বাসায় আসো। আজ কেউ নেই।
— দোকান থেকে কি সর্তকতা বাণী নিয়ে আসবো?

নুবু হেসে ফেললো। হয়তো সে চুল গুলো এক আঙ্গুলো চেপাতে শুরু করেছে । চশমাটা খুলে বেলকনিতে রেখে,হাতে কফির সাথে এই মোবাইল নিয়ে আমার সাথে কথা বলছে ।
— টাকা কি আমি পাঠাবো নিয়ে আসার জন্য?
এভার আমি ভরকে গেলাম। না সে তো আমার চেয়ে একধাপ বেশি পাকনা ।
— না থাক, এমনি আসতেছি।
— হা হা, আসো।

নুবুর বাসায় প্রবেশ করলাম। সে আমার হাত টানতে টানতে ছাদে নিয়ে গেল । পাশে রাখা কিছু নিকোটিন।
— ইমু, আমার মনে হচ্ছে তুমি আজ কিছু বলবে। বলো না প্লিজ।
— হুম বলবো
জানো নুবু এখন আর আমার কাছে বসন্তে কোকিলের ডাক ভালো লাগে না। তাজা ফুলের ঘ্রাণে আমার মন পিন্জিরায় প্রেম জাগে না । মুক্ত আকাশের রঙ আমার কাছে বির্বণ মনে হয়।এত আনন্দ এত সুড় আমার কাছে সবই বিষাক্ত লাগে আজকাল। আমার ভালো লাগে মধ্যরাত্রি। যেখানে সবাই ঘুমুবে শুধু জেগে থাকবে কিছু ঝিঝি পোকা, আর আমার হাতে জলন্ত আগুনের ফুলকি ভরা নিকোটিন।

— কেন! এমন কেন।
— মানুষের জীবন অনেকটা সিগারেট এর মতো। কে টানছে আর কখন কে ফেলছে তার কোন হিসাব নেই । প্রয়োজন শেষ পা পিশে নিবিয়ে চলে যাবে আরেকটির জন্য। আমরা ও ঠিক এমনি। কাউকে হঠাৎ ভালোবাসি আমার প্রয়োজন শেষ হলেই ভালোবাসা ও শেষ। তাই আমার কাছে এটার কোন দাম নেই।

— কিন্তু কেন?
— ধোকার চেয়ে বড় ব্যাথা আর কিছুই নেই জগৎ এ। আর যখন খুব কাছের কেউ ধোকা দেয় তখন এর ক্ষত টা হাজার টা বুলেটের চেয়েও বেশি যখম।
— আমি তো তুমায় ভালোবেসেছি ইমু।
— আমি পাগল, নেশাখোর,সাইকো কেন আমার জন্য এমন করছো। ভুলে যাও। আমার সাথে তুমি থাকতে পারবে না নুবু।

বলেই সিড়ি দিয়ে নেমে চলে আসতে লাগলাম তার বাসা থেকে। গল্পটা এখানেই শেষ হলে পাড়তো কিন্তু হলোনা।
রাত্রি যখন গভীর। নিস্তব্ধতা ভরপুর এই নগরী। মাঝে মধ্যে শোনা যায় কিছু বাঁশির আওয়াজ। আমি ছুটছি আমার পিপাশা মেটানোর জন্য। হুম, নেশা চাই প্রাণের তৃষ্ণা মেটানো নেশা। নুবু মেয়েটার কথা মনে পড়ে গেল। বড্ড পাগলি মেয়েটি । ভালোলাগার মতো।

হঠাৎ মনে হলো কেউ আমায় পিছু করছে। পিছনে তাকিয়ে দেখি নুবু। সে দোড়ে এসে আমায় জড়িয়ে দরলো। সিগারেট টা হাতে নিয়ে টানতে লাগলো। পরিশেষে খু খু করে কেশে একাকার।
— তুমি পাগল , নেশাখোর, সাইকো তবুও তোমায় ভালোবাসি আমি।
— সাইকো তো, যদি মেরে দেই।
— হুম মেরে ফেল । তবুও বলো না ভালোবাসি।
হাত দুটু মেলে দিলাম। সে জড়িয়ে নিল আমায় চুমুতে ভরিয়ে দিল সর্বত। কামের চরম সীমায়।

পরের দিন সকালে
ব্রেকিং নিউজ এ দেখাচ্ছে নুবু নামের একটি মেয়ের মৃত্যু। সময় রাত্র ২ টার দিকে কেউ তাকে শ্বাস রুদ্ধ করে মেরেছে। কিন্তু কে মেরেছে তা এখনো জানা যায় নি। কেননা খুনি কোন প্রমান ই রেখে যায় নি।
টেলিভিশন টা বন্ধ করে মি আকমাল হোসেন আমার দিকে তাকালেন আর বললেন
— গুড জব ইমু।
— ধন্যবাদ স্যার।
— তা মেয়েটার পরিবারের কে কে ছিল জানো কিছু?
— ওর পরিবারে কেউ নেই। ৮ বছর আগে সবাই মারা গেছে।
— তাহলে এখানে ওর ফ্যামেলি ছিল ওইটা কি?
— ওইটা একটা ট্যাপ স্যার।
— ওকে ইমু। নেক্টস মিসন দিব নাকি?
— হুম চলবে।
— একটু বেশিই ডেন্জারাস এটা।
— ডেন্জারাস না হলে মজা হবে নাকি।
— ওকে, তুমি তুমার ঠিকানায় যাও। ৩ দিন পর আমি বার্তা পাঠাবো।
— বায়।

এখন হয়তো চিন্তা হচ্ছে নুবু কে কেন মারলাম। কে সে! আর আমি ই বা কে? তাহলে শুনুন

নুবুকে ওই রাত্রে যখন জড়িয়ে দরছিলাম তখন
নুবুর কামিছ এর ভিতর হাত দিয়ে পিঠ থেকে লোকেশন ট্যাপার টা বন্ধ করে দিলাম এবং তার কানে থাকা সাউন্ড ইফেক্ট সিস্টেমেটিক মেশিন টা খুলে নিলাম। আর সাথে সাথেই তাকে শ্বাস রুদ্ধ করে মেরে দিলাম। বেশ শক্তি করেছিল বাচবার কিন্তু হলো না। কেননা সে যতই শক্তি করুর তার ট্যাপ আর সাউন্ড অফ করা। তাই ভেতর থেকে কম্পিউটারে কেউ আমার কথা শুনতে পায় নি। তাই কেউ নুবুকে সাহায্য করতে পারে নি আসলে আমি হচ্ছি সিক্রেট এফ বি এজেন্ট। বড় বড় কোন কাজেই আমাকে পাঠানো হয়।

নুবু সে ছিল একটা হ্যাকার এবং মাফিরাদের সর্দারনী বলা চলে ।
সে এখানে আমাকে মারার জন্য এসেছিল। কেননা নুবু জেনেগিয়েছিল আমি এই সিক্রেট মিসনে যুক্ত। আর বাসায় নিয়ে যাওয়া ওর একটা ট্যাপ ছিল। সেখানে আমায় মারার পূর্ন ব্যবস্হা করলেও আমি আমার টিম কে এখানে পাঠিয়েছিলাম। তাই সে সুজুক পায় নি। আর আমি জানতাম সে আমার পিছু পিছু আসবে। কেননা এখানে আজ ই তার শেষ দিন । আসলে আমি তার জালে ফাসিনি সে ই আমার জালে ফেসেছে।

অতঃপর আরেকটা প্রাণের অকালে মৃত্যু।
বাইকটা স্টার্ট করে রওনা শুরু করলাম আমার সিক্রেট হোম এ। যা আজ পযন্ত কেউ ই যানে না। আর হ্যা নুবুকে যে আমি মেরেছি তার কোন প্রমান নেই। কেননা ফিঙ্গার পিন্ট কখনোই মেচ হবে না ।

গল্পের বিষয়:
গল্প

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত