সতী নারী

সতী নারী

-বাবা, আমি সতী নারী বিয়ে করতে চাই (সিয়াম)
-তুমি চাইলে আমি তোমাকে হাজারটা মেয়ে এনে দিতে পারি। (বাবা)
– আমার সতী নারী একটা হলে হবে (সিয়াম)
-আমার এই বিশাল সম্পদের একমাত্র মালিক তুমি সিয়াম। তুমি চাইলে কালই বিয়ে করাতে পারি। আমার বন্ধুর মেয়ে সায়মাকে করবা?

-বাবা,আমি সতী নারী বিয়ে করবো। আর ওই রকম একফুট কাপড় পরা মেয়েকে না। তাই তুমি বড়জোর ১০-১২বছর মেয়ে বিয়ে করিয়ে দাও। কারন এরা ছোট বিয়ের আগে সতীত্ব হারাবে না। এমন মেয়ে বিয়ে করিয়ে দাও।

– আচ্ছা, করিয়ে দেবো চিন্তা করো না।

শহরের কয়েকজন ধনী ব্যাক্তির ভিতর সিয়ামের বাবা একজন। বিশাল বাড়ি, টাকা পয়সার অভাব নেই সিয়ামের বাবার। চারদিকে মেয়ে আর মেয়ে কিন্তু এতো মেয়ের ভিতর সতী মেয়ে পাওয়া কষ্টের। সিয়ামের একটাই ইচ্ছা একটা সতী নারী বিয়ে করা। তাই সে ভাবলো ১০-১২ বছরের মেয়েরা কোন কিছু করবে না বিয়ে আগে। তাই এই রকম মেয়েই ভাল হবে এবং সতী। কয়েকদিন পর সিয়ামের বাবা একটা মেয়ে খুঁজে বের করছে। যার বয়স কিনা ১১বছর হবে। দেখতেও অপরুপা। তাই সিয়ামের বাবা সিয়ামকে এই মেয়েই বিয়ে করাবে। সিয়ামও পছন্দ করলো মেয়েটাকে।যার নাম রিপা। কয়েকদিন পর সিয়াম আর রিপার বিয়ে হয়ে গেলো। সিয়ামের বয়স ২১-২২বছর হবে। রিপাকে বিয়ের পর বাড়ি নিয়ে আসলো।

বিয়ের ২দিন পরই,,

-বাবা, আমাকে ৫লাখ টাকা দাও। (সিয়াম)
-এত টাকা কেনো? (বাবা)
-আমি সতী নারী বিয়ে করে তাকে রাখতেও চাই সতী করে। তাই আমি রিপাকে নিয়ে চলে যেতে চাই লোকালয় ছেড়ে। যেখানে আমার বউ সতী নারী থাকবে।

– লোকালয় ছেড়ে মানে কি?আমার বাড়ির বাহিরে যাওয়ার দরকার নাই।

-যা বলছি তা। আমি সতী নারী রাখবো বউকে আমি আসবো তোমাদের দেখতে প্রতিদিন। বউকে যেনো কেউ না দেখে সে ভাবেই রাখবো সতী নারী করে।

কি আর করবে সিয়ামের বাবা সিয়ামকে অনেক বুঝিয়েও রাখতে পারে নি। সিয়াম তার বউকে নিয়ে শহর থেকে অনেক দূরে গভীর জঙ্গলে গিয়ে ছোট একটা ঘর করে বউকে নিয়ে থাকে। আর এই জঙ্গলেরর কেউ তার বউকে দেখতে পারবে না। কারন এতো গভীর জঙ্গল আসে পাশে মানুষ আসবেও না প্রয়োজনে।।

রিপাকে রেখে গভীর জঙ্গল থেকে বের হয়ে জঙ্গলের কাছে একটা ছোট বাজার পরে ওখান থেকেই প্রয়োজনীয় সব কিছু আনে। আর মাঝে মাঝে বাবার কাছে যায় সিয়াম।। সতী নারী রাখতে গিয়ে কয়েক কয়েক বছর চলে গেলো রিপাও বয়স ১৫-১৬হয়ে গেলো। সতী নারী রয়ে গেলো এখনো রিপা। সিয়াম ভাবছে হয়তো রিপা আর অসতী হবে না। আরো কয়েক বছর গেলে ওকে নিয়ে একবার ঘুরে আসবে শহরে মা বাবার কাছে।। সিয়াম তার বাবার কাছে যখনই যায় অনেক টাকা নিয়ে আসে প্রতিবার। বাজার যাওয়া আসা করতে করতে সিয়ামের একটা লোকের সাথে পরিচয় হয়। আর একজায়গায় জুয়ার খেলা হয় ওখানে যাওয়া আসা করতে থাকে সিয়াম। যদিও শহরে থাকতে জুয়া খেলায় অনেক পারদর্শী। রিপাকে নিয়ে জঙ্গলে আসার পর আর খেলা হয় না তেমন।

প্রতিদিন সকাল হলে রিপাকে একা রেখে চলে যায় জুয়া খেলতে। রিপা একা একা থাকে এটা সেটা করে ঘরের ভিতর। সিয়ামের সাথে তার খেলার সহযোগীরা কখনো তাকে হারাতে পারে না। সবাই প্রতিদিন হেরে টাকা দিয়ে যায় সিয়ামকে। খেলা শেষ হলে সবাইকে আাড়ালে রেখেই চলে আসে জঙ্গলে। কয়েকদিন চলে গেলো সিয়ামের সাথে কেউ পারে না। একদিন

-আরে সিয়াম সবসময় আমাদের টাকা নিয়ে যায়। আমমরা পারি না কেন?
– আমি কি জানি।
-আর ও থাকে কোথায় কেউ জানিস?
-না।
– একটা কাজ কর আগামী কাল আমি খেলবো না। তোরা খেলবি আমি আড়ালে লুকিয়ে দেখবো কোথায় থেকে আসে আর কোথায় যায়।
-আচ্ছা।

পরেরদিন সিয়াম এসে দেখে জুয়া খেলার মানুষ একজন কম জানতে চাইলে বলে ও অসুস্থ তাই আসে নাই। সবার থেকে জুয়া খেলে যখন টাকা নিয়ে যখন সিয়াম চললো। লুকিয়ে থাকা লোকটা সিয়ামকে ফলো করতে করতে চলে গেলো সিয়ামের বাড়ি। সিয়ামম বাড়ি আসলেলে রিপা দরজা খুলে দেয়। আর সিয়ামও ভিতরে চলে যায়। ওই লোকটা দেখলো সব কিছু। পরেরদিন সিয়াম জুয়া খেলতে গেলে। পাহারা দেওয়া লোকটা আসে সিয়ামের বাড়ি আর দরজায় নক করলে রিপা দরজা খুলে দেয়।লোকটা যেনো একটা পরী দেখলো।

-আমি রাজু, সিয়ামের বন্ধু।
-আসেন ঘরের ভিতর (রিপা)
– আচ্ছা।

রাজু ঘরের ভিতর গিয়ে রিপার সাথে অনেক গল্প করে আর বলে তার আসার কথা যেনো সিয়ামকে না বলেলে। রিপাও জানে তাকে সতী নারী রাখতে সিয়াম এই জঙ্গলে থাকে। সিয়াম সারাদিন জুয়া খেলে আর রিপা রাজুর সাথে বাড়িতে গল্প করে। সন্ধ্যায় সিয়াম বাড়ি এসে দেখে গত কয়েকবছরের থেকেও বেশি খুশী রিপা আজকে। কারনরন জানতে চাইলে বলে এমনিই।

প্রতিদিন সিয়াম চলে জুয়া খেলতে সে চলে গেলে রাজু আসেসে রিপার কাছে। রিপা আর রাজু এতোই গল্প করতো একদিন রিপার সতীত্ব দিলো রাজুকে। আজকে সিয়াম জুয়া খেলে হেরে গেলো। সিয়াময়াম অনেক চিন্তায় পরে গেলো। পরেরদিনও আবার হেরে যায় এভাবে কয়েকদিন হারলে সিয়ামের সন্দেহ হয়। রিপা কি সতী নাই এখন। কথায় আছে ‘সতী নারী থাকলে পাশে শয়তানও হারতে আাসে’ তাহলে কি রিপা অসতী নয় ছয় ভেবে দেখলো সিয়াম। সকাল হতেই রিপার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে আসলে। তখন রাজুও আসে রিপার কাছে।

সিয়াম আজকে আর জুয়া খেলতে না গিয়ে ফিরে আসলো বাড়িতে। বাড়ি আসতে দরজার সামনে সে শুনতে পায় রিপা কারো সাথে কথা বলছে। সিয়াম ভাবলো হয়তো নিজে নিজে কথা বলে এই গভীর জঙ্গলে আর কেউ আসবে না তাহলে কার সাথে কথা বলবে। একটু দাড়িয়ে থাকলো সিয়াম বুঝার চেষ্টা করছে রিপা কি করে ঘরে। এবার সিয়াম ভাল ভাবেই শুনতে পেলো কোন পুরুষ কথা বলছে। সিয়াম অবাক হলো এখানে আবার পুরুষ। তার মানে রিপা এখন আর সতী নাই তাইতো সে জুয়া খেলেও হেরে যায়। সিয়াম দরজা নক করলে রিপা ভয়ে ভয়ে দরজা খুলে। সিয়াম দেখে কেউ নাই। পুরো ঘর ভাল করে দেখে রাজু আলামরিতে লুকিয়ে আছে।

-রিপা এই সব কি?
-এমনি একটু গল্প করি আর কি ওনার সাথে তাই সে আসে।(রিপা) সিয়াম আর বুঝতে বাকি নাই কি গল্প করে।।
-সতী নারী রাখতে জঙ্গলে এসে তাকে সতী রাখতে পারলাম না। আজ থেকে তুমি ওর সাথে থাকো আর দরকার নাই তোমাকে (সিয়াম)
-কেনো কি করছি (রিপা)
-কোন অসতী নিয়ে থাকতে চাই না।

রাজুও অনেক খুশী পরীর মতো মেয়ে পেয়ে। সিয়াম রিপাকে রাজুর কাছে দিয়ে চলে আসছে তার বাবার কাছে। আর বলে,, ‘যে সতী থাকে সে লোকালয়েও থাকতে পারে আর সে না থাকার সে গহীন জঙ্গলেও অসতী হয়’।রিপা রাজুর সাথে থাকলে জঙ্গলে। আর সিয়াম আবার খুঁজতে শুরু করলো সতী নারী। শিক্ষা- যে ভালো থাকবে সে সব পরিস্থিতিতেই থাকবে। আর যে খারাপ হবে সে গভীর জঙ্গলেও হবে।

সমাপ্ত

গল্পের বিষয়:
গল্প

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত