ঠিকানাহীন চিঠি

ঠিকানাহীন চিঠি

প্রিয় অপিরিচিত,
আজকে তুমি কেমন আছো জিজ্ঞেস করবোনা।কেন করবোনা জানো!কারণ জিজ্ঞেস করলেও উত্তর দেবার জন্য তুমি নেই।অজানাই থেকে যাবে উত্তরটা আমার কাছে রোজকার মতই।তাই ঠিক করেছি আজ আর অহেতুক কোন জিজ্ঞাসা নয়।

জানো আমার মন ভালো নেই।অবশ্য এ নতুন কিছু নয় তবুও আজ যেন একটু বেশিই খারাপ।আসলে ঠিক এই মুহূর্তটাতে বেশি খারাপ।জানোতো মন খারাপের না কোন ঘড়ি-ঘন্টা নেই।যখন তখন খারাপ হয়ে যায় আবার ঠিক তেমন ভাবেই ভালোও হয়ে যায়।অদ্ভুত না বলো!আসলে মন আর এর অভ্যন্তরীণ ব্যাপারস্যাপার গুলো সবই বড় অদ্ভুত।মন একটা রহস্য যেই রহস্যের কোন কুলকিনারা পাওয়া যায়না।আর হয়তো যাবেও না স্পেশালি আমার মনের।

আচ্ছা এই যে আমি তোমাকে লিখি,জানি সেই চিঠি গুলো তোমার কাছে পৌঁছায় না আর জানিনা কোনদিন আদো পৌঁছবেও কিনা।তবুও আমি আমার কাছেই জমা রাখবো কেমন যদি কখনো দেখা মিলে আর পড়তে চাও তবে বিনা দ্বিধায় চেয়ে নিও।অপেক্ষাই রয়েছি সেই দিনটার।

জানো আমার মন খারাপ গুলোর না কোন নির্দিষ্ট কারণ নেই।আমি নিজেও জানিনা কেন মন খারাপ হয় আমার!বাতাসের বিষাদে,আকাশের আলোতে হুট করে মন খারাপ হয়ে যায়।মন ভালোর হেতু খুঁজতে খুঁজতে আমি ক্লান্ত বড্ড আজকাল।তোমার কি জানা আছে উপায়!

জানো রোজ আমি সেই রাস্তাটা দিয়ে যাই সেই রাস্তায় একটা কাঠগোলাপের গাছ আছে।ফুলগুলো ফুটে থাকে কি অপূর্ব মহিমায়।আমি ছুঁতে চাই ওদের কিন্তু পারিনা। কখনো ভাবি হয়তো বাতাসে ঝরে রাস্তায় পড়ে থাকবে তখন কুড়িয়ে নেবো।কিন্তু আর কুড়ানো হয়না।হয়তো দু’একটা ফুল পড়ে থাকে,গড়াগড়ি খার ধুলোর মাঝে, একা একাই ভিজে যায় বৃষ্টিতে। একটা বিরাট বকুল ফুল গাছও আছে জানো।আজ আসার সময় কিছু কুড়িয়ে হাতে নিতে চেয়েছিলাম কিন্তু পারিনি।ব্যস্ত জীবনের পিছনে ছুটতে হচ্ছে রোজ রোজ।বকুল গুলো মানুষের সেন্ডেল আর জুতোর নিচে রোজ রোজ পিষ্ট হচ্ছে।জানোতো অযত্নে পড়ে থাকা ফুলগুলোকে তুলে এনে খুব যত্ন করে ডায়রীর পাতায় রাখতে মন চায়।হয়তো সামনে তাই করবো।শুকনো ফুলগুলো তোমায় অবশ্যই দেখাবো।তোমার নামে তুলে রাখবো কেমন!সেই জমিয়ে রাখা সুরভীগুলো নিঃশ্বাস ভরে নিও তুমি।

তোমাকে লিখতে মন্দ লাগেনা। লিখতে লিখতে অনেকটা সময় পেরিয়ে যায়।হারিয়ে যাই আমি আমার কল্পনাতে। ইচ্ছেগুলোকেও কখনো কখনো আশকারা দিয়ে বসি।স্মৃতি নিয়ে বসে থাকি তোমার দেখা পাবো সেই আশায় আর অপেক্ষায়।জানিনা এ অপেক্ষা কতিদিনে ফুরোবে।বুকে আশা বেধে রাখি একদিন হয়তো তোমাকে তোমায় লিখা চিঠিগুলো আমি তোমাকেই তোমার সামনে বসে পড়ে শোনাবো।তুমি হয়তো হাসবে আমার পাগলামি গুলো দেখে আর আমি অপলকেও চেয়ে থাকবো তোমার ঐ মুগ্ধ দু’চোখে।

অনেকখানি লিখে ফেললাম। মন ভালো হয়েছে কিনা জানিনা তবে অতটা খারাপও নেই এখন আর।এই চিঠিটাও যোগ হয়ে গেলো তোমার না পড়া চিঠির ঝুলিতে।এই রাতের নিরবতায় জড়িয়ে থাকুক তোমায় লিখা আমার অনুভূতিগুলো। পারলে বাতাসের সাথে যে হাসনাহেনার গন্ধটা ভেসে আসছে তার মাঝে কিছুটা অনুভব করিও।ধুর ছাই কি বোকা আমি বলোতো,তুমি কি হাসনাহেনার গন্ধ টা পাচ্ছো তা আমি বুঝবোই বা কি করে!তবে তুমি চাইলে তোমার নিত্য অভ্যাসগুলোতে অনুভব করে নিও। তোমার নিঃশ্বাসে জমিয়ে রেখো,তোমার না বলা কথাতেই খুঁজে নিও যদি পারো।ঠিক আমারি মতই।

আজ তবে লিখছি না আর, তুমি হয়তো হিবিজিবি এই লিখাগুলো পড়তে বিরক্ত হয়ে যাবে।তবে কিছুই করার নাই বুঝলে।একটু বিরক্তি নাহয় সহ্য করে নিলে ক্ষতি কি বলো।এইযে আমি এখন একগাদি মশার কামড় হজম করে তোমাকে লিখে যাচ্ছি তাও আবার বিনা বিরক্তিতে সুতরাং তোমারও একদম বিরক্ত হওয়া চলবেনা বুঝেছো!কিছু বিরক্তিতেও মাখা থাকে একরাশ ভালোবাসা জানোতো! অবশ্য না জানলেও সমস্যা নেই, দেখা হলে আমি নিজেই জানিয়ে দেবো।তুমিও থাকো অপেক্ষাই সেই দিনটার। সেই আকাঙ্খিত অজানা দিনটার আচ্ছা।

ইতি তোমার,
অপিরিচিতা

গল্পের বিষয়:
গল্প

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত