জারা এবং জেনিফার

জারা এবং জেনিফার

>>অারে হিরো!!চশমা গলায় ঝুলিয়ে কোথায় যাও??(জেনিফার)
>>আপনার সমস্যা কী?(অাদনান)
>>তুমি জানো না আমার কী সমস্যা।(জেনিফার)
>>অামি অাপনাকে অাগেই বলেছি অামি অন্য একজনকে পছন্দ করি।(অাদনান)
>>সেটা তোমার জন্য সমস্যা হতে পারে। কিন্তু অামার জন্য নয়।অামি তোমাকে পছন্দ করি এটাই শেষ কথা।
>>অামিও অাপনাকে পছন্দ করি না এটাই অামার শেষ কথা।
>>পছন্দ অপছন্দ পরে হবে।অাগে চশমা চোখে দাও।চশমা চোখে না দিয়া গলায় ঝুলাবা না নেক্সট টাইম থেকে।

এই জিনিসটা অামার খুব বাজে লাগে।চশমা না পরলে পকেটে রেখে দিবা।তাও গলায় ঝুলাইবা না।এখন পরে নাও চশমাটা।ভীষণ রোদ উঠছে।চোখের ক্ষতি হবে নয়তো।

>>অাপনি চোখের সামনে থেকে দূর হোন তাহলেই চোখের ক্ষতি হবে না।
>>ওক্কে হিরো।অাপাতত চলে যাচ্ছি।অন্য কোন মেয়ের দিকে অাবার যেনো তাকিও না কেমন।

এতক্ষণ কথা হচ্ছিলো অাদনান অার জেনিফারের মাঝে।জেনিফার খুব চঞ্চল একটা মেয়ে।অার অাদনান তার বিপরীত।খুবই শান্ত স্বভাবের।জেনিফার অাদনানকে অনেক পছন্দ করে।তবে অাদনান তাকে পছন্দ করে না।বরং সে তার এরকম অাচরণে অনেকটাই বিরক্তিবোধ করে। তবে অাদনান তখন সত্যিই বলেছিলো।অাদনান একটা মেয়েকে পছন্দ করে।মেয়েটির নাম জারা।তাদের এলাকাতেই থাকে।জারার চেহারাতে কেমন একটা মায়াবী ভাব অাছে।যারা অাদনানের মতো অতটা শান্ত স্বভাবের না অাবার জেনিফারের মতো অতোটা চঞ্চলও না।জেনিফার মেয়েটাও যথেষ্ট সুন্দর।

তবুও অাদনান কখনো সেই তুলনাতেই যায় নি।কারণ সে জারাকেই পছন্দ করে।জারা প্রতি বৃহস্পতিবার বিকেলে চার্চে অাসে।অাদনানও ছুটে যায়। শুধু তাকিয়েই থাকে জারার দিকে।কিছু বলতে পারে না। মাঝে মাঝে অাদনান ভাবে, ‘ইশ! অামি যদি জেনিফারের মতো হতাম। এভাবে জারাকে মনের কথা গুলো বলে দিতে পারতাম।’ কিন্তু সে জানে সে কখনোই বলতে পারবে না জারাকে তার মনের কথা।জারাকে দূর থেকে দেখেই তো হার্টবীট চরম সীমায় পৌঁছে যায়।সামনে গিয়ে কথা বলা তো অসম্ভব। অন্যদিকে জারাও লক্ষ্য করে অাদনান তাকে দেখে।সেও কিছু বলে না।মাঝে মাঝে খালি অাদনানের দিকে তাকিয়ে মিষ্টি একটা মুচকি হাসি দেয়।ব্যস অাদনানও পেয়ে যায় তার বাকি ১ সপ্তাহ কাটিয়ে দেয়ার রসদ।

কিছুদিন পর…

>>অারে হিরো তুমি একা একা কই যাও??(জেনিফার)
>>অাপনাকে বলার কারণ দেখি না।(অাদনান)
>>তোমার এই অ্যাটিটিউডটা অনেক ভাল্লাগে হিরো।কোন মেয়ে কাছে ঘেষতে চাইলে ঠিক এভাবেই কথা বলবে।বাট অামার হিসেবটা আলাদা।(জেনিফার)
>>অাপনাকে তো বলেছি অামি অন্য কাউকে পছন্দ করি।তাছাড়া অামি কিন্তু ভালো ছেলে না।
>>বললাম তো সেটা তোমার সমস্যা। কিন্তু অামার না।

অার তুমি এসব শুকনো মিথ্যা কথা আমাকে বললে হচ্ছে না।তোমার মতো ভালো ছেলে অামি গুগলে সার্চ করেও অার এক পিস পাবো না।বাই দ্য ওয়ে তোমার চশমা কই??

>>অামার চশমার কৈফিয়ত অাপনাকে দিবো না।
>>যাও যাও হিরো।এখন কৈফিয়ত দিতে হবে না।সময় হলে ঠিকই দিবে।

অাজ অাদনান সব ভেবে এসেছে।যে করেই হোক জারাকে বলতে হবে তার ভালোবাসার কথা। প্রতি সপ্তাহের মতো এবারও জারা চার্চে এসেছে।চার্চে ছাড়া জারাকে কোথাও অার দেখা যায় না।কলেজ বা ভার্সিটিতে যেতেও কখনো দেখে নি তাকে অাদনান। তাই একমাত্র চার্চ থেকে বেরোলেই সে তার সাথে কথা বলতে পারবে।

অাদনান এক নিঃশ্বাসে জারাকে সব বলে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে অাছে।জারা কিছু বলছে না।অাদনান মাথা উঠিয়ে দেখে জারা চলে যাচ্ছে।তার মনে হলো মেয়েটা কাঁদছিলো।সে ভাবলো জারা হয়তো রাগ করেছে।তার মনে ভয় কাজ করতে শুরু করলো।সে ভাবছে জারাকে এভাবে সব হুট করে বলা উচিত হয় নি। প্রতি সপ্তাহে তো জারার একটা মিষ্টি হাসি দিয়ে ৬ দিন পার করে দেয় অাদনান।কিন্ত এবারে মিষ্টি হাসিটা না পাওয়ায় সে অস্হির হয়ে যায়।তার কেবল মনে হতে থাকে সে হয়তো জারাকে অার কখনো দেখতে পাবে না। এদিকে এই প্রচন্ড খারাপ অবস্থায়ও জেনিফারের পাগলামীটা যায় না।এখন অাদনানের কাছে বিষয়টা অসহ্যকর লাগে।

>>অারে অাজকে হিরোর মন খারাপ মনে হচ্ছে।(জেনিফার)
>>দেখুন প্লিজ সামনে থেকে যান।সবসময় ফাজলামো ভালো লাগে না।(অাদনান)
>>কী হয়েছে একবার বলেই দেখো না।কেউ কিছু বলেছে নাকি??(জেনিফার)
>>কেউ কিছু বললে অাপনি কী করবেন??(অাদনান)
>>বলেই দেখো না কী করি।
>>তারচেয়ে বরং অাপনি অাপনার কাজে যান।অবশ্য অাপনার মানুষকে বিরক্ত করা ছাড়া দুনিয়াতে অার কোন কাজ অাছে বলে মনে হয় না।
>>ভুল বললে তুমি।সবাইরে বিরক্ত করি না তো।শুধু তোমারেই বিরক্ত করি।মন খারাপের কারণ শেয়ার করতে পারো।অাশা করি কষ্টটা কমে যাবে।
>>অামার মন ভালোই অাছে।অারো ভালো হয়ে যাবে অাপনি চলে গেলে।
>>অাচ্ছা না বললে অার কী করা।তবে অাবার দেখা হবে হিরো।

অাগামীকাল বৃহস্পতিবার। অাদনান ঠিকমতো চোখের পাতা এক করতে পারছে না।তার কেবল মনে হচ্ছে সে হয়তো কোন ভুল করে ফেলেছে।অাগামীকাল হয়তো জারা অার অাসবে না।অাচ্ছা জারা যদি চার্চে না অাসে তাহলে তার সাথে কী অার দেখা হবে না।অাদনান যে তাকে চার্চে ছাড়া অার কোথাও যেতে দেখে না।শুধু বাসা থেকে বের হয় অার চার্চে অাসে।অার বাসায় গিয়ে কথা বলার তো কোন প্রশ্নই অাসছে না। জেনিফার লক্ষ্য করেছে প্রতি বৃহস্পতিবার অাদনান চার্চের দিকে যায়।প্রথম দিকে সে ব্যাপারটা তেমন গুরুত্ব দিতো না।ভাবতো হয়তো প্রার্থনা করতে যায়। তবে অাজ হঠাৎ সে অাদনানের পিছু নিলো।কারণ অাদনানের সামনে পড়লে অাদনান রাগ করে হয়তো চার্চে না ও যেতে পারে।তাই সে অাদনানকে ফলো করতে থাকলো।

অাদনান রাস্তা দিয়ে অন্যমনস্ক হয়ে হাঁটছে।সে শুধু জারার কথা ভাবছে।তার মনে একটাই শঙ্কা।জারা হয়তো অাসবে না।অার সে যদিও অাসে সে ঠিক করেছে জারার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিবে এভাবে হুট করে ভালোবাসার কথা বলার জন্য।বড়জোড় একটা বন্ধুত্বের প্রস্তাব দেয়া যেতে পারে। অাদনান দাঁড়িয়ে অাছে। এদিক ওদিক তাকাচ্ছে।কিন্তু কোথাও জারা কে দেখতে পাচ্ছে না।তার মনটা অাস্তে অাস্তে খারাপ হয়ে যাচ্ছে।তার শঙ্কাটাই বুঝি সত্যি হতে চললো।তারপর সে চার্চে প্রবেশ করলো।অনেকক্ষণ সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করলো। তারপর সে অনেকটা কান্নাজড়িত চেহারায় চার্চ থেকে বেড়িয়ে এলো। হঠাৎ সে অনুভব করলো কেউ তার কাঁধে হাত রেখেছে। সে পেছনে ফিরে দেখলো সেটা জারা।তার মুখ দেখে কাঁদো কাঁদো ভাবটা যেন এক ঝটকায় হারিয়ে গেলো।

জারাও হাসছে।সে জারার কাছে ক্ষমা চাইলো। কিন্তু তবুও জারা কোন কথা বলছে না। কিছুক্ষণ পর জারা একটা চিরকুট দিলো অাদনানকে। তাতে লেখা,”কী খুব ভালোবাসো অামায়??” অাদনান মাথা নাড়লো।জারা অারো একটা চিরকুট দিলো।তাতে লিখা,”কিন্তু অামি কথা বলতে পারি না”। অাদনান দেখলো জারার মনটা অাবার খারাপ হয়ে গেছে। হঠাৎ অাদনানের একটা কথা মন পড়লো। কথাটা জেনিফার তাকে বলে কোন কিছু হলেই। অাদনান জারাকে বললো,”তুমি কথা বলতে পারো না এটা তোমার সমস্যা।অামার তো তাতে কোন সমস্যা নেই।অামি বলবো তুমি শুধু শুনবে।” জারা কেঁদেই দিয়েছে।তবে এই কান্নাটা খুশির। অাদনান জারার চোখ মুছে দিলো।দুজন সামনের দিকে হাঁটছে অার অাদনান জারাকে নানা কথা বলে হাসানোর চেষ্টা করছে।

পুরো ঘটনাটা জেনিফার লক্ষ্য করলো দূর থেকে।তাদের মধ্যে কী কথোকপথন হয়েছে সেটা বুঝতে না পারলেও জারা-ই যে অাদনানের সেই পছন্দের মানুষ সেটা বুঝতে বাকি রইল না জেনিফারের। জেনিফার মেয়েটা খুব শক্ত মনের।সে কাঁদলো না ঠিকই।তবে তার মনটা খারাপ হয়ে গেলো প্রচুর।যতই হোক কাউকে তো অার জোর করে ভালোবাসা যায় না। সেই চঞ্চল জেনিফার কেমন যেন ধীর স্হির অার শান্ত হয়ে গেলো। এইদিকে অাদনান ঠিক করলো জেনিফারকে যেভাবেই হোক কড়া ভাবে বুঝাতে হবে।নাহয় জেনিফারের জন্য জারা হয়তো রাগ করতে পারে।

কিছুদিন পর অাদনানের দেখা হলো জেনিফারের সাথে।অাশ্চর্যজনকভাবে জেনিফার কিছু বললো না।
অাদনান তাকে প্রথম সুন্দরভাবে সব খুলে বললো এবং পরবর্তিতে যেনো তাকে অার বিরক্ত না করে তার জন্য অনুরোধ করলো।কিন্তু জেনিফার মাথা নিচু করে চুপ করে থাকলো।এতে অাদনানের মেজাজ গেলো খারাপ হয়ে।তার কেনো যেনো মনে হলো জেনিফার বুঝি জারাকে ব্যঙ্গ করছে।কারণ জারা তো কথা বলতে পারে না।প্রচন্ড রাগে অাদনান জেনিফারকে অনেক কড়া ভাবে কিছু কথা বললো।এতোটা বাজেভাবে অাদনান পূর্বে কারো সাথে কথা বলেছে কী না সেটা অাদনান মনে করতে পারে না।জেনিফার এবারও কাঁদলো না।শুধু মাথা নিচু করে চলে গেলো অার বলে গেলো,’তুমি সবসময় ভালো থাকো হিরো,অামি এটাই চাই।’ এরপর থেকে অার জেনিফার কখনো অাদনানের সামনে পড়ে নি।অাদনান অবশ্য শুনেছে জেনিফার এবং তার পরিবার কানাডা চলে গেছে।এতে সে বরং খুশিই হলো।

এদিকে অাদনান অার জারার পথচলা চলতেই থাকলো।জারা যখন ক্লাস টেন এ পড়ে তখন জারার মা মারা যায়।তারপর থেকে জারা অার স্কুলে যায় নি।তার বাবা অনেক বলেছে।তবুও মেয়েটা মায়ের শোকটা কাটিয়ে উঠতে পারে নি।প্রতি বৃহস্পতিবার সে চার্চে মায়ের জন্য প্রার্থনা করতো।সে কথা বলতে পারে না বিধায় নিজেকে সবার কাছে লুকিয়ে রাখতে চাইতো। ১ বছর পর তাদের পরিবারের সম্মতিক্রমেই জারা অার অাদনানের বিয়ে সম্পন্ন হয়।জারার মা নাকি প্রায়ই তাকে বলতো যে তার বিয়ে একটা রাজকুমারের সাথে হবে যে কিনা জারাকে অনেক ভালোবাসবে। অাদনান তো ঠিক সেরকমই।কথা না বলতে পারার জন্য কখনোই অাদনান অার জারার যোগাযোগ করতে সমস্যা হয় নি।এমনকি অাদনান সাংকেতিক ভাষাও শিখলো জারার সাথে কথা বলার জন্য।

অাদনান খুব চিন্তিত।  জারাকে অপারেশন থিয়েটারে নেয়া হয়েছে।জারার বাবা,অাদনানের বাবা-মা সবাই খুব চিন্তিত।কিছুক্ষণ পর ডাক্তার ১ টা ফুটফুটে কন্যা সন্তান অাদনানের হাতে দিয়ে গেলো।কিন্তু এর সাথে যা বলে গেলো সেটা অাদনানের পৃথিবীটা পুরো থমকে দিলো। হ্যাঁ তার মেয়েকে জন্ম দিতে গিয়ে জারা চলে গেছে চিরতরে না ফেরার দেশে।মেয়েটা ঠিক জারার মতোই হয়েছে।যেনো একটা জারা চলে গিয়ে অারেকটা জারাকে রেখে গেছে। অাদনান জারা অার অাদনানের নামের সাথে মিল রেখে তার তার মেয়ের নাম রাখলো জাফরিন।

জাফরিনের ৪ বছর হয়ে গেলো।মেয়েটা কেমন সুন্দর করে কথা বলে।জারার না বলা কথাগুলো সব বলার জন্যই বোধ হয় জাফরিনের জন্ম হয়েছে। অাদনান ও প্রতি বৃহস্পতিবার জাফরিনকে নিয়ে চার্চে যায়।জাফরিন বারবার তার মায়ের কথা জিজ্ঞেস করে। অাদনান বলেছে প্রার্থনা করলে সে তার মাকে দেখতে পাবে একদিন। ১ দিন জাফরিনকে নিয়ে চার্চ থেকে বেরিয়ে এলো অাদনান।একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে অাছে বাইরে। মেয়েটার মাথায় চুল নেই,রুগ্ন চেহারা।সে অাদনানকে নাম ধরে ডাকলো। সামনে অাসতে চেহারাটা কেমন যেনো চেনা চেনা লাগছে অাদনানের। হুম মেয়েটা তো জেনিফার। কিন্তু এ কী অবস্থা মেয়েটার!!মাথায় চুল নেই,চেহারা কী মলিন,চোখের নিচে কালো।

>>তোমার এই অবস্থা কেনো জেনিফার??(অাদনান)
>>কেমোথেরাপি দিতে হয় তো তাই।অামার ব্লাড ক্যান্সার। (জেনিফার)

কথাগুলো বেশ সাবলীলভাবে বললো জেনিফার।সে জানে এসব কেমোথেরাপি নিয়েও হয়তো অার বেশিদিন বাঁচা হবে না পৃথিবীতে।

>>তুমি দেশে অাসলে কবে??(আদনান)
>>গত পরশুদিন এসেছি।শেষ কয়েকটা দিন দেশেই কাটাতে চাই।তোমাকেও ভীষণ দেখতে ইচ্ছে করছিলো।
তোমার মেয়েটা খুব সুন্দর হয়েছে হিরো।(জেনিফার)

>>এই মেয়ে তুমি অামার বাবাকে হিরো ডাকবে না।অামি অামার বাবাকে হিরো ডাকি।অামার বাবা সুপারহিরো।(জাফরিন)
>>অাচ্ছা ডাকবো না তোমার বাবাকে হিরো।(জেনিফার)
>>কিছু মনে করো না মেয়েটা খুব চঞ্চল হয়েছে।জারার ঠিক বিপরীত।(অাদনান)
>>বাবা এটা কে?(জাফরিন)
>>অামাকে তুমি মাম্মাম ডাকতে পারো।(জেনিফার)
>>কখনো না।তুমি দেখতে সুন্দর না।অামার বাবা বলেছে অামার মাম্মাম অনেক সুন্দর। অামার মতো।(জাফরিন)
>>মা এভাবে কথা বলতে হয় না।(অাদনান)
>>অারে ও তো ঠিকই বলেছে অামারর চেহারার যা অবস্থা হয়েছে অামাকে দেখে ভয় যে পায় নি এটাই তো অনেক।(জেনিফার)

জেনিফার অারো ১ মাস বেঁচে ছিলো।জাফরিনকে খুব অাদর করতো।জেনিফার যেদিন মারা গেলো জাফরিনও কেঁদেছিলো অনেকক্ষণ। জাফরিন দিন দিন বড় হচ্ছে।মেয়েটা ভীষণ চঞ্চল। অাদনান মাঝে মাঝে জাফরিনকে দেখে অার বিস্মিত হয়।জাফরিন দেখতে ঠিক তার মায়ের মতো হয়েছে।
সামনে অাসলে যেনো মনে হয় জারা দাঁড়িয়ে অাছে। অথচ কথা বলার ধরণটা জেনিফারের মতো।এক নিঃশ্বাসে অনেক কথা বলে। অাদনান জাফরিনকে নিয়ে দুটো কবরের সামনে যায়। একটাতে জারা অাছে অার একটাতে জেনিফার। জাফরিন এখন বড় হয়ে গেছে।বুঝতে শিখে গেছে তার মাম্মাম কোনদিনও অাসবে না।

গল্পের বিষয়:
গল্প

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত