কন্টাক্ট ম্যারিজ

কন্টাক্ট ম্যারিজ

(নিলার পরিচয়)
গায়ের রঙ ধবধবে সাদা ‘লম্বা কালো চুল। উচ্চতা ৫”৩
আর ওজন ৫৪ কেজি।নিলার চোখ গুলো তার মায়ের মতো মায়াবী ‘বাদামি চোখের মণি। একাদশ শ্রেণী পাস করে এখন বিয়ে দেওয়ার জন্য পাত্র খুজছে।

ছোট বেলায় নিলার জন্মের সময় তার মায়ের ডায়াবেটিস বেড়ে যাওয়াতে তার মা মারা যায়। নিলার বয়স যখন ৭ বছর তখন তার বাবা হার্ট হয়ে মারা যায়।

মা-বাবাহীন নিলাকে তার মামা নিজে মামার বাড়িতে নিয়ে চলে যায়।নিলার মামা তার মামির বাবার বাড়িতেই থাকত তার পরিবার ও নিলাকে নিয়ে। নিলার মামার পরিবারে ছিল তার মামি তার দুটো মামাতো বোন ‘(মমিতা-শ্রেয়া) একটি মামাতো ভাই(মাসুদ) ও তার স্ত্রী। এবং নানা-নানি।

নিলা তার মামার আপন মেয়ে নয় বোনের মেয়ে বলে নানি নিলাকে তেমন ভালবাসে না। মমিতা নিলার ৫ বছরের বড় তার হাজবেন্ড বেকার বলে তাকে নিয়ে তার বাবার বাড়ী থাকতে হয়।মমিতার হাজবেন্ড নিলার দুলাভাই এর নজরটা তেমন নিলার ভাল লাগতো না। কেমন যেন তার চোখের চাওনিটা। আর শ্রেয়া নিলার ২ বছরের ছোট। দশম শ্রেণীর ছাত্রী। নিলা শ্রেয়াকে নিজের ছোট বোনের মতো করে ভালবাসত।তেমনি শ্রেয়া ও নিলাকে খুব ভালবাসত।

(আবিরের পরিচয়)
উচ্চতা ৫”১০ ‘গায়ের রঙ ফর্সা। মাস্টার্স শেষ করেছে এক বছর আগে। বাবার ব্যবসায়ে হাত না বাড়িয়ে বন্ধুদের সাথে ঘুরে বেড়ানো তার কাজ।অনেক মেয়েরা আবিরের জন্য পাগল কিন্তু আবিরের এসব মেয়েদের গণার সময় নেই।
আবির শুধু একজনকেই চাই তার নাম হল (তারা)।
কিন্তু তারা আবিরকে শুধু একজন ভাল বন্দু মনে করে।
তারার বাবার সপ্ন তারা পড়ালিখা করে ডাক্তার হবে।সে তার বাবার সপ্ন পুরনে ব্যস্ত।

(হক) পরিবারের সব চেয়ে ছোট ছেলে আবির হক। বাবা গোল্ড ব্যবসায়ি। আবিররা তিন ভাই আবির সবচেয়ে ছোট। কেউকে ভয় না পেলে ও আবির তার বাবাকে ভীষণ ভয় পায়।তার বাবার কঠোর শাসন এর কারনে আবির তার বাবার নাম দিয়েছে (হিটলার)। অবশ্য তার দেওয়া নামটি তার বাবা আবিরের মা ও দাদিমা থেকে শুনেছে তাও আবিরকে কিছু বলেনা।আর মনে মনে হাসে।আবিরের বাবা চায় যে তার বাকি দুই ছেলের মতো আবির ও জিম্মাদার মানুষ হোক।

আবিরকে পরিবারের সবাই খুব ভালবাসে তার চালচলন গুলো ছিল চঞ্চল প্রকৃিতির। আবিরের বড় ভাবি আবিরকে একটু বেশি ভালবাসে এবং আবির ও।আবির তার বড় ভাবিকে আদর করে (ভাবি ডিয়ার) বলে ডাকে।

আবিরকে বিয়ে দেওয়ার জন্য অনেক মেয়ে দেখিয়েছে তার বাবা কিন্তু সবসময় আবির কোনো না কোনো অজুহাত দেখিয়ে কনের পক্ষকে রিজেক্ট করে দিত। যার কারনে আবিরের বাবা আবিরের উপর অনেক নারাজ।

আজ সোমবার সকাল ‘আবির ঘুম থেকে উঠে ফ্রেস হয়ে রুমে এসেছে।এসে দেখে তার ভাবি ডিয়ার তার জন্য নাস্তা নিয়ে এসেছে।
আবির: আরে ভাবি ডিয়ার গুডডডড মর্নিং।
ভাবি ডিয়ার: হুম নাস্তা রেখে যাচ্ছি। খেয়ে রেডি হয়েনে। আজ বাবা বলেছে রেস্টুরেন্ট এ তোকে মেয়ে দেখাতে নিয়ে যাবে।
আবির : আরে ভাবি এই হিটলার এর বুঝি আমার জন্য মেয়ে দেখা ছাড়া আর কাজ নেই।

ভাবি ডিয়ার : আবির দেখ সবসময় তুই নানা অজুহাত দেখিয়ে বিয়ে ভেংগে দিস। মেয়ের পক্ষের কোনো খারাপ দিক না পেয়ে ও বাবার থেকে তোর কারণে মিথ্যা কথা বলতে হয়।
আবির : কিন্তু ভাবি,,,,
ভাবি ডিয়ার : কোনো কিন্তু নয়।
অন্যদিকে নিলাকে রেডি করছে আজ বর পক্ষকে দেখাতে নিয়ে যাবে। নিলার জন্য এটা খুশির কিছু নয়। এভাবে তাকে ২৩ বার দেখানো হয়েছে ২৩বার তাকে রিজেক্ট করেছে। নিলা মনে মনে ভাবছে এবার ও তেমন হবে আরকি।নিলা সেই দিন গুলির কথা মনে পরে গেল। সমাজে এখনো এমন মানুষগুলি বেচে আছে। যারা মেয়েদের মন দেখে না তার সুন্দর্য দেখে আর সারাদিন খেটে কাজ করতে পারবে কিনা তা দেখে।যৌতুকে কি কি দিতে পারবে তা দেখে।যদি তাদের পরিমান মতো না মিলে তাহলে মেয়ে রিজেক্ট।

নানি : এই জন্মে আর এই নিলার বিয়ে হবেনা মনে হয়।
না জানি আর কতদিন মেয়েটাকে নিয়ে আমাদের টাকা পয়সা খরচ করতে হবে।
শ্রেয়া : উফফ নানি তুমি চুপ করবে। দেখবে নিলা আপুর জন্য রাজকুমার ঠিক চলে আসবে।
নিলাকে যে রেস্টুরেন্ট এ নিয়ে গেল মেয়ে দেখানোর জন্য আবিরকে ও সেই রেস্টুরেন্ট এ নিয়ে গেল।
আবিরকে মেয়ে দেখালো মেয়ে সুন্দর কিন্তু আবির বিয়ে করবেনা। সে কিন্তু তার গার্লফ্রেন্ড তারার জন্য মেয়ে রিজেক্ট করছে না। আবিরের এখন বিয়ে করার ইচ্ছে নেই সে তো তারাকে এখনো বলেওনি যে সে তারাকে ভালবাসে।কিভাবে বলবে তারা সবসময় পড়ালিখা নিয়ে ব্যস্ত।

অন্যদিকে নিলাকে বরপক্ষ দেখেছে পছন্দ করেছে কিন্তু মেয়ের মা-বাবা নেই।তাই একটু কনফিউজড ছেলের পক্ষ।মেয়ের কোনো বয়ফ্রেন্ড আছে নাকি।

আবিরের পরিবারের ও আবিরের জন্য দেখা মেয়েটি পছন্দ হয়েছে মেয়েদেখা শেষ বাসায় গিয়ে ফোন করে মতামত জানিয়ে দিবে বলে বাসায় ফিরার জন্য প্রস্তুত।

এমন সময় আবির হেটে যাওয়ার সময় হাতের সাথে বাড়ি খেয়ে পাশের টেবিলে বসে থাকা নিলা মেয়েটির গায়ে জুসের গ্লাসটা পড়ে যায়। নিলা ভয় পেয়ে যে না চিৎকার করে উঠলো সবাই আবির আর নিলার দিকে তাকিয়ে আছে আবির ও ভয় পেয়ে গেল।

আবির নিলাকে সরি বলে। নিলা কিছু না বলে ওয়াস রুমে কাপড় ওয়াস করার জন্য চলে যায়।
আবির ও চলে যাচ্ছিলো। হঠাৎ আবির আবার ভাবতে লাগলো ইসস মেয়েটার কাপড়টাই বরবাদ করে দিয়েছি।সরি বললাম ইটস ওকেটা ও বললো না। বেশি রাগ করেছে নাকি। ওয়াস রুমে গিয়ে একবার দেখে আসি।
তারপর আবির ওয়াস রুমের ঐদিকে গেল এবং নিলা ও আবিরকে দেখতে পেল। আবির নিলার চোখে পানি দেখতে পায় আবির নিলাকে গিয়ে বলে.. দেখো আমি কিন্তু ইচ্ছা করে করিনি সরি।

নিলা : ইটস ওকে।
আবির : তাহলে কাঁদছো কেন?
নিলা : কে বলেছে আমি কাদছি।
আবির: তোমার চোখ বলেছে।
নিলা তারাতারি চোখ মুছে চলে যাচ্ছিল।
আবির : শুনো
নিলা ফিরে তাকালো
আবির তাকে একটি টিসু দিয়ে বলে এটা নিয়ে যাও কাজে লাগবে। (আবির মুচকি হাসি দিয়ে)নিলা ও চলে আসে।
নিলাকে যে বর পক্ষ দেখতে আসে বরের মা নিলাকে আর আবিরকে একসাথে কথা বলতে দেখে ফেলে।
এবং নিলার মামাকে বলে আপনারা যে বললেন মেয়ের কোনো বয়ফ্রেন্ড নেই তাহলে নিলা এতক্ষন দাঁড়িয়ে ঐ ছেলেটির সাথে কি কথা বলছিল?
মামা : নিলা এসব কি শুনছি?
নিলা : না মামা ঐ ছেলেটিকে তো আমি চিনিনা। এই প্রথম দেখছি।
মামা বর পক্ষের মা কে বললো দেখেন নিলাকে আমি যতটুকু চিনি নিলা এমন না।নিলা যা বলছে তাই সত্য হবে।
বর পক্ষ বললো আচ্ছা আমরা বাসায় গিয়ে জানাবো আপনাদের।
নিলারা ও বাসায় ফিরে আসে।

মামি : নিলা শোন কি দরকার ছিল ছেলেটির সাথে কথা বলার।
নিলা: মামি আমি ইচ্ছা করে কথা বলিনি।ওকে তো আমি চিনিও না।ও আমাকে সরি বলতে এসেছিলো।
বর পক্ষের ফোন আসে মেয়ে রিজেক্ট।

অন্যদিকে আবির এর বাবা আবির এর উপর অনেক রাগে আছে। আবির মেয়ে রিজেক্ট করে দিয়েছে আবার।এবার ও আবিরের ভাবি আর দাদি আবিরকে বাচিয়ে নিয়েছে।

পরদিন সকালে আবির তার দাদিকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে যায় দাদির চেকাপ এর জন্য। নিলাও যায় তার মামি আর শ্রেয়াকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে।

আবির আর নিলার আবার ও দেখা হয়ে গেল।
আবির : Hey what’s up?
নিলা : জি আপনি 😳 আপনি এইখানে কি করছেন।
আবির : এইখানে মানুষ কি করতে আসে
নিলা : ও বুঝলাম তবে কি হয়েছে আপনার
আবির : ক্যানসার
নিলা : 😱😱
আবির : hey! i m just kidding dear
নিলা আবিরকে কিছু না বলেই চলে গেল।
আবির : আরে একটা বাই তো বলে যাও।
আবিরকে নিলার সাথে কথা বলার সময় আবিরের দাদি দেখে।
দাদি : যাক তুই তাহলে নিজের জন্য বউ নিজেই ঠিক করে রেখেছিস। তা আমাদের বললেই বা কি হতো।
আবির : আরে দাদি না আমিতো ওর নাম সহ জানিনা।
দাদি : তবে মেয়ে কিন্তু আমার অনেক পছন্দ হয়েছে।
আবির : উফফ দাদি চিনিনা জানিনা অম্নি বউ বানিয়ে দিলে।
দাদি : হয়েছে হয়েছে আমার সাথে আর ডং করতে হবে না।

বাসায় এসে দাদি আবিরের বড় ভাবীকে সব বলে ভাবি ও খুশি হয়ে যায়।
ভাবি : দাদি তবে আবির আমাকে যে কিছু বলেনি
দাদি : আরে ও মনে হয় আমাদের সারপ্রাইজ দিতে চাচ্ছে।তবে ও সারপ্রাইজ দেওয়ার আগে আমরাই ওকে
সারপ্রাইজ দিয়ে দিবো।☺
ভাবি : কি সারপ্রাইজ দাদি?
দাদি : মেয়েটা আজ হাসপাতালে এসেছিল যেভাবে হোক ঐখান থেকে হলেও মেয়েটির ঠিকানা বের করে আমরা মেয়েটির বাসায় প্রস্তাব দিব।
ভাবি : ওকে দাদি let’s start
দাদি আবিরের বাবা ও পরিবারের সবাইকে নিয়ে আবিরের বিয়ের কথা তোলে
আবিরের বাবা : দেখো মা এটা কোনো আবিরের প্লান নয়তো? কারণ ওকে আমি হারে হারে চিনি। কোনো কাজটাই ছেলেটা ঠিকভাবে করেনা।

দাদি : আরে ধুর তুই সব সময় আমার নাতিটার দোষ দিস কেন বলতো। তুর ছেলে কিন্তু পরির মতো বউ ঠিক করে রেখেছে। আমারতো অপেক্ষাই হচ্ছেনা।
পরদিন আবির এর বড় ভাবি নিলার ঠিকানা নিয়ে আসলো।
আবিরের দাদি দেরি করেনি নিলার বাসায় গিয়ে সব ঠিকটাক করে আসে।এবং বলে আমাদের ছেলে আবির নিলাকে খুব পছন্দ করে তাই আমরা কিছু চায়না শুধু মেয়ে চায়।নিলার পরিবার ও খুব খুশি এতবড় ঘর থেকে নিলার জন্য প্রস্তাব আসবে কেউ ভাবতে ও পারেনি।তাও আবার পরিবারের মানুষ গুলা ও কতো ভাল।নিলার ও কোনো আপত্তি নেই আবিরের জন্য আবির দেখতে সুন্দর স্মার্ট দাদির থেকে যতটুকু শুনছে আবির দুষ্টামি বেশি করে

যাই হোক দাদি কথা পাক্কা করে কাল আবির ও তার পরিবারকে নিয়ে আসবে বলে বিদায় নিল।
পরদিন সকালে দাদি ভাবিকে বলে আবিরকে রেডি হতে বলার জন্য।
ঐদিকে আবির তারাকে ফোন করে বলে দেখা করার জন্য কিন্তু তারা বলেছে সে তার মামার বাড়ি যাচ্ছে। যদি পারে তাহলে আসবে। আসুক আর না আসুখ আবির তো তারার জন্য অপেক্ষা করবেই।তারা বলে কথা।
ভাবি : আবির তুকে দাদি রেডি হতে বলেছে।
আবির : রেডি হব কেন?
ভাবি : বউ দেখতে যাবি বলে।☺
আবির : ভাবি ডিয়ার আমিতো বলেছি এসব বিয়ে টিয়ে আমি এখন করছিনা।
ভাবি : লুকিয়ে লুকিয়ে বউ ঠিক করছিস আবার বলিস বিয়ে টিয়ে তোর দারা হবে না।
আবির : ভাবি ডিয়ার কি বলছো তুমি আমি কিছুই বুঝতে পারছি না।
ভাবি : দেখ আবির এবার তোকে এমন মেয়ে দেখাবো তুই কখনো রিজেক্ট করতে পারবিনা।মেয়ের মামা ও রাজি হয়ে গেছে।
এই বলে ভাবি চলে যাচ্ছে
আবির : আরে ভাবি ডিয়ার শুনো কই যাও
আবির ভাবতে লাগলো লুকিয়ে লুকিয়ে আমি আবার কবে বউ ঠিক করলাম
তবে এবার যাকে দেখাবে তাকে আমি চাইলেও রিজেক্ট করতে পারবোনা। মেয়ের মামাও রাজি হয়ে গেছে
আবির : এবার বুঝলাম তারা ও তো মামার বাড়ি যাচ্ছে। আর আমি চাইলেও মেয়ে এবার রিজেক্ট করতে পারবো না।
তার মানে ভাবি মনে হয় জেনে গিয়েছে আমি তারাকে ভালবাসি। উফফ জানবেই না বা কেন আমার ভাবি ডিয়ার বলে কথা। তারাও তো আমাকে কিছু বলেনি এই বেপারে ☺
আচ্ছা বুজলাম সবাই মিলে আমাকে সারপ্রাইজ দিচ্ছে।
ওও তাহলে আমিও কি অভিনয় করতে জানি না বুঝি
আবির তৈরী হয়ে নিচে গেল। সবাই মিলে রওনা দিল।
আবিরদের গাড়ি বাইরে গেট দিয়ে ঢুকতেই শ্রেয়া সবাইকে চিৎকার করে জানিয়ে দিলো। চলে এসেছে আমার হনেওয়ালা জিজু

নিলার মামা বাইরে বেরিয়ে আবিরদের ভেতরে ঢুকালো।সবাই বসে আছে কথা বলছে।আবির ভাবছে মামাকে একটু চেনা চেনা লাগছে কিন্তু কোথায় যেন দেখেছে ঠিক মনে পড়ছে না। যাই হোক তারাকে কখন দেখবে আবিরের অপেক্ষার শেষ নেই।
আবির দাদিকে কানে কানে বললো দাদি তারা কই আসছেনা কেন?☺
দাদি আবিরের কানে কানে ও তো তুই আদর করে তারা ও ডাকিস
আবির : আদর করে মানে কি যে বলো না দাদি আর কতো অভিনয় করবা।
দাদি : আমাদের হবু বউ কই দেখছি না যে
মামা : জি আমি ডাকছি।
মামা শ্রেয়াকে বললো নিলাকে নিয়ে আসতে।
শ্রেয়া নিলাকে নিয়ে এসেছে।
আবির নিলাকে দেখে চমকে গেল
আবিরের বড় ভাবি আবিরের কানে কানে উইস্পার করে বলছে
ভাবি : কি আবির নিলাকে কেমন লেগেছে।
আবির : নিলা
ভাবি : হুম নিলা তবে এমন ভাব করছিস যেনো নামটা প্রথমবার শুনেছিস
আবির : ভাবি ডিয়ার তোমাকে কে বলেছে আমি মেয়েটাকে পছন্দ করি?
ভাবি : মেয়েটা মানে?
আবির : মানে ইয়ে নিলা আরকি।
ভাবি : বলতে হয় আমরা সব দেখেছি।
দাদি : আবির কি বেপার কিছু বল।
আবির : কি বলবো দাদি।
দাদি : আচ্ছা আমাদের সামনে লজ্জা পাচ্ছিস।☺
মামা : সমাস্যা নেই নিলা আবিরকে নিয়ে ছাদে যাও।
ভাবি : (আবিরের কানে কানে) যা যা আবির যা বলার বলে আয়
আবির :😩😩
ছাদে নিয়ে গেল নিলা আবিরকে
কি বলবে কিছু খুজে পাচ্ছেনা আবির মেয়েটাকে তো এমনিতেয় কিছু বলা যায় না। অম্নিতেয় কেঁদে ফেলে। কি করে বলি এই বিয়ে সম্ভব নয়।
নিলা : আপনি কি ঠিক আছেন?
আবির : হে আমি ঠিক আছি। ইয়ে মানে তোমার নামতো নিলা তাই না।
নিলা : জি।
আবির : খুব সুন্দর নাম।
নিলা :😌
আবির : তুমিও খুব সুন্দর 😬 আসলে বলতে চাচ্ছিলাম যে তুমি কি এই বিয়েতে রাজি আছো?
নিলা : আসলে আমার কিছু বলার ছিল আপনাকে।
আবির : 😬 মনে হয় রাজি নেই 😊বলো বলো বলে ফেলো সমস্যা নেই তারপর আমি বলবো।

নিলা : জি আসলে আপনি হয়তো জানেননা এর আগে আমি ২৩ বার রিজেক্ট হয়েছি। আমার বাবা মা নেই মামার কাছেই বড় হয়েছি। তাই মামা মামির খুশি আমার খুশি। আপনি জানেন আপনার দাদি যখন আপনার প্রস্তাব নিয়ে বাসায় আসে ঐদিন মামা মামি খুব খুশি হয়। ওদের সপ্ন আমার মা বাবা নেই তাই আমার একটি ভাল ঘরে বিয়ে হোক। তবে আমি আপনার কাছ থেকে কিছু লুকাচ্ছিনা। যদি আপনার এই বিয়েতে কোনো আপত্তি থাকে তাহলে আমাকে বলে দিন।

আবির : কিন্তু তুমি তো সুন্দর। কোনো দিকে কম নও তবে রিজেক্ট কেন হয়েছো ২৩ বার।
নিলা : বাবা মা নেই এলাকার মানুষ নানা ভাবে কথা ছড়ায়। তার মাঝে মামার অতটুকু সামথ্য নেই। তবে মামা আমাকে খুশি রাখার যথেষ্ট চেষ্টা করে।
আবির : (মনে মনে) এই মেয়ে ২৩ বার রিজেক্ট হয়েছে এখন আমিও যদি বলি না তাহলে ২৪ বার। মেয়েটার তো ছেলেদের উপর থেকে বিশ্বাস উঠে যাবে। কি করে বলি
হঠাৎ শ্রেয়া এসে আপু তোমাদের ডাকছে।
আবির : চলো ডাকছে।
নিলা : আপনি কি যেন বলবেন বলেছেন।
আবির : না তেমন কিছুনা
নিচে আসে আবির এবং নিলা।
আবিররা খাবার খেয়ে কিছু্ক্ষন বসে বিয়ে ফাইনাল করে রওনা দিলো।
বাসায় এসে আবির বড় ভাবির পিছু পিছু দিলো দৌড়।
ভাবি : কি হলো আবির?
আবির : ভাবি আমি নিলাকে ভালবাসিনা।
ভাবি : কি বলিস এসব।
আবির : ভাবি আমি তারাকে ভালবাসি। তোমাদের ভুল হয়েছে।
ভাবি : কিন্তু আবির নিলা খুব ভালো মেয়ে ও এই ঘরের বউ হিসেবে পারফেক্ট।
আবির : ভাবি আমি এটা বলছি না যে নিলা খারাপ। নিলা খুব ভাল ভাবি কিন্তু আমিতো তারাকে ভালবাসি।
ভাবি : তারাটা আবার কে?
আবির : ভাবি তুমি বিয়েটা কেন্সেল করো আমি তোমাকে সব বলবো।
ভাবি :এখন বল
আবির : আসলে ভাবি আমি তারাকে এখনো বলিনি যে আমি তারাকে ভালবাসি
ভাবি : তারাকে এখনো বলিসনি তুই এটা ও জানোসনা যে তারা তুকে ভালবাসে কি না।
আবির : ভাবি যাই হোক তুমি বিয়েটা কেন্সেল করো।
ভাবি : না যতদিন তুই তারা থেকে জবাব আনবিনা ততোদিন বিয়েটা কেন্সেল হবে না।
আবির : ঠিকাছে তুমি বলবে না তাহলে আমি বলছি।
আবির তার বাবার রুমে যাচ্ছিল ভাবিও তার পিছু পিছু দৌড়ে যাচ্ছিলো
ভাবি : দেখ আবির এমন করিসনা সবাই কতো খুশি হয়েছে বিয়েটা নিয়ে।বাবা তো তোর জন্য নতুন গোল্ড শো রুম খুলার প্লান সহ করে ফেলেছে। সবাই কতো খুশি হয়েছে এমন করিস না আবির।
আবির তার বাবার রুমে গিয়ে পৌছালো।
বাবা: আরে আবির তুই আয় আয় ভেতরে আয়।

আবির তার বাবার রুমে ঢুকলো।
বাবা: তোকে আমি কতো বকেছি। আজ তো দেখছি তুই আমার পছন্দের মতো কাজ করেছিস। দেখ আবির নিলাকে কিন্তু আমার খুব ভাল লেগেছে।খুব ভাল মেয়ে দেখতে ও পরির মতো। তবে তুই এসেছিস ভালই করলি। তোকে কিছু দেওয়ার ছিল।
আবিরের বাবা আবিরের হাতে নতুন গোল্ড শো-রুমের পেপার-পত্র তুলে দিয়েছে।
আবির : বাবা এসব কি?
বাবা : আজ থেকে তোকে আর অকর্মা ডাকবো না। এই হলো তোকে অকর্মা না ডাকার সার্টিফিকেট। তোর যেদিন ইচ্ছা সেদিন থেকে তুই অফিসে জইন করবি।

আবির চেয়ে ও বাবাকে আর কিছু বলতে পারেনি। ভাবির দিকে এক পলক চেয়ে আবির আবিরের রুমে চলে আসে।
আবিরের মাথায় কিছু আসছে না সে কি করবে।যে বাবা আবিরকে সবসময় বকতো সে বাবা কিনা আজ এসব।
কিছুই আসছে না তার মাথায় কি করবে। ভাবছে তারার সাথে একটু দেখা করলে ভাল হয়। কিন্তু কিভাবে দেখা করবে তারার বাবা আবিরকে একদমি দেখতে পারেনা। আবির তারাকে ফোন দিল।কিছুক্ষন কথা বলবে বলে।
আবির : হ্যালো তারা।
তারা : হ্যালো বলো আবির।
আবির : তারা আমি তোমার সাথে একটু দেখা করতে চায়।
তারা : কিন্তু সামনে আমার মেডিকেল এক্সাম আবির এখন দেখা করা সম্ভব নয়।
আবির: তারা দেখ আমার তোমাকে কিছু বলার আছে। প্লিজ তারা শুধু ১০মিনিট এর জন্য। প্লিজ না করোনা।
তারা : আচ্ছা ঠিক আছে। কাল সকাল ১১ টায় আমি লাইব্রেরিতে আসবো ঐখানে চলে এসো।
আবির : থেনক্স তারা।
আবির সকালে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেস হয়ে একেবারে তারার সাথে দেখা করতে যাবে বলে রেডি হয়ে নিচে নাস্তা খেতে বসে।
দাদি: আবির তুই জানিস পরশু তোর আর নিলার এংগেজডমেন্ট।
আবির : কি দাদি :O এতো তারাতারি কেন?
দাদি : চমকে গেছিস তাইতো। আমি আর তোর বাবা মিলে ডিজিসন নিয়েছি। শোন নিলার পরিবারকে বলেছি যে কাল এংগেজডমেন্ট এর শপিং করতে যাব। তারা ও আসবে তুই ও চল।
আবির : না দাদি আমার একটু কাজ আছে।
আবিরের মা : নিলা ও আসবে আবির
আবির : মা তুমি ও শুরু করেছো।
মা : হা-হা-হা আচ্ছা আচ্ছা নাসতা করেনে।
আবির তারার সাথে দেখা করতে গেল।হাতে একগুচ্ছ ফুল নিয়ে।
তারা : কেমন আছো আবির?
(আবির তারার হাতে ফুলগুলি দিয়ে)

আবির : কেমন থাকবো আর তারা তোমার তো কোনো খবরি নেই।
তারা : আসলে আবির অনেক ব্যস্ত আছি।পড়াশোনা নিয়ে। বাবার সপ্ন। বাবার আমি ছাড়া আর কে আছে বলো।
আবির : আচ্ছা তোমার বাবা আমাকে একদমি দেখতে পারেনা কেন বলো তো।
তারা : হা-হা-হা বাবার সামনে তো কতোবার কতোকিছুতে ধরা পড়েছ তাই আরকি।
আবির : আসলেই ভাল কিছু যখন করি তখন তোমার বাবাটা সামনে পরে না। যখনি কারো সাথে মারামারি কিংবা বাইক স্টান্ট করি তখনি তোমার বাবাটা সামনে পরে।
তারা : আচ্ছা কি যেন বলবে আমায়।
আবির : তারা ইয়ে মানে………
তারা : কি?…….
আবির : তারা… আই লাভ ইউ

(তারা একটু লজ্জা পেয়ে গেল)
আবির : তারা আমি আসলে তোমাকে অনেক ভালবাসি। কিন্তু তোমাকে বলার সাহসটা পায়নি।
তারা : তো আজ হঠাৎ সাহস কই পেলে?
আবির : আরে জানোনা যে বাসায় আমার বিয়ে ঠিক করে রেখেছে নিলা নামের একটি মেয়ের সাথে।কিন্তু তুমি চিন্তা কোরো না আমি সব ম্যানেজ করে নিব।শুধু তোমার আন্সারটা চায়।তারপর আমরা বিয়ে করে নিব।
তারা : আবির কিন্তু আমিতো এসব বিয়ে টিয়ে নিয়ে ভাবিনি। আমি পড়াশোনা শেষ করে ডাক্তার হবো।
আবির : প্লিজ তারা এভাবে বলোনা।
তারা : আচ্ছা ঠিক আছে একবছর অপেক্ষা করো তুমি তারপর আমি জানাবো একবছর পরে তোমাকে বিয়ে করতে পারবো নাকি পারবো না।
আবির : কি…… এক বছর অপেক্ষা করবো তারমাঝে তুমি আমাকে জানাবে যে বিয়ে করবে কি করবে না। তারা এটা একটু বেশী হয়ে যাচ্ছে না?
তারা : উফফ আবির দেখো তুমি যদি পারো তাহলে এক বছর অপেক্ষা করো আর না হলে ঐ নিলাকেই বিয়ে করে ফেলো।
আবির : আচ্ছা ঠিক আছে আমি অপেক্ষা করবো তারা। তারা আই রিয়েলি লাভ ইউ।
তারা : হুমমম। আচ্ছা তাহলে এখন যায়।
আবির : ওকে বাই।
তারা : বাই।
আবির বাসায় আসে। তার ভাবিকে সব বলে।
আবির : ভাবি এবার তো বিয়ে কেন্সেল করাতে পারবা।
ভাবি : না আমি তারাকে একবার দেখতে চায় ওর সাথে কথা বলতে চায়।
আবির : ভাবি এসব কিন্তু ভাল হচ্ছে না। আমি এক্ষুনি হিটলারকে গিয়ে সব বলছি।
ভাবি : ঠিকাছে তুই গিয়ে বল বাবা আমি নিলাকে বিয়ে করবো না আমি তারাকে ভালবাসি।
আবির : ভাবি ডিয়ার তুমিতো হিটলারকে চেনো ও আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দেবে।
ভাবি : তো বের হয়ে যাবি ব্যাস।
আবির : ভাবি আমি তারাকে বিয়ে করবো ও কে কই রাখবো।
ভাবি : তাহলে আমার কন্ডিশন মানতে হবে।
আবির : আচ্ছা ঠিকাছে ঠিকাছে।
আবির তারাকে ফোন দিলো।
তারা : হে আবির বলো
আবির : তারা তোমার সাথে ভাবি দেখা করতে চাচ্ছেন।
তারা : কিন্তু আবির আমারতো সময় নেই।
আবির : তারা প্লিজ আমার দিক চেয়ে হলেও।
তারা : আচ্ছা ঠিকাছে। কখন?
আবির : কালকে আমার বাসায় কেউ থাকবে না। ভাবি অসুস্থ মানে ভাবি ডিয়ার প্রেগন্যান্ট তাই ভাবি বাসায় থাকবে তুমি ভাবির সাথে বাসায় দেখা করতে পারবে।
তারা :আচ্ছা ওকে বাই।
আবির : বাই।
ভাবি : কি আসছে তো।
আবির : আসছে মানে তারা এমন না যে আমার কথা রাখবে না।

পরদিন আবিরের পরিবারের সবাই এংগেজডমেন্ট এর শপিং করতে গিয়েছে। আবিরকে ও সবাই জোর করে নিয়ে গিয়েছে। আবির যেতে চাইনি তারা আসবে বলে। তা বাধ্য হয়ে যেতে হয়েছে।
তারা আবিরের বাসায় আসে ভাবির সাথে কথা বলে।
তারার কথা শুনেতো ভাবি পুরায় অবাক।
এই মেয়ে কি বলে সে নাকি আবিরকে নিয়ে তেমন কিছুই ভাবতে পারছেনা। একবছর পরে ভেবে বলবে। যাই হোক ভাবি এখন আবিরের অপেক্ষায় আছে।
আবিররা বাসায় আসে। আবির বাসায় এসে ভাবির থেকে জিজ্ঞেস করতে লাগলো
আবির: ভাবি তারাকে কেমন লাগলো?
ভাবি : একদম ভাল লাগেনি। আবির তুই জানিস ও বলেছে একবছর পরে ও ভেবে বলবে তোকে বিয়ে করতে পারবে কি পারবে না।
আবির : জানি!
ভাবি : কি! তুই জেনে ও।
আবির : কি করবো ভাবি আমি তারাকে ছাড়া আর কাউকে বিয়ে করতে পারবো না।
ভাবি :ঠিকাছে যা ইচ্ছা তাই কর।
আবির : তার মানে তুমি বাবাকে কিছু বলবা না।
ভাবি : না বলছি না।
আবির : ঠিকাছে আমি নিলাকে গিয়ে সব বলে দিচ্ছি। সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
ভাবি : আবির তুই পাগল হয়ে গেছিস নাকি। তুই নিলাকে বলবি। তুই জানিস ও এসব শুনলে কি কষ্ট পাবে।
আবির : এটাই একটা রাস্তা।
(আবির তার রুমে চলে গেল)

এইদিকে নিলার বোন ভাবিরা নিলাকে জালিয়ে ছাড়ছে আবিরকে আই লাভ ইউ বলার জন্য। নিলার মামাতো বোন শ্রেয়া নিলাকে জোড় করে আবিরকে কল দিয়ে আসতে বলতে বলে বাড়ির পেছনে।
আবিরের ও কি আর করার। আবির গাড়ি বের করে নিলার বাসায় যাওয়ার জন্য রওনা হয়।হঠাৎ আবিরের মনে পড়লো এই সুযোগে নিলাকে ও তারার কথা বলে দেওয়া যাক।

আবির নিলার বাসার পেছনে গেল।নিলা ও এসেছে গোলাপী রং এর একটি জামা পড়েছে নিলা। যেন আকাশ থেকে পরী নেমে এসেছে।
নিলা : জি আসলে এতো রাতে আপনাকে কষ্ট দেওয়ার জন্য সরি।
আবির : না না সমস্যা নেই। নিলা আমার ও তোমাকে কিছু বলার ছিলো।
নিলা : ও আচ্ছা তাই। তো বলে ফেলেন কি বলবেন।
আবির : না তুমি আগে বলো।
(আবির ভাবছে মেয়েটার মনটা এখনি ভেঙে যাবে। তবে কি করার বলতে তো হবেই)
নিলা : না সমস্যা নেই আপনি বলুন।
আবির : নিলা আসলে কথা হচ্ছে যে…….. আমি তোমাকে বিয়ে করতে পারবোনা।
আমি তারা নামে একটি মেয়েকে ভালোবাসি।
(নিলার মাথায় যেন আকাশ ভেংগে পড়লো)
নিলা নিজেকে সামলিয়ে নিলো।
আবির : নিলা আমি জানি তোমার জন্য এটা মেনে নিতে খুব কষ্ট হচ্ছে।নিলা আমি তোমাকে ঠকাতে পারবো না তাই বলে দিলাম।
নিলা : জি!
আবির : নিলা আমি তোমাকে ভালোবাসিনা ঠিক কিন্তু এর মানে এই নয় যে আমি তোমাকে ঘৃনা করি।
নিলা : জি!
আবির : নিলা তোমার থেকে একটা কাজ করতে হবে আমার জন্য…. কি পারবা?
নিলা : জি! বলেন!
আবির : নিলা তুমিই তোমার পরিবারকে বলবে যে তুমি এই বিয়ে করবে না।
নিলা : :O
আবির : কি নিলা পারবানা!
নিলা : জি! আপনি চিন্তা করবেন না। আমি বলে দেব মামা মামিকে।
আবির : থেংক গড! নিলা তুমি জানো না আমি কতোটা রিলেক্স ফিল করছি। আচ্ছা তুমি কি যেন বলবে! কই বলোনা কি বলবা।
নিলা : না না কই কিছুনা। আমি কিছু বলবো না।
আবির : শিয়র?
নিলা : জি! শিয়র।
আবির : আচ্ছা তাহলে আজ আসি।

(আবির চলে গেল)
নিলা তার রুমে গিয়ে বসে আছে সে ভাবছে এই কথা সে মামা মামিকে কি করে বলবে। তারমাঝে কাল এংগেজডমেন্ট।সবাই কতো খুশি কিভাবে তাদের খুশি এক পলকে ছিড়ে নেবে।এসব ভাবতে ভাবতে নিলা কখন যে ঘুমিয়ে পড়ে সে জানে না।
আজ আবির আর নিলার এংগেজমেন্ট
আবিরের পরিবারে অনেক আয়োজন চলছে। সন্ধায় নিলাদের বাসায় যাবে সবাই।
নিলার পরিবারের ও অনেক আয়োজন। চারদিক রান্নার খুশবো। নানাধরনের নাস্তা বানানো হচ্ছে। ঘর সাজানো হচ্ছে। নিলা মামীর কাছে অনেকবার যায় বলার জন্য কিন্তু সাহস করে বলতে পারছে না। কিন্তু নিলার আজ বলতেই হবে। নাহলে আবির নিলাকে কি মনে করবে।
নিলা : মামি তোমাকে কিছু কথা বলার ছিলো।
মামী : হে বল কি বলবি।
নিলা : মামী…… (নিলা কেঁদে ফেলে)
মামী : কি হয়েছে নিলা বল আমাকে। আবিরের সাথে ঝগড়া হয়েছে নাকি?
নিলা: না মামী।
মামী : তাহলে বলনা কি হয়েছে তুই কাঁদছিস কেন?
নিলা : মামী আমি বিয়েটা করতে পারবো না।
মামী : কি বলছিস কি নিলা। কতো কষ্ট করে তোর বিয়েটা ঠিক হয়েছে তুই কি জানিস না ? তোর মামা কতো কষ্ট করেছে তোর একটা ভালো ঘরে বিয়ে হবে বলে। তারমাঝে আজ এংগেজমেন্টের দিন তুই এসব বলছিস। দেখ নিলা আবির আর তোর মাঝে কি হয়েছে আমি জানিনা। আরে বিয়ের আগে তো এমন ছোটখাটো ঝগড়া হয়ে থাকে। যা রেডি হয়েনে। কিছুক্ষন পরে আবার আবিররা চলে আসবে। তখন বলবে বউ এখনো রেডি হয়নি।
নিলা ও আর কিছু বলেনি চুপচাপ রেডি হয়ে বউ সেজে বসে আছে কিন্তু নিলার মন অনেক খারাপ। এ কয়েকদিনে নিলা আবিরকে অনেক ভালবেসে ফেলেছে।
শ্রেয়া : নিলা আপু আমার হ্যান্ডসাম দুলাভাই চলে এসেছে। তোমাকে ড্রইং রুমে নিয়ে যেতে বলেছে। চলো।
নিলাকে দেখে আবির যেন চোখ সরাতে পারছে না। অপরুপ সুন্দর লাগছে আজ নিলাকে।
দাদি : কি আবির কেমন লাগছে নিলাকে?☺
আবির : জি! দাদি সুন্দর।
নিলাকে আবিরের পাশে বসানো হয়েছে।
(আবির নিলার কানে কানে উইস্পার করে…).
আবির : নিলা! তুমি তোমার পরিবারকে বলেছো তো?
নিলা : মামিকে বলেছি কিন্তু মামি বিশ্বাস করছে না যে আমি এই বিয়েতে না করছি।
আবির : নিলা তুমিতো বলেছো যে তুমি বলবা। তাহলে?
নিলা : বলেছিতো বলবো সময় দেন আমাকে। বলতে তো সময় লাগে।
আবির : কুল ডাউন বেবি! আচ্ছা তুমি বলিও সময় করে।কিন্তু হে মিথ্যা এংগেজমেন্ট তো করছি। মিথ্যা বিয়ে কিন্তু করতে পারবো না।

এংগেজমেন্ট শেষ আবিররা বিদায় নিয়ে বাসায় চলে গেছে।
সকালে নিলার মামি ভাবী নিলার মামাতো বোন মমিতা নিলার মামা বিয়ের জন্য কেনাকাটা করতে গিয়েছে। নানী পাশের বাড়ীতে গল্প করতে গিয়েছে। নানা আর নিলার মামাতো ভাই কাজে বেরিয়েছে।
নিলা বাসায় একা।
মমিতার হাজবেন্ড নিলার দুলাভাই নিলাকে অনেক কু নজরে দেখে। নিলা বাসায় একা আছে জেনে সে বাসায় চলে আসে।
এসে দেখে নিলা তার রুমে কাপড় ভাজ করছে। নিলা ও তার দুলাভাইকে দেখে অনেক ভয় পেয়ে গেল।
দুলাভাই এসে নিলার খাটে বসে।
দুলাভাই : কি হলো শালিকা আমাকে দেখে গাভ্রিয়ে গেলে কেন।
নিলা : না মানে বাসায়তো আপু নেই তাই।
দুলাভাই : আপুর জন্য আসিনি —–আমিতো এসেছি…….. এই বলে সে নিলার দিকে এগিয়ে আসতে লাগলো।
নিলা চলে যেতে চেয়ে ও যেতে পারেনি নিলাকে তার দুলাভাই টেনে খাটের উপর শুইয়ে ফেলেছে।
নিলা অনেক চেষ্টা করছে ছুটে আসার চিৎকার করছে।
হঠাৎ তার দুলাভাইকে পেছন থেকে টেনে কে যেন দিল এক ঘুসি।
কে দিল? ঘুসি?
হঠাৎ নিলার দুলাভাইকে পেছন থেকে টেনে আবির দিল একটা ঘুসি।
নিলার দুলাভাই আবিরকে দেখে ভয় পেয়ে গেল। নিলা ও আবিরকে দেখে অবাক।
আবির : শালা বিয়াদবি তো অনেক বড় করে ফেলেছিস।
তবে মেইন ডোর অফ করে বিয়াদবি করলে আজ তুই হয়তো আমার থেকে বেচে যেতি।
আবির আর নিলার দুলাভাই দুজনে মারামারি শুরু করে দেয়। নিলা আবিরকে ছুটিয়ে আনার চেষ্টা করছে তাও পারছে না। আবির অনেক রেগে গেছে।
শেষে অনেক জোড়াজোড়ি করে নিলা আবিরকে সরিয়ে আনে।
নিলা আবিরকে অন্য রুমে নিয়ে চলে যায়।
আবির : নিলা তুমি কিন্তু একদম ঠিক করছো না। ও বিয়াদবির সীমানা পাড় করে ফেলেছে।
নিলা : আপনি শান্ত হোন প্লিজ। আমি জানি অনি যা করেছে ঠিক করেনি। কিন্তু আমি আমার বোনের সংসার না ভাঙার জন্যই কাউকে কিছু বলিনি।
আবির : (রেগে গিয়ে) সংসার এইরকম একটা অমানুষের সাথে।
নিলা : আমি চায়না আমার কারনে কারো ক্ষতি হোক।
আবির : ওহ ফাইন!! তুমি চাওনা তোমার কারনে কারো ক্ষতি হোক। তবে কারোর কারনে তোমার ক্ষতি হোক। Disgusting নিলা আমারতো ইচ্ছা হচ্ছে ওই শালাকে এক্ষুনি গুলি করে মারি।
নিলা : আরে কই যাচ্ছেন দাড়ান আপনি শান্তু হোন। প্লিজ।
আবির : নিলা তুমি জানো যদি আজ আমি এই সময় তোমাদের বাসায় না আসতাম তোমার কি হতো!!
নিলা : জি!! থেংক ইউ এসবের জন্য।
আবির : নিলা এভাবে জীবন যায় না। আজ হয়তো আমি এসেছি। কাল? কালতো আমি থাকবো না।
নিলা : তবে আজ আপনি ওনাকে যা ধোলায় দিয়েছেন না….আমার মনে হয়না অনি আর কখনো আমার উপর নজর দিবে হি-হি!!
আবির : হাসি আসছে না তোমার? আমারতো আফসোস হচ্ছে ওকে আরো ধোলায় করতে পারিনি বলে। তবে তুমি ওকে অনি অনি করছো কেন। তুই করে বলবা ওকে তুই…. বুজেছো ?
নিলা : হি-হি-হি ওকে বুজেছি।
আবির : না না শোনো ওর সাথে তোমার কোনো কথা বলার প্রয়োজোন নেই।
নিলা : আচ্ছা ঠিকাছে। তবে আপনি কেন এসেছেন?
আবির : ও হে নিলা!!!! তুমি বলেছো মামা মামিকে।
নিলা : জি! না আমি এখনো বলিনি।
আবির : কবে বলবে নিলা। দেরি হয়ে যাচ্ছে তো। বাবা বিয়ের কার্ড এর অর্ডার সহ করে দিয়েছে।
নিলা : আচ্ছা আমি বলবো আজ।
আবির : ওকে নিলা বলবা কিন্তু আজ। বাই!!! ও হে সাবধানে থাকবা।
নিলা : জি!!
আবির চলে যাওয়ার কিছুক্ষন পরে নিলার পরিবাররা চলে আসে।

নিলার মামাতো বোন মমিতাকে নিলার দুলাভাই উল্টাপাল্টা অনেক বুঝিয়ে দিয়েছে নিলা আর আবিরের ব্যপারে।
মমিতা : নিলা! তোর আবির নিজেকে কি মনে করে বড়লোকের ছেলে বলে যা ইচ্ছা তাই করবে।
তুই ও তো কিছু করলিনা। ও হে আমিতো ভুলে গেছি তোর এখন বড় ঘরে বিয়ে হচ্ছে গাড়ি করে আসবি গাড়ি করে যাবি। হক পরিবারের হবু বউ বলে কথা।
নিলা : আপু তুমি যা ভাবছো তা কিছুই না।
মমিতা : চোরের আবার বড় গলা। তোর দুলাভাইকে কি তোর লম্পট মনে হয়। পৃথিবীতে মেয়ে আর খুজে পাইনি যে না তোর সাথে বেহায়াপনা করতে গিয়েছিল।
নিলা : আপু তুমি ভুল বুঝছো আমাদের।
মমিতা : হয়েছে ভুল শুধ্রাতে আসতে হবে না আর।
দুলাভাই : আরে হয়েছে মমিতা! ছোট মানুষ তাই হয়তো না বুঝে করেছে।
মমিতা : ঐ আবির মেরে আপনাকে নাক দিয়ে রক্ত নিয়ে এসেছে আপনি বলছেন না বুঝে করেছে। এগুলো সব নিলার চাল।বাবা বাড়ীতে খাল কেটে কুমির এনেছে।
নিলা তার রুমে চলে গিয়েছে কারন নিলা জানে হাজার বললে ও নিলার কথা বিশ্বাস করবে না মমিতা।
নিলার মাথায় ঘুরছে কিভাবে বলবে মামা মামিকে এই বিয়ে কেন্সেল করতে।
এসব টেনশন করতে করতে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। খুব জর নিলার।মাথা তুলে বসতে ও পারছে না।
আবির আর দাদি এসেছে নিলাকে দেখতে।
দাদি নিলার মাথায় কিছুক্ষন হাত বুলিয়ে ড্রইং রুমে চলে যায় নিলার মামির সাথে।
আবিরকে নিলার পাশে বসিয়ে।
আবির : নিলা ডাক্তার বলেছেন তুমি নাকি খুব টেনশন করছো? কি হয়েছে তোমার। তুমি জানো তোমার প্রেশার কতো বেড়েছে। এই বয়সে কারো প্রেশার থাকে নাকি?
নিলা : জি!! আমি ঠিকাছি।
আবির : ঠিকাছো মানে? কি নিয়ে টেনশন করছো কোনো আমি যা বলেছি তা নিয়ে নয়তো?
নিলা : না তা নিয়ে নয়।
আবির : আচ্ছা তোমার মামা মামিকে বলেছো?
নিলা : না বলতে পারিনি।
দাদি : নিলা!! খেয়াল রাখিস হ্যাঁ। আমরা তাহলে আজ আসি। আর শোন কোনো টেনশন করবি না। সব ঠিকঠাকই হবে। তবে হ্যাঁ আবির তোকে কোনো টেনশন দেই নাকি?
নিলা : না দাদি!
দাদি : দিলে কিন্তু আমাকে বলবি।
চল আবির।

(এই বলে দাদি আর আবির চলে যায়)।
নিলা সুস্থ হয়ে উঠে ধীরেধীরে। তবে এর মাঝে অনেক চেষ্টা করেছে নিলা মামা মামীকে বলার জন্য।
কিন্তু নিলা ব্যর্থ হয়।
আবির আর নিলার বিয়ের কার্ড চলে এসেছে।
আবির এর এসব অসহ্য লাগছে।
আবির নিলাকে ফোন দিলো।
আবির : নিলা তুমি বলেছো?
নিলা : দেখেন আমি মামা মামিকে কিছু বলতে পারবো না। আপনার যদি এতো দরকার হয়ে থাকে তাহলে আপনি নিজেই বলেন আপনার পরিবারকে।
আবির : তার মানে তুমি বলতে চাচ্ছো যে তুমি কিছু করতে পারবা না তাই তো?
নিলা : জি!!! তাই।
আবির : ঠিকাছে তাহলে আমিই বলছি বাবাকে।
এই বলে আবির ফোন কেটে দিলো।
আবির তার বাবা এবং পরিবারের সবাইকে ঢাকে।
আবির : বাবা আমি নিলাকে বিয়ে করতে পারবো না।
বাবা : কেন?
আবির : বাবা আমি তারা কে ভালবাসি আর আমি ওকেই বিয়ে করবো।
বাবা : আবির তুই কি বলছিস তুই জানিস?
আবির : হ্যাঁ বাবা আমি জানি। আর এটাই আমার ফাইনাল ডিসিশন।
বাবা : ঠিকাছে তাহলে আমার ফাইনাল ডিসিশন ও শোনে নে। যদি এই বাড়ীতে থাকতে চাস তাহলে নিলাকে বিয়ে করতে হবে আর যদি না চাস তাহলে বাড়ী থেকে বেরিয়ে যা।
দাদি : কি বলছিস কি তোরা।পাগল হয়ে গেছিস নাকি তোরা।
বাবা : মা তুমি জানো না!!! ওর এসব আবদার গুলো রেখে রেখে আমি ওকে মাথায় তুলে ফেলেছি।
আবির : ঠিকাছে আমি বেরিয়ে যাচ্ছি।চিন্তা করো না।
বাবা : দাড়া ” বেরিয়ে যাচ্ছিস ভালো কথা। তবে এই বাড়ীর কিছু সাথে নিয়ে যেতে পারবি না।
আবির : মানে!
বাবা : তোর বাইকের চাবি ” কারের চাবি ” ক্রেডিট কার্ড সব রেখে যা।
আবির সব টেবিলের উপর রেখে বাসা থেকে বেরিয়ে গেল।
দাদি : (কেঁদে কেঁদে) কয়েক সাপ্তাহ পরে ছেলেটার বিয়ে আর তাকে ঘর থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে তুই কেমন বাপ?
বাবা : মা তুমি ঐসব বুঝবা না। কয়দিন ওকে বাসা থেকে দূরে থাকতে দাও তারপর বুঝবে ও।
আবির তার বন্ধুদের কল দিয়ে সব বলে কোনো বন্ধুর সাহায্য না পেয়ে সে পার্কের একটি চেয়ারে বসে আছে।
নিলা বুঝতে পারে যে আবির হয়তো এতোক্ষনে তার পরিবারকে বলে দিয়েছে।নিলা বুঝতে পারে সকালে আবিরের পরিবার ফোন দিয়ে বিয়ে কেন্সেল করে দিবে। নিলা তার এই মুখ মামা মামিকে কি করে দেখাবে। মামা মামীর কষ্টের চেহারাটা সে কি করে দেখবে।

তাই নিলাও ডিসিশন নিয়েছে সে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যাবে।
নিলা একটি চিঠি লিখে ড্রইং রুমের টেবিলে রেখে সে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ে।
নিলা হাটতে হাটতে পার্কের পাশে চলে আসে।
নিলাকে আবির দেখে ফেলে।
আবির: নিলা তুমি এতো রাতে এইখানে কি করছো :O
নিলা : জি! আমি নাইট ওয়াকিং এ বেরিয়েছি।তাই।
আবির : তুমিকি আমাকে বোকা পেয়েছো?
নিলা : তবে আপনি কী করছেন এইখানে?
আবির : বাবা বের করে দিয়েছে নিলা আমাকে।
নিলা : ওহ!
আবির : বাদ দাও!! আসো তোমাকে বাসায় পৌছে দি।
নিলা : আরে না সমস্যা নেই আমি যেতে পারবো আপনি চিন্তা করবেন না।
আবির : সত্য বলছো তো?
নিলা : হ্যাঁ মিথ্যা কেন বলবো। বাই।

এইবলে নিলা চলে গেল একা। কিন্তু আবির ও নিলার পিছু পিছু গেল। নিলা না দেখার মতো।
কিছু দূর হেটে যাওয়ার পর নিলাকে কিছু বাজে ছেলে ইপ্টিজিং করতে লাগলো। তবে নিলা অনেক ভয় পেয়ে গেল।
সে পিছন ফিরে দৌড়াতে গিয়ে দাক্ষা খেয়ে চোখ বন্ধ করে দাঁড়িয়ে গেল।চোখ খুলে নিলা দেখে আর কেউ নয় সেটা আবির।
আবিরকে দেখে নিলার বুকে সাহস আসলো। নিলা আবিরের হাতটা শক্ত করে ধরে রাখে।
আবির : আরে ডার্লিং এতো রাগ করতে হয়। হয়েছে তো। এবার ক্ষমা করে দাও।

আমার চাচা আর্মি যে টা তাকে কল দিয়েছি সে আসছে আমাদের পিক আপ করতে। আজ ওনার বাসায় থাকতে বলেছে।
নিলা আবিরের কথা গুলো শুনে হাসবে কি কাঁদবে কিছুই বুঝে উঠতে পারছে না।
আবির নিলাকে নিয়ে ঐ জায়গা থেকে অন্য একটি জায়গায় নিয়ে বসালো।
আবির : নিলা সত্য করে বলোতো তুমি এতো রাতে এইখানে কি করছো? নিলা আমার থেকে লুকিয়ে কি লাভ?
নিলা : কি লুকাবো। কিছুইতো না।

আবির : নিলা আমার ব্যাপারে তুমি সব জানো। তোমার ব্যাপারে ও আমি সব জানি তবে আমায় মিথ্যা বলার কি দরকার। বলো আমাকে কি হয়েছে?

নিলা :(কেঁদে কেঁদে) কাল যখন আপনার পরিবারের ফোন আসবে। তখন মামা মামীর সপ্ন ব্যর্থ হয়ে যাবে। তারা আমাকে ছোট থেকে লালনপালন করে বড় করেছে। মমিতা আপুর সংসারটা ও তেমন ভালো চলছে না। শশুরবাড়ি ছেড়ে বাবার বাড়ী উঠে এসেছে। শ্রেয়ার পড়া লিখার খরচ এসব মিলিয়ে মামা আর ভাইয়ার উপর অনেক প্রেশার যায়। তার মধ্যে এতো কষ্টের মাঝে বার বার আমার কারণে ওদের ও কষ্ট পেতে হচ্ছে। আর আমি চায় না এসব ভবিষ্যৎ এ ও হোক।তাই আমি ডিসিশন নিয়েছি এর চেয়ে ভালো তাদের থেকে দূরে সরে গিয়ে তাদের জিবনের বোঝা কমিয়ে দি।

আবির : কিন্তু নিলা তোমার কি মনে হয় মামা তোমাকে বোঝা মনে করে?
নিলা : কখনো না! মামা আমাকে নিজের মেয়ের মতোই ভাবে। কিন্তু আমার নিজেকে নিজেই তাদের কাছে ছোট মনে হচ্ছে। আপনাকে তো বলেছি আমার বিয়ে কতোবার ভেঙেছে। সবার কতো আশা ছিলো এই বিয়ে নিয়ে।
আবির : সব আমার কারনে তাই না নিলা।দেখিও নিলা তুমি আমার চেয়ে ভালো বর পাবা।
নিলা : (চুপ করে কেঁদে চলছে)
আবির : নিলা আমি তারাকে ভালোবাসি তাই তোমাকে বিয়ে করছি না।
নিলা : তো কে বলেছে আমাকে ভালোবাসতে।আমাকে ভালোবাসতে হবে না আবির। (কেঁদে কেঁদে)
আবির : মানে! কি বোঝাতে চাচ্ছো?
নিলা : (কেঁদে কেঁদে) আবির আপনি আমাকে বিয়ে করেন। আমার জন্য নয় আমার মামা মামীর দিক চেয়ে হলে ও। আপনি আমাকে যেদিন বলবেন ঐদিনি আমি আপনার জীবন থেকে চলে যাবো।
আবির : কিন্তু!!! এটা সম্ভব হবে নাকি?

নিলা : এক সপ্তাহ ‘ একমাস ‘ দুই মাস যে দিন বলবেন ঐদিনি চলে যাবো। আমি আপনাকে প্রমিস করছি আবির।
আবির : হুম!! তবে তারা ও বলেছে এক বছর পরে সে ভেবে বলবে। তারা ঢাকায় গিয়েছে মেডিকেল পড়ার জন্য।
কিন্তু হে!! নিলা আমি তোমার উপর ভরসা করে এই বিয়েতে রাজি হতে পারি তবে আমাকে প্রমিস করো আমি যেদিন বলবো ঐদিনি তুমি আমার জীবন থেকে চলে যাবা। কারণ নিলা আমি তারার জায়গা আর কাউকে দিতে পারবো না। আমার জীবনে শুধু তারা আর কেউ নয়।

নিলা : আমি আজ এই মুহুর্তকে সাক্ষী রেখে ওয়াদা করছি আপনি যেদিন বলবেন ঐদিনই আমি আপনার জীবন থেকে চলে যাবো।
আবির: ঠিকাছে নিলা তাহলে এখন বাসায় যাও।
নিলা : আপনি কই যাবেন?
আবির : কই আর যাবো ঐ হিটলারের কাছে। চলো তোমাকে আগে পৌছেদি।
নিলা : আমি যেতে পারবো!
আবির : আচ্ছা তখন দেখেছিতো কতোদূর যেতে পারো।
আমি বারবার গিয়ে ঐসব বলতে পারবো না যে আমার চাচা আর্মি ” মামা পুলিশ ” দাদা মেজিস্ট্রেড। হা! করে দেখছো কী চলো এবার।
নিলা : চলেন।
নিলা নিলার বাসায় এসে গেছে ড্রইং রুমে গিয়ে চিঠিটা নিয়ে তাড়াতাড়ি ছিড়ে ফেলে দিয়েছে।
আবির ও তার বাসায় এসেছে।
দাদি : আরে আবির তুই আমি জানতাম তুই আসবি। দেখ আবির তুই নিলার চেয়ে ভালো মেয়ে আর পাবি না সে তোর জন্য একদম পারফেক্ট।
আবির : জি! দাদি আসলে আমি বুঝতে পারিনি। এখন বুঝতে পেরেছি।
বাবা : মা ওর থেকে জিজ্ঞেস করো এটা কোনো ওর নতুন প্লান নয়তো।
দাদি : চুপ করবি তুই!! আবির তার নিজের ভুল নিজে শিকার করেছে। যা এখন বিয়ের যা যা লাগবে তৈরী কর।
আবির আবিরের রুমে চলে গেলো।
চিন্তা করছে কি হচ্ছে তার সাথে।
নিলা ও তার রুমে বসে ভাবছে। আর কান্না করছে।
এইভাবে কেটে গেলো বাকি দিনগুলো।
আজ নিলা আর আবিরের বিয়ে।
আবিরকে তার বেষ্ট ফ্রেন্ড দুজন মিলে রেডি করছে।
আবির : ভেবেছি বিয়েটা তারার সাথে করবো কিন্তু কোথা তেকে এই নিলা উঠে এলো।😓
বন্ধু : আহারে নিজেই বিয়ে করছিস আবার নিজেই আফসোস করছিস।😉

আবির : আরে কি করবো তোরা বল। নিলা বেচারি। চেহেরা দেখলে কষ্ট হয় ওর। মেয়েটির ও কি দোষ যার সাথে বিয়ে ঠিক করে সেইই রিজেক্ট করে দেই। তবে আমি ওকে সাহায্য করছি। ওকে কি আমি সারাজীবন আমার বউ করে রাখবো নাকি। আমিতো তারাকে বিয়ে করবো উফফফ তারাকে অনেক মিস করছি।
বন্ধু : হে হে আর মিস করতে হবে না তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নে।
বর যাত্রী বের হলো। সবাই বিয়েতে অনেক আনন্দ করে।কিন্তু নিলার মন অনেক খারাপ।
নিলা আর আবিরের বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ হলো।

নিলাকে আবিরের বেডরুমে বসিয়ে রাখানো হয়েছে। ফুলের সমাহারে ভরা বিছানা। চারদিক ক্যান্ডেল লাইট আর ফুল দিয়ে সাজানো। এ.সি চলছে। ঠাণ্ডা ঠান্ডা বোধ হচ্ছে নিলার। পা গুলো গুটিয়ে নিয়ে বসে আছে নিলা।
হঠাৎ দরজা খোলার শব্দ হলো।
আবির এসেছে রুমে।
আবির : আরে নিলা কি হলো!!
নিলা : জি!
আবির : নিলা! তুমিতো এমন ভাবে বসে আছো যেন আমাদের ফুলসজ্জা হচ্ছে।
নিলা বিছানা ছেড়ে উঠে দাড়ালো।
আবির : নিলা! তোমাকে একটা জিনিস দেখাবো।
নিলা : কি জিনিস।
আবির একটি ফাইল নিলার হাতে দিল এবং বললো
আবির : নিলা এটা আমাদের কন্ট্রাক্ট পেপার। এইখানে লিখা আছে ৬ মাস পর্যন্ত তুমি এইখানে থাকতে পারবা। এরপর তুমি আমার জীবন থেকে চিরদিন এর জন্য চলে যাবে।

নিলার শরীরের লোম শিরশির করে উঠলো। একজন মেয়ের কাছে বিয়ের দিন রাতে তার বরের কাছ থেকে পাওয়া কন্ট্রাক্ট পেপার। যাতে লিখা আছে ৬ মাস পরে তাদের ডিভোর্স হয়ে যাবে।
নিলা : কি করতে হবে এটা।
আবির : সিগ্নেচার করবে।
নিলা : কিন্তু আবির এসবের কি দরকার ছিলো। আমিতো বলেছি আমি চলে যাবো।
আবির : যদি ৬ মাস পরে তুমি দাবী করো যেতে না চাও।
নিলার চোখ দিয়ে পানি পড়তে লাগলো।😭
আবির : নিলা কিছু কাগজপত্র আরো আছে সেখানে ও তোমার সিগ্নেচার লাগবে।
নিলা : কি লিখা আছে তাতে?
আবির : নিলা তুমি আমার বউ ঠিক কিন্তু কখনো আমার বউ এর অধিকার পাবা না।
আমার উপর কোনো অধিকার দেখাতে আসবে না।

আমাকে কখনো ভালবাসার চেষ্টা করবে না আমিও তোমাকে ভালোবাসবো না।
আমাদের বিয়েটা শুধু একটা কন্ট্রাক্ট হিসেবে।কন্ট্রাক্ট শেষ হতেই তুমি কোনো দাবী ছাড়া এইখান থেকে চলে যাবে।
নিলা : (কান্না কন্ট্রোল করে) কোথায় কোথায় সই করতে হবে?
আবির : এইতো এইদিকে একটা। এই পেইজ এ একটা।

সব মেয়েরি এইদিনের সপ্ন থাকে। নিলা কখনো ভাবেনি নিলার বিয়ে এমনভাবে হবে।
সই করা শেষ। আবির ফাইলটি নিয়ে আলমারিতে রেখে দিলো।
আবির : আচ্ছা আমরা তো এক খাটে থাকতে পারবো না। এক কাজ করি একদিন আমি খাটে থাকবো আর একদিন তুমি খাটে থাকবা।
যে দিন আমি খাটে থাকবো ঐ দিন তুমি সোফায় থাকবে আর যেদিন তুমি খাটে থাকবে ঐ দিন আমি সোফায় থাকবো।
নিলা : জি!
আবির : এক কাজ করো আজ তুমি খাটে থাকো।
নিলা : না সমস্যা নেই আপনি থাকেন।
আবির : নো ওয়ে। আজ তুমি।
নিলা : বলছি তো আমি থাকি। আপনি খাটে শুয়ে পরুন।
আবির : আচ্ছা ঠিকাছে।
এই বলে আবির নিলার জন্য বালিশ আর গায়ের চাদর নিয়ে সোফায় দিয়ে দেই।
আবির : গুড নাইট নিলা! ঘুমিয়ে পরো।
নিলা : গুড নাইট।
আবির খাটে শুয়ে পরে।
নিলা তার গয়নাগাটি খুলছে ভাবতে ভাবতে আর চোখের জল ফেলতে ফেলতে। আর আবিরের দিকে তাকায় কিছুক্ষণ পর পর আয়না দিয়ে।

আবির ঘুমিয়ে পড়েছে। আবিরের চেহারা থেকে তার চোখ সরাতে পারছে না নিলা। আর ভাবছে যাকে ভালবেসেছে তাকেই বিয়ে করেছে নিলা কিন্তু। এই বিয়ে খানিককালের জন্য।
সকাল হলো হঠাৎ দরজা বাড়ি দিচ্ছিলো আবিরের ভাবী। আবিরের ঘুম ভেংগে গেলো। উঠে দেখে ১০:৩০
(আবির মনে মনে ভাবছে আরে নিলাতো সোফায়। এখন দরজা কেমনি খুলি।)
(আবির নিলার কাছে গিয়ে)
আবির : নিলা! নিলা! নিলাাাা!!!!!
নিলা : উফফ কি হলো এতো সকাল সকাল ডাকছেন কেন (ঘুম চোখে)
আবির : নিলা সকাল সকাল নয় ১০:৩০
নিলা : উফফ আর একটু ঘুমাতে দিন এমনিতে একটু আগে ঘুমিয়েছি। (ঘুম চোখে)
ভাবী : আবির দরজা খোল। অনেকতো ঘুমিয়েছিস। এবার উঠ।
আবির : ঐ নিলাাাা!!!!!! উঠো প্লিজ ভাবী এসেছে ডাকার জন্য।
এই মেয়ে কি নেশার ঘুম ঘুমিয়েছে নাকি। কী করি ভাবী তো দেখে ফেলবে এখন দরজা খুললে। (আবির মনে মনে)
আবির নীলাকে কোলে তুলে নিলো এবং খাটে শুয়ে দিচ্ছে।
নিলা : আরে আরে! করছেনটা কি! পরে যাবো তো।
আবির : চুপ!! ভাবী আছে দরজার পাশে।
আবির গিয়ে দরজা খুললো।
ভাবী : আবির ঘুম হয়েছে?
আবির : জি ভাবী।
ভাবী : তাহলে এবার রুম থেকে বের হো।
আবির : কেন?
ভাবী : তোর বউকে সাজাবো বলে।
আবির : ওহ তবে আমাকে কে সাজাবে।😜
ভাবী : চুপ! শয়তান কোথাকার।😂

নিলাকে ভাবী শাড়ী পরিয়ে সাজিয়ে ড্রইং রুমে নিয়ে গেলো সবাই একসাথে নাস্তা🍞🍌 করলো।
নিলার সাথে ভাবী দাদি আবিরের মামাতো খালাতো বোনরা সবাই গল্প করছে।অনেক হাসাহাসি চলছে।
দাদী : হয়েছে হয়েছে অনেক গল্প করেছিস এবার আমার নাতি বউটাকে একটু বিশ্রাম করতে দে। যা সবাই।
সবাই চলে গেল। কিন্তু দাদী নিলার কাছে আবার আসলো।
নিলা : আরে দাদী আসো!
দাদী : নিলা তোকে কিছু বলার ছিলো আমার।
নিলা : হে দাদী বলো।
দাদী : নিলা তুইতো জানিস আবির কেমন। বিয়ে হয়েছে ঠিক কিন্তু তার ছেলেপনা গুলো এখনো যায়নি।ভবিষ্যৎ নিয়ে তার কোনো চিন্তা ভাবনা নেই।নিলা তবে তুই আমাকে একটা ওয়াদা কর।
নিলা : কি নিয়ে দাদী?
দাদী : তুই আবিরকে একজন জিম্মাদার মানুষ বানাবি। তার ভবিষ্যৎ ঠিক রাখার জন্য যা করার তুই সেটা ওকে করাবি।
( কি করবে কিছুই বুঝতে পারছে না। সে দাদীকে কিভাবে বলবে এই ওয়াদা সে পুরণ করতে পারবে না। সে তো আবিরের জিবনে শুধু খানিক সময়ের জন্য।)

নিলা : কিন্তু দাদী কিভাবে?
দাদী : এতোসব আমি জানিনা। তুই আমার কসম খেয়ে বল। তুই পারবি?
নিলা : (নিলার কিছু করার ছিলনা) হে দাদী আমি তোমার কসম করে বলছি আমি আবিরকে একজন জিম্মাদার মানুষ বানাবো।
দাদী : (চোখের জল ফেলে) হে তুই পারবি। তোর ভালবাসা দিয়ে পারবি।
দাদী চলে গেলো। নিলার মাথায় কিছু আসছে না সে তো দাদীকে প্রমিস করে দিয়েছে কিন্তু কিভাবে পূরণ করবে।
আবির রুমে এসেছে।
নিলা : কোথায় ছিলেন?
আবির : বন্ধুদের সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম।
নিলা : তারার সাথে কথা হয়েছে?
আবির : কি বলবো তারাকে হে? তারা আমি বিয়ে করে ফেলেছি এটা বলবো?
নিলা : না তা বলবেন কেন।
আবির : সরি!
নিলা : সরি কেনো?
আবির : আসলে কি বলবো মাথায় কিছুই আসছে না। তারাকে মিথ্যা বলতে ও ভালো লাগছে না। আমিতো ওকে ভালবাসি ভালবাসার মানুষকে মিথ্যা কেমনি বলি।
নিলা : হুম আপনি কালকে যে কন্ট্রাক্ট ফাইল এনেছেন ওটা একটু দিবেন প্লিজ।
আবির : কেনো?
নিলা : দেখবো আরকি কাল রাতে ভালো করে পড়তে পারিনি তাই।
আবির উঠে আলমারি থেকে নিলাকে ফাইলটা দিলো।

নিলা আবিরের থেকে ফাইলটা নিয়ে টেবিল থেকে একগ্লাস পানি নিয়ে ফাইলের উপর ঢেলে দিলো। ফাইল পুরাটা ভিজে গেলো আর কোনো কাজের রইলো না।
আবির : (খুব রেগে গিয়ে) করছোটা কি?
নিলা : যা দেখেছেন তাই করছি।
আবির : এসবের মানে।
নিলা : এসবের মানে হলো কন্ট্রাক্ট পেপারে আপনার যেরকম শর্ত আছে ঐরকম কিছু শর্ত আমার ও থাকবে।তারপর ঐ কন্ট্রাক্ট পেপারে আপনার সাইন থাকবে আমার সাইন ও থাকবে।
আবির : কিরকম শর্ত তোমার?
নিলা : সেটা আমি পেপার আনার পর জানিয়ে দিবো।
আবির : তোমার এসব একটু বেশি হয়ে যাচ্ছে না নিলা?
নিলা : যা আপনি মনে করেন।
এই বলে নিলা রুম থেকে চলে গেলো।

নিলাদের বাসা থেকে তার কাজিনরা এসেছে নিলাকে দেখতে। নিলাতো অনেক খুশি পরিবারের মানুষ পেয়ে।
(শ্রেয়া নিলার কানে কানে আপু তোমার রুমটা কতো বড় কতো সুন্দর। তুমি আর আবির ভাইয়া দৌড়াদৌড়ি খেলতে পারবা)😜
নিলা 🙁 মুচকি হেসে) তোর ও হবে একদিন এমন রুম।😊
শ্রেয়া : হে কিন্তু আমার বর ও আবির ভাইয়ার মতো হ্যান্ডসাম হবে।😎
নিলা:( একটু হেসে) হে রে পাগলি তাও হবে।😂
সবাইকে রাতে খাবার দেওয়া হলো।
শ্রেয়া : নিলা আপু! আবির ভাইয়া কই গেলো? আমরা তো কখন এলাম আর ভাইয়ার দেখা পেলামনা এখনো।
আজ ডিনার ভাইয়ার সাথে করবো।
দাদী : হে তা করবিনা কেনো। তোরা তো ওর শালী। নিলা! আবিরকে ফোন দে তাড়াতাড়ি আসতে বল।
নিলা : জি! দাদি।

(নিলা আবিরকে ফোন দিচ্ছে কিন্তু আবির ফোন ধরছে না কেটে দিচ্ছে।নিলা কি করবে কিছু বুঝতে পারছে না)
(আবির তার বন্ধুদের সব খুলে বলার পর বন্ধুরা তার টেনশন কমানোর জন্য তাকে জোর করে ড্রিংকস খাইয়ে দে।কিন্তু আবির এর আগে কখনো এসব খাওয়াতো দূরের কথা ছুঁয়ে ও দেখেনি।)

হঠাৎ নিলার কানে বাহির থেকে আবিরের গাড়ির আওয়াজ আসে। সে তাড়াতাড়ি গিয়ে দরজা খুলে দেখে আবির দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে।আবিরের চোখ গুলো লাল হয়ে আছে। নিলা গাভ্রিয়ে গেলো অনেক।
নিলা : কি হয়েছে আপনার?
আবির নিলার গায়ের উপর পরে যায়। নিলা অনেক কষ্টে আবিরকে ধরে।
আবির সোজা হয়ে দাড়াতে পারছে না।
আবিরকে দেখে তার পরিবারের সবাই অনেক অবাক হয়ে গেছে।তবে বিশ্বাস করতে পারছে না আবির ড্রিংকস করেছে আবিরতো কখনো ড্রিংকস করে না তবে আজ কেনো করলো।
আবিরকে তার মেজো ভাই ধরে রুমে দিয়ে আসে।
দাদী : (লজ্জাজনক মুখে মেহমানদের) আসলে আবির এমন না। আজ মনে হয় বন্ধুদের সাথে পরে খেয়েছে।
শ্রেয়া : দাদী! it’s a common matter… এখনকার যুগে এটা কোনো ব্যাপারি না।
সবাই রাতের ডিনার করে খাওয়া দাওয়া করে ঘুমাতে গেলো।

নিলা তার রুমে গেলো। দেখছে আবির তার শার্ট খোলার চেষ্টা করছে কিন্তু পারছে না।
নিলা গিয়ে আবিরকে শার্ট খুলে দিলো। আবিরকে পা তুলে খাটে শুয়ে দিলো। নিয়ম অনুযায়ী আজ নিলার পালা ছিলো খাটে শুয়ার।
নিলা : আপনি কিছু খাননি। আপনাকে খাবার দিবো?
আবির : (নেশাগ্রত ভাবে)আমি ড্রিংকস করেছি।
নিলা : কেনো করেছেন।
আবির : তোমার কারনে।শুধু তোমার কারনে।
নিলা উঠে চলে যাচ্ছিলো। ঠিক সেই সময় আবির নিলার হাতধরে টান দিলো আর নিলা আবিরের গায়ের উপর পরে গেলো।
আবির নিলার মুখ থেকে আলতো করে চুলগুলো সরিয়ে।
আবির : আই লাভ ইউ!

নিলা আবিরের মুখে এই কথা শুনে যেন আকাশ থেকে পড়েছে। ঐ মূহুর্তটা লাগছে তার সর্গের মতো।
নিলা ও আবিরের কপাল থেকে তার চুল গুলো আলতো করে সরিয়ে দিলো।
আবির : সব চেয়ে বেশী ভালবাসি তোমাকে। আই লাভ ইউ সো মাচ””! তারা !
নিলার মনটা তখন লাগলো কে যেন এসে একটা লাঠি দিয়ে বাড়ী মেরে চলে গেলো।
নিলা তার কোমোর থেকে আবিরের হাতটি সরিয়ে ছুটে আসতে চেয়ে ও আসতে পারলো না।
আবির নিলাকে আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে রাখে।

(নিলা মনে মনে) অনি তো আমাকে তারা ভাবছে। তারা ভেবে এসব করছে। নেশা করে এসে রাতে রাতে সপ্ন দেখছে যতসব ডিসগাস্টিং।

নিলা একদৃষ্টিতে আবিরকে চেয়ে আছে। আবির ঘুমিয়ে আছে। ভালোবাসার মানুষটিকে ঘুমন্ত অবস্থায় দেখতে এতো সুন্দর লাগে এতো ভালো লাগে তা নিলা আগে জানতো না।
নিলা ও আবিরের বুকে মাথা রেখে শুয়ে পড়ে।
সকাল হলো।🌄 আবিরের আগে ঘুম ভাংলো। আবিরের মাথা প্রচন্ড ব্যাথা করছে।
তারমাঝে আবির নিলাকে তার বুকে দেখে আরো অবাক হয়ে গেলো। মাথায় কিছু আসছে না নিলা তার বুকে কেনো।
আবিরের গায়ে কাপড় নেই কেন? এ.সি তো চলছে তবে……কাপড় কেনো খুললো।😳
আবিরের দুশ্চিন্তা আরো বেড়ে গেলো।
আবিরের নড়াচড়াতে নিলার ঘুম ভেংগে গেলো।
নিলা উঠে দাঁড়িয়ে গেলো।
আবির উঠে বসে।
দুজন দুজনের দিকে তাকাচ্ছে কিন্তু কেউ কিছু বলছে না।
নিলা ওয়াস রুমে চলে যায় ফ্রেস হওয়ার জ্ন্য। ফ্রেস হয়ে এসে দেখে আবির এখনো বসে আছে।
নিলা : ফ্রেস হয়ে আসুন।

আবির : (মনে মনে 😱এই মেয়ে এতো নরমাল ভাব করছে কেনো) উফফ কিছু বুঝছি না কি হচ্ছে।😧
আবির ওয়াস রুম থেকে বের হয়ে দেখে নিলা বিছানা ঠিক করছে।
আবির দৌড়ে গিয়ে নিলার হাত ধরে টেনে তার দিকে ফিরিয়ে।
নিলা : ছিঃ….!….. এসব কি?(চোখে হাত দিয়ে)
আবির : এসব কি মানে? কি হয়েছে?😳
নিলা : আপনি খালি গায়ে কেনো?🙈
আবির : তাতে কি হয়েছে আমি কি মেয়ে নাকি?😂
নিলা : কি বললেন?😶
আবির : সরি সরি!!! আমি ওটা মিন করিনি।🙊
নিলা : ঠিকাছে ঠিকাছে!!!
আবির : নিলা! কাল আমি যা করেছি আসলে সরি! আমি এর আগে কখনো খায়নি এসব। কাল বন্ধুরা মিলে জোড় করে এসব করেছে।

নিলা : জোড় করে খায়িছে? আবির এসব ছোট বাচ্চার মতো কথা আমার সাথে বলবেন না। আপনি জানেন কাল রাতে আপনার পরিবার কতটা অপমান বোধ করেছে মেহেমানদের সামনে।
আবির : সরি!! নিলা।
নিলা : হুম!!
আবির : নিলা!!
নিলা : কিছু বলবেন?
আবির : নিলা কাল রাতে………. মানে কাল রাতে…..আমি তোমার সাথে খারাপ কিছু করিনিতো…..মানে ফার্স্ট টাইম….😞
নিলা : না… কিছু করেননি।
আবির : থেংক গড। আচ্ছা চলো নাস্তা করতে।😊
নিলা : ওয়েট মি. আবির।
আবির নিলার দিকে তাকালো,,,
নিলা : কন্ট্রাক্ট পেপারে সাইন করবেননা?
আবির : হুম দেখাও।
নিলা আবিরকে কন্ট্রাক্ট পেপার হাতে দিলো। আবির কন্ট্রাক্ট পেপার পরলো।
আবির : এসব কি নিলা!
নিলা : কি?
আবির : (রেগে গিয়ে) এইখানে লিখা আছে ৬ মাসের মধ্যে তোমাকে ৫ লক্ষ টাকা দিতে হবে আমার থেকে। তারপর তুমি আমাকে ডিভোর্স দিবে।

নিলা : হে! ৬মাসের মধ্যে ৫ লক্ষ টাকা ইনকাম করে দিবেন আমাকে তারপর আমি আপনার ডিভোর্স পেপারে সাইন করে দিবো। বাকি শর্ত গুলো আপনি যা বলেছিলেন তাই।
আবির : আসলে আমি তোমার ভোলভাল চেহেরার পেছনের রাজটা দেখতে পায় নি। তুমি টাকার জন্য এতোসব করার কি দরকার ছিলো আমাকে প্রথমেই বলে দিতে ৫ লক্ষ টাকা তখনি দিয়ে দিতাম।
নিলা : নো মিঃ আবির হক। আমার আপনার বাবার টাকার দরকার নেই। আমাকে আপনার নিজের ইনকাম করা ৫ লক্ষ টাকা দিতে হবে। তাও আবার ৬ মাসের মধ্যে।
আবির : তুমিকি পাগল হয়ে গেছো। ৬মাসের মধ্যে এটা কেমনি সম্ভব। আমি কি এর আগে কখনো টাকা ইনকাম করেছি নাকি?
নিলা : এসব জানা আমার বিষয় না। আমার শুধু ৫ লক্ষ টাকা চায়।
আবির : I can’t blv it… নিলা। তুমি টাকার লোভে…
নিলা : টেবিলে নাস্তা রাখা আছে খেয়ে নিবেন।
এই বলে নিলা রুম থেকে বেরিয়ে চলে গেলো।

নিলা মনে মনে) সরি! আবির আমার কিছু করার ছিলো না। দাদীকে প্রমিস করেছি আমি। একজন বউ হিসেবে আমি আপনাকে বদলাতে পারবো এটা আপনার পরিবারের বিশাস আমার উপর। তাই বাধ্য হয়ে আমার এসব করতে হচ্ছে।😢
আবির নাস্তা না করে বেরিয়ে চলে গেলো। সারাদিনে একবার ও বাসায় আসেনি।
রাতে নিলা তার রুমে শাড়ি ঠিক করছে। হঠাৎ আবির রুমে ঢুকে পরলো।
আবির নিলাকে দেখে তাড়াতাড়ি পেছনে ফিরে গেলো।
নিলা : (তাড়াতাড়ি শাড়ী ঠিক করে) এসব কি আপনি ভেতরে ঢুকেছেন কেনো?😧
আবির : নিলা তুমি হয়তো ভুলে গেছো এটা আমার রুম।😐
নিলা : হে তা তো কি হয়েছে। তাই বলে এভাবে ঢুকে পড়বেন নাকি?😳
আবির : (নিলার দিকে ফিরে।) কেনো দরজা বন্ধ করে কাপড় ঠিক করতে হয় আপনি জানেন না?
নিলা : হে তা জানবো না কেনো… কিন্তু রুমের ভেতরে আসার আগে দরজা বারি দিয়ে আসতে হয় তা আপনি জানেন না?😏
আবির : শোনো তোমাকে দেখার আমার কোনো শখ নেই বুঝেছো ..😏
নিলা : হে তা আমি ভালো করেই দেখতে পাচ্ছি।😂
আবির : (রেগে গিয়ে) মানে? কি বলতে চাচ্ছো তুমি? 😬
নিলা : মানে হচ্ছে রুমে ঢুকার আগে নক করে ঢুকবেন। এখন থেকে এই রুমটা আমার ও তাই এই রুমে কখন কি করতে হবে না হবে এটার ডিসিশন নেওয়ার অধিকার আমার ও আছে।😎
আবির নিলার দিকে এগিয়ে এসে নিলার কোমড়ে হাতদিয়ে নিলাকে শক্ত করে ধরলো। (একটু হেসে)
আবির : ও আচ্ছা অধিকার খাটাচ্ছো।☺
আবিরের মুখ নিলার কানের দিকে আনলে নিলা অনেক ভয় পেয়ে যায়।
নিলা : কি করছেন আপনি ছাড়ুন আমাকে।😨
(আবির নিলাকে আরো শক্ত করে ধরে।কানে কানে উইস্পার করে বলছে)
আবির : এটা ও তো আমার অধিকার।😊
আবির হাত দিয়ে নিলার পেছনের চুল গুলো সরিয়ে এক পাশে আনলো।
নিলা : দেখেন আপনি যা করছেন একদম ঠিক করছেননা।😡
আবির : আ…হা আমার বউ তার অধিকার খাটাচ্ছে। তাই আমিও আমার বউ এর থেকে আমার অধিকার নিচ্ছি। এটা ও তো আমার অধিকার তাই না নিলা?😁
নিলা : দেখেন আমি কিন্তু এখন চিৎকার করবো।
আবির : হে করো…. সবাই এসে দেখুক আমরা কি করছি। ইনফেক্ট আমিই ডাকছি সবাইকে। Excuse me..everyone…
নিলা তাড়াতাড়ি আবির মুখ তার হাত দিয়ে চেপে ধরলো
নিলা : আরে কি করছেনটা কি আপনি পাগল নাকি?😧
আবির : (মুচকি হেসে) আমার অধিকার…?😄
নিলা আবির কে ধাক্কা দিয়ে আবিরের কাছ থেকে সরে রুম থেকে বেরিয়ে যায়।
আবির : আরে…. নিলা কই যাও আমার অধিকারটাতো দিয়ে যাও।😂
নিলা পেছন ফিরে আবার এসে রুমের দরজাটা খুব জোড়ে বন্ধ করে চলে যায়।
আবির হাসতে থাকে।

রাতের খাবার দিলো। নিলা আর বড় ভাবী সবাইকে খাবার বেরে দিচ্ছে।
আবির : নিলা! আমাকে একটু ঝোল দাওতো।😜
নিলা আবিরকে ঝোল দিতে আসলে আবির নিলাকে আস্তে আস্তে
আবির : নিলা তুমি কিন্তু আমার অধিকার আমাকে দিচ্ছো না।😉😜
দাদী : চুপি চুপি কি বলিস আমাদের ও তো শোনতে দে।😂
নিলা : দাদী আবির বলছে তাকে নাকি বেশী করে ঝোল দিতে। তাই দিচ্ছি।😊
এই বলে নিলা আবিরের প্লেটে পুরা বাটিতে যা আছে সব ঢেলে দিলো।
আবির : 😵নিলা এতোগুলো কেমনি খাবো পাগল নাকি তুমি? মাথা ঠিকাছে নাকি অধিকার খাটাতে খাটাতে সেটা ও গেছে।😜
নিলা : আমার মাথা ঠিকাছে। আপনার মাথা ঠিক নেই। তাই তো আপনি………..😕
আবির : হে…. হে….. বলো বলো… তাইতো আমি কি…..
দাদী দেখেছ তুমি কি দাদার সাথে এমন করতে?
দাদী : তোর দাদাকে তো আমি ধমকে যা বলতাম তাই করতো।😎😜
আবির : আসলে তোমরা নারী জাতিরা এমনি। নরম শরম পুরুষদের উপর নির্যাতন করো।😓
নিলা : আ….হা…রে…. আপনি নরম শরম পুরুষ :O
আবির : হে কিন্তু তুমি একটু বেশি নরম আরকি।
(আবির নিলাকে আস্তে আস্তে) তবে অধিকারটা দিলে কিন্তু আরো ভালো জানতাম। 😜
নিলা : দাদী খাবারের সময় কথা বলা নিষেধ।

দাদী : আরে হে তা তো ভুলেই গেলাম।এই আবির চুপচাপ খেয়েনে নিলাকে আর বিরক্ত করিস না এমনিতে মেয়েটা সারাদিন তোর জন্য টেনশন করতে করতে শেষ বাড়ীতে তো আসার নাম নেই তোর ঘরে বউ আছে সেটা মনে রাখিস না মনে হয়।
আবির নিলার দিকে এক পলক চেয়ে আবার খাবার শুরু করলো।
সবাই খেয়ে নেওয়ার পর ঘুমাতে গেলো।
নিলাও গেলো দেখে আবির বসে বসে গান করছে।
আবির নিলাকে দেখে গান বন্ধ করে দেয়।
নিলা গিয়ে খাট থেকে গায়ের চাদর আর বালিশ নিয়ে খাটে শুয়ে পরছে।
আবির : দাঁড়াও ওটা আমার বালিশ।
নিলা : কিন্তু আপনারটা তো আপনার কাছেই আছে।
আবির উঠে নিলার থেকে বালিশটা আর গায়ের চাদরটা নিয়ে খাটে গিয়ে শুয়ে পরলো।
আবির : আমি আসলে দুটো বালিশ ছাড়া শুতে পারিনা তাই। আজ বেশী ঠাণ্ডা লাগছে তাই চাদর ও দুটো দিতে হবে।
নিলা চুপচাপ গিয়ে সোফায় শুয়ে পড়লো।
আবির নিলাকে দেখিয়ে দেখিয়ে এ.সি আরো বাড়িয়ে দেয়।
নিলার কিছু করার নেই।নিলার খুব খারাপ লাগছে আবিরের কাণ্ড গুলো। কারন নিলা ঠান্ডা বেশি সৌজ্য করতে পারে না।
সকাল হলো আবিরের ঘুম ভাংলো।
আবির ঘুম থেকে উঠে দেখে নিলা হাত-পা গুটিয়ে সোফায় শুয়ে আছে।
আবির ওয়াস রুম থেকে ফ্রেস হয়ে আসে।
আবির : (মনে মনে) এই মেয়ে আজ এতোক্ষন কেনো ঘুমাচ্ছে। অন্যদিনতো এতোক্ষণে উঠে পরে। যাক বাবা আমার কি।
আবির নিচে নাস্তা🍞🍌🍎🍟 খেতে গেলো।
ভাবী : আবির নিলা কই?😶
আবির : আছে ঘুমাচ্ছে।
ভাবী : আজ এতোক্ষন।😳
আবির : হে তাতে আমার কি।
ভাবী : কি বললি তোর কি মানে? ও তোর কি?😕
আবির : ভাবী নাস্তা দিবা ? ক্ষিদা পেয়েছেতো।😢
দাদী : কোনো নাস্তা পাবি না।
যা গিয়ে বউকে সহ নিয়ে আয়। তারপর একসাথে বসে নাস্তা কর। আরে তোরা তো এই যুগের ছেলেমেয়ে তোদের কি শিখিয়ে দিতে হয় নাকি?
আবির : কিন্তু দাদী ও তো ঘুমাচ্ছে।
দাদী : ঘুমাচ্ছে !! মানে নিলাতো এতোক্ষন ঘুমায় না। যা গিয়ে দেখ কোনো অসুস্থ লাগছে নাকি?
আবির উঠে গিয়ে তার রুমে গেলো।

আবির : নিলা! নিলা!! ঐ নিলা!…
আবির নিলার শরীরে হাত দিতেই দেখে নিলার শরীর অনেক গরম। কপালে হাত দিতেই আবির বুঝে নেয় কাল রাতে এ.সি তে নিলা চাদর ছাড়া ছিলো। তারমাঝে আবির এ.সি ফুল বাড়িয়ে দেই।
আবির 🙁 মনে মনে) আরে এর তো প্রচুর জর। কিন্তু আমিতো তা চায়নি। আমি চায়নি নিলা কষ্ট পাক। আমিতো মজা করছিলাম। আমি নিলাকে ভালোবাসিনা এর মানে এই না যে আমি তাকে ঘৃনা করি। নিলা যতোদিন আমার কাছে আছে ততোদিন সে আমার responsibility.
আবির নিলাকে কোলে তুলে নিয়ে খাটে শুয়ে দেয়। গায়ে চাদর দিয়ে দেয়।
আবির : নিলা সরি। আমি জানতাম না এমন হবে।😢
নিলা : (চুপ করে আছে) চোখ খোলার শক্তি ও তার নেই।
আবির দৌড়ে গিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে ড্রইং রুমে গিয়ে……
আবির: ভাবী ’’দাদী নিলার খুব জর উঠেছে। সে চোখ সহ খুলতে পারছে না।
ভাবী দাদী তাড়াতাড়ি আবিরের রুমে গেলো।আবির ও গেলো
দাদী : আরে সত্যিতো নিলার তো খুব জর।
আরে আবির যা ডাক্তারকে ফোন কর।মেয়েটার শরীরতো ভালো না।
আবির : হে দাদী আমি করছি।
ডাক্তার এসে নিলাকে দেখে ঔষধপত্র দিয়ে চলে গেলো।
নিলার এই অবস্থা দেখে আবিরের খুব খারাপ লাগছে।
আবির এক মূহুর্তের জন্য ও নিলার পাশ থেকে সরেনি।
আবির নিলার পাশে বসে আছে।
দুপুর হয়ে গেলো।

ভাবী : আবির তুইতো সকালে ও কিছু খেতে পারিসনি। যা কিছু খেয়ে নে। নিলার পাশে আমি আছি।
আবির : না ভাবী আমি ঠিকাছি আমার ক্ষিদা নেই।
নিলা : (চোখ খুলে) আপনি খেয়ে আসেন। আমি ঠিকাছি।
আবির : (খুশী হয়ে) ভাবী ডিয়ার নিলা উঠেছে তুমি যাওনা নিলার জন্য খাবার নিয়ে এসো।
ভাবী নিলার জন্য খাবার নিয়ে আসলো।
আবির নিলাকে ধরে উঠে বসালো।
নিলা নিজে খেতে চাইলে আবির তাকে নিজ হাতে খেতে দেইনা।
আবির : নিজেকে সামলানোর শক্তি নেই আবার নিজের হাতে খাবার ও খেতে চাচ্ছে।
ভাবী : দেখেছ নিলা!! আমার দেবর হচ্ছে এক পিচ। বউ এর কতো সেবা করছে। তারমানে বুঝতে পারছো তোমাকে কতো ভালোবাসে।😛
আবির আর নিলা চুপ করে আছে।আবির নিলার দিকে তাকিয়ে আছে।
নিলা : (ধীরেধীরে) হে ভাবী। আমার কারনেতো অনি এ.সি ছেড়ে বেশী ঠান্ডায় ঘুমাতে পারেনা।
আমার বেশী ঠান্ডা লাগে তাই ওনার গায়ের চাদরটা সহ আমাকে দিয়ে দেই।
ভাবী : ওহ তাই নাকি!! এতো ভালোবাসা কই রাখবা নিলা!😂
আবির নিলার দিকে চেয়ে আছে আবির কিছু বলেনি। কারন আবির জানে আসলেই আবিরের দোষ।
ভাবী : আচ্ছা নিলা তুমি খেয়ে নাও আমি যায়। আবিরতো আছে তোমার পাশে কিছু লাগলে আবির বলিস আমাকে।আর শোন খাওয়ানোর পরে ঔষধটা ও খাইয়ে দিস নিলাকে।
আবির : জি! ভাবী।
ভাবী চলে গেলো আবির নিলাকে খাইয়ে দিচ্ছে।
নিলা : হয়েছে আর খাবো না।
আবির : নিলা প্লিজ খেয়ে নাও। না খেলে ঔষধ কিভাবে খাবা।
নিলা : আমি ঠিকাছি ঔষধের দরকার নেই আমার।
আবির : নিলা আমি জানি তুমি আমার উপর রেগে আছো। তা অবশ্য তোমার রাগ করাটা সঠিক। কারন কাল রাতে আমি যা করেছি একদম ঠিক করিনি।
তবে নিলা আমি ইচ্ছা করে করিনি বিশ্বাস করো। আমি কখনো চায়নি তোমার এই অবস্থা হোক।
নিলা : হুম।
আবির : হুম কি?
নিলা : কিছুনা।
আবির : কিছুনা মানে কিছুতো একটা বলো।
নিলা : হ্যাঁ বলছি তাহলে কান খুলে শুনেন।
আজ ৩ দিন চলে গেলো ৬ মাসের থেকে। আপনি তো ৫ লক্ষ টাকার এক টাকা ও ইনকাম করেননি।
আবির : (রেগে গিয়ে) i can’t blv this..নিলা তোমাকে আমি কি মনে করতাম।
তোমার মায়াবী চেহেরা দেখে তোমার মায়াবী চোখের জল দেখে…..তুমি যাতে ভেংগে না পরো….তোমার মামা-মামী যাতে কষ্ট না পায় তাই আমি তোমাকে বিয়ে করে তোমাকে সাহায্য করেছি। একবার ও ভাবিনি আমার তারা যখন জানতে পারবে তখন সে আমাকে কি মনে করবে।
নিলা : বিয়ে করে আমাকে সাহায্য করেছেন? বিয়েটা কি আপনার জন্য পুতুল খেলা? আমি বউ সাজলাম আর আপনি জামাই সাজলেন।
আবির : নিলা আমার কি মনে হচ্ছে জানো….তুমি আমাকে নিজের হাজবেন্ড মনে করছো… কারন ঐ দিন এই বিয়ের প্লান মাথায় তোমার এসেছিলো….
নিলা : (চুপ করে থাকলো চোখের জল গড়িয়ে পড়ছে)
আবির : তোমার এইসব ড্রামা চোখের জল গুলো একটু বন্ধ করবে।
নিলা : (চোখ মুছে) এখন কি ভেবেছেন আমার ৫ লক্ষ টাকা কিভাবে দিবেন।
আবির : তোমার ৫ লক্ষ টাকা আমি তোমাকে ৬ মাসের আগেই দেওয়ার ব্যবস্থা করছি। যাতে ৬ মাস আগেই আমি তোমাকে আমার লাইফ থেকে বের করতে পারি।

এই বলে আবির রুম থেকে বেরিয়ে চলে গেলো।
রাতে আবির বাসায় আসে কিন্তু নিলার সাথে কোনো কথা বলে না। অন্যদিন অনেক দুষ্টুমি করতো।
নিলা : ( মনে মনে ভাবছে হয়তো টাকার কথা গুলো বলাতে। কিন্তু কি করার আবিরকে তার জীবন সুন্দর করানোর জন্য এটাই একটা রাস্তা নিলার।)
সকাল হলো টুকটাক আওয়াজে নিলার ঘুম ভেংগে গেলো।
চোখ খুলে দেখে আবির নিলার আগে ঘুম থেকে উঠেছে তাও আবার সকাল সকাল এতো হ্যান্ডসাম হয়ে কই যাচ্ছে।
নিলা: কই যাচ্ছেন আপনি?
আবির : (মুখ ভংগি করে) অফিস যাচ্ছি তোমার ঐ ৫ লক্ষ টাকা তোমার কাছে ছুরে মারতে।
নিলা : (খুশি চেপে রেখে) দেখিয়েন আবার বাবার টাকা চুরি করিয়েন না।😜
আবির : এই এই…. কি বলতে চাও তুমি হে…. আমাকে দেখে কি তোমার চোর মনে হয়।😠
নিলা : মনে হবে না কেনো…. আপনি কি কোনো দিকে কম।😷
আবির : (নিলার দিকে এগিয়ে আসে…..)
নিলা : (উঠে দৌড় দিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে যায়।)😂
আবিরকে অফিসে যেতে দেখে আবিরের পরিবাররা খুব খুশি হয়। আবিরের বাবাতো যেনো সপ্ন দেখছে।😱
আবিরের বাবা ও নিজেকে ধন্য মনে করছে আবিরের জন্য নিলার মতো একটি বউ পেয়ে।☺
নিলা ও খুব খুশি আবির এখন অফিস যায়। কেউ আর বলে না আবির বেকার বাবার কামাই খায়।
এভাবে কয়েক সপ্তাহ কেটে যায়।একদিন রাতে সবাই খাবারদাবার খেয়ে ঘুমাতে যায়। আবির আর নিলা ও তার রুমে যায়।
আবির : নিলা!
নিলা: কিছু বলবেন।😶
আবির : না আসলে তোমাকে ধন্যবাদ দেওয়ার ছিলো….😊
নিলা : কিন্তু কেনো?😳
আবির : তুমি যদি আমার কাছ থেকে টাকা না চেতে তাহলে আজ হয়তো আমি বেকার থাকতাম। ধন্যবাদ তাই।😊
নিলা : ও…..
আবির : কেউ ধন্যবাদ দিলে তার জবাব দিতে হয় জানো না।😏
নিলা : আপনি কথায় কথায় ঝগড়া করেন কেন হে?..!😐
আবির : আর তুমি! (আঙুল দিয়ে দেখিয়ে) এতোটুকু হাইটের একটা মেয়ে কথায়… কথায় আমাকে ধমক দাও কেন?😡
নিলা : হাইট ছোট হলে মানুষটাকে লুজার মনে করবেন না।
আমাদের পাশের বাড়ীর একটা আন্টি আছে ওনার হাইট আমার চেয়েও অনেক ছোট কিন্তু আংকেলটা আপনার চেয়ে ও আরো লম্বা। আর আংকেল আন্টিটার সব কথা শুনে।😏
আবির : হা হা হা( নিলার কথা শুনে আর না হেসে পারলো না।)
নিলা : আপনার আমাকে জোকার মনে হয়। হাসছেন কেন।😠
আবির : (হাহাহা) তুমি জোকারের থেকে কম নাকি।😂😂
নিলা আবিরের কথা শুনে আবিরকে দৌড়াতে শুরু করলো।
আবির হেসে হেসে দৌড়ে দৌড়ে নিলাকে আরো গরম করে দিচ্ছে।
আবির : হায় হায়!!! আল্লাহ শেষ পর্যন্ত আমার কপালে এই জোকার বউটা মিলিয়ে দিলো……😁😁
নিলা দাঁড়িয়ে গেলো আবিরের কথা শুনে।
আবির : কি হলো,,, শক্তি শেষ। আর দৌড়াতে পারছো না?
নিলা : ৬ মাসের বউ।

আবির ও হাসি বন্ধ করে দেয় নিলার কথা শুনে।
আবির : আচ্ছা আমাদের যখন ৬ মাস একসাথে থাকতে হবে তবে আমরা তো ফ্রেন্ডস হয়ে থাকতে পারি।😊 ৬ মাস পর তো
দুজন দুদিকে।
নিলা : (মনে মনে…. আবিরের কাছে কথা গুলো বলা কতো সহজ।)
আবির : ঐ নিলা!! কোথায় হারিয়ে গেলে… কি ভাবছো?😨
নিলা : না কিছুনা!!! হে শিয়র…. ফ্রেন্ডস ওকে।
আবির : ওকে এখন থেকে আর ঝগড়া নয় যে কটা দিন একসাথে আছি। বন্ধু হয়ে থাকবো।
নিলা : তবে আমার একটা কন্ডিশন আছে।
আবির : কি কন্ডিশন আবার।
নিলা: আমাকে বন্ধু বানিয়ে আমার টাকা না দেওয়ার প্লান করলে চলবে না কিন্তু।😉😜
আবির : হে….রে বাবা তোমার টাকা তোমাকে দিয়েই ছাড়বো।
নিলা: (হাসি দিয়ে) গুড বয়।😊
আবির : চলো ছাদে যায়।
নিলা : এতো রাতে আপনি কি পাগল।😳
আবির : আরে আমি আছিতো ভয় কিসের। এখনিতো আমাকে বন্ধু বললে আর এখনি বন্ধুর কথা রাখছো না।😒😏
নিলা: কিন্তু আমার ভুত অনেক ভয় করে।অন্ধকারে ভুত থাকতে পারে।😖
আবির : (হেসে হেসে) আরে পাগলী একটা চলোতো।😁
নিলা : আপনি কি এভাবে রাতে ছাদে উঠেন।😶
আবির : হ্যাঁ উঠি মাঝে মাঝে বন্ধুদের নিয়ে ও আড্ডা দিতে উঠি স্মোক করতে উঠি।🙊
নিলা : আবির আপনি স্মোক করেন :O
আবির : ইয়ে…মানে…টেনশনে থাকলে আরকি।😝
নিলা : ছিঃ……….!…. ছিঃ…!
আবির : ঐ ছিঃ বলার কি আছে হ্যাঁ ? দাঁড়াও আমি একটা নিয়ে আসি তুমি সহ খেয়ে দেখো কি মজা।😂
নিলা : ছিঃ…. কি বাজে আপনি। আপনার কি মনে হচ্ছে আমি স্মোক করবো।😡
আবির : (হঠাৎ আবিরের মাথায় একটা বুদ্ধি এলো নিলা বলেছিলো তার ভুতকে অনেক ভয় লাগে তাই আবির পেছন থেকে হাত বাড়িয়ে নিলার চুল গুলো আলতো করে টান দেয়)

নিলা অমনি চিৎকার দিয়ে উঠে। আর আবির হাসতে হাসতে মাটিতে বসে পড়ে।😁😀😂
নিলা : (রেগে গিয়ে) আবির! 😬
আবির : (হাহাহা) আল্লাহরে তুমি এতো ভয় পাও ডারপোক কোথাকার।😂😂
নিলা : (আবিরকে নিলা দৌড়াতে শুরু করলো।)
আবির : আরে! কি করছো…. পড়ে যাবো তো।নিলা প্লিজ আস্তে পড়ে যাবা….
নিলা: (দাঁড়িয়ে গেলো) বাই চলে যাচ্ছি আমি। (এই বলে নিলা চলে যাচ্ছে)
আবির : নিলা! সরি সরি। আরে আমিতো দুষ্টুমি করলাম।
নিলা আর আবির দুজনে শিরি দিয়ে নামার সময়।
দেখে আবিরের বাবা মা দুজন শিরি দিয়ে উঠছে।
আবির : মা তুমি কোথায় যাচ্ছো?😱
মা : আবির ছাদে কে ছিলো? তোরা?😨
আবির : হ্যাঁ মা! আমি আর নিলা।😳
বাবা : আরে আমরা তো দৌড়ানোর আওয়াজ শুনে ভয় পেয়ে গিয়াছিলাম। কোনো চোর এসেছে মনে করে।😟
আবির : আরে না বাবা! আমরা ছিলাম।😂
মা : আবির তুই কি পাগল। নিলাকে ছাদে নিয়ে গেলি কেনো এতো রাতে?😕
আবির : কেনো কি হয়েছে।?😧
মা : আরে ওর যদি কোনো খারাপ বাতাস লাগতো। এই সময়টাতো একদম ঠিক ছিলো না।
আবির : বাহ! মা…. একবার ও এটা বললে না যে তোর ও যদি খারাপ বাতাস লাগতো।😏
মা : আরে! পাগল নিলা এখনো নতুন বউ। তার জন্য বলছি। নতুন বউদের ক্ষেত্রে এসব আরো বেশি হয়।☺
আবির : তাহলে তো আমি নতুন জামাই
আবিরের কথা শুনে সবাই হেসে উঠে।
মা : যা এবার ঘুমাতে যা।
রাতে হঠাৎ আবিরের ফোন বেজে উঠলো। নিলা ও আবিরের ঘুম ভেংগে গেলো।
আবির : (ঘুম চোখে) হ্যালো….
তারা : হ্যালো আবির আমি তারা।
আবির লাফিয়ে ঘুম থেকে উঠে গেলো।
আবির : তারা! তুমি?…. তারা….. তুমি কেমন একটা খবর ও নাওনি। কেমন আছো তুমি?
তারা : হে ভালো আছি।তুমি কেমন আছো?
আবির : (অনেক খুশিতে) এতোদিন খারাপ ছিলাম তবে এখন তোমার কন্ঠ শুনে ভালো হয়ে গেছি।
তারা : আবির তোমাকে কিছু বলার ছিলো
আবির : হে বলো!
তারা : ফোনে নয় সামনাসামনি।
আবির : ঠিকাছে কাল তাহলে দেখা হচ্ছে।
তারা : কাল নয় এখন।
আবির : এখন এতোরাতে।
তারা : কেনো আমার জন্য এইটুকুটা ও করতে পারবা না?
আবির : না না আমি তা বলেছি নাকি? এক্ষুনি আসছি আমি।
তারা :ওকে।
নিলা : (মনে মনে যখনি আবিরের সাথে খুশী হয়ে থাকতে চায়। আবিরের আমার প্রতি মায়া বাড়ে তখনি এই তারার বাচ্চা তারা কাবাব মে হাড্ডি হয়ে বসে)😡
আবির : নিলা!
নিলা : বুঝেছি আপনি এখন বের হবেন আর আমার থেকে মেইন ডোর অফফ করতে হবে তাই তো?
আবির : হাউ ব্রিলিয়ান্ট নিলা তুমি। আমার সব কিছু এতো তাড়াতাড়ি বুঝে যাও তুমি।
আবির বেরিয়ে পরলো। নিলা দরজা বন্ধ করে রুমে এসে পরে। ভালো লাগছে না নিলার ঘুম ও আর আসছে না। আবির ও নেই।
প্রায় আধ ঘন্টা পরে নিলার মোবাইল বেজে উঠে।

নিলা : হ্যালো!
আবির : নিলা! এক্ষুনি ২ হাজার টাকা নিয়ে পুলিশ স্টেশনে চলে এসো।
নিলা : (অবাক হয়ে) পুলিশ স্টেশন কিন্তু কেনো আপনি কোথায়? পুলিশ স্টেশন কেনো? আপনি কোথায়?
আবির : নিলা! এতো প্রশ্ন না করে টাকা নিয়ে তাড়াতাড়ি আসো না প্লিজ।
নিলা : কিন্তু এতো রাতে গাড়ী কই পাবো?
আবির :উফফ ড্রয়ারে আছে গাড়ীর চাবি।
নিলা : কিন্তু আবির আমিতো ড্রাইভিং পারিনা।
আবির : (একটু রেগে) যেভাবে পারো ঐভাবে আসো।
নিলা তাড়াতাড়ি বের হয়। কোথাও কোনো গাড়ির আনাগোনা নেই। বাসায় কেউকে ও বলতে পারছে না।
অনেক দূর হেটে গিয়ে একটা রিকশা পায়। ভয় ও লাগছে একা একা এতো রাতে। এদিকে আবার আবিরের টেনশন।
নিলা গিয়ে আবিরকে পুলিশ স্টেশন দেখে। আবির ও নিলাকে দেখে খুশি হয়ে যায়।
নিলা : আপনি এইখানে কেনো?
আবির : আর একটু দেরিতে আসতে। আমাকে চালান দিয়ে দেওয়ার পরে আসলে ভালো হতো না।
আবির পুলিশকে টাকা দিয়ে নিলাকে নিয়ে বেরিয়ে পরে।
আবির : শালা পুলিশ ঘুষ খাওয়া ছাড়া তার পেটের ভাত হজম হয় না।
নিলা : কি চুরি করতে ধরা পরেছেন।
আবির : (রেগে গিয়ে) নিলা! তুমি কিন্তু বেশি করছো।
নিলা : নিলাও রাগ দেখিয়ে) তাহলে পুলিশ কেন ধরলো আপনাকে?
আবির : আরে আমিতো গিয়েছিলাম তারার সাথে দেখা করতে। তারাদের বাড়ীর সামনে থেকে তারার সাথে ইশারায় কথা বলতে দেখে ফেলে গার্ড পুলিশ। মনে করেছে ইপ্টিজিং করছি।
নিলা : হি-হি-হি
আবির : তোমার হাসি পাচ্ছে না?
নিলা : তো আপনার তারা আপনাকে বাচানোর জন্য আসেনি কেন?
আবির : (একটু ভেবে) আসলে তারা ও পুলিশ দেখে ভয়ে ভেতরে ঢুকে পড়েছে।
নিলা : ও ও….. তো আপনি পুলিশকে বলেন নি আপনি কার ছেলে?
আবির : আরে বলেছি তো শালা বিশ্বাস করছে না। বললো বাবাকে ফোন দিতে।
কিন্তু বাবাকে কেমনি ফোন দিবো। হিটলার আরো পুলিশকে বলবে আমাকে রিমান্ডে দেওয়ার জন্য। তারপর……
নিলা : (চোখে ইশারা করে) তারপর কি?
আবির : তারপর বলেছি…..আচ্ছা আমার বউকে একটা ফোন দিতে দেন।……(একটু নরম শুরে) কি করার নিলা বাচার জন্য বলেছি আরকি।😒
নিলা : ( মনে মনে হেসে) ইটস অকে।😐
আবির আর নিলা বাসায় এসে পৌছায়।
আস্তে আস্তে করে দুজন রুমে ঢুকে।রুমে ঢুকার পরে।
আবির : বড় বাচা বাচলাম আজ।
নিলা : হ্যাঁ তবে এতো রাতে দেখা করতে যাওয়ার কি দরকার ছিলো….
আবির : বেশী কথা বলবানা। তুমি জানো না আমাকে কে যেতে বলেছে তারা বলেছে তারা।
নিলা : (রেগে গিয়ে) আচ্ছা?? আজ আমি না থাকলে কি করতেন? কাকে ফোন করতেন।
আবির : (একটু ভেবে) আমার খুব ঘুম পাচ্ছে ঘুমাতে দাওতো।
এই বলে আবির মুখের উপর চাদর দিয়ে শুয়ে পরে।

আবার চাদর সরিয়ে
আবির : আর তুমি ড্রাইভিং শিখোনি কেনো? সবাই কি বলবে আবিরের বউ ড্রাইভিং পারে না ছিঃ। শোনো কাল থেকে ড্রাইভিং শিখে নিবে। আমার ভাবিরা সবাই ড্রাইভিং জানে।তোমার ও জানতে হবে।
নিলা : কেনো জানতে হবে।
আবির : দরকার আছে আমার জন্য আমি প্রব্লেমে পড়লে তখন এরকম যেতে হবে তো।
নিলা খাট থেকে একটা বালিশ নিয়ে আবিরের মুখের উপর মেরে দেই।
আবির: (হেসে হেসে ওপাশ ফিরে শুয়ে পড়ে)…..
পরদিন সকালে….
আজ আবিরের জন্মদিন।🎂🎈
সন্ধায় আবিরের বন্ধু বান্ধবীরা সবাই এসেছে আবিরকে সারপ্রাইজ দিতে।
আবির তার বন্ধুদের নিলাকে পরিচয় করিয়ে দেই এবং বলে নিলা আবিরের কাজিন।
কিন্তু অনেক বন্ধুরা খবর পায় যে আবিরের বিয়ে হয়েছে। কিন্তু আবির কাউকে জানায়নি।
নিলাকে কাজিন হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিলে ও কোনো ফ্রেন্ডস তা জিজ্ঞেস করেনি আবির মিথ্যা কেনো বলেছে।
আবিরের একজন বন্ধু সৌরভের নিলাকে খুব পছন্দ হয়েছে। এবং সৌরভ নিলা আর আবিরের কন্ট্রাক্ট এর বেপারে ও সব শুনেছে আবিরের বেস্ট ফ্রেন্ড এর কাছ থেকে।

তাই সৌরভ অপেক্ষায় আছে কখন নিলাকে তার মনের কথা বলতে পারবে।
সৌরভ নিলার সাথে অনেক ভাব করে নিয়েছে অনেক গল্পগুজব হচ্ছে তাদের মাঝে। আবির সেটা খেয়াল করেছে নিলাও অনেক হাসিখুশিতে সৌরভের সাথে কথা বলছে। কিন্তু আবিরের তা সহ্য হচ্ছে না কেনো তা আবির নিজে ও বুঝে উঠতে পারছে না।
নিলা আর সৌরভ কথা বলছে।আবির তাদের পাশে গিয়ে।
আবির : Excuse me!
এই বলে নিলাকে টেনে একপাশ নিয়ে আসে আবির।
নিলা : কি হয়েছে?
আবির : (কনফিউজড হয়ে) কি কথা বলছো ওর সাথে….?
নিলা : বলছি আরকি অনেক কিছু।তা আপনাকে বলতে হবে নাকি?😕
আবির : বলতে হবে মানে…..শোনো নিলা তুমি যতদিন আমার সাথে আছো ততোদিন তুমি আমার responsibility…
নিলা : হে হে…..তারপর!…..
আবির : তারপর মানে……
নিলা : তারপর মানে..?.. তারপর মানে এটা বলছেন না কেনো যে…..আপনি jealous হচ্ছেন।
আবির : what the f…….😐
নিলা : ইডিয়ট….😕(নিলা চলে যাচ্ছে)
আবির : (রেগে গিয়ে…নিলাকে আবার হাতে ধরে টেনে আনে।) কি কথা বলছি দেখছো না। আমার কথা শেষ হয়নি।
নিলা : আমার আপনার কথা শোনার কোনো interest নেই।😉
আবির : ওহ i got it….এখন তো সৌরভের কথা interest লাগছে তাই না?
দাঁড়াও ঐ সৌরভের বাচ্চা সৌরভ কে আজ আমি……😬(আবির দৌড়ে যাচ্ছিলো….)
নিলা : আবির! (আবিরের হাত ধরে ফেলে নিলা) সমস্যা কি আপনার আমি কি আপনার বউ? যে আমাকে অন্য ছেলের সাথে কথা বলতে দেখলে আপনি প্রতিবাদ করবেন। আপনি হয়তো ভুলে গেছেন আবির। ৬মাস পরে আমাদের ডিভোর্স হয়ে যাবে। আর আমিতো আপনাকে তারার সাথে দেখলে এমন করিনা…. তবে আপনি কেন এমন করছেন?
আবির 🙁 কিছুক্ষণ পরে একটু ভেবে নরম কন্ঠে) নিলা! আসলে…. আমার কিছু আসে যায় না।অবশ্য তোমার ও ভবিষ্যৎ আছে তোমার যদি ওকেই ভালো লাগে তাহলে তুমি তোমার ভবিষ্যৎ গড়তে পারো ওর সাথে।😴
এই বলে আবির চলে গেলো।

নিলা: (দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ভাবছে কিছুটা ফিলিংস তো আছে আমার জন্য)☺ হাদারাম কোথাকার শিকার করে না তবু ও।😁
আবির সৌরভকে এক পাশে একা দেখে সৌরভের কাছে গেছে।
সৌরভ : কেমন চলছে তারার সাথে….😊
আবির : মনে হয় সব জানিস।
সৌরভ : জানবো না কেনো…. যে ছেলের জন্য ক্লাসে এতো মেয়ে পাগল ছিলো…..এইরকম একটা হ্যান্ডসাম ছেলের বউ থাকা সত্ত্বেও গার্লফ্রেন্ড থাকবেনা এটা কি মেনে নেওয়া যায়।
আবির : নিলার সাথে এতো ভাব কিসের তোর…😕
সৌরভ : নিলা! she is awesome….😍
আবির : (রেগে গিয়ে) নিলা কেমন সেটা জানতে চাইনি আমি… বলেছি নিলার সাথে এতো ভাব নিচ্ছিস কেনো….😠
সৌরভ : আরে আরে…. রেগে যাচ্ছিস কেনো? আমি জানি নিলা তোর কাজিন সিস্টার….. কাজিন সিস্টার মানে তোর ভোনের মতো…. তাই হয়তো তোর…😉
আবির :সৌরভ তুই ভালো করে জেনেছিস নিলা আমার কে..!.
সৌরভ : হ্যাঁ …হ্যাঁ নিলা তোর কন্ট্রাক্ট করা বউ….৬ মাস পরে তোদের ডিভোর্স হয়ে যাবে… তারার ডাক্তারি পরা শেষ হলে তুই আর তারা বিয়ে করে নিবি।
আবির : (কিছু বলছে না চুপ করে রাগান্বিত চোখে সৌরভকে চেয়ে আছে)।
সৌরভ : নিলার উপর অধিকার খাটাতে আসিস না… নিলাকে তো ডিভোর্স দিয়ে দিবি। তারপর নিলার ভবিষ্যৎ আছে তাই ভবিষ্যৎ এ নিলার দায়বদ্ধ আমি নিতে চায়।
আবির কিছু না বলে সোজা রুমে চলে গেলো।
আর রুমে এদিক ওদিক হাটছে খুব জোরে জোরে শ্বাঃস ফেলছে।
আবির : (মনে মনে) ঠিকি তো বলেছে নিলা। তার ও ভবিষ্যৎ আছে। হয়তো সৌরভকে নিলার ভালো লেগেছে। তবে আমার কি…. আমি কেনো টেনশন করছি। আমিতো তারাকে ভালোবাসি তারা আমার সব।
রাতে সবাইকে বিদায় দিয়ে আবির নিলা দুজন ঘুমাতে আসে।
কেউ কারো সাথে কথা বলেনি। যে যার বিছানায় শুয়ে পড়ে।
হঠাৎ নিলার ফোন বেজে উঠে।
নিলা উঠে দেখে সৌরভ।

নিলা : (আবিরকে শুনিয়ে শুনিয়ে.!..)😁 হে সৌরভ বলো….😉
আবির : তুমি সৌরভকে তোমার নাম্বার ও দিয়েছ?😟
নিলা : (আঙুল দিয়ে ইশারা করে আবিরকে চুপ করতে বলে)
আবির : (মনে মনে ভাবছে) আমাকে আপনি করে বলে আর একদিনে সৌরভকে তুমি…..😕
নিলা রুম থেকে বেরিয়ে বারান্দায় গেলো ফোনে কথা বলতে বলতে।
নিলা : সৌরভ দেখো এটাকি ঠিক হচ্ছে।😒
সৌরভ : একদম ঠিক হচ্ছে। তুমি আবিরকে যদি তোমার করে নিতে চাও তাহলে এটাই একটা রাস্তা।😊
নিলা : কিন্তু অনিতো তারাকে ভালোবাসে।
আমি ওনাকে ভালোবাসি কিন্তু অনি আমাকে ভালোবাসে না।
সৌরভ : সেটা ও বেরিয়ে আসবে। আচ্ছা তুমি দেখেছো আজ আমার সাথে কথা বলার সময় আবির কিভাবে জলছিলো।
নিলা : হা_হা_হা…. হ্যাঁ দেখেছি। তবে হ্যাঁ আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনার এই সাহায্য গুলো কখনো শোধ করতে পারবোনা।

সৌরভ : বন্ধু বলেছো না আমাকে। তাহলে এখানে ঋণ শোধের কথা বলছো কেন।
আচ্ছা শোনো আবির আবার এসে শুনে যাবে। এখন গিয়ে ঘুমিয়ে পরো।
নিলা : ওকে বাই।😊
সৌরভ নিলাকে পছন্দ করেছিল কিন্তু যখন নিলার সাথে কথা বলে তারপর সে বুঝতে পেরেছে আবির যদিও নিলাকে ডিভোর্স দিয়ে দেই তাহলে নিলা এরপর আর কাউকে বিয়ে করবে না। সে আবিরকে ছাড়া আর কাউকে ভালোবাসবে না। তাই সৌরভ ও নিলাকে বলেছে….
সৌরভ : তবে নিলা তুমি যদি আবিরকে চিরদিনের জন্য পেতে চাও আমি তোমাকে সাহায্য করতে পারি। অবশ্য গ্যারেন্টি দিয়ে বলতে পারবো না তবে হে ট্রাই করে দেখতে পারো।
নিলা ও সৌরভের কথা না রেখে পারেনি।কারন নিলা যে আবিরকে অনেক ভালোবেসে ফেলেছে।

পরদিন সকালে…..
আবির বসে আছে…
আবিরকে তারা ফোন দিলো আবির তারার সাথে দেখা করতে গেলো।
তারা আবিরের জন্য খুব সুন্দর করে ডেট সাজালো। আবির ভাবতে ও পারছে না সে তারা থেকে এতো সুন্দর সারপ্রাইজ পাবে।
তারা : আবির…. তুমি হয়তো অবাক হয়ে গেছো। আমি এমন কিভাবে হলাম আসলে আবির আমি বুঝতে পারিনি তোমার ভালোবাসাটাকে অবহেলা করেছি। আর তুমি আমাকে ভালোবেসেই গিয়েছো।
আবির : তারা আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি….
তারা : মুচকি হেসে… আচ্ছা তোমার জন্য তোমার বাবা মা যে বিয়েটা ঠিক করেছিল ওটা কি করেছো।রিজেক্ট করে দিয়েছো তো….
আবির : 🙁 মনে মনে তারা আমাকে সত্যি ভালোবাসে তার কাছ থেকে লুকানোটা ঠিক হবে না।) তারা আমি তোমাকে কিছু বলতে চাই।
আমি জানিনা এটা শোনার পরে তোমার রিয়েক্ট কেমন হবে। তবে জানাটা তোমার অধিকার আছে।
তারা : কি কথা?
আবির : তারা আমি নিলাকে বিয়ে করে ফেলেছি।😞
তারা : (এমন কথা শুনবে আবির থেকে এক্সপেক্ট করেনি…তারার মাথায় যেন আকাশ ভেংগে পরেছে।) আবির… তুমি একটা বছর অপেক্ষা করতে পারোনি আরো বলছো তুমি আমাকে ভালোবাসো….কোন চেহেরা নিয়ে তুমি আমার সামনে এসেছ?
আবির : নিলা আমার পুরা কথাটা তো শোনো!!
তারা : আরো কিছু বলার বাকি আছে তোমার…
আবির : (তারাকে আবির আর নিলার সব কথা খুলে বললো আবির)….
তারা : তোমরা একরুমে থাকো আর তুমি বলছো আমি এটা মেনে নিবো তোমাদের মাঝে এখনো কিছু হয়নি।
আবির : তারা তোমার আমার প্রতি বিশ্বাস নেই?
তারা : আছে তবে….
আবির : তবে কি….
তারা : আচ্ছা ঠিকাছে।তুমি তাড়াতাড়ি ওকে ডিভোর্স দিয়ে দাও।আমি কিন্তু বাবার সাথে ও কথা বলে ফেলেছি।
আবির : বাহ! তারা তুমি তো আমার চেয়ে স্পিড বেশি হয়ে গেছো।
তারা : (একটু লজ্জা পেয়ে।) আবির আমি এসব কিছু মেনে নেওয়ার কারন কি জানো আমি সত্যি তোমার প্রেমে পরে গেছি।
আবির : আই রিয়েলি লাভ ইউ তারা
তারা : আই লাভ ইউ টু…. (একটু হেসে)
তারা আর আবির একসাথে লাঞ্চ করেছে।

আবির দুপুরে বাসায় আসে।
নিলা : আপনাকে খাবার দিবো?
আবির : খেয়ে এসেছি….. ও হে তারার সাথে….
নিলা : নাক ফুলিয়ে রুমে চলে গেলো।
কিছুক্ষন পরে আবির ও এলো রুমে।
আবির: সব ঠিকটাক হয়ে গেছে। তারা ও বিয়েতে রাজি। শুধু একমাত্র তোমার কারনে আমি কিছু করতে পারছি না।
নিলা : তো করেন আপনাকে কি আমি ধরে রেখেছি নাকি…
আবির : এতো সহজে কি কি তুমি আমাকে ছাড়ছো…. তুমি আমাকে তোমার চাকর বানিয়ে রেখেছো।
হঠাৎ নিলা এসে আবিরকে জড়িয়ে ধরলো….
নিলা হয়েছে এতো রাগ করতে হয়…আপনি আমাকে অনেক ভালোবাসেন আমি জানি।রাগ করে বলছেন এসব আমি বুঝতে পেরেছি।
আবির কিন্তু কিছুই বুঝে উঠতে পারেনি।হঠাৎ এসে নিলা এভাবে ঝরিয়ে ধরলো…তার মাঝে এসব কি বলছে ও আমি ওকে ভালোবাসি।
নিলা:( খুব আস্তে আস্তে কন্ঠে) আপনার কিছু খেয়াল আছে দাদী সব শুনছে। দরজার ওপাশে দাঁড়িয়ে আছে।
আবির ও আর বেশী কিছু না ভেবে নিলাকে জরিয়ে ধরলো….(আগে বাচা দরকার আবার দাদী জানলে মহামুশকিল)
নিলাও হেসে ওঠে আবির ও হেসে ওঠে।দুজন দুজনকে ঝরিয়ে ধরে। মুখের কোনে মুচকি হাসি ফুটে।
দাদী ও তাদের দেখেছে ঝগড়া করতে কিন্তু দাদী বেশী কিছু শুনেনি। জামাই বউ এর মধ্যে তো এরকম টুকটাক ঝগড়া হয়ে থাকে। দাদী তাদের ঝরিয়ে ধরে রাখতে দেখে মনে মনে তাদের জন্য দোয়া করে চলে গেলো।
নিলা: দাদী চলে গিয়েছে এবার ছাড়ুন।
আবির হাত সরিয়ে নিলো….
এভাবে কেটে যায় ৫ মাস..আবির আর নিলার মাঝে খুঁটিনাটি ঝগড়া খুঁটিনাটি ভালোবাসা..মাঝে মাঝে বন্ধুত্বপরায়ন আচরণ আবার এর মাঝে শত্রুর মতো আচরণ চলতে থাকে।
.সৌরভের সাথে নিলাকে কথা বলতে দেখলে আবিরের অসহ্য লাগে…
আবার তারার জন্য ভালোবাসা তারার সাথে প্রতিদিন দেখা করা প্রতিদিন ভালোবাসার কথা বলা।
..৬ মাস পূরণ হতে আর মাত্র ২৫ দিন বাকি।
পরের দিন…..সকালে নাস্তা করে আবির অফিসে যাচ্ছিলো….হঠাৎ আবিরকে সৌরভ ফোন দিয়ে দেখা করতে বলে…
আবিরের অনিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও যেতে হলো…খুব জরুরি কথা নাকি।
আবির : কি হয়েছে বল। বেশিক্ষন সময় নেই।
সৌরভ : (একটু হেসে) যা বলার জন্য তুকে ঢেকেছি শুনার জন্য তুই হয়তো মোটে ও প্রস্তুত নয়।
আবির : যা বলবি সরাসরি বল। এতো অভিনয় করার কি আছে। প্রস্তুত তো আমি সবসময় থাকি।
সৌরভ : তাহলে শোন… দেখ আমার আর নিলার মাঝে কিছু নেই। নিলাতো আমাকে শিখিয়ে দিয়েছে তোর সাথে অভিনয় করার জন্য…তাই আমি এসব অভিনয় করছি।
আবির : (শুনে পুরাই অবাক।আবির নিলাকে ভালোবাসেনা ঠিক কিন্তু নিলাকে কখনো ঘৃণা করেনা।নিলাকেতো আবির তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে করেছে তাকে সাহায্য করার জন্য। কিন্তু নিলা আবির আর তারার ভালোবাসার মাঝে এভাবে কাটা বেধে দাঁড়াবে আবির তা এক্সপেক্ট করেনি।)
সৌরভ : কি বিশাস হচ্ছে না। তাহলে নিলা থেকেই জিজ্ঞেস কর।…নিলা চেয়েছিলো যে….আমার সাথে নিলাকে দেখলে তোর যাতে jealous ফিল হয়। এবং তুই নিলাকে চিরদিনের জন্য আপন করে নিস। এবং তারাকে ভুলে যাস।
আবির আর এক মূহুর্তের জন্য ঐ জায়গায় দাঁড়ায়নি।
(খুব রাগ কাজ করছে এখন আবিরের শরীরে আবির কখনো ভাবেনি নিলা এতোটা নিচে নামবে)
সোজা গাড়িতে উঠে ফুল স্পিডে গাড়ী চালিয়ে নিলার কাছে যায়।
বাড়িতে এসে দেখে নিলা ড্রইং রুমে বসে দাদী ভাবীদের সাথে আড্ডা দিচ্ছে।
আবির : নিলা একটু রুমে এসো তো…
ভাবী : (দুষ্টামির ভঙ্গীতে) হঠাৎ রুমে কি জন্যে আমরা একটু শুনি।😜
নিলা আবিরের চেহেরা দেখে বুঝতে পারে আবির কিছু একটা বলতে চাচ্ছে নিলাকে।
নিলা: চলেন।
নিলাও আবিরের পিছু পিছু রুমে গেলো।
আবির নিলাকে রুমে ঢুকানোর পরে দরজা বন্ধ করে দেই।
(নিলা অনেক গাভ্রিয়ে যায়। আবির নিলাকে রাগান্বিত চোখে দেখে)
আবির : নিজেকে কি মনে করো হে…তুমি অনেক চালাক তাই না। আসলে তোমার মতো মেয়েরায় পারে এমন কাজ করতে।
নিলা: ( রেগে গিয়ে) শুনেন উল্টাপাল্টা কথা বলবেন না। কি করেছি সেটা তো বলেন।
আবির : (একটু রাগান্বিত হেসে) কি করেছো না কি করোনি সেটা বলো…
(আবির নিলার দিকে এগিয়ে এসে) তোমার ঐ কূমতলোব প্লানের কথা সৌরভ
আমাকে সব বলে দিয়েছে।কিন্তু নিলা যতো চেষ্টা করবে করো কোনো লাভ নেই। তোমাকেতো আমি আমার ভালো ফ্রেন্ড বানিয়ে ছিলাম কিন্তু তুমি?
নিলা : (নিলা পুরাই অবাক সৌরভ এমন কেনো করেছে।) দেখেন আমি সৌরভকে নিষেধ করেছিলাম।
আবির: হে নিষেধ করেছিলে। কিন্তু তবু ও আমায় বলে দিয়েছে। কারন ও তোমার মতো মেয়েকে ভালো করে বুঝে নিয়েছে। Shameless girl.
নিলার আর কিছু বলার ছিলো না। চোখ দিয়ে শুধু নোনা জল গড়িয়ে পড়ছে।
আবির : ওয়াও! নিলা আর কতো অভিনয় করবা। এসব চোখের পানি গুলো কিভাবে নিয়ে আসো এতো তাড়াতাড়ি।
নিলা চোখ মুচে আবিরের দিকে তাকালো।
আবির: (রেগে রেগে) তোমার ঐ পাঁচ লক্ষ টাকা আমি কালকের মধ্যেই দিয়ে দিবো। তারপর চিরদিনের জন্য তুমি আমার জীবন থেকে খালাস।

নিলা: (কেঁদে কেঁদে) আপনার পাঁচ লক্ষ টাকা আপনি আপনার কাছেই রাখুন। এসব টাকার প্রতি আমার কোনো লোভ নেই। আমিতো দাদীকে প্রমিস করেছিলাম তাই আপনাকে টাকা ইনকাম করার জন্য ফোর্স করেছিলাম। আমার যদি টাকার এতোই লোভ থাকতো তাহলে আমি শুধু পাচঁ লক্ষ টাকায় চেতাম না। আর আপনি হয়তো ভুলে গিয়েছেন আমি টাকা চেয়েছি আপনার হাতের ইনকাম করা টাকা।যদি টাকার লোভ থাকতো তাহলে আমি আপনার বাবার টাকা নিয়েই চলে যেতাম।
হে আমি মেনে নিচ্ছি আমার এটা অনেক বড় ভুল হয়েছে সৌরভের সাথে প্লানটা করে।
আসলে আমি এখন বুঝতে পারছি ভালোবাসা জোড় করে হয়না। ভালোবাসা মন থেকে হতে হয়। যেমন আপনার আর তারার ভালোবাসা। আমি এই বিয়েটা করেছি নিজের জন্য নয় যাতে আপনার আর আমার পরিবার অপমানিত না হয়।
আবির : আমার পরিবারের জন্য এতো দায়িত্ব কেনো তোমার কারন তুমি আমাকে ভালোবেসে ফেলেছো নিলা তুমি কন্ট্রাক্ট এর রুলস ভঙ্গ করেছো

নিলা : ঠিকাছে আর কিছু ভঙ্গ করতে হবে না।
দোয়া করবো যাতে আপনাদের জীবনটা খুব রঙিন হোক।
আমি আজ রাতেই চলে যাবো আর কখনো আসবো না আপনার আর তারার মাঝে।
আপনি আমাকে এতোটুকু সাহায্য করেছেন আপনার এই ঋণ কখনো শোধ করতে পারবো না আমি।
আবির : (অবাক হয়ে) কিন্তু এখনো তো ২৫ দিন বাকী আছে।
নিলা: ২৫দিন পরে গেলে যেমনটা হবে আজ গেলেও তেমন হবে।আবির একদিন না একদিনতো বলতেই হবে পরিবারকে।
আবির কিছু বলেনি নিলাকে… চুপ করে আছে। নিলা আলমারি থেকে কাপড় নিয়ে তার বেগ গুছিয়ে নিচ্ছে।
আবির রুম থেকে বেরিয়ে তার বাবাকে বলতে যায় কিন্তু বলার সাহস পাচ্ছে না।
আবির চলে যাওয়ার পরে নিলা সৌরভকে ফোন দেই।
নিলা : এমনটা কেনো করলেন?
সৌরভ : নিলা আসলে আমি তোমাকে ভালোবাসি। তাই এসব করতে বাধ্য হয়েছি। নিলা দেখো আবিরতো তোমাকে ভালোবাসে না। আমি তোমাকে…….
নিলা ফোনটা কেটে দেই।আর কিছু শুনতে ইচ্ছে হচ্ছে না নিলার।
তারার ফোন আসে।আবির তারার সাথে দেখা করতে গেলো।অনেক্ষন হলো দুজন চুপচাপ বসে আছে আবির ও কেমন মন মরা হয়ে বসে আছে।
তারা : কি হয়েছে আবির তুমি কি আমায় ইগনোর করছো….কখন থেকে বসে আছি কিছুই বলছো না।
আবির: আরে না তেমন কিছু না। এমনি ভালো লাগছে না তাই।
তারা : ভালো লাগছে না মানে! কেনো কি হয়েছে?
আবির: তারা জানো আজ রাতে নিলা চলে যাবে।
তারা : (খুশী হয়ে) ওয়াও আবির। ২৫দিন আগেই।কেমনি বের করছো আবির এতো তাড়াতাড়ি ঐ পেত্নীটাকে।
আবির : (একটু রেগে) তারা! এটা ভালো হচ্ছে না কিন্তু।
নিলা ততোটা ও খারাপ না।আর ও মোটেও পেত্নীর মতো না।ও কিন্তু দেখতে তোমার চেয়ে সুন্দর।
তারা : ( চুপ করে আবিরের দিকে রাগান্বিত চোখে চেয়ে আছে)
আবির : (আবির ও বুঝতে পারেনি সে তারাকে কি বলতে কি বলে ফেলেছে। আবির তারার হাত ধরে.)… তারা! আসলে আমি ওটা বুঝায় নি। তুমি ও অনেক সুন্দর।তুমি সুন্দর না হলে ও আমার জন্য পৃথীবির সবচেয়ে সুন্দরী।
তারা: (তারা বুঝতে পারে নিলার প্রতি আবিরের মায়া জমে গিয়েছে।সাভাবিক এটাতো হওয়ার ছিলো। একটা ছেলে আর একটা মেয়ে ৫ মাস একসাথে ছিলো তাও আবার বিয়ে করা জামাই বউ।নিলা আবার তারার চেয়েও সুন্দর।
কিন্তু তারা ও আবিরকে ভালোবাসে এখন তারাও আবিরকে ছাড়তে পারবে না।তারা বুঝেও না বুঝার মতো..)
আবির! আমি কিছু মনে করিনি। আমি জানি তুমি আমাকে অনেক ভালোবাসো তাই না?
আবির: (অন্যমনা কি যেন ভাবছে)
তারা: (চিৎকার করে) আবির!
আবির: হে বলো!
তারা: আবির কি ভাবছো তুমি? আমি কথা বলে যাচ্ছি আর তুমি কি ভেবেই যাচ্ছো। বুঝেছি ঐ নিলা তোমার উপর যাদু করে দিয়েছে তাই না।
আবির: কি বলছো তারা পাগল নাকি তুমি। আচ্ছা বাদ দাও। বলো কি খাবা?
তারা : (কেঁদে কেঁদে) কিছু খাবো না আমি তুমিই খাও।
আবির : এই দেখো পাগলি আবার কাদে ও। আচ্ছা বাবা সরি! এই নাও কান ধরলাম খুশি?
তারা : (একটু হেসে) হে খুশি।
তারা বাসায় গেলো….
তারার বাবা তারাকে জিজ্ঞেস করে আবিরের পরিবারের সাথে কথা বলবে নাকি।
তারা : বাবা আমার তোমাকে কিছু বলার ছিলো আবিরের বেপারে।
বাবা : হে বল।
তারা তার বাবাকে আবিরের নিলার আর তারার কথা সব খুলে বললো।
বাবা: তারা তুইতো educated মেয়ে তুই এই ভুল কিভাবে করবি।তুই আমাকে আগে বলিসনি কেন? আবির বিবাহিত।
তারা: বাবা আমিতো বলেছি ও বিয়ে করেছে ঠিক। কিন্তু ও আমাকে ভালোবাসে। নিলাকে ও সাহায্য করেছে.বিয়ে করে.. নিলাকে ডিবোর্স দিয়ে দিবে তার পরিবারকে তাদের মাঝে মনমালিন্য হয়েছে বলে… বাবা আবির অনেক ভালো ছেলে।
বাবা : দেখ তারা কোনো বাবা চাইনা তার মেয়ে অসুখী হোক। আমি তোর ভালোর জন্য বলছি।
আর আমি একজন বাবা হিসেবে বুঝতে পারছি একটা মেয়ের সংসার ভেংগে গেলে তারা পিতামাতার কতটা কষ্ট লাগে।
তারা তুই বল নিলা আবিরের সাথে সংসার করেছে তাও আবার ৫ মাস পুরোপুরি। এতোদিনের একটা সম্পর্ক ভেংগে দিয়ে ঐ স্থান তুই পূরন করতে পারবি। আবির যদি নিলার সাথে ৫ মাস সংসার করে তাকে ছেড়ে দিতে পারে তাহলে তুকে অন্য মেয়ের জন্য ছাড়তে পারবে না তার গ্যারেন্টি কি?
তারা : (কিছুক্ষন ভেবে) ঠিক বলেছো বাবা.. আজ আমি আবিরের সাথে দেখা করে ও বুঝতে পেরেছি আবিরের নিলার প্রতি অনেকটা মায়া বেরে গিয়েছে।আবির আগে এমন ছিলো..না.
বাবা: এটাতো হওয়ারি কথা।কারন তারা নিলা আর আবিরের বিয়ে হয়েছে তারাদুজন এখন এক বন্ধনে।তোর আর আবিরের ভালোবাসার শক্তির চেয়ে একজন সামীর জন্য তার স্ত্রীর ভালোবাসার শক্তি যথেষ্ট ।
তোর মা মারা যাওয়ার পর থেকে তুকে আমি তোর বাবা ও বন্ধুর মতো আচরণ করেছি কেনো জানিস তারা…. যাতে একজন মাকে তার মেয়ে যা যা বলতে পারে তা তুই আমাকে বলতে পারিস।তারা তোর জীবনের ডিসিশন নিতে আমি বাধা দিবো না। কিন্তু যদি আমার মতামত জানতে চাস তাহলে আমি বলবো তাদের সংসারটা ভেংগে দিস না। তোর এখনো বিয়ে হয়নি তুই হয়তো বর পাবি। আর আবিরতো ছেলে ও বউ পাওয়া বেপার না। কিন্তু ঐ মেয়েটা….
তারা রুমে গিয়ে অনেক্ষন কান্না করে।
আবিরকে ফোন করে।
তারা: আবির আমি তোমাকে বিয়ে করবো না।
আবির : পাগল হয়ে গিয়েছো?
তারা: আমি পাগল হয়নি। পাগল তুমি হয়েছো…তুমি কি মনে করেছো তোমার ঘরে বউ থাকা সত্ত্বেও একজন বিবাহিত ছেলেকে আমি বিয়ে করবো?
আবির: তারা তুমি এসব কি বলছো…তুমিতো সব জানো কি হয়েছে না হয়েছে।
তারা : হে আমি এটা ও জানি একটা রুমে দুজন বিবাহিত ছেলে মেয়ে একসাথে থাকলে কি কি হয়।তুমি কি বলতে চাচ্ছো তুমি নিলাকে ছুয়ে ও দেখো নি।আবির আমি বাচ্ছা না সব বুঝি।
আবির : কুকুরে কামড় দিয়েছে নাকি তোমাকে পাগলা কুকুরের মতো করছো কেনো….তোমাকে আমি কতোবার বলেছি যে… আমার আর নিলার মাঝে কিছু নেই।
কিছু হয় ও নি হবে ও না।
তারা : (কাদো কাদো ভাবে) তুমি আমাকে পাগলা কুকুরের সাথে তুলনা করেছো আবির….
আসলে আমারি ভুল হয়েছে…কেনো যে আমি ও তোমাকে ভালোবাসতে গিয়েছিলাম। এই কথাটা শোনার বাকি ছিলো…আমার।
আবির : তারা তুমি আমাকে ভুল বুঝছো।
তারা : আর কিছু বুঝার বাকি নেই আবির আমাকে ফোন দিবানা। আজ থেকে তোমার আর আমার মাঝে কোনো সম্পর্ক নেই।
আবির ও রেগে ফোনটা কেটে দিলো।
আবির : মাথায় কিছু আসছে না। কি হচ্ছে আমার সাথে।
বন্ধু: এই দিনের অপেক্ষায় ছিলাম।তুকে সহজভাবে বললেতো তুই বুঝবি না।
তারা তোর জন্য তোর পরিবারের জন্য মোটে ও পারফেক্ট না। যেটা পারফেক্ট সেটা ঘরেই আছে…
আবির দীর্ঘ শাঃস ফেলে বন্ধুদের থেকে বিদায় নিয়ে বাসায় চলে যায়।
সন্ধ্যা হলো আবির বাসায় আসে।
নিলা : ভালো করেছেন আজ তাড়াতাড়ি এসেছেন নাহলে আপনার সাথে দেখা না করেই চলে যেতে হতো।
ভালো থাকবেন চলে যাচ্ছি। আর…হে আপনার কাপড় গুলো ভাজ করে রেখেছি। এখন থেকে পুরো আলমারি আপনার। আর ঝগড়া করতে হবে না।
আবির: (মনমরা মুচকি হেসে) বাপরে ঐদিন মনে আছে তুমি আমার সাথে কি ঝগড়া… আমার একটা টি শার্ট তোমার ভাগে চলে এসেছিলো…
নিলা : হিহিহি(হেসে হেসে) হে মনে আছে…আর আমি আপনাকে ওটার শাস্তি ও দিয়েছিলাম।
আবির: (হেসে হেসে) ঐদিন আমার খাটে শুয়ার পালা ছিলো… কিন্তু আমার সোফায় শুতে হয়েছিলো।
নিলা: আপনার পরিবারকে তারার কথা বলেছেন?
আবির: না!
নিলা : কবে বলবেন? আমিতো চলে যাচ্ছি এখন…
আবির : এখন মানে! তুমিতো রাতে যাবা বলেছিলে।
নিলা: রাত হতে আর কতোক্ষন?
আবির: নিলা!
নিলা: হে বলেন।
আবির: (নরম গলায়) নিলা! তুমি যদি চাও বাকি ২৫দিন গুলো শেষ করে যেতে পারো।
নিলা: কি দরকার চলে যাওয়াই ভালো।
আবির: (রেগে গিয়ে) শুনো আমাদের মাঝে কন্ট্রাক্ট হয়েছে ৬ মাস পরেই তুমি যেতে পারবা। আর আমি আমার পরিবারকে এখন বলতে পারবো না।
নিলা: ঠিকাছে তাহলে আমিই বলছি।
নিলা বলতে যাচ্ছিলো আবির নিলাকে হাত ধরে টেনে ধরে ফেলে।
আবির : তাহলে কন্ট্রাক্ট করেছিলে কেন?…
নিলা : পুরো জীবনের জন্য করিনি ৬ মাসের জন্য করেছিলাম।
আবির : নিলা! তারা আমাকে ছেড়ে চলে গেছে।
নিলা : (অবাক হয়ে) কেন কি হয়েছে?
আবির : (কেঁদে কেঁদে) ও আমাকে ভুল বুঝছে। মনে করছে আমার আর তোমার মাঝে গভীর সম্পর্ক।
নিলা: আমাকে ফোন দিন আমি বুঝিয়ে বলছি।
আবির : না নিলা! থাক যে যেতে চাই তাকে চলে যেতে দেওয়া ভালো…
আমার প্রতি অর বিশাস নেই তাহলে ওকে আটকিয়ে কি লাভ।
আসলে দোষ আমার আমি ওকে ধোকা দিয়েছি আমি বলেছিলাম আমি অর জন্য এক বছর অপেক্ষা করবো…কিন্তু আমিতো কথা রাখিনি।বিয়ে করে ফেলেছি। বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর ঐ ছেলেকে বিয়ে করতে এমন সন্দেহ হওয়াটা সাভাবিক। অর চলে যাওয়াটা ও ঠিক।
নিলা: আমার জন্য হয়েছে না আবির এসব।আমি যদি আপনাকে বিয়ে করতে না বলতাম তাহলে আজ এতোকিছু হতো না।
আবির : তোমার উপর নিওনা দোষ।তোমার উপর ও আমি কতো অবিচার করেছি।
এভাবে কি কোনো বিয়ে হয়। কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ নাকি…. একটা বাচ্ছা ও হাসবে আমাদের এই বিয়ের কথা শুনলে। তুমি বুঝবে না নিলা এসব তুমিতো কখনো কাউকে ভালোবাসোনি।
নিলা : (অনেক কষ্ট চেপে রেখে) ঠিক বলেছেন আমিতো কাউকে ভালোবাসিনি কিভাবে বুঝবো এসব..
.বাবা এসে গেছে নিশ্চয় আমার চলে যাওয়ার ও সময় হয়ে গেছে বেশী রাত হয়ে গেলে আবার যেতে সমস্যা হয়ে যাবে।
নিলা রুম থেকে চলে যাচ্ছিলো..
আবির : নিলা!
নিলা : হুম…

আবির : নিলা… তুমি এভাবে চলে গেলে মামা মামি কি বলবে…. তাদের কি জবাব দিবে?… একটা কাজ করো বাকি জীবনটা এইখানেই এভাবে সোফা আর খাট শেয়ার করে থেকে যাও। তোমার মামা মামি ও আর বুঝতে পারবে না। আমার পরিবার ও।
🙁 আবিরের চেহেরায় তখন কেমন জানি একটা মায়া কাজ করছে নিলার ইচ্ছে করছে দৌড়ে গিয়ে আবিরকে ঝরিয়ে ধরে কাঁদতে। কিন্তু আবির যদি সোফা আর খাট শেয়ার করে থাকার কথা না বলে একবার এটা বলতো নিলা তুমি চিরদিনের জন্য আমার বউ হয়ে আমার সাথে থেকে যাও তাহলে নিলা এক মুহুর্তের জন্য ও ভাবতো না।)
নিলা : মামা মামীকে আমি বুঝিয়ে দিবো।ধন্যবাদ ওটা বলার জন্য কিন্তু আমার আপনার সাহায্য আর লাগবেনা।
আবিরের চেহেরায় নিলা বুঝতে পারছে আবির নিলাকে অনেক কিছু বলতে চাচ্ছে কিন্তু আবির বলছে না।
আবির : রেগে গিয়ে.. দাঁড়াও নিলা কন্ট্রাক্ট যখন সাইন করেছো….তাহলে সেটা পুরণ করেই যাবা।
নিলা : এক কথা বার বার বলতে ভালো লাগে না।
এই বলে নিলা চলে যাচ্ছে।
আবির ও নিলার পিছু পিছু ড্রইং রুমে গেলো।
দাদী : আরে নিলা কই যাচ্ছিস?
নিলা কিছু বলে উঠার আগেই আবির দাদীকে বলে উঠে…
আবির : দাদী নিলার নাকি তার মামা মামীর কথা খুব মনে পরছে। তাই তাদের দেখতে যাচ্ছে।
দাদী : (নিলার ব্যাগের দিকে তাকিয়ে) ও তবে কয়দিনের জন্য যাচ্ছিস?
নিলা কিছু বলে উঠার আগে আবির আবার ও….
আবির : দাদী আমি বলেছি এতো যখন মনে পরছে তাহলে তোমার যতোদিন ইচ্ছা ততোদিন থেকে এসো।
দাদী : ও তা তবে ভালো করেছিস। কিন্তু তুই যাবি না?
আবির চুপ করে আছে…..কি বলবে বুঝতে পারছে না।
নিলা : না দাদী অনার অফিসে অনেক কাজ আছে তাই অনি যেতে পারবে না। তাই না আবির?
আবির : (নিলার দিকে তাকিয়ে) হুম!
দাদী : আরে অফিসের কাজতো সারাজীবন থাকবে। কিন্তু বউ নিয়ে ঘুরার সময় কিন্তু এই দিনগুলো।
হাত থেকে চলে গেলে দিন গুলো কিন্ত আর ফিরে আসে না।
নিলা : ( দাদী ভাবী… আবিরের মা…বাবা সবাইকে বিদায় জানিয়ে বের হচ্ছে।)
বাবা : আরে নিলা তুমি একা কোথায় যাচ্ছো….
নিলা : না বাবা আমি যেতে পারবো…
বাবা : এটা কেমন কথা… আবির! তুই হা করে দেখছিস কি। যা নিলাকে পৌছে দিয়ে আয়।
আবির : জি! বাবা।
আবির আর নিলা গাড়িতে উঠলো। আবির গাড়ী চালাচ্ছে। নিলা জানালা খুলে রাতের বাতাসের সাথে বাহিরের প্রকৃতি দেখছে।
কিছুক্ষণ পর পর রাস্তার ল্যাম্প গুলোর হলুদ আলো নিলার মুখের উপর এসে পরছে। চোখের নিচে ভেজা ভেজা কাজল লেপ্টানো। কি মায়াবী তার চোখ।
চুল গুলো উড়ে এসে কিছুক্ষণ পর পর মুখের উপর পরছে।নিলা বিরক্ত হয়ে চুলগুলো কাধের একপাশে নিয়ে যায়।
আর একপাশ কাধ পুরাটা খালি হয়ে যায়।
নিলা কিন্তু অধিক ফর্সা একবার চিমটি কাটলেই যেন ঐ জায়গায় রক্ত জমে লাল হয়ে যাবে।
আবির কোণা চোখে কিছুক্ষন পর পর নিলার দিকে তাকায়।
আবির : নিলা তুমি কি আমাকে ভুলে যাবা?
নিলা আবিরের দিকে তাকালো…
আবির : না মানে এটা বলছি যে…এতোদিন একসাথে ছিলাম আমরা মনে থাকবে তো আমার কথা।
নিলা : (মনে মনে নিজেকে ভুলে যেতে পারি আবির কিন্তু আপনাকে ভুলার মতো সাহস আমার নেই।)
আবির : কি হলো কিছু বলবানা?
নিলা : আপনি হয়তো জানেন না ড্রাইভিং করার সময়… শুধু ড্রাইভিং রুলস follow করতে হয়।
আবির : আপনি হয়তো জানেন না… আমি স্টানার। so স্টানারদের ড্রাইভিং করার সময় রুলস follow করার প্রয়োজন হয় না।
নিলা : আপনার বাবা জানে আপনি এসব করেন।
আবির : হা হা হা হিটলার যদি জানতো…. বাড়িতে রাখতো নাকি আমায়…
নিলা : তার মানে আপনি আপনার পরিবারকে ধোকার উপর ধোকা দিয়েই আসছেন।
আবির : (একটু রেগে) এটা ধোকা না নিলা… it’s my hobby…
আমাকে নিকাম্ম্য বলে তাই না। কারন আমি কিছুই করিনা। যেটা করতে চেয়েছিলাম সেটা হতে দেয়নি। বাবা শুধু নিজের কথায় ভাবে..এসব স্টান করার চেয়ে তার ব্যবসায়ে হাত বাড়ালে নাকি তার ব্যবসায়ে লাভ হবে।
নিলা! আমার একবার স্টানে যতটাকা একদিনে আমি ইনকাম করবো ঐ টাকা বাবা একমাসে ইনকাম করে। Anyway forget it.. এসব আর বলে কি লাভ।
নিলা : হে কিন্তু এটাই আপনার জীবন ঝুকির উপর তাই হয়তো করতে দেইনি।কারন আপনার জীবনের প্রতি দয়া হয়তো আপনার নেই কিন্তু আপনার পরিবারের তো আছে।
ঠিক বলেছেন আপনার বাবা শুধু নিজের কথায় ভাবছে। তাই আপনার বাবার টাকা শুধু আপনার বাবাই খরচ করছে। পকেটে চার-পাচঁটা ক্রেডিট কার্ড নিয়ে ঐ বাবার টাকা কে খরচ করছে।
আপনার ঐ স্টান করার জন্য রেসিং কার আর বাইকের জন্য টাকা কোথা থেকে আসছে।….
. (একটু হেসে নিলা) আমি ও পাগলের মতো কাকে বুঝাতে চলছি…যে কিনা শুধু নিজের সার্থ চিনে। যে কিনা নিজের পরিবারের কথা কখনো ভাবেও নি। আপনার মতো বড়লোকের ছেলেরাই পারে এসব বলতে।
আবির রাগে খুব জোড়ে গাড়ি চালাচ্ছিলো…
নিলা : এইখানে আপনার কার স্টান চলছে না এতো জোরে গাড়ি চালানোর প্রয়োজন নেই।
আবির চুপ করে আছে নিলা ও চুপ করে আছে। দুজন দুজনকে আর কিছু বলছে না। নিলার চোখ দিয়ে পানি গরিয়ে পরছে।
নিলা এবং আবির এসে পৌছালো….
নিলার মামা মামীতো অবাক পুরা… এইসময় তাদের এভাবে আসা…
মামী : আরে আবির আসো ভেতরে আসো…কিভাবে আসা হলো..আমাদেরতো ভুলেই গিয়েছো…
শ্রেয়া : (হেসে হেসে) মা আবির ভাইয়া নিলা আপুকে পেয়ে গিয়েছে.. আপু এখন ভাইয়ার সাথেই থাকে… তাই এখন আর এইখানে আসার কি দরকার মনে করে…. তাই না ভাইয়া?
আবির : না মামী তেমন কিছু না…আসলে ব্যস্ততার কারনে আসতে পারিনি।
হাই শ্রেয়া!
শ্রেয়া : হ্যালো……
নিলা তার মামী এবং শ্রেয়াকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগলো..
মামী : কি হলো নিলা কাঁদছিস কেনো..
নিলা : চোখ মুছে… অনেকদিন হলো.. মামী তোমাদের দেখিনা তাই…
মামী আর নিলা ভেতরে গেলো।
মামী : নিলা একটা ফোন দিয়ে আসতি।জামাইটা এসেছে ভালো খাবার দাবারের ব্যবস্থা করা ও হয়নি। আগে বলে দিতি সব রান্না করে রাখতাম।
নিলা : মামী কিছু হবে না… বাসায় কতো কিছু রান্না করে কিন্তু অনি তেমন কিছু খায়না যে কোনো একটা দিয়েই খায় শুধু।
মামী : চুপ! না খেলে ও এভাবে দেওয়া যায় নাকি।তুই যা আবিরের পাশে গিয়ে বস আমি ততোক্ষনে রান্না করেনি।
নিলা : মামী আমিতো এসেছি তোমাদের সাথে কথা বলতে।
মামী : নিলা!! আবির এভাবে একা বসে থাকবে নাকি যা… জিদ করিস না।
মামী ড্রইং রুমে গিয়ে আবির তুমি বসো হে… নিলা তুই ও বস এইখানে।
শ্রেয়া তুই আয় আমার সাথে
আবির : না মামী আমিতো নিলাকে দিতে এসেছি। আমি চলে যাবো।
মামী : চলে যাবা মানে! কতোদিন পরে এসেছো জানো… বসো এইখানে।তোমার মামা জানলে এভাবে খালি মুখে চলে গিয়েছো তাহলে অনেক রাগ করবে। তুমি বসো অনি ও এক্ষুনি চলে আসবে।
আবির : আরে না মামী সমস্যা নেই।অন্য একদিন আসবো আবার।
আবির অনেক জোর করে চলে আসার জন্য কিন্তু নিলার মামী আর শ্রেয়া আবিরকে আসতে দেইনা।
নিলার মামা ও আসে রাতে সবাই একসাথে ডিনার করে।
রাতে আবির বাসায় চলে আসে।
মা : আবির তুই কি খেয়ে এসেছিস।
আবির : হে মা! মামী খাওয়া ছাড়া ছাড়ছে না।
মা : ভালোই তো করেছে। আচ্ছা নিলা কবে আসবে?
আবির : মা! আমি খুব টায়ার্ড… ঘুম পাচ্ছে এখন যায়।
আবির চলে আসে… রুমে।
রুমে আসার পর আবিরের হঠাৎ নিলার কথা অনেক মনে পরছে।
আবির : (ভাবছে) আমার কেনো এতো…মনে পরছে অর কথা।
এখন থেকে আমার পুরা রুম আমার… শান্তি এখন আমার লাইফ।
নিলা ও নেই তারা ও নেই।
কিন্তু নিলা এভাবে না গেলে পারতো…নিলার সাথে তো আমার বিয়ে হয়েছে…
আরে চলে গিয়েছে তো কি হয়েছে… এমনিতেও চলে যাওয়ার কথা।
ঐ দিকে নিলা তার রুমে কাঁদতে কাঁদতে হয়রান হয়ে যাচ্ছে…..
মামী : নিলা কি হয়েছে এভাবে কাঁদছিস কেনো বলবি? নিলা আমার কসম সত্যি করে বল কি হয়েছে?
আবির কিছু করেছে তুকে?
নাকি তোর শাশুড়ি কিছু বলেছে।
নিলা : ( ফুফিয়ে ফুফিয়ে কেঁদেই চলছে)
মামী গিয়ে নিলার মামাকে ঢেকে আনে।
মামা : নিলা দেখ তুই যদি আমাদের না বলিস তাহলে আর কাকে বলবি।
বল কি হয়েছে আবির কিছু করেছে?
নিলা : মামা মামীকে সব খুলে বলে।
মামা আর মামী পুরা অবাক।দুজনেই কেঁদে দেই।তারা নিলার সাথে এটা কেমনি হতে দিলো…
বড় ঘর থেকে নিলার জন্য প্রস্তাব আসায় তারা একবার ও ভেবে দেখেনি….নিলার জন্য এই বিয়ে পারফেক্ট নাকি…. না…
মামা : নিলা তুই আর ঐ ঘরে যাবিনা যা করার এখন আমি করবো…
আবিরের সাথে ও আর কথা বলবিনা।
আবির সকালে ঘুম থেকে উঠলো…কেমন যেন খালি খালি লাগছে রুমটা।
যাক ফ্রেস হয়ে নিচে গেলো।
আবিরের বাবা দাদী ভাবি ভাই…মা সবাই আজ একইসাথে ড্রইং রুমে বসে আছে…
চেহেরা দেখে বুঝা যাচ্ছে তারা অনেক টেনশনে আছে।
আর হিটলার এর চেহেরা হিংস্র প্রাণির মতো টলমল করছে যেন আমাকে সে এখনি খেয়ে ফেলবে।
আবির : কি হয়েছে সবাই এভাবে বসে আছো কেন? মা নাস্তা দাওতো খুব খিদে পেয়েছে।
বাবা : সব কিছু বন্ধ তোর আজ থেকে…এই ঘরে থাকা ও বন্ধ। আমার তো লজ্জা করছে তুকে আমার ছেলে মনে করতে।
আবির : আরে… কি করেছি সেটাতো বলো?
দাদী : কি করেছিস আবির! তুই নিলার সাথে এমন কেমনি করলি। তুই ঐ তারা মেয়েটার জন্য এভাবে বিয়ে করেছিস? বিয়েটা কি পুতুল খেলা ইচ্ছা হলো তো
খেলেছিস না হলো তো ছুরে ফেলে দিয়েছিস।
বাবা : মা ওকে এতোকিছু বুঝিয়ে লাভ নেই চলে যেতে বলো এইখান থেকে।
দাদী : ( আবিরের বাবার কাছে গিয়ে) ছেলে মানুষ কচি মন এখনো….তাই ভুল করে ফেলেছে। বুঝিয়ে বল এভাবে গরম না হয়ে।
বাবা : আরে মা আর কতো বুঝাবো তুমি বলো ছোট বেলা থেকেই ওকে এভাবে ছাড় দিয়ে দিয়ে তুমি খারাপ করেছো…
কিন্তু আজ ও একটা মেয়ের জিবন নিয়ে খেলা করছে।
মেয়েটির মামা আমাকে ফোন দিয়ে কি কি বলেছে জানো…. লজ্জায় তো আমার নাক কাটা গিয়েছে।
(বাবা একটু কাদো কাদো ভাবে)
মা নিলাকে ওর মামা আর দিবেনা বলেছে। না দেওয়ারি কথা যদি আমার মেয়ের সাথে এমন হতো তাহলে আমরা ও ঠিক এমনটা করতাম।
কয়েকদিনের মধ্যে ডিভোর্স পেপার পাঠিয়ে দিবে বলেছে।
আবির : কি! ডিভোর্স পেপার! কিন্তু কেনো….
বাবা : তুই আর কথা বলবি না যা এইখান থেকে বেরিয়ে যা।
ভাবী : বাবা মাথা ঠান্ডা করে কাজ করুন সবাই একসাথে এমন করলে তো চলবে না। আবিরকে বের করে দিলে তো কাজের সমাধান হবে না।
বাবা : ঠিকাছে তাহলে ওকে বলো নিলাকে এই বাড়িতে ফিরিয়ে আনতে।
যদি পারে ঐদিন ওকে বাড়িতে আসতে বলো।
আর যদি না পারে তাহলে আমার চোখের সামনে থেকে দূর হতে বলো….
ভাবী : আবির! যা নিলাকে গিয়ে নিয়ে আয়। তুই বুঝিয়ে বললে নিলা চলে আসবে দেখিস।
আবির কিছু না বলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে চলে আসে।
কিছু বুঝতে পারছে না ঝামেলার উপর ঝামেলা।
নিলাকে নিয়ে যাওয়া ছাড়া হিটলার আবার বাড়িতে ঢুকতে দেবে না।
আবির নিলাদের বাসায় গেলো…
নিলার মামা আবিরকে দেখে খুব রেগে যায়।
মামা: কি জন্য এসেছো এইখানে।
আবির : মামা আমি নিলার সাথে একটু কথা বলতে চায়।
মামা : নিলা এইখানে নেই। যাও এইখানে আর আসবা না। নিলার সাথে কথা বলার চেষ্টা ও করবেনা।
আবির চলে আসে নিলাদের বাড়ির গেইটের বাহিরে।
মাথায় কিছু কাজ করছে না কখন থেকে দাঁড়িয়ে আছে নিলাটা একবারো বারান্দায় আসেনি।
হঠাৎ তার মনে পড়লো শ্রেয়াকে একটা ফোন দিয়ে দেখা যাক।
আবির শ্রেয়াকে ফোন দিলো…
আবির : শ্রেয়া প্লিজ আমাকে নিলার সাথে একটু দেখা করিয়ে দাও।
শ্রেয়া : কিন্তু ভাইয়া বাসায়তো বাবা আছে।
আবির : শ্রেয়া প্লিজ যেভাবেই হোক….প্লিজ একটু ট্রাই করে দেখো।
শ্রেয়া : আচ্ছা একটা কাজ করেন আপনি বাড়ির পিছনের দরজার ঐদিকে আসেন।
আবির শ্রেয়ার কথা মতো পিছনের দরজার ঐদিকে গিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।কিছুক্ষন পরে শ্রেয়া এসে দরজা খুলে আবিরকে ভেতরে ঢুকালো।
শ্রেয়া : ভাইয়া আস্তে আস্তে আসেন বাবা ড্রইং রুমে আছে। আপু রুমেই আছে। শুনেন ভেতরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিয়েন আর দেরি করিয়েন না রুম থেকে বের হওয়ার আগে আমাকে ফোন দিয়েন।
আবির : আচ্ছা ঠিকাছে।
আবিরকে শ্রেয়া রুমে ঢুকিয়ে দিলো নিলা আবিরকে দেখে পুরা অবাক।
নিলা : আপনি এইখানে কেনো এসেছেন? আর মামা জানে? আপনি ভেতরে কেমনি এসেছেন?
আবির : নিলা প্লিজ চেঁচিয়ো না। আমাকে শ্রেয়া মেনেজ করে ঢুকিয়েছে। নিলা তুমি আমার সাথে বাসায় চলো প্লিজ। বাবা দাদী ভাবি মা…সবাই টেনশন করছে।
নিলা : হ্যাঁ করুক… তাতে আমার কি…
আর আমি আপনার সাথে কেনই বা যাবো
আমি আপনার কি…
আপনি আমার কি বা হন যে আপনার সাথে যাবো…
আবির : নিলা দেখো ফাইজলামো করিও না চলো তোমার মামা না দেখার আগে বেড়িয়ে পড়ি।
নিলা : ( একটু হেসে)আজব তো….আপনার সাথে আমি কেনো….যাবো
আবির নিলাকে কিছু বলতে চেয়ে ও বলেনি।
নিলা বুঝতে পেরে… আবির! আপনি কি আমাকে কিছু বলতে চাচ্ছেন?
আবির নিলার দিকে তাকিয়ে আছে…আর মনে মনে ( নিলা তোমাকে তো আমি নিয়ে গিয়েই ছাড়বো আজ হোক বা কাল হোক)
নিলা : কি দেখছেন হা করে। আর আপনি যান এইখান থেকে… মামা দেখলে রেগে যাবে।
আবির : ঠিকাছে ডাকো তোমার মামাকে আমি ও দেখি অনি কতো রাগতে পারে।
নিলা : ঠিকাছে বসে থাকেন আমি গেলাম।
আবির নিলার হাত ধরে ফেললো…
নিলা : (রেগে আবিরের দিকে ফিরে..).
হাত ছাড়ুন আমার। কোন অধিকারে আমার হাত ধরেছেন।
আবির : (ভয় মুখে) ওকে রিলেক্স…
নিলা কি হয়েছে তোমার.. তুমি আমার সাথে এমন কেনো করছো..
নিলা : ডিভোর্স পেপার পেয়ে যাবেন কয়েকদিনের মধ্যে সাইন করে দিবেন।
আবির : (অবাক চোখে নিলার দিকে চেয়ে) নিলা r u sure….?
নিলা : Excuse me..! এইখানে শিউর হওয়ার কি আছে হুম… এটাইতো নিয়ম ছিলো তাই না কন্ট্রাক্ট পেপারে।যখন আমি রুলস ফলো করিনি তখন তো দুনিয়াকে তুলে বসিয়েছেন। আর এখন যখন ফলো করছি তাতে আপনার সমস্যা হচ্ছে।
আবির : নিলা তখন পজিশন অন্যরকম ছিলো… আসলে আমি বুঝতে পারিনি।
আর…
নিলা : আর কি…….????
আবির : আর কিছু না…. এখন কি যাবা নাকি না…
নিলা : (মনেমনে যতোদিন মুখ ফুটে নিজের মুখে বলবেন না… আমিও আর যাবো না।😏
এটাই আমার ডিসিশন। আমি আর ঐ খাট সোফা শেয়ার করে থাকার জীবন কাটাতে পারবো না আমাকে নিজের বউ মেনে নিয়ে গেলে যাবো আর নয়তো যাবো না। ) এক কথা বার বার বলতে ভালো লাগে না আবির।😐
আবির রেগে গিয়ে দরজা খুলে সবার সামনে থেকে বেরিয়ে যায়।
মামা : নিলা! ও এইখানে কিভাবে ঢুকেছে? আমি না বারন করেছি আবিরের সাথে কথা না বলার জন্য।
আমি একবার নষ্ট করেছি তোর জীবন আর করতে চায় না।
নিলা কেঁদে রুমে ঢুকে পড়ে।
আবিরের মাথায় কিছুই আসছে না
কি করবে…
একটা রেষ্টুরেন্টে গিয়ে কফি খেতে বসলো…
হঠাৎ নিলার সাথে কাটানো দিন গুলো মনে পরছে আর আবির নিজে নিজে হাসছে।
হঠাৎ আবিরের মাথায় একটা বুদ্ধি এলো…
ভাবছে নিলার বাসায় চুরি করে গেলে কেমন হয়।
কিন্তু কেমনি যাবে ঐখানে ও তো আরেক হিটলার আছে…
আরে যা হবে দেখা যাবে আমি কি অন্য কাউকে নিতে যাচ্ছি আমিতো আমার বউ কে নিতে যাচ্ছি। (মনে মনে একটু হেসে উঠে) আমার বউ? Yeah right nila is my wife…… হা হা হা…
আবির : (নিলার বাসার সামনে এদিক ওদিক তাকাচ্ছে কেউকে দেখতে পায়না।
রাত প্রাই দুটো বাজে। বাসায় ও যায়নি
ক্ষিদে ও পেয়েছে।)
(মনে মনে তারার সাথে প্রেম করতে এতো কষ্ট হয়নি যতোটুকু না নিজের বউয়ের সাথে করতে কষ্ট হচ্ছে।)
আবির শ্রেয়ার ফোনে কল দিলো…কিন্তু রিসিভ করছে না।
শ্রেয়া আর নিলা একসাথে ঘুমিয়েছে।শ্রেয়া ঘুম চোখে আবির কল দিয়েছে দেখে ফোনটা নিলাকে ধরিয়ে দেই।
নিলা ও ঘুম চোখে ফোনটা ধরে
নিলা : হ্যালো…
আবির : ( দাবানো কন্ঠে) হ্যালো শ্রেয়া আমি আবির।
নিলা : (হঠাৎ লাফিয়ে উঠে বসে…) আবির!! আপনি?? এতো রাতে ফোন দিলেন কেনো?
আবির : (খুশি হয়ে) ওহ! নিলা তুমি ভালো হয়েছে তুমিই রিসিভ করেছো। নিলা আমি তোমাদের বাড়ির পিছনে দরজার ঐদিকে আছি। তুমি একটু আসো…
নিলা : ( অবাক হয়ে) কি!! আপনি কি বাংলা সিনেমার নায়িকা পাইছেন আমাকে হে?
আবির : আরে ধুর… বাংলা সিনেমার নায়িকা হতে যাবা কেনো…. আসো না প্লিজ…. প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ প্লিজ…
নিলা : আচ্ছা হয়েছে…আসছি।
নিলা আস্তে আস্তে দরজা খুললো..
আবির নিলাকে দেখে খুব খুশী হয়ে যায়।😁
নিলা : কি হয়েছে দাত বত্রিশ টা একসাথে এভাবে দেখায় রাখলেন কেনো..😐
আবির : নিলা! তুমি কিন্তু বেশী ভাব নিচ্ছো.. বুঝেছো…😏
নিলা : আর এতো রাতে চোরের মতো এইখানে কেনো এসেছেন..
আবির : নিলা আমি তোমাকে কিছু বলতে চাই।
নিলা : ( উত্তরের দৃষ্টিতে চেয়ে) হে বলেন।
আবির : (অনেক্ষন ট্রাই করে বলার জন্য কিন্তু সাহস পাচ্ছে না।)…. আচ্ছা তুমি ডিনার করেছো..😳
নিলা : এটা বলার জন্য এতো রাতে এইখানে ঢেকেছেন।😳
আবির : হে কেনো এটা কি জিজ্ঞেস করা যায়।
নিলা : (বিরক্ত বোধ করে) আবির! আপনি এখন যান আমার অনেক ঘুম পাচ্ছে।
এই বলে নিলা দরজা বন্ধ করে দেই।
আবির ও মন খারাপ করে চলে যায়।
অনেক কষ্টে ভাবীকে মেনেজ করে বাসায় ঢুকে রুমে যায়।
সকাল হলে আবিরের বাবা জিজ্ঞেস করে আবির বাসায় এসেছে নাকি।
আবিরের মা বলে.
মা : বাসায় আসবে না তো কোথায় যাবে… এটা ওর ও বাসা।
বাবা : এভাবে করে করেইতো ওকে মাথায় তুলে ফেলেছো…
সকালে উঠে আবির ফ্রেশ হয়ে তার ভাবির কাছে যায়।ভাবি রান্নাঘরে নাস্তা বানাচ্ছে।
আবির : (দুষ্টুমির ভংগিতে) ভাবি ডিয়ার হাই…..
ভাবি : আবির! তুই আজ এতো তাড়াতাড়ি।
আবির : ভাবি ডিয়ার আমার কি ঘুম হচ্ছে তুমি বলো…
ভাবি : হে তাই তো এভাবে… বিয়েটা করেছিস শয়তান ।
আবির : আরে ভাবি… তখন পজিশন একরকম ছিলো… আমি বুঝিনি।
ভাবী : কিন্তু আমিতো তোকে বুঝিয়ে ছিলাম তাই না।
আবির : উফফ ভাবি রাখো তো এখন তোমার একটা হেল্প লাগবে…আমার।
ভাবী : দেখ আমি আর তোর এসব কিছুতে পড়তে চাই না।
আবির : ভাবী ডিয়ার… তুমি এটা বলতে পারলা…
ভাবী : আচ্ছা বল কি করতে হবে।
আবির : ভাবী! তুমি নিলাকে ফোন দিয়ে বলবা যে আমি খুব অসুস্থ হয়ে পড়েছি।আমাকে হসপিটাল নিয়ে যেতে হচ্ছে।
ভাবী : (রেগে গিয়ে) আবির! তুই কিন্তু অভার করে ফেলছিস।
আবির : ভাবী! ভাবী! ভাবী! আমি বললে ও বিশাস করবে না তুমি বললে করবে তাই…. কিছু হবে না এটাই একটা চান্স। নিলাকে বাসায় আনার।
ভাবী প্লিজ প্লিজ প্লিজ… প্লিজজজ….
ভাবী : আচ্ছা ঠিকাছে।
ভাবী ফোন দিলো নিলাকে।
নিলা: হ্যালো…
ভাবী : নিলা প্লিজ তুমি বাসায় একটু আসতে পারবা তাড়াতাড়ি।
নিলা : কি হয়েছে ভাবী? বাসায় কিছু হয়েছে।
ভাবী : নিলা! আবির খুব অসুস্থ সে তোমাকে ছাড়া হসপিটাল যাচ্ছে না…
নিলা : কি! হসপিটাল কি হয়েছে ওনার… আমি আসছি ভাবী….
ভাবী : নিলা! এতো প্রশ্ন না করে তাড়াতাড়ি এসো প্লিজ।
এই বলে ভাবী ফোন কেটে দিলো…
নিলা কিসের উপরে বাসা থেকে বের হলো
সে নিজে ও জানে না।
এদিকে আবির নিলার অপেক্ষায় বসে আছে। প্রায় দু ঘন্টা হয়ে গেলো নিলা এখনো আসেনি।
আবির : (ভাবছে) কি বেপার নিলার তো এতোক্ষনে এসে যাওয়ার কথা। তার মধ্যে আমি অসুস্থ বলেছি তাহলেতো আরো আগে আসার কথা।
ভাবী আবিরের রুমে আসে আবিরকে চা দিতে..
ভাবী : কি বেপার আবির নিলা এখনো আসেনি যে… ফোনে কথা বলে তো এমন লেগেছে যেমনকি সে উড়ে আসতে পারছে না।
তবে এতো লেট হচ্ছে কেনো…
আবির : (চিন্তিত মুখে) হে ভাবী আমি ও তা ভাবছি।
ভাবী : আবির নিলাকে এভাবে ডাকাটা ঠিক হয়নি বোধ হয়।
একবার ফোন দিয়ে দেখবি।
আবির : না ভাবী! আর কিছুক্ষন দেখি হয়তো ট্রাফিকে আটকে পড়েছে।
হঠাৎ ভাবীর ফোন বেজে উঠলো..নিলার ফোন দেখে ভাবী তাড়াতাড়ি রিসিভ…করে
কিন্তু ফোনে হ্যালো যে বললো সেটা নিলার কন্ঠ নয় একটা ছেলে লোকের কন্ঠ।
ভাবী : হ্যালো আপনি কে…এটাতো নিলার নাম্বার।
আবির ভাবীর থেকে ফোনটা কেরে নিয়ে
আবির : হ্যালো… কে আপনি?
জি! এটা আমার নাম্বার না। এইখানে একটা মেয়ে এক্সিডেন্ট হয়েছে।এটা তার ফোন। লাস্ট কল যার ছিলো তাকেই ফোন দিয়েছি।
আবিরের কলিজাটা মোচোর দিয়ে উঠলো….শরীর কাপা শুরু করলো…
ভাবী : আবির কি হয়েছে…
আবির ফোনের মানুষটা থেকে কোন জায়গায় আছে ওটা জেনে তাড়াতাড়ি দৌড় দিলো….
ভাবী : আরে আবির কোথায় যাচ্ছিস… কি হয়েছে…
আবির : (কাদো কাদো ভাবে) ভাবী নিলার এক্সিডেন্ট হয়েছে।তুমি বাসায় এখন কিছু বলিওনা আমি ঐখানে গিয়ে ফোন করে জানাচ্ছি।
ভাবী মুখ দিয়ে কিছু বলার আর সময় পায়নি আবির খুব তাড়াহুড়ো করে চলে গেলো…
ভাবীর ও খুব টেনশন হচ্ছে আবিরতো এটা চায়নি।এটা কেনো হলো…
আবির গিয়ে দেখে নিলাকে তারা একটা চায়ের দোকানের বেঞ্চের উপর শুয়ে রেখেছে।
আবির তাদের উপর খুব রেগে যায়…
আবির : ওনাকে কেউ হসপিটাল নিয়ে যায়নি কেনো…
একজন লোক বলে উঠে…
দেখেন আমরা উনাকে অনেক জোড় করেছি অনি হসপিটাল নিয়ে যেতে দেইনি। শুধু বলছে উনাকে নাকি একটা টেক্সি ঠিক করে দিতাম অনি নাকি ওনার হাজবেন্ডের কাছে যাবে…
আবির তাড়াতাড়ি নিলার কাছে গিয়ে…
আবির: নিলা তুমি কি পাগল… হসপিটাল যাওনি কেনো…
নিলা কিছু বলতে পারছে না…নিলার মাথার পিছনে আর পায়ে আঘাত পেয়েছে। চেহেরা দেখে বুঝা যাচ্ছে মাথা থেকে ব্লাড বের হওয়ায় কিছুক্ষন পরেই বেহুশ হয়ে যাবে…
আবির : (নিলাকে কোলে তুলে নিলাম…
হসপিটাল নিয়ে গিয়ে..ডাক্তারকে আর একমিনিট ও লেট করতে দেইনি।
অবশ্য ডাক্তার আমাকে ভালো করে চেনে দাদীকে নিয়ে বার বার আসতে হয়। এইখানে….তাই।
নিলাকে নিজেই কোলে করে ড্রেসিংরুমে শুয়ে দিয়ে আসি।
তেমন বড় এক্সিডেন্ট হয়নি….ভয় পাওয়ার কিছু নেই ডাক্তার বলছে…
তবুও মনকে বুঝাতে পারছি না।
কারন নিলার আজ এই অবস্থার জন্য দায়ী আমি।
ভাবীকে ফোন দিলাম টেনশন করতে নিষেধ করলাম।
ভাবীকে ভাবী বললে ও মানায় না আমার মায়ের চেয়ে ও বেশি আদর করে আমাকে…
প্রায় আধঘন্টা পরে ডাক্তার এসে বলে…
পায়ে আঘাত পেয়েছে তাই একটু রেস্ট নেওয়ার জন্য হাটাচলা কম করতে বলেছে কয়েকদিন।
মাথার পিছনে আঘাত পেয়েছে তাই ড্রেসিং করে দিয়েছে সেলাই করতে হয়নি।
ডাক্তারকে বললাম নিলাকে নিয়ে যেতে পারবো নাকি।
ডাক্তার : দূর্বল হয়ে যাওয়াতে পেশেন্টকে একটা সেলাইন দিয়েছি ২/৩ ঘন্টা রেখে নিয়ে যেতে পারবেন।
নিলার কাছে গেলাম…আমাকে দেখে চোখ দিয়ে পানি ঝরতে লাগলো…
বুঝতে পারলাম খুব কষ্ট হচ্ছে নিলার..
নিলার কাছে গিয়ে পাশে বসলো আবির।
আবির : কেমন লাগছে নিলা তোমার এখন।
নিলা : ( কিছু বলছে না মাথাটা ওপাশ ফিরিয়ে নিলো…. আর কেঁদেই চলছে।চোখ দিয়ে গড়িয়ে গড়িয়ে পানি পড়ছে…)😭
চোখের একপাশের পানি মুছিয়ে দিলাম। আমার হাতটা ধরে সরিয়ে দিলো…আমি পানি না থাকা সত্ত্বেও আবার চোখের নিচে হাত দিয়ে মুছে দিচ্ছি আর নিলা বার বার সরিয়ে দিচ্ছে হাতটা।
আবির : নিলা! এমন কেনো করছো…. হাত নাড়িও না। তখন রক্ত বের হবে…
রেগে আছো এখনো….?😳
(সেটা বলাতে আরো ফুফিয়ে ফুফিয়ে কাঁদা শুরু করলো)
আবির : নিলা! রিলেক্স এভাবে কাঁদছো কেনো…
আমি জানি আমি যে ভুলটা করেছি ওটার জন্য যদি লক্ষবার ও সরি বলি তাহলে ও শোধ হবে না। তাই তুমি আমাকে যে শাস্তিটা দেবে ওটাই মেনে নিবো…।😞
অনেক্ষন পরে নিলা বলে উঠে..
নিলা : আমাকে একটু ওঠে বসাবেন?…
আবির নিলার পিছনে বালিশ দিয়ে হেলান দিয়ে বসালো নিলাকে।
আবির : বসতে পেরেছো.. নাকি অসুবিধা হচ্ছে…?
নিলা : পেরেছি।
আবির : ডাক্তার বলেছে হাটাচলা না করতে… রেস্ট নিতে আর ঠিকমতো ঔষধ খেতে…এতে তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে যাবে…
নিলা : ভাবী বলেছিলো আপনি নাকি অসুস্থ?
আবির : নিলা! আমার কিছুই হয়নি আমি পুরোপুরি সুস্থ… তোমাকে বাসায় আনার জন্য ভাবীকে দিয়ে জোড় করে তোমার কাছে মিথ্যে বলিয়েছি।😞
কিন্তু নিলা বিশ্বাস করো আমি এটা চায়নি।এমন কিছু হবে জানলে আমি কখনো বলতাম না।😔
নিলা : মিথ্যা বলাটা আপনার একটা পেশা হয়ে গেছে তাই না?😧
আবির : নিলা আমিতো তোমাকে বলেছিলাম যে আমার সাথে চলে এসো কিন্তু তুমি আসোনি। তাই এটা বলতে বাধ্য হয়েছি।😒
নিলা : কেনো আসবো আপনার সাথে…
সোফায় থাকার জন্য।আমি সোফায় থাকবো না আমাদের বাসায় খাট আছে So বাসায় খাটেই থাকবো..😐
আবির : না! না! সোফায় থাকতে হবে না তুমি খাটেই থাকিও বরং আমি সোফায় থাকবো….😉
নিলা : আমি খাটে একা থাকতে পারিনা ভয় করে…😒বাসায় তো শ্রেয়ার পাশে থাকি তাই ভয় করে না।
আবির : 😊(একটু মুচকি হেসে)…. আচ্ছা ভয় না পাওয়ার ব্যবস্থা করে দিবো…☺😁
নিলা ও লজ্জা পেয়ে একটু মুচকি হেসে ওপাশ ফিরে গেলো…😂
আবির : তুমি একটু বসো আমি এক্ষুনি আসছি।
নিলা : (ভয় মুখে)আরে…কই যাচ্ছেন আমি একাতো…😒
হসপিটালে অনেকে মারা যায় না…তাদের আত্মা গুলো চারদিক ঘুরে বেড়ায় নাকি।😖
আবির : (একটু হেসে… ) কে বলেছে এসব? সব ফালতু কথা।😂
নিলা : না! সত্যি আমি টিভিতে দেখেছি।😖
আবির : টিভিতে কি সত্য জিনিস দেখায় নাকি তারা তো অভিনয় করে..😊
নিলা : কিন্তু….
আবির : বাসায় যাবা নাকি এইখানেই থাকবা আত্মাদের সাথে…😂
নিলা : না না! এইখানে কেনো থাকবো বাসায় যাবো…
আবির : So বাসায় যাওয়ার ব্যবস্থায় করতে যাচ্ছি।ডাক্তারকে ঢেকে তোমার সেলাইনটা খুলতে হবে..😊
নিলা : আচ্ছা.. তাড়াতাড়ি আসবেন কিন্তু।😒
আবির : (হেসে হেসে) ১-২০ পর্যন্ত গুনো এর মধ্যেই চলে আসবো…😊
নিলা ও আবিরের কথা শুনে হেসে দিলো।😄
আবির কিছুক্ষন পর ডাক্তারকে নিয়ে আসলো…
ডাক্তার নিলাকে ঔষধ খেতে বলেছে ঠিকমতো আর কয়েকদিন রেষ্ট করতে বলেছে… আর পায়ে পারলে তেল দিয়ে একটু মালিশ করতে বলেছে… এতে তাড়াতাড়ি হাটতে পারবে। .
নিলার জন্য ডাক্তার ওয়ার্ডবয়কে দিয়ে উইল চেয়ার পাঠাচ্ছে বললে আবির নিষেধ করে দেয়।
ডাক্তার চলে যায়…
আবির এসে নিলাকে কোলে তুলে নেই।😱
নিলা : 😱পাগল নাকি আপনি…😨 কি করছেন মানুষ হাসবে দেখলে…😳
আবির : তো হাসুক!😁
নিলা : হাসুক মানে! আমার লজ্জা লাগবে সবার সামনে…😮
আবির : তো লাগুক!😂
নিলা : আবির রাখেন আমাকে আমি আস্তে আস্তে হেটে যেতে পারবো..
আবির : রাখবো না….!😎
এই বলে আবির নিলা কে নিয়ে বেরিয়ে পরলো
অনেকে তাকিয়ে আছে আমাদের দিকে…কিন্তু নিলার পা দেখে বুঝতে পারছে কেন নিয়েছি।
নিলা অনেক লজ্জা পাচ্ছে অবশ্য…
কিন্তু মনে মনে অনেক খুশি।😘
আবির : নিলা তোমার ওজনটা কতো বলবা?😜
নিলা : (আবিরের দিকে তাকিয়ে.).. এইতো… ৪০/৪৫ হবে….আরকি।
আবির : মেয়েরা তাদের সত্যিকারি ওজন বলে না কেনো…😂
নিলা :😠 কি! আপনি কি বলতে চাচ্ছেন আমি মিথ্যা বলছি আমি কি অনেক ভারী…😐
আবির : (হেসে হেসে.).. আরে না…তুমিতো অনেক হালকা…আমার তো মনে হচ্ছে ৪০/৪৫ ও হবা না এর চেয়েও কম হবা ২০/২৫ কে.জি হতে পারো…😂
নিলা : বুঝছি তো আমি আপনি বোঝাতে চাচ্ছেন যে আমি অনেক ভারী তাহলে নিয়েছেন কেন আমাকে।আমি কি নিতে বলেছি।😏
আবির : তো নিবো না আমি না নিলে আর কে নিবে….😉
(নিলা আবিরের দিকে চেয়ে আছে আবির সেটা বুঝতে পেরে) মানে এটা বুঝাচ্ছি যে তুমি তো আমার সাথে এসেছো হসপিটালে, তো আমার থেকেই তো নিয়ে যেতে হবে….😁😉
আবির নিলাকে নিয়ে গাড়িতে🚘 বসালো….
বাসায় পৌছানোর পর…
আবির নিলার দিকে আসে গাড়ির দরজাটা খুললো…
নিলা : অবাক হয়ে… আবার নিবেন কোলে….?😨
আবির : তো?
নিলা : দেখেন আমার কিন্তু অনেক লজ্জা লাগছে… বাসায় দাদী…ভাবী মা সবাই থাকবে..😳
আবির : তো?😉
নিলা : পাগল নাকি তো তো করছেন কেনো…
আমিতো অনেক ভারী কোলে নিবেন কেনো আমাকে…
আবির নিলাকে কোলে তুলে নিলো….
আবির : তো হচ্ছে…. তুমি ৫২/৫৪ কে.জি. হবা রাইট?
নিলা : ৫৪….. কেমনি বুঝলেন…?
আবির : কোলে কে নিয়েছে আমি নাকি তুমি…?😂
নিলা : হাউ ব্রিলিয়ান্ট…☺
আবির : (হাহাহা) তাতো অনেক আগে থেকে..😉
বাসায় আসলে মা- দাদী নিলাকে এই অবস্থা দেখে…. হাজার প্রশ্ন একসাথে…জিজ্ঞেস করছে…
আবির :😬 আগে ভেতরে তো আসতে দাও তারপর সব বলছি।
দাদী আর মা কে সব খুলে বলি।
দাদী আমার কানটা ধরে টেনে দিলো…
আর নিলা হাসছে…☺
দাদী : যদি আজ বড় কিছু হয়ে যেত শয়তান।😠
আবির : দাদী আমি কি ইচ্ছা করে করেছি আমি কি জানতাম নিলার এই অবস্থা হবে…😒
দাদী : নিলা ভালো করেছিস তুই এইখানে চলে এসেছিস…তুকে ছাড়া পুরো ঘরটা খালি খালি লাগছিলো….
ঘরের বউ ঘরে না থেকে অন্য জায়গায় থাকলে মানায় নাকি…
নিলা : দাদী বাবা আসলে বলবেন আমি বাসায় শিরি থেকে পরে ব্যথা পেয়েছি।😳
দাদী : হেসে হেসে হুম জামাইকে বাচিয়ে নিচ্ছিস তাই না…😂
নিলা : না দাদী বাবাতো জানেন…কেমন..বুঝবে না… রেগে যাবে..
দাদী :হে আবিরের উপর ও অনেক রেগে যাবে ঠিক বলেছিস। তখন আবার শুরু করবে আবিরকে বেরিয়ে যেতে বলো… হা হা হা…
আচ্ছা রেস্ট কর এখন তুই… আমি যায়।
ভাবী নিলার জন্য খাবার এনে দেই…
নিলা খেয়ে শুয়ে পরে….
একঘুমে একেবারে সন্ধায় চোখ খুলে….
দেখে আবির নিলার পাশেই বসে আছে..
আবির : গুড ইভিনিং…. আপনার চোখ খুলার অপেক্ষায় করছিলাম..😊
নিলা : ( অবাক হয়ে..) এতোক্ষন ঘুমিয়েছি আমি….আমাকে ঢেকে দেননি কেনো…😳
আবির : নিলা তোমার মামা এসেছিলো…
বাবা ও রুমে এসে তোমাকে দেখে গিয়েছে তুমি ঘুমে ছিলে তাই জাগায় নি…
নিলা : আরে হে… আমিতো মামা মামীকে বলেও আসিনি… ওরা আমাকে পাগলের মতো খুজেছে মনে হয়…মামা কি বলেছে আপনাকে?
আবির : দাদী বুঝিয়ে বলেছে মামাকে…তারপর তোমার খেয়াল রাখতে বলে চলে গিয়েছে।
নিলা : আপনার মোবাইলটা একটু দিবেন? কথা বলবো… মামার সাথে..
আবির নিলাকে মামা মামী শ্রেয়া সবার সাথে কথা বলিয়ে দিলো…
রাতে সবাই খেয়ে ঘুমাতে আসলো…
আবির একটা বাটি করে তেল এনে নিলার পায়ে মাঝতে শুরু করলো
নিলা : আরে আরে…করছেনটা কি…😳
আবির : ডাক্তার বলেছে তাই…
নিলা : কিন্তু আপনি আমার পা ধরবেন এটা ভালো দেখাচ্ছে না।😞
আবির : ভালো দেখাবেনা কেনো আমি কি এইখানে ফোটো শুট করছি?
নিলা ও আর কিছু বলেনি…ভালোই লাগছে… আবিরের স্পর্শে…
নিলা : অনেক্ষন হয়েছে এবার ঘুমিয়ে পরেন।
আবির : কোথায় ঘুমাবো?
নিলা : কোথায় ঘুমাবো মানে…?
আবির : না মানে! আমি ও খাটে শুলে কি কোনো প্রবলেম হবে… 😜 মানে! তুমিতো বলেছো তোমার নাকি একা শুতে ভয় লাগে…😉
নিলা : (একটু হেসে… মনে মনে এতোদিনে লাইনে আসছে হাদারাম
হি-হি-হি.) না… প্রবলেম নেই তবে হ্যাঁ …
খেয়াল রাখবেন যাতে আমার গায়ে হাত না লাগে….😎
আবির : (আস্তে আস্তে) এমন ভাব করছে যেনো এর আগে আর ধরিনি…😏
নিলা : কি বললেন… বিরবির করে…😡
আবির : না বলছি হ্যাঁ মনে থাকবে….😁
দুজনেই একসাথে খাটে শুয়ে পরে..
সকালে ঘুম থেকে উঠে নিলা দেখে নিলার কোমরের উপর আবিরের হাত।
নিলার ভালোই লাগছে।
নিলা ও হাতটা উপরে করে আবিরের দিকে ফিরে আবার তার কোমরের উপর রেখে দিলো।
অনেক্ষন তাকিয়ে আছে আবিরের ঘুমন্ত চেহেরার দিকে… চুল গুলো কপালের মধ্যে নেমে গেছে…
আবিরের হেয়ার স্টাইলটা হচ্ছে অন্যরকম সামনে কিছু নামিয়ে রাখে আর কিছু খারা করে রাখে… অবশ্য হেয়ার স্টাইলটা আবিরকে দারুন মানায়।
এখন কিন্তু আবিরের সব চুল কপালের মধ্যে নামানো…
আবিরের চুল গুলো নিলা হাত দিয়ে উপরে তুলে দিলে আবিরের ঘুম হালকা হালকা ভেংগে যায়…
নিলাকে আবির আরো টেনে ঝরিয়ে ধরলে আবিরের হঠাৎ মনে পরে….সে কাকে ঝরিয়ে ধরে আছে…
চোখ খুলে দেখে নিলা তারদিকে টেপ টেপ চোখে চেয়ে আছে..
আবির হঠাৎ হাত সরিয়ে উঠে বসে…
আবির : সরি! নিলা আসলে ঘুম ছিলাম তো তাই খেয়াল করিনি।
নিলা : খেয়াল করেননি কেনো খেয়াল করার দরকার ছিলো আমি আপনাকে রাতে বলে দিয়েছিলাম যাতে আমার গায়ে হাত না লাগে… আর আপনি তো একদম…..
আবির : তুমি বলেছিলা না! তোমার ভয় করে তাই… তোমার যাতে ভয় না করে তাই আরকি…
নিলা আবিরের দিকে চেয়ে আছে… আর মনে মনে হাসছে…
আবির ও একটা মুচকি হাসি দিয়ে ওয়াসরুমে চলে গেলো ফ্রেশ হতে…
ওয়াসরুম থেকে বেরিয়ে দেখে নিলা এখনো বসে আছে…
আবির : কী বেপার ফ্রেশ হয়ে নাও.. নাস্তা করবানা… তোমার সকালের ঔষধ খেতে হবে তো….
নিলা বসে আছে… কিছু বলছে না।
আবির : নিলা! আর ইউ ওকে…
নিলা : হুম!
আবির : তো কিছু বলছো না কেনো…
নিলা : কি বলবো…
আবির : (একটু হেসে)এটা বলবা আরকি আমি ওয়াসরুমে হেটে যেতে পারবো না পৌছে দিন।
নিলা : আবিরের দিকে তাকিয়ে হেসে দিলো।
আবির নিলাকে কোলে তুলে নিয়ে ওয়াসরুমে দিয়ে আসলো…
আবির : কোলে উঠবে না বলে বলে কইবার উঠেছো মনে আছে…
নিলা: বডিটা আর কেনোই বা বানিয়েছেন।
আবির : হেসে হেসে হে তা ঠিক বলেছো…তবে হেল্প লাগবে সেটা বললেই পারতে..
নিলা : দেখেন আর হেল্প এর দরকার নেই যান গিয়ে ভাবীকে ঢেকে দেন।
আবির : ভাবীকে কেনো লাগবে… আমি আছিনা বলো কি করতে হবে…
নিলা : কি! আপনি?….. ছিঃ…..
আবির : হা-হা-হা ওকে ওকে রিলেক্স..just joking….
নিলা : হুম এবার যান।
আবির গিয়ে ভাবীকে ঢেকে দেই…
ভাবী নিলাকে ফ্রেশ হতে সাহায্য করে…
নিলার জন্য খাবার রুমেই নিয়ে আসলাম।
প্রায় ২০/২৫ দিন লাগলো নিলার পা ঠিক হতে…
এখন নিলা হাটতে পারে…তবে পা পুরোপুরি ঠিক হয়নি ব্যথা আছে এখনো..
আবির : (মনে মনে নিলা এখন মোটামুটি সুস্থ তাহলে নিলাকে আজ বলে দিলে ভালো হয়।)
আবির আজ সারাদিনো বাসায় আসেনি।
দাদী থেকে জিজ্ঞেস করলে দাদী বলে বিকেলে এসেছিলো দেখেছি ছাদে উঠতে…
কিছুক্ষন পরে ছাদ থেকে নেমে চলে গেলো..
কিন্তু এখন তো সন্ধ্যা এইসময় একা ছাদে যাওয়া সম্ভব না।
ফোন দিচ্ছি তা ও রিসিভ করছে না।
প্রায় রাত ১২:৪৫ এর দিকে আবির বাসায় আসে..
নিলা : কোথায় ছিলেন সারাদিন…? এতোবার ফোন দিয়েছি ফোনটা ও রিসিভ করছেন না।এটা কি বাসায় আসার সময়?
আবির : চার্জ ছিলোনা ফোনের।
নিলা : আবারো মিথ্যে! । ফোনের চার্জ শেষ হলে তো ফোন অফ হয়ে যাওয়ার কথা কিন্তু আপনার ফোনে তো রিং যাচ্ছিলো।
আবির : আচ্ছা বাসার সবাই কি ঘুমিয়ে পড়েছে…
নিলা : (রাগান্বিত ভাবে) না সবাই আপনার সাথে লুডু খেলার জন্য বসে আছে না ঘুমিয়ে।
আবির : (হেসে দিলো নিলার কথা শুনে)
নিলা : মা অনেক্ষন বসে ছিলো আপনার জন্য….
আপনার মা অসুস্থ মানুষ জানেন যে
অনি আপনার জন্য টেনশন করে বাসায়
তাড়াতাড়ি না আসলে।
আপনি তাও এমন করেন কেনো… আসলে আপনি কখনো বদলাতে পারবেন না।
আবির : একটু হেসে (মনে মনে মাকে তো ফোন করে বলেছি তা ও অপেক্ষা করার কি দরকার ছিলো…)
নিলা : আজব তো আমি বক বক করেই যাচ্ছি আর আপনি হাসছেন আমাকে কি আপনার জোকার মনে হচ্ছে। আমি কি আপনার সাথে কমিডি করছি।
আবির : তুমি রাগলে অনেক সুন্দর দেখায়।
নিলা মুখ ভেঙিয়ে চলে যাচ্ছিলো…
আবির পিছন থেকে এসে নিলাকে কোলে তুলে নিলো…
নিলা : কি করছেনটা কি? আমি এখন হাটতে পারি।
আবির : হে দেখছি তোমার ওজন ৫৪ থেকে কমেছে নাকি বেড়েছে…
নিলা : (আবিরের দিকে তাকিয়ে রইলো)
আবির : কি দেখছো…?
নিলা : কিছু না! এবার নামান।
আবির : (হেসে) নামানোর জন্য তুলেছি নাকি..
নিলা : তাহলে?….
আবির : চলো ছাদে যাবো….
নিলা : এতোরাতে? আবারো? আবির! মা জানলে বকা দিবে….
আবির : জানবে না!
আবির নিলাকে নিয়া ছাদে উঠলো…
ছাদে উঠার পর নিলা যা দেখেছে তা সে কখনো কল্পনা করেনি।
দেখে নিলার চোখ দিয়ে পানি চলে আসে…
খুব সুন্দর করে ফুলের মধ্যে লাইটিং করে লিখা আছে I LOVE U..
নিলা আবিরের দিকে তাকালে…
আবির নিলার চোখের পানি মুছে দিলো…
নিলা আবিরকে খুব শক্ত করে ঝরিয়ে ধরে…
আবির ও নিলাকে ঝরিয়ে ধরে..
তখন লাগছে পৃথিবীটা পুরা যদি ও একহাতে এনে দেই তা ও এতো আনন্দ লাগবে না…যে আনন্দ আজ লাগছে।
আবিরের শার্ট পুরাটা ভিজেই যাচ্ছে নিলার চোখের পানিতে।
পাগলীটা ফুফিয়ে ফুফিয়ে কেঁদেই যাচ্ছে।
আবির : নিলা! কাদঁছো কেনো এভাবে..
নিলা : আপনি I love u বলেছেন তাই।
আবির : হা হা হা… পাগলী সেটা বললে কি কাঁদতে হয়?
আচ্ছা হয়েছে আর কাঁদতে হবে না এবার এদিকে তাকাও
হঠাৎ কারেন্ট চলে যাওয়াতে চারদিক থেকে আলো চলে যায়…
নিলা আবিরকে আরো শক্ত করে ধরে রাখে… আবির বুঝতে পারে নিলা ভয় পাচ্ছে তাই সে মোবাইল বের করে আলো জালালো..
নিলা : আবির রুমে চলেন…
আবির : ভয় লাগছে….? আমি আছিতো…
নিলা : হুম।
আবির : আচ্ছা চলো রুমে.!
দুজনে রুমে গেলো….
নিলা : আপনি খেয়েছেন?
আবির : না! তুমি?
নিলা : হে খেয়েছি! খাবার দিচ্ছি খেতে আসেন।
আবির খেতে বসলো…
আবির : নিলা তুমি আমাকে ফেলে খেয়ে ফেললে যে…
নিলা : ক্ষিদে পেয়েছিলো…তাই অনেক্ষন অপেক্ষা করেছিলাম। কিন্তু আপনি তো লেট করে এসেছেন।
আবির : লেট করে এসেছি যাতে বাসার সবাই ঘুমিয়ে পরে আর তুমি আর আমি নিরবে প্রেম করতে পারি..হা-হা-হা
নিলা একটু লজ্জার দৃষ্টিতে আবিরের দিকে তাকালো
আবির: নিলা! এখন কিন্তু আবার খাবে আমার সাথে…
নিলা : না। আমি খেতে পারবো না আমি খেয়েছি পেট ভরা…আপনি খান।
আবির : ঠিকাছে আমিও খাবো না।
নিলা : আরে আরে কই যাচ্ছেন? আচ্ছা ঠিকাছে খাবো বসেন।
নিলা আবিরকে খাবার বেড়ে দিলো…
আবির : হা করো…
নিলা : আরে আগে আপনি খান না…
আবির : হা করতে বলেছি হা করো….
নিলা : (হেসে) ওকেই!
দুজনে খেয়ে শুতে আসলো…
আবির : নিলা! ঘুমানোর সময় দেখিও যাতে আমার গায়ে হাত না লাগে…
নিলা : (হেসে) ইডিয়ট….
এই বলে আবিরের বুকের উপর মাথা রেখে শুয়ে পরে…
আবির : নিলা!
নিলা : হুম!
আবির : কতো ঘটনা পাড় করে আজ আমরা এক হয়েছি তাই না….
নিলা : ভালোই তো হয়েছে…
আবির : মানে!
নিলা : মানে যখন আপনি দাদা হবেন তখন আপনার নাতি নাতনীকে আপনার লাভ স্টোরি কেমনি বলবেন। যদি কোনো ঘটনাই না ঘটতো তাহলে ওরা বলবে নিরামিষ স্টোরি এখন তো বলবে ওয়াও ইন্টারেস্টিং স্টোরি..
আবির: (হেসে) হা-হা-হা… তুমি আসলেই পাগলী… আচ্ছা এখনো তো বাবাই হলাম না… নাতি নাতনী কেমনি হবে…
আবির : (দুষ্টুমির ভংগিতে… নিলা এখন কিন্তু আমার অধিকারটা পেতে পারি..).
নিলা : (একটু লজ্জা পেয়ে….. চুপ করে আছে কিছুই বলছে না..)।
কিছুক্ষন পরে আবির নিলাকে জরিয়ে ধরলে নিলা আবিরের হাত সরিয়ে…
নিলা : আবির আমার অনেক ঘুম পাচ্ছে…
(আবির মনেমনে একটু মন খারাপ করে..
নিলা এমন কেনো করলো…)
আবির : ওকে!…
সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখে নিলা পাশে নেই…
ফ্রেশ হয়ে ড্রইং রুমে গিয়ে দেখে নিলা আর ভাবী সবার জন্য নাসতা রেডি করছে।
আমিও আর কিছু বললাম না..নাস্তা খেয়ে বেরিয়ে পড়লাম..
রাতে বাসায় আসি…
এসে দেখি নিলা তার চুল ঝুটি করছে…
কোমড়ের পাশ থেকে শাড়ীটা সরে যাচ্ছে বার বার…
না চেয়েও নিলার পিছনে গিয়ে দাঁড়ালাম…
দু-হাত তার কোমরের দুপাশে দিলাম।
নিলার শরীরটা শিউরে উঠলো..
নিলা : খাবার দিচ্ছি খেতে আসেন।
এই বলে নিলা চলে যাচ্ছে…
আবির নিলার হাত ধরে টেনে আবিরের কাছে আনলো…
আবির : নিলা! একটু বেশি হয়ে যাচ্ছে না এটা…
নিলা আবিরের হাত ধরে টেনে নিয়ে… ক্যালেন্ডারের কাছে নিয়ে গেলো….
আর আংগুলের ইশারায় ক্যালেন্ডারের কয়েকটা তারিখ হাত দিয়ে ক্রস করে দিলো।
আবির : (কিছুক্ষন ভেবে….) ওহহ…নো..
আর সময় পায়নি বুঝি…
নিলা হেসে লজ্জা পেয়ে রুম থেকে চলে গেলো…
এভাবে আবির ক্যালেন্ডারের তারিখ দেখে দেখে অফিস যাচ্ছে..
এমনি হলে আজ কয় তারিখ সেটা ও মনে থাকে না।
আজ ক্যালেন্ডারের মার্ক করা তারিখ শেষ।
আবির সকালে ঘুম থেকে উঠে ব্রেকফাস্ট করে রুমে আসে…
আবির : নিলা! আমি অফিস যাচ্ছি।
নিলা : ওকে বাই…
আবির : নিলা! আমাদের বিয়ে হয়েছে আজ কয়দিন হবে?
নিলা : (অবাক হয়ে) কি! আমাদের বিয়ে হয়েছে কয়দিন হবে মানে?.. ৬ মাস ওভার হয়ে গেছে আর আপনি বলছেন কয়দিন হবে?
ওও! Yeah I see…. আপনার মনে থাকবে কেমনি আপনি তো বিয়েটা করেছিলেন না পারতে,,,,
আসলে আমার বিয়েটাই হয়েছে নিরামিষ ভাবে… সবার কতো সপ্ন থাকে বিয়ে নিয়ে.. আর আপনি সব মাটি করে দিলেন।
আবির : (একটু মুচকি হাসি দিয়ে) আচ্ছা? তো কি কি সপ্ন থাকে বিয়ে নিয়ে?
নিলা : কি কি সপ্ন থাকে মানে?… কতোইতো সপ্ন থাকে,,, ছেলে মেয়েকে একসাথে দেখাবে, নিশান হবে, এংগেজডমেন্ট হবে, আকদ হবে, গায়ে হলুদ হবে, বিয়ের অনুষ্টান হবে, বাসর রাত হবে…
আবির : কি হবে!!!
নিলা : বিয়ে?
আবির : না না! ঐ যে লাস্ট যেটা বলেছো…😉
নিলা : বাসর রাত?
আবির : হুম! ..!…… আচ্ছা নিলা আমার জন্য তো তোমার বিয়ের সব সপ্ন মাটি তাই না… তাহলে একটা কাজ করি আমরা লাস্ট টা থেকে শুরু করি… 😉
নিলা : (অবাক হয়ে) লাস্টেরটা মানে? 😰
(আবির নিলার দিকে এগিয়ে আসে আর নিলা রবোটের মতো শক্ত হয়ে আবিরের দিকে তাকিয়ে থাকে)
আবির : হে! তুমিইতো বললে তোমার বিয়ের সপ্ন সব ভালোভাবে পূরণ করতে পারোনি,,,, তাই ভাবছি অপূরণ রেখে কি লাভ,,, পূরন করে দি।
So নিলা আজ তাহলে আমাদের বাসর রাত।
নিলা : (আবিরকে একটু ধাক্কা দিয়ে সরে গিয়ে..)
পাগল নাকি আপনি আমিতো অনুষ্টানের কথা বলছি…. আর আপনি.. লজ্জা করে না আপনার…?
আবির : হা-হা-হা yeah but I see নিলা তুমি কিন্তু অনেক ভয় পাচ্ছো….
নিলা : সরেন এইখান থেকে..
এইবলে নিলা আবিরকে ধাক্কা দিয়ে রুম থেকে চলে গেলো।
আবির অফিসে চলে যায়…
হঠাৎ কাজের ফাকে মাথায় বুদ্ধি এলো নিলার সাথে একটু মজা করা যাক,,
নিলাকে আবির ফোন দিলো….
নিলা : হ্যালো!
আবির : নিলা! ঐ যে তোমাকে ঐ কথাটা মনে করিয়ে দিতে ফোন দিলাম….
নিলা : কি কথা?
আবির : আজ কিন্তু আমাদের বাসর রাত….😜
নিলা : দেখেন আমার অনেক কাজ আছে রাখি 😒…
আবির : (হেসে হেসে) নিলা! মনে থাকবে তো…
নিলা (ফোনটা কেটে দিলো…)মনে মনে..
আজিব মানুষ তো দেখি…. কি বলতে কি…… ধুরর,,,,
নিলা (খুব টেনশনে)মনে মনে 😰বাসর রাত….এভাবে কয়দিন পালাবো….
দুপুর হলো… নিলা সবার জন্য টেবিলে লাঞ্চ রেডি করছে…
ভাবী বললো…ফ্রেশ হয়ে আসতে তারপর এসে খাবার খেয়ে নিতে,,,
রুমে গেলাম গিয়ে দেখি আবির এ.সি ছেড়ে…. কি আরামে বসে আছে…
নিলা : আপনি?😱
আবির : হে আমি! এতে অবাক হওয়ার কি আছে…
নিলা : কিন্তু আপনি তো দুপুরে বাসায় আসেন না।
(আবির নিলার কাছে এসে নিলাকে টেনে নিলো)
আবির : হে আমি তোমাকে মনে করিয়ে দিতে এসেছি… আজ কিন্তু আমাদের বাসর রাত…
নিলা : 😰বাবাব.. বাসর রাত?
আবির : হে নিলা এটা জিজ্ঞেস করছি যে তোমার ভয় লাগছে না তো ??… 😜
নিলা : ছাড়েন! আপনি আসলে একটা সাইকো..
আবির : হা – হা – হা…. নিলা! তোমার ফেইস এক্সপ্রেশনটা একটু আইনায় দেখো… 😂
নিলা : আপনি নিজে নিজেরটা দেখেন…সাইকো কোথাকার…
আবির : আরে! শোনো কই যাও…
আবির ও নিলার পিছু পিছু ড্রইং রুমে যায়…
দাদী : আরে আবির তুই এসেছিস… কবে?
আবির : এইতো দাদী… নিলা ফোন দিয়ে নিয়ে আসলো… বলছে অনেকদিন হলো নাকি একসাথে লাঞ্চ করেনি তাই চলে আসলাম!
তাই না নিলা?
নিলা : 👿👿
আবির : নিলা খুব খিদে পেয়েছে একটু তাড়াতাড়ি বেরে দাওতো…
দাদী : তো বাসায় বসে খাচ্ছিস কেনো… নিলাকে নিয়ে বাইরে কোথাও গিয়ে লাঞ্চ করে আয়…
আবির : হে যাবো দাদী অন্য একদিন।
নিলা আবিরকে খাবার বেরে দিচ্ছে..
আবির : (আস্তে আস্তে) মনে থাকবে তো আজ কি?…
দাদী : কি বলছিস! ফিস ফিস করে…
আবির : মনে থাকবে কি না জিজ্ঞেস করছি দাদী…
(নিলা অবাক হয়ে আবিরের দিকে তাকালো)
দাদী : কি মনে থাকতো…
আবির : না দাদী বলছিলাম যে.. অন্য একদিন বাইরে খেতে নিয়ে যাবো… এটা মনে থাকবে তো….
দাদী : ও আচ্ছা… হে নিয়ে যাস.. এখনিতো সময় বউ নিয়ে ঘুরার…
নিলা! তুই কোথায় যাচ্ছিস বয় এখানে… খেয়ে নে..
নিলা : দাদী আমার খিদে নেই…পরে খাবো..
দাদী : কি! খিদে নেই.. বয়..তোদের বয়সে আমরা কতো খেয়েছি.. কতো সাস্থ্যবান ছিলাম… আর তোদের শরীর দেখ… হাড়ের সাথে চামড়া লাগানো…
দাদীর কথা না রেখে পারলো না নিলা ও খেতে বসলো… (আবির নিলাকে বসার জন্য চেয়ার টেনে দিলো… নিলার সাথে মজা করতে আবিরের অনেক ভালোই লাগছে)
আবির লাঞ্চ করে অফিসে চলে গেলো…
একেবারে রাতে বাসায় ফিরলো…
সবার ডিনার করা শেষ…নিলা কে বললাম আমার সাথে উপরে আসতে কিন্তু নিলা আমার কথাটা শুনেও না শুনার মতো করে চলে গেলো…
নিলা বাসার সবাইকে নিয়ে জমিয়ে কি আড্ডা দেওয়া শুরু করলো… কেউ ঘুমানোর নাম ধরছেই না…
দুইবার ইশারায় ডেকেছি কিন্তু কোনো লাভ নেই…
তাই ডিসিশন নিয়েছি এবার গিয়ে সরাসরিভাবেই ডেকে আনবো….
আবির : (একটু গরম মুডে) নিলা! তোমাকে কখন থেকে ডাকছি তুমি কি শুনতে পাচ্ছো না?
দাদী : নিলা! আবির তুকে ডাকছে… কি করছিস যা… মনে হয় কিছু লাগবে…যা গিয়ে দেখ।
নিলা : জি! দাদী 😖….
আবির রুমে চলে আসলো…
কিছুক্ষন পরে নিলা ও আসে…
নিলা : আপনি সবার সামনে আমার উপর চিল্লালেন কেনো?
আবির : তো কি করবো কখন থেকে ডাকছি কিন্তু তুমি শুনছোই না..
এইবলে আবির আলমারি খুলে একটা গিফট প্যাকিং করা নিলার হাতে দিলো..
নিলা : এটা কি গিফট?
আবির : হে তোমার জন্য যাও গিয়ে পরে আসো..
নিলা : আপনি কি পাগল নাকি এটা কোন নিয়ম এভাবে কি বউ কে গিফট দেই?
আবির : হে! আমি এমনি… যাও গিয়ে পরে আসো…
নিলা : কিন্তু..
আবির : Not one more word….
নিলা অর্ধেক গিয়ে আবার ফিরে তাকায় (বিরক্ত হয়ে)…
আবির : Go…
নিলা চুপচাপ গিয়ে ওয়াসরুমে ঢুকে পরে…
গিফট খুলে দেখে একটা লাল টুকটুকে লেহেঙ্গা .
.
গিফটা খুব ভালো লাগলো..তাই পরেই নিলাম… কিন্তু কি মহামুশকিল…
এতো সুন্দর লেহেঙ্গা কিন্তু ওড়না দিলো না কেনো…
নিলা ওয়াসরুম থেকে বের হলো….
আবির : (নিলাকে দেখে.)… ওয়াও
নিলা : এটা আপনি কিনেছেন?
আবির : হে কোনো সন্দেহ?
নিলা : না! সুন্দর হয়েছে…
কিন্তু বেশী সুন্দর হয়েছে বলতাম যদি ওড়নাটা ও সাথে থাকতো….
আবির : (অবাক হয়ে) ওড়না থাকতো মানে ওড়না নেই?…
নিলা : ( মাথা নেড়ে) না!..
আবির : কিন্তু আমিতো ওড়না সহ কিনেছি..
নিলা : লাইফে প্রথমবার বিয়ের পরে নিজের বউকে একটা গিফট করেছেন তাও আবার ওড়না ছাড়া….
(নিলা হেসে হেসে)
অবশ্য আপনাকে মানাই এইধরনের ভূল কাজে…
(আবির মন খারাপ করে সোফায় গিয়ে পিছন ফিরে বসে পরে….)
নিলা আবির রাগ করেছে বুঝতে পেরে আবিরের কাছে যায়….
নিলা: আবির!
(আবির চুপ করে আছে…)
নিলা ও আবিরের পাশে বসলো
নিলা : আমিতো ফান করছিলাম….
আচ্ছা ওকে বাবা…. সরি!
সরিতো…
আবির : (মন খারাপ করে) আমি কি ইচ্ছা করে এমনটা করেছি… আমিতো সব দেখে কিনেছি..
প্যাকিং করতে বলেছি… তখন হয়তো ভুল করে ও ওড়নাটা আর প্যাক করেনি….
নিলা : ইটস! ওকে……….. কিছু হবে না পরে গিয়ে নিয়ে আসবেন।
..আমিতো মজা করছিলাম…আর
আপনি মন খারাপ করে ফেললেন….
আবির : এমনিতে ও নিলা তোমার সাথে বিয়ে করেছি যে ওটা ও হাসিখুশিতে হতে দেইনি… এই প্রথম তোমাকে একটা গিফট করেছি ওটাও ঠিক করে দিতে পারলাম না… ভালো কিছুই দিতে পারলামনা তোমাকে।
আসলেই বাবা ঠিক বলেছে আমাকে দিয়ে কিছু হবে না…
নিলা : আরে…. আপনি এতো ইমোশনাল হয়ে যাচ্ছেন কেনো… সব হবে আপনাকে দিয়ে..কে বলেছে কিছু হবে না.. আপনি আগে থেকে কতো চেঞ্জ হয়েছেন জানেন..
আপনি এখন অফিসে যান.. নিজের ইনকাম নিজে করেন..
আর..আমাকে এত্তোগুলা ভালোবাসেন…
আমাকে খুশি রাখার যথেষ্টভাবে চেষ্টা করেন..
(নিলা আবিরের হাত ঝড়িয়ে ধরে কাধে মাথা রেখে)
আবির! আপনার চেষ্টা করাটাই আমার জন্য অনেক। আমিতো অনেক প্রাউড ফিল করছি আপনার মতো জীবন সংগী পেয়ে..
আবির : পাম্পিং তাই না?
নিলা : হি-হি.. আপনি কি গাড়ীর চাকা পাম্প কেনো দিবো..?
আবির : (হেসে) নিলা তুমি কিন্তু বেশী ফাজিল হয়ে গেছো..
নিলা : (হেসে) তাই?
আবির : (নিলার দিকে তাকিয়ে) হুম তাই।
নিলা : আচ্ছা গিফট তো পেয়েছি তারপরের প্লান?
আবির : (মন খারাপ করে) ধুর… ওড়নাটার জন্য পুরা মুডটাই অফ হয়ে গেলো।
নিলা : (একটু রেগে) আবারো?
আবির : আর এমনিতেও পরের প্লানটা তোমাকে দিয়ে হবে না।😜
নিলা! আমি জোড় করে ফায়দা উঠায় না।…so তোমাকে দিয়ে হবে না,,
এই বলে আবির উঠে চলে যায়..
নিলা : (মনেমনে চিন্তিতো ভাবে What!😦 আমাকে দিয়ে হবে না..
of course হবে.. 😳)
এই যে শুনেন কি বলেছিলেন…
আমাকে দিয়ে হবে না?.!
আবির : Yeah! 😋
নিলা : ওকে চ্যালেঞ্জ করলাম আপনাকে…..আমার সাথে কাটানো রাতের এক এক মূহুর্ত আপনি জীবনে ও ভুলতে পারবেন না!
কিন্তু আমার জন্য ভুলতে তেমন ব্যপার না…
এগুলো কি কোনো ব্যপার…
u know.! bcz i m strong girl…
(নিলার চোখে পানি টলমল করছে)
আবির নিলাকে দেখে খুবই অবাক..এমন কেনো বলছে নিলা…
নিলা : (কাদো কাদো ভাবে) আবির! বলেননা?… আমি strong girl?…
i m not heart-broken…
আবির কিছু বুঝে উঠতে পারলো না কিন্তু নিলাকে তবুও বললো…
আবির : 😧Yeah… u strong girl.. not heart-broken..
নিলা আবিরের বুকে মাথা দিয়ে ঝরিয়ে ধরে…
আবির নিলাকে কোলে তুলে খাটে শুয়ে দে…আবির ও নিলার পাশে গিয়ে শুয়ে পরে…
নিলা আবার গিয়ে আবিরের বুকে মাথা দিয়ে শুয়ে পরে…
নিলা : আবির!
আবির : হুম?
নিলা : (কাদো কাদো ভাবে) আমি যখন জন্ম হয় জন্মের পর থেকেই মায়ের চেহেরা দেখিনি… আর আমার যখন ৭ বছর তখন আমার চোখের সামনে বাবা হার্ট এটাক্ট হয়ে মারা যায়….
তারপর থেকেই মামা-মামীর কাছে বড় হয়…
নানী আমাকে সবসময় মনে করিয়ে দিতো আমি তাদের পরিবারের মানুষ না।
আমি নাকি অনাথ।
এলাকার সবাই আমার নামে নানানরকম কথা ছড়াতো..
সেগুলো অবশ্য মামা-মামী আর শ্রেয়া বিশাস করতো না…
কোনো বিয়ের প্রস্তাব আসলে বিভিন্নদিক থেকে বিভিন্নরকম কথা শুনে চলে যেতো।
ওসব কথা নানী আর মমিতা আপু বিশাস করতো…
ওরা মনে করতো আমি দুলাভাইকে আমার প্রতি আকর্ষিত করি।আমি নাকি সুন্দরের দেমাগ দেখায়।
কিন্তু মামা-মামী আমাকে অনেক আদর করতো যতটুকু সম্ভব খুশিতে রাখার চেষ্টা করতো…ওতোটুকু ভালোবাসা পেয়ে ও আমি যথেষ্ট খুশী ছিলাম
(নিলা কেঁদেই দিলো)
কিন্তু আবির তবুও কেনো যেনো কোন দিকটা কমতি ছিলো…
আমার নিজের একটা পরিবার থাকবে… আমাকে কেও অনাথ বলবে না…সবার সাথে সমান অধিকারে থাকবো…
আমি যে দিন আপনাকে বিয়ে করে এই ঘরে এসেছিলাম ঐ দিন থেকে আমি বুঝতে পেরেছি… আপনার পরিবারের মতো আপন পরিবার আর কোথাও পাবো না আমি… আমাকে তারা এতো আদর দিয়েছে যে আমি এইঘর ছেড়ে কোথাও যেতে চাচ্ছিলাম না।
তারপর আপনি ও আমাকে ভালোবেসে এই পরিবারে সারাজীবনের জন্য রেখে দিলেন।
আবির! আমি যখন কাঁদতাম তখন শ্রেয়া আমাকে heart-broken ডাকতো ..
আমি নাকি কখনো strong হতে পারবো না।
কিন্তু আমিতো strong তাই না আবির!
আমি কি ভেংগে পরেছি? আমিতো strong আছি।
আবির! আপনি শ্রেয়াকে বলবেন আমি strong আমি heart-broken না…
😒আবির নিলার চোখ মুচিয়ে আরো ঝড়িয়ে ধরলো…
আবির : হে আমি শ্রেয়াকে বলে দিবো।
নিলা আবিরের বুকেই ঘুমিয়ে পরে…
আবির (মনে মনে) মেয়েটা কতোকিছু সজ্য করেছে….আর এক আমি এর উপরে আরো কতো কষ্ট দিয়েছি।
এসব ভাবতে ভাবতে আবির ও ঘুমিয়ে পরে…
পরদিন সকালে আবির অফিসে যাওয়ার জন্য রেডি হচ্ছে…
নিলা রুমে আসলো…
নিলা : অফিস যাচ্ছেন?
আবির : হুম।
(আবির নিলার দিকে এগিয়ে এসে.)
i hope আজকে আপনি তাড়াতাড়ি ঘুমাবেন না…
নিলা একটু মুচকি হাসে…
আবির অফিসে চলে গেলো।
একেবারে রাতে বাসায় আসে..
রাতে ডিনার করে রুমে এসে দেখে…
নিলা একটি সাদা রঙের শাড়ী পরেছে…
হাতে লাল চুরি…. চোখে খুব যত্ন করে কাজল লাগিয়েছে…
নিলা আমার দিকে এগিয়ে আসে…
আর বোঝাতে চাচ্ছে যে সে সেজেছে চুরি পরেছে শাড়ী পরেছে…
অবশ্য তারদিক থেকে চোখ সরাতে মহা মুশকিল হয়ে যাচ্ছে কারন নিলাকে অপরুপ সুন্দর লাগছে..শাড়ীর সাদা রংটা তার গায়ের সাথে মিশে গেছে… কারন নিলাও সাদা শাড়ী ও সাদা…
আর পেটের দিকে তাকালে so hot 😉
আমিও অভিনয় করা ছাড়ছিনা…দরজাটা বন্ধ করে
পাশ কেটে..চলে গেলাম নিলা পিছন থেকে ডাক দিলো…
ফিরে তাকালে..
নিলা : i think আপনি আমাকে ভালো করে দেখতে পাননি..😌
আবির : হে দেখেছি সেজেছো আরকি।
নিলা : হে সেজেছি আপনার জন্য।😌
আবির : হে সেজেছো আরকি।
নিলা : আমার মনে হয় আপনি ভালো করে শুনতে পাননি…
আমি বলেছি আমি সেজেছি আপনার জন্য….😌
আবির : ও তুমি সেজেছো..আমার জন্য..
ওওও….
(আবির নিলার দিকে এগিয়ে এসে)
So নিলা! তুমি আমার জন্য কেনো সেজেছো..😉
নিলা : 😌😌😌
আবির নিলার দিকে তাকিয়ে আছে আর নিলা লজ্জায় নিচের দিকে তাকিয়ে আছে..
আবির নিলার হাতের চুরিগুলো আস্তে আস্তে খুলে নেই….
আবির : (নিলার কানে কানে) looking so hot…
নিলা : 😌😌😌😌
আবির নিলাকে কোলে তুলে খাটে শুয়ালো….
এবং দুজন দুজনের ভালোবাসায় আবদ্ধ হলো….
সকালে খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে নিলা…
(নিলা ভাবছে) কাল রাত তার জীবনের সবচেয়ে স্পেশাল রাত ছিলো…
আবিরের দিকে তাকালো…আবির ঘুমিয়ে আছে…
নিলা উঠে ফ্রেশ হয়ে সবার জন্য নাস্তা বানালো… আজ নিলা সব খাবার নিজের হাতে বানিয়েছে…
ভাবী রান্নাঘরে এসে সব রেডি দেখে অবাক..
ভাবী : কি ব্যপার নিলা আজ অনেক খুশি খুশি মনে হচ্ছে…
নিলা : না ভাবী এমনিতে…
ভাবী : আচ্ছা…? নাকি কাল 😉
দেখি দেখি এগুলো কিসের মার্ক…
নিলা : যা ভাবী…এগুলো এলার্জির…
ভাবী : ঐ আমাকে বোকা পাইসস শয়তান…
নিলা ড্রইং রুমে গিয়ে সবার জন্য নাস্তা দিলো…
দাদী : নিলা! আবির কোথায়…?
আবির : yes দাদী I m here…
নিলা আবিরের দিকে তাকালে
আবির নিলাকে চোখ টিপ মারলো..😉
নিলা ও হেসে দিলো…
আবির : (নিলার কাছে এসে কানে কানে উইস্পার করে)…থেংক্স!
নিলা : কেনো!
আবির : কাল রাতটা এতোসুন্দর করে দেওয়ার জন্য।
দাদী : ঐ তুই খালি বউ এর কানে কানে কি ফিস ফিস করোস?
নিলা আবিরের পাশ থেকে সরে চলে যায় লজ্জা পেয়ে..
আবির : উফফ দাদী তোমাকে না… একটা প্রাইজ দেওয়া দরকার…কি জন্য
জানো রোমান্টিক মোমেন্ট খারাপ করে দেওয়ার জন্য…
দাদী আবিরের কান ধরে আচ্ছা শয়তান…
ভাবী : কি হলো দাদী নাতি ঝগড়া করছিস কেন?
আবির : ভাবি ডিয়ার দেখোনা… আমি নাকি দাদীর সাথে রোমান্স করতাম…
তুমিই বলো দাদীর কি এটা রোমান্স করার বয়স…
আবিরের কথা শুনে দাদী আর ভাবি হেসে দেই…
নিলা রুমে এসে দেখে আবির অফিস না গিয়ে বসে আছে…
নিলা : কি বেপার আপনি অফিস যাচ্ছেন না?
আবির : না! এদিকে এসো কথা আছে…
নিলা : কি কথা ঐদিক থেকেই বলেন।
আবির : ঠিকাছেতো আসবানা ওকে…😖
নিলা আবিরের পাশে গিয়ে হাতটা ঝরিয়ে ধরে…
নিলা : বলেন!
আবির : না বলবো না!
নিলা : ইসসস! কতো ডং…
আবির : ডং আমি করছি নাকি তুমি…এক কথায় আসো না…
প্রথমে একটু ঢং করবা তারপরে ঠিকি আসবা…
নিলা : (আবিরকে আস্তে করে একটা থাপ্পড় দিয়ে) হয়েছে?.. ইডিয়ট এবার বলেন..
আবির : একটা জায়গায় নিয়ে যাবো…চলো..
নিলা : এখন?
আবির : হে এখন তুমি তৈরী হয়ে নাও..তোমাদের তো আবার তৈরী হতে পুরাদিন লাগে..
নিলা: কি বললেন 👿
আবির : হা-হা-হা কিছুনা
আবির নিলাকে নিয়ে একটা রেস্টুরেন্টে আসে…
আবির : নিলা! বলোতো… তোমাকে আজ এইখানে কেনো এনেছি…
নিলা : রেস্টুরেন্টে যখন এনেছেন তাহলে খেতেই এনেছেন 😜
আবির : আচ্ছা ওয়েট চলো…
নিলা : কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন আবার…
আবির নিলাকে টেনে ওয়াসরুমের ঐদিকে নিয়ে গেলো..
আবির : এইবার বলো কেনো এনেছি..
নিলা : (এইবার বুঝতে পেরে) এই জায়গায় আপনার সাথে প্রথম দেখা হয়ে ছিলো…
আপনি আমাকে টিসু দিয়েছিলেন…
আবির : হুম… তখন এই জায়গায় দাঁড়িয়ে ছিলাম অচেনা হিসেবে… আজ একই জায়গায় সামী-স্ত্রী হিসেবে..
তখন তুমি শুধু নিলা ছিলে আর এখন মিসেস. নিলা আবির হক….
নিলাও হেসে দেই আবিরের কথা শুনে..
এভাবে দুবছর কেটে যায়…
ভাবীর একটা ফুটফুটে মেয়ে হয়েছে.. আমাকে ও সবাই পেয়েছে এবার নাকি আমার পালা
আর আবিরকে বললে আবির বলে সে নাকি নিজেই এখনো বাচ্চা….
সকালে আবির অফিস চলে যায়…
খুব খারাপ লাগছে আবিরকে বলিনি… বললে শুধু শুধু টেনশন করবে..
বাসার কেউকে ও বলিনি..
মাথাটা ও ঘুরাচ্ছে…
ভাবছি রান্নাঘরে গিয়ে রান্না করি…ব্যস্ত থাকলে হয়তো আর খারাপ লাগবে না…তাই গিয়ে রান্না করছি..ভাবী ও এসে সাহায্য করছে…
ভাবী বুঝতে পারে আমার খারাপ লাগছে তাই গিয়ে আরাম করতে বলে…
দু-তিনদিন ধরেই এভাবে খারাপ লাগছে..
আমার ভাবসাব দেখে দাদী আর মা হয়তো বুঝতে পারলো… তাই তারা ভাবীকে দিয়ে টিউব টেস্ট করে দেখে.. ৩ টা দেখলো ৩টাই পজেটিব আসলো…
মা হওয়ার ফিলিংস টাই অন্যরকম।এমন খুশি আর কখনো লাগেনি… এ খুশিটা অন্যরকম খুশি….
মা,দাদী, ভাবী সবাইকে নিষেধ করে দিয়েছি আবিরকে না বলতে…
সামনে আমাদের Anniversary ভাবছি আবিরকে এটাই স্পেশাল গিফট দিবো…
Anniversary দিন সবাইকে দাওয়াত করলাম মামা-মামীদের সবাইকে আসতে বলেছি মমিতা আপু ও তার হাজবেন্ড ও এসেছে…
আবিরতো পারছে না যে দুলাভাইকে গিলে খেয়ে ফেলতে… তাই আবিরকে তাদের থেকে দূরে দূরেই রাখছি।কারন আবিরের মাথার ভুতটা কখন উঠে যায়…তখন আবার সবার সামনে মারামারি শুরু করে দিবে…
মামী আর শ্রেয়াকে ও বলেদি মা হয়েছি..জেনে মামী অনেক খুশি হয়েছে..
শ্রেয়া তো আরো খুশি সে খালামণি হচ্ছে তাই…
রাতে সবাইকে বিদায় দিয়ে রুমে আসি আবির ও আসে….
নিলা : আপনি কিন্তু আজ আমাকে গিফট দেন নি।
আবির : আমি আছি না! এর চেয়ে বড় গিফট আর কি চাই তোমার…
নিলা : Shut-up আবির… এতোকিছু বলে লাভ নেই….
আবির : কিন্তু নিলা…! আমিতো কিছু আনিনি!
নিলা : ওহ ঠিকাছে!
(এই বলে নিলা খাটে বসে পরে…)
আবির নিলার পায়ের দিকে বসে নিলার পা টা আবিরের হাটুর উপর রেখে নিলাকে একটা পায়েল পরিয়ে দেই…
নিলা : মিথ্যা বলেছেন কেন…আপনি তো গিফট এনেছেন..
আবির : সারপ্রাইজ! তুমি সারপ্রাইজ খুব পছন্দ করো তাই সারপ্রাইজ দিলাম।
নিলা : yeah i love surprise 😍
আবির : এবার আমার গিফট দাও!
নিলা : আমি কি টাকা কামাই গিফট কই পাবো..
আবির : ওকে… টাকা লাগবেনা এমন গিফট ও দিতে পারো!
(এই বলে আবির নিলার মুখের কাছে আসতে লাগলো…)
নিলা : Stop! এইদিকে বসেন।
আবির : ও আচ্ছা সুবিধা করে… করার জন্য বসাচ্ছো যে…
নিলা আবিরের কথা শুনে আর না হেসে পারলো না….
নিলা : আবির! সবসময় সবকিছু ফানে নিয়ে যান কেন? কখনো তো সিরিয়াস হন…এখন আর আপনি বাচ্চা না…
এখন আপনার নিজের বাচ্চা হবে..
(নিলা আবিরের হাতটা তার পেটের মধ্যে রাখলো)
আবির নিলার দিকে তাকিয়েই রইলো সে কি বলবে খুজেই পাচ্ছে না।
আবির : নিলা! সত্যি?
নিলা : হুম সত্যি!
আবিরকে খুশিতে কাঁদতে এই প্রথম দেখলাম… আবির নিলাকে ঝরিয়ে ধরলো…
আবির: নিলা! তুমি জানো না তুমি আমাকে কতোবড় সারপ্রাইজ দিয়েছো…থেংক ইউ নিলা!
নিলা : আপনাকে ও থেংকস!
আবির হেসে… রাইট আমাকে ও থেংকস দেওয়া দরকার আমার ও ক্রেডিট আছে…. কিন্তু…
নিলা ও হেসে দিলো…
এখন থেকে আবির রোজ সকালে আমাকে আগে নাসতা করিয়ে তারপর অফিস যায়…
আর অফিস থেকেও যে কতোবার ফোন দেই…. ঔষধ খেয়েছো… খাবার খেয়েছো
বেশি হাটাচলা করবানা ডাক্তার নিষেধ করেছে….
এসব বলতে থাকে।
আর আমার মোবাইলের ওয়ালপেপারে আবিরের ছবি দিয়ে রেখেছি যাতে আমার বাচ্চার চেহেরা তার বাবার মতো হয়।
কিন্তু আবির সেটা সরিয়ে আবার আমার ছবি বসিয়ে দেই যাতে আমার চেহেরার মতো হয়।
তাই আমিও মোবাইলে লক দিয়ে রেখেছি যাতে আবির আর আবিরের ছবি চেঞ্জ করতে না পারে।
৫ মাসের পর থেকে আমি খুব অসুস্থ হয়ে পড়ি বিছানা থেকে উঠে ও দাড়াতে পারিনা। কোনদিকে সকাল হচ্ছে সূর্য কখন ডুবছে কোনদিকে রাত হচ্ছে কোনো কিছুর খবর নেই…
কিছু খেলে সাথে সাথে আবার বমি করে বের করে দি। ডাক্তার বলেছে এইকারনে বেশি দূর্বল হয়ে পড়েছি আমাকে দেখে কেউ বলবেনা যে আমার বাচ্চা হবে।
মা হলে নাকি সবাই মোটা হয়ে যায় কিন্তু আমি যতোটুকু ওজন ছিলো তার চেয়ে ও অনেক কমে গিয়েছি।
আর আবির আমাকে যথেষ্টভাবে সেবা করে যায়… প্রায় সময় আবির আমার কারনে অফিসে যেতে পারে না।
আজকের দিনটা মোটামুটি ভালোই লাগছে তাই আবিরকে জোড় করে অফিস পাটিয়ে দিয়েছি।
কিন্তু হঠাৎ সন্ধ্যা থেকে খুব ব্যথা অনুভব করছি…অনেক্ষন চেপে রাখি নিজের মধ্যে আর পারছি না তাই চিৎকার শুরু করলাম।
আমার চিৎকার শুনে দাদী দৌড়ে আসে।
মা ভাবী সবাইকে ডাকে…
আমি বললাম আবিরকে ফোন দিতে।
আবিরকে ফোন দিলো আবির ফোন পেয়ে কিসের উপর বাসায় আসে সে নিজেও জানে না…আবির আমাকে কোলে করে গাড়িতে তুলে….
মা আর দাদী ও আসে আমাদের সাথে…
… আর আমার কান্না থামছে না… ব্যথার যন্ত্রনায় ছটফট করছি।
আবির আমার এসব দেখে অনেক গাভ্রীয়ে যায়…আমার কান্না দেখে মনে হচ্ছে সে ও এখন কেঁদে দিবে কারন আবির এসব এর আগে কখনো দেখেনি… এই প্রথম।
বার বার মা থেকে জিজ্ঞেস করছে মা নিলার কিছু হবে না তো নিলা এমন কেনো
করছে…
হসপিটাল পৌছালাম… ডাক্তার বললো সিজার করতে হবে…
কারন আমি অনেক দূর্বল ছিলাম…
একটা সন্তান জন্ম দিতে কতো কষ্ট তা আজ বুঝতে পারলাম।
আমাদের একটি ফুটফুটে মেয়ে হলো….
আবির অনেক খুশি… কিন্তু আবার আমার জন্য অনেক টেনশন করছে… আমি আবিরকে দেখে কেঁদে দি।
আবির কাছে এসে বসলো…
আবির : নিলা! অনেক কষ্ট হয়েছে তাই না?
নিলা : অনেক!
আবির : যদি ভাগ নেওয়া যেতো তাহলে আমি অর্ধেক নিয়ে নিতাম..
মা এসে আমাকে আমার বাচ্চা কোলে দিলো….
আবির : নিলা চোখ গুলো একদম তোমার মতো হয়েছে..
গায়ের রংটা ও তোমার মতো একদম পারফেক্ট… পুরাই স্লিপিং বিউটি…
মা : হে আর তোর মতো দুষ্টু ও হয়েছে…
আবির: মা আমার মেয়ে বলে কথা…
আবির আর নিলা দুটো নাম মিলিয়ে…
আমাদের মেয়ের নাম রেখেছি
(আবনি).. নামটা অবশ্য দাদী ঠিক করেছে আমার ও খুব পছন্দ হয়েছে…
আমাদের বাসায় এখন দুটো বাবু…
আবনির একটা বড় বোন ও আছে… যেটা সারাদিন আবনির পাশে বসে থাকে…
ভাবী তাকে খেতে ডাকলে ও যায় না…
আবনির সাথে খাবে ও…
(আবির নিলার কাছে এসে)
আবির : নিলা!
নিলা : হুম
আবির : ভাবছি আবনিকে একটা ভাই গিফট দিবো…
নিলা : Thanks…but not interested…
Now i feel complete…
আবনি এখন একটু একটু হাটতে পারে… আমাকে মা আর আবিরকে বাব্বা ডাকে…
নিলা আর আবিরের ছোট্ট সংসারটি এভাবেই কেটে যাচ্ছে তাদের পিচ্চি আবনিকে পেয়ে তাদের ভালোবাসা আরো
গভীর হয়ে উঠে….
সমাপ্ত,,

গল্পের বিষয়:
গল্প

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত