একদিন

একদিন

কবীর সিং দেখার পর এক্স বয়ফ্রেন্ড ভীষণ আপসেট হয়ে কল করতে লাগল। একবার দু’বার না সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখলাম ৪৩ টা মিসডকল৷ কলব্যাক করতেই,ও চিৎকার করতে লাগল,

-বান্দী মহিলা, তুই আমার জীবনটা নষ্ট করতে চাস? ছাদে আয় ।

-নিশান,ভদ্র ভাষায় কথা বলো। আমার উপর কতৃর্ত্ব করার কোনো অধিকার নেই তোমার।

-ও তাই? আজ তো শুক্রবার তোমার বাবা অফিস যাই নি।বাড়ি এসে কথা বলি। তুমি বরং তোমার বিখ্যাত নুডুলস রান্না করে ফেলো।

-আসছি আমি।

কোনোরকম চোখ-মুখে জল দিয়ে চুলে খোপা করে নিলাম। সিড়ি ভেঙে ছাদে গিয়ে দেখি পা ছড়িয়ে রাজপুত্র বসে আছে।অগোছালো চুলে আঙুল চালাচ্ছে। নিশান, জীবনের কোনো পরীক্ষায় সেকেন্ড হয় নি, পেশায় ইন্টেরিয়র ডিজাইনার। মুখভর্তি ফ্রেঞ্চকাট দাড়ি, তীক্ষ্ণ নাকের উপর আয়তকার দুখানা চোখ। ওর ছবি মা দেখে বলেছিল,

-এছেলে সত্যি তোকে পছন্দ করে?

-হুম।

মা কয়েকমুহূর্ত বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে ছিল। তার শ্যাম বর্ণের, আনস্মার্ট মেয়েকে এমন সুপুরুষ কেউ পছন্দ করে ভাবতে পারছিল না। নিশান আমাকে দেখে হাসল,

-তোমার বাপটা একটা খাটাশ বুঝলে?

-ছিহ নিশান!

-আরে আমাকে এক কাপ চায়ের অফার করল না, প্রথম দেখাতে জিজ্ঞেস করে স্যালারি কত! আজব না? আমি তার মেয়েকে ভালোবাসি সেটা ফ্যাক্ট না ফ্যাক্ট হলো আমার মাইনেটা।

-আর তুমি নেহাত ভালোমানুষ?

-আমি আবার কি করলাম?

-তুমি বাবার সামনে সিগারেট ধরিয়েছ।

-লেডি, তোমার বাবার সামনে না তোমার বাবার পিয়নের সামনে। শ্বশুরবাড়ির লোক বলে পিয়নের সামনেও মাথা নীচু করে বসে থাকতে হবে! তুমি তো জানোই সিগারেট খাই,বিয়ারে রুচি আছে। তাহলে অযথা এত ছোটখাট ব্যাপারে ব্রেক আপ করার মানে বুঝলাম না।

-এসব বদ অভ্যাস মেনে নিতে কষ্ট হয় তাই।

-মেয়েগুলি কি চরম স্বার্থপর!

বয়ফ্রেন্ডের ফুসফুস পচে যায় যাক জামাইয়ের গায়ে একটা আঁচড় পর্যন্ত সহ্য হয় না।অনেক ঝগড়া হয়েছে। কাছে এসে বসো দেখি,তোমার কপালের ব্রণটা বড় হয়েছে মনে হচ্ছে।

-বেশ হয়েছে।  নিশান খপ করে হাত ধরে বসাল।

-এই,তোমার শরীর থেকে ঘিয়ে ভাজা পরোটার ঘ্রাণ আসছে দেখি। আমার হবু শ্বাশুড়ি মা। পরোটা বানিয়েছে নিশ্চয়ই। যাও গরম গরম দুইটা নিয়ে আসো। মাংস-টাংস না থাকলে ডিম পোচ হলেও
জমে যাবে।তাড়াতাড়ি যাও, খুব ক্ষুধা লাগছে।

নিশানের সাথে সম্পর্কের আগে সামান্য চা বানাতে গেলে হাত পুঁড়িয়ে ফেলতাম, এতটা আনাড়ি ছিলাম।জীবনের প্রথম রান্না করি নিশানের জন্মদিনে। ও বুটের ডাল দিয়ে খাসির মাথা আর কৈ মাছ ভুনা খেতে চেয়েছিল।মায়ের সহযোগিতায় প্রথম রান্না,জানি না কেমন হয়েছিল ও খুব তৃপ্তি করে খেয়েছিল। ইদানীং সপ্তাহে একদিন কাচ্চি বিরিয়ানি আর চিতল মাছের কোপ্তা বানিয়ে না খাওয়ালে তার চলে না। বাজে ছেলেটা খেতে ভালোবাসে।

-পরোটা ভাজতে দেরি হবে।বাইরে গিয়ে বসো, আমি নিয়ে আসি। এখানে বসাটা নিরাপদ না,কেউ দেখে ফেলতে পারে।

-কোনো ব্যাপার না।তোমাদের কেয়ারটেকারকে এক প্যাকেট বেনসন দিয়ে হাত ধরে করে ফেলেছি।কেউ জিজ্ঞেস করলে বলবে কেয়ারটেকারের ভাগিনা, গ্রাম থেকে বেড়াতে আসছি।

-তুমি পারোও। নীচে নেমে এলাম। পিতা মহাশয় পেপার পড়ছিলেন। আমায় দেখে ভ্রু কুঁচকে তাকালেন।

-সকাল সকালে ছাদে কি?

-ফুল গাছ গুলো দেখে এলাম।

সম্ভবত আমার মায়েে মত মা পেতে সৌভাগ্য নিয়ে জন্মাতে হয়। রুটি গড়ছিল নিশানের কথা বলতেই পরোটা ভেজে দিলেন।ফ্রীজে গরুর মাংস নেই বলে ভীষণ আফসোস করলেন। ছেলেটার বাবা-মা গ্রামে দূরে থাকে কি না কি খায়৷ এক ফাঁকে বাবাকে বিরাট বাজারের ফর্দ সহ বাজারে পাঠিয়ে দিলেন।

-যা,ছেলেটাকে ডেকে নিয়ে আয়।আরাম করে নাস্তা করুক। খেতে বসে চুপিচুপি নিশান বলে,

-তোমার মায়ের জন্যে আফসোস হচ্ছে।

-কেন?

-এমন মাই ডিয়ার টাইপ মানুষ কিভাবে এত বছর বজ্জাত লোকটার সংসার করে গেল!

-বাজে কথা বন্ধ। খেয়ে দেয়ে বিদায় হও।তোমার মুখ দেখতে অসহ্য লাগছে। নিশান পকেট থেকে কি যেন বের করল,

-এই দেখো, ইলেক্ট্রিকাল সিগারেট কিনে রেখেছি বিয়ের পর খাওয়া শুরু করব।

-আর উইকেন্ডে বীয়ার খাওয়া?

-বন্ধুবান্ধব বাদ, বউর সাথে বসে খাব । চলবে? ঘাড় নেড়ে সম্মতি দিলাম। নিশান মিটিমিটি হেসে বলে,

-যাও আরো দুইটা পরোটা নিয়ে আসো।

গল্পের বিষয়:
গল্প

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত