তোর কারণে

তোর কারণে

কলেজ থেকে মেসে ফিরছিলাম , তখন পুলিশের গাড়ি দাঁড় করিয়ে , পুলিশ আমাকে জিজ্ঞাসা করলো …..
পুলিশ :- এই ছেলে , তোমার নাম কি আকাশ ..??

আকাশ :- জ্বী , আমি আকাশ .! কিন্তু , কেনো ..?? 🤔

পুলিশ :- থানায় চলো , বুঝতে পারবা ।

আকাশ :- হুমমমমম ; চলেন ..!

তারপর পুলিশ গাড়িতে করে আমাকে থানায় নিয়ে আসলো । পুলিশ আমাকে কোনো কিছু না বলেই সোজা লকাবে ঢুকিয়ে দিলো। আর , পুলিশ আমাকে মারতে শুরু করলো । কোনো প্রশ্ন করার সুযোগই দিলো না । এমন মার দিলো যে আমি আর নড়তে পারছিলাম না । কিন্তু বুঝতে পারছি না কে আমাকে থানায় এনে এভাবে মারলো ..??🤔

সেলের এক কোণে পরে আছি আমি । আর , পুলিশরা গল্প করছে …
পুলিশ :- বড় লোকের মেয়ে দেখলেই সব বখাটে ছেলে গুলো বড় লোকের মেয়ের পিছনে পড়ে যায় ।

অন্য একজন পুলিশ :- জ্বী ,, স্যার , এখন বুঝুক কত ধানে কত চাল ।

এতক্ষণে বুঝতে পারলাম ,,, কেনো আমাকে পুলিশ ধরে এনেছে ..! এইসব নাদিয়ার জন্য । আপনারা ভাবছেন নাদিয়া কে ..? সব খুলেই বলি ..!

আমি হলাম আকাশ হোসাইন । ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং করছি । এবার তৃতীয় বর্ষে । কিছু সমস্যার কারণে TC নিয়ে বরিশালে আসা । আর , নাদিয়া হচ্ছে বড় লোক বাবার বদ মেজাজী একটা মেয়ে ।

কলেজে যেদিন প্রথম আসলাম গেটে ঢুকতেই একটা মেয়ের সাথে ধাক্কা খাই । আর , সাথে সাথেই মেয়েটা ( নাদিয়া ) আমাকে ২ টা থাপ্পড় দিলো
নাদিয়া :- ঠাসসসসস , ঠাসসসসসসসস ,,,, ( নাদিয়া আমাকে থাপ্পড় মারলো )

আকাশ :- ……………………………… ( নিশ্চুপ হয়ে দাঁড়িয়ে আছি )

নাদিয়া :- মেয়ে দেখলেই ধাক্কা মারতে ইচ্ছা , তাই না ..?? 😡😡 ( রাগি কন্ঠে )

আকাশ :- I’m Sorry ..!! আসলে আমি মাথা নিচু করে হাঁটছিলাম তাই দেখতে পারিনি ।

নাদিয়া :- ঠাসসসসসসসস ,, ঠাসসসসসসসসস ,,, ( নাদিয়া আবার আমাকে থাপ্পড় মারলো )

আকাশ :- ……………………………… ( নিশ্চুপ হয়ে দাঁড়িয়ে আছি )

নাদিয়া :- ইচ্ছে করেই ধাক্কা মেরে আবার মিথ্যা বলা হচ্ছে না . ???

আকাশ :- ……………………………… ( নিশ্চুপ হয়ে দাঁড়িয়ে আছি )

নাদিয়া চলে গেলো । আমি ক্লাসের দিকে গেলাম । ক্লাসে গিয়ে পেছনের ছিটে বসলাম । একটু পর স্যার ক্লাসে আসলো । স্যার ক্লাসে এসেই আমাকে ডেকে সামনে নিয়ে গেলো । স্যার ক্লাসের সবাইকে উদ্দেশ্য করে বললো
স্যার :- এই হলো আকাশ । তোমাদের নতুন বন্ধু । আকাশ , আজ থেকে তোমাদের সাথে ক্লাস করবে ।

ক্লাসের একজন :- ঠিক আছে , স্যার ।
স্যার :- আকাশ , যাও তোমার ছিটে বসো ।
আকাশ :- জ্বী , স্যার ।

আমি আমার ছিটে বসে পড়লাম । ক্লাস শেষ করে স্যার চলে গেলো । আমি চুপচাপ বসে আছি । হঠাৎ একজন এসে আমাকে বললো ..
মামুন :- হাই , আমি মামুন । তোর নতুন বন্ধু । কিছু মনে করিস না তুই করে বলছি । আসলে , বন্ধুকে আমি তুই ছাড়া বলি না ।

আকাশ :- বেপার না । তুমি বলতে পারো ।
মামুন :- এই দেখলি ,, আমি তোকে বন্ধু ভাবলেও তুই আমাকে বন্ধু ভাবিস নাই ।
আকাশ :- না , না ,,,, বন্ধু ভাবছি তো ।
মামুন:- না ,,, যদি আমাকে বন্ধু ভাবতি তাহলে তুমি করে বলতি না । আমাকে বন্ধু ভাবলে তুই করে বলতি ।
আকাশ :- আচ্ছা ,, ঠিক আছে ,,, তুই করেই বলবো ।
মামুন :- আচ্ছা , চল ,, আমার আরো বন্ধুদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেই ।
আকাশ :- আচ্ছা , চল ।

তারপর মামুনের সাথে মাঠের দিকে গেলাম । মামুন ওর বন্ধুদের বললো ………………………………..
মামুন :- এই শোন ,,, এই হলো আকাশ । আজ থেকে আমাদের টিমে ।

তিশা :- হাই , আকাশ ..! আমি তিশা ।
রিজু :- হাই , আকাশ ..! আমি রিজু ।
তিশা :- আরে , আকাশ দাঁড়িয়ে আছিস কেনো ,, বস ..??
আকাশ :- তোমরা সবাই কি এমন ..? 🤔
তিশা :- এই মামুন ,, এইটা রে এখানে আনছিস কেনো ..?

মামুন :- আরে , তিশা ,, থাম ..? আকাশ আমাদের ব্যাপারে তো জানে না ।
আকাশ :- আচ্ছা ,, আমি কি কোনো ভুল করে ফেলেছি ..!!🤔
রিজু :- ভুল মানে ..? অনেক বড় ভুল করছিস মামা ।
মামুন :- আরে , আকাশ , তুই এখনো বুঝিস নাই কেনো এরা রাগ করছে ..?
আকাশ :- না তো ..! 🤔

মামুন :- আসলে ,, আমাদের বন্ধুদের মধ্যে কেউ কাউকে তুই ছাড়া অন্য কিছু বলি না । আর , আকাশ , তুই প্রথম দিনেই ভুল করে ফেললি ।
আকাশ :- আচ্ছা , Sorry ..! আর ভুল হবে না ।
তিশা :- মনে থাকে যেনো ..??
আকাশ :- OK…!! মনে থাকবে ।

তারপর ওদের সাথে অনেকক্ষণ গল্প করে মেসে চলে আসলাম । আসলেই ওরা অনেক ভালো । প্রথম দিনেই ওরা আমাকে কত আপন করে নিয়েছে ।

সন্ধ্যায় একটু ঘুরতে বের হলাম । বেশি দূরে ঘুরতে গেলাম না । মেসের আশে-পাশেই ঘুরে আবার মেসে চলে আসলাম। রুমে বসে বসে ফেসবুকিং করছি । একটু পর খাবারের জন্য গেলাম । খেয়ে এসে একটু পড়তে বসলাম । পড়া শেষ করে ঘুমিয়ে পড়লাম ।

বিকালে শিফটে ক্লাস তাই ঘুম থেকে তাড়াতাড়ি উঠার কোনো প্যারা নাই । ঘুম থেকে উঠলাম ১১ টার দিকে । তারপর ফ্রেশ হয়ে পড়তে বসলাম । ১ ঘন্টা পড়ে গোসল করে কলেজ এর জন্য রেডি হলাম । দুপুরে খেয়ে কলেজে গেলাম । গেট দিয়ে ঢুকছিলাম এমন সময় একটা মেয়ে ডাক দিলো ……………………………………
মেয়ে :- এই ছেলে ,,, এদিকে আসো ..? ( নাদিয়া )

আমি আশে-পাশে তাকিয়ে বললাম ……………………….
আকাশ :- জ্বী , আমাকে বলছেন ..?
নাদিয়া :- তো এইখানে কি আরো কেউ আছে নাকি ..? আসো এখানে ..!
আকাশ :- জ্বী ,,, বলেন ..?
নাদিয়া :- তুই সেই বেয়াদব ছেলেটা না যে কালকে আমাকে ধাক্কা দিছিলি ..?

আকাশ :- জ্বী , আসলে ,,, আমি আসলেই আপনাকে ইচ্ছা করে ধাক্কা দেই নাই ।
নাদিয়া :- আবার , মুখে মুখে কথা বলো ..? তুমি আমাকে চিনো ..? আমার বাবার কথায় এই কলেজ চলে বুঝছো ..??
আকাশ :- I’m Sorry ..! আমি জানি না তো । আমার ভুল হয়ে গেছে ..! মাফ করে দিবেন ..!!
আকাশ :- আচ্ছা , যাও । আমার সাথে লাগতে আসবা না বুঝছো ..?
আকাশ :- আচ্ছা ; ঠিক আছে । ( মনে মনে বললাম ,,, ” ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে ভালো হতে চাচ্ছি তো তাই আজ কথা শুনতে হচ্ছে “..! )

আর কিছু না বলে নাদিয়ার সামনে থেকে চলে আসলাম। মামুন এসে আমাকে বললো……………………………….
মামুন :- কিরে আকাশ ,,, নাদিয়া তোকে কি বলছিলো রে ..?

আকাশ :- আরে , আর বলিস না ,, কালকে ভুল করে উনার সাথে ধাক্কা খাইছিলাম । Sorry ও বলেছিলাম , কিন্তু আমার কোনো কথা না শুনেই থাপ্পড় মারছিলো । আমি তো উনার মুখটাও ভালো করে দেখিনি কালকে । আজই দেখলাম নাদিয়া’কে ।

মামুন :- ভালো করছিস । নাদিয়ার কাছ থেকে সাবধানে থাকবি । নাদিয়ার বাবার অনেক পাওয়ার ।

আকাশ :- হুমমমম ; নাদিয়াও বললো তাই । আচ্ছা , বাদ দে চল ক্লাসের দেড়ি হয়ে যাচ্ছে । ( মনে মনে বললাম ,,, নাদিয়ার বাবার যে ক্ষমতা তার চেয়েও আমার ৩× ক্ষমতা বেশি .! কিন্তু , আমি ভালো হয়ে যেতে এইখানে আসছি ..! তাই ক্ষমতা প্রয়োগ করবো না ..! )

মামুন :- আচ্ছা , চল ।

তারপর মামুন আর আমি দুজনে ক্লাসে গেলাম । ক্লাস শেষ করে মাঠে বসে আড্ডা দিয়ে মেসে চলে আসলাম ।

এইভাবে কাট ছিলো আমার দিন । আস্তে আস্তে ক্লাসের সবার প্রিয় একজন হয়ে উঠলাম । শুধু একজনার বাদে সবার প্রিয় একজন হয়ে উঠলাম । সে হলো নাদিয়া ,,, নাদিয়া বাদে ক্লাসের সবার প্রিয় একজন হয়ে উঠলাম ।

কারো সাথে কোনোদিন কথা কাটাকাটি করতাম না । আমি চাই না কোনো ঝামেলায় পড়তে । তাই , নাদিয়ার থেকে দূরে দূরে চলি ।

একদিন ক্লাস শেষ করে আড্ডা দিতে যাচ্ছিলাম । তখনই নাদিয়া আমাকে ডাকলো……………………………….
নাদিয়া :- এই আকাশ ,,, এইদিকে আসো …?

আকাশ :- জ্বী , বলেন ..? কি বলবেন …?

নাদিয়া :- খুব হিরো হয়ে গেছো ,, তাই না ..? কাল থেকে যেনো তোমাকে কলেজে না দেখি ।

বলেই নাদিয়া চলে গেলো । নাদিয়ার থেকে দূরে দূরে চলি । কারণ , নাদিয়ার সাথে কোনো ঝামেলায় জড়াতে চাই না । তবুও ; এখন আবার অন্য রকম ঝামেলায় পড়ে গেলাম । নাদিয়ার সাথে কথা বলি না , নাদিয়ার থেকে দূরে দূরে চলি । তারজন্য নাদিয়া এইসব বলে চলে গেলো ।

আমি আর ব্যাপারটা কাউকে বললাম না । আড্ডা দিয়ে মেসে চলে আসলাম । বসে বসে ভাবছি ,,,, কাল কলেজে যাবো কিনা ..?? এমন সময় মামুন ফোন করলো ……………………………….
মামুন :- দোস্ত ,, কালকে কলেজে আসিস । কালকে তিশার জন্মদিন । তাই সবাই মিলে কলেজে কেক কাটবো ।

আকাশ :- আচ্ছা ,, ঠিক আছে । কালকে কলেজে যাবো ।

দুর কি হবে দেখা যাবে ..! কালকে কলেজে যাবোই । রাতে খাওয়া দাওয়া শেষ করে , একটু ফেসবুকিং করে , ঘুমিয়ে পড়লাম ।

কালকে তাড়াতাড়ি কলেজে যেতে হবে । তাই ; সকাল ৯ টায় ঘুম থেকে উঠে , ফ্রেশ হয়ে মামুনকে ফোন দিলাম …………………………….
মামুন :- হ্যালো , আকাশ ,,, বল …?

আকাশ :- দোস্ত , সদর রোডে আয় , আমি যাচ্ছি ।

মামুন :- আচ্ছা , দোস্ত ,,, আসতেছি ।

তারপর , আমি আর মামুন দুজনে দেখা করে তিশা বার্থডে কেক আর গিফট কেনা কাটা করে কলেজে চলে আসলাম। কলেজে এসে দেখি সবাই আছে । তিশা এখনো কলেজে আসেনি । তাই , তিশা’কে ফোন দিলাম …………………………………
তিশা :- হ্যালো , আকাশ ,,, বল …?

আকাশ :- কই রে তুই ..?

তিশা :- এই তো কলেজে আসতেছি ।

আকাশ :- আচ্ছা ,, সাবধানে আয় ।

তিশা :- আচ্ছা , রাখ এখন । Bye ..!

আকাশ :- Hmm ; Bye ..!

তারপর রুমটা ভালো করে বেলুন দিয়ে সাজিয়ে নিলাম । আর , আমি তিশা জন্য বাহিরে অপেক্ষা করছিলাম । ওই তো তিশা আসতেছে । তিশা আমার কাছে এসে আমাকে বললো …………………………………..
তিশা :- কিরে আকাশ ,, তুই এখানে কেনো ..?

আকাশ :- তোর জন্য অপেক্ষা করছিলাম ।

তিশা :- আচ্ছা ,, চল ।

আকাশ :- হুমমমম ; যাবো । ( বলেই তিশার পিছনে গিয়ে তিশার চোখটা বেঁধে দিলাম )

তিশা :- কিরে আকাশ ,,, চোখ বাঁধছিস কেনো ..?

আকাশ :- সারপ্রাইজ আছে ; চল ।

তারপর তিশা’কে রুমে নিয়ে গিয়ে তিশার চোখের বাঁধন’টা খুলে দিলাম । আর , সবাই এক সাথে বললাম ,,,,,,,🎂🎂 ” Happy Birthday To You , Happy Birthday To You , Happy Birthday To You ,, Tisha ” ..! 🎂🎂

রিজু :- মামা ,, আয় তাড়াতাড়ি কেকটা কাট , খুব ক্ষুধা লাগছে ।

তিশা :- হুমমমমম , কেক কাটবো । কিন্তু , এই সবের প্লান কার , আগে বল ..??

রিজু :- মামুন আর আকাশের ।

তিশা :- Thanks , দোস্ত । আর , তোদেরও অনেক অনেক , Thanks ..!

মামুন :- হুমমমমম ; অনেক হয়েছে , এখন কেক কাট তো ।

তারপর , তিশা কেক কাটলো । সবাইকে কেক খাওয়াইলাম । দরজার দিকে তাকাতেই দেখি ,, নাদিয়া দাঁড়িয়ে সব দেখছে । আমাকে দেখে নাদিয়া রাগে চলে গেলো । যাক বাঁচা গেলো , নাদিয়া কিছু বললো না ।

তারপর সবাই মিলে অনেক মজা করলাম । ক্লাস আর করলাম না , যে যার মতো চলে গেলাম । আমি , মামুন , রিজু , তিশা একটু আড্ডা দিয়ে ওরা ওদের বাসায় চলে গেলো । আর , আমি কলেজ থেকে যাচ্ছিলাম মেসে । আর , তখনই পুলিশের গাড়ি থামিয়ে , পুলিশ আমাকে ধরে থানায় নিয়ে গেলো । তারপর , কি হলো আপনারা সবাই তো জানেন ..!

পুলিশ আমাকে আরো তিন দিন অনেক মারলো । তারপর পুলিশ আমাকে ছেড়ে দিলো ।

শরীরের অবস্থা খুব খারাপ । সোজা হাসপাতালে গেলাম । ভালো ভাবে ট্রিটমেন্ট করে , মেসে চলে আসলাম । আর , ৭ দিন বের হতে পারলাম না ।

আজ একটু ভালো লাগছে তাই কলেজে যাই । রেডি হয়ে কলেজে চলে গেলাম । আমাকে দেখে ,,, মামুন , রিজু , তিশা দৌড়ে আসলো ।

গল্পের বিষয়:
গল্প

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত