কম্পাস

কম্পাস

সেই অনেকক্ষণ যাবৎ জানালার পাশ ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে স্নেহা। চোখ দু’টো পানিতে টলমল করছে। আর কত ভাল লাগে শুনতে?দৈনিক এক বিষয় তুলে তুলে কথা শোনায় স্নেহার শাশুড়ি! কেন বিয়ের পাঁচ বছর পরেও, এখনও স্নেহার বাচ্চা হয়নি। সেই কখন থেকে স্নেহার শাশুড়ি দৈনন্দিনকার মতো আজও কথা শোনানো শুরু করে দিয়েছে। এর শেষ কখন যে হবে, সেটাও অজানা স্নেহার। আর শাশুড়ির বলা প্রতিটা দুর্বোধ্য কথা অপরাধীদের মতো হজম করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই তার। পারলে তো সে, কবেই একটা বাচ্চার জন্ম দিতে পারতো। এটা তো তার নিজেরই অপারগতা। তাই কান্নাটাও এখন তার দৈনন্দিনকার সঙ্গী।

হঠাৎই মিহাদ এসে পেছন থেকে অধরবন্ধী করলো স্নেহাকে। মুখ গুঁজে দিলো স্নেহার দীঘল কালো চুলের ভাঁজে।স্বামীর স্পর্শ পেয়েই চোখ দু’টো মুছে ফেললো স্নেহা।মুখে একরাশ হাসি ফুটিয়ে বললো,
– কখন এসেছো?”
– এই তো এক্ষুনি আসলাম।”

প্রতিদিন শাশুড়ির করা প্রতিটা অপমান সহ্য করেও মুখ বুঝে আছে শুধুমাত্র মিহাদ নামের এই ছেলেটার জন্য! এই ছেলেটা যে, বড্ড ভালবাসে তাকে। শাশুড়ির করা প্রতিটা অপমানের পরিসমাপ্তি ঘটে যখন মিহাদ তার ভালবাসায় সিক্ত করে স্নেহাকে। সন্তর্পণে কাছে টেনে নেয়। দিন শেষে মিহাদের এই ভালবাসাটুকুই যেন, সব কষ্ট ধুয়ে মুছে সাফ করে দেয়।

– তুমি ফ্রেস হয়ে আসো। আমি খাবার দিচ্ছি।”
– সবসময় আমার থেকে এমন দূরে দূরে থাকো কেনো?”
– উফ, কী যে বল না?এখন যাও তো, অনেক রাত হয়েছে।”
মিহাদ স্নেহাকে ছেড়ে দিয়ে বললো,
– যথা আজ্ঞ মেম! বলেই হাসিমুখে ওয়াশরুমে চলে গেল।

মিহাদ খাবার টেবিলে খেতে বসলো।
– স্নেহা তুমি বসছো না কেনো?”
– আজ আমার খেতে ইচ্ছে করছে না।তুমি খেয়ে নাও।”
– এসব বললে তো হবে না…স্নেহা।তুমি ভালো করেই জানো,তুমি না খেলে আমিও খাব না।”

স্নেহা আর কোনরকম বাড়াবাড়ি না করেই খাবার খেতে বসলো। চুপচাপ দু’জনে খাবার খেয়ে নিজেদের রুমে চলে আসলো।

– স্নেহা কী হয়েছে তোমার?আজ অফিস থেকে আসার পর থেকেই দেখছি তোমার মন খারাপ।আর আমি যদি ভুল না দেখি তাহলে, তুমি তখন কাঁদছিলে! কিন্তু কেনো?”
– কিচ্ছু হয়নি।তুমি শুয়ে পরো।”

– স্নেহা মা কোথায়?”
– মা ওনার রুমেই আছেন।”
– খেয়েছেন?”
– হ্যাঁ।”
– স্নেহা…প্লিজ! বল কী হয়েছে?”
আচমকাই স্নেহা মিহাদের সামনে কেঁদে ফেলল।
– স্নেহা কাঁদছো কেনো?কী হয়েছে?”
– মিহাদ,তুমি আমাকে ডিভোর্স দিয়ে দাও।আমি আর থাকতে চাই না এখানে। তুমি আমাকে ডিভোর্স দিয়ে অন্য আর একটা বিয়ে করে নাও। আমাকে রেখে অযথা কেনো আমার খরচ চালাবে? একটা বউ পালা তো হাতি পালার সমান। যেখানে আমাকে পেলে তোমার কোনো লাভই হচ্ছে না। পাঁচ বছর বিয়ে করেছো অথচ একটা বাচ্চাও দিতে
পারলাম না। তাহলে কেন তুমি আমাকে অযথা বসিয়ে বসিয়ে খাওয়াবে?”

কেঁদে কেঁদে কথাগুলো বলে থামলো স্নেহা।সব শুনে মিহাদ স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে রইলো স্নেহার কান্নাভেজা মুখটার দিকে।স্নেহার কথা শেষ হতেই স্নেহার কাঁধ ঝাঁকি দিয়ে মিহাদ বলে উঠলো,
– কী যা তা বলছো স্নেহা? এসব কী ধরনের কথাবার্তা তোমার? আর কিসেরই বা হাতির সাথে তুলনা করছো নিজেকে? তুমি আমার বিয়ে করা বউ স্নেহা! তুমি কোন পশু নও!সৃষ্টির সেরা জীব তুমি! আর সেটা হলো তুমি একজন মানুষ।আল্লাহ কত সুন্দর করে তোমাকে সৃষ্টি করেছেন! কত গুণে গুণান্বিত করেছেন! আর সেই কিনা তুমি,নিজেকে পশুর সাথে তুলনা করছো? আশরাফুল মাখলূকাত কথাটার মানে বোঝো তুমি? না জেনে বুঝে কিসের সাথে কী তুলনা করে চলেছো?”

মিহাদের কথায় স্নেহার কান্নার বেগ আরও বেড়ে গেল। কারণ এ কথা গুলো যে, একটাও তার নিজের কথা নয়। এই কথাগুলো প্রতিদিন তার শাশুড়ি তাকে শোনায়। মিহাদ একটু হলেও তার মায়ের সম্পর্কে অবগত। তাই আর স্নেহাকে ঘাটালো না। তবুও মনের মধ্যে একটা জটলা বেঁধে আছে । স্নেহা ঘুমিয়ে পরেছে মিহাদের বুকের মধ্যে। তখনও মিহাদের চোখে ঘুম নেই। সে ভাবছে স্নেহার বলা কথাগুলো।তখনই রুমের বাহির থেকে মিহাদের মায়ের কণ্ঠ ভেসে আসলো।
– খোকা ঘুমিয়ে পড়েছিস?”
মিহাদ স্নেহার মাথাটা বালিশের উপর আস্তে করে রাখলো। তারপর কম্বলটা টেনে দিয়ে রুমের বাহিরে পা রাখলো।

মিহাদের মায়ের রুমে।

– মা তুমি এখনো ঘুমাওনি কেনো?”
– তোকে একটা কথা বলার দরকার ছিল।”
– সকালেও তো বলতে পারতে।”
– না,এখনই বলতে চাই।”
– আচ্ছা…বল?”
– বাবা তুই আর একটা বিয়ে কর।এমন অপয়া মেয়েকে আর কতদিন এভাবে বসিয়ে বসিয়ে খাওয়াবি? পাঁচটা বছর হয়ে গেল এখনও নাতি-নাতনীর মুখ দেখলাম না। এই বংশটা কী নির্বংশ হয়ে যাবে? তুই অন্য একটা বিয়ে কর।আমি নাতি-নাতনীর মুখ দেখে মরতে চাই।” এতক্ষণে সবটা পরিষ্কার হল মিহাদের কাছে।মিহাদ গম্ভীর কণ্ঠে বললো,
– মা সেটা কোনভাবেই সম্ভব নয়।”
– কেন সম্ভব নয়?”
– মা আমি স্নেহাকে খুব ভালবাসি।”
– রাখ তোর ভালবাসা! ওই মেয়ে ভালবাসা পওয়ার যোগ্যই না। এখনও পর্যন্ত একটা বাচ্চা দিতে পারলো না, সে আবার কিসের অন্যের থেকে ভালবাসা আশা করে?”
– মা প্লিজ!এসব অবান্তর কথা বল না। ওর সাথে আমার আট বছরের সম্পর্ক। ভালবেসে বিয়ে করেছি আমি ওকে। আর আমাদের বিবাহিত জীবন হলো পাঁচ বছর। একটা বাচ্চার জন্য এত বছরের সম্পর্ক নষ্ট করার ছেলে আমি নই।”
– নষ্ট করার কী আছে?আমি তো তোকে বলছি না তুই ওকে ছেড়ে দে। ও এ বাড়ীতেই থাকবে।কাজ-টাজ করবে,খাবে-দাবে। আর কী চাই ওর? যার নিজের কাউকে কিছু দেওয়ার ক্ষমতা নেই,তার আর বেশি কিছু পাওয়ারও দরকার নেই।”

– মা একটা কথা তুমি নিজে বল তো?আজ যদি মিতুর বাচ্চা না হতো(মাহিদের ছোট বোন) তখন মিতুর শাশুড়ি যদি তোমার জামাইকে এভাবে বলতো তখন তুমি সহ্য করতে পারতে মা? পারতে না। কী করে পারবে? মিতু তো তোমার নিজের মেয়ে আর স্নেহা তো অন্য কারও মেয়ে। তাই তুমি অনায়াসেই এই কথাটা বলতে পারলে। একবার ভেবেছো, স্নেহা কথাটা জানতে পারলে ঠিক কতটা কষ্ট পাবে?মা একবার তোমার নিজেকে দিয়েই বিচার করো না! আজ যদি আমি বা মিতু কেউই তোমার গর্ভে না হতাম, তখন যদি বাবাকে দাদু বা দাদি অন্য কাউকে বিয়ে করে আনতে বলতো তখন তুমি কী সহ্য করতে পারতে? মা তুমি স্নেহাকে কী বল,না বল ও আমাকে কখনোই কিছু বলে না। এই যে মা সবাই বলে, এমনকি তুমিও বল, দেশে যে এতগুলো বৃদ্ধাশ্রম গড়ে উঠেছে সবগুলোর পেছনে দায়ী ছেলে আর ছেলের বউরা। কিন্তু মা আমি এটা বলবো না সব শাশুড়ি খারাপ আবার সব বউরা খারাপ। মা ভাল-মন্দ মিশিয়েই মানুষ! আমি তবুও বৃদ্ধাশ্রমকে সমর্থন করি না। কারণ মা তো মা’ই হয়! মা যত দোষই করুক না কেন, সেগুলো তো দোষ বলে গণ্য হয় না। আমি নিজেও সেটাই মানি। কিন্তু মা শাশুড়িরা যদি ছেলের বউদেরকে নিজের মেয়ের মতো ভাবে আর ছেলের বউরা যদি শাশুড়িকে নিজের মা ভাবে তাহলে খুব সহজেই এতগুলো বৃদ্ধাশ্রম গড়ে উঠতো না।আজ আমি নিজে বলছি এই বৃদ্ধাশ্রমগুলো গড়ে ওঠার পেছনে কোথাও না কোথাও এই বউ-শাশুড়ি দুজনেরই ভুমিকা রয়েছে। মা স্নেহা যদি প্রতিদিন তোমার নামে আমার কানে কুমন্ত্রণা দিত,তাহলে হয়তো একদিন ঠিকই আমি তোমার থেকে দূরে সরে যেতাম। স্নেহাকে নিয়ে অন্য কোথাও থাকার পরিকল্পনা করতাম। কারণ মা, আমি আর স্নেহা যে,একটা সূঁচে গাঁথা সুতোর দু’প্রান্ত। এক প্রান্তে টান লাগলে যে, অন্য প্রান্তেও টান লাগে মা! এটা যে আত্মার টান! ভালবাসার টান! হৃদয়ের বন্ধনের টান মা! তুমি যদি আমার কলিজা হও, তাহলে স্নেহা আমার হৃদয় মা! যেই দু’টোই আমার জীবনের অমূল্য সম্পদ! যেকোন একটাকে হারিয়ে ফেললে আমি বাঁচাতে পারবো না! আমার বেঁচে থাকা অর্থহীন হয়ে পরবে। কিন্তু মা বিশ্বাস করো, স্নেহা আজ অব্দি কখনও তোমার নামে আমার কাছে কোনো অভিযোগ করেনি। কিন্তু আজ ও আমাকে বলেছে, আমি যেন ওকে ডিভোর্স দিয়ে অন্য আর একটা বিয়ে করি। মা ওর কী কষ্ট হয় না? তুমিই বল না! একটা মেয়ের কাছে মা না হতে পারার যন্ত্রণা ঠিক কতটা ভয়াবহ,সেটা যার সাথে হয় সেই বুঝতে পারে। তুমি বা আমি কেউই হয়তো ওর কষ্টটা ওর মতো করে ফিল করতে পারছি না। তুমি যে কষ্ট পাচ্ছো একটা নাতির জন্য, আমি যে কষ্ট পাচ্ছি তার থেকে বেশি কষ্ট পাচ্ছে স্নেহা! মা প্রতিটা মেয়েই মাতৃত্বের স্বাদ ভোগ করতে চায়। একবার তো ওর দিকটাও ভেবে দেখতে পারো। একটু তো ভালবাসাও দিতে পারো। স্নেহা যে মা বলে শুধু তোমাকেই জানে।সৎ মায়ের সংসারে বড় হয়েছে মেয়েটা। যখন থেকে ও এ বাড়িতে বউ হয়ে এসেছে তখন থেকে তোমাকেই মা বলে জানে। একটু মায়ের ভালবাসা দিয়ে কাছে টেনে নাও। দেখবে তুমিই হবে পৃথিবীর সবচেয়ে সেরা শাশুড়ি মা!
মা ভালবাসা দিলে ভালবাসা কমে যায় না। বরং বাড়ে, ঠিক কুড়িয়ে পাওয়া দুর্লভ বস্তুর মতো! ছোট বেলায় তুমিই তো বলতে,কেউ কোনো স্বর্নের চ্যারা পেলে সেটা ভেঙ্গে বিক্রি করলে নাকি আবার সেই চ্যারাটা আগের মতো পূর্ণ হয়ে যেত। মা ভালবাসাটাও ঠিক সেই কুড়িয়ে পাওয়া স্বর্নের চ্যারার মতো। ভালবাসার জয়গাটা যে খুব প্রশস্থ! যত ভালবাসবে ততই দেখবে আবারও জায়গাটা পূর্ণ হয়ে গেছে। কখনো খালি থাকবে না।তোমার এতখানি ভালবাসা থেকে একটুখানি ভালবাসা স্নেহাকে দিও, দেখবে মেয়েটা কত খুশি।সারাক্ষণ মা মা বলে তোমার গা ঘেঁষে থাকবে।”
– তোর কথা ঠিক আছে। কিন্তু…. “
– মা আর কোনো কিন্তু নেই! পৃথিবীতে তো অনেক মানুষেরই বাচ্চা হয় না। তাই বলে কী সম্পর্কগুলো ভেঙ্গে ফেলতে হবে?একটা সম্পর্কে জড়াতে অনেকটা সময় লাগে। চাইলেই কী একটা সম্পর্ক থেকে বেড়িয়ে আসা যায়? আর একটা সাজানো সম্পর্ক ভেঙ্গে ফেলা আর যাই হোক কোনো সমাধান হতে পারে না। আর মা সবচেয়ে বড় কথা হলো আমরা শিক্ষিত জাতি। এ যুগের মানুষ হয়েও আমরা যদি সেই আদীকালের ধ্যানধারণা, কুসংস্কার বিশ্বাস করি তাহলে তো আমরা ওই বনের পশুর মতোই হয়ে গেলাম। তাহলে মা আমাদের শিক্ষা গ্রহণ করার কী প্রয়োজন ছিল? যদি শিক্ষিত হয়েও মূর্খের ন্যায় কাজ করি তাহলে জাতি আমাদের দেখে শিখবে কী?”

– তুই বুঝবি না মায়েদের কী জ্বালা!তোর যদি কোন ছেলেপেলে না থাকে বুড়ো হলে তোকে কে দেখবে? তোর বাপ-দাদার বংশ যে নির্বংশ হয়ে যাবে। এসব তুই একবারও ভেবেছিস?তোর বাবা নেই,তুই আছিস তাই তো এখন আমার খেয়াল রাখতে পারিস। যখন তুই বুড়ো হবি, তখন তোকে কে দেখবে?”
– মা আল্লাহ যেহেতু আমাদের সৃষ্টি করেছেন, তখন আমরা এতটা নিরাশ না হয়ে একটু ধৈর্য্য ধারণ করি। দেখবে আল্লাহ ভাল কিছুই করবেন। আল্লাহ যেহেতু আমাদের সৃষ্টি করেছেন সেক্ষেত্রে আমাদের কর্মের মাধ্যমেই আমরা তার থেকে সাহায্য পাব।আর তুমি যেটা বলছো সেটার সমাধান হিসেবে আমরা একটা বাচ্চাও এডোপ্ট নিতে পারি। নিজের পরিচয়ে বড় করতে পারি। তাহলেই তো হয়ে গেল।
কথাগুলো বলতে বলতেই মিহাদ দেখলো পর্দার আঁড়ালে একজোড়া ছলছল চোখ তার দিকে তাকিয়ে আছে। যেই চোখে ফুটে উঠেছে স্বামীর প্রতি অফূরন্ত ভালবাসা আর শ্রদ্ধাভক্তি! মিহাদের চোখে চোখ পড়তেই চোখগুলো পর্দার ওপাশে মিলিয়ে গেল।
– আচ্ছা মা অনেক রাত হয়েছে এবার ঘুমিয়ে পরো।”
– আচ্ছা যা করবি তাড়াতাড়ি কর।আর এডোপ্ট নিলে তাড়াতাড়ি নে।”
– হুম।তুমি শুয়ে পরো।”
মিহাদ ওর মাকে শুয়ে দিয়ে কম্বলটা গায়ে জড়িয়ে লাইটটা অফ করে নিজের রুমের দিকে পা বাড়ালো।তখনি পিছু ডাকলো মিহাদদের মা,
– খোকা শোন?”
– বল….মা?”
– স্নেহা খেয়েছে?”
মায়ের কথায় মিহাদের মুখে স্ফীত হাসি ফুটে উঠলো।
– হ্যাঁ…. মা খেয়েছে।”
– শোন না, ওরে বলিস আমার কথায় যেন কষ্ট না পায়। আসলে বুড়ো হয়েছি তো তাই যখন-তখনই ওকে উল্টাপাল্টা কথা শোনাই। ওকে বলিস আমার উপর যেন রাগ পুষে না রাখে।আর কয়দিনই বা বাঁচবো!”
মিহাদ একগাল হেসে বললো,
– মা তুমি এসব নিয়ে ভেব না।স্নেহা তোমার ওপর রেগে নেই।তুমি এখন ঘুমিয়ে পরো।”
– হু।”
বিছানায় শরীরটা এলিয়ে দিতেই স্নেহা এসে মাথা রাখলো মিহাদের বুকে।মিহাদ হাত দু’টো বাড়িয়ে আঁকড়ে ধরলো স্নেহাকে।
– এই পাগলী কাঁদছো কেন?”
– তুমি আমাকে এত ভালবাসো কেন?”
– তুমি যে আমার অর্ধাঙ্গিনী! তোমাকে ভাল না বেসে উপায় আছে!”
নিশ্চুপ কেঁদে চলেছে স্নেহা।
– স্নেহা, জানো?”
স্নেহা কান্নাভেজা কণ্ঠে জবাব দিলো,
– কী?
– ভালবাসা অনেকটা জ্যামিতি বক্সের ‘কম্পাস’ এর মতো!
– কী করে?”
– একটা কম্পাসের দু’টো প্রান্ত। স্বামী আর স্ত্রী হলো কম্পাসের সেই দু’প্রান্তের মতো। আর এই দু’প্রান্তের মাথার উপর লম্বা যেটা থাকে, সেটার নাম হল ‘ভালবাসা’! এই দুই প্রান্তের একটা প্রান্ত ছাড়া কম্পাসটা যেমন অপূর্ণ,তেমনি স্বামীকে ছাড়া একজন স্ত্রী অপূর্ণ! একটা কম্পাস তখনই পূর্নতা পায় যখন এটার দু’টো প্রান্ত থাকে। তেমনি তুমি আর আমি হলাম একটা পূর্নাঙ্গ ‘ কম্পাস’! তুমি হলে কম্পাসের এক প্রান্ত আর আমি হলাম কম্পাসের অপর প্রান্ত! তুমি কেন্দ্রে অবস্থান করো আর আমি পুরো পৃথিবী ঘুরে,তোমার ভালবাসার টানে, সেই তোমার কাছেই তোমার বিন্দুতে ফিরে আসি!
মিহাদের কথাগুলো শুনে স্নেহা মৃদু হাসলো!কিন্তু মিহাদ সেই মৃদু হাসিটা দেখলো না।তবে প্রিয়তমার এই মৃদু হাসিটা, ঠিকই উপলব্ধি করতে পারলো!

——-সমাপ্ত——

গল্পের বিষয়:
গল্প

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত