প্রেমাতঙ্ক

প্রেমাতঙ্ক

— খুব সুন্দর লাগছে। তবে শাড়িটা যদি একটু গাঢ় রঙের হতো। তখন তোমাকে বাঙালী কবিতার মত লাগত।

এমন ধরনের ম্যাসেজের পরিপ্রেক্ষিতে। ওপাশ থেকে রিপলাই হিসেবে একটা লজ্জার ইমুজি। এই ইমুজি গুলা খুব কাজের। হাসি লজ্জা পাওয়ার মত বিষয় গুলো। এক ক্লিকে খুব সহজে প্রকাশ করা যায়। অামি জানি নিতু কম করে হলেও লজ্জা পেয়েছে। গাল লাল হয়ে যাওয়ার মত লজ্জা না হলেও। চোখ ছোট্টকরে হাসার মত লজ্জাটুকু নিতু পেয়েছে। এর অাগে কখনই নিতুকে শাড়িতে দেখিনি। মেয়েটা হয়তো প্রথম শাড়ি পরেছে। বেশ সুন্দর লাগছে। বাঙালী মেয়েদের শাড়িতে অসুন্দর লাগে না। এই যেমন নিতু যে শাড়িতে অাছে। সেখানে শাড়ির কুঁচি ঠিকঠাক নেই। তবুও মেয়েটাকে দেখতে ভালো লাগছে। কেমন যেন এক ধরনের মায়া ফুটে উঠেছে ওর মুখের মধ্যে।

— নিতু অাজ তোমাকে কেমন সুন্দর লাগছে জানো ?
– কেমন ?
— তোমাকে বেশিবেশি সুন্দর লাগছে।
– অাপনি কেমন অদ্ভুত ভাবে কথা বলেন। বেশিবেশি অাবার কেমন ধরনের সুন্দর ? এমন সুন্দরের কথা তো কখনই শুনিনি।
— তুমি যদি কপালে ছোট্টকরে একটা বিন্দুর মত টিপ পরতে। তখন তোমাকে হুটকরে কেঁপে ওঠার মত সুন্দর লাগত।
– কি যে বলেন অাপনি!
— জ্বী অামিই বললাম। সময় করে মিলিয়ে দেখ।
– ঠিক অাছে।
— তোমার কোন পছন্দের মানুষ থাকলে। তাকে এই ছবিটা দেখাবে। দেখবা বেচারা চোখ ফেরাতে পারবে না। তোমার প্রেমে গদগদ হয়ে যাবে।
– জ্বী, অামি সেটাই করেছি।
— তাই নাকি ? এটা তো খুব খুশির খবর। কিন্তু কখনও তো বলনি তোমার পছন্দের কেউ অাছে।
– এই ধরেন অাপনি মাঝেমধ্যে এত বোকামার্কা কথা বলেন। অামি কি কখনও অাপনাকে বোকা বলে ডেকেছি ?
— মানে কী?
– কিছু না। এত কম বুঝদার মানুষের সাথে কথা বলা যায় না। বায়! কাল সকালে কথা হবে।

হঠাৎ মেসেঞ্জারে টুং করে শব্দ। নিতু একটা ছবি পাঠিয়েছে। ছবিতে সে একটা হালকা রঙের শাড়ি পরে অাছে। ওর চুলো ভীষণ অগুছালো। খুব সুন্দর করে হাসছে মেয়েটা। এই ছবিটা নিয়েই এতটা সময় ধরে কথা হয়েছে। অামি জানি মাঝেমধ্যে টুকটাক উল্টাপাল্টা ধরনের কথা অামি বলি। কিন্তু তাই বলে কম বুঝদারের মত কি করলাম বুঝতে পারলাম না। নাটক সিনেমায় বহুবার এসব দেখেছি। নায়িকারা নায়কদের প্রেমে পরে। বেচারা বোকা নায়ক তা অাঁচ করতে পারে না। তখন নায়িকারা তাদের নায়কদের এসব ধরনের কথাবার্তা বলে। নিতু দেখতে নায়িকাদের মত এটা দ্বিধাহীন ভাবেই বলা যায়। কিন্তু অামার মধ্যে তো নায়কদের মত কিছুই নেই। মানে সহজ কথায়। অামাকে দেখে কেউ প্রেমে পরে যাবে। এমন ধরনের বিন্দুমাত্র কিছু অামার মধ্যে নেই। তবে নিতুর এমন করে বলার কারন ?

অামাদের মধ্যকার সম্পর্কটা দীর্ঘদিনের। তবে অবশ্যই সেটা প্রেমের সম্পর্ক না। অামার মধ্যে ভীষণ ভাবে প্রেমাতঙ্ক কাজকরে। এর পেছনে বড় কারন রমিজ ভাই। এক ধরনের বড়ভাই থাকে। যাদের সাথে বয়সের পার্থক্য থাকলেও। তারা বন্ধুর থেকেও বেশি কাছের থাকে। এই যেমন ক্রিকেটের কোন শর্ট শেখানো। কিংবা প্রথম সিগারেটের অভিজ্ঞতার মত বিষয় গুলোতে তারা জড়িত থাকে। রমিজ ভাই ঠিক তেমন ধরনের বড়ভাই। বেশ রশিক মানুষ। কদিন অাগে তার ব্রেকঅাপ হয়। বেচারা মাত্রাতিরিক্ত পাওয়া কষ্ট খুব কাছ থেকে দেখেছি। একটার পর একটা স্লিপিং পিল খেয়েও চোখে কোন ঘুম নেই। পিলের নেশায় বিরবির করে অনবরত কিসব বলছে। শোক কাটিয়ে উঠতে যাবে ঠিক তখন এক এক্সিডেন্টে পাজরের হাড় ভাঙে। হাড় ভাঙা রমিজ ভাই। হাসপাতালের বেডে শুয়ে কাঁদোকাঁদো গলায় অামাকে বলল। ‘ভাই কখনও প্রেম করিস না। প্রেমের ব্যথা হাড় ভাঙার ব্যথার চেয়েও কঠিন ব্যথা।’ সেদিন থেকে ঠিক করেছি। প্রেম অামি করব না। অামি শুরুতেই খুব কাটাকাটা ভাবে নিতুকে সেটা বলেও দিয়েছি। অামি ওসব প্রেমট্রেমে নাই।

অাজকের রাতটা হয়তো ঘুমহীন ভাবে কাটবে। অাজ নিতুর সাথে খুব একটা কথা বলতে পারলাম না। কি কি বলব করে ভেবে রেখেছিলাম। কিন্তু সেসব বলতে পারলাম না। বেশকদিন ধরে এই সমস্যায় ভুগছি। নিতুর সাথে কথা বলতে না পারলে ঘুম হয় না। কেমন যেন ফাঁকাফাঁকা লাগে। বুকের ভেতর চেপেচেপে ব্যথা করে। কিন্তু অামি ওসব প্রেমট্রেম নাই। অামাকে দিয়ে ওসব হবে না। মাথায় নিতু ছাড়া কোন কিছু কাজ করছে না। মাথা বনবন করছে। ভেতরটা সকাল হওয়ার অপেক্ষায় অাছে। কখন সকাল হবে। কয়টা নাগাদ নিতু অাসবে। কখন নিতুর সাথে কথা হবে। এসব মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। তবুও অামি কিন্তু ওসব প্রেমট্রেমে নাই।

গল্পের বিষয়:
গল্প

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত