রূপের মায়া

রূপের মায়া

“আপনার এ পর্যন্ত কতজনের সাথে অ্যাফেয়ার ছিলো?” নীলয় নামের অতি সুদর্শন ছেলেটির প্রশ্নে চমকে তাকালাম। “জি?” আজ দ্বাদশ বারের মতো পাত্রপক্ষ দেখতে এসেছে আমাকে। পাত্রের সাথে তার মা, চাচা ও বড়বোন এসেছে। পাত্রপক্ষের প্রশ্নপর্ব শেষে পাত্রের সাথে আলাদা কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। কথার সূচনায় আচমকা কোনোরকম দ্বিধা ব্যতীতই তার এমন প্রশ্নে অনেকটাই অপ্রস্তুত হয়ে পড়েছিলাম।

“জানতে চাইলাম, আপনার এ পর্যন্ত কতজনের সাথে অ্যাফেয়ার ছিলো?” কোনোরকমের জড়তা ছাড়াই সহজভাবে উত্তর দিলাম, “সতেরো” অদ্ভুত তাচ্ছিল্যের হাসি হাসলো নীলয়। “সতেরো! হুম স্বাভাবিক! আমি তো আরও বেশি ভেবেছিলাম!” “ভাবার কারণ?” “আপনি অতিরিক্ত সুন্দরী! কোনো ছেলেই অতি সুন্দরী মেয়েদের সন্তুষ্ট করতে পারেনা!” “আপনার কতজনের সাথে ছিলো?” “একজন। কলেজ লাইফে!” “ওহ!” “আচ্ছা! আপনার ফিজিক্যাল রিলেশনশিপ ছিলো কারো সাথে?” এ প্রশ্নের উত্তর দেয়ার পূর্বেই ছোটবোন এসে ডেকে গেলো! বড়রা সবাই বসার ঘর থেকে ডাকছেন! পাত্রপক্ষ আহার শেষে চলে গেলে মা প্রতিবারের মতো এসে ঢুকলেন আমার ঘরে। একই ভঙ্গিমায় প্রশ্ন করলেন, “কেমন মনে হলোরে ছেলেটাকে?” মা, এই বিয়েতে আমি রাজি!” কি বললি? “এই বিয়েতে আমি রাজি!”

মা কিছুক্ষণ হতভম্ব চেহারায় তাকিয়ে থেকে মাথায় হাত রেখে বিড়বিড় করে বললেন, “আলহামদুলিল্লাহ”
বলেই ঘর থেকে বেড়িয়ে যেতে গিয়ে পিছনে ফিরলেন, “এত এত ছেলের মধ্যে নীলয়কে কেনো ভালো লাগলো তোর?” “যা বলে সোজাসাপ্টা বলে ছেলেটা!” মা ভ্রু কুঁচকে তাকালেন; কিন্তু কোনো প্রশ্ন করলেন না, বেড়িয়ে বাবার ঘরের দিকে গেলেন আমি উঠে গিয়ে দরজার ছিটকিনি ভেতর থেকে লাগিয়ে দিলাম! বাথরুমে গিয়ে শাওয়ার নিয়ে শাড়ি বদলে আয়নার সামনে এসে বসলাম! নীলয়কে আমি কেনো পছন্দ করলাম আমি জানিনা! স্কুললাইফের শুরু থেকেই একটার পর একটা ছেলে লেগেই থাকতো পেছনে! নিজের সৌন্দর্য নিয়ে ধারণা থাকায় একরকম অহংকারবোধ বরাবরই ছিলো।

প্রথম প্রেমে পড়েছিলাম ক্লাস নাইনে। ছেলেমানুষী, খুব সহজ সরল কতগুলো আবেগ নিয়ে সম্পর্কে জড়িয়েছিলাম। তারপর নিজের যোগ্য অর্থাৎ একদম পারফেক্ট, নিখুঁত লাইফ পার্টনার খুঁজতে খুঁজতে সতেরোটা রিলেশন শেষে এবার পরিবারে পছন্দে বিয়ে করছি। তাতেও এগারোটা পাত্রকে রিজেক্ট করার পর আমি নীলয়কে বিয়ে করার জন্য কিছু না ভেবেই রাজি হয়ে গেলাম। পারফেক্ট খুঁজতে খুঁজতে হাঁপিয়ে গিয়েছি। আর না! নীলয়ের দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তরটা দেয়া হয়নি! দিতে হলে, হয়তো সত্যি বলতে পারতাম না! দু’মাসের মাথায় ধুমধামের সাথেই বিয়েটা হয়ে গেলো আমার আর নীলয়ের। বিশাল বিজনেস নীলয়দের। শ্বশুরের এত বিশাল সম্পত্তির সম্পূর্ণ অধিকারী নিলয়। কার্ডিওলজিস্ট হিসেবে তার নিজেরো বেশ নামডাক। লম্বা, ফর্সা, দেখতে সুদর্শন! মনে হলো, এটাই হয়তো পারফেক্ট আমার জন্য! আফসোস তখন যদি বুঝতাম!

“নব, তুই এখানে?! তুই কি বলতো? দিপাকে নিয়ে পার্লারে যেতে হবে! কত দেরী হয়ে গেলো! আর তুই এভাবে বসে আছিস নিজের ঘরে? ছোট বোনের বিয়ে। কিছু তো কাজ কর!” চ্যাঁচাতে চ্যাঁচাতে ঘরে এসে ঢুকলো আপা। আপার চ্যাঁচামেচিতে হুঁশ ফিরলো। আজ আমার ছোট বোন দিপার বিয়ে। চারপাশের এতোসব আয়োজন দেখে নিজের বিয়ের সময়গুলোর কথা মনে পড়ছিলো! দিপার ঘরে গেলাম ওর সব গুছিয়ে দিতে। পার্লারে যাওয়ার সময় মাইক্রোতে বসে বোনের দিকে তাকিয়ে খেয়াল করলাম, দিপাকে কোনো সাজ ছাড়াই কি অপূর্ব লাগছে…. দিপা আমার মতোই হয়েছে দেখতে, কিংবা আমার চেয়েও বেশি সুন্দর। আচ্ছা, দিপা কি জানে, ও কতটা সুন্দর? কেউ কি ওকে কখনো বলেছে? নিশ্চয়ই বলেছে! কিন্তু আমার মনে হয়, দিপার এ নিয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই।

ওকে দেখে খুব খুশি খুশি মনে হচ্ছে! ভালোবাসার মানুষটাকে সম্পূর্ণ নিজের করে পাওয়ার আনন্দ স্পষ্ট ফুঁটে উঠেছে ওর চোখেমুখে! দিপার আনন্দ স্পষ্ট জানান দিচ্ছে, ওর কোনো দ্বিধা নেই, কোনো ভয় নেই, কোনো সন্দেহ নেই! অজান্তেই ফিসফিসিয়ে বলে উঠলাম, “সুখী হবি তুই। আমার ছোট্ট বোনটা, অনেক সুখী হবি তুই””বড় আপা, দুলাভাই কই রে? সেই সকালে দেখলাম। সারাদিন আর খোঁজ নেই!” দিপা আপাকে প্রশ্ন করলো! “আর বলিস না তো ওর কথা! সকাল সকাল নাকি ফটোগ্রাফার জানিয়েছে, তারা আসবেনা! তোর দুলাভাই কোনো কাজ যদি ঠিকঠাক করে! এখন আবার সে নতুন ফটোগ্রাফার ম্যানেজ করা নিয়ে ব্যস্ত!” “আহ! আপা, দুলাভাইয়ের কি দোষ? সব কাজ একা সামলাচ্ছে! আমার কোনো ভাই থাকলে যা যা করতো, দুলাভাই তার সবই করছে! একটামাত্র দুলাভাই আমার, তুই ওভাবে বলবিনা!”

শেষ লাইনটা বলে দিপা আপার দিকে তাকিয়ে চুপ করে গেলো! আপার দিপাকে করা ইশারা আমার চোখ এড়ালোনা! আমার খুব মন খারাপ হয়ে গেলো। ওরা কি আমাকে করুণার চোখে দেখে? আমাকে নিয়ে আফসোস করে? আমি খুব সহজে পরিস্থিতি সামাল দিতে পারি! ওদের অস্বস্তি বুঝে উঠে হাসতে হাসতে বললাম, “আপা। দুলাভাই কিন্তু আসলেই জোস মানুষ। তোর ওভাবে বলা ঠিক না!” আপা হাসলো! লোক দেখানো কিংবা ফরমালিটির খাতিরের হাসি না! প্রশান্তির হাসি! আমার চোখ ভিজে উঠলো, নিজের দুর্ভাগ্যের কথা ভেবে কিংবা আপার সৌভাগ্য দেখে! নীলয়ের সাথে বিয়ের দুবছরের মাথায় আামার ডিভোর্স হয়! নীলয়ের কোনো ভুল ছিল না; ভুল ছিলো আমার! রূপের দাম্ভিকতায় খুঁত ধরতে ধরতে নিজেরই যে এতো বড় খুঁত ধরা দেবে কে জানতো! নীলয়ের সাথে বিয়ে ঠিক হওয়ার পরের দুমাস আমাদের বেশ ভালোই কাটে! বিয়ের পরপর সময়গুলোও ভালো ছিলো! তিন চার মাস পেরোনোর পর নিজের রূপের দাম হাতে হাতেই পেয়ে যাই!

নীলয় বাবার ব্যবসার পাশাপাশি নিজেও একটা জব শুরু করেছিলো। নতুন চাকরি পার্মানেন্ট হয়নি তখনোও! মাঝেমাঝে নাইট ডিউটি থাকতো ওর! আমার মাঝেমাঝে খারাপ লাগতো; কিন্তু মানিয়ে নিচ্ছিলাম! কয়েক মাস যাওয়ার পরই জানতে পারলাম নীলয়ের এক জুনিয়র কলিগের সাথে তার একটা সম্পর্ক চলছে! রাতে মেয়েটি নীলয়ের সাথেই থেকে যেতো! প্রচন্ডভাবে ধাক্কা পেয়েছিলাম সেইদিন! নীলয়ের সাথে এ নিয়ে অনেক ঝগড়াঝাঁটির পর ও নিজেই আমার কাছ্ ক্ষমা চাইলো! সেই কলিগের সাথে ও সত্যি সত্যিই যোগাযোগ বন্ধ করে দিলো! এরপর আমার আবার তার উপর ধীরে ধীরে বিশ্বাস জন্মাতে শুরু করেছিলো! এভাবে প্রায় দেড়বছর কেটে যায়। আমরা বেবির জন্য প্রথম থেকেই চেষ্টা করেছিলাম! কিন্তু দেড়বছরে আমি কনসিভ না করায় কিছুটা সন্দিহান হয়ে দুজনেই নানান টেস্ট করালাম।

প্রবলেমটা আমার নিজেরই! ডাক্তার সরাসরিই বলে দিলেন, আমি মা হতে পারবোনা কখনো! আমি পুরোপুরি ভেঙে পড়ি সে সময়! নীলয়কে বললাম আবার বিয়ে করতে! অদ্ভুতভাবে নীলয় আমাকে সেসময় প্রচন্ড মানসিক সাপোর্ট দিয়েছিলো! আবার বিয়ে করতে ও চায়নি! আমি একদিকে অপরাধবোধে ভুগতে থাকি, অপরদিকে অপার বিশ্বাসে ডুবে যাই নীলয়ের প্রতি! দিনদিন আমার চেহারা খারাপ হতে শুরু করে! রাত জাগতে জাগতে চোখের নিচে মোটা কালো স্তর পড়ে যায়! আগের মতোন আর নিজের যত্ন নিতে ইচ্ছে করেনা! মানুষের সামনে যেতে ইচ্ছে করেনা! ঘরকুনো হয়ে পড়ি ধীরে ধীরে!

কয়েকমাস যাওয়ার পর ক্ষতটা কিছুটা শুকিয়ে যেতেই দ্বিতীয় ধাক্কাটা খাই! নীলয় আমাকে না জানিয়ে একটা মেয়েকে নিয়ে বাড়িতে উঠে আসে। প্রথম প্রথম পরিচয় দেয়, কাজিন হিসেবে৷ কয়েকদিন যাওয়ার পর খেয়াল করি, নীলয় বদলে যাচ্ছে! রাতে প্রায়ই সে মেয়েটার ঘরে গিয়ে থাকে! আমি কয়েকবার রাগারাগি করার পর নীলয় বলে, সে মেয়েটিকে বিয়ে করেছে একমাস আগে! আমার কাছে ডিভোর্স চায় নীলয়! আমি কোনো বাকবিতন্ড ব্যতীতই ডিভোর্স দিয়ে দেই! কি বা বলতাম আমি! তখন আমার না ছিলো আগের সেই রূপ, আর না ছিলো মা হওয়ার যোগ্যতা!

সময় যেতে যেতে অনেক কিছুই জানতে পারলাম। নীলয়ের সাথে আমার বিয়ের পরেও ওর সাত-আটজনের সাথে অ্যাফেয়ার ছিলো! এদের কারো সাথেই তার দু-তিন মাসের বেশিদিন সম্পর্ক ছিলোনা! নীলয় সৌন্দর্য পিপাসু ছিলো! শুধু নীলয় না, এরপর আমার যেনো আমার মনে হতে থাকে, আমার জীবনে আসা প্রতিটা প্রেমের কিংবা বিয়ের প্রস্তাব কোনো না কোনো নীলয় নিয়ে এসেছিলো! নীলয়রা কোনোদিন চোখের মায়ার প্রেমে পড়েনা! পড়ে শারিরীক সৌন্দর্যের প্রতি! যার কারণে একজন পুরনো হলে নতুন প্রয়োজন হয়!

আমার মা না হওয়ার পরেও কেনো নীলয় আমাকে সাপোর্ট দিয়েছিলো তা আমি অনেক পরে বুঝতে পারি! আমার ওর প্রতি যে বিশ্বাসটা জন্মে গিয়েছিল, তার জন্য আমার সাথে এক ছাদের নিচে থেকেও ওর আড়ালের এসব নোংরামো আমার চোখে পড়েনি! এই বিশ্বাসটা নতুন কাউকে বাড়িতে এনে তুললে ও পেতোনা! কিন্তু একটা সময়ে এসে যখন আমার রূপ হারাতে শুরু করলো, ওর আর ন্যুনতম আকর্ষণটুকুও রইলোনা আমার প্রতি! বাবা মা কে জানিয়ে বাসায় এসে উঠি। বাসার কেউ আমার এ নিয়ে অতিরিক্ত কোনো প্রশ্ন করেনি। যথেষ্ট সাপোর্ট পাই মা-বাবা, বোনদের কাছে! যদিও আত্মীয়-স্বজনরা কথা শুনাতে ছাড়েনি! একটা কথা বেশ কয়েকবার কানে বেজেছে, “অতি বড় সুন্দরী না পায় ঘর, আর না পায় বর!”

আমরা তিনবোন! আমি আর ছোটবোন দিপা দেখতে মায়ের মতো হলেও, বড় বোন হয়েছিলো বাবার মতোন। আপা আমার চেয়ে বছর ছয়েক বড়! আমার যখন বিয়ে হয়, তখন আমার বয়স তেইশ। আর আপা উনত্রিশের কোঠায়! আপা জন্ম থেকেই কৃষ্ণবর্ণা! আপার জন্য যখন ছেলে দেখতে শুরু করে মা বাবা, তখন আপার ওজন একশো বিশ কেজি! চার পাঁচ বছর ধরে কোনো ছেলেই যখন আপাকে পছন্দ করছেনা, তখন যেনো তেনো কোনো ছেলে হলেই যেনো আব্বা-আম্মা মেয়েকে তার হাতে তুলে দেবেন এমন অবস্থা! আমার জন্য তখন সম্বন্ধের ওপর সম্বন্ধ এসেই চলেছে! শেষে আপার আগেই আমার বিয়ে হয়ে গেলো!

আপা তখন মেডিকেলে পড়ছে! আমার বিয়ের একবছরের মাথায় আপার এক সিনিয়র ভাই তাকে প্রপোজ করে বসে! ছেলের বাবা মা, আমাদের বাসায় বিয়ের কথা বলতে আসলে খুব দ্রুতই আপার বিয়েটা হয়ে যায়! দুলাভাই কলেজ লাইফ থেকেই আপাকে চিনতো। নিজে প্রতিষ্ঠিত হয়েই আপাকে জানায়! বিয়ে তিন চার বছরের মধ্যেই আপা কি কি সব করে ওজন বাষট্টি কেজিতে এনে নামালো! আমার কৃষ্ণাঙ্গিণী আপার টানা টানা মায়াবী চেহারা দেখে এখন হয়তো অনেক যুবকই প্রেমে পড়ে! কিন্তু যখন তার মায়া কারো চোখে পড়েনি, তখন পড়েছিলো একমাত্র দুলাভাইয়ের চোখে! এখন আপার একটা দুবছর বয়সী মেয়ে আছে-আরিশা নাম… আমাকে যখন ও আধো আধো বুলিতে “নব মা” বলে ডাকে, কি যেনো একটা গভীর অনুভূতি তখন আমায় জাপটে ধরে!

দীপার বর চলে এসেছে! সব ছোট ভাইবোন গেট ধরেছে টাকা তুলতে! আমি আর আপা দীপার পাশেই বসে আছি! দীপাকে সেজে ভালো লাগছেনা। কোনো মেয়েকেই কেনো যেনো বিয়ের দিন দেখতে ভালো লাগেনা! হয়তো পুরনো সব মায়ার টান ছেঁড়ার আঘাতে ভেতরের দুমড়ে মুচড়ে যাওয়ার অনুভূতিগুলো সব চেহারায় প্রভাব ফেলে! নীলয়ের বলা একটা কথা ভুল ছিলো, “অতিরিক্ত সুন্দরী মেয়েদের কোনো ছেলেই সন্তুষ্ট করতে পারেনা!” দীপা তার স্কুল লাইফের প্রথম প্রেমিককেই জীবনসঙ্গী নির্বাচন করেছে! ওদের মধ্যে সব বিষয়েই নিশ্চয়ই মিলতোনা! দীপার সবকিছুই ওর বরের পছন্দ ছিলো যে তা না। কিংবা দীপার জীবনে যে ওর চেয়ে ভালো দেখতে বা ভালো মনের কোনো ছেলে আসেনি তাও না! অথচ দীপার মনে একবারের জন্যেও দ্বিধা তৈরি হয়নি যে, এই ছেলেটা তুলনায় অন্য কেউ কি বেশি ভালো নয়?! ছেলেটিকে কি আদৌ মানায় তার সাথে!?

দীপা কিছুই ভাবেনি! না ভেবেই ও ওর জন্য পারফেক্ট লাইফ পার্টনার খুঁজে পেয়েছে! আপার বিয়ে পর আমার কাছে সৌন্দর্য একটা অভিশাপ মনে হতো! আমার জীবনে আমি যতোগুলো প্রস্তাব পেয়েছি সব আমাকে দ্বিধান্বিত করেছে! এরা সবাই আমার রূপের প্রতি প্রস্তাব এনেছে। আপার জীবনে একটাই প্রস্তাব এসেছিলো! সেই একজন আপার জন্যেই প্রস্তাব এনেছিলো। আপার কোনো একটা কিছুর প্রতি আকৃষ্ট হয়ে আসেনি, যা হারিয়ে গেলে সেও হারাতে পারে!

“আরেহ নব, এখানে কেনো তুমি? তোমার আপাও দেখি বউ সেজে পুতুলের মতো বসে আছে! একটু খাবার ঘরে গিয়ে আত্মীয় স্বজনদের দেখলেও তো পারো! আমি কি একাই সবদিক সামলাবো?!” আপা রাগে গজগজ করতে করতে উঠে দাঁড়ালো! খাবার ঘরের দিকে এগোতে যেতেই দুলাভাই হাত টেনে ধরে আমার দিকে তাকিয়ে বললো, “বড় শ্যালিকা, দেওতো কটা ছবি তুলে! আমার বউটাকে আজকে ভালোই লাগছে দেখতে!” আমি হেসে দুজনার দু’তিনটা ছবি তুলে দিতেই আপা “হইছে! অনেক রঙ তামাশা হইছে। চল তো নব আমার সাথে” বলেই পিছন ঘুরে হাটতে শুরু করলো! আপার লজ্জামাখা চেহারায় প্রশান্তির আভাস উজ্জ্বলভাবে ফুটে উঠলো!

সমাপ্ত

গল্পের বিষয়:
গল্প

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত