ডিটেক্টিভ শুভ্র

ডিটেক্টিভ শুভ্র

পেশাগত গোয়েন্দা না হলেও শখের বশে গোয়েন্দাগিরিই করেন । পড়ালেখা শেষ করে অনেকদিন চাকরীর জন্য ঘুরেছেন । তারপর হঠাৎ মাথায় আসলো এই গোয়েন্দাগিরি । মা-বাবা নেই শুভ্র কিন্তু একজন কাকা আছেন । হঠাৎ একদিন তার কাকা তাকে সব সম্পত্তি লিখে দিলেন । বিরাট বড় বাড়ী, ৪টা গাড়ী , আর তাছাড়া পুরো বাংলাদেশে তার অনেকগুলা ফার্ম হাউজ আছে । তাই শুভ্র চিন্তা করলো চাকরী আর করবে না । শুভ্র অনেকটা ভবঘুরে । হঠাৎ গাড়ী নিয়ে বের হয়ে যায় ।

একদিন গাড়ী নিয় ঘুরছেন তখন আচমকা তার গাড়ীর সামনে একজন এসে গেলো যথা সম্ভব চেষ্টায় ব্রেক কষলেন । কিন্তু লাভ হলো না সম্মুখের ব্যাক্তিটা আহত হলেন । শুভ্র তাকে নিয়ে গেলেন হাসপাতালে । কিন্তু হাসপাতালে তেমন ভালো ব্যবস্থা না দেখে লোকটাকে নিয়ে গেলেন তার নিজের বাসায় । যেতে যেতে ডাঃ নাজমুলকে ফোন দিয়ে বললেন তার বাসায় থাকতে । লোকটাকে বাসায় নিয়ে গেলো শুভ্র ।

ডাঃ নাজমুল লোকটাকে পরীক্ষা নিরিক্ষা করে বললেন, ‘তেমন কিছুই হয় নি । শুধু অজ্ঞান হয়ে গেছে ’ ‘তাহলে তো ভালোই । আমি তো ভেবেছিলাম অন্য কিছু ’পরের দিন লোকটার জ্ঞান ফিরেছে তাই শুভ্র ডাঃ নাজমুলকে ফোন দিয়ে আসতে বললেন । ডাঃ নাজমুল আসলেন, এসে আবার লোকটাকে চেক করে বললেন ‘ সে একটু দূর্বল হয়ে গেছে । আমি একটা স্যালাইন দিয়ে দিচ্ছি , ভালো অনুভব করবেন । লোকটা বলল, ‘ আপনাদের ধন্যবাদ, আমাকে ক্ষমা করবেন আমি আপনার গাড়ী দেখতে পাই নাই । শুভ্র বললো,‘ আরে না কি যে বলেন না । ভুলটা আমারই ছিলো আমার আরো সতর্ক হওয়ার দরকার ছিলো । বিকাল বেলা শুভ্র আর সেই লোকটা বারান্দায় বসে চা খাচ্ছে , তখন শুভ্র বলে উঠলো  ‘তা এতো তারাহুরায় কোথায় যাচ্ছিলেন ?  ‘আর বলবেন না শুভ্র সাহেব । অনেক চাপের মুখে আছি , অনেক টাকার লোকসান হয়ে গেলো ।

‘জ্বি বুজলাম না কিছু ?  ‘গোয়েন্দা খুজছি অনেকদিন ধরে । এই নিয়ে ৬ জনকে hire করা হয়েছে কিন্তু কেউই পারলো না আমার জিনিসটা আমায় ফিরিয়ে দিতে ।  ‘তা জিনিসটা কী জানতে পারি ? ‘হুমম, তা অবশ্য পারেন ।  শুভ্র সাহেব , কখনো নীলাচী এর নাম শুনেছেন ? ‘জ্বী সেই নিল হিরাটি । আমার একটি বন্ধু আছে অনেক ভালো লেখক তার একটি গল্পে এই ‘নীলাচি’ এর নাম শুনেছিলাম । কৌতুহলবশত তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম তখন জানতে পারি এর সম্পর্কে । ‘বলতে পারবেন তার মুল্য কত ? ‘শুনেছিলাম ৮০ থেকে ৯০ লক্ষ টাকা । ‘জ্বী না । এইটার মুল্য এখন সর্বনিম্ন ৩০ কোটি টাকা  শুভ্র একটু কাশি দিয়ে চোখ বড়বড় করে লোকটার দিকে তাকালো । ‘জ্বী শুভ্র সাহেব । আমার বাবা মাইনুল সর্দার আমাকে এইটা দিয়েছিলেন  ‘তার মানি আপনি ‘হুমম । আমি আহসান সর্দার ।

‘আপনার তাহলে এই অবস্থা কেনো ? নীলাচি কী কোনো মতে হারিয়ে গিয়েছে ? ‘না হারায় নি বটে । চুরি হয়ে গিয়েছে  আহসান সাহেব অনেক শান্ত গলায় এই কথাটা বললেও , আমি নিশ্চিত সে অনেকটাই চিন্তিত । তাই একটু আগ বাড়িয়ে জিজ্ঞাসা করলাম , ‘তা কীভাবে হলো এইসব ? ‘তা জানি না । তবে একটা কথা জানি নীলাচি এর পিছনে অনেক মানুষ লেগে আছে ।  ‘সেটা কীভাবে জানলেন ?  ‘বাবা বলে গিয়েছিলেন ।  ‘হুমম আন্দাজ করেছিলাম । আচ্ছা কিছু মনে না করলে একটা কথা বলতে চাই । আহসান সাহেব বললেন, ‘জ্বী বলেন ।  ‘আমি পেশাদার নই তবে শখের বশে গোয়েন্দাগিরি করি । তাই আমি ভাবছিলাম যদি আমি এই কেসটা নেই । ‘মন্দ হয় না । কিন্তু একটা বিরাট সমস্যা আছে  ‘কী সমস্যা ? আহসান সাহেব চুপ হয়ে একটু উঠে দাড়ালেন । আমিও দাড়ালাম, ‘আপনার জীবন যেতে পারে ।

আমি ভাবলাম এই রকম থেড অনেকেই দিয়েছে । আজ পর্যন্ত কিছু হয় নি কিন্তু আহসান সাহেব যেহেতু বলছেন একটু সতর্ক থাকতে হবে । ‘জ্বী আমি রাজি আহসান সাহেব । ‘আচ্ছা তাহলে তৈরি থাকেন কাল সকালে আমার গাড়ি আসবে আপনাকে নিয়ে যেতে  আমি বললাম, ‘না, তার কোনো প্রয়োজন হবে না আপনি আপনার ঠিকানাটা দিয়ে যান । আহসান সাহেভ কী যেন ভাবলেন অতঃপর বললেন, ‘শুভ্র সাহেব একটা কাজ করলে কেমন হয় ? আপনি আমার বাসায় কাজের লোক হিসেবে আসেন ? যদি কোনো আপত্তি না থাকে । কারণ আমার ভয় হচ্ছে যে আপনার প্রাণ সংশয় আছে ।  ‘মন্দ বলেন নাই । ছদ্দবেশে আসলে কেউ বুজতেও পারবে না । আপনার বুদ্ধি আছে বলতে হবে । আহসান সাহেব কিছু বললেন না শুধু হাসলেন ।

খুব সকালে দারোয়ান এসে বললো,  ‘সাহেব কে যেনো এয়েছে আপনারে নিতে । বাইরে দাড়াইয়া আছে । ‘ভিতরে এসে বসতে বলো । চা নাশতাআ খাওয়াও আমি আসছি তৈরি হয়ে শুভ্র রওয়ানা দিলো । গাড়ী চলতে চলতে ঢাকা শহড়ের যানজট এড়িয়ে চলে এলো গ্রামাঞ্চলে । জায়গাটা তার অচেনা । দুই ধারে সবুজ গাছ, অনেক ধরনের গাছ করই গাছ, ডুমুর গাছ, তার সাথে আবার ২ একটা সুপারি দেখা যাচ্ছে । একটু সামনে গিয়েই ড্রাইভার সাহেব গাড়ী থামিয়ে দিলেন । আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম,‘কি হলো ড্রাইভার সাহেব ? গাড়ী থামিয়ে দিলেন যে । ‘বড় বাবু মানা করেছেন, বলেছেন আপনাকে এখানেই নামিয়ে দিতে ।

আমি নেমে গেলাম । পকেট থেকে সিগারেট এর প্যাকেটটা বের করলাম । সিগারেট টা জ্বালাতে না জ্বালাতেই আহসান সাহেব কে দেখতে পেলাম দূর থেকে । আমি সিগারেট টা শেষ করার জন্য তারাহুড়া করছি, তখন আহসান সাহেব বললেন ‘সমস্যা নেই । খেতে পারেন  ‘আপনাকে ধন্যবাদ । আহসান সাহেবের হাতে একটি ব্যাগ । আমি বললাম, ‘ব্যাগে কী আমার জন্য কাপড় ? আহসান সাহেব স্বাভাবিক ভাবেই বললেন , ‘হুমমম । ‘আহসান সাহেব, আমার একটা এসিস্টেন্ট আছে তাকে যদি এনে দেন তাহলে ভালো হয় । ‘কোথায় থাকে সে ? ‘খিলগাও, নিউ ইস্কাটন রোড এ গিয়ে যে কাউকে জিজ্ঞাসা করবেন । মুহিন কে? তাহলেই পেয়ে যাবেন ।

আহসান সাহেব তার ড্রাইভার কে দিয়ে মুহিনকে আনার জন্য । আহসান আমাকে নিয়ে চলে গেলেন সামনের একটা হোটেল এ । সেখানে গিয়ে চা খেতে খেতেই মুহিন উপস্থিত । দৌড়ে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরে বললো,  ‘ভাইয়া আপনাকে অনেক মিস করেছি । খোজ খবর নিতে আসলেন না যে?  ‘আরে আর বলিস না । একটা কেসে ফেসে গিয়েছলাম, নে এখন বস আর চা খা । আহসান সাহেব বললেন, ‘শুভ্র সাহেব , ঘটনাটার সূচনা হয়েছিলো একবছর আগে । বাবা অনেক অসুস্থ ছিলেন , বাবাকে নিয়ে চলে যেতে হলো ব্যাংকক । কিন্তু কোনো লাভ হলো না, তারপর বাবাকে নিয়ে চলে গেলাম মাদ্রাজ । সেখানকার ডাক্তাররা বললেন বাবা বেশি দিন বাচবেন না । দেশে ফেরত নিয়ে যান । বাবাকে দেশে এনে রাখা হলো ১৭ দিন এর মধ্যেই বাবা হার্ট এট্যাক করলেন । তারপর থেকে বাবা তেমন ভালো করে কথা বলতে পারেন না । তার মাত্র ৭ দিন পর বাবার ২য় এট্যাক হলো । আমার মনে হলো কিছু একটা রহস্য তো আছে কারণ একটা কাকতালিয় ব্যাপার হলো বাবার বন্ধু অনিমেশ ব্যানার্জী বাসা থেকে যাওয়ার পরেই বাবার এই ২টা এট্যাক হয় ।

বাবার অবস্থা ছিলো অনেকটাই খারাপ , একদিন বাবা আমাআয় একটা ডায়েরী দিলেন আর একটা ঘরি দিলেন । আগেকার দিনের চেইন ঘড়ি , আমি ডায়েরীটা পড়ি নাই । কারণ আমি তখন বাবার জন্য অনেক চিন্তিত ছিলাম । বাবা হঠাৎ করেই চলে গেলেন । আমি তাকে বললাম, ‘তারপর কী ডায়েরীটা পড়েছিলেন ? ‘হুমম । পড়েছিলাম ‘কী জানতে পারলেন ?  ‘জানতে পারলাম বাবার নীলাচি এর কথা , অনেক কথাই লিখে গেছেন বাবা । ১৬২৩ সাল ব্রিটিশ শাসক Lord Daniel WillSon Amandan পারস্য রাজ্য থেকে বলতে গেলে চুরি করে এনেছিলেন নীলাচি টা । ঠিক বলছি তো আহসান সাহেব ? আহসান সাহেব যেনো ভূত দেখলেন এমন অবস্থা হাতের সামনে রাখা পানির গ্লাস্টা এগিয়ে দিলাম । এক চুমুকে সবটা খেয়ে নিলেন । কিছুটা শান্ত হয়ে বললেন, ‘আপনি কীভাবে জানলেন এইসব ?

আমি হাসলাম, ‘আপনার প্রৌপিতামহ জনাব জয়নাল সর্দার ভারতের পুরানো দিল্লিতে এই নীলাচি এর সন্ধান পান । ঠিক তো?  ‘একদম সুতোয় সুতোয় । কিন্তু আপনি এইসব জানলেন কীভাবে?  কথাটা বলতে না বলতেই হঠাৎ গুলি চলল , আমি মুহিনকে নিয়ে দৌড়ে চলে গেলাম হোটেল থেকে । সাথে আহসান সাহেবও দৌড় লাগালেন । কিছুক্ষন দৌড়াতেই আহসান সাহেবের ড্রাইভারকে চোখে পড়লো যথা সম্ভব তারাতারি গাড়ীতে ঊঠে পড়লাম । গাড়ী ছুট লাগালো যতো তারাতারি সম্ভব । ‘তা আহসান সাহেব, প্রাণ সংশয় তো আপনারো আছে দেখছি ? হাহাহাহা ‘আপনি হাসছেন শুভ্র সাহেব । রাত প্রায় ঘনিয়ে আসছে কিন্তু আহসান সাহবে এখনো আমাদের নিয়ে তার বাসায় নিয়ে যাচ্ছেন না । মুহিন আমাকে বলল,‘শুভ্র ভাইয়া, কেসটা তো মজার হবে । ‘তা আবার বলতে । তা তোর ভয় লাগে নি তো ? ‘আরে না কি যে বলো না তুমি । আহসান সাহেবের বাসায় পৌছালাম রাত ৮ টায় । বাড়ী নয় মনে হলো বিশাল বর একটা প্রাসাদ । অনেক পুরানো তবে ইংল্যান্ডে এমন বাড়ী হলে প্যালেস বলে চালিয়ে দেয়া যেতো । কিন্তু এখানে তা বলা যাচ্ছে না ।

বাড়ীতে ঢুকতেই চোখ পরলো দারোয়ানের দিকে । যেনো সে এই বাড়ীর মালিক । বাড়িতে গেলাম, মুহিন আর আমার জন্য একটি কামড়া দেয়া হলো । দোতলার সর্বশেষর টা । রাতের খাবার খেতে নিচে যেতে হলো না একজন রোগা করে ব্যাক্তি এসে দিয়ে গেলো । রাতের খাবার খেয়ে আহসান সাহেবের সাথে দেখা করতে গেলাম । সে ইজি চেয়ারে আধশোয়া অবস্থায় সিগার খাচ্ছেন । আমাকে দেখে বললেন, ভাবলাম কাজের লোক বলে আপনাকে আনবো কিন্তু ড্রাইভারটা সব গন্ডগোল করে দিয়েছে । আপনার প্ল্যান্টা পরিবর্তন করতে হবে সম্ভবতো । ‘সে নিয়ে আপনি ভাববেন না । আপনি নিশ্চিন্তায় থাকেন । যেটা বলছিলাম হোটেলে । গতো ১ মাস আগে বাবার বন্ধু এসেছিলেন ।

‘ঐ যে অনিমেশ বাবু ?  ‘হুমম । এসে আমায় থেড দিলো যে নীলাচি নাকি তার । তাকে সেটা ফেরত না দিলে সে নাকি পুলিশ কমপ্লেইন করবেন ।  ‘তা আপনি কি করলেন ? ‘আমি জানি সে এটা করবে না কারণ সে নিজেই ধরা খাবে তখন । কারণ তার কাছে কোনো প্রুফ নেই । ‘থাক বাকিটা কালকে বইলেন আজ আপনি রেস্ট নেন । আর হ্যা আপনার বাবার দেয়া ডাইরি টা দিন । ‘হুমম । তা অবশ্য দিচ্ছি, একটা কথা বলাআর ছিলো । ‘জ্বী বলুন । ‘দিনে তেমন কিছু হবে না কিন্তু রাতে সাবধান থাইকেন ।  ‘ আচ্ছা ডায়েরিটা নিয়ে চলে এলাম ঘরে , এসে দেখি মুহিন ঘুমাচ্ছে । আমি ডায়েরিটা নিয়ে পড়তে শুরু করলাম । সব পাতায় একটা করে সাবধান বানী দেয়া । ডায়েরিটা পড়ে বুজতে পারলাম যে নীলাচি কোথায় আছে আর সেটা কীভাবে উদ্ধার করতে হবে । হঠাৎ কার যেনো উপস্থিতি বুজতে পারলাম । মনে হয় কেউ দরজায় আরি পেতে আছে । আমি একটু কাশি দিয়ে বললাম, ‘দাড়োয়ান সাহেব আসতে পারেন । হঠাৎ সে দৌড় দিলো । আমি আর তার পিছনে ছুট লাগালাম না ।

সকাল বেলা আহসান সাহেব আমার রুমে এসে বললেন, ‘শুভ্র সাহেব আসেন সকালের নাশতা করবেন । ‘আপনি কষ্ট করে আসলেন কেনো ? ‘এইটা দিতে । ‘এইটা তো রিভল্ভার ?? ‘হুমম সাথে রাখেন কাজে লাগবেই । তারপর আহসান সাহেবের সাথে নিচে গেলাম । মুহিন সেখানেই বসে ছিলো । সকালের নাশতা খেয়ে আহসান সাহেবকে বললাম, ‘একটু বাহিরে যাচ্ছি মুহিনকে নিয়ে । ওর অনেক শখ ঘুরার তাই আর কি । ‘আচ্ছা ড্রাইভারকে বলে দিচ্ছি । ‘আরে না হেটেই যাবো । আপনি চিন্তিত হবেন না । মুহিনকে নিয়ে রওনা দিলাম । আশেপাশে অনেক গাছ মাটির রাস্তা । হাটতে হাটতে অনেক খানি দূরে চলে আসলাম।

একটা চায়ের দোকান দেখতে পেলাম , সেখানে গিয়ে চা খাচ্ছি তখনই একজন চাদর গায়ে দেয়া ব্যাক্তি মুখটা প্রায় ডাকা সে এসে বললেন, ‘একটা উপদেশ দিয়ে রাখি নীলাচি নিয়ে পরবেন না, বেচ থাওকতে চাইলে ।  ‘আপনি কে ? ‘সে যেই হই না কেন । কথাটা কিন্তু মনে রাখবেন । বলেই সে হাটা শুরু করলো আমি পিছন থেকে তাকে ডাকছি কিন্তু সে তার মত হাটতে ব্যাস্ত ।  মুহিন বলে উঠলো, ‘ভাইয়া ভয় লাগছে । ‘আরে পাগল ভয়ের কী আছে ? আমি আছি না । দোকা থেকে একটা সিগারেট কিনে জ্বালাতে লাগলাম কিন্তু দোকানের লাইটারটা নষ্ট । তাই নিজের দেশলাই বের করে সিগারেট ধরালাম  ‘শুভ্র ভাইয়া, ওটা কী তোমার দেশলাইয়ে ?  ‘জানিস না দেশলাইয়ে ফসফরাস থাকে যেটা সূর্যের আলোতে জ্বলে ।  ‘ওহ আচ্ছা । মুহিনকে নিয়ে আহসান সাহেবের বাড়ির দিকে যাচ্ছি হঠাৎ কোথা থেকে একটা পাথরে মোরানো কাগজ ছুরে এলো । আশেপাশে তাকিয়ে কাউকেই দেখলাম না । মুহিন কাগজটা খুলে পড়তে লাগলো,‘বাচতে চাইলে চলে যান । ‘আরে ভয় পাস না এইটা এমনিই ভয় পাওয়ানোর জন্য । তেমন কিছুই হবে না ।

আহসান সাহেবের বাসায় গিয়ে দেখি আহসান সাহেব গাছে পানি দিচ্ছেন আমাদের দেখে আমাদের দিকে এগিয়ে আসলেন । ‘আহসান সাহেব, আসুন আপনার সাথে কথা আছে । ‘জ্বী । আপনি একটা কাজ করেন আমার বসার রুমে গিয়ে বসুন আমি আসছি । কিছুক্ষন পর আহসান আসলেন । ‘আহসান সাহেব ভয়ের কিছুই নেই । নিলাচি চুরি যায় নি । ‘কিন্তু সেটাতো তার জায়গায় নাই । ‘হুমম । তা অবশ্য ঠিক । আসেন আমরা একটু Basement এ যাই । ‘হুমম । চলুন Basement এ গিয়ে আহসান সাহেব আমাকে একটা বই দেখালেন যেইটায় নীলাচি থাকার কথা । বইটার বিশেষত্ব হচ্ছে বইটায় এক ধরনের Code দিতে হয় যার ফলে বইয়ের ভিতর একটা compartment খুলে আসে । কিন্তু এইটা আপাতত খালি ।

‘আহসান সাহেব আপনার বাব কী হুমায়ুন আহমেদ এর বই পড়তেন? ‘না । কিন্তু হঠাৎ এই প্রশ্ন ?  ‘না আপনার বাবা ডায়েরিটায় লিখে গেছেন, নীলাচি বহির ভিতরে । চলে এসো “দরজার ওপাশে” । দরজার ওপাশে হুমায়ুন আহমেদ এর বই । হঠাৎ মুহিন বলল, ‘শুভ্র ভাইয়া এমন নয়তো যে দরজার ওপাশে কিছু আছে ?? ‘আরে বাহ ! ভালোই তো তোর মাথা খুলেছে আমার সাথে থাকতে থাকতে । দরজার ওপাশে তেমন কিছুই নেই । তার মানি কী এইটা সে দরজা না । ‘আচ্ছা আহসান সাহেব এই ঘরে কোনো দরজা আছে ? ‘জ্বী । আছে বৈ কি , কিন্তু সেটা এই BookShelf এর পিছনে । ‘এটা সরানোর ব্যবস্থা করুন । কিছুক্ষনের মধ্যেই BookShelf টা সরানো হলো । দরজা টা দেখা যাচ্ছে দরজাটা খুলে ভিতরে দেখা গেলো একটা শিড়ি নিচ পর্যন্ত চলে গেছে ।

‘মুহিন তুই বাহিরেই থাক আর যদি কিছু একটা হয় আমি যা বলেছি তা করবি ঠিক আছে ? ‘হুমম ভাইয়া । আমি আর আহসান সাহেব নিচে নামছি নিচে আলোর কোনো ব্যবস্থা নেই তাই মোবাইল এর flashlight ব্যবহার করতে হচ্ছে । অনেকটা নিচে নেমে গিয়ে দেখতে পেলাম শিড়ি শেষ হয়ে গিয়েছে । ‘আহসান সাহেব এখানেই দারান, আমি এখনি আসছি । ‘আরে কোথায় যাচ্ছেন?? হঠাৎ পুরো ঘরে বাতি জ্বলে উঠলো । আহসান সাহেব বললেন ‘শুভ্র সাহেব কীভাবে করলেন এইটা? ‘আপনার বাবার দেয়া বইটা আপনি ভালো ভাবে পড়েন নি তাই না, পড়লে জানতে পারতেন এই কথাটা ।’

আলো জ্বালায় এখন ঘরটা পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে । ঘর না বলে একটা জেল খানা বললে ভালো হবে । ‘শুভ্র সাহেব এখানে তো কিছুই নেই ?’ ‘তা তো থাকবেও না ।’ ‘মানে?’ ‘আপনার এতো মানে বোঝার দরকার নেই আপনি আমাআর সাথে এইখানে থাকুন ।’ কিছুক্ষণ পর শিরি দিয়ে নামার শব্দ আসছে । ‘আহসান সাহেব আমার হাত ধরে থাকেন । ’ আমি ঘরের বাতি নিভিয়ে দিলাম । ‘শুভ্র মশাই আমি জানি আপনি এখানে আছেন । ভালো চান তো বের হয়ে যান ’ তারপর কে যেনো ঘরের বাতি আবার জ্বালিয়ে দিলো । আহসান সাহেব তাকে দেখে বললেন, ‘তুই ? ‘হ্যা , আহসান সাহেব । আপনার বাড়ীর দারোয়ান । ‘এতো গল্পের সময় নেই । তারাতারি নীলাচি টা দিন । ‘শুভ্র সাহেব এতো দেখছি বন্দুক তাক করে আছে । দারোয়ান টা বলল, ‘ভালো চান তো তারাতারি হীরাটি দিয়ে দিন । আমি ৩ পর্যন্ত গুনবো  ১….২… তি….‘আচ্ছা আচ্ছা দিচ্ছি ।

বলেই আমি আমার পকেট থেকে গোল মরিচের গুঁড়ার কৌটা বের করে তার চোখে মেরে দিলাম । ‘আহসান সাহেব তারাতারি আমার সাথে আসুন । তারপর আমি আর আহসান সাহেব দৌড়ে উপরে চলে গেলাম । যেতেই দেখা হল দারোগা বাবুর সাথে । ‘তা , দারগা বাবু ঠিক সময়েই এসেছেন । আপনার আসামী নিচে আছে , গোল মরিচের ঝাঝে । আহসান সাহেব হেসে উঠলেন । এই প্রথম তাকে হাসতে দেখলাম । দারোগা বাবু দারোয়ান কে নিয়ে গেলেন । আহসান সাহেব আবার গম্ভীর হয়ে গেলেন । ‘কীরে মুহিন , তুই তো একদম সঠিক সময় দারোগা বাবুকে ফোন দিয়েছিস । ‘তুমি বলবা আর আমি করবো না । ‘শুভ্র সাহেব ‘এই নিন আপনার আমানত ।  আহসান সাহেব আমার দিকে ভুতের মতো তাকালেন । সে বিশ্বাস করতে পারছেন না যে নীলাচি তার হাতে । ‘শুভ্র সাহেব , কোথায় পেলেন এইটা ? ‘তাহলে শুরু থেকেই বলি ।

যেদিন রাতে আপনি আমায় ডায়েরিটা দিয়েছিলেন । তখন আমি জানতে পারি যে লাইব্রেরি তে যেই বই আছে সেইটায় ২টা বক্স আছে । একটায় নীলাচি আরেকটায় নেই । আমি রাতে গিয়ে অন্য বক্সে নীলাচি টা পেয়ে যাই । ভেবেছিলাম আপনাকে দিয়ে দিবো কিন্তু পরে ভাবলাম আপনার প্রাণ সংশয় তাই আপনার শত্রুকেউ ধরিয়ে দিয়ে যাই । তাই এই পদ্ধতি আর কি !‘তার মানি ভাইয়া দেশলাই এ ঐটা নীলাচি ছিলো ? ‘হুমমম ।

গল্পের বিষয়:
গল্প

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত